আজঃ শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১
শিরোনাম

জার্মানির কোলনে মসজিদের মাইকে আজান দেওয়ার অনুমতি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর ২০২১ | ৪৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মানার শর্তে জার্মানির কোলন শহরে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের আজান মসজিদের মাইকে দেওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। যেহেতু জার্মানিতে মাইকে আজান দেওয়া যায় না, তাই কোলন শহরের কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিলো।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শহরের মুসলমানদের প্রতি সম্মান প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত দুই বছরের জন্য অনুমতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সময় বাড়ানো যাবে।

কোলন কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, শহরটির কেন্দ্রীয় মসজিদসহ ৩৫টি মসজিদে শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল তিনটার মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট মাইকে আজান দেওয়া যাবে। তবে মুয়াজ্জিন আজান দেওয়ার সময় শব্দের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা অনুসরণ করতে হবে এবং শহরের বাসিন্দাদের তা জানাতে হবে বলেও শর্ত দেওয়া হয়েছে।

কোলন শহর কর্তৃপক্ষের এই নতুন সিদ্ধান্তে মুসলমানরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করেছেন। জার্মানিতে সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মুসলমানরা। দেশটিতে প্রায় ৪৫ লাখ মুসলমান বসবাস করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শহরের মেয়র হেনরিয়াটে রেকার টুইটারে লেখেন, আজান প্রকল্প নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে৷ কোলন ধর্মীয় স্বাধীনতার শহর। কোলনে গির্জার ঘণ্টার শব্দ শোনা যায়৷ এখানে অনেক বাসিন্দা মুসলমান৷ আমার কাছে আজানের বিষয়টি সম্মান প্রদর্শনের বহিঃপ্রকাশ।

নিউজ ট্যাগ: আজান জার্মানি

আরও খবর



‘দুষ্টু ছেলেদের’ বিশেষ বার্তা দিলেন জেমস

প্রকাশিত:শনিবার ০২ অক্টোবর 2০২1 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ অক্টোবর 2০২1 | ৬২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দুষ্টু ছেলেদের গুরু নগরবাউল জেমস। আজ (২ অক্টোবর) তার জন্মদিন। ৫৭ বছর পূর্ণ করে ৫৮-তে পা রাখলেন তিনি। এবারের জন্মদিনটি একেবারেই সাদামাটাভাবে পালন করছেন এই রকস্টার।

তবে নিজের বিশেষ দিনটি উপলক্ষ্যে ভক্তদের উদ্দেশ্যে বিশেষ একটি বার্তা দিয়েছেন জেমস। ব্যান্ড সংগীতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র বলেছেন, যতদিন তোমরা আছ, ততদিন আমি আছি।

প্রতিবছরই ভক্তদের কাছ থেকে নানারকম চমক পেয়ে থাকেন জেমস। ভক্তদের কাছে গুরু হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর জন্মদিনে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে খোদ ভক্তরাই। প্রতি বছরই জেমসের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে ভক্ত অনুরাগীরা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কাজ সহ ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষকে খাবার দেন। এবারও হচ্ছে না তার ব্যতিক্রম।

জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বরাবরের মতো এবারো দিনটি পরিবারের সঙ্গে কাটাবেন জেমস। কেক কাটার আয়োজন রেখেছেন পরিবারের সদস্যরা।

তিনি আরও জানান, ৬৪টি জেলায় নানান আয়োজনে পালিত হচ্ছে জেমসের জন্মদিন। ভক্তরা নিজ উদ্যোগেই প্রিয় তারকার জন্মদিন নিয়ে মেতেছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৪ সালের এদিনে নওগাঁয় জন্ম নেন মাহফুজ আনাম জেমস। কিন্তু তার বেড়ে ওঠা এবং সংগীত ক্যারিয়ার শুরু চট্টগ্রামে। তার বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। যিনি পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জেমসের সংগীতচর্চা পরিবারের লোকজন পছন্দ করতো না। সংগীতের টানে ঘর ছেড়ে চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে থাকা শুরু করেন। সেখানে থেকেই তার সংগীতের মূল ক্যারিয়ার শুরু হয়। জেমস ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ব্যান্ড ফিলিংস। ১৯৮৭ সালে প্রথম অ্যালবাম ষ্টেশন রোড প্রকাশ পায়। ১৯৮৮ সালে অনন্যা নামের একক অ্যালবাম প্রকাশ করে সুপারহিট হয়ে যান জেমস। এরপর ১৯৯০ সালে জেল থেকে বলছি, ১৯৯৬ নগর বাউল, ১৯৯৮ সালে লেইস ফিতা লেইস, ১৯৯৯ সালে কালেকশন অব ফিলিংস অ্যালবামগুলো প্রকাশ পায়। এরপর ফিলিংস ভেঙে জেমস গড়ে তোলেন নতুন লাইনআপে ব্যান্ড নগর বাউল। এই ব্যান্ড দুষ্টু ছেলের দল এবং বিজলি অ্যালবাম দুটির মধ্যেই আটকে যায়।

