আজঃ মঙ্গলবার ২৫ জানুয়ারী ২০২২
শিরোনাম

ধামরাইয়ে ঐতিহ্যবাহী পৌষ সংক্রান্তি ও সাকরাইলের মেলা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জানুয়ারী ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জানুয়ারী ২০২২ | ৩৪৫জন দেখেছেন

Image

ধামরাই (ঢাকা ) প্রতিনিধি:

সনাতনধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব এর মধ্যে শুভ পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি উৎসব দেশের বিভিন্ন স্থানে উদযাপন করা হয় সেই পৌষ সংক্রান্ত বা মকর সংক্রান্তি উৎসব উপলক্ষে সমগ্র দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌষ মেলায় হাজার হাজার মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়।

বাঙালি সংস্কৃতিতে পৌষ মাসের এই শেষ দিনটি নানান বর্ণাঢ্য আয়োজনে উৎসব মুখর পরিবেশে পালিত হয়। মনের মাধুরীতে গঙ্গা অঞ্জলি দিয়ে এইদিনে সূর্যোদয়ের পূর্বেই গঙ্গাস্নান সেরে নেওয়া হয়।

সূর্য ধনুরাশি ত্যাগ করে মকরে সঞ্চারিত হবে বলে দিনটি শুভ, এজন্য একে মকর সংক্রান্তি বলে এবং উক্ত সময় স্নান করলে আয়ুবৃদ্ধি হয়। তা ছাড়াও পৌষ সংক্রান্তি ভারতের নানা রাজ্যে ভিন্ন নামে পালন করেন যেমন:- পুঙ্গল, লহরি, বেহু এটাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশেষ ঐতিহ্য।

তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানী ঢাকার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে পৌষ মেলা হচ্ছে তার মধ্যে প্রতিবারের মতো এবারও ধামরাই পৌরসভার ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী যশোমাধব দেবের মন্দির ও রথোৎসব এর মেলাঙ্গনের মাঠে পৌষ মেলায় আগত ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার হাজার হাজার মানুষ মেলায় আগমন ঘটেছে। মেলায় হরেক রকম দোকানীরা নানা কুটিরজাত শিল্প সরঞ্জাম জিনিস পত্র নিয়ে দোকান বসিয়েছে।

মেলায় আগত দর্শনার্থীরা তাদের পছন্দ মতো সাংসারিক পণ্য সামগ্রী, মাটির সরঞ্জাম, প্লাস্টিকের খেলনা শীতকালীন খাবার বিন্নি, খই, মুড়ি, চিড়া, কদমা, নানা প্রকার খাবারসহ নানা প্রকার সরঞ্জাম ক্রেতার ক্রয়, খরিদ করছেন। বাচ্চাদের খেলনা থেকে শুরু সাংসারিক দা, বটি, ছুরিসহ নানা সামগ্রী।

বলাবাহুল্য এদেশের প্রতিটি লোক-উৎসবেই রয়েছে গ্রামীণ কুটির শিল্পজাত পণ্যের সমাবেশ যা ছিল এককালে এদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। সে যুগে ধামরাইয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছিল অগনিত কুটিরশিল্প যা এককালে ধামরাইকে কুটির শিল্প নগরী হিসেবে সমৃদ্ধ করেছিল।

এ মেলা দুপুর পর্যন্ত চলবে এর পর সানোড়া বটগাছের তলায়, বারবাড়িয়া কালীমন্দিরের মাঠে, কামারপাড়া বিনদুটি ভিটায়, ধামরাই সদর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে বটগাছের সামনে বুড়বুড়ি মন্দির কমিটির উদ্যোগে বাৎসরিক পৌষ মেলার আয়োজন করা হয়। সেখানেও বিরাট মেলা অনুষ্ঠিত হইবে।


আরও খবর
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে বাস, আহত ২৫

সোমবার ২৪ জানুয়ারী ২০২২




আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ | ৬৩৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আগামী বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণি বলেছেন, যদি সম্ভব হয় তাহলে সব বিষয়েই পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর যদি একেবারেই সম্ভব না হয়, তাহলে নৈর্বাচনিক বিষয়ে পরীক্ষা হবে। তবে আমরা আশা করছি, সব বিষয়ের পরীক্ষা নিতে পারব।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে নির্ধারিত সময়ের সাড়ে আট মাস পর চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ১৪ নভেম্বর শুরু হয়ে শেষ হয় ২৩ নভেম্বর। অন্য বছরের মতো এবার সব বিষয়ের পরীক্ষা হয়নি। শুধু গ্রুপভিত্তিক (বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ইত্যাদি) তিনটি বিষয়ের ওপর সময় ও নম্বর কমিয়ে এ পরীক্ষা হয়। অন্য আবশ্যিক বিষয় ও চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা হয়নি। এসব বিষয়ে জেএসসি ও সমমান পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া হয়।

