আজঃ মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির বর্ণাঢ্য জীবন

প্রকাশিত:সোমবার ২০ মে ২০24 | হালনাগাদ:সোমবার ২০ মে ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যু হয়েছে। এক বর্ণাঢ্য জীবন ছিল তার। ইরানের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে একজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

এই শীর্ষ নেতার জন্ম ১৯৬০ সালের ১৪ ডিসেম্বর। ইরানের উত্তর-পূর্ব মাশহাদের নোগান জেলায় বেড়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তিনি ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে বড় হয়েছেন।

রাইসি জাভাদিয়াহ স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ করেন। এরপর হাওজায় (ইসলামি সেমিনারি) পড়াশুনা শুরু করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি কওম সেমিনারিতে শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আয়াতুল্লাহ বোরুজেরদি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। তিনি মোতাহারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন বলে জানা যায়। যদিও এ নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে।

মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি কারাজ শহরের প্রসিকিউটর-জেনারেল নিযুক্ত হন। ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তেহরানের প্রসিকিউটর-জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন ইব্রাহিম রাইসি।

তিনি ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত উপ-প্রধান বিচারপতি, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি ছিলেন। এছাড়া ১৯৮০ এবং ১৯৯০র দশকে তিনি তেহরানের প্রসিকিউটর এবং উপ-প্রসিকিউটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি আস্থান কুদস রাযভী নামের একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক এবং চেয়ারম্যান ছিলেন। ইব্রাহিম রাইসি ২০০৬ সালে দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশ থেকে প্রথমবারের মতো বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মাশহাদের জুমা নামাজের ইমাম এবং ইমাম রেজা মাজারের প্রধান ইমাম আহমদ আলা মোলহোদার জামাতা ছিলেন।

২০২১ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে রাইসিকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। ৬৩ বছর বয়সী রাইসি সে বছর দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশটির নৈতিকতা বিষয়ক আইন কঠোর করার নির্দেশ দেন।

ইব্রাহিম রাইসি তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করেছেন। তাকে ২০১৯ সালে বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারপর থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ পর্যন্ত ইব্রাহিম রাইসি ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়ে হাসান রুহানির কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন ইব্রাহিম রাইসি। ১৯৮০র দশকে রাজনৈতিক বন্দীদের যেভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাতে রাইসির ভূমিকা নিয়ে বহু ইরানি এবং মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। যদিও ইরান কখনো এই গণ-মৃত্যুদণ্ডের কথা স্বীকার করেনি এবং এতে রাইসির ভূমিকা নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কখনো কিছু বলেননি।

রাইসিকে একজন কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। এ কারণে তিনি সরকার-বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের মুখেও পড়েছেন। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় তিনি কঠোর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।

অনেকে মনে করেন, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করছিলেন। ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ নেতা তাকে বিচার বিভাগের প্রধানের শক্তিশালী পদে নিযুক্ত করেন। বিশেষজ্ঞদের অ্যাসেম্বলির ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবেও নির্বাচিত হন প্রেসিডেন্ট রাইসি। ইরানে ৮৮ সদস্যের এই বোর্ড দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে থাকে।

২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়ে নির্বাচিত হন ইব্রাহিম রাইসি। তিনি প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। অর্থাৎ ইরানের প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেন।

কট্টরপন্থীরা পশ্চিমাদের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করলেও রাইসি এবং সর্বোচ্চ নেতা খামেনি উভয়েই পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ফিরে যেতে আগ্রহী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার শর্তে দেশটির ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং ইরানের ওপর বেশ কিছু বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞার কারণে সাধারণ ইরানিরা অর্থনৈতিক দুর্দশায় পড়েছে যার কারণে জনগণের মনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরের কাছাকাছি অবস্থানে ছিলেন প্রেসিডেন্ট রাইসি। তাকে তৈরি করা হচ্ছিল একেবারে সর্বোচ্চ আসনটির জন্য। কিন্তু আকস্মিক দুর্ঘটনা যেন সবকিছুর মোড় ঘুরিয়ে দিল।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট রাইসির মৃত্যুর পর নতুন করে গুঞ্জন উঠেছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার স্থলাভিষিক্ত তাহলে কে হবেন? আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বয়স এখন ৮৫ বছর। অনেক দিন ধরেই তার স্বাস্থ্যের অবনতির বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

