আজঃ শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১
শিরোনাম

জনপদের সংবাদ | পাবনাতে চলছে স্বাস্থ্য সহকারী এসোসিয়েশন ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক সমিতির কর্মবিরতি

প্রকাশিত:সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ২১১০জন দেখেছেন



আরও খবর



সোমবার দেশে আসছে ফাইজারের আরও ২৫ লাখ ডোজ টিকা

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৬৮০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় আগামীকাল সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফাইজারের আরও ২৫ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসে পৌঁছাবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম প্রধান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামীকাল ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে ন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের কার্গো ফ্লাইটে ফাইজারের ২৫ লাখ ডোজ টিকা দেশে আসছে।

টিকাগুলো গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের মান্যবর রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমসহ স্বাস্থ্যখাতের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিজের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রথম দফায় এক লাখ ৬২০ ডোজ, এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ লাখ তিন হাজার ৮৬০ ডোজ টিকা দেশে এসেছে। আগামীকাল আরও ২৫ লাখ ডোজ এলে, এ নিয়ে ফাইজারের মোট ৩৬ লাখ চার হাজার ৪৮০ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছাবে।

এর আগে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্মা, মডার্নার টিকাসহ ক্রয় করা এবং কোভ্যাক্স ফাসিলিটিজের আওতায় দেশে মোট ভ্যাকসিন এসেছে চার কোটি ৯৪ লাখ ২৯ হাজার ৯৪০ ডোজ। এর মধ্যে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট দুই কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৯৮ জনকে প্রথম ডোজ এবং এক কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭১ জনকে দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে।

এ ছাড়া চীনের সিনোফার্মার ছয় কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয়ের চুক্তি অনুযায়ী, এ মাস থেকেই প্রতি মাসে দুই কোটি ডোজ করে ভ্যাকসিন দেশে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এর পাশাপাশি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে আরও সাড়ে ১০ কোটি ডোজ টিকাসহ মোট ২৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয়ের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।


আরও খবর
মুনিয়া-শারুন আলাপ কী প্রমাণ করে?

শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১




সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাঙালির চিরকালীন ঐতিহ্য: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত:সোমবার ১১ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ১১ অক্টোবর ২০২১ | ৪৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
রাষ্ট্রপতি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাঙালির চিরকালীন ঐতিহ্য। সম্মিলিতভাবে এ ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে হবে আমাদের সামগ্রিক অগ্রযাত্রায়

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। দুর্গাপূজার সঙ্গে মিশে আছে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। আবহমানকাল ধরে এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নানা উপচার ও অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে।

সোমবার (১১ অক্টোবর) হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক বাণীতে একথা বলেন তিনি।

হিন্দু ধর্মাবলম্বী সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাঙালির চিরকালীন ঐতিহ্য। সম্মিলিতভাবে এ ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে হবে আমাদের সামগ্রিক অগ্রযাত্রায়।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, সামাজিক উৎসবও। দুর্গোৎসব উপলক্ষে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশী একত্রিত হন, মিলিত হন আনন্দ-উৎসবে। তাই এ উৎসব সার্বজনীন। এ সার্বজনীনতা প্রমাণ করে, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।

ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি দুর্গাপূজা দেশের জনগণের মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ঐক্য সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সত্য-সুন্দরের আলোকে ভাস্বর হয়ে উঠুক; ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুসংহত হোক-এ কামনা করি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মানবতাই ধর্মের শাশ্বত বাণী। ধর্ম মানুষকে ন্যায় ও কল্যাণের পথে আহ্বান করে। অন্যায় ও অসত্য থেকে দূরে রাখে, দেখায় মুক্তির পথ। তাই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি আমাদের মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে।

মহামারির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব আজ করোনাভাইরাসের সংক্রমণে চরমভাবে বিপর্যস্ত। করোনার প্রভাবে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োচিত ও সাহসী পদক্ষেপের ফলে সরকার করোনার প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

দেশের সব নাগরিককে করোনা টিকার আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি কঠিন এ সময়ে পরোপকারের মহান ব্রত নিয়ে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য হিন্দু ধর্মাবলম্বী সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করি, সবাই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারদীয় দুর্গোৎসবে শামিল হবেন।


