আজঃ বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

হিন্দি সিনেমায় জয়া আহসানের অভিষেক

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি ফাইভে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) মুক্তি পাবে অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর সিনেমা কড়ক সিং। এই সিনেমা দিয়ে হিন্দি ছবিতে অভিষেক হচ্ছে অভিনেত্রী জয়া আহসানের। সিনেমাটিতে নয়না চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি।

ছবির গল্প অ্যামনেশিয়ায় আক্রান্ত অর্থনৈতিক দুর্নীতি বিভাগের এক কর্মকর্তাকে নিয়ে। এ কর্মকর্তা শ্রীবাস্তব ওরফে কড়ক সিং কেন, কীভাবে হাসপাতালে হাজির হলেন, তা নিয়ে এগিয়েছে সিনেমাটির কাহিনি। তারকাবহুল এ ছবিতে জয়া ছাড়াও আছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠি, পার্বতী, সঞ্জনা সাংঘি প্রমুখ।

গত মাসে গোয়ায় ভারতের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হয় সিনেমাটির। সেই প্রিমিয়ারে হাজির ছিলেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন>> রণবীরের সঙ্গে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের পেছনের গল্প জানালেন তৃপ্তি

গোয়া উৎসবে যাওয়ার আগে কড়ক সিং সিনেমা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমার প্রথম হিন্দি সিনেমা। চরিত্রটিও দারুণ। এই ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে বেশ রোমাঞ্চিত ছিলাম।

কারণ, ছবির পরিচালক অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী এবং আমার সহ-অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠি। আমি সব সময় অনিরুদ্ধ ও পঙ্কজের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছি। তাঁদের সঙ্গে কাজ করা এবং তা-ও প্রথম হিন্দি ছবিতে, আনন্দ দ্বিগুণ করে।

নিউজ ট্যাগ: জয়া আহসান

আরও খবর



পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদরদপ্তরে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পূর্ণ হলো রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি)। এই উপলক্ষ্যে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। এদিন সকালে বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহিদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শাহাদত বরণকারী সেনাকর্মকর্তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং শহিদ পরিবারের সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং কর্মরত সামরিক সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সেনাসদস্য, শহিদ পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয় এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও এদিন সকল সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সকল স্তরের সেনাসদস্যদের উপস্থিতিতে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।


আরও খবর
সংরক্ষিত আসনের এমপিদের শপথ বুধবার

মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী ‘স্টাডি ইন ইন্ডিয়া এক্সপো’

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Image

অ্যাফেয়ার্স এক্সিবিশন অ্যান্ড মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের আয়োজনে আগামী ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অনুষ্ঠিত হবে স্টাডি ইন ইন্ডিয়া এক্সপো। ভারতের উচ্চ র‌্যাঙ্কযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ বোর্ডিং স্কুল গুলোর প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া, এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সঠিক কোর্স বেছে নিতে এবং ভর্তি সংক্রান্ত হালনাগাদ ও সঠিক তথ্য শেয়ার করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করবেন। স্টাডি ইন ইন্ডিয়া এক্সপো ২০২৪-এ অংশগ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে অন-স্পট আবেদন করার এবং ১০০ শতাংশ মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ অর্জনের একটি অনন্য সুযোগ পাবেন।

অ্যাফেয়ার্স এক্সিবিশন অ্যান্ড মিডিয়া প্রা. লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জীব বোলিয়া বলেন, উচ্চশিক্ষার শক্তিগুলোকে তুলে ধরাই হলো এক্সপোর মূল উদ্দেশ্য। স্টাডি ইন ইন্ডিয়া এক্সপো শুধুমাত্র ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ বোর্ডিং স্কুল গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয় না, বরং অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ শিক্ষা, একাডেমিক অংশীদারত্ব; বিদেশে ভারতীয় ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতার জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্যের সঠিক উৎস থেকে দ্রুত অ্যাক্সেস ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি ভর্তির প্রক্রিয়াকে সহজ করার লক্ষ্য রাখি।

