আজঃ মঙ্গলবার ০৩ আগস্ট ২০২১
শিরোনাম

জনপদের সংবাদ | পাবনাতে চলছে স্বাস্থ্য সহকারী এসোসিয়েশন ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক সমিতির কর্মবিরতি

প্রকাশিত:সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৩৩৯জন দেখেছেন



আরও খবর



কাশ্মীরে সংঘাতে দুই ভারতীয় সেনাসহ নিহত ৮

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৯ জুলাই ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৯ জুলাই ২০২১ | ৯৪জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে তিনটি আলাদা বন্দুকযুদ্ধে দুই ভারতীয় সেনাসহ ৮ জন নিহত হয়েছে। ভারতের দাবি, নিহত অন্য ছয় জন সন্ত্রাসী। বৃহস্পতিবারে সবচেয়ে বড় সংঘাতটি হয় লাইন অব কন্ট্রোলের কাছে। সেখানে বন্দুকযুদ্ধে দুই সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী ও দুই ভারতীয় সেনা নিহত হয়। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, সেনাবাহিনীর একটি দল নিয়ন্ত্রণ রেখায় টহল দিচ্ছিল। এসময় সন্ত্রাসীরা হঠাৎ করে তাদের ওপর হামলা চালায়। শুরু করে গুলি, নিক্ষেপ করে হাত বেমা। পরে সেনাবাহিনীর আত্মরক্ষামূলক গুলিতে নিহত হয় সন্দেহভাজন দুই সন্ত্রাসী। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ২টি একে ৪৭ বন্দুক। খবর আল জাজিরা।

এছাড়া দক্ষিণ কাশ্মীরে পুলওয়ামা ও কুলগামে আরও দুটি অভিযানে ৪ জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নিহত হয়। ভারতীয় পুলিশ বলছে, কুলগামে যে দুজন নিহত হয় তারা জাতীয় মহাসড়কে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে শুরু হয় সংঘর্ষ। নিহত ৪ সন্ত্রাসীর নাম শাহবাজ আহমেদ শাহ, নাসির আইয়ুব পণ্ডিত, কিফায়াত সোফি ও ইনায়েত আহমেদ। এদের মধ্যে শাহবাজ জইশ ই-মোহাম্মদের সদস্য আর বাকিরা লস্কর ই-তৈয়বার সদস্য।

এর আগে গত ২ জুলাই ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার রাজপোড়া অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাকামী যোদ্ধাদের সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্যারামিলিটারি বাহিনীর সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বিচ্ছিন্নতাকামী এবং একজন ভারতীয় সেনা।

ভারতের দাবি, নিহত হওয়া বিচ্ছিন্নতাকামী পাঁচজন পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়্যবার সদস্য। এর আগে গত ১ জুলাই রাতে রাজপোড়া এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। এ অভিযানে নিহত হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সদস্য ও পাঁচ সশস্ত্র যোদ্ধা।

এদিকে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও সম্প্রতি নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। ৩০ জুন উপত্যকার কুলগ্রাম বনাঞ্চলে সেনাদের হামলায় সন্দেহভাজন তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। ১ জুলাই দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৬১ জঙ্গি নিহত হয়।

এর আগে গত ২৪ জুন দিল্লিতে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠক করেন উপত্যকার নেতারা। সেখানে কাশ্মীরকে ফের রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কাশ্মীরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের প্রায় দুই বছর পর এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। তবে কখন মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া হবে তা খোলাসা করেননি নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, উপযুক্ত সময়ে তা ফিরিয়ে দেয়া হবে।

তিন ঘণ্টার এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আটটি দলের ১৪ জন নেতা। ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও লেফটন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। কাশ্মীরের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুখ আবদুল্লাহ, ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি।

বৈঠক শেষে কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ বলেন,তাদের মোট পাঁচটি দাবি ছিল। অবিলম্বে জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিধানসভা নির্বাচন দিতে হবে, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে ও আধিপত্য আইনে বদল আনতে হবে।

