আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২
শিরোনাম

ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | ৪৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্র্যান্ডন ম্যাককালামকে টেস্ট দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দিল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসিবি জানিয়েছে, এ মাসের শেষেই যুক্তরাজ্য যাবেন ম্যাককালাম। আগামী ২ জুন লর্ডসে মৌসুমে নিজেদের প্রথম টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড, সেটিও ম্যাককালামের দেশ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই। প্রয়োজনীয় কাজের অনুমোদনসাপেক্ষে ওই সিরিজেই কাজ শুরু করবেন ম্যাককালাম।

এ মুহূর্তে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাককালাম। আইপিএলে দুইবারের শিরোপাজয়ী দলটির এবার কার্যত প্লে-অফের আশা শেষ। গত তিন মৌসুম ধরেই কলকাতার প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করে আসছেন ম্যাককালাম। তবে ক্যারিয়ারে কখনো প্রথম শ্রেণির কোনো ম্যাচে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা হয়নি তার।

সেই ম্যাককালামকেই নতুন টেস্ট কোচ হিসেবে বেছে নিয়ে চমক দিল ইংল্যান্ড। কলকাতা ছাড়াও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ট্রিনবাগো নাইট রাইডার্সকে কোচিং করিয়েছেন ম্যাককালাম।

ম্যাককালামের নিয়োগের ব্যাপারে ইসিবির ছেলেদের ক্রিকেটের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কি বলেছেন, ম্যাককলামকে ইংল্যান্ডের ছেলেদের টেস্টের প্রধান কোচ হিসেবে নিশ্চিত করতে পেরে আমরা উচ্ছ্বসিত। তাকে জানা এবং খেলা সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারাটা একটা বড় পাওয়া। আমার বিশ্বাস, তার নিয়োগ ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের জন্য দারুণ হবে। ক্রিকেট সংস্কৃতি ও পরিবেশ বদলানোর ব্যাপারে সাম্প্রতিক ইতিহাস আছে তার। আমার বিশ্বাস, ইংল্যান্ডের লাল বলের ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও সে করতে পারবে সেটি।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ম্যাককালাম বলেছেন, ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ পেয়ে ও দলকে আরও সফল এক যুগে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমি কতটা খুশি, সেটি বলতে চাই। এ মুহূর্তে দল যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, আমি বিশ্বাস করি আমার সামর্থ্য দিয়ে দলকে সহায়তা করতে পারব।

ইংল্যান্ডের কোচ হওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় ম্যাককালামের সঙ্গে ছিলেন গ্যারি কারস্টেন, সাইমন ক্যাটিচ ও পল কলিংউড।


আরও খবর



আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ এপ্রিল ২০২২ | ৪৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবেকদর। মুসলমানদের কাছে এটি অত্যন্ত মহিমান্বিত রাত। প্রতিবারের মতো এবারও দেশব্যাপী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র শবেকদর পালন করবেন।

এ রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। কারণ এই রাতে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ওপর পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয় এবং এই রাতকে কেন্দ্র করে কদর নামে একটি সুরাও নাজিল হয়।

এ রাতে জিকির-আসকার, ইবাদত-বন্দেগি ও কুরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান রাব্বুল আলামিনের রহমত কামনা করে থাকেন।

এই রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে তাই এই রাত অতীব পুণ্যময় ও মহিমান্বিত।

লাইলাতুল কদর উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আলোচনা, মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের সব মসজিদে দিন ও রাতব্যাপী বিশেষ ইবাদত-বন্দেগি, ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। এ ছাড়া সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হবে।


আরও খবর



গদি হারানোর জন্য সেনাপ্রধানকে দায়ী করলেন ইমরান

প্রকাশিত:শুক্রবার ২২ এপ্রিল 20২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২২ এপ্রিল 20২২ | ৩৮০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

