আজঃ বুধবার ২৯ মে ২০২৪
শিরোনাম

হজ-ওমরায় মাথা মুণ্ডনকরা জরুরি কেন

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ মে ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

হজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান। অপর দিকে ওমরা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ইবাদতের অন্তুর্ভুক্ত। তবে হজ ও ওমরা পালনের সময় মাথা মুণ্ডানো বা মাথা ন্যাড়া করা অথবা চুল কেটে একেবারে ছোট করা ওয়াজিব। বুখারি, হাদিস, ১৭২৯; মুসলিম, হাদিস, ১৩০১; মিশকাত, হাদিস, ২৬৩৬) ।

হজ-ওমরায় মাথা মুণ্ডনকারীদের জন্য ক্ষমার দোয়া করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ قَالُوا وَلِلْمُقَصِّرِينَ، قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ، قَالَهَا ثَلاَثًا، قَالُوا وَلِلْمُقَصِّرِينَ، قَالَ وَلِلْمُقَصِّرِينَ

হে আল্লাহ, মাথা মুণ্ডনকারীদের ক্ষমা করুন। সাহাবিরা বললেন, চুল ছোটকারীদেরকেও, তিনি বললেন, হে আল্লাহ মাথা মুণ্ডনকারীদের ক্ষমা করুন। তিনবার তিনি তা বললেন। সাহাবিরা বললেন, ছোটকারীদেরও। তখন তিনি বললেন, চুল ছোটকারিদেরকেও (ক্ষমা করুন) । (বুখারী, হাদিস, ১৭২৮)

হাদিসে নবীজি সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা মুণ্ডনকারিদের জন্য তিনবার দোয়া করেছেন। অপর দিকে যারা চুল ছোট করবে তাদের জন্য একবার দোয়া করেছেন।

আরেক হাদিসে আল্লাহর রাসুল মাথা মুণ্ডনকারিদের জন্য রহমতের দোয়া করেছেন। ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাথা মুণ্ডনকারিদের ওপর আল্লাহ রহম করুন। সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, চুল ছোটকারিদের ওপরও? তিনি বললেন, মাথা মুণ্ডনকারিদের ওপর আল্লাহ রহম করুন। তারা বললেন, হে আললাহর রাসূল, চুল ছোটকারিদের ওপরও? তিনি বললেন, মাথা মুণ্ডনকারিদের ওপর আল্লাহ রহম করুন। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, চুল ছোটকারিদের ওপরও তিনি বললেন, চুল ছোটকারিদের ওপরও। (ইবনে মাজাহ, ৩০৪৪)

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও মাথা মুণ্ডন করেছেন। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় এলেন, জামরাতে এসে তিনি শয়তানকে পাথর মারলেন। এরপর মিনায় তাঁর অবস্থানের জায়গায় এলেন এবং কুরবানি করলেন। তারপর ক্ষৌরকারকে বললেন, নাও। তিনি হাত দিয়ে (মাথার) ডান দিকে ইশারা করলেন, অতঃপর বাম দিকে। তারপর লোকদেরকে তা দিতে লাগলেন। (মুসলিম: ২২৯৮)

মাথা মুণ্ডনের কারণে প্রতিটি চুলের জন্য একটি নেকী ও একটি গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আর তোমার মাথা মুণ্ডনের কারণে প্রত্যেক চুলের বিনিময়ে তোমার জন্য একটি সওয়াব রয়েছে এবং একটি করে গুনাহের বিলুপ্তি রয়েছে। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, গুনাহসমূহ যদি এর চেয়ে কম হয়? রাসূলুল্লাহ বললেন, তাহলে তা তোমার নেক আমলে জমা রাখা হবে। (কাশফুল-আস্তার (মুসনাদে বাযযার): ১/৪১১। সহীহুত তারগীব, হাদীস, ১১১৩।)


আরও খবর



গুজরাটে ‌গেমিং জোনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: শিশুসহ নিহত ২৭

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

প্রতিবেশী ভারতের গুজরাট রাজ্যের রাজকোটে একটি গেমিং জোনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জনই শিশু। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। খবর এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইস।

স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় রাজকোটের টিআরপি গেম জোনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। সেখানে এখনো কাজ করছেন দমকলের কর্মীরা। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজকোটের পুলিশ কমিশনার রাজু ভার্গভ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে টিআরপি গেমিং জোনে আগুন লাগে।

তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এগুলো ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

