আজঃ রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
শিরোনাম

দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশিত:বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ২৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক


Image

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ধর্মীয় এই উৎসবটি নির্বিঘ্নে উদযাপনে এরইমধ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে বিসর্জন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি যেকোনও গুজব প্রতিরোধে থাকবে সাইবার মনিটরিং। কেউ যেন কোনও ধরনের অপতৎপরতার সুযোগ না পায়, সে ব্যাপারে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। কোনও ধরনের শঙ্কা ছাড়াই পূজামণ্ডপগুলোতে এসে ভক্তরা ভক্তি জ্ঞাপন করতে পারবেন। নিরাপত্তা জোরদার থাকবে দেশব্যাপী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনও ধরনের গুজব সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে নজরদারি থাকবে। এছাড়া  নাম না জানা বিভিন্ন অখ্যাত সংবাদমাধ্যমগুলোও নজরদারি করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে করে দেওয়া সামাজিক সম্প্রীতি কমিটির নেতারাও এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী কাজ করছেন।

প্রতিবছরই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও না কোথাও প্রতিমা ভাঙচুর কিংবা পূজামণ্ডপে সম্প্রীতি বিনষ্টের পাঁয়তারা চালায় একটি চক্র। এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে এ বছর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা বিভিন্ন ধর্মের নেতাদের নিয়ে সমন্বিতভাবে এলাকাভিত্তিক করছেন।

পূজার আগে প্রতিমা তৈরির সময় পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশি নিরাপত্তা, পূজা শুরু হওয়ার আগ থেকে পূজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাতদিন পুলিশি নিরাপত্তার পাশাপাশি আনসার মোতায়েন থাকবে। পূজামণ্ডপে প্রবেশের পথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া এলাকাভিত্তিক পূজামণ্ডপের কমিটিতে থাকা লোকজন দায়িত্ব পালন করবেন। কারা কোন সময় দায়িত্ব পালন করবেন, সে বিষয়ে একটি তালিকা স্থানীয় পুলিশকে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পূজা বিসর্জনের সময় যাত্রাপথে কেউ যেন  কোনও ধরনের অপ্রীতিকর কিংবা কোনও অপতৎপরতা, কিংবা গুজব চালাতে না পারে, সে ব্যাপারেও তৎপর থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপ থাকবে সিসিটিভির আওতায়। পূজামণ্ডপের আশপাশসহ পূজা চলাকালীন সময়ে রাতদিন বিভিন্ন সড়কে থাকবে সাদা পোশাকে নজরদারি।

এ বছর সারা দেশে ৩২ হাজার ১৬৮টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজা চলাকালীন সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা এছাড়া পূজামণ্ডপে আসা দর্শনার্থীদের ইভটিজিং করলে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা। প্রতিটি পূজামণ্ডপে থাকতে হবে সিসিটিভি।  স্বেচ্ছাসেবকদের থাকবে বাধ্যতামূলক আর্মব্যান্ড।

দেশব্যাপী দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সব ধরনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি অপারেশন্স হায়দার আলী খান  বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ যেন কোনও ধরনের গুজব সৃষ্টির সুযোগ না পায়, সেজন্য সাইবার মনিটরিং জোরদার রয়েছে। বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপত্তার বিষয়গুলো সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। মণ্ডপে ঢোকার জন্য নারী-পুরুষের পৃথক লাইন রাখতে হবে। পুলিশের পাশাপাশি আনসাররাও প্রতিটি মণ্ডপে দায়িত্ব পালন করবেন।

খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, শারদীয় দুর্গা উৎসব নির্বিঘ্নে এবং নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে তিন স্তরে ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রথম ধাপ হচ্ছেপ্রতিমা নির্মাণের সময় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, পূজা শুরু থেকে বিজয়া দশমীর আগ পর্যন্ত পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা এবং সবশেষ বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা জোরদার। পূজা শুরুর আগের ১৫ দিন, পূজা শুরুর পরবর্তী ৫ দিন এবং বিশেষ করে বিসর্জন বা দশমীর দিন সিকিউরিটি অ্যারেঞ্জমেন্ট থাকবে আলাদা আলাদা। প্রতিটি পূজামণ্ডপের স্থানীয় কমিটির সঙ্গে কথা বলে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, পূজা চলাকালীন সময়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছি। কেউ যেন কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সুযোগ না পায়, সে ব্যাপারে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সুধী সমাজ রাজনৈতিক নেতারা সেই কমিটিতে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থেকে করে দেওয়া এসব কমিটি দেশব্যাপী কাজ করছে। তিনি বলেন, সিলেট জেলার সুনামগঞ্জের শাল্লায় সম্প্রতি সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা এ বছর দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিকল্পনা করেছি। প্রতিমা তৈরির সময় কেউ যেন কোনও হামলা কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন।

কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান  বলেন, গত বছর পূজাকে কেন্দ্র করে যে ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পুলিশ সদস্যদের। সাইবার নিরাপত্তা ও টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে কেউ যেন গুজব সৃষ্টি না করতে পারে, সে বিষয়েও কাজ করছি আমরা। ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আমরা কথা বলেছি।

বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার সুদীপ্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, পূজা কমিটিতে যারা রয়েছেন, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, দেশব্যাপী দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে যেন উদযাপিত হয়, সে অনুযায়ী র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। র‌্যাব সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। কেউ অপতৎপরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেএমন কোনও তথ্য থাকলে র‌্যাবকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।


আরও খবর