আজঃ মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

ডিমের খোসার যত গুণ

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
জীবন ধারা ডেস্ক

Image

প্রতিদিন ডিম খাওয়া শরীরের পক্ষে ভীষণ উপকারী। শুধু ডিম নয় ডিমের খোসাও কিন্তু বেশ উপকারী। আপনি যদি বাগানে গাছের পরিচর্যায় ডিমের খোসা ব্যবহার করতে পারেন তাহলে কিন্তু আপনার যেকোনো গাছ খুব ভালোভাবে ফলন দেবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ডিমের খোসা যে পাঁচ কাজে ব্যবহার করতে পারেন।

সাধের গাছগুলির পরিচর্যায় ডিমের খোসা ব্যবহার করতে পারেন। ডিমের খোসা গুঁড়ো করে তা গাছের মাটিতে ছড়িয়ে দিন। এটি গাছকে পোকামাকড়ের হাত থেকেও রক্ষা করবে। টমেটো কিংবা মরিচ গাছের গোড়ায় এই গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলে ফলন ভালো হয়।

ভুলবশত রান্না করার সময়ে কড়াই পুয়ে যায়। পোড়া কড়াইয়ের জেল্লা ফেরাতে ডিমের খোসা কাজে লাগাতে পারেন। ডিমের খোসাগুলো গুঁড়ো করে নিন। এরপর ওই পোড়া পাত্রের মধ্যে খোসার গুঁড়ো, নুন এবং পানি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানি ফুটে উঠলে সেটা ফেলে দিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন পোড়া দাগ সহজেই উঠে গিয়েছে।

ত্বকের পরিচর্যাতেও ডিমের খোসা কাজে আসে। ডিমের খোসা গুঁড়ো করে তাতে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিয়ে স্ক্রাব বানিয়ে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে উষ্ণ পানি দিয়ে হালকা হাতে ঘষে তুলে নিন। এতে ত্বক কোমল হবে। মুখের মৃত কোষগুলিও দূর হবে।

পাখিদের খাবার হিসাবেও ডিমের খোসা ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডিমের খোসা গুঁড়ো করে বারান্দায় কিংবা ছাদে একটি পাত্রে রেখে দিতে পারেন।

ঘরের অন্দরসজ্জার কাজেও এই খোসার ব্যবহার করতে পারেন। ডিমের খোসা দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন মোমদানি। সাদা খোলসে স্প্রে রং ব্যবহার করে বানিয়ে ফেলতে পারেন ঘর সাজানোর নানা সামগ্রী।

নিউজ ট্যাগ: ডিমের খোসা

আরও খবর



মস্কো সফরে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

মস্কো সফরে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ রুশ বার্তাসংস্থা তাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তাসকে ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের আগমনের দিন এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে শিগগিরই ঘটছে এই সফর। এর আগে গত বছর নভেম্বরে মস্কো সফরে আসার কথা ছিল আব্বাসের, কিন্তু সেবার ফিলিস্তিনের কর্মকর্তাদের অনুরোধে সেই সফর স্থগিত করেছিলেন তিনি।

জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেম তিন ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ক্ষমতাসীন রয়েছে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ সরকার, যেটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটি-পিএ) নামে পরিচিত। ফিলিস্তিনের বৈধ শাসক হিসেবে পিএকেই স্বীকৃত দেয় বহির্বিশ্ব।

একসময় গাজায় উপত্যকায়ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সরকার ক্ষমতায় ছিল, কিন্তু ২০০৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সেই সরকারকে উচ্ছেদ করে কট্টর ইসলামপন্থি সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস।

ফাতাহ এবং হামাসের মধ্যকার সম্পর্ক চরম বৈরী। এর প্রধান কারণ ফাতাহ নিয়নতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগ্রামের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলন চালিয়ে নিতে বিশ্বাসী। অন্যদিকে হামাস বিশ্বাস করে, সশস্ত্র পন্থা অনুসরণের মাধ্যমে ইসরায়েলকে ধ্বংসের ভিত্তিতেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস। সেই হামলার জবাবে সেই দিন থেকেই সেখানে অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

আইডিএফের অভিযান শুরুর পর থেকে সহিংসতা বেড়েছে পশ্চিম তীরেও। ইসরায়েলি পুলিশ ও ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের হাতে নিয়মিত সহিংসতার শিকার হচ্ছেন পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা।

রাশিয়া ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতিশীল। মস্কোতে ফিলিস্তিনের দূতাবাসও রয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।


আরও খবর
আজ নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন!