যুবরাজ সিং সোলাঙ্কি নামের এক ব্যক্তি ওই গেমিং জোনটি চালাতেন। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় গাফিলতির কারণে একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পরেই আরও তদন্ত করা হবে।

তবে আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি। এদিকে দমকল বাহিনী জানিয়েছে, অস্থায়ী কাঠামোগুলো ভেঙে পড়ছে। এর ফলে আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছিল। বেশ কিছু সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সময় ওই এলাকায় অনেক শিশু ছিল। তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল জানিয়েছেন, অবিলম্বে উদ্ধারকাজের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা আহত হয়েছেন তাদের উদ্ধারে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


আরও খবর



চট্টগ্রামের উন্নয়নে সিঙ্গাপুরের সহায়তা চাইলেন চসিক মেয়র রেজাউল

প্রকাশিত:রবিবার ০৫ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৫ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে সিঙ্গাপুরের সহায়তা চেয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

রোববার সকালে টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে সিঙ্গাপুরের হাই কমিশনার ডেরেক লোহের সাথে এক মতবিনিময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চসিক মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবার জন্য ৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৫৬টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসীর পাশে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া নদী-সমুদ্র-পাহাড়বেষ্টিত চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন সম্ভাবনার বিকাশে সিঙ্গাপুর বিনিয়োগ করতে পারে।

সিঙ্গাপুরের হাই কমিশনার ডেরেক লোহে বলেন, বে-টার্মিনালসহ বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায় সিঙ্গাপুর। বন্দর নগরীর সাথে সিঙ্গাপুরের ভৌগলিক মিল থাকায় চট্টগ্রাম সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে খাদ্য আমদানির পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে সহায়তা করতে চায় সিঙ্গাপুর।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে সিঙ্গাপুরের সফট স্পট রয়েছে। বাংলাদেশের কর্মীরা কঠোর পরিশ্রমী এবং সৎ বিধায় সিঙ্গাপুর বিভিন্ন খাতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিকে নিয়োগ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো দিবে। বিভিন্ন দেশে সিঙ্গাপুর যে কো-অপারেশন প্রোগ্রাম চালায় তার আওতায় চট্টগ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতের প্রসারে কীভাবে সহায়তা করা যায় তা বিবেচনা করবে সিঙ্গাপুর।

সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক মিচেল লি,  সিঙ্গাপুর হাই কমিশনের চার্জ ডি' অ্যাফেয়ার্স শিলা পিল্লাইসহ সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।


আরও খবর



এসএসসির ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৩ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৩ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১২ মে ফল প্রকাশিত হবে। এদিন সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ ও পরিসংখ্যান তুলে দেবেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এসময় তার সঙ্গে থাকবেন ৯টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।

বৃহস্পতিবার (২ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিক্ষা সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ মে ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সম্মতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ইসমাত মাহমুদা চিঠিতে সই করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন। গতবারের চেয়ে এবার পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় ৪৮ হাজার।

এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ১২ মার্চ শেষ হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মার্চ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিলের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৪ মার্চ এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ২১ মার্চ শেষ হয়।

আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১২ এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ২১ মার্চ শেষ হয়।  সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়।


আরও খবর



রেমালের প্রভাবে রাজধানীর একাধিক স্থানে ভেঙে পড়েছে গাছ

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে রাজধানীর একাধিক জায়গায় গাছ ভেঙে রাস্তায় পড়ে গেছে। এতে রাস্তায় যানচলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হচ্ছে। এসব গাছ ভেঙে পড়ার সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট রাস্তা থেকে গাছ সরিয়ে নিয়েছে।

সোমবার (২৬ মে) দুপুর ২ টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা ও কুর্মিটোলা এলাকায় রাস্তায় গাছ ভেঙে পড়েছে। এমন সংবাদ পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা থেকে গাছ সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। আরও ফোন আসছে গাছ ভেঙে পড়ার। সেখানে আমাদের টিম যাচ্ছে।

এদিকে উত্তরার জসিমউদ্দিন অ্যাভিনিউ সড়কে চলাচলরত একটি গাড়ির উপর গাছ পড়ে ভেঙে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিন ঝড়ে রাজধানীর মিরপুরের একটি সড়কের উপর গাছ পড়ে যানচলাচল ব্যাহত হলে গাছ সরিয়ে যানচলাচল স্বাভাবিক করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কুইক রেসপন্স টিম।