আরও খবর
আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা

বুধবার ২০ অক্টোবর ২০21

আজ শ্রী শ্রী লক্ষ্মীপূজা

বুধবার ২০ অক্টোবর ২০21




জামিন পেলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৪ জন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর ২০২১ | ৪৬৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজন জামিন পেয়েছেন। শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় তারা আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

আজ মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার ৩ নম্বর শ্রম আদালতে তারা আত্মসমর্পণ করে জামিনের জন্য আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত ১০ হাজার টাকায় মুচলেকায় ড. ইউনূসসহ চারজনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে ঢাকার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক এস এম আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর ড. ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে গেলে প্রতিষ্ঠানটির শ্রম আইনের কিছু লঙ্ঘন নজরে আসে। এসবের মধ্যে রয়েছে, ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকার পরও তাদের স্থায়ী করা হয়নি, শ্রমিকদের অংশগ্রহণের তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি। এ ছাড়া কোম্পানির লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি।

ওইসব অভিযোগের ভিত্তিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর বাদী হয়ে ফৌজদারি আইনে মামলা দায়ের করে।


আরও খবর
ইকবালসহ ৪ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১




সপ্তমীর নবপত্রিকায় কার রূপ?

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর ২০২১ | ৫০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

শারদ সকালের সপ্তমী। স্কুলের পড়ায় মনে নেই।মুখস্ত হচ্ছে না নামতা। তবে মণ্ডপে দুর্গাঠাকুরের চারপাশে কে কে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা আর কষ্ট করে মুখস্থ করতে হয়নি। এমনিতেই মুখস্থ হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে মনের মধ্যে।

এদিকে মণ্ডপের ঢাকঢোলে, ভাণ্ড সানাইয়ে মুখর বাংলাভূমি। মুখর আমাদের চারপাশ। মুখর বাঙালির মন।

সাথে ধুপের গন্ধে শিশিরভেজা সকালটা হয়ে উঠছে স্নিগ্ধ আর মায়াময় উৎসবের। চণ্ডীপাঠ শুনতে শুনতে শৈশবে যে ছবিটা মনে দাঁড়িয়ে যায় সেই ছবিটি আর কোনোদিন বদলে যায়নি।

২.সিংহের পিঠে চড়ে দেবী মহিষের রূপধারণ করা এক অসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন।

এখন এই ছবিটি আরো স্পষ্ট। আকাশের তারার মধ্যে মহিষাসুর বধের দৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। দেখেছেন, রক্তবর্ণ বৃষের চোখ। মুখোমুখি এক বিশাল আকারের সিংহ আর এক নারীমূর্তি। যার হাতের কাছাকাছি নানা অস্ত্র।

বিজ্ঞান খুঁজে পেয়েছে, পুরাণের কথাগুলো নিছক গল্প নয়। সেই যুগের চিন্তাধারার সাথে যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। দেখেছেন, সিংহ আর মহিষদলের তারামণ্ডলী, যা দেখেই প্রাচীনকাল থেকে নানারূপে কল্পনা করা হয়েছে।

খ্রিস্টপূর্বাব্দ তিনশ সময় নাগাদ সুমেরু অঞ্চলের সিলমোহর ও একটি পাত্রের গায়ে যে ছবিটি বেশি দেখা যায়, সেটা একটি সিংহের হাতে একটি মহিষের মৃত্যু। সন্ধ্যার আকাশে শেষবারের মতো তাকালে দেখা যায়, সিংহ তারামণ্ডলী। মনে হবে এই সিংহটিই বৃষটিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মোট কথা, তারামণ্ডলীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে দেখা যাবে, সিংহের ওপর বসে দুর্গা মহিষাসুর বধের ছবিটি।

তারামণ্ডলী থেকে এই এক অসম্ভব রূপকল্পনা!

বাঙালির দশভূজার সঙ্গে মিল পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কন্যা, সিংহ, বৃষসহ নক্ষত্রমণ্ডলীর মধ্যেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরমর্দিনী রূপের প্রতিচ্ছবি। কৃষিভিত্তিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো চিহ্নিত করাই ছিল পুরাণের প্রথম প্রেরণা।

৩. প্রাণে আনন্দ জেগে ওঠা সকালে পুরোহিত মহাশয় চলেছেন নদীর ঘাটে। কাঁধে নবপত্রিকা। নদী বা জলাশয়ে দেবীর প্রতীকরূপে নবপত্রিকাকে স্নান করাবেন।

