আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২
শিরোনাম

হোয়াটসঅ্যাপে ব্লক করলে বুঝবেন যেভাবে

প্রকাশিত:বুধবার ০৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০৪ মে ২০২২ | ৪৪৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে কাউকে ব্লক করা সম্ভব। কারো সঙ্গে চ্যাট করতে না চাইলে আপনিও তাকে ব্লক করতে পারবেন। তিনি চাইলেও আপনাকে ব্লক করতে পারবেন। আপনি না পারবেন তাকে কল করতে বা মেসেজ দিতে। কেউ আপনাকে ব্লক করেছেন কি না জানবেন কীভাবে?

আপনাকে কেউ ব্লক করেছেন কি না- তা জানার সরাসরি কোনো পদ্ধতি না থাকলেও একাধিক উপায়ে বোঝা সম্ভব।

হোয়াটসঅ্যাপে কেউ ব্লক করলে বুঝবেন কীভাবে?

প্রোফাইল ছবি অদৃশ্য হয়ে যাবে

অ্যাক্টিভিটি স্ট্যাটাস অফলাইন হয়ে যাবে

স্ট্যাটাস দেখা যাবে না

অ্যাবাউট বিভাগ ফাঁকা হয়ে যাবে

মেসেজ পাঠালে তা কখনই ডাবল টিক পাবে না

কল করা যাবে না

প্রোফাইল ছবি অদৃশ্য

আপনাকে কোনো ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে ব্লক করলে সেই ব্যক্তির প্রোফাইল ছবি আর দেখতে পাবেন না।

অ্যাক্টিভিটি স্ট্যাটাস অফলাইন

প্রোফাইল ছবির ঠিক নিচে অ্যাক্টিভিটি স্ট্যাটাস দেখা যায়। এখানে অনলাইন, টাইপিং অথবা লাস্ট সিন স্ট্যাটাস দেখা যায়। আপনাকে কেউ ব্লক করলে এখানে কোন অপশন দেখতে পাবেন না।

স্ট্যাটাস আপডেট

আপনাকে কোন ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে ব্লক করলে আপনি আর সেই ব্যক্তির স্ট্যাটাস আপডেট দেখতে পাবেন না।

অ্যাবাউট বিভাগ

আপনাকে কেউ ব্লক করলে আপনি আর সেই ব্যক্তির প্রোফাইলে অ্যাবাউট বিভাগে কোনো তথ্য দেখতে পাবেন না।

মেসেজে সিঙ্গেল টিক

একবার হোয়াটসঅ্যাপে ব্লক করলে আপনার পাঠানো কোনো মেসেজ আর সেই ব্যক্তির ফোনে ডেলিভার হবে না। ফলে মেসেজ পাঠালে পাশে একটা টিক দেখা যাবে।

কল যাবে না

একবার ব্লক করলে আপনি আর হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস ও ভিডিও কল করতে পারবেন না। ভয়েস কল করলে তা কখনই কানেক্ট হবে না।


আরও খবর



রমজানে নাজাতের ১০ দিন শুরু

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৩ এপ্রিল ২০২২ | ৯২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পবিত্র রমজানের তৃতীয় ও শেষ ১০ দিন অর্থাৎ নাজাতের ১০ দিন শুরু হল আজ থেকে। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটল রহমত ও মাগফিরাতের ২০ দিনের।

রমজানের শেষ দশ দিনকে বলা হয় নাজাতের দিন । রমজান মাসের এ শেষ দশকের বিশেষ ফযিলত রয়েছে। আছে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য।

এগুলো হল :

* এ দশ দিনের মাঝে রয়েছে লাইলাতুল কদর নামের একটি রাত। যা হাজার মাস থেকেও শ্রেষ্ঠ। যে এ রাতে ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে ইবাদত-বন্দেগি করবে তার অতীতের পাপগুলো ক্ষমা করে দেয়া হবে।

* নবী করিম রাসূলুলুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রাতে ইবাদত-বন্দেগিতে বেশি সময় ও শ্রম দিতেন, যা অন্য কোন রাতে দেখা যেত না। যেমন মুসলিম শরীফে আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি এ রাতে কোরান তিলাওয়াত, জিকির, সালাত ও দুআর মাধ্যমে জাগ্রত থাকতেন এরপর সেহরি গ্রহণ করতেন।

