আজঃ শনিবার ১৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

দেশে উইলসন ডিজিজের নতুন দুইটি ধরন শনাক্ত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৪ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

Image

দেশে বিরল উইলসন ডিজিজের নতুন দুইটি মিউটেশন বা ধরন শনাক্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিউরোলজি বিভাগ এবং এনাটমি বিভাগের যৌথ গবেষণায় নতুন ধরনের বিষয়টি উঠে এসেছে। এমনকি এই রোগের চিকিৎসা টার্গেট জিন থেরাপির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েই হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত বাংলাদেশি উইলসন্স রোগীদের মধ্যে জেনেটিক পরিবর্তন এবং এর স্নায়বিক উপসর্গ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব তথ্য জানান।

অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহসান হাবিব হেলাল এবং এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু। প্রতিবেদন তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু বলেন, গবেষণায় আমাদের মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৫০ জন, এরমধ্যে পুরুষ ছিল ২৮ জন এবং মহিলা ছিল ২২ জন। তাদের ৬ জন রোগীর মধ্যে ৩টি মিউটেশন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ২টিই বাংলাদেশে নতুন। তাদেরকে টার্গেট জিন থেরাপির মাধ্যমে বিএসএমএমইউয়ে চিকিৎসা চলছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি ত্রিশ হাজার জনে একজন উইলসন ডিজিস রয়েছে। সেই হিসেবে রোগীর সংখ্যা হবে ৬ হাজারের মত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ জনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কারও মধ্যে এই রোগটি শনাক্ত হলে তাকে আজীবন চিকিৎসা নিতে হয়। এ মাসে একজন রোগীর দেড় হাজার টাকার মতো ওষুধের প্রয়োজন হয়। সঠিকভাবে চিকিৎসা নিলে সারা জীবন ভালো থাকার সুযোগ রয়েছে। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে রোগের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এসময় ডা. আহসান হাবিব হেলাল বলেন, এই গবেষণায় নিউরোলজি বিভাগের মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার ক্লিনিক এবং অন্তঃবিভাগ থেকে রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রোগী থেকে ৩ মিলি লিটার রক্ত সংগ্রহ করে এনাটমি বিভাগের জেনেটিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে এবং এই ল্যাবে জেনেটিক এনালাইসিস করা হয়েছে। রোগীদের বয়স সীমা ছিল ৯ থেকে ৬০ বছরের ভেতরে। অধিকাংশ রোগী পাওয়া গেছে ৯ থেকে ৩০ বছরের ভেতরে এবং এর সংখ্যা ছিল ৪৩ জন। গবেষণায় প্রথম জেনারেশনের আত্মীয়দের মধ্যে আক্রান্ত ছিল ৭ জন। এই রোগের কারণে স্কুল ছাড়তে হয়েছে ২৬ জন বাচ্চাকে।

রোগীদের উপসর্গ প্রসঙ্গে এই চিকিৎসক বলেন, আমরা যে রোগীদের পেয়েছি, তাদের ঢোক গিলতে সমস্যা ছিল ২৭ জনের, হাত পায়ের কম্পন ছিল ২৮ জনের, হাত-পা শক্ত হয়ে যাওয়া ছিল ২১ জনের, অনিয়ন্ত্রিত ঘাড় মোচড়ানো সমস্যা ছিল ১৪ জনের, অনিয়ন্ত্রিত হাত-পা মোচড়ানোর সমস্যা ছিল ১১ জনের, নৃত্যের মতো অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া ছিল ৪ জনের।

রোগটি কাদের হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, বাবা-মা দুজনেরই যদি এই রোগের জিন থাকে, তাহলে সন্তানও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এজন্য আমরা নিকটতাত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ না করার পরামর্শ দিয়ে থাকি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. আতিকুর রহমান, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভীসহ আরও অনেকে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রকাশ অনুষ্ঠানে উইলসন ডিজিজে পারিবারিকভাবে আক্রান্ত হওয়া ৪ জন উপস্থাপন করা হয়।


