আজঃ মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

ঢাবি ক্যাম্পাসে রিকশা ভাড়া নির্ধারণ করল ছাত্রলীগ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৮ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ মে ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্যাম্পাসে রিকশায় চলাচলের ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। এছাড়া, ক্যাম্পাসে চালানো ১০০ রিকশাচালককে দিয়েছে ছাত্রলীগের নিজস্ব পোশাক। আর এতে সম্মতিও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুর রহমানের হাতে শিক্ষার্থী ও রিকশাচালকদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত ও সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন: স্থগিত এসএসসি পরীক্ষা ২৭ ও ২৮ মে

ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের নির্ধারণ করা এই ভাড়া আগামী রোববার (২১ মে) থেকে কার্যকর হবে। এছাড়া, নির্দিষ্ট ওই পোশাক বিতরণে প্রয়োজন সাপেক্ষে ধাপে ধাপে আরও রিকশাচালককে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ২০১৯ সালে ডাকসুতে নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার রিকশাচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল। তারই অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা লাগানো হয় ও রিকশা রাখার জন্য ১৬টি জোন নির্ধারণ করা হয়। ২০২০ সালের ১৫ মার্চ থেকে এই কার্যক্রমটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখনই করোনা মহামারি দেখা দেয়। করোনা সঙ্কট বিবেচনায় ক্যাম্পাস প্রায় দুবছরের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রিকশাভাড়া নির্ধারণ কার্যক্রমটি তখন আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

আরও পড়ুন: অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলবে: ভোক্তা অধিকার

সৈকত আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রিকশাভাড়া নির্ধারণের কার্যক্রমটি আবার চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে রিকশাচালক ও শিক্ষার্থীদের সাথে দফায় দফায় আলোচনার মাধ্যমে রিকশাচালক ও শিক্ষার্থী; উভয়ের প্রত্যাশা ও উপযোগিতা বিবেচনায় রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রিকশাভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ১০০ জন রিকশাচালকের জন্য একটি আলাদা পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, কোভিড-১৯ এর আগেই ক্যাম্পাসে রিকশাভাড়া নির্ধারণ করা আমাদের একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ ছিল। প্রশাসনিকভাবেই আমরা একটা প্লাটফর্ম দাড় করাতে চাচ্ছি। এক্ষেত্রে, আমাদের সহায়ক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো কাজ করবে।

প্রক্টর মাকসুদুর রহমান আরও বলেন, আর ভাড়া নির্ধারণ করার অন্যতম একটি কারণ হলো, ক্যাম্পাসে চলাচলের সময় বা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সময় ভাড়ার বিষয়টা অনেক কম-বেশি হয়ে থাকে। বিশেষ করে, অনেক সময় নারী শিক্ষার্থী যারা আছেন তাদের কাছ থেকে বেশি পরিমাণে ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, রিকশা চালকরা ভাড়াটা সাধারণত বেশিই নিতে চাচ্ছে। এটা যেন একটা নীতিতে পরিণত হচ্ছে, কিন্তু এই জায়গায় কোন নির্ধারক নেই। এজন্য, আমরা চাচ্ছি যে, একটা ফ্রেমওয়ার্ক বা একটা নীতির মধ্যে নিয়ে আসা। যাতে সবাই এটার একটা জাজমেন্ট পেতে পারে।


আরও খবর



ঈশ্বরদীতে প্রকাশ্যে চলছে রমরমা মাদক ও জুয়ার আসর

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

Image

পাবনার ঈশ্বরদী থানার পৌর ৪নং ওয়ার্ডে তিন তলা কলা বাগানে প্রকাশ্যে চলছে লাখ লাখ টাকা জুয়া খেলা। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু জুয়াড়ী এসে কর্তাদের ম্যানেজ করেই এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

৫নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর ওয়াকিল আলম বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে জুয়া খেলা চলছে প্রকাশ্যে। তরুণ সমাজ ও ব্যবসায়ীসহ বহু পরিবার জুয়া খেলে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকায় চুর, ছিনতাইয়ের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের প্রতি আমার আকুল আবেদন এই জুয়া ও মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

