আজঃ শনিবার ২২ জুন ২০২৪
শিরোনাম

এমপির সামনে উপজেলা চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ মার্চ ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৭ মার্চ ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
Image

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ২০টি ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।

আজ শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় আ স ম ফিরোজের সামনে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে আবদুল মোতালেব হাওলাদারকে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এ এস এম সায়েম বলেন, আবদুল মোতালেবের ডান হাতের তৃতীয় আঙুল কেটে চামড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। তার বুকের ডান পাশে ও ডান হাতের কনুইয়ের ওপরের অংশে জখম রয়েছে। পা ও মাথায় আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বাউফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, তিনটি পক্ষই একই সময়ে কর্মসূচির ডাক দেয়। এর মধ্যে আ স ম ফিরোজ এবং আবদুল মোতালেব হাওলাদারের পক্ষের কর্মসূচি উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে (জনতা ভবন) এবং বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক ওরফে জুয়েলের পক্ষের কর্মসূচি বাউফল প্রেসক্লাব সড়কের পাশে উপজেলা আওয়ামী লীগ আরেকাংশের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

কর্মসূচির স্থলে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল ৯টা থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জড়ো হচ্ছিলেন সমর্থকেরা।

বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হকের পক্ষের সমর্থকেরা বাউফল সরকারি মাঠে, আ স ম ফিরোজের পক্ষের সমর্থকেরা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ও আবদুল মোতালেবের পক্ষের সমর্থকেরা বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জড়ো হন।

আবদুল মোতালেবের নেতৃত্বে বেলা ১১টার দিকে আনন্দ র‌্যালি নিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের (জনতা ভবন) দিকে যাচ্ছিলেন নেতা-কর্মীরা। বেলা সোয়া ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে পৌঁছালে সংঘর্ষ এড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এতে বাধা দেয়। তখন পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে আবদুল মোতালেবের কথা কাটাকাটি হয়। অপর পাশেই লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছিলেন আ স ম ফিরোজের সমর্থকেরা। তখন আ স ম ফিরোজ একটি গাড়িতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

একপর্যায়ে দুই পক্ষের সমর্থকেরা দলীয় ও নিজ নিজ নেতার নামে স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর আবদুল মোতালেবের সমর্থকেরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে দলীয় কার্যালয়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় আবদুল মোতালেবের ওপর হামলা চালান সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজের ধারালো অস্ত্রধারী সমর্থকেরা। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়। থামাতে গিয়ে আহত হন আবদুল মোতালেবের কর্মী রাব্বি (৩০), মো. হাসান (২৬), মো. হাসিব (৩২), মো. খোকা মিয়াসহ (৫০) অন্তত ১০ জন।

এরপর আবদুল মোতালেবের সমর্থকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে ওসি আল মামুন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) এম এ হাসান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. হুমায়ন কবির ও মো. শাহিন, কনস্টেবল মো. আবু রাহাত ও মো. রবিউলসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন।

আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপল্টি ধাওয়া। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। যানবাহন চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি থানার মূল ফটকও আটকে দেয়া হয়। আহত আবদুল মোতালেবকে বরিশালে নিয়ে যাওয়ার পর তার নেতা-কর্মীরা চলে যান। তখনো সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের পূর্ব পাশে অবস্থান করছিলেন। এরপর তারা র‌্যালি নিয়ে বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দিকে যেত চাইলে বাধা দেয় পুলিশ।

পরে দুপুর ১২টার দিকে মেয়র জিয়াউল হকের নেতৃত্বে একটি বিশাল র‌্যালি নিয়ে উপজেলা চত্বরে ঢুকে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর আবার মিছিলসহকারে চলে যান জিয়াউল হক ও তার নেতা-কর্মীরা। এরপর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজের নেতৃত্বে বের করা র‌্যালিটি বাউফল শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা উচিত ছিল। কিন্তু জাতির জনকের জন্মদিন হওয়ায় তা না করে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয় জানিয়ে ওসি আল মামুন বলেন, ইটপাটকেল নিক্ষেপে তিনিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান নিজ দলের প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত।


আরও খবর



আন্তঃদেশীয় মৈত্রী-বন্ধন এক্সপ্রেস চলাচল বন্ধ শুক্রবার থেকে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

আসন্ন ঈদুল আজহায় ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা এবং শিডিউল বিপর্যয় নিরসনে আন্তঃদেশীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ও বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদযাত্রার সময় ঢাকা ও খুলনা থেকে ভারতের কলকাতাগামী এই ট্রেন দুটি বন্ধ থাকবে।

