আজঃ শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪
শিরোনাম

জান্তাবাহিনীর নির্মমতার শিকার হয়ে গর্ভবতী নারী-শিশুসহ ৬ জন নিহত

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

মিয়ানমারের এক গর্ভবতী নারী ও ৩ শিশুসহ ৬ কারেনি নৃগোষ্ঠীর সদস্যকে হত্যা করেছে জান্তাবাহিনী। নিহতদের মধ্যে ৩ জন নারী ও ৩ জন শিশু। শিশুদের সবার বয়সই ১০ বছরের নিচে। কায়াহ রাজ্যের শাদাও শহরে এই ঘটনা ঘটেছে। একই দিনে, শাদাও থেকে ২৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের রোববার জান্তাবাহিনী শাদাও শহরে অভিযান শুরু করে। সে সময় বিনা কারণে জান্তাবাহিনী ৩ নারীকে হত্যা করে। তাদের মধ্যে একজন গর্ভবতী ছিলেন। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা ৩ শিশুকেও হত্যা করে জান্তাবাহিনী।

কায়াহের বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেনি আর্মি জানিয়েছে, শাদাও শহরে প্রবেশ করে জান্তাবাহিনী গণহারে ধরপাকড় চালিয়ে ২৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্য থেকে পুরুষেরা পালিয়ে গেলেও ওই গর্ভবতী নারী ও অপর দুই প্রতিবন্ধী নারী ও যথাক্রমে ৩, ৫ ও ৭ বছর বয়সী তিন শিশু পালাতে ব্যর্থ হয়। পরে জান্তাবাহিনী নির্যাতন চালিয়ে এই ৬ জনকে হত্যা করে।

পরে কারেনি আর্মি ও কারেনি ন্যাশনালিটিজ ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা যৌথ অভিযানের সময় শাদাও শহর থেকে এই ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত ৩ নারীর পরিচয়ও প্রকাশ করেছে তারা। নিহত নারীরা হলেনসোয়ে মেল, লাও মেল এবং মে মোহ। তাদের সবার বয়সই ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

কারেনি আর্মি জানিয়েছে, নিহত শিশুদের একজন সোয়ে মেলের নাতি এবং একজন লাও মেলের কন্যা। অপর শিশুর পরিচয় এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কান্তারাবতী টাইমস জানিয়েছে, তৃতীয় শিশুটিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। যখন তাকে খুঁজে পাওয়া যায় তখনো তার শ্বাস চলছিল। কিন্তু উদ্ধারকারীরা শিশুটিকে বাঁচাতে পারেনি। শিশুটির পিঠে গুলির একটি বড় ক্ষত ছিল এবং ব্যাপক রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটি উদ্ধারের একটু পরই মারা যায়।


আরও খবর



পানি উন্নয়ন বোর্ডে যোগ দিলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৮ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Image

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা, নকশা ও গবেষণা) পদে যোগদান করেছেন প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম। এর আগে তিনি প্রধান প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বাপাউবো রাজশাহীতে কর্মরত ছিলেন।

তিনি ১৯৮৯ সালে তৎকালীন বিআইটি বর্তমানে (রুয়েট), রাজশাহী থেকে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে সহকারী প্রকৌশলী (পুর) পদে যোগদান করেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলী পদে বোর্ডের বিভিন্ন দপ্তরে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।


আরও খবর



শিকলে বাঁধা যুবকের দুর্বিষহ জীবন, চিকিৎসা করবে কে?

