আজঃ শনিবার ১৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

ফের ডিপফেকের শিকার রাশ্মিকা মান্দানা

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

আবারও ডিপফেকের শিকার অভিনেত্রী রাশ্মিকা মান্দানা। লিফট গার্লের পর এবার ঝরনার নিচে লাল বিকিনি পরে দাঁড়িয়ে পোজ দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যার সঙ্গে রাশ্মিকার ছবির মিল নিয়েও দাবি করা হচ্ছে। যদিও বিষয়টি সত্যি নয়, ভিডিওতে অন্য মহিলার মুখের উপর তার ছবি বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে এই ভিডিও নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি রাশ্মিকা। সম্প্রতি কলম্বিয়ার মডেল ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটার ড্যানিয়েলা ভিলারিয়াল একটি ভিডিও শেয়ার করেন ইনস্টাগ্রামে। যেখানে তাকে এক ঝরনার সামনে বিকিনি পরে নানা রকমের পোজ দিতে দেখা যায় । সেই ভিডিওতে রাশ্মিকা মান্দানার ছবি বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

গত বছর অভিনেত্রী রাশ্মিকার একটি ডিপফেক ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। পরবর্তীতে মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে সেই ভিডিও সত্যিই অভিনেত্রী রাশ্মিকার। কিন্তু ভিডিওটি ছিল ব্রিটেনের এক প্রভাবশালী নারী জরা প্যাটেলের।

কিছুদিন ধরেই রাশ্মিকা ও বিজয় ডেটিং করছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তদের মাঝে গুঞ্জন উঠেছে। যদিও তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের গুজব রয়েছে, তবে তারা কখনোই প্রকাশ্যে তাদের সম্পর্কের কথা স্বীকার বা অস্বীকার করেন নি।

চলতি বছরের এপ্রিলে আবুধাবিতে রাশ্মিকা মান্দানার জন্মদিন তারা একসঙ্গে উদযাপন করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে নেটিজেনরা এমনটাও লক্ষ্য করেছে যে বিজয় তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেই ভিডিও রশ্মিকা নিজেও শেয়ার করেছেন।

উল্লেখ্য, অভিনেত্রীকে বর্তমানে পুষ্পা ২’-এ দেখা যাবে। ইতোমধ্যে এই সিনেমায় তার লুকও প্রকাশ্যে এসেছে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে আল্লু অর্জুন ও ফাহাদ ফাসিলকে। অমিতাভ বচ্চন-অভিনীত গুডবাই’-এর হাত ধরে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন রাশ্মিকা এবং তারপর মিশন মজনু’তে দেখা গিয়েছিল তাকে। তেলুগু এবং কন্নড়েও প্রচুর ছবিতে কাজ করেছেন তিনি।


আরও খবর



নির্বাচনী সহিংসতায় নোয়াখালীতে গুলিবিদ্ধ ৫

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নোয়াখালী প্রতিনিধি

Image

নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৫ জন আহত হয়েছে।

বুধবার (২৯ মে) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ৯ নং কালাদরাপ ইউনিয়নের উত্তর শুল্লুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন, উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শুল্লুকিয়া গ্রামের মোহাম্মদ উল্যার ছেলে আব্দুল মান্নান (৪০) শাহ আলমের ছেলে মামুনুর রশিদ মান্না (২৬) মো.হানিফের ছেলে রাকিব (২২) আবুল কালামের ছেলে মো.কবির (২২), একই গ্রামের রফিক উল্যার ছেলে মো.জামাল (৫৫)।  

আহতদের স্বজনরা জানান, কেন্দ্রের সামনে প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি শ্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ওই সময় পুলিশ এসে অতর্কিত গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৫জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তারা সবাই হাসপাতালের ১নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই ঘটনায় সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ভোট গণনা চলছিলো তখন কিছু লোকজন উত্তেজিত হয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে ভাংচুর ও ভোট বাক্স লুটের চেষ্টা করলে প্রিসাইডিং অফিসারে নির্দেশে পুলিশ গুলি ও লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যারা ভোট কেন্দ্রে আক্রমণ করেছে প্রিসাইডিং অফিসার বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।