সম্প্রতি ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা থেকে এ তথ্য জানা যায়।

কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়, আন্তঃদেশীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন ১৪ জুন থেকে ২২ জুন (৯ দিন) এবং বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন ১৪ জুন থেকে ২০ জুন (৫ দিন) পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এর আগে গত ১২ জুন থেকে ৯ দিনের জন্য চলাচল বন্ধ হয়েছে আন্তঃদেশীয় মিতালী এক্সপ্রেসের।

আরও বলা হয়, ঈদুল আজহার দিন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি মেইল এক্সপ্রেস বা বিশেষ ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। তবে কোনো আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে না। ১৪ জুন রাত ১২টার পর থেকে ঈদের পরের দিন সন্ধ্য ৬টা পর্যন্ত কনটেইনার ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া অন্যান্য সব গুডস ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হবে।


আরও খবর



সৌদি পৌঁছেছেন ৫৩ হাজার হজযাত্রী, মক্কা-মদিনায় ৮ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৫৩ হাজার ১৮০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এসব হজযাত্রীর মধ্যে মারা গেছেন আট বাংলাদেশি। শনিবার (১ জুন) সকালে হজ পোর্টালে আইটি হেল্প ডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত ২টা পর্যন্ত মোট ৫৩ হাজার ১৮০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৭৪৭ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪৯ হাজার ৪৩৩ জন। এখন পর্যন্ত হজকেন্দ্রিক সৌদি আরব যাওয়ার ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে ১৩৬টি।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন এবারের হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার প্রথম ফ্লাইট শুরু হয় গত ৯ মে। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত হজযাত্রার এ ফ্লাইট চলবে। হজ শেষে ২০ জুন থেকে শুরু হবে ফিরতি ফ্লাইট। দেশে ফেরার ফ্লাইট শেষ হবে আগামী ২২ জুলাই।

এদিকে, এখন পর্যন্ত সব হজযাত্রীর ভিসা হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে মোট ৮৫ হাজার ২৫৭ জন বাংলাদেশি হজ করতে যাবেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬২ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এজেন্সির মাধ্যমে ৮০ হাজার ৬৯৫ জন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮ বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে মারা গেছেন। তাদের সবাই পুরুষ। এর মধ্যে মক্কায় ছয় এবং মদিনায় মারা গেছেন দুজন।


আরও খবর
ঈদুল আজহার চার সুন্নত

সোমবার ১৭ জুন ২০২৪




মিয়ানমার থেকে গুলি হলে আমরাও পাল্টা গুলি করব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং মিয়ানমার আর্মি দুই দলকেই বলে দিয়েছি, এরপর গুলি করলে আমরাও পাল্টা গুলি করব। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

এমপি আনার হত্যা মামলার কোনো আপডেট রয়েছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি বারবার বলছি, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কিছুই বলতে পারব না। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আমি কিছু বললে সেটা একটা অন্য পক্ষের সমর্থনে চলে যেতে পারে। তাই আমি তদন্ত শেষের আগে কিছুই বলব না। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, সঠিক তদন্ত হচ্ছে। আমরা খুব কাছাকাছি আছি। হত্যার সকল উত্তর আমরা পেলে আপনাদের জানিয়ে দেব। ডিবি স্বাধীনভাবে কাজ করছে। 

আনারকন্যা ডরিনের বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এগুলো তার অনুমান ভিত্তিক তথ্য। আমাদের পক্ষ থেকে ডিবি পুলিশকে কোন রকমের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। আমাদের ডিবি পুলিশ এবং ভারতের পুলিশও এই হত্যা মামলা তদন্ত করছে। সুতরাং কোনো জায়গায় কোনো ফাঁকফোকর থাকবে বলে আমার মনে হয় না। 

সেন্টমার্টিন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিনে কিছুই হয়নি তো। মিয়ানমারে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠী তাদের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। আমরা যতদূর জানি আরাকান আর্মি আরাকান রাজ্যের অনেক অংশই দখল করে ফেলেছে। সেই কারণে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড আত্মরক্ষার্থে আমাদের এখানে পালিয়ে আসছে। তারা মাঝে মাঝে ভুল করে আমাদের টহলবাহিনীর উপরেও গুলি করেছিল। তাদের আমরা জানিয়েছি। তারা আমাদের যেটা জানিয়েছে, আমরা যেন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে রাখি, তাহলে সেখানে আর তারা গুলি করবে না। 

