আজঃ রবিবার ০৩ মার্চ ২০২৪
শিরোনাম

ধর্মপাশায় উমেদ্দিয়ার খালের উপর দৃষ্টিনন্দন সেতু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৩ মে 20২৩ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ মে 20২৩ | অনলাইন সংস্করণ
শহীদুল ইসলাম, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

Image

এক-দুই দিনের নয়, বছরের পর বছর একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের বাদে হরিপুর, বাগাউছাসহ আশেপাশের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষদের। সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। বর্ষাকালে এ দুর্ভোগ পৌছায় আরও চরমে।

উমেদ্দিয়ার খালের ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন সেতুই বদলে দিচ্ছে এলাকাটিকে। সেতু নির্মাণের ফলে যাতায়াতের সুব্যবস্থা, অল্প সময় গন্তব্যে পৌঁছানো, জমির দাম বৃদ্ধি, দোকানপাট স্থাপনসহ বিভিন্ন কারণে দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে এলাকার চিত্র।এ সেতু অন্ধকার থেকে আলোর সন্ধান দিয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষক থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে।

উপকারভোগীরা জানান, সেতু ও রাস্তার অভাবে আশেপাশের ২০ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে ছিল।ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে সবদিক থেকে পিছিয়ে পড়তে হয়েছিল।খালের উভয় পাশে ছিল আইলের মত কাঁচা সড়ক। বর্ষা এলেই ডুবে যেত। বর্ষার পানি সড়ে গেলে কাদামাটি মাড়িয়ে স্থানীয় বাজারে যেতে হত।

জানা যায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে হাওরাঞ্চলের বন্যা ব্যাবস্থাপনা ও জীবনমান উন্নয়ন (হেমলিপ) প্রকল্পের অর্থায়নে ৫১ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু ও ৭২০ মিটার সড়কটি ৬ কোটি ৪০ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে। এতে করে জয়ল্রী বাজারের সাথে অন্যান্য এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতি হয়েছে।

সেতুর পাশেই এক সবজি বিক্রেতা আজকের দর্পণকে বলেন, মাশাল্লাহ অনেক সুবিধা হইছে। আগে যাইতে গেলে অনেক কষ্ট হইত। ভাঙ্গা ব্রিজ আছিন। ভাঙ্গা ব্রিজের পরে বাঁশের সাঁকো দিছিল। এখন এটা(সেতু) ওহনের পড়ে আমরার অনেক কিছুর সুবিধা হইছে। আগে যদি দশ মিনিট লাগতো এখন মাশাল্লাহ দুই মিনিটে বাজারে যেতে পাড়ি।

বাদে হরিপুর গ্রামের কলেজ পড়ুয়া আরাফাত সানি ইমন বলেন, ব্রীজটি হওয়াতে আমাদের অনেক সুবিধা হইছে। বড়ইর দিকে অনেকগুলো গ্রাম আছে তাদের যাতায়াত ব্যবস্থাটা অনেক সুন্দর হইছে। আশেপাশের গ্রামগুলো সহ বড়ই বাজারের যত পণ্য সবই জয়শ্রী বাজার থেকে আনা নেওয়া করতে হয়। এখন এই ব্রিজ হওয়াতে পন্য আনা নেওয়া করতে অনেক সুবিধা হইছে।

মোটরবাইক চালক সেলিম বলেন, আগে অন্য রাস্তা দিয়ে চলতাম। মাঝে মাঝে গাড়ি ধাক্কাইয়া নিতাম। কাঁদা রাস্তা আছিন, গাড়ি ছাড়া চলতে হইত। এখন তো আমরা যেকোনো মুহূর্তে যাইতে পারি গাড়ি নিয়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক ইউপি সদস্য (বিএনপি সমর্থিত) বলেন, বাদে হরিপুর, বাগাউছা ও বরই সহ জয়শ্রী ইউনিয়নের অনেক মানুষ ভীষণ কষ্ট করছে এই ব্রীজ ও রাস্তার জন্য। এখন এই ব্রিজ ও সড়ক হওয়ার ফলে কষ্ট দূর অইছে।ব্রীজটি হওয়ার ফলে গাড়ি-ঘোড়া সবকিছুই আসতে পারে, ধান নিয়ে আসতে পারে, কৃষকের মালামাল নিয়ে আসতে পারে। রাস্তাঘাট হইলে এলাকার উন্নয়ন হয়।এখন জায়গা সম্পত্তির দামও বাড়ছে। এজন্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে ধন্যবাদ।

মুরুব্বি আঃ হাসিম বলেন, ব্রিজটা হওয়াতে আমরার অনেক সুযোগ সুবিধা হইছে আগে পয়সা দিয়া পার হইতে হইত এখন পয়সা লাগে না। আইট্টা (হেঁটে) পার অইতে পারি। এলাকার অনেক ছাত্র আছে, বড় মাদ্রাসা আছে, মাদ্রাসার ছাত্ররা কষ্ট থাইক্কা বাঁচছে। বর্ষাকালে আগে ফেরি দিয়া যাওয়া আসা করতাম। বিশ টাকা লাগতো যাইতে যাইতে। আল্লাহর রহমতে এখন আর লাগেনা।

সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এতে জয়শ্রী বাজারের সংগে উপজেলার অন্যান্য এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। এছাড়া বাদে হরিপুর থেকে মধ্যনগর উপজেলা সদরের সাথে সাবমারসিবল রাস্তা ও উড়াল সড়ক প্রকল্পের কিছু কাজও চলমান। এছাড়া আগে হাওর এলাকার কৃষকরা ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারতেন না। আমরা সেখানে সাবমারসিবল রাস্তা করেছি। এখন কৃষকেরা পানি আসার আগেই ধান কেটে তাদের বাড়িতে পৌঁছাতে পারছেন।

নিউজ ট্যাগ: সুনামগঞ্জ

আরও খবর



যথাসময়ে আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তি পাওয়া যাবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের দেয়া বেশিরভাগ টার্গেটই পূরণ করায় সংস্থাটির দেয়া ঋণের তৃতীয় কিস্তি বাংলাদেশ সময় মতোই পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের একথা বলেছেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশে আইএমএফের  আবাসিক প্রতিনিধি জায়েন্দু দে এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার লিলি নিকলসের সঙ্গে বৈঠক করেন।

মাহমুদ আলী বলেন, আএমএফ যেসব টার্গেট দিয়েছিলো তার বেশিরভাগই আমরা পূরণ করতে পেরেছি। আইএমএফ এর পরীক্ষায় আমরা পাস করেছি। আরেকটা টিম আসবে। তৃতীয় কিস্তি ঋণের টাকাও যথাসময়ে পাওয়া যাবে, আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

আইএমএফের কাছ থেকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ওই ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার বাংলাদেশ পায় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। আর ডিসেম্বরে আসে দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার।

এদিকে দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত বা মার্জ করার বিষয়ে একমত অর্থমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী।

তিনি বলেন, দুর্বল ব্যাংককে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা ভালো। এ বিষয়ে আমাদের দুটি আইডিয়া আছে। দু-একটা ব্যাংক এমন আছে তারা একেবারেই কাজই করতে পারছে না। তাদের শক্তিশালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করাই ভালো।

দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সংস্কার করে সবল কোনো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে প্রস্তুতও থাকতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অর্থমন্ত্রী জানান, উন্নত অর্থনীতিতে দেশগুলোতে একীভূতকরণ অহরহই হচ্ছে। তবে এখানে তা করতে সময় দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎপরতা থাকলেও এই বিষয়ের বাস্তবায়ন সময় সাপেক্ষ। অর্থ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে এখনো উদ্যোগ নেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


আরও খবর



মোংলা বন্দরের ইনার বারে ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ পুনরায় চালু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আবু বকর সিদ্দিক, মোংলা প্রতিনিধি

Image

মোংলা বন্দর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং প্রকল্প দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চারটি কাটার সাকশন ড্রেজারের মাধ্যমে মোংলা বন্দর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ বন্দরের বেসক্রিক এলাকার সেকশন-২ এবং সেকশন৪ এর মাধ্যমে পুনরায় শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১ টায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানা যায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালে শুরু হয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর ২০২২ সালে ড্রেজিং মাটি ফেলার জমি সংকটের কারণে ড্রেজিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। উক্ত সময়ে সম্পন্নকৃত ড্রেজিং এর ফলে মোংলা বন্দরে ৮.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ আনা সম্ভব হয়। কিন্তু প্রায় এক বছর যাবৎ ড্রেজিং বন্ধ থাকায় চ্যানেলের কিছু স্থানে পলি জমার কারণে নিয়মিতভাবে ৮.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ এ বন্দরে আসতে পারছিল না। এখন ড্রেজিং মাটি ফেলার জমির ব্যবস্থা হওয়ায় পুরনায় ড্রেজিং কাজ শুরু হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। ইনারবারে চলমান ড্রেজিং প্রকল্পটি সমাপ্ত হলে ৯.৫ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ অনায়াসে মোংলা বন্দরে আসতে পারবে।

অধিক ড্রাফটের জাহাজ বন্দরে আগমনের ফলে মোংলা বন্দরের আয় বৃদ্ধির পাশিপাশি সরকারি রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।


আরও খবর



বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করতে হবে : পরিবেশমন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা করতে হবে। ভাষাভাষী জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলা পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম ভাষা।

আজ বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পরিবেশমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী ভাষা অধিকার আন্দোলনে বাংলা ভাষা সংগ্রামীরাই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। ভাষা শহীদদের ত্যাগ ও বিসর্জন বিশ্বের কাছে অমূল্য। তাঁদের আত্মত্যাগের প্রেরণায় বাংলাদেশ আজ স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাড়িয়েছে। 

আরও পড়ুন>> সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ মুলোৎপাটনই আজকের দিনের অঙ্গীকার: ওবায়দুল কাদের

