আজঃ মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম
সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব

ধর্ষণের রাতে ছাত্রলীগ সভাপতির আশ্রয়ে অন্য হলে ছিলেন মোস্তাফিজুর

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মীর মশাররফ হোসেন হলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমানকে অন্য হলে আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু ওই হলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে ফুটেজ পাওয়া যায়নি। ফুটেজ বিলোপের নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে মীর মশাররফ হোসেন হল থেকে রান্নাঘর সংলগ্ন গেট ভেঙে বের হয়ে যান। পরবর্তীতে রোববার সকাল সাড়ে আটটায় মূল অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর আশুলিয়া থানা কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলের নির্দেশেই মোস্তাফিজুরকে পলায়নে সহায়তা করে মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগের নেতা সাগর সিদ্দিকী এবং সভাপতির নির্দেশেই তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে আশ্রয় দেয়া হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলের চাপে ছাত্রলীগ সভাপতির নির্দেশে আত্মসমর্পণ করেন মোস্তাফিজ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, সভাপতি সোহেল আমাকে জানায় মোস্তাফিজুর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে চায়। আমি তখন তাকে বলেছি সেটা তার বিষয়। সে আত্মসমর্পণ করুক বা না করুক সে গ্রেপ্তার হবেই।

অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর নিজে থেকেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে- ছাত্রলীগ সভাপতি শুরুতে এমন দাবি করেন। কিন্তু যখন তাকে আবারো প্রশ্ন করা হয় আপনি কীভাবে জানলেন সে আত্মসমর্পণ করেছে যেখানে পুলিশ বলছে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তাহলে কী আপনি আগে থেকেই তার অবস্থা সর্ম্পকে জানতেন। এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।

অভিযুক্ত ধর্ষককে আশ্রয় দেয়ার সময়কালের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সকল সিসিটিভি ক্যামেরায় কোনো ফুটেজ রেকর্ড হয়নি। এর জন্য তারা যান্ত্রিক ত্রুটিকে দায়ী করেন। তবে সরেজমিনে সিসিটিভি সিস্টেম পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত সকল ফুটেজ রয়েছে এবং ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ রেকর্ড হচ্ছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার বলেন, আমি ছুটিতে ছিলাম। হল ওয়ার্ডেন প্রভোস্টের দায়িত্বে ছিল। কারগরী ত্রুটির কারণে কয়েকদিন ধরে আমাদের সিসিটিভি কাজ করছে না। পরবর্তীতে সিসিটিভি ঠিক করেছি। সিসিটিভি ফুটেজ গায়েবের মতো কোন ঘটনাই ঘটেনি।

উল্লেখ্য, শনিবার জাবির মীর মশাররফ হোসেন হলে বহিরাগত এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হলসংলগ্ন জঙ্গলে ঘটা এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামী ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুরকে পরদিন সকালে সাভারের একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দাবি করে পুলিশ। আর শনিবার রাতেই ধর্ষককে পালাতে সাহায্যকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।  অভিযুক্তরা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র সাগর সিদ্দিকী ও হাসানুজ্জামান, শাহ পরান, মুরাদ এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সাব্বির হাসান। 


আরও খবর
কে এই আবেদ আলী

সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪




মার্তিনেজের গোলে কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

২০২১ সালের আসরে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৫তম কোপা আমেরিকা শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এবার কলম্বিয়াকেও ম্যাচের একমাত্র গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখলো লিওনেল মেসিরা। এতে কোপায় সর্বকালের সবচেয়ে সফল দলের তকমা পেয়েছে আলবিসেলেস্তারা। এটি আর্জেন্টিনার ১৬তম শিরোপা। এর আগে আর্জেন্টিনার সমান ১৫টি শিরোপা জিতেছিল উরুগুয়ে।

কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। ফাইনালে খেলার মূল সময়ে অনেক চেষ্টা করেও গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া। অতিরিক্ত সময়েরও ২২ মিনিট শেষ হয়ে গেছে। ততক্ষণে সবাই টাইব্রেকারের প্রহর গুনছিল। অবশেষে ১১২ মিনিটে গোলের মুখ দেখলো চলতি কোপার ফাইনাল। আর্জেন্টিনাকে গোল উপহার দিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। এতে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে আর্জেন্টিনার।

আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে খেলার মূল সময় শেষেও পরিসংখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান কোপা চ্যাম্পিয়নদের মতো খেলতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ম্যাচে বল দখল, আক্রমণ ও লক্ষ্যে শট নেওয়ায় এগিয়ে কলম্বিয়া।

এদিন টিকিট ছাড়াই দর্শকদের মাঠে ঢুকে পড়ার কারণে সময় মতো খেলা শুরু করতে পারেনি আয়োজকরা। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় দর্শকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে তারা। অবশেষে সকাল ৬টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ম্যাচটি শুরু হয় ৭টা ২৫ মিনিটে।