আরও খবর



ট্রেনে ঈদযাত্রা: চলছে ১৫ জুনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আজ বিক্রি হচ্ছে ১৫ জুনের টিকিট। বুধবার (৫ জুন) সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়। যাত্রীদের শতভাগ টিকিট অনলাইনে কিনতে হচ্ছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাত্রী সাধারণের টিকিট কেনা সহজলভ্য করার জন্য পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলরত সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি সকাল ৮টায় শুরু হয়েছে। আর পূর্বাঞ্চলে চলাচলরত সব ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে বিক্রি শুরু হবে। ১৬ জুনের আসন বিক্রি হবে ৬ জুন অর্থাৎ আগামীকাল বৃহস্পতিবার শেষ হবে অনলাইন টিকিট কার্যক্রম।

জানা গেছে, একজন যাত্রী ঈদের আগে যাত্রা ও ফিরতিতে সর্বোচ্চ একবার টিকিট ক্রয় করতে পারবেন এবং সর্বাধিক ৪টি আসনের টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে যাত্রীর সর্বোচ্চ এই ৪টি টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে সহযাত্রীদের নাম সংযুক্ত করে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। ঈদযাত্রার এই টিকিট রিফান্ড করা যাবে না। টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে প্রতিবার টিকিট ক্রয়ের সময় নিবন্ধনকৃত মোবাইল নম্বরে ওটিপি প্রেরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঈদের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ১৭, ১৮ ও ১৯ জুনের টিকিট বিক্রি করা হবে।

রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদযাত্রার ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ১০ জুন। ১০ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ২০ থেকে ২৪ জুনের ফিরতি অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। অর্থাৎ ২০ জুনের অগ্রিম টিকিট দেওয়া হবে ১০ জুন। ২১ জুনের টিকিট দেওয়া হবে ১১ জুন। ২২ জুনের টিকিট দেওয়া হবে ১২ জুন। ২৩ জুনের টিকিট দেওয়া হবে ১৩ জুন। আর ২৪ জুনের টিকিট দেওয়া হবে ১৪ জুন।

যেভাবে কাটবেন টিকিট

এবারও বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে সহজেই টিকিট কাটতে পারবেন যাত্রীরা। এজন্য রেলওয়ের ওয়েবসাইটে একবার রেজিস্ট্রেশন করলেই হবে। আর যারা আগেই রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তারা সরাসরি লগইন করেই টিকিট কাটতে পারবেন।

যাদের আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করা নেই তারা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ওপরের দিকে রেজিস্ট্রেশন’ লেখা অংশে ক্লিক করতে হবে। পরে রেজিস্ট্রেশন নামে নতুন একটি পেজ আসবে। সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য নির্ভুলভাবে দিতে হবে। এরপর মোবাইল নম্বরে একটি ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) চলে আসবে। সেটি সঠিকভাবে পূরণ করে ভেরিফাই বাটনে ক্লিক করলেই সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাবে। পরে বাংলাদেশ রেলওয়ে নামে নতুন একটি পেজ আসবে। সেখানে ব্যবহারকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগইন হয়ে যাবেন। এরপর টিকিট কাটতে পারবেন।

টিকিট কেনার জন্য প্রথমে রেলওয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগইন না হয়ে থাকলে ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। এরপর যে পেজ আসবে তাতে কাঙ্ক্ষিত ভ্রমণ তারিখ, যাত্রা শুরুর স্টেশন, গন্তব্য স্টেশন শ্রেণি পূরণ করে ফাইন্ড টিকিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। পরের পেজে ট্রেনের নাম, সিট খালি আছে না কি নেই এবং ট্রেন ছাড়ার সময় দেখাবে। সেখান থেকে ট্রেন অনুযায়ী ভিউ সিটস’ বাটনে ক্লিক করে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে পছন্দের আসন নির্বাচন করে কন্টিনিউ পারচেজে’ ক্লিক করতে হবে।