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির বলেন, কাশ্মীরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে। কাশ্মীরের জনগণ তাদের বিশেষ মর্যাদার জন্য শান্তিপূর্ণভাবে লড়াই চালিয়ে যাবেন, তাতে যত সময় লাগুক।

২০১৯ সালের আগস্টে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। ফলে কাশ্মীর এতদিন যে বিশেষ অধিকার পেত তা খারিজ হয়ে যায়। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যটিকে ভেঙে দুইটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। এর একটি হলো লাদাখ এবং অপরটি জম্মু-কাশ্মীর। অঞ্চলটির সার্বিক উন্নয়নের জন্যই ভারত এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানায় নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার।

নিউজ ট্যাগ: ভারত কাশ্মীর

আরও খবর



মুনিয়ার মৃত্যু: বসুন্ধরার এমডি সায়েমের সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ জুলাই ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ জুলাই ২০২১ | ১১৩জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশের চাঞ্চল্যকর ঘটনা কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু। এই ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তদন্তে নেমে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পায়নি পুলিশ। এজন্য আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলা থেকে আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, মুনিয়া আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে। এটি গত সোমবার (১৯ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দাখিল করা হয়।

এদিকে জানা গেছে, পুলিশের দেওয়া ওই প্রতিবেদনের ওপর আগামী ২৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। ওইদিন আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন পুলিশের জমা দেয়া চূড়ান্ত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করবেন কিনা।

গত ২৬ এপ্রিল রাতে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর দায়ের হওয়া মামলায় আসামি করা হয় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার দিন রাতেই মুনিয়ার বোন নুসরাত বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগ করা হয়, এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয়ের পর ২০১৯ সালে আনভীর মুনিয়াকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনভীরের পরিবার মুনিয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পারে। তখন আমার বোনকে (মুনিয়াকে) আনভীরের জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন তার মা।

এ ঘটনার পর আনভীর মুনিয়াকে কৌশলে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন। গত মাসের (মার্চ) ১ তারিখে গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার বি/৩ ফ্যাটটি ভাড়া নেন আনভীর। ১ মার্চ থেকে মুনিয়া সেই ফ্ল্যাটেই ছিলেন এবং আনভীর মাঝে মাঝে ওই ফ্ল্যাটে আসা যাওয়া করতেন।

গত ২৩ এপ্রিল ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় ইফতার পার্টিতে গিয়ে মুনিয়া ছবি তোলেন। ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে সেই ছবি পোস্ট করলে সেটি আনভীরের পরিবারের একজন দেখে ফেলেন এবং আনভীরকে জানান। বিষয়টি নিয়ে আনভীর মুনিয়াকে বকাঝকা করেন এবং হুমকি দেন। ২৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে মুনিয়া তার মোবাইল নম্বর থেকে নুসরাতকে ফোন করে কান্নাকাটি শুরু করেন। তিনি বলেন, আনভীর আমাকে বিয়ে করবে না, সে শুধু আমাকে ভোগ করেছে। এছাড়া আমাকে সে মনে রাখিস তোকে আমি ছাড়ব না বলে হুমকি দিয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, মুনিয়া নুসরাতের কাছে চিৎকার করে বলেন, যেকোনো সময় আমার বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তোমরা তাড়াতাড়ি ঢাকায় আসো।

মোসারাত জাহান মুনিয়া মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। ২৬ এপ্রিল রাতে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

গুলশান থানা সূত্রে জানা যায়, মুনিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বাড়ির মালিক, মালিকের মেয়ের জামাইসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলা সংক্রান্ত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তারা। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করেছে পুলিশ।

মুনিয়া যে ফ্ল্যাটটিতে থাকতেন সেই ভবনের বেশকিছু সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করে পুলিশ। সেসব সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই ফ্ল্যাটে সায়েম সোবহান আনভীরের যাতায়াতের প্রমাণ পায় তারা। তবে ঘটনার দিন বা এর আগের দিন মুনিয়ার ফ্ল্যাটে আনভীরের যাতায়াতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে এই দুই দিন সন্দেহজনক কারও যাতায়াত ওই বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাটের আশপাশে পাওয়া যায়নি।