আরও খবর



ঘূর্ণিঝড় রেমাল: লক্ষ্মীপুরে প্রস্তুত ১৮৯ সাইক্লোন শেল্টার

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

Image

মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর বঙ্গোপসাগর থেকে খুব কাছে হওয়ায় প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগেই ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। এতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রেমালেও লক্ষ্মীপুর ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। রেমালের প্রভাবে নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এছাড়া ৩-৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতি থেকে মানুষসহ গবাদিপশু রক্ষায় লক্ষ্মীপুরে ১৮৯টি স্থায়ী ও অস্থায়ী সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়কালীন মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে ৬৪টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ মে) রাতে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমটির প্রস্তুতি সভায় এসব তথ্য জানান।

সভায় জানানো হয়, দুর্যোগকালীন ত্রাণ তহবিলে ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল রয়েছে। দুর্যোগ থেকে মানুষ ও গৃহপালিত প্রাণি রক্ষায় ফায়ার সার্ভিস, জনপ্রতিনিধি ও রেড ক্রিসেন্টসহ স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করবে।

জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান বলেন, উপজেলা প্রশাসনও ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণে সভা করেছে। এর থেকে রক্ষায় আমাদেরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে চরাঞ্চলসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার কাজ শুরু করা হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা-ই রাফিন সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেহের নিগারসহ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



যেভাবে উদ্ধার হলো এমপি আনারের খণ্ডবিখণ্ড মৃতদেহ

প্রকাশিত:বুধবার ২২ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২২ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঞ্জিভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাট থেকে নিখোঁজের ৯ দিন পর আজ বুধবার ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের খণ্ডবিখণ্ড মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিন রাজ্যের বিধাননগরের নিউটাউন এলাকায় সঞ্জিভা গার্ডেন থেকে নিউটাউনের টেকনোসিটি থানার পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, এমপির সম্পূর্ণ মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দেহের মূল অংশ ট্রলিতে করে পাচার করা হয়েছে। তবে দেহাবশেষ উদ্ধার করা গেছে। এ ঘটনায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ভারতে গিয়ে আনোয়ারুল আজিমের নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত–সংশ্লিষ্ট একটি পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে পুলিশ বাংলাদেশে আটক করেছে। আটক হওয়া ওই দুই ব্যক্তি সম্প্রতি কলকাতা থেকে ফিরেছেন। আটক হওয়া দুজনের মধ্যে একজনের নাম আমানুল্লাহ।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একটি দল কেরানীগঞ্জ থেকে শুরুতে আমানুল্লাহ নামের একজনকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যগুলো ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে জানালে তারা জানায় যে আনোয়ারুল আজিম খুন হয়েছেন।’

জানা গেছে, মোট ৬ জন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাদের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। এমপিকে হত্যার পর ৫ জন দেশে ফিরে আসেন এবং একজন এখনও ভারতেই অবস্থান করছেন। তবে বাংলাদেশে ফিরে আসা ৫ জনের মধ্যে একজন অন্য দেশে পাড়ি দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। আর ভারতে অবস্থান করা ব্যক্তিকে আটক করতে চেষ্টা করছে ভারতের পুলিশ।

মূলত নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২ জনকে আটক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারাই জানান মৃতদেহ আছে সঞ্জিভা গার্ডেনে। সে খবর দেওয়া হয় কলকাতা পুলিশকে। পরে বুধবার এই মৃতদেহ উদ্ধার করে ভারতের পুলিশ।

জানা গেছে, যে ফ্ল্যাট থেকে আনোয়ারুল আজিম আনারের খণ্ডবিখণ্ড মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তার মালিকও একজন বাংলাদেশি। তিনি ভারতে গিয়ে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে ওই ফ্ল্যাট কিনেছেন। কলকাতার পুলিশ তাকেও খুঁজছে বলে জানানো হয়েছে।


আরও খবর



কোন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কত টাকা পেলো

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সেখানে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর জন্য আলাদা আলাদা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ৩৩, জাতীয় সংসদ ৩৪৭, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ৪ হাজার ৬০০, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১২২, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ২৪৮, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ১ হাজার ২৩০, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৫ হাজার ৩৭৭, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ১৬৬, অর্থ বিভাগ ২ লাখ ৪৮ হাজার ২০৫, বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ২৯০, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ৩ হাজার ২১৭, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ৩ হাজার ৪১৮, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ২১ হাজার ৩০৮, পরিকল্পনা বিভাগ ৬ হাজার ৪৯২, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ ১৯৫, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৬৬২, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৯৩২, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১ হাজার ৭২৬, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৪২ হাজার ৩১৫, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ ৪৬, আইন ও বিচার বিভাগ ২ হাজার ২২, জননিরাপত্তা বিভাগ ২৬ হাজার ৮৭৭, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ ৪৫, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩৮ হাজার ৮১৯, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ৪৪ হাজার ১০৮, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৩ হাজার ৫৭৩, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ৩০ হাজার ১২৫, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২ হাজার ৮৭২, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৮৬৯, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫ হাজার ২২২, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৪৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে।