অহংকার পতনের মূল এই আপ্তবাক্যকে খানিক পাল্টে সেনাকেই তাঁর পতনের মূল হিসাবে সেনার দিকেই পরোক্ষ ভাবে আঙুল তুললেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়াকে পরোক্ষ কটাক্ষ করে ইমরান বলেছেন, ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তির ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণেই এ ভাবে গদি থেকে সরে যেতে হল তাঁকে। সেই সঙ্গে বিরোধী জোটকেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ১০ এপ্রিল ইমরানের গদিচ্যুত হওয়ার পিছনের একাধিক কারণের মধ্যে অন্যতম তাঁর পাশ থেকে সেনার সরে যাওয়া। সেনার সমর্থন না পাওয়ার মূল কারণ, ২০২১ সালে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান হিসাবে লেফটেনান্ট জেনারেল নাদিম আনজুমের নিয়োগে তিনি আপত্তি করেছিলেন। তিন সপ্তাহের টানাপড়েনের পরে শেষে তিনি মতবদল করলেও, ততদিনে পাকিস্তানের সেনা তাঁর পাশ থেকে সরে গিয়েছে।

নিজের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর কর্মীদের টুইট বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, দেশের শাসনব্যবস্থায় মানুষেরাও রয়েছেন। যদি শাসনব্যবস্থায় নিযুক্ত মানুষদের মধ্যে এক বা দুজন ভুল করেন, তাতে সম্পূর্ণ ব্যবস্থাকে দোষ দেওয়া যায় না। প্রসঙ্গত, বুধবার একটি সংবাদমাধ্যমকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফওয়াদ চৌধুরি জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরেই সেনার সঙ্গে ইমরান ও তাঁর রাজনৈতিক দলের সম্পর্কে ভাটা পড়তে শুরু করে। ফওয়াদের কথায়, সেনার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি ঠিক করে সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোর অনেক চেষ্টা করেছি আমরা। কিন্তু কোনও প্রয়াসই সফল হয়নি।

ইমরান খান গদিচ্যুত হওয়ার পরে ঠিক এক সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন পিমিএল(এন) প্রধান শাহবাজ শরিফ। তার পর থেকেই টানা সমালোচনায় মুখর ইমরানের দল। বৃহস্পতিবার লাহোরের মিনার-ই-পাকিস্তানে দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম মিছিলের ডাকও দিয়েছেন ইমরান।


আরও খবর



৬০ লক্ষাধিক মানুষ ইউক্রেন ছেড়েছে: জাতিসংঘ

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | ৩১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ৬০ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে এ তথ্য। টানা এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চলার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালায়। বৃহস্পতিবার (১১ মে) জাতিসংঘের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১১ মে পর্যন্ত ইউক্রেন থেকে পালিয়েছে ৬০ লাখ ২৯ হাজার ৭০৫ জন মানুষ।

সংস্থাটি আরও জানায়, ইউক্রেন ছেড়ে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ডে। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় পুরুষরা সামরিক চাকরির জন্য দেশ ত্যাগ করতে পারেনি। সেকারণে শরণার্থীদের ৯০ শতাংশই নারী ও শিশু বলে জানা গেছে।

তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনের সীমান্ত জুড়ে প্রতিদিন শরণার্থীদের দেশ ত্যাগের প্রবণতা কিছুটা কমেছে। গত মার্চ মাসে দেশ ছেড়েছিল ৩৪ লাখ ইউক্রেনীয়। তবে এপ্রিলে দেশ ছাড়ে ১৫ লাখ মানুষ।

মে মাসের শুরু থেকে, প্রায় ৪ লাখ ৯৩ হাজার ইউক্রেনীয় বিদেশে আশ্রয় চেয়েছে এবং জাতিসংঘের অনুমান এ বছর ৮০ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন থেকে পালিয়ে যেতে পারে।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) গবেষণা বলছে, দেশটিতে অভ্যন্তরীণভাবেও স্থানান্তর ঘটেছে ৮০ লাখ মানুষের।

ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী সের্হি মার্চেনকো বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে বলেন যে তার দেশ রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে ৮৩০ কোটি ডলার ব্যয় করতে বাধ্য হয়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত লোকদের জন্য অস্ত্র কেনা ও মেরামত করা থেকে জরুরি সহায়তা কাজে এ অর্থ ব্যয় হয়েছে বলেও জানান তিনি। ইউক্রেনের আরও জরুরি সহায়তা দরকার বলেও জানান তিনি।