প্রকাশিত:রবিবার ১৭ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৭ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রেদওয়ানুল হক মিলন, ঠাকুরগাঁও

Image

জরাজীর্ণ ছোট একচালা ঘরের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা যুবক। বিড়বিড় করে কি যেন একটা বলছে। এক সময়ের টগবগে যুবক এখন চার দেওয়ালে বন্দি। খুপড়ি ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তাঁর। একটি দু'টিন বছর নয় এভাবে ছয় বছর ধরে শিকল বন্দি। পায়ে সঙ্গে শিকল যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাড়িঁয়েছে তাঁর। লোহার শিকল পরা অবস্থায় দিনের শুরু হয় আর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে। এর পর রাত। তবুও যেন শিকল থেকে মুক্তি মিলছে না তাঁর। এভাবেই হাসি-কান্নার মধ্য দিয়েই কাটছে তাঁর শিকলে বাঁধা জীবন।

আর আদুরের সন্তানের চিকিৎসায় সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন দরিদ্র পরিবার। বসতভিটা ছাড়া নিজের বলতে আর কিছুই নেই তাদের। গায়ের মহাজনের কাছে ধারকার্য করে চিকিৎসা করিয়েছেন। তবুও সুস্থ্য করা যায়নি পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী মিলনকে।

মিলন হক ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কুজিশহর গ্রামের মফিজ উদ্দীন ও শাহেদা বেগম দম্পত্তির ছেলে।

প্রাথমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করা মিলন আর পাঁচ শিশুর মতো ছিল হাসি-কান্না হইহুল্লোড়ে মাতিয়ে রাখত সবাইকে। মজার দুষ্টুমিতে মায়ের কাছে আসত হাজারো অভিযোগ। জন্মের ৯ বছর বয়সে গলায় টিউমার ধরা পড়ে মিলনের। চিকিৎসা নেওয়ার পরে কিছুদিন সুস্থ হলেও আবার শুরু হয় অসুস্থতা। পঁয়ত্রিশ বছর জীবনে পচিশ বছর অসুস্থ থাকলেও ছয় বছর চার দেওয়াল আর পায়ে শিকলই তার সঙ্গী। তবে বৃদ্ধা মা মারা গেলে কে দেখবে তাকে? এমন চিন্তায় প্রতিনিয়তই ডুকরে ডুকরে কাঁদছে মা শাহেদা বেগম।

স্বপ্ন ছিলো মিলন হক পড়াশোনা করে চাকরি করে সংসারের হাল ধরবেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে প্রাথমিকেই থমকে গেছে তাঁর জীবন। অপরিচিতদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করলেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করেন। অনেক সময় নানা ভাবে বিড়ম্বনায় ফেলে স্থানীয়দের। পরিবারে উপার্জনক্ষম মানুষ না থাকায় হচ্ছে না উন্নত চিকিৎসা।

স্বামী ব্রেন স্টোক করে প্যারালাইস, ছেলে শেকলে বাধাঁ। স্বামী সন্তানের মুখের খাবার জোগার করবেন না চিকিৎসা করাবেন এই দোটানায় চলছে শাহেদা বেগম। মানুষের বাড়িতে কাজ করে দু-মুঠো ভাতের জোগাড় করেন তিনি। চিকিৎসা করার আর্থিকভাবে ক্ষমতা নেই। তবে সুচিকিৎসা পেলে ভালো হবে মিলন এমন স্বপ্ন দেখেন তার মা। কিন্তু তার এই স্বপ্নে বাদ সেধেছে টাকা। কারণ টাকা ছাড়া এখন কিছুই মেলে না। তাই ছেলে সুস্থ করতে বিত্তবানদের সাহায্য চান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, মিলনের পরিবার খুবই গরিব। চিকিৎসা দুরের কথা ঠিকমতো একবেলা খাবারে জোগানো দায়। তার বাবা ব্রেইন স্ট্রোক করে দীর্ঘ দিন ধরে শয্যাশায়ী। ছেলেও শিকলে বন্দি। মিলনের প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসার। তা না হলে পরিবারটার জন্য সামনে আরো কঠিন হয়ে দাড়াবে।

শাহেদা বেগম বলেন, দিনে ও রাতে ছেলের পায়ে, কখনো হাতে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে ঘুমানোর ব্যবস্থা করি। এ দৃশ্য মা হয়ে সহ্য করতে পারছি না। গরীব মানুষ, ঠিকমতো সংসার চালানোই কঠিক হয়ে পড়েছে। ছেলের উন্নত চিকিৎসা করব কীভাবে?