এই নবপত্রিকা নামটা শুনেলেই মনে মায়া জেগে ওঠে। দুর্গাপূজা মহারম্ভের দিন, মানে সপ্তমীতে প্রকৃতির বৃক্ষ-লতার সাথে দেবী দুর্গা একাত্ম হবেন আজ। সেজন্যই নবপত্রিকা দিয়ে মহারম্ভ, যা ভেজিটেশন ডিইটি হিসেবে দেবীর প্রায়রিটি হয়ে দাঁড়ায়।

সপ্তমী হলো দুর্গাদেবীর সঙ্গে শস্যদেবীকে মিলিয়ে নেবার সচেতন প্রচেষ্টা।

তাই, নদী বা জলাশয়ে নবপত্রিকাকে স্নানের ভেতর দিয়ে দেবীকে জাগ্রত করা হয়। যার ভেতর দিয়ে অবশেষ রচনা হয়ে যায় ষষ্ঠী আর বোধনের।

৪. নবপত্র বা নবপত্রিকা মানে নয়টি গাছের পাতা।

তবে পূজার নবপত্রিকা নয়টি পাতা নয়, নয়টি উদ্ভিদ। নয়টি উদ্ভিদ দেবীর নয়টি বিশেষ রূপের প্রতীক। আবার নবপত্রিকা নয়জন প্রভাবশালী দেব-দেবীকেও চিহ্নিত করে, বোঝায়। 

কলা, কচু, মানকচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক ও ধান। এই নয়টির মধ্যে প্রধান উদ্ভিদ কলাগাছ, যা ফার্টিলিটি আর ভেজিটেশনের প্রতীক। দেবীর সঙ্গে একাত্মতায় কলা গাছ বাঙালি মায়ের কোটি কোটি সন্তানের মা-প্রতীক হয়ে যান।

অন্য আটটি উদ্ভিদের সঙ্গে কচু। এটা মুখী কচু। ফলন হয় ভাদ্রের শেষে আশ্বিনের শুরুতে। দরিদ্র মানুষের খাবারের ব্যবস্থা হয়ে যায় কচুতে। আরেকটি মানকচু। বর্ষার পরে শরতের রোদে এটাও সুস্বাদু। ফলের মধ্যে আছে বেল আর দাড়িম্ব।

বেলগাছ ও বেলপাতা শিব ও পার্বতীর প্রিয়তম। স্বয়ং ব্রহ্মা দেবীর বোধন করেছিলেন বেলতলায়।

সেই প্রথা এখনো চলমান। যোগিনীতন্ত্রের কাহিনীতে বলা হয়েছে, নারায়ণের অনেক স্ত্রীর মধ্যে থেকে প্রিয়তমা হওয়ার ইচ্ছায় বেলতলায় শিবের আরাধনা করে শিবের সন্তুষ্টিতে নারায়ণের বক্ষলগ্না হয়েছিলেন লক্ষ্মী। তাই, শিবের অধিষ্ঠান ক্ষেত্র এই বেলতলা। বেলের তিনপত্রের মধ্যে উপপত স্বয়ং শিবরূপে বন্দিত। সেজন্যই শিব বেলপাতার পূজায় খুশি হন। বেলতলা শিবের প্রিয় হওয়ার কারণে শিবজায়া শিবানীরও খুব প্রিয় এই স্থান। তাই, বেলতলায় দেবীদুর্গার বোধন।

আরো একটি কারণ মনে করিয়ে দেব।

বৈদিক যুগে কাঠে কাঠ ঘষে আগুন জ্বালানো হতো, বলা হতো অরণী। শমী ও অশত্থ বৃক্ষের কাঠ ব্যবহার হতো অরণী রূপে। বাংলাভূমিতে শমীকাঠ ছিল অত্যন্ত বিরল। এই কাঠের অভাব পূরণ করে বেল। মানে বেলকাঠে আগুনের অবস্থান। দেবী দুর্গা যেহেতু স্বয়ং অগ্নিস্বরূপা সেজন্য দুর্গা আরাধনায় বেলবৃক্ষের অতি কদর।

পরের ফলটির নাম দাড়িম্ব, মানে ডালিম। আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত ফলন হয়। ফলটি শক্তি ও রক্তবর্ধক। একটা গাছে বহু জন্মায়।

