আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২
শিরোনাম

ডেসটিনির রফিকুলের ১২ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | ৩২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মানিলন্ডারিং মামলায় ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি রফিকুল আমিনের ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদের ৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ২৭ মার্চ আদালত রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।

২০১৪ সালের ৪ মে মামলার চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এতে ডেসটিনির গ্রাহকদের চার হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পাচারের অভিযোগ আনা হয়। চার্জশিটে কো-অপারেটিভ সোসাইটির মামলায় ৪৬ জনকে আসামি করা হয়।

তাদের মধ্যে জামিনে রয়েছেন লে. কর্নেল (অব.) মো. দিদারুল আলম, লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ, মিসেস জেসমিন আক্তার (মিলন), জিয়াউল হক মোল্লা ও সাইফুল ইসলাম রুবেল। কারাগারে আছেন এমডি রফিকুল আমীন ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন। অন্য ৩৯ আসামি পলাতক।

পলাতক আসামিরা হলেন- ডেসটিনির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোফরানুল হক, পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন, ফারাহ দীবা, সাঈদ-উর-রহমান, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, জমশেদ আরা চৌধুরী, ইরফান আহমেদ, শেখ তৈয়বুর রহমান, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসেন, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, এসএম আহসানুল কবির, জুবায়ের হোসেন, মোসাদ্দেক আলী খান, আবদুল মান্নান, আবুল কালাম আজাদ, আজাদ রহমান, মো. আকবর হোসেন সুমন, মো. সুমন আলী খান, শিরীন আকতার, রফিকুল ইসলাম সরকার। মো. মজিবুর রহমান, ড. এম হায়দারুজ্জামান, মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, কাজী মো. ফজলুল করিম, মোল্লা আল আমীন, মো. শফিউল ইসলাম, ওমর ফারুক, সিকদার কবিরুল ইসলাম, মো. ফিরোজ আলম, সুনীল বরণ কর্মকার ওরফে এসবি কর্মকার, ফরিদ আকতার, এস সহিদুজ্জামান চয়ন, আবদুর রহমান তপন, মেজর (অব.) সাকিবুজ্জামান খান, এসএম আহসানুল কবির (বিপ্লব), এএইচএম আতাউর রহমান রেজা, গোলাম কিবরিয়া মিল্টন, মো. আতিকুর রহমান, খন্দকার বেনজীর আহমেদ, একেএম সফিউল্লাহ, শাহ আলম, মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. শফিকুল হক।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভের নামে ডেসটিনি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯০১ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। সেখান থেকে আত্মসাৎ করা হয় ১ হাজার ৮৬১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। যার কারণে ক্ষতির মুখে পড়েন সাড়ে ৮ লাখ বিনিয়োগকারী।


আরও খবর



ঢাকায় একদিনে দেওয়া হলো সাড়ে ৪ হাজার ভারতীয় ভিসা

প্রকাশিত:রবিবার ০১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০১ মে ২০২২ | ৪০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ঈদের ছুটিতে বিদেশ ভ্রমণে যাচ্ছেন প্রচুর বাংলাদেশি। তাদের বড় একটি অংশ যাচ্ছেন ভারতে। ভারতে যেতে লাখো ভিসার আবেদন জমা পড়েছে। এ চাপ সামলাতে ছুটির দিনেও ভিসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন।

রোববার (১ মে) ঢাকায় দেশটির হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে ভারতীয় ভিসাপ্রত্যাশীদের সুবিধার্থে শনিবার (৩০ এপ্রিল) ছুটির দিনেও হাইকমিশনের ভিসা সেন্টার কার্যক্রম চালু রেখেছে। এদিন শুধু ঢাকা থেকেই প্রায় সাড়ে চার হাজার ভারতীয় ভিসা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার ভিসা ডেলিভারির সুবিধার্থে সারা দেশের ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলোও বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু ছিল। আজ রোববারও ভিসা সেন্টারগুলো খোলা থাকছে। এদিন ভিসা আবেদন গ্রহণ ও পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। তবে ঈদের জন্য আগামী ২-৩ মে ভারতীয় ভিসা সেন্টার বন্ধ থাকবে।

গত ৩০ মার্চ থেকে পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসায় ভারত ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার পর বেনাপোল ও আখাউড়া স্থলবন্দর চালু করে দেওয়া হয়। পরে বাকি স্থলবন্দরগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখন সব ধরনের ভিসা নিয়ে সড়কপথে যে কোনো বন্দর দিয়ে ভারতে ঢোকা যাচ্ছে।

হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে টানা দুই বছর অনেক বিধিনিষেধ ছিল। সেজন্য অনেকের ইচ্ছে থাকলেও ভারত যেতে পারেননি। এবার করোনার বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় ভ্রমণ ভিসায় ভারতে যেতে ইচ্ছুকদের ভিড় লেগে যায় সেন্টারে। এছাড়া ঈদুল ফিতরের কারণে অনেকে কেনাকাটা করতে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে যেতে চাইছেন। সবমিলিয়ে ভারত ভ্রমণের জন্য ভিসা আবেদনের হিড়িক পড়ে যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিসার আবেদন অনুসারে এবার ঈদের ছুটিতে ভারতে বাংলাদেশিদের স্রোত নামতে পারে। ঈদকেন্দ্রিক ছুটি কাটানোর জন্য প্রতিবেশী দেশটিতে যেতে পারেন কয়েক লাখ বাংলাদেশি। পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সংখ্যা ছাড়াতে পারে পাঁচ লাখ।


আরও খবর



ইউক্রেনে ৪০০ হাসপাতাল ধ্বংস করেছে রাশিয়া: জেলেনস্কি

প্রকাশিত:শনিবার ০৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৭ মে ২০২২ | ৩৩৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর আক্রমণে দেশটির প্রায় ৪০০ হাসপাতাল ও অন্যান্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এতে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করার সুযোগ হারিয়েছেন এবং ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা করার মতো ওষুধ পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে মূল যুদ্ধক্ষেত্রগুলোর আশপাশের হাসপাতালগুলো ধ্বংস করার কারণে জরুরি অ্যান্টিবায়োটিকের সংকট দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার একটি দাতব্য মেডিকেল গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে দেওয়া ভিডিও বক্তৃতায় জেলেনস্কি বলেন, আজকের দিন পর্যন্ত রাশিয়ার সেনারা ৪০০ স্বাস্থ্যসেবা ইনস্টিটিউট: হাসপাতাল, প্রসূতি ওয়ার্ড, ক্লিনিক ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন করেছে।

রাশিয়ার বাহিনীগুলোর দখলে যাওয়া এলাকাগুলোর পরিস্থিতি বিপর্যয়কর বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা করার মতো কোনো ওষুধ নেই। ডায়াবেটিসের ইনসুলিন নেই। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। অস্ত্রোপচার করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি এমন যে, পর্যাপ্ত অ্যান্টিবায়োটিকও নেই।

গত ৯ মার্চ অবরুদ্ধ মারিউপোল শহরে একটি মাতৃসদন ধ্বংস ইউক্রেনের যুদ্ধে সবচেয়ে নিন্দিত ঘটনাগুলোর একটি।

এদিকে ইউক্রেনে দখলিকৃত এলাকায় করারোপ করা শুরু করেছে রাশিয়া। সেই সঙ্গে আরও দুটি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করেছে।


আরও খবর



লিভ-ইন সম্পর্কের জন্য বাড়ছে যৌন অপরাধ: ভারতের হাইকোর্ট

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২১ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২১ এপ্রিল ২০২২ | ৩৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বিশ্বজুড়ে লিভ ইন সম্পর্ক দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন দেশেও এই সম্পর্ককে বৈধতা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও লিভ ইন সম্পর্ক সাধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সম্পর্কের ফলে যৌন অপরাধ বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছে দেশটির মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।

অনেকে কয়েক বছর লিভ ইন সম্পর্কে থাকার পর বিয়ের পরিকল্পনা শুরু করেন। কিছু ক্ষেত্রে আবার লিভ ইনের পর সম্পর্ক ভেঙেও যায়। স্বাভাবিকভাবেই লিভ ইন সম্পর্কে থাকাকালীন যৌন সম্পর্কও স্থাপন করেন অধিকাংশই। ভারতে লিভ ইন সম্পর্ক বা বিবাহ ছাড়াই একসঙ্গে বসবাসের অনুমতি রয়েছে। আর এর থেকেই সমাজে জন্ম নিচ্ছে যৌন অপরাধ।

সম্প্রতি ধর্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতে এই মন্তব্য করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। বিচারপতি সুবোধ অভ্যঙ্কর এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২৫ বছরের এক যুবকের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে এই মন্তব্য করেছেন। তার বক্তব্য, লিভ টুগেদারের কারণে সমাজে যৌন অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতীয় সংস্কৃতির অবমাননা করে অশ্লীল আচরণ প্রচার করে ও যৌন অপরাধের জন্ম দেয় এই ধরনের সম্পর্ক।