আরও খবর



লকডাউনেও বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায়ে রেকর্ড

প্রকাশিত:সোমবার ০২ আগস্ট 2০২1 | হালনাগাদ:সোমবার ০২ আগস্ট 2০২1 | ৪৯জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে দুদিনে ৮২ হাজার ৭৯৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। টোল আদায় হয়েছে পাঁচ কোটি ৩৯ লাখ ১৫ হাজার ৬৭০ টাকা।

এর মধ্যে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ হাজার ৯৪০টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে। এতে সেতুতে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার ৩১০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব ও পশ্চিমপাড় টোল প্লাজা দিয়ে বাস, ট্রাক, লরি, পিকআপ, মাইক্রো, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে দুদিনে ৮২ হাজার ৭৯৭টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে।

এর মধ্যে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ হাজার ৮৫৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় করা হয়েছে দুই কোটি ৬০ লাখ ৬২ হাজার ৩৬০ টাকা ও সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যানবাহন পারাপার হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৪০টি। টোল আদায় করা হয়েছে দুই কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার ৩১০ টাকা।

ঈদুল আজহার আগে গত ১৮ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ১৯ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, লরি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য পরিবহন পারাপার হয়েছিল ৩৯ হাজার ৪৮১টি। এতে টোল আদায় হয়েছিল দুই কোটি ৯৮ লাখ ৪৮ হাজার ৪০ টাকা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বঙ্গবন্ধু সেতুর সাইট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা চালুর ঘোষণা এবং শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরতে গণপরিবহণ ও অন্যান্য পরিবহন চলাচল শুরু হয়। এতে গত দুদিনে মহাসড়কে তুলনামূলক অনেক বেশি গাড়ি বঙ্গবন্ধু সেতু পারাপার হয়েছে। এতে রেকর্ডসংখ্যক পরিবহণ পারাপারের পাশাপাশি টোল আদায়েও রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।



আরও খবর



ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চাইলেন ডা. জাহাঙ্গীর কবীর

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৩ আগস্ট ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৩ আগস্ট ২০২১ | ৫০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিডিও সরিয়ে নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন লাইফস্টাইল নিয়ে দেশের আলোচিত চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের নিজস্ব ভেরিফায়েড পেজে তিনি ক্ষমা চান।

করোনা টিকা নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনার ভ্যাকসিন বিষয়ে কিছু তথ্য সহজভাবে বোঝাতে গিয়ে আমার অসাবধানতা বশত ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম। এ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে আমি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ভিডিওতে যে তথ্যগুলো ভুল ছিল এবং যে কথাগুলো জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে সেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে পূর্বের ভিডিওটি অনলাইন থেকে সরিয়ে নিয়েছি। একইসঙ্গে সবাইকে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য পরামর্শ এবং উৎসাহ দিয়েছি।

ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

আসসালামু আলাইকুম, আমি ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর। সুস্থ থাকার লক্ষ্যে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা নিয়ে কাজ করছি। সেই লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন ধরে আমার রোগীদের লাইফস্টাইল মডিফিকেশনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। ইদানিংকালে আমার একটি ভিডিও এবং দুটি পোস্ট নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমত সুস্থ থাকার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আমি একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলাম, সেখানে করোনার ভ্যাকসিন বিষয়ে কিছু তথ্য সহজভাবে বোঝাতে গিয়ে আমার অসাবধানতা বশত ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম। এ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে আমি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ভিডিওতে যে তথ্যগুলো ভুল ছিল এবং যে কথাগুলো জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে সেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে পূর্বের ভিডিওটি অনলাইন থেকে সরিয়ে নিয়েছি। একইসঙ্গে সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য পরামর্শ এবং উৎসাহ দিয়েছি। এরপরেও কয়েকজন সম্মানিত ডাক্তার আমাকে ভুল বুঝে সরাসরি আমার নাম উল্লেখ করে নানান রকম পোস্ট করেন। তন্মধ্যে একটি পোস্টের স্ক্রিনশট আমি আমার পেজে শেয়ার করেছিলাম।