* রমজানের শেষ দশক আসলে রাসূলুলুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরনের লুঙ্গি শক্ত করে নিতেন। রাত্রি জাগরণ করতেন এবং পরিবারের সকলকে জাগিয়ে দিতেন। যেমন বুখারি ও মুসলিমে আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসে এসেছে। তিনি এ দশদিনের রাতে মোটেই নিদ্রা যেতেন না। পরিবারের সকলকে তিনি এ রাতে ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য জাগিয়ে দিতেন। রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম লুঙ্গি শক্ত করে নিতেন কথাটির অর্থ হল তিনি এ দিনগুলোতে স্ত্রীদের থেকে আলাদা হয়ে যেতেন।

* এ দশদিনের একটি বৈশিষ্ট্য হল, রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ শেষ দশদিনে মসজিদে ইতেকাফ করতেন। প্রয়োজন ব্যতীত তিনি মসজিদ থেকে বের হতেন না।

লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব:

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ রাতকে সকল রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি তার কালামে এ রাতকে প্রশংসার সাথে উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর কালাম সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইরশাদ করেন :

إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةٖ مُّبَٰرَكَةٍۚ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ ٣ فِيهَا يُفۡرَقُ كُلُّ أَمۡرٍ حَكِيمٍ ٤ أَمۡرٗا مِّنۡ عِندِنَآۚ إِنَّا كُنَّا مُرۡسِلِينَ ٥ رَحۡمَةٗ مِّن رَّبِّكَۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ ٦ رَبِّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَآۖ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ ٧ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُۖ رَبُّكُمۡ وَرَبُّ ءَابَآئِكُمُ ٱلۡأَوَّلِينَ ٨ #الدخان: ٣، ٨]

নিশ্চয় আমি এটি নাজিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়, আমার নির্দেশে। নিশ্চয় আমি রাসুল প্রেরণকারী। তোমার রবের কাছ থেকে রহমত হিসেবে; নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। যিনি আসমানসমূহ, জমীন ও এ দুয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর রব; যদি তোমরা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণকারী হও। তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু দেন। তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদের রব। [দুখান : ৩-৮]

বরকতময় রজনি হল লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তাআলা একে বরকতময় বলে অভিহিত করেছেন। কারণ এ রাতে রয়েছে যেমন বরকত তেমনি কল্যাণ ও তাৎপর্য। বরকতের প্রধান কারণ হল এ রাতে আল-কোরান নাজিল হয়েছে। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-সিদ্ধান্ত লওহে মাহফুজ থেকে ফেরেশতাদের হাতে অর্পণ করা হয় বাস্তবায়নের জন্য। এ রাতের অপর একটি বৈশিষ্ট্য হল আল্লাহ তাআলা এ রাত সম্পর্কে একটি পূর্ণ সূরা অবতীর্ণ করেছেন। যা কিয়ামত পর্যন্ত পঠিত হতে থাকবে।

إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةِ ٱلۡقَدۡرِ ١ وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ ٢ لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ ٣ تَنَزَّلُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذۡنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمۡرٖ ٤ سَلَٰمٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطۡلَعِ ٱلۡفَجۡرِ ٥ #القدر: ١، ٥

নিশ্চয় আমি এটি আমি নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। তোমাকে কিসে জানাবে লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে। শান্তিময় সে রাত ফজরের সূচনা পর্যন্ত। [সূরা কদর : ১-৫]

এ সূরা থেকে যে বিষয়গুলো জানা গেল :

* এ রাত এমন এক রজনি যাতে মানবজাতির হেদায়াতের আলোকবর্তিকা মহা গ্রন্থ আল-কোরান অবতীর্ণ হয়েছে।

* এ রজনি হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ তিরাশি বছরের চেয়েও এর মূল্য বেশি।

* এ রাতে ফেরেশতাগণ রহমত, বরকত ও কল্যাণ নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করে থাকে।

* এ রজনি শান্তির রজনি। আল্লাহর বান্দারা এ রাতে জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে শান্তি অর্জন করে থাকে।

* সময়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়া। এ আয়াতগুলোতে অল্প সময়ে বেশি কাজ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করা হল। যত সময় বেশি তত বেশি কাজ করতে হবে। সময় নষ্ট করা চলবে না।

* গুনাহ ও পাপ থেকে ক্ষমা লাভ। এ রাতের এই ফযিলত সম্পর্কে বুখারি ও মুসলিম বর্ণিত হাদিসে এসেছে—

مَنْ قَامَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ إِيْمَانًا وَّاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে নফল সালাত আদায় ও রাত জেগে ইবাদত করবে আল্লাহ তার ইতোপূর্বের সকল সগীরা (ছোট) গুনাহ ক্ষমা করেদেন। [বুখারি : ১৯০১; মুসলিম : ৭৬০]

লাইলাতুল কদর কখন ?