ইউক্রেনের সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৭ লাখ লোক অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হিসাবে নিবন্ধিত, যদিও প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়।

ইউক্রেনে যুদ্ধের পূর্বে জনসংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৭০ লাখ। তবে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ ও পূর্বে রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত দুটি অঞ্চল বাদে।


আরও খবর



চলতি বাজেট: পালটে গেছে খরচের হিসাব-নিকাশ

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ২৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ এবং করোনাভাইরাসের শেষ ধাক্কায় পালটে গেছে চলতি বাজেটের খরচের হিসাবনিকাশ। স্বাভাবিক পরিবেশে বছরের শুরুতে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করলেও শেষদিকে চতুর্মুখী চাপে পড়েছে বাজেট। ফলে ব্যয় বেড়েছে অপ্রত্যাশিতভাবে কয়েকটি খাতে। আবার প্রত্যাশিত অনেক খাতে পুরোপুরি ব্যয় করা সম্ভব হয়নি।  আকস্মিক চাপ সৃষ্টি করেছে মূল্যস্ফীতি ও ভর্তুকিতে। ব্যয় বেড়েছে সুদ পরিশোধ ও ও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনভাতায়। মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী, সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি। একই কারণে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ-ভর্তুকিতেও খরচ বেড়েছে।

গতানুগতিক অন্যান্য বছরের মতো এবারও বাজটে কাটছাঁট করা হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ২ লাখ ২২ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা ব্যয় করতে পেরেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। ফলে সংশোধিত বাজেটের সব টাকা ব্যয় করতে হলে আগামী জুন (বাকি চার মাসে) পর্যন্ত ৩ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা খরচ করতে হবে। ওই হিসাবে দৈনিক ব্যয় হবে ৩ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিপুল অঙ্কের টাকা প্রতিদিন ব্যয় করা কঠিন। ফলে শেষ পর্যন্ত বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। যদিও প্রতিবছর শতভাগ বাজেট বাস্তবায়ন হয় না। তবে ধারণা করা হচ্ছে এ বছর আরও কম হবে।

গতানুগতিক অন্যান্য বছরের মতো এবারও বাজেট কাটছাঁট করা হয়েছে ১০ হাজার ১৮১ কোটি টাকা। বছরের শুরুতে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করলেও শেষদিকে সংশোধিত বাজেট দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকায়। বিশেষ করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পণ্য ও সেবা কেনাকাটা, সম্পদ সংগ্রহ ও পূর্তকাজ, শেয়ার ও ইকুইটিতে বিনিয়োগ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। এডিপি কাটছাঁট করা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপি হচ্ছে ২ লাখ ৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।