অন্যদিকে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ৯২৯, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১ হাজার ১০৮, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৭৭৯, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৬০২, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ২ হাজার ২১২, স্থানীয় সরকার বিভাগ ৪৫ হাজার ২০৬, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ১ হাজার ৩৪৬, শিল্প মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৫১০, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ১ হাজার ২১৭, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ৫৭৪, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ১ হাজার ৮৭, কৃষি মন্ত্রণালয় ২৭ হাজার ২১৪, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৪ হাজার ২৮৮, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২ হাজার ১৩০, ভূমি মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে।

এ ছাড়া, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ১১ হাজার ১৯৪, খাদ্য মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ৭৫৭, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ১১ হাজার ৩, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩৮ হাজার ১৪৩, রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৮ হাজার ৭২, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ১১ হাজার ২৭০, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ৫ হাজার ৬৯৫, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ২ হাজার ৪২০, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১ হাজার ৪০০, বিদ্যুৎ বিভাগ ২৯ হাজার ২৩০, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৭ হাজার ৪৭৪, দুর্নীতি দমন কমিশন ১৯১, সেতু বিভাগ ৭ হাজার ৩১৮, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ১১ হাজার ৭৮৩, সুরক্ষা সেবা বিভাগ ৪ হাজার ১৩৭ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে ১১ হাজার ২৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার।

প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এবার বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ কমছে। চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় আগামী অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি কম ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। অনুদান ছাড়া বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। তবে, অনুদানসহ সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়াবে দুই লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী অর্থবছর চার হাজার ৪০০ কোটি টাকা অনুদান পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হবে ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এতে নিট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়াবে ৯০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়া হবে এক লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা; যার ৭২ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ এবং ৬৪ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা স্বল্পমেয়াদি। ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ নেওয়া হবে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। আর বৈদেশিক ঋণের সুদ ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত কর ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। করব্যতীত প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা।

দেশের ১৮তম অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবারই প্রথম বাজেট পেশ করেছেন। এটি দেশের ৫৩তম বাজেট।


আরও খবর



স্মার্ট স্কুল বাস পরিচালনায় বিআরটিসির সঙ্গে জিপিএইচের সমঝোতা চুক্তি

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্মার্ট স্কুল বাস পরিচালনায় বিআরটিসি ও জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। আগামী দুই বছর স্মার্ট স্কুল বাস এর স্পন্সর হিসাবে থাকছে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড। এই দুই বছরে তারা ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা অনুদান দিবেন। যা থেকে বাসের ড্রাইভার স্টাফদের বেতন ছাড়াও জ্বালানী খরচসহ বাসগুলোর সকল ধরনের মেইনটেনেন্স খরচ বহন করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে ১০টি স্মার্ট স্কুল বাস পরিচালনায় এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয় ।

এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাদি উর রহিম জাদিদ, জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) মো: শওকত ওসমান ও উপদেষ্টা মোহাম্মদ ওসমান গনি (মিডিয়া), চট্টগ্রা। বিআরটিসি ম্যানেজার মো. জুলফিকার আলী, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনারগণ, স্মার্ট স্কুল বাস মনিটরিং টিমের নুরুল আজিম রনি, টেকনলজি পার্টনার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

 সমঝোতা স্মারকে বিআরটিসি সাবডিপোর ম্যানেজার জুলফিকার আলী এবং জিপিএইচ ইস্পাতের উপদেষ্টা শওকত ওসমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মো: ফখরুজ্জামান বলেন, এসব বাসে নগরীর পাঁচটি সড়কে ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবেন । বাসগুলোতে স্মার্ট টেকনোলজি, জিপিএস ট্যাকার, ক্যামেরা, এআই ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের স্কুল যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাসে ওঠা-নামার সময় অভিভাবকের ফোনে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস প্রদান, বাসে শিক্ষার্থীদের অবস্থান মনিটরিং এবং স্বল্প খরচে স্কুল কলেজে যাওয়া আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামীতে চাহিদা অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে বাসের সংখ্যাও বাড়ানো হবে