সূত্রের খবর, ওই নারী তার প্রেমিকের সঙ্গে লিভ ইন সম্পর্কে ছিলেন। দুইবার তিনি গর্ভবতী হয়েছিলেন। কিন্তু প্রেমিকের চাপে ভ্রূণ নষ্ট করতে বাধ্য হন তিনি। এরপরই সম্পর্ক ভেঙে অন্য একজনের সঙ্গে বাগদান সারেন ওই নারী। এরপরই নারীকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে ওই যুবক। এমনকী হবু শ্বশুরবাড়িতেও ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও পাঠিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। এরপরই বিয়ে ভেঙে যায় তার। যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন তিনি।

নিউজ ট্যাগ: লিভ ইন

আরও খবর



পুরুষকে ‘টেকো’ বলা যৌন হয়রানি বলে গণ্য হবে: আদালত

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ২৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মাথায় চুল না থাকায় পুরুষদের টেকো বলে ডাকা যৌন হয়রানির শামিল বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের একটি আদালত। নারীদের চেয়ে পুরুষদের মাথায় চুল না থাকার সমস্যা বেশি, এ নিয়ে মন্তব্য করার মধ্যে লিঙ্গবৈষম্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এমনকি, পুরুষদের টাক নিয়ে মন্তব্য করা আর নারীদের স্তন সম্পর্কে কথা বলা সমান বলে রায় দিয়েছেন আদালত। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

সম্প্রতি টনি ফিন নামে এক প্রবীণ ইলেকট্রিশিয়ান ও তার সাবেক কর্মস্হলের মধ্যকার চলমান মামলায় এ রায় দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের কর্মচারী নিয়োগ ট্রাইব্যুনাল। পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের ব্রিটিশ বুং কোম্পানিতে দীর্ঘ ২৪ বছর কাজ করেছেন টনি। ২০২১ সালের মে মাসে তাকে ছাঁটাই করা হয়। এরপর আদালতে মামলা করেন তিনি।

মামলায় অন্যান্য অভিযোগের সঙ্গে টনি দাবি করেন, সাবেক কর্মস্হলে যৌন হয়রানিরও শিকার হয়েছেন তিনি। টনি ফিনের অভিযোগ, ২০১৯ সালে কর্মক্ষেত্রে তর্কাতর্কির সময় তাকে একাধিকবার টেকো বলে ডেকেছিলেন ওই কারখানার সুপারভাইজার জেমি কিং। এতে অপমানিত বোধ করেন টনি এবং পরে আদালতের দ্বারস্হ হন।

সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের প্যানেলে ওই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিচারকরা বলেন, টনি ফিনের মর্যাদা লঙ্ঘন এবং তার জন্য একটি ভীতিকর, প্রতিকূল, অপমানজনক বা আপত্তিকর পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে ওই শব্দগুলো উচ্চারণ করেছিলেন জেমি কিং। তিনি স্বীকার করেছেন, তার উদ্দেশ ছিল টনিকে হুমকি দেওয়া ও তাকে অপমান করা। আমাদের বিচারে টেকো শব্দের সঙ্গে লিঙ্গবৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে।


আরও খবর



সম্ভাবনার সেন্টমার্টিন

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১১ মে ২০২২ | ৩০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগর বক্ষে এ দ্বীপে টেকনাফ থেকে ট্রলারে, লঞ্চে কিংবা জাহাজে যেতে লাগে দুই থেকে সোয়া দুই ঘণ্টা। রূপ বৈচিত্র্যের অনন্য মহিমায় উদ্ভাসিত সেন্টমার্টিন দ্বীপে চমৎকার আবহাওয়া বিরাজ করে নবেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত।

এই সময়কে প্রধান ভ্রমণ ঋতু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বছরের বাকি সময় আবহাওয়া থাকে ভয়াবহ। সেন্টমার্টিনের স্বচ্ছ পানিতে জেলি ফিস, হরেক রকম সামুদ্রিক মাছ, কচ্ছপ আর প্রবাল অন্যতম আকর্ষণ ও অপার সম্ভাবনা। এটিই বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। ১৯৫৮ সালে এক ভূত্তত্ব জরিপে দেখা গেছে এই দ্বীপে প্রায় ১০ লাখ টন প্রবাল রয়েছে। এই দ্বীপে জীবন্ত প্রবালের ৩৯টি প্রজাতি চিহ্নিত করা গেছে।

প্রাণের বৈচিত্র্য রয়েছে যে দ্বীপগুলোতে, তাকে টিকিয়ে রাখার মধ্যেই রয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবি। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও দ্বীপের চারদিকের জল এলাকার বিচিত্র প্রাণের সুরক্ষার মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের পর্যটন ও মৎস্য আহরণ সম্ভাবনা। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেন্টমার্টিন কনজারভেশন প্রকল্পে মার্কিন কোরাল বায়োলজিস্ট টমাস, টমাসিকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সেন্টমার্টিনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৮৫০ জন পর্যটক পরিদর্শন করলে দ্বীপটির ক্ষতি হবে না। অথচ শীত মৌসুমে দিনে তিন থেকে চার হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে যাচ্ছেন, রাতে থাকছেন। একই সঙ্গে তারা চালিয়ে যাচ্ছেন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ।

