আজঃ রবিবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
শিরোনাম

ধামরাইয়ে বাসের ধাক্কায় চিতাবাঘ নিহত

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ জানুয়ারী ২০২৩ | ৪০৪৫জন দেখেছেন
ধামরাই প্রতিনিধি


Image

ঢাকার ধামরাইয়ে দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছে এক চিতাবাঘ। রোববার ১৫ (জানুয়ারি) দিনগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের  ধামরাইয়ের বাথুলী বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন এলাকাবাসী। মানুষের ধারণা সুন্দরবন থেকে ঢাকার ধামরাইয়ে আমতা ইউনিয়নের  বাউখন্ড এলাকায় জিন্দাপী কালু-গাজীর দরাগাহে দরশন দিতে  এ বাঘটি এসেছে অথবা পাচারকালে বণ্যপ্রাণী পাচারকারি চক্রের হেফাজত থেকে চিতাবাঘটি পালিয়ে আত্মরক্ষা করতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে। প্রতিবছরই ঢাকার ধামরাইয়ে ২-৪টি বাঘ আটক কিংবা মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। জনশ্রুতি রয়েছে উপজেলার আমতা  ইউনিয়নের বাউখন্ড এলাকায় ইতিহাসখ্যাত জিন্দাপীর কালু-গাজীর দরগাহে তাদের ভক্ত সুন্দর বনের বাঘ জিয়ারত করতে আসে। আর ফিরে যাওয়ার পথে হয় তাদের মৃত্যু ঘটে না হয় জনতার হাতে আটক হয়।

এলাকাবাসী জানান,রোববার দিনগত রাত অনুমান সাড়ে ৮টার দিকে বাঘটি বাথুলী বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে ঢাকা-আরি মহাসড়কের উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণ প্রান্তে পার হচ্ছিল। ঠিক এসময় দ্রুতগতিসম্পন্ন ঢাকা-গামী একটি ঘাতক বাসের ধাক্কায় ওই চিতা বাঘটি মহাসড়কের ওপর পড়ে যায় এবং গুরুতর আহত হয়। মহাসড়কের দুপাশ থেকেই থেমে যায় সবধরণের যান ও পরিবহণ। মানুষজন দ্রুত ওই বাঘটি রাস্তার পাশে নিয়ে সেবাযত্ন  করেন বাঁচানোর জন্য। কিন্ত শেষ পর্যন্ত ওই বাঘটিকে বাঁচানো গেলনা। বাঘটি এক দীর্ঘ্য নিস্বাস ছেড়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। বাঘ হিংস্র  প্রাণী হলেও তার প্রতি মানুষের মমত্ববোধের একটুও  কমতি ছিলনা। আর এসময় বাঘটিও মানুষের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে দুচোখের পানি ফেলছিল। আর এদৃশ্য অবলোকন করে মানুষের দুচোখেও নেমে এসেছিল ছলছল পানি।

মোঃ আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বলেন,বাঘটির মারা যাওয়ার করুণ দৃশ্য আমি আামর নিজ চোখে দেখেছি এবং তাকে বাঁচানোর জন্য সবধরণের চেষ্টাও করেছি। আমি ভুলেই গিয়েছিলাম বাঘ। আমার বুকের ধন নয়নের মণি আমার ছেলেও কিছুদিন আগে এ মহাসড়কের শ্রীরামপুর এলাকায় দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে মারা যায়। আজও আমি সে দৃশ্য ভুলতে পারিনি। তাই আমি এলাকার মানুষের সহায়তায় ওই বাঘটি বাঁচানোর চেষ্টা করি। আমার ছেলে আমাকে যেন দূর  থেকে বলছিল বাবা তুমি ওই বাঘটিকে বাঁচাও তাহলে আমার আত্মাও শান্তি পাবে।

ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ ফজলুর রহমান সবুজ বলেন,আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে শুনে আসছি প্রতিবছরই নাকি জিন্দাপীর কালু-গাজীর দরগাহে বাঘভক্তরা দরশন দিতে আসে। আর প্রতিবছরই জনতার হাতে ধরা পড়ে অথবা মৃত্যবরণ করে এবাঘ। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বাঘটি আলাউদ্দিনের সহায়তায় আমরা এলাকাবাসী বাঁচানোর সবধরণের চেষ্টা করেও সফল হইনি। শেষ পর্যন্ত বাঘটি মারা যায়। এলাকাবাসী বাঘটি মাটিচাপা দিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


আরও খবর
যমুনায় ধরা পড়ল ৫৫ কেজির বাঘাইড়

শনিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