২০০৪ সালে কলকাতার সংগীত পরিচালক প্রিতমের সঙ্গে গান নিয়ে কাজ করেন জেমস। ২০০৫ সালে বলিউডে গ্যাংস্টার চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া ভিগি ভিগি গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং এক মাসেরও বেশি সময় গানটি বলিউড টপচার্টের শীর্ষে ছিল। ২০০৬ সালে আবারো বলিউডের ছবিতে কণ্ঠ দেন। ২০০৭ সালে তিনি লাইফ ইন এ মেট্রো চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া গান দুইটি হল রিশতে এবং আলবিদা। আর তাতেই বাজিমাত।

জেমসের গাওয়া সেরা ১০ গান এরমধ্যে, বাংলাদেশ, জেল থেকে আমি বলছি, মা, দুখিনী দুঃখ করো না, লেইস ফিতা লেইস, বাবা কতো দিন, বিজলী, দুষ্টু ছেলের দল, মিরাবাঈ, পাগলা হাওয়া, গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া উল্লেখযোগ্য।


আরও খবর



শাহরুখের ছেলের বান্ধবী কে এই মুনমুন ?

প্রকাশিত:সোমবার ০৪ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০৪ অক্টোবর ২০২১ | ৬১৬৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পার্টি থেকে আরিয়ানের সঙ্গেই গ্রেপ্তার হয়েছেন মুনমুন। তাঁর স্যানিটারি প্যাডে লুকিয়ে রাখা ছিল মাদক। শাহরুখের ছেলের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব নিয়েও কথা উঠেছে ভারতীয় নানা সংবাদমাধ্যমে। কে এই মুনমুন? কী করেন তিনি?

জানা গিয়েছে, ধনার্ঢ্য ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে মুনমুন। পেশায় মডেল। পেশার সূত্রেই বলিউড তারকাদের সঙ্গেও তাঁর ওঠাবসা। গুরু রান্ধাওয়া, অর্জুন রামপালের মতো বলিউড তারকা রয়েছেন সেই তালিকায়। ইনস্টাগ্রামেও বেশ জনপ্রিয় মুনমুন। সেখানে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা দশ হাজারেরও বেশি।

নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) এর জিজ্ঞাসাবাদে মাদক নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মুনমুন। সোমবার আরিয়ানের সঙ্গেই আদালতে তোলা হয় তাঁকে। তাদেরকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত এনসিবি হেফাজতে রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এনসিবির দাবি, জুতো থেকে শুরু করে চোখের লেন্সের বাক্সে লুকানো ছিল আরিয়ানদের মাদক। আরিয়ানদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ১৩ গ্রাম কোকেন, ৫ গ্রাম এমডি, ২১ গ্রাম চরস, ও এমডিএমএর ২২ টি পিল এবং নগদ এক লক্ষ তেত্রিশ হাজার টাকা। একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে আরিয়ানের বিরুদ্ধে। নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস ১৯৮৫ আইনের ৮সি, ২৭, ২২ নম্বর ধারা, এছাড়া এমডিএমএ ও এক্সট্যাসি আইনের  অন্তর্গত ১৪(১), ১৪ (বি), ২০(বি) ধারায় মামলা করা হয়েছে আরিয়ানের বিরুদ্ধে।

এনসিবির সূত্রে জানা গেছে, আরিয়ান খান এবং আরবাজ মার্চেন্ট এনসিবিকে সঠিকভাবে বলছেন না যে, কে তাদের মাদক সরবরাহ করতেন? আরবাজ বলছেন যে গোয়ার একজন মাদক সরবরাহকারী তাকে মাদক সরবরাহ করত। মুনমুন জানান, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি পাঁচতারা হোটেলের কাছে একজন মাদক ব্যবসায়ী তাকে কিছু মাদকদ্রব্য দিয়েছিলেন। কিন্তু সঠিক নাম কেউই বলছেন না। জেরা করার জন্য সোমবার আরবাজ ও আরিয়ানের বিশেষ বন্ধু শ্রেয়স নায়ারকে গ্রেপ্তার করতে পারে এনসিবি।

শনিবার রাতে এক মাদক পার্টি থেকে শাহরুখ খানের পুত্র আরিয়ান খান সহ আটজনকে আটক করে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। আরিয়ানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য সেবন ও মাদক কেনা বেচার গুরুতর অভিযোগ এনেছে এনসিবি। দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর বাজেয়াপ্ত করা হয় আরিয়ানের ফোন। খতিয়ে দেখা হয়, শেষ কয়েকদিন কার কার সঙ্গে ফোনে ও হোয়াটস অ্যাপে কথা বলেছেন আরিয়ান।