জীবন-জীবিকা: প্রতি বছর সেন্টমার্টিনে প্রায় ১০ লাখ পর্যটক আসা-যাওয়া করে। পর্যটকদের থাকার জন্য দ্বীপটিতে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় ৮৮টি হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট। ১৯৭২ সালে যেখানে ১১২টি বসতি ছিল বর্তমানে সেখানে দেড় হাজার পরিবারের প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ বসবাস করছে। লোকসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্যরে পরিমাণ বাড়ছে। এখানকার মানুষ মূলত মৎস্য শিকার করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। তবে পর্যটন শিল্পের বিকাশ হওয়ায় অনেকেই রেস্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল কিংবা গ্রোসারি শপের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। নারিকেল, পেঁয়াজ, মরিচ, টমেটো, এ দ্বীপের প্রধান কৃষিজাত পণ্য।

সেন্টমার্টিন হতে পারে দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর: সেন্টমার্টিন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এই দ্বীপে প্রায় ২শ প্রজাতির জীবের উপস্থিতি রয়েছে বলে দাবি করেন বিজ্ঞানীরা। সমীক্ষা অনুযায়ী, দ্বীপটি চতুর্দিকে প্রবাল পাথরের বেষ্টনীতে গড়া। এর গভীরে রয়েছে জমাট বাঁধা পাথর। এই পাথরের বেষ্টনী সাগরের তলদেশ দিয়ে মালয়েশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠা এই দ্বীপটিই হতে পারে পর্যটনের ক্ষেত্রে বিশ্বের দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর। তবে এ জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু নীতিমালা। দ্বীপবাসীকে সম্পৃক্ত করে সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে এখানে পর্যটন শিল্প বিকাশে উদ্যোগ নেয়া হলে দ্বীপটি হয়ে উঠতে পারে বিশ্বের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র্র।

শৈবাল চাষের সম্ভাবনা: সেন্টমার্টিনে শৈবাল চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। সামুদ্রিক বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত করেছেন যে, সেন্টমার্টিনে ১৪০ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল রয়েছে। যার অধিকাংশ মানুষের খাদ্যসহ হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণত চার ধরনের প্রবাল সংগ্রহ করা হয় যাদের স্থানীয় ভাষায় বলা হয় পাতা ফুল, গাছফুল, শৈবাল ও মগ। এদের মধ্যে গাছফুলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বাহারি অলঙ্কার প্রস্তুতের জন্যেই এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে প্রচুর চুনাপাথরসহ নানা প্রকার পাথর, রেডিয়াম, সামুদ্রিক শৈবাল, ঝিনুক, মুক্তা ও সিলিকন পাওয়া যায়। এছাড়া এই শৈবাল থেকে হ্যালোজেন জাতীয় উপাদান যেমন-ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রুমিন ও আয়োডিন এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতব পাওয়া যাবে। বৈজ্ঞানিকরা বলেছেন, সামুদ্রিক শৈবালে ঔষুধি গুণাগুণ রয়েছে। তাই এগুলো ওষুধ কারখানায় এবং জৈব সার তৈরিতে বিভিন্ন দেশে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়। আশার খবর হলো- সেন্টমার্টিনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে সামুদ্রিক শৈবাল চাষ। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন হবে সামুদ্রিক শৈবাল ভা-ার। এখানকার চাষীরা শৈবাল চাষ ও বাণিজ্য করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হবেন। অপরদিকে এই খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করা সম্ভব হবে।

মনোরম সৈকতের হাতছানি: সবুজ শ্যামল বৃক্ষ বেষ্টিত সাগর বুকে ভাসমান অনন্য শোভামণ্ডিত এই সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিনের উভয়প্রান্তে ছোট বড় ৩৭টি সৈকত রয়েছে যা ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে বছরের অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। সেন্টমার্টিনকে বাঁচাতে হবে আমাদের স্বার্থেই। সেজন্য সর্বসাধারণকে সচেতন থাকতে হবে পরিবেশ বিষয়ে। পর্যটন আইন মেনে চলতে হবে। ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ফেলা যাবে না। স্থায়ী আবাসন কমাতে হবে। থাকার ব্যবস্থা বন্ধ করতে পারলে সবচেয়ে ভাল। পর্যটন পুলিশের সংখ্যা, বুথ ও নজরদারি বাড়াতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


আরও খবর