আজঃ বৃহস্পতিবার ২৪ জুন ২০২১
শিরোনাম

হেফাজত তাণ্ডবের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিএনপি জড়িত ছিল

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১ | ১১৬জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ২৬ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজত যে ত্রাস ও তাণ্ডব চালিয়েছিল তার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিএনপি জড়িত ছিল বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এর আগেও ভাস্কর্য ইস্যুতেও দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ত্রাস সৃষ্টিতে হেফাজতকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দিয়েছিল বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সকালে তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের   এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব সরকারের সমালোচনার নামে এমন সব বিষয়ে অবতারণা করেন, যার জবাব আওয়ামী লীগকে দিতে হয়; যদিও আমরা যা জানতে চাই, তার জবাব তাদের কাছে পাই না।

তিনি বলেন, বেগম জিয়ার ভুয়া জন্মদিবস নিয়ে জাতির কাছে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তার সঠিক জবাব বিএনপির পক্ষ থেকে আজও পাওয়া যায়নি। বেগম জিয়া এখন অসুস্থ তাই ১৫ আগস্টের মতো নৃশংস হত্যা দিবসে তার ভুয়া জন্মদিন পালনের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন, এটাই মানুষ আশা করেছিল। বিএনপি মহাসচিব তা না করে প্রতিদিনই এক একটা বিষয় নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছেন।

সরকার দেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করছে- বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার নয়, ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করছে বিএনপি। যেমনটি তারা ২০০১ সালে করেছিল। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশের মানুষে ওপর নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়েছিল বিএনপি সরকার। ২১ হাজার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আওয়ামী লীগের হাজারো নেতাকর্মীর রক্তে দেশকে মৃত্যু উপত্যকায় বানিয়েছিল উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন গুম, হত্যা, খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের রূপান্তর করেছিল তারা।

বিএনপি নেতাদের স্মরণ করে দিয়ে তিনি আরও বলেন,  মাহিমা, রহিমা, পূর্ণিমাসহ শত শত নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছিল তা কি ভুলে গেছে বিএনপি? সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন একাত্তরের পাক-হানাদারের নির্যাতনকেও হার মানিয়েছিল।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কলঙ্কিত ইতিহাস আর বিকৃত অবয়ব ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবেন না আয়নায়।

দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যত প্রয়াস তার সবগুলোর সঙ্গেই বিএনপি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, বিএনপি নেতাদের মুখে এসব কথা শুনলে হাসি পায়।

নিউজ ট্যাগ: ওবায়দুল কাদের

আরও খবর



১০ মিনিটে ব্যয় ২৩৮ কোটি টাকা!

প্রকাশিত:রবিবার ১৩ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১৩ জুন ২০২১ | ৬৬জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মহাকাশ যাত্রায় ২৮ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩৮ কোটি টাকা দর হাঁকিয়ে একটি টিকিট নিয়েছেন এক রহস্যময় ব্যক্তি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি মাত্র দশ মিনিটের মহাকাশ যাত্রায় জেফ বেজোসের সফরসঙ্গী হতে যাচ্ছেন।

শনিবার (১২ জুন) এই নিলামের আয়োজন করে বেজোসের প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন কোম্পানি। খবর বিবিসি বাংলার।

কোম্পানিটি একটি টুইট বার্তায় জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিলামে বিজয়ী এই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হবে। ১৪০টিরও বেশি দেশ থেকে আগ্রহীরা এই নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

প্রায় একমাস ধরে চলা এই নিলাম প্রক্রিয়ায় এর আগে সবচেয়ে বেশি দর উঠেছিল পাঁচ মিলিয়ন ডলারের নীচে। কিন্তু শনিবারের নিলামে সেই দর পাঁচ গুণের বেশি হয়ে যায়। এই নিলামে পাওয়া অর্থ ব্লু অরিজিনের ফাউন্ডেশন @clubforFuture-কে দেয়া হবে বলে একটি টুইটার বার্তায় জানানো হয়েছে।

জেফ বেজোস ছাড়া এই মহাকাশযানের অন্য যাত্রীরা হলেন- মার্ক, বেজোসের ভাই এবং নাম প্রকাশ না করা এক মহাকাশ পর্যটক।

এই সপ্তাহের শুরুর দিকে ইন্সটাগ্রামে একটি পোস্টে তিনি লিখেন, জুলাই মাসের বিশ তারিখে আমার ভাইয়ের সঙ্গে আমি এই যাত্রা শুরু করবো। সবচেয়ে সেরা অভিযান, আমার প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে।