শুরুতেই আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথম মিনিটে গঞ্জেলো মনটিয়েলের ক্রস থেকে হুলিয়ান আলভারেজের হেড গোলবারের বাঁপাশ মিস করে বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর ৫ মিনিটে লুইস দিয়াজ ও ১৩ মিনিট কার্লোস কুয়েস্টা কলম্বিয়ার হয়ে দুটি আক্রমণ করে।

২০ মিনিটে ডি মারিয়ার ক্রস থেকে বাঁপায়ের শট নেন লিওনেল মেসি। তবে মেসির শট সেভ করেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভারগাস।

৩২ মিনিটে দারুণ একটি আক্রমণ করে কলম্বিয়া। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা সেটি ব্লক করে দিলেও কর্নার পেয়ে যায় কলম্বিয়া। তবে কর্নার কিক থেকে বল তালুবন্দি করে নেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

এর ৩ মিনিট পর ফের আক্রমণে আসে আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের ভেতরে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডারদের ড্রিবলিং করে বল নিয়ে আগানোর চেষ্টা করছিলেন মেসি। শেষ পর্যন্ত আর লক্ষ্যে শট নিতে পারেননি। বল চলে যায় মাঠের বাইরে। চোটও পেতে হয় মেসিকে। তবে মাঠ ছেড়ে যাননি তিনি।

৪০ মিনিটে রড্রিগেজের ক্রস থেকে হেড নেন কলম্বিয়ার জন অ্যারিয়াস। তবে ডানপাশ দিয়ে বল চলে যায়। ৪২ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে কিক নেন মেসি। ডি-বক্সের ভেতর আর্জেন্টিনার নিকোলাস ত্যাগলিয়াফিকোর হেড চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে। অবশেষে গোল না করেই বিরতিতে যেতে হয় দুই দলকে।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমেই আক্রমণ কলম্বিয়ার। ৪৭ মিনিটে সান্তিয়াগো অ্যারিয়াসের ডান পায়ের দ্রুতগতির শট গোলবারের ডানপাশ দিয়ে চলে যায়। এরপর কাউন্টার অ্যাটাকে যায় আর্জেন্টিনা। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের অ্যাসিস্ট থেকে ডি মারিয়ার করা বাঁপায়ের শট সেভ দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক।

৫৪ মিনিটে গোল করার আরেকটি সুযোগ তৈরি করে কলম্বিয়া। ডেভিনসন সানচেজের হেড চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে। কর্নার কিক থেকে হেড করে তাকে অ্যাসিস্ট করেছিলেন জন কর্ডোবা।

৬৪ মিনিটের ঘটনা হয়তো আর্জেন্টিনা ফুটবলের জন্য দুঃসহ স্মৃতি হয়ে থাকবে। আক্রমণভাগে যখন দলের বিশৃঙ্খল অবস্থা তখনই ইনজুরিতে পড়তে হয়েছে আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিকে। নিজেই দৌড়াতে গিয়ে ইনজুরি হয়েছেন। তারকা এই ফুটবলারের চোট এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তার চোখ দিয়ে অশ্রু প্রায় বেরিয়ে আসছিল।

মেসিকে অবশ্য কেউ ফাউল করেনি। এরপর আর তাকে মাঠেই রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। বদলি হিসেবে নিকোলাস গঞ্জালেজকে মাঠে নামান তিনি।


আরও খবর



নিত্যপণ্যের বাজারে বৃষ্টি-ব্লকেডের অজুহাত, সবকিছুর দাম আকাশচুম্বি

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

নিত্যপণ্যের বাজারে বৃষ্টি ও কোটাবিরোধী বাংলা ব্লকেড অজুহাত দেখানো হচ্ছে। সরবরাহ ঠিক থাকলেও বাড়ানো হয়েছে ডাল, আলু ও ডিমের দাম। পরিস্থিতি এমন- এক কেজি আলু কিনতে ক্রেতার ৬৫-৭০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ডালের কেজি ১৪০ টাকা এবং প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকা। ফলে গরিবের খাবারের তালিকায় এখন ডাল-আলুভর্তা ও ডিমের জোগান দেওয়া যেন কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে শুক্রবার (১২ জুলাই) রাজধানীর অন্যতম পাইকারি বাজার কাওরান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দাম কমছে না নিত্যপ্রয়োজনীয় কোন দ্রব্যেরই। বরং লাগামহীনভাবে বেড়েই চলছে দ্রব্যের দাম।

এদিন, কচুরমুখী ৮০-৯০, টমেটো কেজি প্রতি ১৮০-২০০, কাচা মরিচ কেজি প্রতি ২৫০, গাজরের কেজি ৯০-১০০, শসা ৯০-১০০, বেগুন ৭০-৮০ ও পটল কেজি প্রতি ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