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




ব্রাজিলের ৭ গোল হজমের এক দশক পূর্তি

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

হেক্সা জয়ের বড় স্বপ্ন নিয়ে ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল ব্রাজিল। তবে সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে স্বাগতিকরা আটকে যায় সেমিতেই। সেবার বেলো হরিজেন্তের মিনেইরো স্টেডিয়াম সেমিফাইনালে জার্মানি গুণে গুণে ৭ বার বল ঢুকিয়েছিল ব্রাজিলের জালে। যা ফুটবল সমর্থকদের কাছে সেভেন আপ নামে পরিচিত। ৮ জুলাই ২০১৪, এই তারিখটা দগদগে ক্ষত হয়ে থাকবে ব্রাজিলের ফুটবলে। সেই ম্যাচের ১০ বছর পূর্তি হল আজ। প্রতি বছর এ দিনটা এলেই দগদগে হয়ে ভেসে ওঠে ভয়াবহ সে স্মৃতি। ৭ শব্দটাই একটা ট্রমাতে পরিণত হয় ব্রাজিলের জন্য।

সেদিনের সেই ম্যাচের আগে ব্রাজিলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডির নাম ছিল মারাকানাজো। ১৯৫০ সালের সেই বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে শুধু ড্র হলেই চলত ব্রাজিলের। এমন উপলক্ষ্যে দুই লাখ দর্শক হাজির হয়েছিলেন মাঠে। কিন্তু উৎসবের সেই ম্যাচ বিষাদে পরিণত হয় উরুগুয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের ২-১ গোলের হারে। লাখো জনতার স্রোতে থেমে যায় সাম্বার উৎসব। ওই ট্রাজেডির ৬৪ বছর পর মিনেইরো স্টেডিয়ামের সেই বিপর্যয়ের পর থেকেই তুলনা চলে, মারাকানাজো নাকি মিনেইরাজো- বিপর্যয়ের মাত্রা বেশি কোনটিতে।

বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল, কিন্তু ব্রাজিলিয়ানরাও জানেন এই ইতিহাস আর পাল্টানো যাবে না। যতবার বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়বে ততোবার ঘুরে ফিরে আসবে ওই গল্প। সেই দিনের হারার যন্ত্রণাময় মুহূর্ত নিশ্চয়ই এখনও বেশ মনে লেগে আছে বহু সেলেসাও সমর্থকের হৃদয়ে। মিনেইরাজোর সেই ট্রমা ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমারও ভুলতে পারেননি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে এক সাক্ষাৎকারে নেইমার জানিয়েছিলেন, আমি বলবো না সেটা (ঘরের মাঠে জার্মানির বিপক্ষে ৭-১ গোলে হার) আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে মুহুর্ত। তবে এটি অবশ্যই সবচেয়ে কঠিন মুহুর্তগুলির মধ্যে একটি ছিল। আমার প্রথম বিশ্বকাপ, আমার নিজের দেশে, তাই আমি খুব জিততে চেয়েছিলাম।

ব্রাজিলিয়ান দৈনিক গ্লোবো ম্যাচটার স্মৃতি নিয়ে মুখোমুখি হয়েছিল তখনকার জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। তাদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে এখনও ম্যাচের স্মৃতি তরতাজা জোয়াকিমের, ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল খেলাটা সবসময় চাপের। ব্রাজিলও সেই চাপে ছিল। আমি সেই বিশ্বকাপের কথা প্রতিদিনই স্মরণ করি, কারণ এটা বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল। ব্রাজিলের মতো ঐতিহ্যবাহী দেশে বিশ্বকাপ জেতাটা বিশেষ কিছু।

মারাকানায় ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারানো নিয়ে জোয়াকিম বলেন, ব্রাজিলের জাতীয় সঙ্গীত বাজার পর থেকে দর্শকরা আবেগী হয়ে পড়েছিল। প্রথম কয়েক মিনিট ব্রাজিলই ভালো খেলেছে। কিন্তু প্রথম ১০ মিনিটে গোল পেয়ে গেলাম আমরা (১১ মিনিটে করেছিলেন মুলার)। এটা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