স্টাডি ইন ইন্ডিয়া এক্সপোতে কম্পিউটার সায়েন্স, মেকানিক্যাল অ্যান্ড সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিবিএ, এমবিএ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিক্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টের মতো জনপ্রিয় কিছু কোর্স অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অফার করবে বলে জানা গেছে।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি (বিএইচইউ), শারদা ইউনিভার্সিটি, লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি, চন্ডিগড় ইউনিভার্সিটি, অ্যামিটি ইউনিভার্সিটি, এসআরএম ইউনিভার্সিটি, মানব রচনা ইউনিভার্সিটি, কেআইআইটি ইউনিভার্সিটি, বিএমএস কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং, পিডিইইউ, এমআইটি ওয়ার্ল্ড পিস ইউনিভার্সিটি, মোদি ইউনিভার্সিটি, এআইএমএস ব্যাঙ্গালোর, সিভি রমন বিশ্ববিদ্যালয়, আদিত্য গ্রুপ অফ ইনস্টিটিউটস, পিম্পরি চিঞ্চওয়াড় বিশ্ববিদ্যালয়, উডস্টক স্কুল-মুসৌরি, মেয়ো কলেজ বয়েজ এবং মেয়ো কলেজ গার্লস স্কুল-আজমের, সেন্ট পলস স্কুল-দার্জিলিং, আগা খান একাডেমি-ঢাকা, আগা খান একাডেমি-হায়দরাবাদ, কিংস কলেজ ইন্ডিয়া-ব্রিটিশ, বোর্ডিং স্কুল দিল্লি এনসিআর, ইউনিসন ওয়ার্ল্ড স্কুল, হেইলিবারি ভালুকা, শারদা ওয়ার্ড স্কুল, সান্তা মারিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রমুখ।

যেসব ছাত্রছাত্রীরা স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা এমনকি কর্মজীবী পেশাজীবী তারা স্টাডি ইন ইন্ডিয়া এক্সপোতে যোগদান করতে পারবেন। শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের বিনামূল্যে এক্সপোতে অংশগ্রহণ করতে https://studyinindiaexpo.com/bangladesh/ এ নিবন্ধন করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।


আরও খবর



বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের দাম ইউনিট প্রতি ৭৫ পয়সা বাড়ল

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৭৫ পয়সা বেড়েছে৷ একই সাথে কলকারখানায় ব্যবহৃত ক্যাপটিভ বিদ্যুতের গ্যাসের দামও প্রতি ঘনমিটার ৭৫ পয়সা বাড়িয়েছে সরকার৷ তবে বাসাবাড়ি ও পরিবহণ খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়েনি ৷

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জ্বালানি বিভাগ নতুন এ দাম নির্ধারণ করেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বর্তমানে বিদ্যুতে ব্যবহৃত প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ১৪ টাকা এবং ক্যাপটিভে ৩০ টাকা৷ এর ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়বে ৷

সরকারি, আইপিপি ও রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জন্য গ্যাসের পূর্ব মূল্য ছিল প্রতি ঘনমিটার ১৪ টাকা। প্রতি ঘনমিটারে ৭৫ পয়সা বাড়িয়ে বর্তমান মূল্য করা হয়েছে ১৪ টাকা ৭৫ পয়সা।

ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট, স্মল পাওয়ার প্ল্যান্ট ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ছিল প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা। ক্ষেত্রেও ৭৫ পয়সা বাড়িয়ে ৩০ টাকা ৭৫ পয়সা করা হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আদেশ আসতে পারে৷

এর আগে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি আবাসিক, সিএনজিচালিত যানবাহন, সার ও চা শিল্পে ব্যবহার ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, যা ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হয়।


আরও খবর
সংরক্ষিত আসনের এমপিদের শপথ বুধবার

মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




যথাসময়ে আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তি পাওয়া যাবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের দেয়া বেশিরভাগ টার্গেটই পূরণ করায় সংস্থাটির দেয়া ঋণের তৃতীয় কিস্তি বাংলাদেশ সময় মতোই পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের একথা বলেছেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশে আইএমএফের  আবাসিক প্রতিনিধি জায়েন্দু দে এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার লিলি নিকলসের সঙ্গে বৈঠক করেন।