গত সপ্তাহের তুলনায় পটল ও বেগুন ছাড়া প্রায় সব সবজিরই দাম বাড়তি দেখা যায়। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা দুষছেন বন্যা ও কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে।

ব্যবসায়ীরা বলছে, এমনিতে কয়েকদিন ধরে হওয়া অতি বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সবজির ক্ষেত। তার মধ্যে আবার ছাত্র আন্দোলনের ফলে ব্যাহত হচ্ছে পরিবহন ব্যবস্থা। ফলে সরবরাহ কম হওয়ায় বাড়ছে দাম।

সপ্তাহের ব্যবধানে ঝাঁঝ বেড়েছে পেয়াজের। গত সপ্তাহেও যে পেয়াজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছিলো ৮০-৯০ টাকায় তা এ সপ্তাহে বেড়ে দাড়িয়েছে ১১০-১২০ টাকায়। এছাড়াও আলু ৬০-৭০, পেয়াজ ১১০-১২০, আদা ৩২০, রসুন ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা যায়।

ক্রেতারা বলছেন, নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সবজিসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম। এখনই লাগাম না টানলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বাজার।

এই পাগলা ঘোড়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ চান ক্রেতারা। তারা বলছেন, আমাদের আয় তো বাড়ছে না কিন্তু প্রতিনিয়ত সব কিছুর দামই বেড়ে চলছে। এমনি চলতে থাকলে বাজার করায় কঠিন হয়ে যাবে। সরকারের উচিৎ এখনই লাগাম টেনে ধরা।

দ্রব্যমূল্য আর তার আয়ের ব্যবধানে অনেকটা অসহায় মশিউর। কাজ করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। সেখান থেকে যায় আয় হয় তা দিয়ে ৩-৪ বছর আগে ভাল চললেও এখন টানাপোড়েন লেগেই থাকছে। এক ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। বাচ্চার স্কুলের খরচ ও দ্রব্যমূল্যের বাড়তি চাপে অনেকটায় দিশেহারা অবস্থা তার।

বাজার মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে জানিয়ে মশিউর বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ খাবো কি? যেভাবে সব কিছুরই দাম বাড়ছে তাতে করে পরিবার নিয়ে টিকে থাকায় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের উচিত, বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া। না হলে বাজার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নিঃস্ব হবে সাধারণ ভোক্তারা।

শুধু সবজি নয়, আগুন লেগেছে মাংসের বাজারেও। গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগীর দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত। এদিন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩২০ টাকা, দেশি মুরগি ৭০০-৭৩০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৬০-২৮০ টাকা ও লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা যায়।

এছাড়াও প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, খাসির মাংস ১২০০-১২৫০ টাকা।

নাগালের বাহিরে চলে গেছে গরীবের আমিষের চাহিদা পূরণের মাছ পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়ায়ও। এদিন প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২০০-২৩০ টাকা ও চাষের পাঙাশ ২০০-২৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

এছাড়াও আকারভেদে প্রতি কেজি রুই ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কোরাল ৭০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বোয়াল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ও আইড় ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৬৫০ টাকা ও চাষের কৈ ৩০০-৩২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।


আরও খবর



অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার (৩০ জুন) এই কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। সংগঠনটির দেওয়া তথ্যমতে আগামীকাল (১ জুলাই) থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হবে। যা শিক্ষকদের সকল দাবি মেনে নেওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি বলছে সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলন কর্মসূচি হিসেবে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা করছে। বৈষম্যমূলক প্রত্যয় স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাহার, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন, প্রতিশ্রুত সুপারগ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি পালন করা হবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এর আগে রোববার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ঘোষিত এই সর্বাত্মক আন্দোলনে আপনারা সবাই আমাদের সারথি। আপনাদের বিপুল সমর্থন ও ম্যানডেট নিয়ে শিক্ষক সমিতি এই সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। আমাদের এই আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্দোলন। বৈষম্যমূলক ও মর্যাদাহানিকর প্রত্যয় স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাহার, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন এবং প্রতিশ্রুত সুপারগ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করা হবে।

বিবৃতিতে শিক্ষক নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা করেন-

১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।

২. অনলাইন, সান্ধ্যকালীন ক্লাস, শুক্র ও শনিবারের প্রফেশনাল কোর্সের ক্লাস বন্ধ থাকবে।

৩. সব পরীক্ষা বর্জন করা হবে। মিডটার্ম, ফাইনাল ও ভর্তি পরীক্ষাসহ কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

৪. বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভাগীয় অফিস, সেমিনার, কম্পিউটার ল্যাব ও গবেষণাগার বন্ধ থাকবে। অ্যাকাডেমিক কমিটি, সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটি এবং প্রশ্নপত্র সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে না।