সেই ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেন জার্মানির ক্লোসা, মুলার, ক্রুস এবং ওজিল। সবাই মিলে গোল উৎসবে মেতে উঠেছিলেন। জার্মানির সেই বিজয়ী দলের খেলোয়াড় ম্যাটস হামেলস পরে জানিয়েছিলেন, তারা ইচ্ছা করেই বিরতির পর আর কোনো জাদুকরি খেলা খেলতে চাননি। তারা শুধু চেয়েছিলেন ম্যাচটি শেষ করতে। ম্যাটস হামেলস বলেন, আমরা শুধু চেয়েছি খেলায় মনোযোগী থাকতে। খেলার মধ্যে সেলেসাওদের কোনোভাবেই অপমান করতে চাইনি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, খেলার মধ্যে সিরিয়াস থাকতে হবে। তবে ব্রাজিলকে অপমান করা হয়, এমন কিছু থেকে বিরত থাকব। খেলার মধ্যে জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে প্রতিপক্ষকে সম্মান দেখাতে হবে। আমরা সে কাজ করেছি। দ্বিতীয়ার্ধের পর আমরা কোনো জাদুকরি খেলা দেখাইনি।

যদিও পরবর্তীতে ম্যাটস হামেলসের এমন কথা উড়িয়ে দিয়েছেন জার্মান কোচ জোয়াকিম। তার কথায়, এটা বাজে কথা। বরং আমি মনে করিয়ে দিয়েছিলাম বাছাইপর্বে সুইডেনের কাছে শুরুতে ৪ গোল দিয়ে শেষ ৩০ মিনিট ৪ গোল হজম করার কথা। ফুটবলে যে কোনও কিছু ঘটতে পারে। তবে খারাপ লাগছিল ব্রাজিলের জন্য। কারণ এর আগে ঘরের মাঠে ২০০৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে এভাবে বাদ পড়ার বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমাদেরও। নিজেদের দলের জন্য গর্ব হলেও ব্রাজিলের জন্য খারাপ লাগছিল আমার।

সেই হারের ১০ বছর পরও বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি ব্রাজিল। এবারের কোপা আমেরিকায়ও সেলেসাওরা ছিল পরিষ্কার ফেভারিট। তবু কোয়ার্টারেই থামতে হয়েছে তাদের। রোববার উরুগুয়ের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র করার পর টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হেরে আসর থেকেই বিদায় নেয় দরিভাল জুনিয়রের দল।


আরও খবর



রণক্ষেত্র সায়েন্সল্যাব: দফায় দফায় চলছে সংঘর্ষ, ঘটনাস্থলে নেই পুলিশ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

কোটা বাতিলের এক দফা দাবিতে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেছেন ছয় কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ মুহূর্তে উভয় পক্ষই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। চলছে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

এক ঘণ্টা ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করলেও সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি। এরই মধ্যে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৩ শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতরা হলেন- সাব্বির, হাবিব, কামরুল হাসান, জাহিদ, ইয়াসমিন, হাসান, মিরাজ, আরিফ, লাভলু, এস এম ওসমান গনি, মিদুল, হৃদয় ও নাহিদ। 

ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে শুরু করে সাইন্স ল্যাবরেটরি মোড় পর্যন্ত কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানিয়ে আইডিয়াল কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজ ও মুন্সী আব্দুর রউফ কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শতাধিক শিক্ষার্থী রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন। বিপরীত পাশে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ, স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। থেমে থেমে তাদের মধ্যে চলছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয় পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিত না হওয়ার বিষয়ে জানতে নিউ মার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। শুরুতে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

একই ইস্যুতে গতকাল সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাবিসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। দুপুরের দিকে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে এসে অবস্থান নেন কয়েকশ আন্দোলনকারী। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে নানা স্লোগান দেন। তবে, তাদের তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার স্লোগান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আলাদা অনুষ্ঠানে তাদের স্লোগানের ভাষার তীব্র সমালোচনা করেন।