নিউজ ট্যাগ: ঘূর্ণিঝড় রেমাল

আরও খবর



অবহেলায় পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে মহেশপুর নীলকুঠি

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৮ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
উপজেলা প্রতিনিধি

Image

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য। কিন্তু এগুলোর বেশির ভাগই অবহেলিত। ফলে কালের বিবর্তনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য গুলো। এমনই এক প্রচীন স্থাপত্য নীলকরদের স্মৃতি বিজড়িত 'নীলকুঠি'। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর গ্রামের কপোতাক্ষ নদের ধারে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় মানুষের কাছে কাচারী বাড়ি হিসাবে পরিচিত এই নীলকুঠি। খালিশপুর বাজারের পশ্চিমপাশে ৯ একরের ও বেশি যায়গা নিয়ে নীলকুঠি বাড়ি অবস্থিত।

দালানটি আঠারো শতকে নির্মিত হয়েছিল অনেকের এমনটিই ধারনা করে। এ কুঠি বাড়ি নির্মাণের মূল উদ্যেশ্য ছিল পূর্ব বাংলার কৃষকদের নীল উৎপাদনে উৎসাহী করা ও নীলচাষ দেখাশোনা করা। ইংরেজ মি. ডেভরেল এ কুটিবাড়ি থেকে এই অঞ্চলের নীলচাষ পরিচালনা করতো।

শিল্প বিপ্লবের পথিকৃৎ ছিল ইংল্যান্ড। ঐ সময় ইংল্যান্ডে সাদা কাপড়ের চাহিদা ছিল অত্যাধিক। কাপুড়ের সাদা রং বজায় রাখার জন্য নীলছিল একটি অত্যাবশকীয় উপাদান। ভারতবর্ষ বৃটিশদের উপনিবেশ হওয়ায় বল পূর্বক ইংরেজরা ভারতবর্ষকে নীলচাষের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলে। নীলচাষের ফলে জমির উর্বরতা হারাতো তাই চাষিদের নীলচাষে অনীহা ছিল, অধিকাংশ চাষিরা ইংরেজদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যও পেতনা। যারা নীলচাষ করতোনা তাদের নানা ভাবে নির্যাতন করা হত। এই কুঠিরেই কিছু কক্ষ নির্যাতনের জন্য ব্যবহার করা হত।

পরবর্তীতে ইংরেজরা উপমহাদেশে থেকে বিতাড়িত হলে কুঠির ভবনটি সিও অফিস হিসাবে ১৯৫৬-৫৭ ও ১৯৮৩-৮৪ সালে ব্যবহৃত হয়েছিল। ১৯৮৪ সালের পর থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত এটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ছিল।বর্তমানে কুঠিরটি জরাজীর্ণ, সংস্কারের অভাবে কুঠি বাড়িটি ধ্বংসের দাঁড়প্রান্তে অবস্থান করছে।

৬৫ বছর বয়স্ক স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী জানান বেশ কয়েক বছর আগে সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তা আর আলোর মুখ দেখিনি। কুঠি বাড়ির চার পাশে রয়েছে শত বছরের বড় বড় আম গাছ। পাশে আরো অনেক বাড়ি ঘর ছিল যা বৃটিশদেও গাড়ি রাখাসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হত। এছাড়াও ছিল বৈকালীন অবকাশ যাপনের জন্য যায়গা যা ধ্বংস হয়ে গেছে। এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নীলকুটি বাড়িটিও অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

কুটি বাড়ির পশ্চিম পাশে সরকারি হামিদুর রহমান কলেজ ও স্মৃতি জাদুঘর অবস্থিত এবং পূর্ব পাশে ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এই কুটি বাড়ির যায়গা খাস জমির তালিকাভুক্ত।

স্থানীয়রা জানান ২০১৮-১৯ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশাফুর রহমান এখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ইকোপার্ক তৈরি উদ্যোগ নিয়ে ছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এাঁও আলোর মুখ দেখিনি।

স্থানীয়দের দাবী কুঠি বাড়িটি এলাকার মানুষের উপর অত্যাচার ও নির্যাতনের সাক্ষ্য দিচ্ছে,ফলে এটি এখন ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে। তাই এটি সংরক্ষণ করার দাবি তাদের।

ঝিনাইদহ ৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অবঃ) সালাউদ্দিন মিয়াজী বলেন, প্রাচীন ঐতিয্যে বহনকারী নীলকুঠিটি সংস্কার করে এখানে একটি ইকোপার্ক করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

শামীম খান জনী, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি


আরও খবর