পেমেন্টের ক্ষেত্রে ভিসা, মাস্টার কার্ড কিংবা বিকাশে পেমেন্ট করলে একটি ই-টিকিট অটো ডাউনলোড হবে। পাশাপাশি যাত্রীর ই-মেইলেও টিকিটের একটি কপি চলে যাবে। পরে ই-মেইলের ইনবক্স থেকে টিকিট প্রিন্ট করে ফটো আইডিসহ ই-টিকিট প্রদত্ত টিকিট প্রিন্ট দিয়ে সংশ্লিষ্ট সোর্স স্টেশন থেকে যাত্রার আগে ছাপানো টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। তবে টিকিট প্রিন্ট না করলেও সমস্যা নেই, মোবাইল থেকে দেখালেও হবে।


আরও খবর



নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানপ্রার্থী নিখোঁজ

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জেলা প্রতিনিধি

Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে পদ্মফুল প্রতীকের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানপ্রার্থী প্রীতি খন্দকার হালিমা নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। মঙ্গলবার (২৮ মে) দুপুর ২টা থেকে বুধবার (২৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রার্থীর খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রীতি খন্দকারের স্বামী মাসুদ খন্দকার নিশ্চিত করেছেন।

প্রীতি খন্দকারের স্বামী মাসুদ খন্দকার বলেন, ৫ জুন বিজয়নগর উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে আমার স্ত্রী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। সার্ভার ত্রুটির কারণে প্রীতির মনোনয়নপত্র জমা দিতে সমস্যা হওয়ার ফলে হাইকোর্ট থেকে প্রার্থিতা ফিরে পায়। কোর্টে ঘুরতে ঘুরতে নির্বাচনী এলাকায় সময় কম দিয়েছে বিধায় প্রীতি দিনরাত উপজেলায় নির্বাচনী কাজে সময় দিচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হরষপুর ইউনিয়নে দুইজন সহযোগী নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় যায় প্রীতি। হরষপুরের ঋষিপাড়ায় ঢুকে প্রচার করা অবস্থায় দুজন মহিলা বাইরে আসেন আর প্রীতি ভোটারদের সঙ্গে ভেতরে কথা বলছিল। ১০-২০ মিনিট পার হলেও যখন বের হচ্ছে না তখন দুজন মহিলা ভেতরে গিয়ে প্রীতিকে খোঁজে পাচ্ছিলেন না। পরে অনেকক্ষণ খোঁজখবর নিয়ে প্রীতিকে না পেয়ে তারা বাড়িতে চলে আসেন। পরে আমি সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ থানা পুলিশের ওসি মহোদয়কে অবগত করি। রিটার্নিং কর্মকর্তা অপেক্ষা করে মঙ্গলবার রাত ১২টার পর জিডি করতে বলেন। রাত ১২টায় থানায় যাওয়ার পর ওসি বলেছেন আজ সকালে জিডি করতে।

বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত থানায় বসে জিডি লিখছেন বলে প্রার্থীর স্বামী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার স্ত্রীকে গুম করেছে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সৈয়দ মাহাবুবুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, নিখোঁজের বিষয়টি প্রার্থীর স্বামী আমাকে জানিয়েছেন। আমি তাকে থানায় যোগাযোগ করতে বলেছি।

বিজয়নগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন, প্রার্থীর স্বামী রাতে এসেছিলেন। তাকে নিয়ে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। যেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছেন সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন প্রার্থী প্রচারে এসেছিলেন। জিডি লিখছেন বলে প্রার্থীর স্বামী জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও সদর-বিজয়নগরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিখোঁজের বিষয়টি অফিসিয়ালভাবে আমাকে কেউ জানায়নি।