এরপর ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয় ছাত্রলীগ। দুপুর ২টার দিকে তারা বিজয় ৭১ হলসহ বিভিন্ন হলে আন্দোলনকারীদের বাধা দেন। এ খবরে আন্দোলনকারীরা ছুটে গেলে ছাত্রলীগের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। উভয়পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এরপর থেকে গোটা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিকেল ৪টার পর থেকে পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। এ সময় ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠি-সোটা নিয়ে আক্রমণ শুরু করে। বহু আন্দোলনকারীকে পিটিয়ে আহত করে তারা। তাদের অনেকের মাথা ফেটে যায়। আন্দোলনকারীরা কোথাও কোথাও প্রতিরোধের চেষ্টা করে। ফলে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।

বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে শতাধিক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের অধিকাংশই ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন। এ ছাড়া আশপাশের অন্যান্য হাসপাতালেও চিকিৎসা নেন কেউ কেউ।

বিকেল ৫টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের সামনে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ফের সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগ। সেখানে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ উপস্থিত হয়ে ব্যারিকেড দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের থামিয়ে দেন যেন তারা সামনে যেতে না পারে। ঢাবির শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষক ও প্রভোস্ট হলের শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, রাস্তা থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাবির দোয়েল চত্বর এলাকা থেকে সাঁজোয়া যান নিয়ে অভিযান শুরু করে পুলিশ। রাত পৌনে ১০টার দিকে ক্যাম্পাস ছাড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাতেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলার অভিযোগ ওঠে। রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে সেখানে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ দিন রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলে রড, স্ট্যাম্প ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন রুমে তল্লাশি চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্কের ছড়িয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন। এ দিনও বিভিন্ন স্থান থেকে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। 


আরও খবর



অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার (৩০ জুন) এই কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। সংগঠনটির দেওয়া তথ্যমতে আগামীকাল (১ জুলাই) থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হবে। যা শিক্ষকদের সকল দাবি মেনে নেওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি বলছে সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলন কর্মসূচি হিসেবে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা করছে। বৈষম্যমূলক প্রত্যয় স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাহার, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন, প্রতিশ্রুত সুপারগ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি পালন করা হবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এর আগে রোববার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ঘোষিত এই সর্বাত্মক আন্দোলনে আপনারা সবাই আমাদের সারথি। আপনাদের বিপুল সমর্থন ও ম্যানডেট নিয়ে শিক্ষক সমিতি এই সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। আমাদের এই আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্দোলন। বৈষম্যমূলক ও মর্যাদাহানিকর প্রত্যয় স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাহার, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন এবং প্রতিশ্রুত সুপারগ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করা হবে।

বিবৃতিতে শিক্ষক নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা করেন-

১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।

২. অনলাইন, সান্ধ্যকালীন ক্লাস, শুক্র ও শনিবারের প্রফেশনাল কোর্সের ক্লাস বন্ধ থাকবে।

৩. সব পরীক্ষা বর্জন করা হবে। মিডটার্ম, ফাইনাল ও ভর্তি পরীক্ষাসহ কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

৪. বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভাগীয় অফিস, সেমিনার, কম্পিউটার ল্যাব ও গবেষণাগার বন্ধ থাকবে। অ্যাকাডেমিক কমিটি, সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটি এবং প্রশ্নপত্র সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে না।

৫. অনুষদের ডিনরা ডিন অফিস ও ভর্তি পরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ রাখবেন। নবীনবরণ অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে না। কোনো সিলেকশন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে না।

৬. বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালকগণ ইনস্টিটিউটের অফিস, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখবেন। সান্ধ্যকালীন, শুক্র ও শনিবারের ক্লাস বন্ধ থাকবে।

৭. বিভিন্ন গবেষণাধর্মী সেন্টারের পরিচালকগণ কোনও সেমিনার, কনফারেন্স ও ওয়ার্কশপের কর্মসূচি গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন।

৮. বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষগণ প্রাধ্যক্ষ অফিস বন্ধ রাখবেন।

৯. প্রধান গ্রন্থাগারিক কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি বন্ধ রাখবেন।