আল-কুরআনে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি লাইলাতুল কদর কোন রাত। তবে কুরআনের ভাষ্য হল লাইলাতুল কদর রমজান মাসে। কিয়ামত পর্যন্ত রমজান মাসে লাইলাতুল কদর অব্যাহত থাকবে। এবং এ রজনি রমজানের শেষ দশকে হবে বলে সহি হাদিসে এসেছে। এবং তা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে হাদিসে এসেছে,

تَحَرُّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الأوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ

রমাযানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর। [বুখারি : ২০২০; মুসলিম : ১১৬৯]

এবং রমজানের শেষ সাত দিনে লাইলাতুল কদর থাকার সম্ভাবনা অধিকতর। যেমন হাদিসে এসেছে,

تَحَرُّوْا لَيْلَةُ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ

তোমরা রমাযানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ কর। [বুখারি : ২০১৭]

অধিকতর সম্ভাবনার দিক দিয়ে প্রথম হল রমজান মাসের সাতাশ তারিখ। দ্বিতীয় হল পঁচিশ তারিখ। তৃতীয় হল ঊনত্রিশ তারিখ। চতুর্থ হল একুশ তারিখ। পঞ্চম হল তেইশ তারিখ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ রাতকে গোপন রেখেছেন আমাদের উপর রহম করে। তিনি দেখতে চান এর বরকত ও ফযিলত লাভের জন্য কে কত প্রচেষ্টা চালাতে পারে।

লাইলাতুল কদরে আমাদের কর্তব্য হল বেশি করে দুআ করা। আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা নবী করিম রাসূলুলুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, লাইলাতুল কদরে আমি কি দুআ করতে পারি? তিনি বললেন, বলবে—

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন। [তিরমিযি : ৩৫১৩]

ইতেকাফ :

ইতেকাফ হল সকল কাজ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর ইবাদতের জন্য মসজিদে অবস্থান করা। এটা হল সুন্নত। আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বলেন :

«أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ يَعْتَكِفُ العَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ، ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ»

রাসূলুল্লাহ রাসূলুলুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসের শেষ দশকে মসজিদে ইতেকাফ করতেন। যতদিন না আল্লাহ তাকে মৃত্যু দান করেছেন ততদিন তিনি এ আমল অব্যাহত রেখেছেন। তার ইন্তেকালের পর তার স্ত্রী-গণ ইতেকাফ করেছেন। [বুখারি : ২০২৫]

ইতেকাফের উদ্দেশ্য :

মানুষের ঝামেলা থেকে দূরে থেকে আল্লাহ তাআলার ইবাদতে একাগ্রচিত্তে নিয়োজিত হওয়া। এ লক্ষ্যে কোন মসজিদে অবস্থান করে আল্লাহর তরফ থেকে সওয়াব ও লাইলাতুল কদর লাভ করার আশা করা। ইতেকাফকারীর কর্তব্য হল অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার করে সালাত, কোরান তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, ইস্তিগফার, দুআ ইত্যাদি ইবাদত-বন্দেগিতে লিপ্ত থাকা। তবে পরিবার পরিজন বা অন্য কারো সাথে অতিপ্রয়োজনীয় কথা বলতে দোষ নেই। ইতেকাফকারী নিজ অন্তরকে সর্বদা আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত রাখতে চেষ্টা করবে। নিজের অবস্থার দিকে খেয়াল করবে। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ পালনের ব্যাপারে নিজের অলসতা ও অবহেলা করার কথা মনে করবে। নিজের পাপাচার সত্ত্বেও আল্লাহ যে কত নেয়ামত দিয়েছেন তা স্মরণ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞ হবে। গভীরভাবে আল্লাহর কালাম অধ্যয়ন করবে। খাওয়া-দাওয়া, নিদ্রা ও গল্প গুজব কমিয়ে দেবে। কেননা এ সকল কাজ-কর্ম আল্লাহর স্মরণ থেকে অন্তরকে ফিরিয়ে রাখে। অনেকে ইতেকাফকে অত্যধিক খাওয়া-দাওয়া ও সাথিদের সাথে গল্প-গুজব করে সময় কাটানোর সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন। এতে ইতেকাফের ক্ষতি হয় না বটে তবে আল্লাহর রাসূলের ইতেকাফ ছিল অন্য রকম।