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন সেন্টমার্টিন যেতে হলে আমাদের নাফ নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার ফলে, মিয়ানমারের অংশ দিয়েই যেতে হয়, সেখানেই এই বিপত্তিটা ঘটে। কখনো মিয়ানমার আর্মি, আবার কখনো আরাকান আর্মি ফায়ার ওপেন করে। আমরা দুজনকেই বলে দিয়েছি, এরপর আমাদের গুলি করলে আমরাও পাল্টা গুলি করব। সেখানে এখন আর কোনো গোলাগুলি হচ্ছে না। সেখানে মিয়ানমারের দুটি জাহাজ ছিল, সেটিও তারা ফেরত নিয়ে গেছে। আমরা আশা করি সেখানে আর কোনো গুলি চলবে না। তারপরেও আমাদের যারা পার হচ্ছেন তারা সাবধানতা অবলম্বন করে চলবেন।


আরও খবর



সিলেটে আকস্মিক বন্যায় ডুবেছে সড়ক-মহাসড়ক, প্রস্তুত সেনাবাহিনী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
এস এ শফি, সিলেট

Image

সিলেটে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চারটি উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। বুধবার (২৯ মে) থেকেই সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি ছিল বিপদসীমার ওপরে।

এদিন রাতে ভারতের মেঘালয় থেকেও নামে ব্যাপক ঢল, যাতে বন্যা দেখা দেয়। সিলেটে গত ২ বছরের মধ্যে এ বছরের মে মাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) পর্যন্ত সিলেটে ৭০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। পানিবন্দি হয়েছেন অন্তত তিন লক্ষাধিক মানুষ। এদিকে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের উদ্ধার অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে সেনাবাহিনী।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন বলেন, বন্যা পরিস্থিতির জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ইতোমধ্যে বৈঠক করেছে। দ্রুত উদ্ধার অভিযান চলছে। সেনাবাহিনীও ইতোমধ্যে কাজ করেছে। প্রয়োজনে তারাও উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণে যোগ দেবে।

জানা যায়, বন্যায় প্লাবিত হয়েছে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কসহ ওই চার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক। এতে ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। যান চলাচল বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন সড়কে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট উপজেলা পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার ওপরে ও কুশিয়ারা নদী জকিগঞ্জের অমলসীদ পয়েন্টে ২০২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়াও সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় সারি নদী বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং গোয়াইনঘাট উপজেলায় সারিগোয়াইন নদী ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, বন্যায় উপজেলার ৭৫ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, পানিবন্দি হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। পর্যটন এলাকার পর্যটকবাহী নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। উপজেলার ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অন্তত ২৫০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, ২০২২ সালের মে মাসে সিলেট আবহাওয়া অফিসের রেকর্ডকৃত বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৮৩৯ মিলিমিটার। ২০২৩ সালের মে মাসে ছিল ৩৩০ মিলিমিটার এবং ২০২৪ সালের মে মাসে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭০৫ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে।


আরও খবর



ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

Image

পারিবারিক কলহে ১৪০টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন নেত্রকোনা মডেল থানায় কর্মরত এক পুলিশ সদস্য। নিহত ওই কনস্টেবলের নাম রুবেল মিয়া (২৮)।

রবিবার রাতে তিনি ওই থানার ব্যারাকে ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ময়মনসিংহে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি মারা যান।

রুবেল মিয়া ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের ছেলে।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন শেষে তিনি রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানার ম্যাসে খাবার খান। এরপর তিনি তার ফেসবুক আইডিতে দ্যা এন্ড লিখে স্ট্যাটাস দেন। এটি রাত ১২টার দিকে তার ছোট ভাই দেখতে পেয়ে ৯৯৯-এ কল করে জানান। এরপর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করে।

ঘটনা জানার পর নেত্রকোণা মডেল থানা পুলিশ তাকে প্রথমে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর তাকে ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার বিকেল ৫টার দিকে রুবেল মিয়া মারা যান।

তিনি নেত্রকোণা শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকায় তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত সপ্তাহে স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়িতে চলে যাওয়ার পর থানা ব্যারাকে থাকতেন।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, কনস্টেবল রুবেল মিয়া ৮ বছর ৬ মাস ২৯ দিন আগে পুলিশে যোগদান করে। নেত্রকোণা মডেল থানায় ১ বছর ৬ মাস আগে যোগদান করে। পারিবারিক কলহের কারণে সে অতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।


আরও খবর