ইরানের কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্টের দুঃখজনক মৃত্যুতে দেশটির নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে এমনটি ভাবার কারণ নেই। তবে কঠোর রক্ষণশীলদের নিয়ন্ত্রিত কাঠামোকে একটি পরীক্ষার মধ্য দিয়েই যেতে হবে।

তার প্রতিপক্ষের লোকেরা হয়তো এই সাবেক আইনজীবীর প্রস্থানে স্বস্তিই খুঁজবেন। প্রতিপক্ষরা হয়তো আশা করবেন যে, তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে এই শাসনকালেরও ইতি ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে তাই এখন দেখার অপেক্ষা।

প্রেসিডেন্ট রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই ইরানসহ সারাবিশ্বেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায় যে, হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ানসহ অন্যান্য আরোহীরা মারা গেছেন।

রবিবার আজারবাইজানের সীমান্তের কাছে দুটি বাঁধ উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট রাইসি। এরপর হেলিকপ্টারে ইরানের উত্তর-পশ্চিমের তাবরিজ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। তার সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ানসহ আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন। তাবরিজ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে দূর্ঘটনার কবলে পড়ে তাদের বহনকারী হেলিকপ্টারটি।

প্রেসিডেন্টের বহরে মোট তিনটি হেলিকপ্টার ছিল। অন্য দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে অবতরণ করলেও রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।

পূর্ব আজারবাইজানের ডেপুটি গভর্নর ফর ডেভেলপমেন্ট আলি জাকারি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ওই বহরে তিনটি হেলিকপ্টার ছিল এবং অন্য দুটি নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছে। কিন্তু একটি বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রাইসিকে বেল ২১২ মডেলের একটি হেলিকপ্টার বহন করছিল। এই মডেলটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি।


আরও খবর



নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সুপার এইটের পথে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

১৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান তুলতে সক্ষম হলো নেদারল্যান্ডস। এতে ২৫ রানের জয় পেলো বাংলাদেশ। সেই সুবাদে সুপার এইটে খেলার সম্ভাবনা জোরালো করলো টাইগাররা।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদের শিকার হন মাইকেল লিভিট। পরের ওভারে তানজিম হাসান সাকিবের বলে ফেরেন ম্যাক্স ও'ডাইউ। তাতে ৩২ রানে ২ উইকেট হারায় নেদারল্যান্ডস।

এই অবস্থায় হাল ধরেন সাইব্রান্ড এনগেলব্রখট ও  ডি লিড। চতুর্থ উইকেটে ৪২ রানের ঝোড়ো জুটি গড়েন তারা। ফলে ১৪ ওভারে নেদারল্যান্ডসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৪ রান। স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়ে বাংলাদেশ।

সেই পরিস্থিতিতে দলকে স্বস্তি এনে দেন রিশাদ হোসেন। ১৫তম ওভারে দুটি উইকেট তুলে নিলেন তিনি। ২২ বলে ৩২ রান করা সাইব্রান্ডকে তানজিমের ক্যাচ বানান। আর স্টাম্পড আউট করেন ডি লিডকে।

১৭তম ওভারে ১ রান দিয়ে ১ উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। স্কট এডওয়ার্ডসকে (২৩ বলে ২৫) জাকির আলির ক্যাচ বানান তিনি। দলের জয়ে যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ব্যাক-টু-ব্যাক বোলিংয়ে এসে আবারও উইকেট লাভ করেন রিশাদ। লোগান ফন বিককে নিজের ক্যাচ বানান। সর্বশেষ টিম প্রিংলেকে ফেরান তাসকিন। এতে ২০ ওভারে ডাচরা তুলতে পারে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান।

এর আগে সেন্ট ভিনসেন্টে টস হেরে ব্যাট করে নেমে সাকিব আল হাসানের ফিফটিতে ৫ উইকেটে ১৫৯ রান করে বাংলাদেশ। যদিও শুরুটা ভালো হয়নি। সূচনাতে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট হারায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ওভারেই আরিয়ান দত্তকে রিভার্স সুইপ খেলে ক্যাচ দেন তিনি।

সেই রেশ না কাটতেই আরিয়ানের দ্বিতীয় শিকার হন লিটন দাস। সুইপ খেলে স্কয়ার লেগে এনগেলব্রেখটের দুর্দান্ত ক্যাচ হন ডানহাতি ব্যাটার। তৃতীয় উইকেটে সাকিবকে নিয়ে ৩২ বলে ৪৮ রানের দারুণ জুটি গড়েন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তিনি ২৬ বলে ৩৫ রান করে আউট হলে জুটি ভাঙে। পল ফন ম্যাকেরেনের বলে ডি লিডের হাতে ক্যাচ হন বাঁহাতি ব্যাটার।