ইতেকাফ অবস্থায় স্ত্রী সহবাস, চুম্বন, স্পর্শ নিষেধ। যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন :

وَلَا تُبَٰشِرُوهُنَّ وَأَنتُمۡ عَٰكِفُونَ فِي ٱلۡمَسَٰجِدِۗ #البقرة: ١٨٧

তোমরা মসজিদে ইতেকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হবে না। [সূরা আল-বাকারা : ১৮৭]

শরীরের কিছু অংশ যদি মসজিদ থেকে বের করা হয় তাতে দোষ নেই। নবী করিম রাসূলুলুল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতেকাফ অবস্থায় নিজ মাথা মসজিদ থেকে বের করতেন। তখন আম্মাজান আয়েশা রা. তাঁর মাথার চুল বিন্যস্ত করে দিতেন।

ইতেকাফ অবস্থায় মসজিদ থেকে বের হওয়ার বিধান :

ইতেকাফ অবস্থায় মসজিদ থেকে বের হওয়া তিন ধরনের হতে পারে :

এক. মানবীয় প্রয়োজনে বের হওয়ার অনুমতি আছে। যেমন পায়খানা, প্রস্রাবের জন্য, খাওয়া-দাওয়ার জন্য, পবিত্রতা অর্জনের জন্য। তবে শর্ত হল এ সকল বিষয় যদি মসজিদের গণ্ডির মাঝে সেরে নেয়া যায় তবে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না।

দুই. এমন সকল নেক আমল বা ইবাদত-বন্দেগির জন্য বের হওয়া যাবে না যা তার জন্য অপরিহার্য নয়। যেমন রোগীর সেবা করা, জানাজাতে অংশ নেয়া ইত্যাদি।

তিন. এমন সকল কাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না যা ইতেকাফের বিরোধী। যেমন ক্রয়-বিক্রয়, চাষাবাদ ইত্যাদি। ইতেকাফ অবস্থায় এ সকল কাজের জন্য মসজিদ থেকে বের হলে ইতেকাফ বাতিল হয়ে যায়।


আরও খবর



আহসান উল্লাহ মাস্টারের শাহাদতবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত:শনিবার ০৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৭ মে ২০২২ | ৩৩৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত জনপ্রিয় শ্রমিক নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১৮তম শাহাদতবার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে সভামঞ্চে গুলি করে সন্ত্রাসীরা হত্যা করে।

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই আহসান উল্লাহ মাস্টারের শাহাদতবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এবার মহামারি করোনার প্রভাব কম থাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা আনুষ্ঠানিকভাবে কবর জিয়ারত, দোয়া ও আলোচনাসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

এ উপলক্ষ্যে ঢাকা ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্হানে স্বাস্হ্যবিধি মেনে স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, তবারক বিতরণ , স্মরণ সভা এবং স্মরণিকা প্রকাশ।

দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়সহ গণতন্ত্র বিকাশে শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের মতো ত্যাগী, সংগ্রামী ও জনদরদি নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে আলোর পথ দেখাবে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষের সংগ্রামী জননেতা আহ্সান উল্লাহ মাস্টারের স্বপ্ন ছিল মাদক-সন্ত্রাস মুক্ত টঙ্গী-গাজীপুর গড়ার।

আজ সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দরাবাদ গ্রামে শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিকালে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল তবারক বিতরণ, স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে আহসান উল্লাহ মাস্টার (এমপি) স্মৃতি পরিষদ ৬ মে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা শীর্ষক এক অলোচনাসভার আয়োজন করে।

এ উপলক্ষ্যে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন, ভাওয়াল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, ভাওয়াল আইডিয়াল একাডেমি, হায়দরাবাদ জনকল্যাণ সমিতি ও ভাওয়াল শিশু-কিশোর ফোরামসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান মরহুমের কবরে পৃথকভাবে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনাসভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের বড় ছেলে এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি গ্রামের বাড়ি হায়দরাবাদ, টঙ্গী ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগসহ সবাইকে আহসান উল্লাহ মাস্টারের শাহাদতবার্ষিকীর কর্মসূচিতে স্বাস্হ্যবিধি মেনে অংশগ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার বাদী মরহুমের ছোট ভাই গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান মতি জানিয়েছেন, মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। বিচারকার্য দ্রুত সমাপ্ত করে রায় কার্যকর এবং দেশের বাইরে পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি করেন তিনি। যারা জেলহাজতে রয়েছে তাদের রায় অবিলম্বে কার্যকর করা না হলে তারা আবার নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করার আশঙ্কা রয়েছে।