এছাড়া অন্য একটি জনসচেতনতামূলক পোস্টে উদাহরণ স্বরুপ একটি প্রেসক্রিপশন শেয়ার করেছিলাম। ওই প্রেসক্রিপশনটি যিনি লিখেছিলেন তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমি তার নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি প্রকাশ করিনি। তথাপি এই পোস্টটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে তৎক্ষণাৎ দুটি পোস্টই ডিলিট করে দেই। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের ডাক্তার সমাজের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনসেবা করে যাচ্ছেন, মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন, এজন্য প্রত্যেক ডাক্তারই আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও শ্রদ্ধাভাজন। একজন ডাক্তার হিসেবে আমি কখনোই কাউকে অসম্মান করতে পারি না এবং আমি তা করতে চাইও না। তবুও আমার অন্বিচ্ছায় তা হয়ে থাকলে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

উপরোক্ত বিষয়গুলোর বাইরে আরও যে বিষয়ে সমালোচনা এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো, আমার পরামর্শকে কিটো ডায়েট হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমি বহুবার নানান ভিডিওর মাধ্যমে বলেছি যে আমি শুধুমাত্র ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলি না। আমি মূলত পাঁচটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি অটোফেজি, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক প্রশান্তির চর্চা করাকে সমানভাবে গুরুত্ব দেই। আমি কখনোই ঔষধ বিরোধী না, আমি সব সময় বলে এসেছি জরুরি চিকিৎসায় ঔষধ অপরিহার্য। তবে লাইফস্টাইল রোগগুলো লাইফিস্টাইল মডিফাই করে প্রতিরোধ করা যেতে পারে এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমিও আমার রোগীদের প্রয়োজনে ঔষধ লিখছি, সুতরাং ঔষধের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আমি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছি যেন স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ঔষধ ছাড়া সুস্থ থাকতে পারেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, যেসব রোগীরা সরাসরি আমার পরামর্শ নেন আমি তাদের নিয়মিত অবজারবেশনে রাখার চেষ্টা করি এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আমার পরামর্শের নানান প্রভাব ও প্রতিকারের বিষয়ে আলোকপাত করে থাকি।

সর্বোপরি আমি মনে করি চিকিৎসক সমাজে আমরা সবাই সহকর্মী, একে অপরের সহযোগী। এখানে রয়েছেন আমার সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা, শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই-বোন, বন্ধুরা ও আগামীর সম্ভাবনাময় জুনিয়র ডাক্তাররা। জনস্বার্থে সব চিকিৎসকই একেকজন যোদ্ধা। করোনা মহামারির এ চরম দুর্দিনে ডাক্তারদের মত যোদ্ধারাই নিজেদের জীবন ঝুঁকির কথা ভুলে জরাগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকেছে এখনো আছে। আজকের পুরো বিশ্ব চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি সকলের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে, তাই আপনারা আমার কোনো ভুল ধরিয়ে দিলে আমি তা শুধরে নেব। নিজের ভুলকে আমি ভুল হিসেবে গ্রহণ করে তা শুধরে নেব, আর আপনাদের কাছেও আমার অনুরোধ আপনারা আমার পূর্বের ভুলগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেননা আমরা তো সকলে মিলে মানব সেবার ব্রতেই চিকিৎসা পেশাকে বেছে নিয়েছি আর সেজন্য আমরা একে অপরের প্রতি সম্মান রেখে একযোগে কাজ করতে পারি।