তিনি আরো বলেন, ভিটেমাটি ছাড়া আর কিছু নেই তাদের। স্বামী বিছানায় পড়ে আছে। একদিন কাজে না গেলে মুখে খাবার উঠেনা। যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি সত্যিই হৃদয়বিদারক। অতি দ্রুতই মিলন হকের খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ ট্যাগ: ঠাকুরগাঁও

আরও খবর



যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ ও মাকরুহ হয়

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৬ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ধর্ম ও জীবন

Image

সারা বিশ্বজুড়ে রমজানের আমেজ বিরাজ করছে, একযোগে পালিত হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা হচ্ছে তৃতীয় স্তম্ভ। মুসলিমদের জন্য রোজা একটি অন্যতম ফরজ ইবাদত যা ভঙ্গ করা কবিরা গুনাহ। রোজা ভঙ্গকারী নিকৃষ্ট পাপী।

ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী রোজার শুদ্ধাতা অর্জন ও যথাযথভাবে পালনের জন্য কিছু বিধিমালা আছে যার ব্যতিক্রম হলে রোজা ভঙ্গ কিংবা মাকরুহ হয়ে যায়। রোজার নিয়তে সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকার পর যদি অসর্তকতাবশত কোনো ব্যক্তির রোজা ভঙ্গ বা মাকরুহ হয়ে যায়; তাহলে তার চেয়ে দুর্ভাগা আর কে আছে?

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলিম নর নারীর জন্য রোজা রাখা আবশ্যক। শুধুমাত্র পানাহার থেকে বিরত থাকালেই রোজা আদায় হয়ে যায় না; বরং রোজা অবস্থায় মেনে চলতে হয় বেশ কিছু নিয়মকানুনও। আল্লাহ তায়ালা রোজাদারকে তিনটি বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলেছেন ১. স্ত্রী-সহবাস, ২. খাবার গ্রহণ, ৩. পানীয় গ্রহণ। (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৭)

সুতরাং কেউ স্ত্রী-সহবাস ও পানাহারে লিপ্ত হলে তার রোজা ভেঙে যাবে। এছাড়া নারীদের ঋতুস্রাবের কারণেও রোজা ভেঙে যায়। এসব কারণ ছাড়াও আরও বেশকিছু কারণ আছে, যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয়ে যায়।

রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ

১. মুখ ভরে বমি করা। ২. ইচ্ছা করে বমি করা। ৩. বমির বেশির ভাগ মুখে আসার পর তা গিলে ফেলা। ৪. মেয়েদের মাসিক ও সন্তান প্রসব। ৫. ইসলাম ত্যাগ করা। ৬. রোজাদারকে জোর করে কিছু খাওয়ানো। ৭. প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে ওষুধ বা অন্য কিছু শরীরে প্রবেশ করানো।

৮. গ্লুকোজ, শক্তিবর্ধক ইনজেকশন বা সেলাইন নেওয়া। ৯. ভুলবশত কোনো কিছু খেয়ে রোজা ভেঙে গেছে ভেবে আরও কিছু খাওয়া। ১০. ইফতারের সময় হয়েছে ভেবে সূর্যাস্তের আগে ইফতার করা।

১১. বৃষ্টির পানি মুখে পড়ার পর তা খেয়ে ফেলা। ১২. কান বা নাক দিয়ে ওষুধ প্রবেশ করানো। ১৩. দাঁতের ফাঁক থেকে ছোলা পরিমাণ কোনো কিছু বের করে খাওয়া। ১৪. রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় অজুতে কুলি বা নাকে পানি দেওয়ার সময় ভেতরে পানি চলেগেলে। (ফাতাওয়ায়ে শামি ও ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি)।

১৫. রাত অবশিষ্ট আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর পানাহার করা। ১৬. হস্তমৈথুন বা অন্য কোনোভাবে বীর্যপাত করা ১৮. শিঙ্গা লাগানো কিংবা এ জাতীয় অন্য কোনো কারণে রক্ত বের হলে।