এদিন ভালো করতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়। ১৫ বল খেলে করেন মাত্র ৯ রান। টিম প্রিংলের বলে স্টাম্প ছেড়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ডানহাতি ব্যাটার।

পরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ঝলক দেখান। ২ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ২১ বলে ২৫ রান করেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। ফন ম্যাকেরেনের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। তবে দুর্দান্ত ব্যাট করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন সাকিব। ৪৬ বলে ৬৪ রানের চোখজুড়ানো ইনিংস খেলেন বাংলাদেশ সেরা অলরাউন্ডার। তার সঙ্গে ৭ বলে ১৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন জাকের আলি।

নেদারল্যান্ডসের হয়ে ২টি করে উইকেট শিকার করেন আরিয়ান ও ম্যাকেরেন। বাংলাদেশের হয়ে ৩ উইকেট নেন রিশাদ। ২ উইকেট নেন তাসকিন। ম্যাচসেরা হন সাকিব।


আরও খবর



১৭ ঘণ্টা পর চালু হলো শাহ আমানত বিমানবন্দর

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

১৭ ঘণ্টা পর চালু হয়েছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সোমবার ভোর ৫টা থেকে বিমানবন্দরের কার্যক্রম চালু করা হয়। ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে রোববার দুপুর ১২টা থেকে আজ সোমবার ভোর ৫টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল ফ্লাইট ওঠানামা।

ইব্রাহিম খলিল বলেন, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সোমবার ভোর ৫টা থেকে যথারীতি নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেছে। এয়ারফিল্ড ও রানওয়ের সব নেভিগেশন সাপোর্টসহ দৃঢ়ভাবে সক্রিয় রয়েছে।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রোববার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে ৮ ঘণ্টা ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সময় বাড়িয়ে ভোর ৫টা পর্যন্ত ১৭ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।


আরও খবর



একযুগে চামড়ার দাম কমেছে ৩৩ শতাংশ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

গত একযুগে গরুর চামড়ার সরকার নির্ধারিত দাম কমেছে ৩৩ শতাংশের বেশি। এবারও নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়নি কাঁচা চামড়া। প্রতিটি গরুর চামড়া আকারভেদে বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। আড়তদাররা বলছেন, ট্যানারিতে চাহিদা না থাকায় দাম কম। ট্যানারি মালিকদের দাবি, চামড়ার রপ্তানিমূল্যও কমেছে।

২০১৩ সালে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৮৫ থেকে ৯০ টাকা নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর ঢাকার বাইরে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। এরপর কমতে কমতে ২০২০ সালে চামড়ার দাম ঠেকে ৩৫ টাকা বর্গফুটে। এ বছর কোরবানির গরুর চামড়ার দাম নির্ধারিত হয় ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়।

ঢাকায় একেকটি গরুর লবণজাত চামড়ার সর্বনিম্ন দাম ধরা হয় এক হাজার ২০০ টাকা। প্রতি পিস চামড়ায় লবণ দিতে খরচ হয় ৩০০ টাকার মতো। সে হিসেবে লবণ ছাড়া চামড়ার দামে সন্তুষ্ট নন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। 

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপট যদি বিবেচনায় নিই, বহির্বিশ্বে কিন্তু চামড়ার দাম বাড়েনি। সবকিছুই তো ডিমান্ড-সাপ্লাই চেইনের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও মূল্যস্ফীতি আছে। ফলে পাশ্চাত্যের দেশগুলো, যারা আমাদের চামড়া খাতের মূল ক্রেতা, তাদের ওখানে চাহিদা কমে গেছে। আবার চীনে আর্টিফিশিয়াল লেদার, সিনথেটিক লেদারের ব্যবহার বেড়েছে। কেডসে ফেব্রিকসের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে চামড়ার চাহিদাটাই কমে গেছে।