অপরদিকে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের আশঙ্কায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করতে আগামী মার্চ পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।


আরও খবর



সৌরভ গাঙ্গুলি করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ | ৪৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি। আপাতত হাসপাতালে আছেন তিনি।

সোমবার সকালে প্রথম পরীক্ষায় সৌরভের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর দ্বিতীয় পরীক্ষায়ও একই ফল আসে। তবে সৌরভ আক্রান্ত হলেও তাঁর স্ত্রী ডোনা ও মেয়ে সানার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

মৃদু উপসর্গ হলেও শরীরে অস্বস্তি অনুভব করায় পরীক্ষা করিয়েছিলেন সৌরভ। চলতি বছরের শুরুতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন সৌরভ। তখন বেশ ভুগতে হয়েছে তাকে। হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল পাঁচ দিন। অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টি করে স্টেন্ট বসাতে হয়েছিল। পাঁচ দিন হাসপাতালে থাকার পরে বাড়ি ফেরেন।

কয়েক দিন পর আবারও হাসপাতালে ভর্তি হয় তাকে। এরপর পুরো দমে কাজ শুরু করেন সৌরভ। আইপিএলের বিভিন্ন ম্যাচ ও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে মাঠে হাজির ছিলেন তিনি। সম্প্রতি বিরাট কোহলির সঙ্গে বিতর্কে জড়ান সৌরভ। এর মধ্যেই আক্রান্ত হলেন করোনায়।

 

নিউজ ট্যাগ: সৌরভ গাঙ্গুলি

আরও খবর
মাঠে ফিরছেন মাশরাফি, বোলিংয়ে ঢাকা

সোমবার ২৪ জানুয়ারী ২০২২




৭০৮ ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ শুরু

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জানুয়ারী ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ জানুয়ারী ২০২২ | ৪৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পঞ্চম ধাপে ৭০৮ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোটগ্রহণ চলছে। বুধবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়; একটানা চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

এদিকে ৭০৮ ইউনিয়নের মধ্যে ৪০টিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া হচ্ছে; বাকিগুলোতে কাগজের ব্যালটে ভোট হবে।

সূত্র জানায়, পঞ্চম ধাপে ৪৮ জেলার ৯৫ উপজেলায় ভোট হবে। ১৯ জেলার ৩১ উপজেলায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিন জেলায় ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিজিবি ও র্যা বের বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছেচাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও নওগাঁর পত্নীতলা।

এ ছাড়া বাড়তি ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে, নীলফামারীর ডোমার, ফরিদপুরের মধুখালী ও সদরপুর, গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি, শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী, হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট, চান্দিনা ও লালমাই এবং গাজীপুরের শ্রীপুরে। এ ছাড়া র্যা ব ও বিজিবির বাড়তি সদস্য বাড়ানো হয়েছে সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর ও কলারোয়া, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, হাইমচর ও কচুয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর ও আশুগঞ্জ, জামালপুরের বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও চন্দনাইশ, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ও দৌলতপুর এবং ভোলা সদরে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধাপের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ছাড়াও দলটির বিপুলসংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় সহিংসতার শঙ্কাও রয়েছে। এসব বিবেচনায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যদিও ৪৮ চেয়ারম্যানসহ ১৯৩ জন জনপ্রতিনিধি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে সংরক্ষিত সদস্য ৩৩ এবং সাধারণ সদস্য ১১২ জন। বাকি পদগুলোতে ভোট হচ্ছে।

জানা গেছে, পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৬ হাজার ৪৫৭ প্রার্থী। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান ৩ হাজার ২৭৪ জন, সংরক্ষিত সদস্য সাত হাজার ৯৫০ এবং সাধারণ সদস্য ৩৯ হাজার ৩৯১ জন। এ ধাপে মোট ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ১৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৬৮ লাখ ৩৬ হাজার ৩১ জন ও পুরুষ ৭০ লাখ ৬০ হাজার ১৪০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২১ জন।