ব্লু অরিজিন ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, নিউ শেফার্ড বুস্টার নামের মহাকাশযানটি তাদের পৃথিবী থেকে অন্তত ১০০ কিলোমিটার উপরে নিয়ে যাবে। যেখানে তারা ভর শূন্যতা উপভোগ করতে পারবেন। ছয়জনের উপযোগী ওই ক্যাপসুলটি পরে প্যারাসুট ব্যবহার করে পৃথিবীতে নেমে আসবে।

প্রসঙ্গত, ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুসারে জেফ বেজোসের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বেশি। যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।

তবে জেফ বেজোস একাই নন, রিচার্ড ব্রানসন নামের আরেকজন আমেরিকান মহাকাশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ভার্জিন ভিএসএস ইউনিটি নামের একটি যানে করে তিনি চৌঠা জুলাই পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করতে পারেন।



আরও খবর
করোনার ডেল্টা প্লাসে প্রথম মৃত্যু

বৃহস্পতিবার ২৪ জুন ২০২১




করোনায় আরও ৫৪ মৃত্যু, শনাক্ত প্রায় ৪ হাজার

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১ | ৭৯জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ হাজার ৩৯৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া দেশে নতুন করে আরও তিন হাজার ৮৮৩ জন আক্রান্ত হয়েছে। দেশে মোট আট লাখ ৪৪ হাজার ৯৭০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে এক হাজার ৯৫৫ জন। এ নিয়ে দেশে মোট সাত লাখ ৭৮ হাজার ৪২১ জন করোনা থেকে সুস্থ হলো।

আজ শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৮টি ল্যাবে ২০ হাজার ৮৮২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা সংগ্রহ করা হয় ২১ হাজার ৩৭৩টি। নমুনা শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় নতুন ৫৪ জন মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে পুরুষ ৩৫ জন ও নারী ১৯ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছে নয় হাজার ৬২৩ জন ও নারী তিন হাজার ৭৭৬ জন। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৫ জন ও ষাটোর্ধ্ব ২৬ জন রয়েছেন।

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২ জন, খুলনা বিভাগে আটজন, বরিশাল বিভাগে চারজন, সিলেট বিভাগে দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে ৫১ জন, বেসরকারি হাসপাতালে একজন ও বাসায় দুজন মারা গেছে।

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ওই বছরের ১৮ জুন তিন হাজার ৮০৩ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার মধ্যে দিয়ে লাখ ছাড়িয়েছিল করোনার রোগী। সেদিন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ছিল এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন। এ ছাড়া দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছরের ১৮ মার্চ।


আরও খবর
করোনায় আরও ৭৬ জনের মৃত্যু

মঙ্গলবার ২২ জুন ২০২১




ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বিষয়ে সর্তক করলেন বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ মে ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৬ মে ২০২১ | ১৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছোঁয়াচে নয়। এটি নিয়ে শঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকাটা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞেরা। তাঁরা বলছেন, এ ছত্রাকবাহিত রোগ বাংলাদেশে আগেও হয়েছে। এ ছত্রাক প্রকৃতির সর্বত্র আছে। রোগ প্রতিরোধ কমে গেছে, এমন ব্যক্তিদের এতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে আক্রান্ত হলে এতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।

তিন দিন আগে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে একজন রোগীর মৃত্যু হয়। আজ মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ওই রোগী অন্যান্য রোগের পাশাপাশি মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে সংক্রমিত একজন রোগী এখনো বারডেম হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শনাক্ত হওয়া আরেকজন রোগী অন্য হাসপাতালে চলে গেছেন।

প্রতিবেশী ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮০০ জন এই ফাঙ্গাসে সংক্রমিত হয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে দেশের দুজন অণুজীববিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা হলেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহা।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কী

সমীর কুমার সাহা বলেন, মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সর্বত্র বিরাজমান। আমাদের চারপাশেই এটি আছে। বেশি সময় ধরে ঘরে রাখা আমাদের জুতাতেও এ ছত্রাক থাকতে পারে, দীর্ঘক্ষণ রাখা রুটিতেও এটি সৃষ্টি হতে পারে। মাটি, গাছপালা, সার বা পচনশীল ফল ও সবজির মধ্যে এটি থাকতে পারে। এটি কোনো বিরল কিছু না।