এদিকে একই দাবিতে আগামীকাল সোমবার (১ জুলাই) থেকে সব ধরনের ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. শেখ মাশরিক হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম আমাদের দাবি না মানলে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাব। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। তাই আমরা কাল থেকে কোনো কাজ করব না, কোনো সাইন পর্যন্ত করব না। আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস হবে না, শুক্রবারেও কোনো ক্লাস হবে না, প্রফেশনাল কোর্সেরও কোনো ক্লাস হবে না।

অপরদিকে একই কর্মসূচিতে আগামীকাল সোমবার (১ জুলাই) থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতি এনিয়ে আজ বিকেল ৪টার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। সেখান থেকে বিস্তারিত ঘোষণা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ মে সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার এবং পূর্বের পেনশন স্কিম চালু রাখার দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। তার ধারাবাহিকতায় ২৬ জুন বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এরপর ২৮ মে দুই ঘণ্টা এবং ২৫-২৭ জুন তিনদিন সারাদেশে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করা হয়। এছাড়া আজ ৩০ জুন পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।


আরও খবর
আরও ৩ দিনের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




বরগুনায় সনদ জালিয়াতি করে পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে চাকরি

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অলিউল্লাহ্ ইমরান, বরগুনা

Image

অন্যের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সকল তথ্য সঠিক রেখে শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীর নাম ও পিতার নাম পরিবর্তন করে জাল সনদ বানিয়ে ১০ বছর ধরে সরকারি চাকুরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের নাম শিপ্রা সরকার। তিনি বরগুনার বামনা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা হিসাবে ডৌয়াতলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন।

এঘটনায় সনদের প্রকৃত মালিক মঠবাড়িয়া উপজেলার বাশবুনিয়া রাশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সমাপ্তি বিশ্বাস তার এসএসসি সনদ জাল করে বামনা উপজেলায় শিপ্রা সরকার নামে এক নারী পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা পদে চাকরি করছেন দাবী করে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে জানাগেছে, পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার গৌরাঙ্গলাল বিশ্বাসের মেয়ে সমাপ্তি বিশ্বাস ২০১৯ সালে এনটিআরসির মাধ্যমে বাশবুনিয়া রাশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন। গত বছর ২রা অক্টোবর রাতে ওই শিক্ষিকাকে নাজিরপুর থানার ডিএসবি থেকে ফোন করে জানায় তার এসএসসি পরীক্ষা সনদের সকল তথ্য সঠিক রেখে শুধু নাম এবং পিতার নাম পরিবর্তন করে বরগুনায় শিপ্রা সরকার নামে একজন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা পদে চাকরি করছেন।

অভিযোগে সমাপ্তি বিশ্বাস জানায়, তার এসএসসি পরীক্ষার সনদে রোল নম্বর ১১৩৬৭৮ রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ২৪৮৯৬৩ শিক্ষাবর্ষ ১৯৯৯-২০০০, পাশের সন ২০০১ এবং শিক্ষা বোর্ড বরিশাল। এদিকে সমাপ্তি বিশ্বাসের সনদ জাল করে চাকরি পাওয়া শিপ্রা সরকারের জাল সনদটি উদ্ধার করে কালেরকন্ঠ টিম। ওই জাল এসএসসি পরীক্ষার সনদে দেখাগেছে সমাপ্তি বিশ্বাসের নামের স্থানে হুবুহু ফন্টে টাইপ করে লেখা রয়েছে শিপ্রা সরকার এবং পিতার নাম নকুল চন্দ্র সরকার। এছারা বাকি সকল তথ্য রয়েছে প্রকৃত সনদ মালিক সমাপ্তি বিশ্বাস এর। চাকুরী প্রাপ্তির সময় ওই জাল সনদে বরগুনা সরকারি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সমরজিৎ হাওলাদারের সত্যায়িত করা স্বাক্ষর রয়েছে যেখানে তারিখ লেখা রয়েছে ২৫ অক্টোবর ২০১৪।

তবে বরগুনা সরকারি কলেজের সাবেক ওই অধ্যাপক সরমজিৎ হাওলাদার জানায়, তিনি ২০০৯ সালে বরগুনা থেকে বদলী হয়েছেন। ২০১৪ সালে তিনি কিভাবে ওই সনদে সত্যায়িত করবেন। এটা জাল করে তৈরী করা হয়েছে। তবে অবাক লাগে চাকরী প্রদানের সময় গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তে  কিভাবে তিনি পার পেয়েছেন?