এরপরই আরিয়ান খান, আরবাজ মার্চেন্ট ও মুনমুন ধামেচা, নুপূর সারিকা, ইশমিত সিং, মোহক জয়সওয়াল, বিক্রান্ত চোকার, গোমিত চোপড়াকে গ্রেপ্তার করে এনসিবি। রবিবার আদালতে আরিয়ানের আইনজীবী সতীশ মানশিণ্ডে জানান যে এই পার্টিতে যাওয়ার টিকিটও ছিল না আরিয়ানের কাছে, তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এমনকি আরিয়ানের কাছে কোনও মাদকদ্রব্য ছিল না। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করাই ভুল, বলে দাবি করেন আইনজীবী।

নিউজ ট্যাগ: শাহরুখের ছেলে

আরও খবর



জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৬১৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে আজ ভাষণ প্রদান করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আগের বছরগুলোর মতই বাংলা ভাষায় তিনি ভাষণ দেন।

নীচে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পূর্ণ বিবরন দেয়া হল-

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

মাননীয় সভাপতি,

আসসালামু আলাইকুম।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আপনার প্রত্যাশার নেতৃত্বে (প্রেসিডেন্সী অব হোপ) আমাদেরকে টেকসই পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাবে যেখানে কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না।

 নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক ৭৫তম অধিবেশনে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বিদায়ী সভাপতি ভলকান বোজকিরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এটা আমার জন্য অত্যন্ত  গর্বের যে, আমি এ নিয়ে ১৭ বার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আমার দেশ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি।

সাধারণ পরিষদের এই ৭৬তম অধিবেশনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কোভিড-১৯ বিশ্বজুড়ে অব্যাহতভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। করোনার নতুন ধরনের মাধ্যমে অনেক দেশ বার বার সংক্রমিত হচ্ছে। এ মহামারিতে গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত  হয়ে পড়েছে।

এ সঙ্কটকালে নিবেদিত সেবা ও আত্মত্যাগের জন্য আমি সম্মুখ সারির সকল যোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কোভিড-১৯-এর নির্মম বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য প্রত্যাশা অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। বহুপাক্ষিকতাবাদ ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ এই সঙ্কটকালে জাতিসংঘকে আশা ও আকাংখার প্রতীক হিসেবে দেখে। সব ধরনের মতভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের অবশ্যই অভিন্ন মানবজাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারও এক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতি মহোদয়,

এ বছরটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। একইসঙ্গে আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উদযাপন করছি।

আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাঁর আজীবন নিঃস্বার্থ সংগ্রাম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব আমাদের এনে দিয়েছে স্বপ্নের স্বাধীনতা। আমি শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, যাদের অসীম বীরত্ব ও আত্মত্যাগে আমাদের  মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে।

আমাদের জাতির পিতা ছিলেন বহুপাক্ষিকতাবাদের একজন দৃঢ় সমর্থক। তিনি জাতিসংঘকে জনগণের আশা-আকাংখার কেন্দ্র মনে করতেন।

আমাদের জাতিসংঘ অভিযাত্রার প্রথম দিনে ১৯৭৪ সালের ২৫-এ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রদত্ত তাঁর ঐতিহাসিক একমাত্র ভাষণে তিনি বলেছিলেন: আত্মনির্ভরশীলতাই আমাদের লক্ষ্য। জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও যৌথ উদ্যোগই আমাদের নির্ধারিত কর্মধারা। এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্পদ ও প্রযুক্তিবিদ্যায় অংশীদারিত্ব আমাদের কাজকে সহজতর করতে পারে, জনগণের দুঃখকষ্ট লাঘব করতে পারে। 

বঙ্গবন্ধু এমন একটি বিশ্ব গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক অবিচার, আগ্রাসন ও পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি থাকবে না। সাতচল্লিশ বছর আগের তাঁর সে আহ্বান আজও সমভাবে প্রযোজ্য। এ জন্য আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের যে কোনো উদ্যোগে সমর্থন ও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছি। করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য হিস্যা দাবী, ফিলিস্তিনিদের প্রতি যেকোনো ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা- এসব আমাদের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের কতিপয় উদাহরণ মাত্র। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল পাঁচটি অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম। জিডিপি-তে আমরা বিশ্বের ৪১তম। গত এক দশকে আমরা দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছি।

এ সময়ে আমাদের মাথাপিছু আয় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২,২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

গত এক দশকে আর্থ-সামাজিক খাতে ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। শিশু মৃত্যু হার প্রতি হাজারে ২৩ দশমিক ৬৭-এ কমে এসেছে। প্রতি লাখ জীবিত জন্মে মাতৃ মৃত্যুর হার ১৭৩-এ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য মতে, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম। ২০১৪ সাল থেকে এ সূচকে বাংলাদেশ আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর চাইতে এগিয়ে আছে। 

আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নসহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছে। আমরা ব্যাপকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির সম্প্রসারণ করেছি। টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২১ অনুযায়ী ২০১৫ সাল থেকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রার সূচকে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে আছে। এ সাফল্যের মূলে রয়েছে নারীর উন্নতি ও ক্ষমতায়নে বিপুল বিনিয়োগ। এ বিনিয়োগ আমাদের  রূপান্তরসক্ষম উন্নয়নে বিপুল অবদান রেখেছে।

এ বছর আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের মাইলফলক অর্জন করেছি। এখন আমাদের স্বপ্ন বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশ ও ২১০০ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ ও টেকসই বদ্বীপে রূপান্তর করা।

জনাব সভাপতি,

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে আমাদের শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া, এ মহামারি মোকাবিলায় আমাদের সময়োচিত, সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করতে শুরুতে আমাদের বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিভিন্ন সময়ে আমরা ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে  প্রায় ১ হাজার ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের সংস্থান রাখা হয়েছে।

অতি দরিদ্র, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, বিদেশ-ফেরত প্রবাসী ও অসহায় নারীদের মতো সমাজের দুর্বলতর জনগোষ্ঠীর জন্যে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। গত বছর মহামারির প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে আমরা প্রায় ৪ কোটি মানুষকে নগদ অর্থসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়েছি। সময়োচিত পদক্ষেপ ও আমাদের জনগণের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার কারণে ২০২০ সালেও আমরা ৫ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি।

মাননীয় সভাপতি,

অনাদিকাল হতে মানবজাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি এবং মানবসৃষ্ট নানা সংঘাত ও দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। এতদসত্ত্বেও বুকে আশা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মানবজাতি এসব পাহাড়সম সমস্যা অতিক্রম করে টিকে রয়েছে।

এই মহামারিও এমনি একটি সঙ্কট যেখান থেকে বহু মানুষের টিকে থাকার অনুপ্রেরণামূলক এবং উদারতার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। দুঃখজনক হলেও এই মহামারি আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এ অভিন্ন শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভূক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

এ বিষয়ে আমি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরছি-

প্রথমত, কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। গত বছর এ মহতী অধিবেশনে আমি কোভিড-১৯ টিকাকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্বনেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন।

সে আবেদনে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং আমরা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বাড়তে দেখেছি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, এ যাবৎ উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো ১ শতাশেরও কম টিকা পেয়েছে।

জরুরি ভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারবো না।তাই আমি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তর  টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও ব্যাপক পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম।

দ্বিতীয়ত, এ মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জলবায়ূ পরিবর্তন বিষয়ক আন্ত:সরকার প্যানেলের ওয়ার্কিং গ্রুপ-১ এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে।

দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে। ধনী অথবা দরিদ্র কোন দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই আমি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি। 

 ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং ভালনারেবল-২০ গ্রুপ অব মিনিস্টারস অব ফাইন্যান্স-এর সভাপতি হিসেবে আমরা মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা- দশক ২০৩০ এর কার্যক্রম শুরু করেছি। এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুকে ঝুঁকির কারণ নয়, বরং সমৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে পরিণত করার কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে।

গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য কনফারেন্স অব পার্টিজ (কপ) এর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন আমাদের নতুন নতুন অন্তর্ভূক্তিমূলক পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ের অপার সুযোগ করে দিতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানাই।

তৃতীয়ত, মহামারির প্রকোপে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে আংশিক বা পুরোপুরি বিদ্যালয় বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি না থাকায় ভর্তি, স্বাক্ষরতার হার ইত্যাদি অর্জনগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।

ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য আমরা জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাই।

চতুর্থত, কোভিড-১৯ অতিমারির নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছি। তবে, এ মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাংখাকে বিপন্ন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনা ভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি। এলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্ততিমূলক কমিটির অন্যতম সভাপতি হিসেবে, আমরা আশা করি যে, দোহা সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট ফলাফল আরও বেশি সংখ্যক দেশকে সক্ষমতা দান করবে, যেন তারা স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে টেকসইভাবে উত্তরণ করতে পারে।

পঞ্চমত, মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তারাও সম্মুখসারির যোদ্ধা। তবুও তাঁদের অনেকে চাকুরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সঙ্কটকালে অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার এবং তাদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। 

ষষ্ঠত, রোহিঙ্গা সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে পড়লো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।

বাংলাদেশে তাদের সাময়িক অবস্থানকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে কিছু সংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আমরা ভাষানচর-এ স্থানান্তর করেছি। আশ্রয় শিবিরে কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তার রোধে টিকালাভের যোগ্য সকলকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। 