আরও খবর



‘আর্থিক কেলেঙ্কারি আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার দাবি’

প্রকাশিত:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ২০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাকিব হোসেন, ঢাকা:

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথের আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার দাবিতে মানববন্ধন করেছে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন।

মঙ্গলবার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচার শিল্পকলা একাডেমির সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ৫ মে ৩০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

এ ছয়জন হচ্ছেন- নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এমএ কাশেম, বেনজীর আহমেদ, মিসেস রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান ও আশালয় হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিন

মামলার অভিযোগপত্রে ছয়জনই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। বিভিন্ন গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সত্ত্বেও আসামিদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তোলা হয় মানববন্ধনে।

বক্তারা দাবি করেন, অভিযুক্ত প্রত্যেকেই প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। সে কারণেই তাদের গ্রেফতারে এমন গড়িমসি চলছে। কিন্তু এদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় না আনলে এ সিন্ডিকেটের কবল থেকে নর্থ সাউথের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।

মানববন্ধনে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. সুফী সাগর সামস বলেন, মূলত আজিম-কাসেম সিন্ডিকেটের কারণেই নর্থ সাউথ পরিণত হয়েছে দুর্নীতি-অনিয়ম ও জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্য। তাই এদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু অভিযুক্তদের ঠিক কী কারণে গ্রেফতার করা হচ্ছে না, সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। অভিযুক্ত প্রত্যেকেই সমাজের প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাশালী। তারা যেন বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সেজন্য তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান।


আরও খবর



এক বছরে ৩১৮ দিনই লাইভ খেলা সম্প্রচারে ছিল টি স্পোর্টস

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | ৪২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের বড় আস্থা এখন দেশের প্রথম ও একমাত্র স্পোর্টস চ্যানেল টি স্পোর্টস। ২০২০ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিভাবে স্বপ্নযাত্রা শুরুর পর ২২ এপ্রিল ২০২২ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ঘণ্টা লাইভ ইভেন্ট সম্প্রচার করেছে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কনিষ্ঠ সদস্য টি স্পোর্টস।

২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডলি সিরিজে নেপালকে আতিথ্য দেয় বাংলাদেশ। করোনা ভীতি কাটিয়ে সেই প্রথম কোন আন্তর্জাতিক আসর মাঠে গড়ায় বাংলাদেশ, আর টি স্পোর্টসের পর্দায় তা সরাসরি দেখে দেশি-বিদেশি ক্রীড়াপ্রেমীরা। সেই শুরু, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ক্রিকেট, ফুটবল থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্রীড়া ইভেন্টই সরাসরি সম্প্রচার করছে টি স্পোর্টস।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহযাত্রী হয়ে এ দেশের ফুটবল উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে টি স্পোর্টস। আগামী ৫ বছর বাংলাদেশ ফুটবলের হোস্ট ব্রডকাস্টার টি স্পোর্টস। ফেডারেশন কাপ, স্বাধীনতা কাপ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের মতো ঘরোয়া আসরের পাশাপাশি বাংলাদেশ দলের সব আন্তর্জাতিক আসরই সরাসরি দেখা যাচ্ছে দেশের প্রথম ও একমাত্র স্পোর্টস চ্যানেলে।

ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ কোয়ালিফায়ার, এশিয়া কাপ কোয়ালিফায়ার, ফিফা ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডলি, সাফ, এএফসির সব ইভেন্টেরই বাংলাদেশের সম্প্রচার স্বত্ব টি স্পোর্টসের কাছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্প্যানিশ লিগের মতো ইন্টারন্যাশনাল সার্কিটের সবচেয়ে দামি আসরের সম্প্রচার স্বত্ব কিনে রীতিমতো হৈ চৈ ফেলে দেয়, দেশের সবচেয়ে বড় শিল্প পরিবার বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন চ্যানেল। ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের ইউরোপ ও এশিয়া অঞ্চলের বাছাই পর্বের ম্যাচগুলো দেখা গেছে টি স্পোর্টসে।

