আজঃ শনিবার ১৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

ঘূর্ণিঝড় রেমালে বাগেরহাটে যত ক্ষতি

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | পত্রিকায় প্রকাশিত
বাগেরহাট প্রতিনিধি

Image

উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের মানুষ প্রবল ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা ও আম্পানের পর আরো একবার ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব দেখল। প্রতিবার ঘূর্ণিঝড় এসে লণ্ডভণ্ড করে দেয় উপকূলবাসীর ঘরবাড়ি, জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নেয় মাছের ঘের ও ফসলের ক্ষেত। রক্ষা পায় না বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। এবারও তার ব্যতিক্রম । ঘূর্ণিঝড় রেমাল উপকূল অতিক্রম করার পর যতই সময় গড়াচ্ছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে  ধ্বংসলীলার ক্ষত চিহ্ন।

রবিবার বিকাল থেকে শুরু হয়ে সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত তান্ডব চালিয়ে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের মোংলা, শরণখোলা, রামপাল, মোরেলগঞ্জ, কচুয়া ও বাগেরহাট সদরসহ প্রায় সব কটি উপজেলায় ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রমের একদিন পেরিয়ে গেলেও বহু মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে এখনো। গাছ পড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে এ জেলায়।

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের ধানসাগর গ্রামে ঘূর্ণিঝড় চলাকালীন সময়ে গাছ চাপায় ফজিলা বেগম (৫০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়।

শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন জানান, প্রতিবছর আমাদের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হই আমরা। রবিবার বিকাল থেকে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হয়ে সোমবার পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। ফলে আমাদের এলাকায় বহু মানুষের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় প্রতিটা বাড়িতেই গাছপালা ভেঙে পড়েছে। গাছ চাপায় এক নারীর মৃত্যুও হয়েছে। গাছ পড়ে বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখনো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে আমরা। শুধু আমার ইউনিয়ন নয় আশপাশের প্রায় সব এলাকাতেই কিছু না কিছু ক্ষতি হয়েছে।

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাইজোড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় প্রতিটা বাড়িতে প্রায় তিন থেকে চার ফিট পানি জমে আছে। পার্শ্ববর্তী পানগুছি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে এসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিউটি বেগম বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময়ও আমাদের এলাকায় প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এবারও ঘূর্ণিঝড় হয়ে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। কদিন আগে ধান কেটে ঘরে রেখেছিলাম। সোমবার রাতে হঠাৎ পানগুছি নদীর পানি এসে আমাদের এলাকা ডুবে যায়। আমার ঘরের ভেতরেও কোমর সমান পানি উঠে গিয়েছিল। ঘরে রাখা চার-পাঁচ বস্তা ধান নষ্ট হয়ে গেছে। চুলার ভেতরে পানি উঠে গেছে। এলাকা থেকে পানি নামার সুব্যবস্থা না থাকায় এখনো উঠানে হাঁটু সমান পানি। কি খাব কে আমাদের সাহায্য করবে, কিছুই বুঝতে পারছি না।

বাগেরহাট সদর উপজেলার কুলিয়াধাইড় গ্রামের এস এম জাহাঙ্গির কবির জানান, হঠাৎ করেই বলেশ্বর নদীর পানি বেড়ে ঘরের ভিতর কোমর পানি হয়ে যায়। সব কিছু ভিজে একাকার হয়ে গেছে। ঘরের ভিতর যা কিছু ছিল সব শেষ। এখন চলাই কষ্টকর হবে।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল বিরুনী বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বাগেরহাটের বেশ কিছু বাধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলার মোট ১২ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। অন্য ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাঃ খালিদ হোসেন বলেন, এই ঝড়ে ৫ লক্ষ মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছিলেন। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৪৫ হাজার ঘর বাড়ি। আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে ৭৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৯ লক্ষ টাকা ১১ হাজার কেজি চিড়া, ৭শ কেজি গুড় ও ২০ হাজার প্যাকেট বিস্কুট দিয়েছি।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করার ২দিন পরও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে বাগেরহাট উপকূলের ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকার প্রায় ২ লক্ষ গ্রাহক।