এই কারণগুলো ছাড়াও এমন কিছু কাজ আছে যা করলে রোজা ভঙ্গ হবে না; তবে রোজার পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যাবে না, বরং রোজা মাকরুহ হয়ে যাবে। রোজার পূর্ণ সওয়াব অর্জন করতে অন্যান্য আমল ঠিক রাখার পাশাপাশি অশ্লীল কাজ, পাপাচার, সুদ-ঘুষ, হারাম পানাহার, অন্যের হক নষ্ট করা, ওজনে কম দেওয়া সহ সকল প্রকার পাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।

রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণ

১. কোনো কারণ ছাড়াই কিছু চিবানো। ২. সারাদিন রোজা সঠিকভাবে পালন করার পরেও ইফতারির সময় এমন কোনো খাবার গ্রহণ করা যা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। ৩. গড়গড়া করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেওয়া। ৪. কোনো কিছু শুধু মুখে পুরে রাখা, সেক্ষেত্রে না খেলেও রোজা মাকরুহ হবে।

৫. মুখের লালা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পেটে গেলে ক্ষতি নেই, তবে ইচ্ছাকৃত দীর্ঘ সময় মুখে থুথু ধরে রেখে পরে গিলে ফেললে রোজা মাকরুহ হবে। ৬. রমজানে সারা দিন অপবিত্র শরীরে থাকা। ৮. পাউডার, পেস্ট ও মাজন দিয়ে দাঁত পরিস্কার করা।

৯. রোজা রেখে কারো গিবত বা পরনিন্দা করা। ১০. মুখে গুল ব্যবহার করা এবং থুথুর সঙ্গে গুল গলার ভেতর চলে যাওয়া। ১১. মিথ্যা কথা বলা মহাপাপ। রোজা রেখে মিথ্যা বলা মাকরুহ।

১২. ঝগড়া-বিবাদ করা ১৪. রান্নার সময় কোনো কিছুর স্বাদ নেওয়াযেমন, লবণ চেখে দেখা, ঝাল পরখ করা, তবে বিশেষ প্রয়োজনের কারণে তা বৈধ। ১৫. নাচ, গান, সিনেমা দেখা। ১৬. যৌন উদ্দীপক কিছু দেখা বা শোনা। ১৭. উচ্চস্বরে চিৎকার কিংবা গালিগালাজ করা।


আরও খবর
শুক্রবারের বিশেষ ৪ আমল

শুক্রবার ১২ এপ্রিল ২০২৪

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর

বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০২৪




প্রিজন ভ্যান থামিয়ে চালককে মারধর

পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্যসহ গ্রেফতার ৬

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৫ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৫ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মশিউর রহমান রাহাত, পিরোজপুর

Image

পিরোজপুরে আসামী বহনকারী প্রিজন ভ্যান আটকে চালককে মারধোরের ঘটনায় জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম সুমনসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের আজ শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৬ জনসহ নামীয় ৮ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮জনকে আসামী করে পিরোজপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হল, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম সুমন (৩৮), নয়ন সেখ (২৬), আলী হাসান লিয়ন (৩২), সাদ্দাম সেখ (৩২), আলী ইমাম অনি (২৮) এবং জাকারিয়া আল জাওয়াব (২৫)। এদের সকলের বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার ভাইজোড়া এলাকায়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার মঠবাড়িয়া আদালত থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ বিভিন্ন মামলার ১০ জন আসামী নিয়ে পুলিশে একটি প্রিজন ভ্যান পিরোজপুর জেলা কারাগারে আসতেছিল। পথিমধ্যে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার ভাইজোড়া ডাক্তারবাড়ী এলাকায় পিরোজপুর-পাড়েরহাট সড়কে মোটরসাইকেলকে সাইড দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রিজনভ্যানের গতিরোধ করে গাড়ি চালক পুলিশ কনস্টেবল সাজেদুল করিমের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে মোটরসাইকেলের আরোহী জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো জাকির হোসেন খান। এ সময় জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম সুমন ও তার সাথে ৭/৮ জন যুবক মোটরসাইকেল আরোহীর পক্ষ নিয়ে প্রিজনভ্যানের চালক পুলিশ কনস্টেবল সাজেদুল করিমকে বেধরক মারধোর করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর পুলিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে ভাইজোড়া ডাক্তারবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেফতার করে। ঘটনার পর থেকে জাকির হোসেন খান পলাতক রয়েছে।