৫. অনুষদের ডিনরা ডিন অফিস ও ভর্তি পরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ রাখবেন। নবীনবরণ অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে না। কোনো সিলেকশন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে না।

৬. বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালকগণ ইনস্টিটিউটের অফিস, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখবেন। সান্ধ্যকালীন, শুক্র ও শনিবারের ক্লাস বন্ধ থাকবে।

৭. বিভিন্ন গবেষণাধর্মী সেন্টারের পরিচালকগণ কোনও সেমিনার, কনফারেন্স ও ওয়ার্কশপের কর্মসূচি গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন।

৮. বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষগণ প্রাধ্যক্ষ অফিস বন্ধ রাখবেন।

৯. প্রধান গ্রন্থাগারিক কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি বন্ধ রাখবেন।

এদিকে একই দাবিতে আগামীকাল সোমবার (১ জুলাই) থেকে সব ধরনের ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. শেখ মাশরিক হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম আমাদের দাবি না মানলে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাব। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। তাই আমরা কাল থেকে কোনো কাজ করব না, কোনো সাইন পর্যন্ত করব না। আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস হবে না, শুক্রবারেও কোনো ক্লাস হবে না, প্রফেশনাল কোর্সেরও কোনো ক্লাস হবে না।

অপরদিকে একই কর্মসূচিতে আগামীকাল সোমবার (১ জুলাই) থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতি এনিয়ে আজ বিকেল ৪টার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। সেখান থেকে বিস্তারিত ঘোষণা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ মে সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার এবং পূর্বের পেনশন স্কিম চালু রাখার দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। তার ধারাবাহিকতায় ২৬ জুন বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এরপর ২৮ মে দুই ঘণ্টা এবং ২৫-২৭ জুন তিনদিন সারাদেশে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করা হয়। এছাড়া আজ ৩০ জুন পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।


আরও খবর
আরও ৩ দিনের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




যে কারণে চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন সুস্মিতা সেন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

কিছু দিন আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের জন্ম তারিখ বদলে দিয়েছেন ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও মডেল সুস্মিতা সেন। ২০২৩-এর ২৭ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তাই এই দিনটিকে তার দ্বিতীয় জন্মদিন বলে দাবি করেন অভিনেত্রী।

সোমবার সুস্মিতা তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ওই ৪৫ মিনিটই তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পরে চিকিৎসকরাও তার সঙ্গে লড়েছিলেন। তাই চিকিৎসকদের কৃতজ্ঞতা জানান সুস্মিতা।

ভিডিওতে সুস্মিতা বলেন, আমার জীবন একটা গল্পের মতো। তবে কিছু দিন আগেই আমার জীবনের গল্প এক বড় মোড় নিয়েছিল। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সময়ের কথা বলছি। ওই ৪৫ মিনিট যেন আমার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়। একটা সময়ে মনে হচ্ছিল আমার গল্প বোধহয় এখানেই শেষ।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে সুস্মিতা বলেন, চিকিৎসকদের অসংখ্য ধন্যবাদ। তাদের জন্যই আমার গল্পটা এখনও চলছে। তারা আমার লড়াইয়ে হাল ছেড়ে দেননি। আমাকেও হাল ছাড়তে দেননি। আমার জীবনের জন্য তারা একটা নতুন গল্প লিখে দিয়েছেন। আমায় নতুন দিশা দেখিয়েছেন। ওটাই আমার দ্বিতীয় জন্মদিন। আমার সেই দিনটা সমস্ত চিকিৎসকদের উৎসর্গ করলাম। চিকিৎসকরাই আমায় জীবনে একটা নতুন সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার হৃদয় থেকে তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।

উল্লেখ্য, আরিয়া সিরিজের শুটিং চলাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন সুস্মিতা। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এটাই সুস্মিতার প্রথম কাজ।

নিউজ ট্যাগ: সুস্মিতা সেন

আরও খবর



ধর্ষণ মামলায় জামিন পেলেন মামুনুল হক

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

Image

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় দায়ের করা কথিত স্ত্রীর ধর্ষণ মামলায় হেফাজত ইসলামের সাবেক নেতা মামুনুল হক জামিন পেয়েছেন।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালত জামিন প্রদান করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামুনুল হকের আইনজীবী ওমর ফারুক নয়ন। এর আগে গত মঙ্গলবার মামলার ধার্য দিনে আদালতে হাজির না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানা এলাকায় রয়েল রিসোর্টে কথিত স্ত্রীসহ অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। পরে ওই রিসোর্ট ভাঙচুর করে মামুনুলকে ছিনিয়ে নেন তার অনুসারীরা। একই বছরের ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। এ ঘটনার ২৭ দিন পর ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন তার সঙ্গে থাকা ওই নারী।


আরও খবর