আমি নিজেও একজন চিকিৎসক, সবসময়ই প্রত্যেক চিকিৎসকের সম্মান রক্ষা ও অবদান স্বীকার আমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। বহু আগে থেকেই আমি নিজেও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও দায়িত্ব নিয়ে সোচ্চার আছি। সেই লক্ষ্যে আমি ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিস (এফডিএসআর) এর সঙ্গে প্রোগ্রাম করেছিলাম, তা আমার পেজ থেকে শেয়ার করেছিলাম সকলের উদ্দেশে। তবুও মানুষ হিসেবে আমি ভুলের ঊর্ধ্বে নই। তাই আমার কথায় হয়তো অনেক সহকর্মী- সিনিয়র চিকিৎসক কষ্ট পেয়েছেন কিংবা মনক্ষুণ্ন হয়েছেন। আমি তাদের সবার প্রতি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

এর আগে গতকাল (২ আগস্ট) অপচিকিৎসার অভিযোগ তুলে ডা. জাহাঙ্গীরকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিটিলিস (এফডিএসআর)। সংগঠনটি বলছে, এটি বন্ধ না করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিষোদগারের জন্য তাকে (ডা. জাহাঙ্গীর) দুঃখ প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনার সাম্প্রতিক সময়ের কর্মকাণ্ড আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় এই পত্র লিখতে হচ্ছে। আপনি নিশ্চয়ই জানেন,

চিকিৎসক হিসেবে আমাদের যেমন নানারকম বিশেষ অধিকার রয়েছে তেমনি দায়িত্বও রয়েছে। এফডিএসআর মনে করে কোনো চিকিৎসকেরও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করার ও অসত্য বলার অধিকার নাই। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনি জীবনধারা পরিবর্তন ও এর মাধ্যমে নানারকম ক্রনিক রোগের চিকিৎসা করছেন বলে দাবি করেন।

এজন্য অনলাইন ও অফলাইনে মানুষকে সুস্থ জীবন গড়ে তোলার জন্য লাইফস্টাইল বা জীবনধারা পরিবর্তনের পরামর্শ দিচ্ছেন। এসবই আপাত দৃষ্টিতে চমৎকার কাজ। কিন্তু আপনার মনে রাখতে হবে আপনার পরামর্শ হতে হবে তথ্য উপাত্ত দিয়ে সমর্থিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আপনি সম্প্রতি বলেছেন কোভিড ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে শরীরে অ্যান্টিবডি প্রবেশ করানো হয়। আরও বলেছেন ভাইরাসের বিভিন্ন স্ট্রেইনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাকসিন দরকার।


আরও খবর



মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশিত:বুধবার ২১ জুলাই 20২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ জুলাই 20২১ | ৯৬জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বঙ্গভবনে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বুধবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গভবনের হলওয়েতে নামাজ আদায় করেন তিনি।

সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্য ও বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদুল আজহার জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়। রাষ্ট্রপতি নামাজ শেষে দেশবাসীর উদ্দেশে ঈদের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, আশা করি, সকলেই সরকার নির্ধারিত স্থানে কোরবানি সম্পন্ন করবেন এবং যথাসময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সচেষ্ট থাকবেন।

তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। মহান আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা।

তিনি বলেন, ঈদুল আজহা উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে চরম ত্যাগ ও প্রভুপ্রেমের পরাকাষ্ঠা। কোরবানি আমাদের মাঝে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করে নেওয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এবার মুসলিম বিশ্ব এমন একটা সময়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করছে যখন করোনার ভয়াল থাবায় গোটা বিশ্ব বিপর্যস্ত। বাংলাদেশেও করোনার নেতিবাচক প্রভাব ক্রমান্বয়ে প্রকট হচ্ছে। করোনার কারণে দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকা আজ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জীবন বাঁচানো প্রথম অগ্রাধিকার হলেও জীবন বাঁচিয়ে রাখতে জীবিকার গুরুত্বও অনস্বীকার্য।

তিনি বলেন, সরকার করোনা মোকাবিলা ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিভিন্ন প্যাকেজ প্রণোদনা প্রদানসহ বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। অসচ্ছল ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবেও বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। কৃষি ও শিল্পসহ উৎপাদনশীল প্রতিটি খাতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতেও সরকার সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।



আরও খবর