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সুশান্ত কুমার মজুমদার বুধবার দুপুরে বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভৌগোলিক এলাকায় ঘূর্ণিঝড় রেমাল এর ফলে অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা পুরো এলাকা পরিদর্শন করতে পারিনি। তবে যেসব এলাকা আমরা পরিদর্শন করেছি সেসব এলাকায় মোট ১৫১ টি পোল ভেঙে গেছে, হেলে পড়েছে ২১৭২ টি পোল, ১৫৮৩ টি তার ছিঁড়ে গেছে, ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে ৩৭ টি, মিটার ভেঙেছে ৫২৭ টি, ক্রস আর্ম ভেঙেছে ৭৩ টি, সার্ভিস ড্রপ তার ছিঁড়েছে ৪৭২ টি এবং ইন্সুলেটর ভেঙেছে ১১৩ টি।

সকল লাইনম্যান, ঠিকাদারের লোকবল এবং স্থানীয় লেবার একযোগে লাইন পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। ঝড়ে লাইনে পতিত শত শত গাছ কেটে অপসারণ করার পাশাপাশি ছেড়া তার মেরামত করে অনেক স্থানে সংযোগ দেয়া হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ২ লক্ষ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে এবং  মাঠ পর্যায় থেকে এই বিষয়ে আরো তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি লাইন রক্ষণাবেক্ষণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। সম্পূর্ণ লাইন মেরামত করতে আরো ২-৩ দিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে বাগেরহাটের প্রায় ৪০ হাজার মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে প্রায় একশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রামপাল উপজেলার মাছ চাষীরা।

রামপাল উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের চিংড়ি চাষী শেখ আব্দুল্লাহ বলেন,  প্রতিবার ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে আমাদের মাছের ঘের গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঘূর্ণিঝড়ের রাতে অতিরিক্ত জোয়ারের পানির চাপে আমার ঘেরের বাঁধ ভেঙে যায় এতে প্রায় প্রায় এক লক্ষ টাকার চিংড়ি মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া আশপাশের অনেকের ঘের তলিয়ে গেছে।

একই এলাকার চিয়ড়ি চাষী হোসনেয়ারা বেগম বলেন, ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি মাছের ঘেরে করেছিলেন। মাছ ধরার মাত্র এক সপ্তাহ আগে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ এস এম রাসেল বলেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমলের প্রভাবে বাগেরহাটের প্রায় ৪০ হাজার মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চাষীদের প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখনো বিভিন্ন স্থানে ঘেরগুলো পানিতে প্লাবিত রয়েছে, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। পুনরায় মাছ চাষের জন্য আমরা চাষীদের বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিচ্ছি।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড়গুলোর হাত থেকে স্থলভাগকে রক্ষা করতে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় সুন্দরবন। প্রতিবারের মতো এবারও ঢাল হয়েছিল বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী এ ম্যানগ্রোভ বনটি। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানিয়েছে বন বিভাগ। ঘূর্ণিঝড়ের পরদিন সকাল থেকে বনের অভ্যন্তরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করে বন কর্মীরা। একদিনে বনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৩৯ টি মৃত হরিণ, একটি বন্য শুকর এবং অর্ধশতাধিক আহত হরি হরিণ উদ্ধার করেছে তারা। এছাড়া বন বিভাগের বিভিন্ন অফিস, নৌযান ও গাছগাছালির ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানিয়েছে সুন্দরবন বিভাগের খুলনার বনসংরক্ষক মিহির কুমার দো।

তিনি বলেন, সুন্দরবনে এ পর্যন্ত ৩৯ টি হরিণ ও একটি বন্য শুকরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর ১৭টি হরিণ জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বন বিভাগের টহল অফিসগুলোতে টিনের চালা, জানালা-দরজা, সোলার প্যানেল, ওয়ারলেস সিস্টেম ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। পূর্ব বন বিভাগের কটকা অভয়ারণ্যের অফিস ঘাটের জেটি ও পুকুর বঙ্গোপসাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুবলা, কটকা, কচিখালি, বগিসহ বিভিন্ন বন অফিসসহ ২৫টি টহল ফাঁড়ির রান্নাঘরসহ অবকাঠামোর টিনের চালা উড়িয়ে নিয়ে গেছে। সুন্দরবনের ৮০টি মিঠাপানির উৎস পুকুরে ৮-১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে লোনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বনকর্মীদের পাশাপাশি প্রাণীরাও সুপেয় পানির সংকটে পড়েছে।