আরও খবর



চট্টগ্রামে অপরাজিতা নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

Image

রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণমূলক অগ্রযাত্রা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে অপরাজিতার সৃষ্টি। দীর্ঘ ৭ বছরের (২০১৮-২০২৪) পদযাত্রায় সোমবার (১০ জুন) প্রকল্পটির সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামে অবস্থিত কারিতাস হল রুমে। যার প্রতিপাদ্য ছিলো নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অপরাজিতাদের সাফল্য শেয়ারিংয়ের গল্প।

অপরাজিতা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন শীর্ষক একটি প্রকল্প তৃতীয় পর্যায়ে ২০১৮ সাল থেকে বাস্তবায়িত হয়ে এসেছিলো বাংলাদেশে। ৪টি সংস্থা দ্বারা পরিচালিত প্রকল্পটিতে অন্যতম সহযোগি ছিলো বাংলাদেশের আর্থিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সুইজারল্যান্ডের (এসডিসি) ও হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় সহযোগী সংস্থা ডেমোক্রেসিওয়াড, খান ফাউন্ডেশন, প্রিপ ট্রাস্ট ও রূপান্তর।

মূলত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিলো, স্থানীয় সরকার তথা গভর্নেন্স প্রক্রিয়ায় নারীদের সমান অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব প্রসার এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা ও নারীর জন্য গৃহীত রাষ্ট্রীয় আইনগুলো নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জনাব শাহিনা সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসার কামরুম মোয়াজ্জেম, জেলা সমাজ সেবা অফিসের সহকারী পরিচালক মোঃ কামরুল পাশা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি ও সিনিয়র নারী সাংবাদিক ডেইজি মওদুদ, জনাব মাজেদা বেগম শিরু, এডভোকেসি এন্ড নেটওয়ার্কিং কো অর্ডিনেটর ইসমত আরা ইয়াসমিন, মনিটরিং এন্ড ইভ্যালুয়েশন কো অর্ডিনেটর মোঃ সায়েদুল ইসলাম, জেলা প্রোগ্রাম কো অর্ডিনেটর মোঃ আসাদুজ্জামান লিওনসহ অনেকে।

জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ারা উপজেলার নবনির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান চুমকি চৌধুরী, জুইদন্ডী ইউনিয়নের মোঃ ইদ্রিসসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলা থেকে আগত নারী ইউপি সদস্যবৃন্দ।

এতদিন ধরে প্রায় নয় হাজার তৃণমূল নারী নেত্রীদের নিয়ে কাজ করে আসছে এ সংস্থাটি যার প্রত্যক্ষ সুবিধা ভোগী প্রান্তিক নারীরা। আর পরোক্ষ ভাবে যারা কাজ করে গিয়েছেন তারা অধিকাংশই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক, বর্তমান বা আগামীর সম্ভাব্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯ হাজার তৃণমূল নারী নেত্রী যাঁরা নিজেদেরকে অপরাজিতা বলে পরিচয় দেন অধিকতর আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার সাথে এবং দৃশ্যমান নেতৃত্বের ভূমিকায় ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের সাথে যোগ দেওয়া অন্যান্য পর্যায়ের নারী জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সম্মিলিতভাবে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ক বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

দশম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চট্টগ্রামে অপরাজিতা কর্ম এলাকায় ১১জন নারী চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেছেন। সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য হার দেশের অন্যান্য এলাকায় চেয়ারম্যান পদে নারীদের জয়লাভের হারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে রাজনৈতিক দলসমূহের সকল কমিটিতে কমপক্ষে ৩৩% নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবিতে অপরাজিতারা অভাবনীয় সাফল্যের সাথে বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকশ রাজনৈতিক নেতানেত্রীকে (অধিকাংশই পুরুষ) সংলাপে যুক্ত করেছেন। অপরাজিতার কর্ম এলাকায় বাল্যবিবাহের পাশাপাশি লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা রোধে ব্যপক কাজ করে গেছে।