আগেও বলেছি, আবারও বলছি- রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

আমরা আশা করি, আসিয়ানের নেতৃবৃন্দ বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ইস্যুতে গৃহীত প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাদদিহি নিশ্চিতকরণে গৃহীত সকল কর্মকান্ডে সহযোগিতা করতে হবে।

সভাপতি মহোদয়,

আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আফগানিস্তানের বিনির্মাণ এবং ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ আফগানিস্তানের জনগণের উপরই নির্ভর করে। আফগানিস্তানের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশটির জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করে যেতে বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শান্তি। শান্তির সংস্কৃতি প্রস্তাবনার প্রধান প্রবক্তা হিসেবে আমরা শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের করাল থাবায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে। তাই আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখেছি। শীর্ষস্থানীয় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় অবদানের জন্য আজ আমরা গর্ববোধ করি। মহামারির নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বজুড়ে কঠিনতম পরিবেশে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংবিধানের আলোকে আমরা সর্বদা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের অবিচল সমর্থক। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সম্পূর্ণ নির্মূলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই প্রত্যয় থেকেই আমরা পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি অনুস্বাক্ষর করেছি। এ বছরের শুরুতে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

মাননীয় সভাপতি,

কোভিড-১৯ মহামারি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগের ঘাটতির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে এটি বৈশ্বিক সংহতি ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপরেও আলোকপাত করেছে।

সর্বজনীন বিষয়গুলোতে আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নতুন নতুন অংশীদারিত্ব ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য দেশগুলো এই জাতিসংঘের মঞ্চ থেকেই তা শুরু করতে পারে। তবেই আমরা সহনশীল ও অন্তর্ভূক্তিমূলক উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অর্থবহ সহযোগিতা অর্জন করতে পারবো।

এই ক্রান্তিলগ্নে জাতিসংঘই হোক আমাদের ভরসার সর্বোত্তম কেন্দ্রস্থল। আসুন, সেই ভরসাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে আমরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে একযোগে কাজ করি। শেষ করার আগে, সারা বিশ্বে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার এই মহান সংস্থার সামনে বিগত প্রায় ৪৬ বছর আগে আমার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে চাই। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরে একদল বিপথগামী ঘাতক আমার পিতা, বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার স্নেহময়ী মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ভাই মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লে. শেখ জামাল, ১০ বছরের শেখ রাসেল, চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য ও নিকটাত্মীয়কে নির্মমভাবে হত্যা করে।

আমি ও আমার ছোটবোন শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে যাই। আমাদের ৬ বছর দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। স্বজন হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছি। দেশে ফিরে আমি মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করি। জাতির পিতার স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যে আজও আমি কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।

সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।

খোদা হাফেজ।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।


আরও খবর



সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজির মহোৎসব

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৭৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সড়ক-মহাসড়কে নির্বিঘ্নে চলছে পরিবহণ চাঁদাবাজির মহোৎসব। বিভিন্ন বাস কোম্পানি, ব্যক্তি, সংগঠন ও সমিতির নামে টার্মিনাল এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টপেজ থেকে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা উঠানো হচ্ছে। রাজধানীতেই চলাচলকারী গণপরিবহণের মধ্যে শুধু বাস থেকেই উঠে অন্তত ৫০ লাখ টাকা চাঁদা। সেই হিসাবে মাসে এই অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা।

রুট খরচ, কোম্পানি পরিচালনা, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সার্ভিস চার্জসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের কথা বলে আদায় করা হচ্ছে এই অর্থ। পরিবহণ সেক্টরে এটা জিপি বা চাঁদা হিসাবে পরিচিত। কেবল বাস থেকেই চাঁদা উঠছে, তা নয়। মোটা অঙ্কের চাঁদা উঠানো হয় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লেগুনা, টেম্পোসহ অন্যান্য যানবাহন থেকেও।  নিজস্ব অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য।

সূত্র জানায়, ঢাকা ও এর আশপাশ জেলায় কাগজে-কলমে তিনশর বেশি রুটে প্রায় ১০ হাজার বাস ও মিনিবাস চলাচলের অনুমোদন রয়েছে। তবে বাস্তবে প্রতিদিন চলে সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার বাস। এসব যানবাহন চললেই রুট ও কোম্পানি অনুযায়ী দিনে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা দিতে হচ্ছে। কিন্তু প্রভাবশালীদের নামে বা বেনামে চলাচল করা বাসের ওই চাঁদা দিতে হয় না। এছাড়া রাজধানীর অন্তত চারটি রুটে এসি বাস চলে। এগুলোর চাঁদা দেওয়ার অঙ্ক অন্যগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) মোশাররফ হোসেন মিয়াজী বলেন, সড়ক-মহাসড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এখন থেকে রাস্তায় কেউ চাঁদা তুলতে পারবে না। টার্মিনালগুলোয় সিটি করপোরেশন এবং মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো নিজ নিজ অফিসে বসে নির্ধারিত চাঁদা তুলতে পারবে।