এখন কেন বেশি ছড়াচ্ছে

করোনা মহামারির এ সময়ে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়ানোর কথা বেশি শোনা যাচ্ছে। যেকোনো রোগে আক্রান্ত হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। এ অবস্থায় রোগীর জটিল অবস্থা সৃষ্টি হলে স্টেরয়েড দেওয়া হয়। এটা প্রমাণিত যে এটি রোগীকে সহায়তাও করে। করোনায় আক্রান্ত রোগীকেও স্টেরয়েড দেওয়া হয় বা হচ্ছে। ফুসফুসে যখন ভাইরাসটি যায়, তখন আমাদের শরীরে অনেক বেশি প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এমন মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়াকে আমরা স্টর্মও বলে থাকি। এতে রোগীর অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যায়। এই স্টর্ম বা ঝড়ের মধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা অন্য যেকোনো সুযোগসন্ধানী জীবাণু, যেগুলো কিনা সাধারণ পরিস্থিতিতে আক্রমণ করে না, তারা এ সময় সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্টেরয়েড প্রয়োগ করে রোগীর এই বাড়াবাড়ি অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। কিন্তু যদি এই স্টেরয়েডের পরিমাণ বেশি দিয়ে দেওয়া হয় অথবা রোগীর কোমর্বিডিটি থাকে, তখন রোগীর প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায়। এসব মানুষের মধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে অন্য যেকোনো জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। স্টেরয়েডের সঠিক ব্যবহারে এর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

আবার যখন স্টেরয়েডটা দেওয়া হচ্ছে, তখন পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিচ্ছন্নতার অভাব এই ফাঙ্গাস ছড়ানোর একটি কারণ হতে পারে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি ছোঁয়াচে

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছোঁয়াচে নয় মোটেও। তাই এ নিয়ে ভীতির কারণ নেই বলেই মনে করেন অণুজীববিজ্ঞানী অধ্যাপক সমীর সাহা। খুব কদাচিৎ এর সংক্রমণ দেখা যায়।

অণুজীববিজ্ঞানী বে-নজির আহমদের মন্তব্য, আক্রান্ত রোগী থেকে অন্যজনের হবে না। অর্থাৎ এটি মানুষে থেকে মানুষে ছড়ায় না বটে, তবে এটি ভিন্নভাবে ছড়াতে পারে। যেমন রোগীর চিকিৎসা-বর্জ্য হিসেবে এটি প্রকৃতিতে গেলে সেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা যদি নিরাপদ না থাকেন বা তাঁদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কীভাবে মানুষের শরীরে যেতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যগত জটিল সমস্যায় থাকা ব্যক্তি বা চিকিৎসায় ওষুধ ব্যবহারের ফলে প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া ব্যক্তিদের এতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রকৃতিতে থাকা এ ছত্রাক নাক দিয়ে শ্বাসগ্রহণের মাধ্যমে সাইনাসে এবং ফুসফুসে ঢুকতে পারে। প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তির শরীরের কাটাছেঁড়া জায়গা, পোড়া জায়গা বা চর্মের কোনো ক্ষত থাকলে সেখানেও আক্রান্ত হতে পারে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কত মারাত্মক?

ভারতের উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, সেখানে মৃত্যুর হার ছিল শতকরা ৫০ শতাংশের বেশি।

ভারতে কেন এত বেশি

দুটি মূল কারণের কথা বলেন রোগতত্ত্ববিদ বে-নজির আহমেদ। তাঁর কথা, ভারতে করোনায় মৃত্যু ব্যাপক হারে বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে মৃতদেহের সৎকারের প্রথাগত স্থানে সংকুলান হচ্ছিল না। একপর্যায়ে তাই পোড়ো জায়গাগুলো সৎকারের জন্য বেছে নেওয়া হয়। যখন এমনটা করা হলো তাতে ঝুঁকি বেড়ে গেল। এসব অপরিচ্ছন্ন স্থান থেকে জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কাকে বাদ দেওয়া যায় না।

ভারতে যারা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের একটা বড় অংশেরই অক্সিজেন বেশি নেওয়ার কথা জানা গেছে। এবার ভারতে শিল্পের অক্সিজেন ব্যবহার করা হয়েছে। এখানকার অক্সিজেন সিলিন্ডার যত্রতত্র পড়ে থাকে। ধরা যাক, কোনো সিলিন্ডারের গায়ে এটি লেগে আছে। হাসপাতালে এটি নিয়ে আসার পর যাঁরা এর রক্ষণাবেক্ষণ করছেন, তাঁদের হাতে এটি লেগে যাচ্ছে। সেটি রোগীর মধ্যে চলে যেতে পারে। আবার সিলিন্ডারের যেখান থেকে অক্সিজেন বেরোচ্ছে, সেখানে যদি ছত্রাক লেগে থাকে তবে ক্যাথেটার লাগিয়ে যদি রোগীকে তা দেওয়া হয়, তবে তা সরাসরি ফুসফুসে চলে যাবে। এটি ভয়াবহ সমস্যা সৃষ্টি করবে।