এ বছর রাজস্ব খাত থেকে কোনো কাটছাঁট করা হচ্ছে না। অর্থ বিভাগের ধারণা, শুরুতে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেটি অর্জন সম্ভব। তবে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জিনিসপত্রের মূল্য বেড়েছে। এতে মূল্যস্ফীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে বছরের শুরুতে ৫ দশমিক ৪ শতাংশের ঘরে রাখার যে ঘোষণা, সেটি সংশোধিত বাজেটে বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়। কিন্তু সেখানেও রাখা সম্ভব হয়নি। বর্তমান মূল্যস্ফীতির হার ৬ দশমিক ২২ শতাংশ বিরাজ করছে। এছাড়া কৃষকের সার, জ্বালানি তেল ও খাদ্যের দাম বেড়েছে বিশ্ববাজারে। বেশি দামে আমদানি করে কম মূল্যে ভোক্তার দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বেশি। চলতি বছরে খাদ্যে ভর্তুকি ৫ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে ৭৩ কোটি টাকা। বেশি মূল্যে জ্বালানি ও এলএনজি গ্যাস কিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের কারণে এ খাতে ভর্তুকি বেড়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। বছরের শুরুতে বিদ্যুতে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি থাকলেও এখন গুনতে হচ্ছে ১২ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া অন্যান্য খাতে ভর্তুকি বেড়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। শুরুতে অন্যান্য খাতে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এখন দেওয়ার হচ্ছে ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষকের সারে অতিরিক্ত ভর্তুকি বেড়েছে ২৫০০ কোটি টাকা। শুরুতে ৯৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হলেও এখন বরাদ্দ বাড়িয়ে ১২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, এ বছর ভর্তুকি, প্রণোদনা খাতে মোট ৫৩ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা রাখা ছিল। এখন সেটি বৃদ্ধি পেয়ে ৬৬ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ খাতে মোট বেড়েছে ১২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। এ বছর সরকারি বেতনভাতা খাতে বরাদ্দের চেয়ে আরও অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১৫০০ কোটি টাকা। এটি বেড়েছে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতে ডাক্তার, নার্সসহ নতুন জনবল নিয়োগের কারণে। করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্য খাতের সংকট পুরোপুরি ফুটে উঠেছিল। সারা দেশে নার্স ও চিকিৎসকের সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খায় হাসপাতালগুলো।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৪ হাজার চিকিৎসক, ১৪০০ মিডওয়াইফারি, ৮১২৮ জন সিনিয়র নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মিডওয়াইফারি ও সিনিয়র নার্সদের বেতনভাতা আগামী জুন পর্যন্ত প্রয়োজন হবে ২১৬ কোটি টাকা। আর চিকিৎসকের বেতন বাবদ গুনতে হবে ২৯ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা প্রতিমাসেই পরিশোধ করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য ব্যয়সহ মোট প্রয়োজন ৪১০ কোটি ১১ লাখ টাকা। এছাড়া প্রশাসনে নতুন জনবল নিয়োগের কারণে এ ব্যয় বেড়েছে। করোনার কারণে গত দুই বছর স্থগিত ছিল জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া। এসব কারণে এ বছর সরকারের পরিচালনা খাতের ব্যয় বেড়েছে। শুরুতে পরিচালনা বাবদ ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা থাকলে সংশোধিত বাজেটে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ নতুন বরাদ্দ বেড়েছে ৭ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। এ বছর ঋণের সুদ পরিশোধ খাতে অতিরিক্ত ২ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা গুনতে হচ্ছে। বছরের শুরুতে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ ৬ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা ধরা হয়। কিন্তু সেটি বৃদ্ধি পেয়ে ৯ হাজার ২৪৪ কোটি টাকায় উঠেছে।


আরও খবর



জাতীয় জ্বালানি খাতে চীনের নিয়ন্ত্রণ কমাতে চায় ইরাক

প্রকাশিত:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৮ মে ২০২২ | ১৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নিজেদের জ্বালানি খাতে চীনের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণকে ভাল চোখে দেখছে না ইরাক। খাতসংশ্লিষ্ঠদের ধারণা, চীনের আধিপত্যের কারণে অন্যান্য দেশের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে ইরাকের জ্বালানি খাত। এমন পরিস্থিতিতে চীনের নিয়ন্ত্রণ কমানোর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইরাকের সরকার ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। তবে এ পদক্ষেপ দেশটির অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

গত বছর ইরাকের জ্বালানি তেল মন্ত্রণালয় তিনটি সম্ভাব্য চুক্তি আটকে দেয়। এসব চুক্তির মাধ্যমে ইরাকের তেলক্ষেত্রগুলোয় চীনের নিয়ন্ত্রন আরো জোরদার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। উপসাগরীয় দেশটি ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বৈদেশিক বাড়ানোর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশটি চীনের পরিবর্তে অন্যান্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