সরেজমিন দেখা যায়, ঈশ্বরদী থানার ৪নং ওয়ার্ডের তিনতলা কলা বাগান এলাকায় মাঠে তাবু টাঙ্গিয়ে প্রকাশ্যে চলছে জুয়ার আসর। এলাকার চিহ্নিত জুয়াড়ী চক্রের চঞ্চলের নেতৃত্ব তিনতলা কলা বাগান মাঠে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছে তাশ ও জুয়ার আসর। ওই জুয়ার আসরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কুখ্যাত জুয়াড়ীরা এসে সমাবেত হচ্ছে। দুর-দুরান্ত থেকে আসা জুয়াড়ীরা এখানে লাখ লাখ টাকার হাত বদল করছে এবং প্রতিদিন এ চক্রের ফাঁদে পড়ে অনেকেই টাকা খুইয়ে হচ্ছেন নিঃস্ব। অসাধু কর্তাদের নিরবতায় থাকা একটি সংঘবদ্ধ চক্র মিলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চালাচ্ছে নিষিদ্ধ জুয়ার আসর। এ জুয়াকে কেন্দ্র করে স্পটে নেশা গ্রহণ সমান তালে চলায় জুয়া ও মাদকের মোহে পড়ে অনেকে পথে বসছেন। চলমান জুয়া ও মাদকের আসর নিয়ে এ অঞ্চলের অভিভাবক ও তাদের পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রতিদিন হাজার টাকা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়া খেলায় মেতে উঠেছে জুয়াড়ীরা। অনেকে জুয়া খেলে শুন্য হাতে ফিরে যাচ্ছে বাড়িতে। জুয়ার ও নেশার টাকা জোগাড় করতে এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেরা চুরি, ডাকাতি পকেটমারাসহ নানারকম অপকর্মের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার আম বাগান পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে রক্তক্ষয় সংঘর্ষ বেজে যায় দুই জুয়ারী মাঝখানে পরবর্তীতে পুলিশ এসে ঘটনাস্থলে দুই পক্ষকেই শান্ত করেন।

জাবেদের স্ত্রী জানান, জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে বিকালে তিন তালা মাঠে কথা কাটাকাটি হয় দুইজনের। পরে ওখানে দুজনই বিদেশী মদ পান করে এলাকাতে এসে। ওই কথার রেস ধরে এই মারামারির সৃষ্টি হন। পুলিশ যদি সময় মত না আসতো তাহলে দুজনার ভিতর একজন নির্ঘাত মারা যেত।

এই ব্যাপারে জানতে বিষয়টি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড  কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এটার একটি প্রতিকার চাই যেহেতু আমি এত বড় পরিসরের নেতাও না শুধুমাত্র একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর যারা আমাদের উপরে আছেন তাদের সহযোগিতা পেলে এই বিষয়ে অনেক দিন ধরে আলোচনা করছি নিজেদের মধ্যে একজন মাদক ও জুয়া ব্যবসায়ী সে হয়তো লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক হচ্ছেন। এতে শত শত পরিবারের ছেলেরা ঝরে পড়ে যাচ্ছেন। এই বিষয়ে যদি প্রশাসন যদি এগিয়ে আসতো তাহলে মনে হয় একটা প্রতিকার করা সম্ভব হবে। আর এই যে জুয়ার আসরটাতে লোকালে নেতাদের ছত্রছায়ায় কেউ বড় ভাই সেজে এই জুয়ার পরিচালনা করছে। তাদের কাছে এই বিষয়ে প্রতিকার করতে গেলে তারা বলেন আমরা অমুক ভাইয়ের লোক এর জন্য এই বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে পেরে উঠছি না। আর কি বলবো তখন দায় ছাড়া ভাব দেখায় চলে আসে। এ ছাড়াও আর কোন উপায় থাকে না।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী পৌর মেয়র ইছাহক আলী মালিথা জানান, আমি নিজে জুয়া বন্ধে চেষ্টা করেছি। থানা পুলিশকে জানিয়েছি। বিষয়টি পুলিশ নলেজে আছে। এখানে ঈশ্বরদী থানা এলাকাসহ লালপুর ও পাবনা জেলার তরুণ সমাজ ও ব্যবসায়ীসহ বহু পরিবার জুয়া খেলে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকায় চুরি, ছিনতাইয়ের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, জুয়া খেলার বিষয়টা আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর



বিএনপি নেতা ইশরাকের ১০ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

বাইডেনের ভুয়া উপদেষ্টাকাণ্ডে রাষ্ট্রদোহীর অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানার মামলায় বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের দশ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার (২৯ মে) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. কবির হোসেন হাওলাদার এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ১৯ মে ইশরাকের বিরুদ্ধে হওয়া ১২ মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী মো. তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ১১ টি মামলায় জামিন দিলেও পল্টন থানার রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় নামঞ্জুর করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ২৬ মে মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনসহ আরো কোন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জড়িত আছে কি না তাদের তথ্য সংগ্রহসহ গ্রেপ্তারের জন্য আসামীর দশ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আসামি ইশরাকের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে গত ২৯ অক্টোবর মহিউদ্দিন শিকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করেন। মামলায় মিয়ান আরেফিসহ অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল হাসান সারওয়ার্দী এবং বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ৩০ অক্টোবর মিয়ান আরেফিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।গত ৩১ অক্টোবর সাভার থেকে হাসান সারওয়ার্দী গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ উপলক্ষে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যলয়ে সারাদেশ থেকে বিএনপির নেতা কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করে। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে বিক্ষুদ্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ নেতা কর্মীরা কাকরাইল মোড় থেকে আরামবাগ মোড় পর্যন্ত পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রধান বিচারপতি বাসভবনসহ সরকারী স্থাপনা, ও সরকারী গাড়ীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নি সংযোগ করে। সংঘর্ষের ফলে পুলিশের ৪১ জন সদস্য আহতসহ একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়। একপর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ৩ টার সময় মহাসমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করে।

এরপর পূর্বপরিকল্পনা মতে এজাহারনামীয় আসামী ইশরাকের যোগসাজসে মিয়ান আরেফি নিজেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে।

পরবর্তীতে বাংলাদেশের আমেরিকান দূতাবাস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান যে প্রেসিডেন্টের জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয়দানকারী ব্যক্তি মিয়ান আরাফী আমেরিকান নাগরিক হলেও সে জো বাইডেনের কোন উপদেষ্টা নয় এবং সে আমেরিকান সরকারের কেউ নয়। আসামি মিয়ান আরেফি, আসামি হাসান সারওয়ার্দী এবং আসামী মো. ইশরাফ হোসেনসহ পরস্পর যোগসাজসে প্রতারণা করে আসামিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় প্রদান করে সহায়তা করে। আসামি ইশরাকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিকভাবে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।


আরও খবর



শ্রীপুরে ট্রাক-পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষ, নিহত ২

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
গাজীপুর প্রতিনিধি

Image

গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রাক ও পিকআপভ্যানের সংঘর্ষে চালক চঞ্চল রায় (৩০) ও রিপন (৩৫) নামে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামুন নামের আরও এক পিকআপভ্যানের যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২ জুন) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার আলীপুর গ্রামের নতেশ রায়ের ছেলে পিকআপচালক চঞ্চল রায় (৩০) ও বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থানার সিদ্দিক হাওলাদারের ছেলে রিপন (৩৫)।

শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বেলাল আহমেদ বলেন, ময়মনসিংহগামী পিকআপভ্যানটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনাবাজার এলাকায় ইউটার্নের কাছে পৌঁছে অজ্ঞাত এক ট্রাকের পেছনে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন। পরে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।

মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহবুব মোর্শেদ বলেন, এতে পিকআপভ্যানে থাকা দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর



ইসলাম প্রচারের পর কীভাবে কোরবানির প্রচলন শুরু হয়

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জীবন ধারা ডেস্ক

Image

ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কায় প্রতি বছরই কোরবানি দেওয়া হতো। কিন্তু তখন মক্কার বাসিন্দার বিভিন্ন দেবদেবীর নামে সেগুলো কোরবানি দিতেন। ফলে ইসলামের নবী সেই সময় মক্কায় থাকলেও তিনি এই রীতি অনুসরণ করতেন না।