আরও খবর



ঘূর্ণিঝড় রেমাল: ১৯ উপজেলায় ভোট স্থগিত

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ১৯টি উপজেলার ভোট স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. জাহাংগীর আলম।

সোমবার (২৭ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে সচিব এ তথ্য জানান।

এসব উপজেলায় ২৯ মে ভোট হওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। উপজেলাগুলো হলো- বাগেরহাটের শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, মোংলা, খুলনা জেলার কয়রা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, পটুয়াখালী সদর, দুমকী, মির্জাগঞ্জ, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, ভোলার তজুমদ্দিন, লালমোহন, ঝালকাঠির রাজাপুর, কাঠালিয়া এবং বরগুনার বামনা ও পাথরঘাটা।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ১০৯টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করে তফসিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব উপজেলায় ভোট গ্রহণ আগামী ২৯ মে। এখন ৯০ উপজেলায় ভোট হবে পূর্বনির্ধারিত তফসিল অনুসারে।


আরও খবর



জবিতে ইমামকে অব্যাহতি: প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে প্রশাসনের বাধা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমামকে অব্যাহতির প্রতিবাদে বুধবার (২৯ মে) জোহরের নামাজের পর ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও মিছিলের চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় পুলিশ, প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষকদের বাধার মুখে পন্ড হতে যায় মিছিলটি।

জানা যায়, বিক্ষোভ মিছিলের খবর পেয়ে ইমামকে অব্যাহতির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য এ এন এম আসাদুজ্জামান ফকির সেখানে হাজির হন। তিনি মানববন্ধন ও মিছিল করতে নিষেধ করেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ এন এম আসাদুজ্জামান ফকির বলেন, আমরা আসলে শৃঙ্খলার বিষয়ে সেখানে গিয়েছি। শিক্ষার্থীদের বুঝিয়েছি, এখন এ বিষয়ে মানববন্ধন হলে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। এছাড়া দেখা গেছে ইমামের পক্ষে থাকতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়ে ইমামের আরও ক্ষতি হতে পারে।

শিক্ষার্থীরা দাবী করেন, বিক্ষোভ শুরু করার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাদের বিক্ষোভ করতে নিষেধ করে। পরবর্তীতে একাধিক শিক্ষক এসে তাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যেতে বলেন। এতে তারা সাময়িকভাবে বিক্ষোভ মিছিলটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রক্টর জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মসজিদ একটা সেনসিটিভ ইস্যু। এখানে আমরা মেয়েলি কোনো ইস্যু খুঁজিনি। কিন্তু অবান্তর ঘটনা ঘটে যেতে পারতো। আমি বিশ্বাস করি, মেয়েটা অসুস্থ ছিল, ইবাদত করতে গেছে। কিন্তু একটা মেয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত মসজিদে ঘুমাবে কেন? সেটা ইমাম জানবে না?

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, আমি শুনেছি একটা মেয়ে মসজিদে ঘুমিয়ে গেছে। আমার তো অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব আছে। সে ঘুমিয়ে গেছে, লাইট জ্বালানো ছিল, পরে সেটা অফ হয়ে গেছে বলে শুনেছি।

ইমামের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলে ছাত্রী গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপাচার্য বলেন, মেয়ে যে ভাষ্য দিয়েছে হয়তো সে ভয় পেয়ে এমন কিছু বলছে।

উল্লেখ্য গত ১৮ মে রাতে শারীরিক অসুস্থতা থাকায় ভুলবশত এশার নামাজ আদায় শেষে ওই ছাত্রী জবির কেন্দ্রীয় মসজিদের মেয়েদের রুমে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে মসজিদের পাহারাদার তালা লাগাতে গেলে ওই মেয়েকে দেখতে পান। এসময় মসজিদের ওই পাহারাদারের স্ত্রী তাকে বের করে নিয়ে আসেন। তবে ইমাম বা পাহারাদার কেউই ভেতরে প্রবেশ করেননি। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ইমামকে অব্যাহতি দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


আরও খবর



বেনজীরের স্থাবর সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগের আদেশ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মির্জা ও মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর, তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীর, জারা জেরিন বিনতে বেনজীরের স্থাবর সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগের আদেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন।