এর বাইরে কেউ চাঁদাবাজি করলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। সূত্রমতে, প্রভাবশালী ছাড়া সাধারণ মালিকদের অন্তত ছয় হাজার গাড়ি থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। গাড়িপ্রতি ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। গাড়িপ্রতি গড়ে ৮৫০ টাকা চাঁদা ধরলেও দিনে ৫০ লাখ টাকা উঠছে।

এছাড়া মহাসড়কে বিভিন্ন পরিবহণ থেকে চাঁদা তোলার অঙ্কও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ ব্যাপারে সাম্প্রতিক সময়ের তেমন কোনো পরিসংখ্যান দায়িত্বশীল কারো কাছ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়া যায়নি। তবে ২০১৯ সালে হাইওয়ে পুলিশের এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। এখন তা আরও বেড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশের মহাসড়কগুলো থেকে প্রতিদিন চাঁদা উঠছে ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫ টাকা। যা বছরে দাঁড়ায় ৮৫ কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৫ টাকা। বিভিন্ন মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী ৫৮ হাজার ৭১৯টি যানবাহন থেকে তোলা হয়েছে মোটা অঙ্কের এ চাঁদা। এ টাকা আদায় করছে পরিবহণের মালিক-শ্রমিকের নামে ২১৫টি সংগঠন।

এগুলোর নেতৃত্বে আছেন সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা। পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ছাড়াও মহসড়কের কোনো কোনো স্থানে পৌর কর ও মসজিদ উন্নয়নের নামেও প্রতিদিন আদায় করা হচ্ছে মোট অঙ্কের অর্থ। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চাঁদাবাজির এ চিত্র শুধু মহাসড়কের। তবে জেলার অভ্যন্তরে বিভিন্ন সড়কে চাঁদা আদায়ের ব্যাপকতা আরও অনেক বেশি।

এ ধরনের চাঁদা আদায় না করতে ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি।

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সম্প্রতি ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, ট্যাংক, লরি প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। বিষয়টি নিয়ে রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশের কেউ চাঁদা দাবি করলে তা সঙ্গে সঙ্গেই হটলাইনে জানানোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, চাঁদাবাজি অগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এটি বন্ধের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। ওই বৈঠকে চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোম্পানির নামে চাঁদাবাজি বিষয়ে তিনি বলেন, মালিকরা চাঁদা নিয়ে থাকলে সেটি অন্যায়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, পুলিশ একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে। ভুক্তভোগীরা সেখানে অভিযোগ জানাতে পারেন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রজাপতি পরিবহণের অধীনে রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী একাধিক গাড়ির মালিক  বলেন, মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়ন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারদলীয় সংগঠন এবং পুলিশের নামে চাঁদা দিতে হয়। আমাদের গাড়ি আব্দুল্লাহপুর থেকে ঘাটারচর (বছিলা, মোহাম্মদপুর) পর্যন্ত চলে। গাড়ি রাস্তায় বের করলেই ১ হাজার ৪০০ টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে।