তথ্য বলছে, গত বছরের শুরু থেকেই রাশিয়ার লুকঅয়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেল জায়ান্ট এক্সন মবিল ইরাকে অবস্থিত তাদের প্রধান তেলক্ষেত্রের শেয়ার চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করছে। কিন্তু ইরাকের জ্বালানি তেল মন্ত্রণালয়ের বাধার মুখে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে ব্রিটেনের জ্বালানি তেল প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামও (বিপি) ইরাকের জ্বালানি তেল উত্তোলন খাত থেকে নিজেদের সরিয়ে আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল। ফলে এটিও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির কাছে তাদের তেলক্ষেত্রের শেয়ার বিক্রির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছিল। তবে ইরাকের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটিকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে রাজি করিয়েছে।

ইরাকের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক বিনিয়োগকারী চীন। বেইজিং এর বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) থেকে বাগদাদ সবচেয়ে বেশি সুবিধা লাভ করেছে। বিদ্যুকেন্দ্র ও বিমানবন্দরসহ পরিকাঠামো প্রকল্পগুলোর জন্য বিআরআইয়ের অধীনে ইরাকে ১ হাজার ৫০ কোটি ডলার অর্থায়ন করা হয়। কিন্তু যখনই প্রধান প্রধান জ্বালানি তেলক্ষেত্রগুলোয় নতুন বিনিয়োগের কথা আসছে তখনই চীনের থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে ইরাক। দেশটির সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের হাতে নতুন করে জ্বালানি তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ দিতে চাচ্ছে না। এর ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য ইরাকের জ্বালানি খাতে বিরাট জায়গা তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছর লুকঅয়েল ইরাকের সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্র ওয়েস্ট কারনা ২ এর শেয়ার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সিনোপ্যাকের কাছে বেঁচে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য ইরাকের জ্বালানি তেল মন্ত্রী ইহসান আব্দুল জাব্বার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা করেন। অন্যদিকে সিনোপ্যাকের কাছে ওয়েস্ট কারনা ১ এর শেয়ার বিক্রির চেষ্টা চালায় জ্বালানি জায়ান্ট এক্সন। এ প্রচেষ্টাও ভেস্তে দেয় ইরাকের জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এছাড়া ইরাকে বিনিয়োগ রাখতে বিপিকে রাজি করিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানটি তাদের রামাইলা তেলক্ষেত্রের শেয়ার চীনের একটি কোম্পানির কাছে বিক্রির চিন্তাভাবনা করছিল।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক ভূগর্ভস্থ মজুদের দিক থেকে পঞ্চম ইরাক। দেশটির মোট উত্তোলিত জ্বালানি তেলের প্রায় অর্ধেকই আসে রামাইলা ও ওয়েস্ট কারনা ক্ষেত্র থেকে। ইরাকের সরকারি দুটি সূত্র জানায়, জ্বালানি খাতে চীনের আধিপত্য বজায় থাকলে অন্যান্য দেশ থেকে বিনিয়োগ পাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে সরকার। চীনের সঙ্গে ইরানের শক্তিশালী সম্পর্ক দেশটিকে ইরাকে ভাল অবস্থান তৈরিতে সহায়তা করেছে। কারণ ইরাকে তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব রয়েছে। ইরাকের সরকারি আরেকটি সূত্র বলছে, ইরাকের জ্বালানি খাত চায়না-নিয়ন্ত্রিত জ্বালানি খাত হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিতি লাভ করুক, এটি আমরা চাই না। আমাদের সরকার ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও এমনটাই ভাবছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত চার বছর ধরেই ইরাকের বেশির ভাগ জ্বালানি চুক্তি বাগিয়ে নিচ্ছে চীনের কোম্পানিগুলো। এক্ষেত্রে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির তুলনায় চীন অনেক কম মুনাফা রাখছে। বিশ্লেষকদের দাবি, চায়না বিনিয়োগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়ার কৌশল ইরাকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ চীন সরে আসলে অন্যান্য দেশ ইরাকে বিনিয়োগ বাড়াবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

২০১৭ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) শাসনের পতন ঘটে। এর পর থেকেই দেশটির অর্থনীতিকে পুরনায় প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। ঠিক এমন সময় জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উেস বড় পরিবর্তন অর্থনীতির জন্য হুমকি বয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউজ ট্যাগ: ইরাক

আরও খবর