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে সমৃদ্ধ নগর, উন্নত গ্রাম, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্মার্ট চট্টগ্রাম- স্লোগান সামনে নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম কর্তৃক পরিচালিত দেশের জেলাগুলোর উদ্ভাবনী কার্যক্রমভিত্তিক প্রতিযোগিতা স্মার্ট ডিস্ট্রিক্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ-২০২৩ এর আওতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্মার্ট স্কুলবাস নামক উদ্ভাবনী উদ্যোগটি প্রথম পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ১০টি দ্বিতল স্কুল বাস ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে নগরীতে চলাচল করছে। আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত এ সকল স্মার্ট স্কুল বাসে যে কোন স্কুলের শিক্ষার্থীরা নাম মাত্র ৫  টাকা ভাড়ায় যে কোন দূরত্বে চলাচল করতে পারেন। জিপিএস ট্র্যাকার, জিআইএস প্রযুক্তি, আইপি ক্যামেরা ছাড়াও এ বাসে ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস আছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা কার্ড চাপ দিলেই অভিভাবকদের মোবাইলে চলে যাচ্ছে খুদে বার্তা। ফলে অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারছেন।

নিউজ ট্যাগ: চট্টগ্রাম

আরও খবর



মধ্য গাজায় ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ‍উপত্যকার মধ্যাঞ্চলে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গত কয়েকদিন ধরে গাজার এই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলা ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি বলেন, আল-আকসা হাসপাতাল থেকে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সকে দেইর এল-বালাহ শহরের পূর্ব অংশে যেতে দেখেছি। ওই অঞ্চলে একটি আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

ওই হামলায় হতাহতদের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির পাশ দিয়ে যাওয়া লোকজনও রয়েছেন। এ পর্যন্ত তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তৃতীয়জনকে হাসপাতালে আনা হয় ও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

এদিকে, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরের একটি স্কুলে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ১২ নারী-শিশুসহ অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (৫ জুন) রাতে এই হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই স্কুলটি পরিচালনা করতো জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)। হামলার সময় স্কুলটিতে বাস্তুচ্যুত অনেক ফিলিস্তিনি অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, স্কুলটিতে হামাস যোদ্ধারাও আশ্রয় নিয়েছিলেন।

অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী জাতিসংঘের একটি স্কুলে শিশুসহ কয়েক ডজন লোককে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করেছে। তাছাড়া মধ্য গাজার শরণার্থী শিবিরগুলোতে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে।

আল জাজিরা আরবির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মধ্য গাজার মাগাজি শরণার্থী শিবিরের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় চারজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে। এর আগে রাতে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মধ্য গাজার একটি মিউনিসিপ্যাল ​​অফিসে হামলা চালালে নুসেইরাতের মেয়র ইয়াদ আল-মাঘরিসহ পাঁচজন নিহত হন।

এর আগে ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় আজ-জাহরা ও মধ্য গাজার মাগাজি পৌরসভার মেয়রও নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজাজুড়ে বেশ কয়েকটি পৌরসভার সদর দপ্তরও ধ্বংস হয়ে গেছে।

গাজায় কাজ করা নার্স ও মেডিকেল রেফারেন্ট কারিন হাস্টার বলেছেন, আল-আকসা হাসপাতাল এখন একটি ডুবন্ত জাহাজ। আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের মরদেহ রাখতে হিমশিম খাচ্ছি আমরা। হাসপাতালটির জরুরি কক্ষের ভিতরের দৃশ্য এখন গত কয়েকদিনের চেয়ে অনেক বেশি খারাপ।

আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গুরুতর আহত অবস্থায় আল-আকসায় আসা অধিকাংশ মানুষই মারা যাচ্ছেন। চিকিৎসা কর্মীরা বলছেন, আমরা রোগীদের ছেড়ে দিচ্ছি না কিন্তু নানা সংকটের কারণে পর্যাপ্ত চিকিৎসাও দিতে পারছি না। জানি না, কবে সবকিছু ঠিক হবে।

গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৩৬ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ৮৩ হাজার ৩০৯ জন।


আরও খবর