আরও খবর



মহামারিতেও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সাফল্যের মাইলফলক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৪ জানুয়ারী ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৪ জানুয়ারী ২০২২ | ২৪৪৫জন দেখেছেন

Image

ফিরোজ মাহমুদ, ঢাকা

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শুধু স্বাস্থ্যের নয়, প্রভাব ফেলেছে বিশ্বের গোটা অর্থনীতিতে। ভাইরাসটির প্রভাবে দেশের প্রায় সব খাতেই মুখ থুবড়ে পড়ার মতো অবস্থা হলেও ঈর্ষান্বিত সফলতার সঙ্গে এগিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। লকডাউনে যখন হাট-বাজার, অফিস আদালত সব বন্ধ হয়ে যায়, তখনও মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট খাতে চলমান রাখা হয় ভ্রাম্যমাণ মাছ, মাংস, দুধ, ডিম বিক্রি। এছাড়া ক্রান্তিকালেও বেড়েছে ইলিশের উৎপাদন, চলতি মৌসুমে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত ১৪৬০ কোটি জাটকা, শতভাগ দেশীয় পশু দিয়ে কোরবানি এবং মাছের প্রজন্ম উদ্ভাবন, বিলুপ্তপ্রায় জাতের মাছ সংরক্ষণ, চিড়িয়াখানা আধুনিকায়নসহ নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানাযায়, বিশ্ববাজারে আর্থিক মন্দাবস্থা থাকা সত্বেও সরকারের কার্যকর উদ্যোগের ফলে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭৬ হাজার ৫৯১ দশমিক ৬৯ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানির মাধ্যমে ৪০৮৮ দশমিক ৯৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে। মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ১২ লাখ ২৫ হাজার ৯৬৪টি জেলে পরিবারকে ৯৬ হাজার ৮৫৭ মেট্রিক টন ভিজিএফ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জাটকা সংরক্ষণ, অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা ও প্রজননক্ষম মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশের আহরণ ২ দশমিক ৯৯ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া চলতি প্রজনন মৌসুমে ৩৯ হাজার ৩১০ কোটি জাটকা ইলিশ পরিবারে যুক্ত হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৪৬০ কোটি বেশি। দেশের ইলিশ সম্পদের উন্নয়নে গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর দেশব্যাপী ২২ দিন ইলিশ মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ছিল। এ সময়ে মা ইলিশের প্রজনন সফলতার ওপর বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের চাঁদপুর নদীকেন্দ্র থেকে পরিচালিত গবেষণা ফলাফল সংবলিত প্রতিবেদন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী- চলতি প্রজনন মৌসুমে (৪ থেকে ২৫ অক্টোবর) ৫১ দশমিক ৭৬ শতাংশ মা ইলিশ সম্পূর্ণরূপে ডিম ছেড়েছে। এতে চলতি প্রজনন মৌসুমে ৩৯ হাজার ৩১০ কোটি জাটকা (১০ শতাংশ বাঁচার হার ধরে) ইলিশ পরিবারে যুক্ত হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রজনন সফলতা ছিল ৫১ দশমিক ২ শতাংশ এবং ৩৭ হাজার ৮৫০ কোটি জাটকা ইলিশ পরিবারে যুক্ত হয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রজনন মৌসুমে অতিরিক্ত ১ হাজার ৪৬০ কোটি জাটকা যুক্ত হয়েছে।