মাহমুদ আলী বলেন, আএমএফ যেসব টার্গেট দিয়েছিলো তার বেশিরভাগই আমরা পূরণ করতে পেরেছি। আইএমএফ এর পরীক্ষায় আমরা পাস করেছি। আরেকটা টিম আসবে। তৃতীয় কিস্তি ঋণের টাকাও যথাসময়ে পাওয়া যাবে, আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

আইএমএফের কাছ থেকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ওই ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার বাংলাদেশ পায় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। আর ডিসেম্বরে আসে দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার।

এদিকে দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত বা মার্জ করার বিষয়ে একমত অর্থমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী।

তিনি বলেন, দুর্বল ব্যাংককে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা ভালো। এ বিষয়ে আমাদের দুটি আইডিয়া আছে। দু-একটা ব্যাংক এমন আছে তারা একেবারেই কাজই করতে পারছে না। তাদের শক্তিশালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করাই ভালো।

দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সংস্কার করে সবল কোনো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে প্রস্তুতও থাকতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অর্থমন্ত্রী জানান, উন্নত অর্থনীতিতে দেশগুলোতে একীভূতকরণ অহরহই হচ্ছে। তবে এখানে তা করতে সময় দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎপরতা থাকলেও এই বিষয়ের বাস্তবায়ন সময় সাপেক্ষ। অর্থ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে এখনো উদ্যোগ নেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


আরও খবর
২৪ দিনে প্রবাসী আয় ১৮ হাজার কোটি টাকা

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




শাহজীবাজার রাবার বাগানে দশ বছরে লোকসান ৫৭ কোটি টাকা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

Image

অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে রাবারকে সাদা সোনা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বিশ্বের প্রায় ৪৬ হাজার পণ্য তৈরী হয় রাবারের মাধ্যমে।

বাংলাদেশে রাবার শিল্পের যাত্রা শুরু ১৯৬০ সালে। বর্তমানে দেশে রাষ্ট্রয়াত্ব বাগানের সংখ্যা ১৮টি। এছাড়া ছোট-বড় বেশ কিছু ব্যক্তি মালিকানাধিন বাগান রয়েছে। দেশে প্রতি বছর রাবারের চাহিদা প্রায় ২০ হাজার টন। এর বিপরীতে দেশে বছরে উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে ১১ হাজার টন। এর মধ্যে সরকারি বাগান থেকে বছরে ৬ হাজার টন এবং ব্যক্তি মালিকানাধিন বাগান থেকে ৫.৫০ হাজার টন রাবার উৎপাদন হচ্ছে। বাকি রাবার আমদানি করতে হচ্ছে বিভিন্ন দেশ থেকে।

রাষ্ট্রয়াত্ব ১৮টি বাগানের মধ্যে একটি শাহজীবাজার রাবার বাগান। ২ হাজার ১০৪ একর জায়গা নিয়ে ৮০ দশকে হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাগানটি গড়ে তোলা হয়। একসময় লাভজনক থাকলেও ২০১৩ সালের পর থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে বাগানটিকে। গেল ১০ বছরে বাগানের লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৫৭ কোটি টাকা।

বাগান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ি ২০১৩-১৪ অর্থবছর ৪ কোটি ৫৭ লাখ, ২০১৪-১৫ অর্থবছর ৪ কোটি ৭০ লাখ, ২০১৫-১৬ অর্থবছর ৪ কোটি ২৬ লাখ, ২০১৬-১৭ অর্থবছর ৪ কোটি, ২০১৭-১৮ অর্থবছর ৩ কোটি ৬৪ লাখ, ২০১৮-১৯ অর্থবছর ৭ কোটি ৮৮ লাখ, ২০১৯-২০ অর্থবছর ৭ কোটি ৮০ লাখ, ২০২০-২১ অর্থবছর ৭ কোটি ৭৪ লাখ, ২০২১-২২ অর্থবছর ৫ কোটি ৭১ লাখ, ২০২২-২৩ অর্থবছর ৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে- অপরিকল্পিতভাবে বাগান পরিচালনা, গাছের জীবনচক্র শেষ এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া লোকসানের বড় কারণ।

বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের তথ্য বলছে, মূলত একটি রাবার গাছের কষ দেওয়ার স্বাভাবিক ক্ষমতা থাকে ৩০ থেকে ৩২ বছর পর্যন্ত। কিন্তু শাহজীবাজারের গাছগুলোর বয়স প্রায় ৪০ এর বেশি। ফলে এক দশক আগেই কষ দেওয়ার স্বাভাবিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে বাগানটি। যে কারণে দিনদিন কমছে কষ সংগ্রহের পরিমাণ।

শাহজীবাজার রাবার বাগানে নিয়মিত কাজ করেন আড়াইশ শ্রমিক। কাকডাকা ভোরে এসব শ্রমিক কষ সংগ্রহে নামেন। বাগানের ঝোপঝাড়ে কাজ করায় সাপ-বিচ্ছু, বিষাক্ত পোকামাকড় আর বন্যজন্তুদের আক্রমণের শঙ্কা থাকলে নেই নূন্যতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেই সাথে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাব রয়েছে এসব শ্রমিকদের।

১৫ বছরের বেশি সময় ধরে এই বাগানে কাজ করেন আব্দাল মিয়া। তিনি বলেন, আমরা যে টাকা বেতন পাই তা দিয়ে চলা বর্তমান সময়ে অনেক কঠিন। এখানে ওভারটাইম করার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া আমাদের নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থাও নেই। প্রতি বছর শীত মৌসুমে আমাদের জুতা, গ্লাবস, রেইনকোর্ট দেওয়ার কথা। কিন্তু কোন কিছুই দেওয়া হয় না। চাইলেই শুধু বলে বাগান লোকসানে আছে।

শাহজীবাজার রাবার বাগানের সহকারি মাঠ তত্বাবধায়ক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, গাছ থেকে কষ সংগ্রহের পর সেটিকে আনা হয় রাবার প্রসেসিং সেডে। এখানে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তরল কষকে সেডে রূপান্তর করা হয়। কিন্তু এই বাগানে যে যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয় সেগুলো অনেক পুরনো। আধুনিক যন্ত্রাংশ না থাকায় একদিকে রাবারের সেড তৈরী করতে গিয়ে সময় বেশি লাগছে, অন্যদিকে কমছে রাবারের গুণগত মান। বাগানের গাছগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। বয়স বেশি হওয়ায় গাছগুলোতে যতেষ্ট কষ আসে না। সেই সাথে অর্ধেকের চেয়ে বেশি গাছ থেকে এক ফোটা কষও পাওয়া যায় না। সেগুলোতে পোকামাকড় আক্রমণ করেছে। 

শাহজীবাজার রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক নন্দী গোপাল রায় বলেন, অনেক কারণে বাগানটি দিনের পর দিন লোকসান গুণেছে। এর মধ্যে তিনটি বড় কারণ অপরিকল্পিতভাবে বাগান পরিচালনা, গাছের জীবনচক্র শেষ এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া লোকসানের বড় কারণ। গত ১০ বছরে রাবার উৎপাদনে খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ। বর্তমানে শাহজীবাজার বাগানে প্রতিকেজি রাবার উৎপাদনে খরচ হচ্ছে সাড়ে ৩শ টাকার বেশি। বিপরীতে বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকায়।

তিনি বলেন, রাবার মুলত কৃষিপণ্য। কিন্তু এনবিআর এটিকে শিল্প হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় শুকনো রাবার বিক্রির সময় ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৪ শতাংশ আয়কর পরিশোধ বাধ্যতামূলক। এনবিআরের এমন সিদ্ধান্ত রাবার শিল্পের উন্নয়নে প্রধান অন্তরায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে একটি মামলা চলছে। যার বিস্তারিত বলতে পারবেন আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নন্দী গোপাল রায় বলেন, আমি এখানে কয়েক মাস আগে যোগদান করেছি। যোগদান করার পরই বাগানটিকে লাভজনক করতে ১০ বছরের একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি রাবার বোর্ডে। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হলে এই সংকট থেকে উত্তোরণ সম্ভব হবে। যদিও এর কিছু কাজ শুরু হয়েছে। যেমন এরই মধ্যে পরিত্যক্ত গাছ কেটে দেড় হাজার হেক্টর জায়গাজুড়ে নতুন চারা লাগানো হয়েছে। পর্যক্রমে বাকি বাগানও এভাবে পুনর্বাসন করা হবে।


আরও খবর