নবুয়ত প্রাপ্তির প্রায় তের বছর পরে মদিনায় হিজরত করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানি দেয়ার রীতি চালু হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সনদ বিভাগের উপ-পরিচালক মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেন,ইসলামের অনেক বিধিবিধান রাসুল (সাঃ) মদিনায় আসার পর কার্যকর হয়েছে। কারণ তিনি ইসলাম প্রচার শুরু করার পর মক্কার মানুষের মধ্যে একাত্মবাদ প্রতিষ্ঠা ছিল প্রাথমিক কাজ। আর মদিনায় হিজরত করে আসার পর ইসলামের বিধিবিধান জারি হয়।

হিজরি দ্বিতীয় সনে রোজা এবং ঈদুল ফিতরের প্রবর্তন হয়েছিল। অবশ্য তার আগে থেকেই মদিনার মানুষজন অনেকটা একই আদলে উৎসব এবং রোজা পালন করতেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী বলেছেন, হিজরি দ্বিতীয় সনে ঈদের প্রবর্তন করা হয়েছিল।

আনাস নামে নবী মুহাম্মদের একজন সাহাবী বা সাথীর বর্ণনা করা একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া বলছে, মদিনায় যাওয়ার পর নবী দেখলেন যে সেখানকার মানুষ বছরে দুইটি বড় উৎসব পালন করে।

তিনি তখন জানতে চান, সেগুলো কী উৎসব?

এগুলো ছিল নওরোজ এবং মিহিরজান নামে দুটি উৎসব - যেগুলো সেখানকার বাসিন্দাদের ধর্ম এবং গোত্রের রীতি অনুযায়ী একটি শরতে এবং আরেকটি বসন্তকালে উদযাপিত হত।

অধ্যাপক মিয়াজী বলেছেন, তখন ওই দুইটি উৎসবের আদলে মুসলমানদের জন্য বছরে দুইটি ধর্মীয়, সামাজিক এবং জাতীয় উৎসব পালনের রীতি প্রবর্তন করা হয়।

সেই দুই ঈদের একটি হজের সময় পালন করা হতো, যা ঈদুল আজহা নামে পরিচিত। তবে ইসলাম প্রচারের পর ঠিক কবে আর কীভাবে প্রথম কোরবানি দেয়া হয়েছে সেই সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায় না।

কোন কোন ইতিহাসবিদ বলেন, মদিনায় আসার পর ইসলামের নবী প্রথম দুইটা দুম্বা নিজ হাতে কোরবানি দিয়েছেন। তখন তিনি বলেছিলেন, একটা আমার নিজের পক্ষ থেকে আরেকটা আমরা উম্মতের পক্ষ থেকে।

মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেন, ইসলামের অনেক কিছুই আগের পয়গম্বরদের রীতি মেনে করা হয়েছে। যেমন প্রথম দিকে বায়তুল মোকাদ্দেসের দিকে সিজদা করা হলেও পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আঃ) এর আদর্শ অনুযায়ী কাবার দিকে সিজদা করা হয়। কোরবানির ব্যাপারটিও তেমনি এসেছে।

তিনি বলছেন, ইসলামের কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী, আদম (আঃ) থেকে কোরবানি শুরু হয়েছে। তবে সুরা কাওসার ও সুরা হজে কোরবানি করার নির্দেশনা পাওয়া যায়। এই সুরা কাওসার নাজিল হয়েছিল হিজরতের আগেই, রাসুল (সাঃ) মক্কায় থাকার সময়। আর সুরা হজ মক্কা ও মদিনায় মিলিয়ে নাজিল হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

এই দুইটি সুরাতেই কোরবানি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পাটোয়ারি বলছেন, এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, রাসুল (সাঃ) মক্কায় থাকার সময় থেকেই কোরবানির বিষয়টা এসেছে।

তবে তিনি প্রথম কবে কোরবানি দিয়েছেন, সেই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী জানাচ্ছেন, তিরমিজি হাদিসে উল্লেখ আছে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর বলেছেন, হিজরতের পরে রাসুল (সাঃ) ১০ বছর মদিনায় ছিলেন, ১০ বছরেই কোরবানি করেছেন। আর আনাস ইবনে মালিক বলেছেন, রাসুল (সাঃ) দুইটা শিং ওয়ালা নাদুস-নুদুস দুম্বা জবাই করেছেন আর বলেছেন একটি আমার উম্মতের পক্ষ থেকে একটা আমার পক্ষ থেকে।

আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, তিনি সবসময়ে দুটা দুম্বা কোরবানি দিতেন, বলেন পাটোয়ারি।

যারা হজ বা ওমরাহ করতে যেতেন, তারা কোরবানির জন্য উট বা দুম্বার মতো পশু সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন। এসব পশুকে বলা হতো হাদি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী বলেন, ষষ্ঠ হিজরিতে বা ৬২৮ খৃষ্টাব্দে যখন রাসুল (সাঃ) ওমরাহের উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন হুদাইবিয়ায় বাধা দেয়া হলে তিনি তাবুতে অবস্থান করেন। হুদাইবিয়ার সন্ধি হলে তিনি সেই সময় নিজের ও পরিবারের জন্য উট কোরবানি দেন।

এ সময় তিনি ৬৩টি উট কোরবানি দেন বলে জানা যায়। সেই সময় ইসলামের বিধিবিধানে উট, মহিষ, গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা কোরবানি দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেছেন, ষষ্ঠ হিজরিতে ওমরাহ করতে যাচ্ছিলেন, সেই সময় পশুগুলোকে সাথে করে নিয়ে যাওয়ার নিয়ম ছিল। তখন কোরবানি ছাড়া আরেকটা রীতি ছিল। পশুগুলোর সিনায় কেটে দাগ লাগিয়ে মক্কার দিকে ছেড়ে দেয়া হতো, যাতে বোঝা যেতো যে এগুলো কোরবানির পশু। হুদাইবিয়ার সন্ধির পর কিছু পশু কোরবানি দেয়া হয়, আর কিছু পশুকে সিনায় দাগ লাগিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

পাটোয়ারি বলছেন, দশম হিজরিতে রাসুল (সাঃ) মক্কা বিজয়ের পর সেই বছর তিনি নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ করেন এবং কোরবানি দেন।

এর আগের বছর সাহাবী আবুবকরের নেতৃত্বে একটি দলকে হজের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেই দলের সঙ্গেও কোরবানির জন্য হাদি বা পশু ছিল।


আরও খবর



সিলেটে আকস্মিক বন্যায় ডুবেছে সড়ক-মহাসড়ক, প্রস্তুত সেনাবাহিনী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
এস এ শফি, সিলেট

Image

সিলেটে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চারটি উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। বুধবার (২৯ মে) থেকেই সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি ছিল বিপদসীমার ওপরে।

এদিন রাতে ভারতের মেঘালয় থেকেও নামে ব্যাপক ঢল, যাতে বন্যা দেখা দেয়। সিলেটে গত ২ বছরের মধ্যে এ বছরের মে মাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) পর্যন্ত সিলেটে ৭০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। পানিবন্দি হয়েছেন অন্তত তিন লক্ষাধিক মানুষ। এদিকে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের উদ্ধার অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে সেনাবাহিনী।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন বলেন, বন্যা পরিস্থিতির জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ইতোমধ্যে বৈঠক করেছে। দ্রুত উদ্ধার অভিযান চলছে। সেনাবাহিনীও ইতোমধ্যে কাজ করেছে। প্রয়োজনে তারাও উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণে যোগ দেবে।

জানা যায়, বন্যায় প্লাবিত হয়েছে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কসহ ওই চার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক। এতে ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। যান চলাচল বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন সড়কে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট উপজেলা পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার ওপরে ও কুশিয়ারা নদী জকিগঞ্জের অমলসীদ পয়েন্টে ২০২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়াও সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় সারি নদী বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং গোয়াইনঘাট উপজেলায় সারিগোয়াইন নদী ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, বন্যায় উপজেলার ৭৫ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, পানিবন্দি হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। পর্যটন এলাকার পর্যটকবাহী নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। উপজেলার ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অন্তত ২৫০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, ২০২২ সালের মে মাসে সিলেট আবহাওয়া অফিসের রেকর্ডকৃত বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৮৩৯ মিলিমিটার। ২০২৩ সালের মে মাসে ছিল ৩৩০ মিলিমিটার এবং ২০২৪ সালের মে মাসে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭০৫ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে।


আরও খবর