আরও খবর



পর্দার প্রেম থেকে এবার রণবীরের প্রতিবেশী তৃপ্তি দিমরি

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

বলিউডের নতুন সেনসেশন তৃপ্তি দিমরি। অ্যানিমেল সিনেমার জোয়া চরিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। চরিত্রটির উপস্থিতি ছিল কম। কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির পরপরই রণবীর কাপুরের সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ দৃশ্য় তৈরি করেছিল বিতর্কের সুনামি। আর তাতেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন এই অভিনেত্রী।

অ্যানিমেল মুক্তির সপ্তাহখানেকের মধ্যে নতুন নতুন সিনেমায় যুক্ত হওয়ার খবরও দিয়েছেন তৃপ্তি দিমরি। সন্দীপ রেড্ডি ভাঙার স্পিরিট দিয়ে শুরু, এরপর যুক্ত হয়েছেন ভুলভুলাইয়া ৩ধড়ক ২ সিনেমায়।

অ্যানিমেল মুক্তির পর নিয়মিত খবরের শিরোনাম হওয়া তৃপ্তি এবার রণবীর কাপুরের আরও কাছে। রণবীরের বাড়ির কাছেই মুম্বাইয়ের পশ্চিম বান্দ্রায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাট ছাড়াও বান্দ্রার কার্টার রোডে শাহরুখ, সালমান, রেখাসহ বলিউডের অনেক তারকার বসবাস।

২২২৬ বর্গফুটের ফ্ল্যাটটি কিনতে তৃপ্তিকে খরচ করতে হয়েছে ১৪ কোটি রুপি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বাড়িটির জন্য ইতিমধ্যেই ৭০ লাখ রুপি পরিশোধ করেছেন তৃপ্তি। তবে নতুন বাংলো সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি অভিনেত্রী। তৃপ্তির নতুন ফ্ল্যাট কেনার খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। অনেক নেটিজেন মনে করছেন, বলিউডের প্রথম সারির তারকাদের সমকক্ষ হতেই এত অর্থ খসিয়ে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন নায়িকা।

অ্যানিমেল দিয়ে আলোচনায় এলেও বলিউডে নতুন নন তৃপ্তি দিমরি। ২০১৭ সালে শ্রীদেবীর সঙ্গে মম দিয়ে অভিনয় শুরু তাঁর। একই বছর সানি দেওলের সঙ্গে পোস্টার বয়েজ সিনেমায় দেখা যায় তৃপ্তিকে। পরের বছর লায়লা মজনুতে অভিনয় করে পরিচিতি পান।

২০২০ সালে নেটফ্লিক্সে বুলবুল ওয়েব সিরিজটি আলোড়ন তোলে। সিরিজের বুলবুল চরিত্রে অভিনয় করে নজর কাড়েন তৃপ্তি। কলা সিনেমাতেও তৃপ্তির অভিনয় সমালোচকদের মুগ্ধ করে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় অ্যানিমেলে তাঁর অভিনীত জোয়া চরিত্রটি।

নিউজ ট্যাগ: তৃপ্তি দিমরি

আরও খবর



আবারও বিশ্বরেকর্ড রোনালদোর

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আরো একটি বিশ্বরেকর্ড করলেন। সোমবার সৌদি প্রো লিগের মৌসুমের শেষ ম্যাচে আল ইত্তিহাদকে ৪-২ গোলে হারায় আল নাসর। জোড়া গোল করেন রোনালদো। এতেই ক্লাব প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বাধিক গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড করেন পর্তুগালের এই তারকা।

এই ২০২৩-২৪ মৌসুমে আল নাসরের হয়ে ৩৫টি গোল করেন রোনালদো। এর আগে ২০১৮-১৯ মৌসুমে ক্লাব প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৪ গোলের রেকর্ড করেছিলেন আবদুররাজ্জাক হামদাল্লাহ। আল নাসরের হয়েই এসব গোল করেছিলেন মরক্কোর এই তারকা ফুটবলার। গতকাল হামদাল্লাহর সেই রেকর্ড ভেঙে দেন রোনালদো।

শুধু সৌদি ক্লাব নয়। এর আগে লা লিগা, ইতালিয়ান সিরিআঁ ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড করেছিলেন রোনালদো। বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে চারটি ভিন্ন ক্লাব প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড করেন তিনি।


আরও খবর