ধারণা করা হয়, এক লাখ টাকার নিচের গরুর চামড়া ২০-২৪ বর্গফুট। দেড় লাখ টাকার গরুর চামড়া ২৬ থেকে ৩০ বর্গফুট, আর ২ লাখ টাকা দামের ওপরে কেনা গরুর চামড়া হতে পারে ৩২ থেকে ৩৮ বর্গফুট। প্রক্রিয়াজাতের কয়েক ধাপে রাসায়নিকসহ বিভিন্ন খরচ বাড়ায় কাঁচা চামড়ার দাম বাড়ানো সম্ভব নয় বলে দাবি ট্যানারি মালিকদের।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, হেমায়েতপুরের চামড়াশিল্প নগরের দূষণ বন্ধ না হওয়ায় ইউরোপ-আমেরিকার বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বাংলাদেশি চামড়া কিনছে না। ফলে বাংলাদেশি চামড়া বড় ক্রেতা বর্তমানে চীনারা। তারা কম দাম দেয়। সেটির প্রভাব কাঁচা চামড়ার দামেও পড়ছে।

লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দূষণ রোধ ও চামড়ার বাজার বৃদ্ধি নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। এ জন্য সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিমা দেশগুলোতে চামড়ার চাহিদা কমেছে। সেই সাথে চীনের সিনথেটিক লেদার, বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।


আরও খবর



কুমারখালীতে চুরি হওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া

Image

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মায়ের সঙ্গে নানা বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে চুরি হওয়ায় ইসরাফিল নামের আড়াই মাস বয়সী শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১২ জুন) বেলা ৩ টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া এলাকার বিল থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিশু ইসরাফিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের গোবরা আনন্দপুর এলাকার জিয়াউর রহমানের ছেলে।

জানা গেছে, সোমবার (১০ জুন) মায়ের সঙ্গে কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল ইসরাফিল। রাতে খাবারের পর তাঁর মায়ের সঙ্গে ছেলে ইসরাফিলকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১০টার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে দেখতে পান তাঁর পাশে ইসরাফিল নেই। একপাশে টিন ও একপাশে বেড়া দেওয়া ঘরের দরজার খিল শোয়ার সময়ই খোলায় ছিল। তাৎক্ষণিক বাড়ির সবাই আশপাশে খোঁজা-খুঁজি করেও ছেলের সন্ধান পাননি। পরে সকালে বিষয়টি থানা-পুলিশকে জানানো হয়। এসময় মা-বাবা দু'জনই কান্নায় ভেঙে পড়েন। বুধবার (১৩ জুন) বেলা ৩টার  দিকে বাগুলাট ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া এলাকার একটি বিল থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকিবুল ইসলাম বলেন, নিহত ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে মরদেহ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর



মুম্বাই বিমানবন্দরে বোমা আতঙ্ক, জরুরি অবতরণ

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

বোমা আতঙ্কের জেরে মুম্বাই বিমানবন্দরে সাত সকালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। আজ শনিবার সকালে চেন্নাই থেকে মুম্বাইয়ে অবতরণের পরই একটি বিমানে বোমা আছে বলে খবর আসে মুম্বই বিমানবন্দরে। সঙ্গে সঙ্গেই বিমানে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, এক বিবৃতিতে ইন্ডিগো জানিয়েছে, সব যাত্রীকে নিরাপদে বিমান থেকে নামানো হয়। পরে বিমানটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সব নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে, বিমানটিকে আবার টার্মিনাল এলাকায় স্থাপন করা হবে।

জানা গেছে, ১৭২ জন যাত্রী নিয়ে সকাল ৭টা নাগাদ ওই বিমান চেন্নাই থেকে মুম্বাই বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। বেসরকারি সংস্থার ওই বিমানের উড়ান সংখ্যা ছিল ৬ই৫৩১৪। বিমানটি মুম্বাই বিমানবন্দরে নামে সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ।

এর আগে গত সোমবার দিল্লি থেকে বারাণসীগামী একটি বিমানে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আকাশে ওড়ার আগেই রানওয়েতে থামানো হয় বিমানটি। পরে জরুরি ভিত্তিতে বিমানের সকল যাত্রীকে নামিয়ে চলে তল্লাশি অভিযান। তবে সন্দেহজনক কিছুই খুঁজে পাইনি পুলিশ।

তারও আগে গত ১৫ মে দিল্লি বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে এমন কাগজের টুকরো মিলেছিল। যেখানে লেখা ছিল, বোমা রাখা রয়েছে বিমানে। পাশাপাশি গত মাসে দিল্লির একাধিক হাসপাতাল, বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে। যদিও সবকটি ক্ষেত্রেই তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি।


আরও খবর