এ ঘটনায় এস আই কামরুল হাসান বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে পিরোজপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. আশিকুজ্জামান জানান, পুলিশের প্রিজন ভ্যানের গতিরোধ করে গাড়ির চালককে মারধর ও সরকারী কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


আরও খবর



‘পণ্যের দাম নির্ধারণের সঙ্গে সঙ্গেই বাস্তবায়ন করা যায় না’

প্রকাশিত:রবিবার ১৭ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৭ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

২৯টি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়বে বলে আশার করছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেন, প্রাইস ডিসকভারিটা হুট করে হয় না। আমাদের দায়িত্ব হবে, উৎপাদক পর্যায়ে থেকে পাইকারি ও পরে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত বাজার মনিটরিং করা এবং এটাকে প্রতিষ্ঠিত করা।

আজ রোববার (১৭ মার্চ) রাজধানীর টিসিবি ভবনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

গত ১৫ মার্চ দেশের খুচরা বাজারে মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ও সবজির মতো ২৯টি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার। তার প্রভাব বাজারে দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের প্রশ্নে তিনি বলেন, একটা জিনিস আপনি যখন যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করবেন, সঙ্গে সঙ্গে এটি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। আগে এটা নির্ধারণ করা জরুরি ছিল। অনেকদিন ধরে আইনটা ছিল কিন্তু করা হয় নাই। এখন সমন্বিতভাবে কৃষি বিপণন অধিদফতর, ভোক্তা অধিদফতর, ইউএনও, ডিসি সবাই মিলে সমন্বয় করবে। আশা করি এটা একটা যৌক্তিক পর্যায়ে চলে আসবে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষি বিপণন অধিদফতর পণ্যের একটা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদফতরের নিজস্ব জেলা, উপজেলা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কমিটি আছে। আমরা সমন্বয় করে মনিটরিং শুরু করবো। প্রাইস ডিসকভারিটা হুট করে হয় না। আমাদের দায়িত্ব হবে উৎপাদক পর্যায়ে থেকে পাইকারি এবং পরে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত বাজার মনিটরিং করা এবং এটাকে এস্টাবলিশ করা।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যেখানে যাচ্ছি, বাজার কমিটিকে নিয়ে বসছি, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসছি, তাদের উৎসাহিত করছি। তাদের সমস্যার সমাধান করে এটা আমরা বাস্তবায়ন করছি। আমরা কোনো জায়গায় কোনো দোকান বন্ধ করে দিচ্ছি না বা তালাবদ্ধ করে দিচ্ছি না। যারা একেবারেই আইন মানছেন না, যেমন পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে যখন বিক্রি করতে হবে তখন আপনাকে রিসিটটা রাখতে হবে। আপনি যখন পাইকারি চালান করবেন, তখন আপনাকেও রিসিট দিতে হবে। এই জিনিসগুলোকে বলে, একেবারে মিনিমাম কমপ্লায়েন্স। এই জিনিসগুলো না করলে আমরা শাস্তির আওতায় আনব।

কৃষি বিপণন আইন-২০১৮-এর ৪(ঝ) ধারার ক্ষমতাবলে কতিপয় নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫ মার্চ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত দামে কৃষিপণ্য ক্রয়বিক্রয়ের অনুরোধ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া ২৯টি পণ্যের উৎপাদন খরচও তুলে ধরা হয়েছে। এর ভিত্তিতে উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে পণ্যগুলোর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।  যেমনব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ ১৪৫ টাকা ৭৮ পয়সা। উৎপাদক পর্যায়ে দাম ১৫১ টাকা ৮১ পয়সা, পাইকারি পর্যায়ে ১৬২ টাকা ৬৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে ১৭৫ টাকা ৩০ পয়সা।


আরও খবর