বে-নজির আহমেদ বলেন, আমাদের জন্য এটি একটি শিক্ষা। আমাদের এখানে অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলোকে জীবাণুমুক্ত করার বিষয়টি এখন বেশি করে ভাবতে হবে। হাসপাতালে আসার আগে ও পরে সিলিন্ডার জীবাণুমুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে নির্দেশ দিতে হবে।

কাদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হওয়ার আশঙ্কা থাকে?

যে মানুষগুলোর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অনেক কম, তারা এতে আক্রান্ত হতে পারে। ক্যানসার, এইডসে আক্রান্ত রোগীদের এতে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। ডায়াবেটিস, ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার পর রেডিও থেরাপি বা কেমোথেরাপি নিচ্ছে, তারা খুব ঝুঁকিতে আছে। বংশ বা জন্মগতভাবে কেউ কেউ কম প্রতিরোধক্ষমতার অধিকারী। ঝুঁকি তাদেরও আছে। তাদের জন্য বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে করে প্রকৃতি থেকে না আসে। যেসব রোগী স্টেরয়েড পেয়েছে, তাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কম থাকে। তাদেরও সাবধানে থাকতে হবে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়ায় কীভাবে

যেহেতু এটি প্রকৃতিতে বসবাস করে, তাই যেকোনো সময় এটি ছড়াতে পারে। এটি যেকোনো সময়েই আমাদের সংস্পর্শে আসতে পারে। আমাদের স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতার বলেই এটি আক্রমণ করলেও কিছু হয় না। বে-নজির আহমেদ বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস চোখ ও নাক দিয়ে প্রবেশ করতে পারে। চোখ থেকে আবার মস্তিষ্কে চলে যেতে পারে। এটা প্রাণঘাতী। আর সাইনাসের জায়গাটি ফাঁপা। সেখানে সংক্রমণ ব্যাপক আকারে হতে পারে এবং সেখান থেকে বেড়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি এই প্রথম

বে-নজির আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে এই সংক্রমণ আগেও হয়েছে। তবে সংখ্যায় কম। তাই এটি আমাদের দেশে হয় নাএমন কথা ঠিক নয়; আবার খুব বেশি হয়, সেটাও ঠিক নয়। এই সংক্রমণ মাঝেমধ্যেই আমাদের দেশে হয়।

করোনা রোগীদের জন্য ঝুঁকি কতটুকু

করোনা রোগীদের কারও কারও যেহেতু অক্সিজেনের প্রয়োজন হতে পারে তাই এই অক্সিজেন যাওয়াটা সব দিক থেকে জীবাণুমুক্ত হওয়াটা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন বে-নজির আহমেদ। তিনি বলেন, সব দিক থেকে জীবাণুমুক্ত হওয়া বলতে বোঝাচ্ছি সিলিন্ডারের গায়ে, নজল বা যে ক্যাথেটার দিয়ে অক্সিজেনটা দেওয়া হবে, সেখানে যেন না লেগে থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সব হাসপাতালে এ জন্য নজর দেওয়া উচিত।

সতর্কতা কী ধরনের

ব্যক্তিপর্যায়ে বেশি সতর্ক হওয়া উচিত তাদের, যারা করোনাকালে যেসব ব্যক্তি স্টেরয়েড পেয়েছে। করোনাকালে যেসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হয়েছে, আক্রান্ত হওয়ার পরও তাদের এসব পালন করতে হবে। যেমন মাস্ক পরা, বারবার হাত ধোয়ার বিধি মানতে হবে। বিশেষ করে বাইরে থেকে এসে হাত অবশ্যই ধুতে হবে। তাদের কত দিন এটা পালন করতে হবে?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজির আহমেদের কথা, এসব ব্যক্তি যত দিন পারেন মাস্কটা পরবেন। এটা একটা অযাচিত সংক্রমণ। এটা যাতে না আসে, সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

ঝুঁকি কীভাবে কমানো যায়, সিডিসির পরামর্শ

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্যমতে, মিউকরমাইকোসিস আসে পরিবেশ থেকে। তাই একে রোধ করা কঠিন। এর কোনো টিকা নেই। যেসব মানুষের প্রতিরোধশক্তি কম, তাদের জন্য কিছু পরামর্শ আছে ঝুঁকি কমানোর। তবে এর মাধ্যমে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা যাবে, তা নয়।

ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্মাণকাজ বা খননকাজ চলছে এমন স্থানে যাওয়া যাবে না। যদি যেতেই হয় তবে এন নাইনটিফাইভ মাস্ক পরে যাওয়া উচিত। বন্যা বা পানিতে ডুবে ছিল এমন ভবনে না যাওয়া উচিত। ধুলাবালু এড়িয়ে চলতে হবে, এড়িয়ে চলতে হবে স্যাঁতসেঁতে এলাকাও। বাগানে, উঠানে বা বনের মধ্যে ঘুরতে গেলে জুতা, ফুল প্যান্ট এবং ফুল স্লিভ শার্ট পরতে হবে। মাটি ধরতে হয়এমন কাজের জন্য অবশ্যই গ্লাভস পরে থাকতে হবে।

চামড়ার মাধ্যমে যেন সংক্রমণ না হয়, সে জন্য আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে এসব স্থানে যদি ধুলাবালু লাগে, তবে অবশ্যই তা সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।


নিউজ ট্যাগ: ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

আরও খবর
করোনায় আরও ৭৬ জনের মৃত্যু

মঙ্গলবার ২২ জুন ২০২১




জাদুঘরে রূপ নিচ্ছে ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন

প্রকাশিত:বুধবার ২৩ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৩ জুন ২০২১ | ৫৮জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পুরান ঢাকার টিকাটুলির কে এম দাস লেনে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রোজ গার্ডেন নামের ভবনটি। এখান থেকে পথচলা শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া ও উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের।

আওয়ামী লীগের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত রোজ গার্ডেন সরকার কিনে নেয়ার আড়াই বছরের বেশি সময় পর সেটিকে জাদুঘরে রূপ দেয়া ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করেছে সরকার। এ সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্প প্রস্তাবনাটি পাঠানো হবে পরিকল্পনা কমিশনে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে জাদুঘর তৈরির কাজ কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কিছু জানাতে পারেনি। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানাতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আহমেদ শিবলী বলেন, প্রকল্প প্রস্তুত হচ্ছে। অনুমোদনের জন্য চেষ্টা চলছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে। ওখানে একটা জাদুঘর করা, রোজ গার্ডেনকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করা, আর ভেতরে দর্শনার্থীদের জন্য যে সুযোগ-সুবিধাগুলো দরকার, সেগুলো নিশ্চিত করা হবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিশাখার যুগ্ম সচিব আতাউর রহমান বলেন, ডিজাইনটা কয়েকবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। ওনার কিছু নির্দেশনা ছিল। সবশেষ ডিজাইনসহ এটার ডিপিপি করা হয়। ডিপিপিটা সাবমিটও করা হয়েছে। পাস হলেই কাজ শুরু হবে।

১৯৩১ সালে ওই সময়ের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস নির্মাণ করেন রোজ গার্ডেন নামের ভবনটি। তবে সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেছে ভবন ও ভূমির মালিকানা। হাত ঘুরে ওই সম্পত্তির মালিক এখন রাষ্ট্র নিজেই। ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকা দিয়ে ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন কিনে নেয় সরকার। ওই দিন গণভবনে মালিকের কাছ থেকে সম্পত্তি কেনার নিবন্ধিত দলিল গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বছরের ৮ আগস্ট রোজ গার্ডেন কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এরপর সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় মালিকের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রোজ গার্ডেনের মূল্য ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে।

রোজ গার্ডেনের দলিল গ্রহণের পর এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করার ইচ্ছে পোষণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য ১ হাজার ১ টাকা টোকেন মূল্যে সম্পত্তিটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বাড়িটির দলিল গ্রহণ করেন সে সময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি।



আরও খবর



থাইল্যান্ডে আটকে পড়া ৬১ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ মে ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ৩০ মে ২০২১ | ৯৪জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন থাইল্যান্ডে আটকে পড়া ৬১ বাংলাদেশি। রবিবার (৩০ মে) এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

থাইল্যান্ডে আটকে পড়া ৬১ বাংলাদেশির সঙ্গে থাইল্যান্ডসহ অন্য দেশের নাগরিকরাও ঢাকায় ফিরেছেন। আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করার জন্য থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ আব্দুল হাই থাই সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

থাইল্যান্ডে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের এ নিয়ে গত এক বছরে ১৪ দফায় ফিরিয়ে আনা হলো। এছাড়া থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাস আরও দুই দফায় কম্বোডিয়া থেকে ১৩৫ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে এনেছিলো।


আরও খবর