মালিক সমিতিকে দিতে হচ্ছে ৪০০ টাকা, ঘাটারচর এবং আব্দুল্লাহপুরে চাঁদাবাজ চক্রকে দিতে হচ্ছে ২০০ টাকা, যাওয়া-আসার পথে ১৫ জন সুপারভাইজারকে ২০ টাকা করে দিতে হয়। এই টাকার অর্ধেক কোম্পানি পরিচালনা পরিষদ নেয়। বাকি অর্ধেক সুপারভাইজাররা নেয়। তিনি বলেন, পুলিশ আমাদের কাছ থেকে আগে সরাসরি মাসোহারা নিলেও এখন নেয় না। এখন কোম্পানির (পরিবহণের পরিচালনা পরিষদ) কাছ থেকে নেয়। তবে আমাদের কাছ থেকে কোম্পানি যে হারে টাকা নেয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই হারে পুলিশকে দেওয়া হয় না। তখনই পুলিশ ঝামেলা করে। মামলা দেয়। এছাড়া পুলিশ গাড়ি ধরলেই ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রুট খরচের নামে নীলাচল পরিবহণ বাস থেকে দিনে ২ হাজার ৩০০, ঠিকানা পরিবহণ ৮০০, মৌমিতা ১ হাজার ২০০, ডি-লিংক ৮০০, সাভার পরিবহণ ১০০০, ভিক্টর ক্লাসিক ১ হাজার ৩০০, রবরব ৯০০ ও মক্কা পরিবহণ ১ হাজার ৪০০ টাকা। এছাড়া বলাকা পরিবহণ ১ হাজার ৮০০, আকাশ পরিবহণ ১ হাজার ২০০, রমজান পরিবহণ ১ হাজার ৩০০, প্রভাতী-বনশ্রী ৮০০, রজনীগন্ধা এক হাজার ৫০০, শিকড় পরিবহণ ৮০০, বিকাশ পরিবহণ ১ হাজার ৮০০, বিহঙ্গ পরিবহণ ১ হাজার ৭০০, গাজীপুর পরিবহণ ১ হাজার ৬০০, স্বজন ৯০০, বসুমতী ১ হাজার ৬০০, আজমেরি ১ হাজার ৫০০, আসমানি ১ হাজার ৩০০, দেওয়ান পরিবহণ ৭০০, শুভযাত্রা ৮০০ টাকা, মিডলাইট ৯০০, ইতিহাস ১ হাজার ১০০, রাজধানী পরিবহণ ৮০০, মোহনা ৮০০, ট্রান্স সিলভা ৯০০, রাইদা ১ হাজার ৮০০, অনাবিল ১ হাজার ৩০০ এবং বৈশাখী থেকে ৮০০ টাকা করে নেওয়া হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রাবাড়ীর কুতুপখালী বিশ্বরোড (ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রোডে যেতে হাতের ডান পাশে)। ডাচ্-বাংলা এটিএম বুথের পাশে পঁচা ডোর অ্যান্ড ফার্নিচারের সামনে মূল রাস্তার ফুটপাতে বেঞ্চে বসেছিলেন দুই পুলিশ সদস্য। রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন অপর এক পুলিশ সদস্য। তবে তাদের কোনো তৎপরতা ছিল না।

কিন্তু পুলিশের লাইট দিয়ে নীল আলো জ্বালিয়ে এদিক-সেদিক ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছিলেন দুই যুবক। এদের একজনের পরনে ছিল লাল শার্ট। অন্যজনের পরনে সাদা শার্ট। তারা রিকশা, ভ্যান এবং নানা ধরনের গাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল তারাই পুলিশ সদস্য। এ সময় রং-সাইড দিয়ে ইটভর্তি একটি ট্রাক (মোমেনশাহী-১৭) যাচ্ছিল। লাল শার্ট পরিহিত যুবক ওই ট্রাক থামিয়ে ২০০ টাকা দাবি করলেন।

পরে চালক তাকে ৫০ টাকা দিলেন। পাশে দাঁড়িয়ে যুগান্তর প্রতিবেদক বিষয়টি দেখছিলেন। ওই দুই যুবক এবং পুলিশ সদস্য বিষয়টি বুঝতে পরে তাদের তৎপরতা কমিয়ে দিলেন। এরপর আধা ঘণ্টা ধরে সেখানে অবস্থান করলেও পুলিশ বা যুবকদের তৎপরতা সে অর্থে দেখা যায়নি। তিন পুলিশ সদস্য বসেছিলেন ফুটপাতের বেঞ্চে। এদের একজনের নেমপ্লেটে লেখা জিয়াউর। পাশেই পার্কিং করা ছিল পুলিশের একটি গাড়ি (ই : নং ২৭৮৭)।

ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ শাখার যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাক ধরা হয়। কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে সেখানে চাঁদাবাজি করা হয়। গাড়িপ্রতি ১০০ টাকা থেকে শুরু করে সেখানে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, পুলিশ এখন সরাসরি নিজের হাতে টাকা নেয় না।

তারা সোর্সের মাধ্যমে গাড়ি আটকায়। টাকাও তাদের মাধ্যমে নেয়। গাড়ি আটকানোর সময় পুলিশ সদস্যরা পাশেই থাকেন। সোর্সরা অনেক সময় বেশি টাকার লোভে চালক-হেলপারদের মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। তিনি বলেন, কাঁচপুর এবং তারাবো এলাকায়ও একই কায়দায় চাঁদা আদায় করা হয়। সিটি করপোরেশনের নামে রাস্তায় কোনো গাড়ি থেকে চাঁদা তোলা যাবে না বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা আছে।

তারপরও রাজধানীর শনিরআখড়া, কাজলা এবং রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের নামে গাড়িপ্রতি ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হচ্ছে। চাঁদা আদায়কারীরা রাস্তায় লাঠিসোঁটা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। চালকরা তাদের ভয়েই টাকা দিয়ে দেন। এই টাকার ভাগ যাচ্ছে পুলিশের পকেটেও। তিনি আরও বলেন, কোনাবাড়ী এলাকা সিটি করপোরেশনের মধ্যে নয়। সেখানেও সিটি করপোরেশনের নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে।

সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, সারা দেশেই পরিবহণ সেক্টরে পুলিশের হয়রানি, চাঁদাবাজি এবং মাসোহারা সিস্টেম চালু আছে। এছাড়া স্পট চাঁদাবাজি তো আছেই। চাঁদাবাজির কয়েকটি স্পট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাইপাইলে সাভার থানা পুলিশ, এলেঙ্গায় হাইওয়ে পুলিশ গাড়িপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে নিচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে গাড়ি ছাড়িয়ে আনতে ১০ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত টাকা লাগছে। তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ মোড়ে থানা পুলিশ টাকা আদায় করছে। চট্টগ্রামের বাড়ইহাট এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ গাড়িপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে নিচ্ছে। দৌলতদিয়া ঘাটে পুলিশ, মাস্তান, বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসি চাঁদাবাজি করছে।

ট্রাক পারাপারে যেখানে দুই হাজার ২০০ টাকা লাগে সেখানে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাজধানীর গুলিস্তান, জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, মতিঝিল, গোলাপবাগ, রাজধানী মার্কেট, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, কাজলা, শনিরআখড়া, রায়েরবাগ, স্টাফ কোয়ার্টার, দোলাইরপাড়, কোনাপাড়া, পোস্তগোলা ব্রিজের দুই পাশে এবং ফকিরাপুলসহ বিভিন্ন এলাকায় থানা ও ট্রাফিক পুলিশ চাঁদাবাজি করে।

শনি এবং রবিবার সরেজমিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে শুরু করে সাইনবোর্ড পর্যন্ত মহাসড়কে চাঁদাবাজির দৃশ্য চোখে পড়ে। চাঁদা আদায় করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ নামধারী নেতা ও পুলিশ সদস্যরা। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে রয়েছে হিউম্যান হলার ও লেগুনা স্ট্যান্ড। এসব লেগুনা থেকে জিপির নামে দৈনিক ৫৫০ টাকা, লাইনম্যানের নামে ২০ টাকা করে আদায় করা হয়। রায়েরবাগ ফুটওভার ব্রিজের দক্ষিণ পাশে দুই শতাধিক অটোরিকশা ও সিএনজি থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করেন স্থানীয় জাহাঙ্গীর। এ টাকার ভাগ যায় ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগেও।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টাকা ভাংতির নামে হচ্ছে চাঁদাবাজি। যেটি পরিবহণ খাতে ব্যাকমানি হিসাবে পরিচিত। প্রতিদিন সকালে বাস ছাড়ার সময় বাসচালক ও চালকের সহকারীদের বাধ্যতামূলক দেওয়া হয় খুচরা টাকা। ট্রিপ শেষে ওই বাসচালকদের কাছ থেকে নেওয়া হয় এক হাজার বা ৫০০ টাকার নোট। প্রয়োজন না হলেও চালক-হেলপারদের নিতে হচ্ছে খুচরা টাকা। আর ফেরত দিতে হচ্ছে টাকার বড় নোট। সাধারণত ৯০০ টাকার খুচরা টাকার বিপরীতে বাসের চালককে বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হয় এক হাজার টাকা।এ চাঁদার টাকার ভাগ যায় পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতাদের পকেটেও। সূত্র: যুগান্তর


আরও খবর



বিশ্বকাপের উদ্দেশে যাওয়া হলো না বাংলাদেশ দলের

প্রকাশিত:রবিবার ০৩ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ অক্টোবর ২০২১ | ৪০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাংলাদেশ দল যখন বিশ্বকাপের উদ্দেশে ওমানে রওনা দেওয়ার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই ওমানের আবহাওয়ার কারণে যাত্রা নিয়ে আসে দুঃসংবাদ। গুঞ্জন শোনা যায়, ঘূর্ণিঝড় শাহিনের কবলে পিছিয়ে যেতে পারে মাহমুদউল্লাহদের বিশ্বকাপ যাত্রা। পরে সেই গুঞ্জনই সত্যি হয়েছে। নির্ধারিত ফ্লাইটে ওমান যাওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশ দলের। খবরটি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান।

এর আগে দুপুরের দিকে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় শাহিনের কারণে বিমানের যাত্রীদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে ওমান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসের এই খবরে নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ দলের ওমানযাত্রার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ হয়ে এসেছিল। বিসিবি থেকে তখন জানানো হয়, বাংলাদেশ দলের ওমানে যাওয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বিকেল ৫টার পর। পরে বাতিল করা হয় যাত্রা।

মূলত আরব সাগরে উৎপত্তি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় শাহিনের। ঘূর্ণিঝড় শাহিনের প্রভাবে ওমানে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সাগরের পানি ৫ থেকে ১২ মিটার উচ্চতা দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেশটির দক্ষিণ উপকূলের রাজধানী শহর মাসকাটের। এই অঞ্চলে ২০০-৬০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব কারণে ওমান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছিল।

নিউজ ট্যাগ: বাংলাদেশ দল

আরও খবর