অনুষ্ঠানে আগত অপরাজিতার সাথে যুক্ত নারীরা বলেন, অপরাজিতা আমাদের রাজনীতি শিখিয়েছে, ঘর থেকে বের হতে শিখিয়েছে, সমাজে কথা বলতে ও মাথা উচু করে চলতে শিখিয়েছে। আজ আমরা পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন বাঁধা ডিঙিয়ে প্রত্যেকে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল।

জনাব শাহীনা সুলতানা বলেন, নারীরা আজ এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার খুবই নারী বান্ধব। তবুও প্রত্যেকটা জায়গায় প্রত্যেকটা বিষয়ে নারীদের আজও নিজেদের প্রমান করতে হয়, যেটা আমরা নারী অফিসার হয়েও রেহাই পাই না। একজন শিরিন শারমিন, একজন শেখ হাসিনা সবাই হতে পারেনা। তাই নারীদের মনেবল হারালে চলবেনা, এগিয়ে যেতে হবে।

সিনিয়র সাংবাদিক ডেইজি মওদুদ বলেন, সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আজও মেয়েরা এক পা এগুলো ২ পা পিছায়। এখানে যারা উপস্থিত আছেন প্রত্যেকে একেকজন আলোকবর্তিকা। প্রত্যেকের জন্য শুভ কামনা। নারীদের সমাজের জন্য অনেক কিছু করার আছে।

মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসার কামরুম মোয়াজ্জেম বলেন, যে নারীরা প্রত্যেকে নিজের চিন্তা করতে শিখেছেন, প্রত্যেকে অপরাজিতা। বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। তাই নিরাপদ কৃষিতে নারীদের আরও বেশি এগিয়ে আসতে হবে। নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের কৃষিতে মহিলাদের ৩০% অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

আনোয়ারা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান চুমকি চৌধুরী বলেন, মেয়েরা মেয়েদের শত্রু নয়। তাই সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে দেশের অগ্রযাত্রা চলমান রাখতে হবে।

সমাপনী বক্তব্য প্রদান কালে মাজেদা বেগম শিরু বলেন, নারীরা আজ অনেক বেশি এগিয়ে। অপরাজিতার প্রকল্প শেষ হলেও অপরাজিতা সকলের মধ্যে যে আন্তঃযোগাযোগ তৈরি করে গেলো তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। আমরা অপরাজিতার অনুপ্রেরণায় কাজ করে যাবো সারাজীবন।


আরও খবর



জমি নিয়ে বিরোধে ফুফাতো ভাইয়ের হাতে খুন

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি

Image

বাগেরহাটের কচুয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফুফাতো ভাইদের ছুরিকাঘাতে মশিউর রহমান হাজরা (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৯ মে) সকালে কচুয়া উপজেলার টেংরাখালী এলাকার হাজরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মশিউর রহমান হাজরা উপজেলার টেংরাখালী গ্রামের প্রয়াত মাসুদ হাজরার ছেলে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই ফুফাতো ভাই মো. সাব্বির (২৮) ও মো. বায়েজিদকে (২০) আটক করেছে পুলিশ। সাব্বির ও বায়েজিদ একই গ্রামের হাজরাপাড়া এলাকার ইনদাদ শেখের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, মামা বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে ফুফাতো ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল মশিউরদের। এর জেরে বুধবার সকালে ফুফাতো ভাইদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাড়ে ১০টার দিকে ছুরিকাঘাত করে দুই ফুফাতো ভাই। পরে স্থানীয়রা মশিউরকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মনি শংকর পাইক বলেন, মশিউর রহমন হাজরা নামের ওই রোগীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন তার স্বজনরা। তার ফুসফুসের বামপাশে ছুড়িকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মামা বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অভিযুক্ত দুই ফুফাতো ভাইকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।


আরও খবর