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ভাষা শহীদেরা বাংলা ভাষাকে কেবল অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠাই করেননি, বরং আমাদের জাতীয়তাবোধ এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অতুলনীয় অবদান রেখেছেন। তাঁরা বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি দৃঢ় করেছেন এবং মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের বীজ বপন করেছেন। তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সর্বস্তরে মাতৃভাষার প্রসার ঘটাতে হবে। ভাষা শহীদদের স্মৃতি ধারণ করে পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) ড. ফাহমিদা খানম, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, বন অধিদপ্তরের প্রধান বনসংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী আবু তাহেরসহ মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



ট্রান্সকম গ্রুপের দুই পরিচালকসহ শীর্ষ ৫ কর্মকর্তা গ্রেফতার

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

দেশের বৃহত্তম শিল্প প্রতিষ্ঠান ট্রান্সকম গ্রুপের দুই পরিচালকসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই।

গ্রেপ্তার পাঁচ কর্মকর্তা হলেন- প্রতিষ্ঠানের আইন উপদেষ্টা ফখরুজ্জামান ভুইয়া, পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) কামরুল হাসান, পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল মামুন, ম্যানেজার আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক এবং সহকারি কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক।

পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত লতিফুর রহমানের এক মেয়ে শাযরেহ হক বাদী হয়ে আজ গুলশান থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রুপটির পাঁচজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ট্রান্সকম গ্রুপের ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সম্পত্তি দখল এবং অবৈধভাবে কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তর করার অভিযোগ এনে শাযরেহ হক এই মামলা করেছেন।

দেশের অন্যতম বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ট্রান্সকম গ্রুপ। গ্রুপটির অধীনে পরিচালিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস, ট্রান্সকম বেভারেজেস, ট্রান্সকম ডিস্ট্রিবিউশন, ট্রান্সকম কনজিউমার প্রোডাক্টস, ট্রান্সকম ফুডস, ট্রান্সকম ইলেকট্রনিকস, ট্রান্সক্রাফট, মিডিয়াস্টার অন্যতম।


আরও খবর



সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেবে মিয়ানমারের সরকার

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে থাইল্যান্ড থেকে পরিচালিত দেশটির ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ইরাবতি।

রাখাইনের অধিকারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জান্তা বাহিনী জানিয়েছে, যেসব রোহিঙ্গা পুরুষ সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন তাদের এক বস্তা চাউল, নাগরিকত্বের একটি পরিচয়পত্র এবং মাসিক ১ লাখ ১৫ হাজার কিয়াট বেতন দেওয়া হবে। যা বাংলাদেশি অর্থে সাড়ে চার হাজার টাকার সমান।

তবে সাধারণ রোহিঙ্গাদের প্রলুব্ধ করতে না পেরে এখন জোরপূর্বক তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। যাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের রাজধানী সিত্তেতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সেখানে দুই সপ্তাহের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের ধরে নিয়ে যেতে বিভিন্ন গ্রাম এবং শরণার্থী ক্যাম্পে হানা দিচ্ছে জান্তা বাহিনী। গ্রামবাসী ও অন্যদের আশঙ্কা তাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ রোহিঙ্গা পুরুষকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নে সান বলেছেন, প্রশিক্ষণের সময় মাত্র দুই সপ্তাহ। যাদের দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে তাদের জান্তা বাহিনী শুধুমাত্র মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।

এরমধ্যে সিত্তের এবং বুচিডংয়ের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ৪০০ জনকে প্রশিক্ষণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সব নারী-পুরুষের সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করে। এরপরই রোহিঙ্গা পুরুষদের সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করার কার্যক্রম শুরু করে জান্তা।

সংবাদমাধ্যম ইরাবতি জানিয়েছে, জান্তা বাহিনী ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সকলের তালিকা তৈরির জন্য বুচিডং, মংডু এবং সিত্তের গ্রাম প্রশাসক ও নেতাদের চাপ দিয়েছে।

এরমধ্যে ছোট গ্রাম থেকে অন্তত ৫০ জন, বড় গ্রাম ও প্রতিটি শরণার্থী ক্যাম্প থেকে অন্তত ১০০ জনের তালিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বুচিডং থেকে গত ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি শতাধিক মুসলিম রোহিঙ্গা পুরুষকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

যদিও আইন অনুযায়ী, বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি শুধুমাত্র মিয়ানমারের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও এখন তাদের সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, যাদের জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে; তাদের জন্য তারা সবাই চিন্তিত। তারা আরও চিন্তিত কারণ, যে কোনো সময় তাদেরকেও প্রশিক্ষণের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।

এদিকে গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে আরাকান আর্মির যোদ্ধারা। তাদের হামলায় অনেক ঘাঁটি ও ক্যাম্প থেকে পালিয়ে গেছে জান্তা সেনারা। এখন আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য রোহিঙ্গাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।


আরও খবর