২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবির হোস্ট ব্রডকাস্টার টি স্পোর্টস। ২০২১ সালে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের স্বত্ব এককভাবে কিনে নেয় টি স্পোর্টস। পরবর্তীতে ২০২৩ পর্যন্ত জিটিভির সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের সব হোম সিরিজ সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয় টি স্পোর্টস।

বাদ যায়নি বাংলাদেশের কোন অ্যাওয়ে সিরিজ। টাইগারদের শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে সফরের সবগুলো ম্যাচই দেখা গেছে এখানে। দুবাই ও ওমানে অনুষ্ঠিত আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি সরাসরি সম্প্রচার করেছে টি স্পোর্টস। আইসিসির পরবর্তী ইভেন্টগুলোও দেখা যাবে এখানে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা হোম বোর্ডের বাংলাদেশ অঞ্চলের ব্রডকাস্ট রাইটস টি স্পোর্টসের কাছে। ইংল্যান্ডের ইন্ডিয়া ট্যুর, ইন্ডিয়ার শ্রীলঙ্কা ট্যুর, সাউথ আফ্রিকার শ্রীলঙ্কা ট্যুর, নিউজিল্যান্ডের পাকিস্তান ট্যুর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান ট্যুর, ইন্ডিয়ার সাউথ আফ্রিকা ট্যুরের টেস্ট ওয়ানডে ও টি টোয়েন্টি ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করেছে দর্শকদের দারুণ আস্থার টি স্পোর্টস।

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ ২০২০, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ-বিপিএলের হোস্ট চ্যানেল টি স্পোর্টস। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের ঐতিহ্যের আসর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের গত ২ মৌসুমের সুপার লিগের ম্যাচগুলো সম্পূর্ণ নিজস্ব কারিগরি ব্যবস্থাপনায় সম্প্রচার করেছে টি স্পোর্টস। বাদ যায়নি ইন্টারন্যাশনাল কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। পাকিস্তান সুপার লিগ-পিএসএল, আবুধাবি টি টেন, লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ, ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেডের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএল সরাসরি দেখা যাচ্ছে এখানে।

শুধুমাত্র ফুটবল-ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ নেই টি স্পোর্টস। কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, টেনিসের মতো ইভেন্টের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক আসরগুলো সরাসরি সম্প্রচার করছে টি স্পোর্টস। বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল কাবাডির টানা ২ আসর সম্পূর্ণ নিজস্ব কারিগরি ব্যবস্থাপনায় প্রডাকশন ও সম্প্রচার হয়েছে। তৃণমূলের ক্রীড়া উন্নয়নে ভূমিকা রাখার চেষ্টা অব্যাহত শুরু থেকেই। যে কারণে অ্যামেচার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ব্যাংকার্স চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ক্রিকেটের মতো আসরগুলো সরাসরি সম্প্রচার করেছে টি স্পোর্টস।

১৩ নভেম্বর ২০২০ আনুষ্ঠানি সম্প্রচার শুরু থেকে ২২ এপ্রিল ২০২২ পর্যন্ত ৫১৯ দিনে ৩ হাজার ৪শ ১৫ ঘন্টা লাইভ কন্টেন্ট সরাসরি সম্প্রচার করেছে টি স্পোর্টস। মে ২০২১ থেকে এপ্রিল ২০২২ পর্যন্ত ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩১৮ দিনই কোন না কোন ঘরোয়া কিংবা আন্তর্জাতিক খেলা সরাসরি সম্প্রচার করেছে টি স্পোর্টস। আন্তর্জাতিক যেকোন স্পোর্টস চ্যানেলের সঙ্গে তুলনা করলে যেটি কোন অংশে কম না।

তবে, এখানেই থামতে চায় না টি স্পোর্টস। সম্পূর্ণ নিজস্ব কারগরি ব্যবস্থাপনায় ইন্টারন্যাশনাল যেকোন স্পোর্টস ইভেন্ট প্রডাকশনের সক্ষমতা টি স্পোর্টসের আছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কারিগরি দিক দিয়ে আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন চ্যানেলটি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য গর্বের প্রতীক হতে চায় টি স্পোর্টস।