এছাড়া সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের টেকসই আহরণ নিশ্চিতকল্পে সরকারের পরামর্শ ও নির্দেশনায় গবেষণা ও জরিপ জাহাজ আর ভি মীন সন্ধানী বঙ্গোপসাগরে মৎস্য সম্পদের জরিপ ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে। গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণের জন্য একটি পাইলট প্রকল্প চলমান। মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য সামুদ্রিক মৎস্য আইন ২০২০ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০২০ সালে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে লাইভ জিন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমানে এ লাইভ জিন ব্যাংকে দেশের বিলুপ্তপ্রায় ১০০ প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। রুই মাছের চতুর্থ প্রজন্ম উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা মূল জাতের চেয়ে ২০ শতাংশের অধিক বর্ধনশীল। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে উদ্ভাবিত হওয়ায় এটিকে সুবর্ণ রুই নামকরণ করা হয়েছে। করোনাকালে দেশের মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ভিন্ন এক উদ্যোগ নেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। করোনার সময় উৎপাদিত মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য এবং প্রাণি ও প্রাণিজাত পণ্য বাজারজাতকরণে স্থানীয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ ও অনলাইন বাজার ব্যবস্থা চালু করা হয়। কোভিডকালে ভ্রাম্যমাণ ও অনলাইন বিক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের মাছ, মাংস, দুধ, ডিম এবং অন্যান্য মৎস্য ও প্রাণিজাত দ্রব্য বিক্রি করা হয়েছে। এদিকে ২০২১ সালে ঈদুল আজহায় সারাদেশে ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি পশু কোরবানি হয়। মহামারির কারণে যেহেতু অন্য দেশ থেকে পশু আসেনি সেক্ষেত্রে শতভাগ দেশি পশু দিয়েই সম্পন্ন হয় কোরবানি। যা স্বয়ংসম্পূর্ণতার একটি প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২১ সালে ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার গরু-মহিষ, ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার ছাগল-ভেড়া এবং অন্যান্য ৪ হাজার ৭৬৫ পশুসহ মোট ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু ছিল। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি। এর মধ্যে প্রায় ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ২৬৩টি পশু কোরবানি করা হয়েছিল।

এদিকে জাতীয় চিড়িয়াখানাকে ডিজিটালাইজড ও বিশ্বমানের করে বদলে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্পূর্ণ বিদেশি মাস্টারপ্ল্যানে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার চিড়িয়াখানার আদলে গড়ে তোলা হবে চিড়িয়াখানা। এই প্ল্যান পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে জাতীয় চিড়িয়াখানা প্রকৃতই হয়ে উঠবে বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ। চিড়িয়াখানার মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ করছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান বার্নার্ড হ্যারিসন অ্যান্ড ফ্রেন্ডস লিমিটেড। এই কোম্পানির টিম লিডার বার্নার্ড হ্যারিসন নিজেই মূল দায়িত্বে রয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার বালিতে বসবাসরত বার্নার্ড হ্যারিসন আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছেন।

গবাদিপশুর উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সারাদেশে ৮ হাজার ৪৬৪টি কৃত্রিম প্রজনন উপকেন্দ্র/পয়েন্ট স্থাপন করেছে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭১ জন মৎস্যচাষি/খামারি/সুফলভোগীকে ৮১৮ দশমিক ৮৩ কোটি টাকা নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এসময়ে বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৭২ জনকে ৮৪ কোটি টাকার উৎপাদন উপকরণ। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬৩ হাজার ৮১ জন খামারিকে ১ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে কোভিড-১৯ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হয়। সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সহযোগিতায় নিয়মিত মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম খাই- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই শীর্ষক এসএমএস পাঠানো হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং আওতাধীন দপ্তর/সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। রুই জাতীয় মাছের বৃহত্তম প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, করোনা সংকটেও উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রেখেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, একই সঙ্গে রফতানিও বেড়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার জন্য মন্ত্রণালয় অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে। তার একটি পদক্ষেপ হচ্ছে- নগদ সহায়তা ও উপকরণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। চলতি প্রজনন মৌসুমে ৫১ দশমিক ৭৬ শতাংশ মা ইলিশ সম্পূর্ণরূপে ডিম ছেড়েছে। এতে চলতি প্রজনন মৌসুমে পরিবারে যুক্ত হয়েছে ৩৯ হাজার ৩১০ কোটি জাটকা ইলিশ।


আরও খবর
অর্ধেক জনবলে চলবে ব্যাংক

সোমবার ২৪ জানুয়ারী ২০২২

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

সোমবার ২৪ জানুয়ারী ২০২২




নতুন বছরের পাঠ্যবই বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ | ৪৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের স্কুলশিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে বঙ্গভবন থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যুক্ত হয়ে ভার্চুয়ালি এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন বই উৎসব করার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বছর তা হচ্ছে না। তবে বছরের প্রথমদিন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ কার্যক্রম চলবে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী। এছাড়া দুই মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। তবে এ বছর একদিনে সব শিক্ষার্থীকে বই দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীরা নতুন বই পাবে।


আরও খবর