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে রেজাল্ট দেখতে গিয়ে বেরিয়ে আসে শিপ্রা সরকারের জালিয়াতির প্রকৃত রহস্য। সেখানে জাল করা শিপ্রা সরকারের সনদের রোল নম্বর ও রেজিষ্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সার্চ করলে সমাপ্তি বিশ্বাসের নাম দেখা যায়।

এদিকে সমাপ্তি বিশ্বাসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য বরগুনা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাহমুদুল হক আজাদকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয় মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে। তবে অভিযোগ পাওয়াগেছে গত মাসের ২ জুন বরগুনা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাহমুদুল হক আজাদ দায়সারা ভাবে একটি তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন ডিজির বরাবরে পাঠিয়েছেন।

এব্যপারে জানতে চাইলে উপপরিচালক মাহমুদুল হক আজাদ বলেন, তদন্তের দিন অভিযোগকারীকে বরগুনায় আসতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি তদন্তের দিন উপস্থিত হয়নি। পরে ডিএসবি রিপোর্ট অনুযায়ী আমি তদন্ত প্রতিবেদন মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছি।

এদিকে শিপ্রা সরকারের সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা পদে চাকরী পাওয়ার বিষয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তথ্য পেলে অভিযুক্তকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চায়। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে ওই পরিদর্শিকার স্বামী স্থানীয় এক সাংবাদিককে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মানহানী মামলা করা হুমকী প্রদান করেন।

স্থানীয় ওই সাংবাদিক জানান, শিপ্রা রানীর জালিয়াতির অভিযোগ পেয়ে তার ফোন নম্বরে ফোন করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে তার স্বামীকে তথ্যের জন্য ফোন দিলে তিনি তার ওপর ক্ষীপ্ত হয়ে যায়। একপর্যায়ে তাকে হুমকি প্রদান করেন বলেন যদি আপনারা বারাবারি করেন তাহলে স্থানীয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে আপনাদের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ দিবো। 

এদিকে অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে, অভিযুক্ত শিপ্রা সরকারের স্বামী তপন কুমার রায় ডৌয়াতলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের নৈশ প্রহরীর হিসাবে চাকরী করেন।

ওই অফিসের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে  জানান, তপন কুমার রায় নৈশ প্রহরী হিসাবে কর্মরত থাকলেও একদিনও তিনি অফিস করেন নাই। শুধু তাই নয় শিপ্রা সরকার সার্বক্ষনিক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকার বিধান থাকলেও তিনি দুপুরের পরে বাড়ি চলে যায়।  সনদ জালিয়াতি করে চাকরি পাওয়া অভিযুক্ত শিপ্রা সরকারের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। গত শনিবার বেলা সারে এগারোটার সময় তার কর্মস্থলে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। সকালে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে তিনি চলে গেছেন।

পরে অভিযুক্ত শিপ্রা সরকারের স্বামী তপন কুমার রায়কে ফোন করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের জন্য একটি তদন্ত টীম গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছে। তবে মহাপরিচালকের কাছে যিনি অভিযোগ দিয়েছেন তিনি অনেকের কাছে ওই অভিযোগের কথা অস্বীকার করেছেন। তার পরেও তদন্তে আমি অভিযুক্ত হলে আপনারা সংবাদ প্রকাশ করবেন তার আগে আমাদের কাছে কেন আপনারা ফোন করেন।

এদিকে অভিযোগকারী সমাপ্তি বিশ্বাস এর স্বামী শ্যামল সাহা বলেন, আমরা ডিএসবির মাধ্যমে জালিয়াতির বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবরে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন করেছি। বরগুনা উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে আমাদের জানিয়েছেন তবে তদন্তের দিন আমরা যেতে পারিনি। কিন্তু তদন্ত টীম শিক্ষাবোর্ডের ওয়েব সাইটে প্রবেশ করলে তো জানতে পারে শিপ্রা সরকার জালিয়াতি করেছে কিনা।

এব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় উপ পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এতো বড় জালিয়াতির বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। অনুগ্রহ করে সকল তথ্য আমাকে দিন আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।


আরও খবর