ডিজিটাল প্লাটফর্মে দারুণ সমৃদ্ধ টি স্পোর্টস। ইউটিউব চ্যানেলে টি স্পোর্টসের সাবস্ক্রাইবার ২.২৪ মিলিয়নের বেশি। আর ফেসবুক পেজে ফলোয়ার ২ মিলিয়নের বেশি। ডিজিটাল রাইটস থাকা সব ইভেন্টই সরাসরি দেখা যাচ্ছে টি স্পোর্টসের ডিজিটাল প্লাটফর্মে। খুব শিঘ্রিই নিজস্ব অ্যাপ চালু করবে টি স্পোর্টস। পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইটের কাজ চলছে। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সব ক্রীড়া ইভেন্টের তরতাজা সব খবর সবার আগে পাওয়া যাবে টি স্পোর্টসের সাইটে।


আরও খবর



মানিকগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে হাতে ভাজা মুড়ি

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১১ মে ২০২২ | ৩৭৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাতে ভাজা মুড়ি কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। সদর উপজেলার ধলাই-সরুপাই এলাকার হাতে ভাজা মুড়ির সুনাম রয়েছে দেশব্যাপী। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এই মুড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হতো। কিন্তু দাম না পাওয়ায় একেবারেই হারিয়ে যেতে বসেছে মজাদার মানিকগঞ্জের হাতে ভাজা মুড়ি।

সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। মুড়ি ভাজার কারিগররা বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে গিয়েছে। অথচ কয়েক বছর আগেও রোজার মাসে এই দুইটি গ্রাম মুড়ি ভাজার কাজে মুখরিত থাকতো রাত দিন। মুড়ি ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন (৫৫) বলেন, নিজ হাতে ধান থেকে মুড়ি প্রস্তুত করে বিক্রি করাই ছিল আমাদের পেশা। লবণ ও পানি ছাড়া এই মুড়িতে কিছুই দেওয়া হতো না। এই এলাকার শতকরা নব্বইটি পরিবার মুড়ি ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। আমার জানা মতে, বর্তমানে একটি পরিবার ছাড়া কেউ এই পেশার সাথে নেই। বাজারে নিম্নমানের মুড়ি কমদামে বিক্রি হচ্ছে। তারপরেও আমাদের মুড়ির চাহিদা কমেনি। কিন্তু এতে লাভ হয় একবারেই কম। তাই এলাকা থেকে মুড়ি ভাজা বন্ধ হয়ে গেছে।

মুড়ি পরিবারের আরেক সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, মুড়ি তৈরির ধান মানিকগঞ্জে হয় না। মাত্র দুইজন বেপারী বরিশাল থেকে ধান এনে বিক্রি করেন। ধানের সঠিক দাম এলাকার লোকজন জানে না। তারা ধান না আনলে এলাকার লোক মুড়ি তৈরি করতে পারেন না। বাপ-দাদার পেশা ছিল মুড়ি তৈরি করে বিক্রি করা। ঝামেলার কারণে আমরা তিন ভাই বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে যাই।

মো. স্বপন মিয়া নামে এক মুড়ি ক্রেতা জানান, তিনি সব সময় মানিকগঞ্জের হাতে ভাজা মুড়ি খেতেন। কিন্তু বর্তমানে মানিকগঞ্জের মুড়ি বাজারে পাওয়া  যায় না বলে বাজারের সাধারণ মুড়ি কিনে খাচ্ছেন। এ মুড়িতে স্বাদ গন্ধ কিছুই নেই।  শহরের খুচরা মুড়ি বিক্রেতা নুরুল ইসলাম বলেন, এলাকার মুড়ির চাহিদা এখনো আছে। তবে কমদামি মুড়ি বেশি বিক্রি হয়।

ধলাই এলাকার একমাত্র মুড়ি ব্যবসায়ী তাহের আলী (৭৭) বলেন, মূলধন নাই, সঠিক সময়ে ধান পাই না। ধানের দামও বেশি। দীর্ঘদিনের মায়া তাই কিছু ধান বেপারীর কাছ থেকে নিয়েছি। আর মনে হয় পারুম না, এবারই শেষ। বয়স হয়েছে চালানপাতি নেই। সরকার যদি বিনা সুদে অথবা কম সুদে ঋণ দিতো তাহলে দুইশত বছরের ঐতিহ্য হাতে ভাজা মুড়ি তৈরি বন্ধ হতো না।  

নিউজ ট্যাগ: ভাজা মুড়ি

আরও খবর