পুষ্পবৃক্ষের মধ্যে আছে জয়ন্তী এবং অশোক। দুটি বৃক্ষই মহৌষধ হিসেবে পরিচিত প্রচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে। জয়ন্তী বৃক্ষের নামটিই তো দেবীর নামে রাখা। দেববৃক্ষ। জয়ন্তীর বীজ বহু ওষুধের উপাদান। শক্তি ও উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি নারীদের রোগ সারাতে জয়ন্তীর বহুগুণের কথা আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ধরা আছে।

জয়ন্তীর ফলন হয় আশ্বিনের শেষে।

এবার হলুদের কথা। হরিদ্রা বা হলুদ। কাঁচা বা পাকা হলুদ খুবই দরকারি ভেষজ। সে কারণেই নবপত্রিকার অন্যতম উপকরণ হলুদ। আর, ধান হলো লক্ষ্মীর প্রতীক।

জগতের সকল ওষধি ও উদ্ভিদের মাধ্যমে সকল জীবকে আহার্য ও নিরাময় দান করেন।

নবপত্রিকা তারই প্রতীক বা প্রতিনিধি।

এই অতি দরকারি নয়টি ভেষজ এবং বৃক্ষ ভগবতী দুর্গার নয়টি রূপ। ফল-ফুল অধিষ্ঠাত্রী দুর্গাকে প্রণাম জানানো হয়, নবপত্রিকা বাসিন্যৈ নবদুর্গায়ৈ নমঃ

নবপত্রিকা অনেকের মতে কুলবৃক্ষ নামেও পরিচিত। শক্তানন্দ তরঙ্গিনী গ্রন্থ থেকে জানতে পারি, যোগিনীরা সব সময় এই কুলবৃক্ষে বাস করেন। তন্ত্রশাস্ত্রে তাই একে কল্পবৃক্ষ বলা হয়।

৫. সকাল থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে পূজারীদের ভক্তিপূর্ণ চলাচল।

ওদিকে পুরোহিত মহাশয়ের পেছনে হাঁটছেন বাদক দল। ঢাকের শব্দে মিশে যাচ্ছে একদল নারীর শঙ্খ আর উলুধ্বনি। প্রথমে নদীতে শাস্ত্রবিধির স্নান। এরপর চারা কলাগাছের সাথে আটটি সমূল সপত্র উদ্ভিদ একজোড়া বেলসহ শ্বেত অপরাজিতার লতা বেঁধে দেবেন পুরোহিত মহাশয়। এরপর জড়ানো হবে লালপাড়ের সাদা শাড়ি। এমনভাবে জড়ানো হবে, যেন চারা কলাগাছটা ঘোমটা দেওয়া বৌয়ের রূপ ধারণ করে। মানে, নবপত্রিকার হয়ে যাবে কলাবৌ।

৬. নবপত্রিকা স্নানের পর মহাস্নান।

মহাস্নান মহাষ্টমী ও মহানবমীর দিনও মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমার সামনে একটি আয়না রেখে সেই আয়নায় প্রতিফলিত প্রতিমার প্রতিবিম্বে স্নান করানো হয়।

মহাস্নানে শুদ্ধজল, নদীর জল, শঙ্খজল, গঙ্গাজল, উষ্ণ জল, সুগন্ধি জল, পঞ্চগব্য, কুশ ঘাসে ফোটানো জল, ফুল দিয়ে ফোটানো জল, ফলের জল, মধু-দুধ-নারকেলের জল, আখের রস, তিলের তেল, বিষ্ণু তেল, শিশিরের জল, রাজদ্বারের মাটি, চৌমাথার মাটি, বৃষশৃঙ্গমৃত্তিকা, গজদন্তমৃত্তিকা, বেশ্যাদ্বারমৃত্তিকা, নদীর দুই তীরের মাটি, গঙ্গামাটি, সব তীর্থের মাটি, সাগরের জল, ঔষধি মেশানো জল, বৃষ্টিজল, সরস্বতী নদীর জল, পদ্মের রেণু মেশানো জল ও ঝরনার জলে দুর্গাকে স্নান করানো হয়। এই মহাস্নানের মধ্য দিয়ে সব ধরনের সম্পদের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা চলে।

প্রার্থনা প্রকাশ পায় সর্বভূতে দেবীরই অধিষ্ঠান। আর, মহাস্নানে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে বিশ্বসংহতি ও অসাম্প্রদায়িকতার সমন্বয়বার্তায় ফুটে ওঠে সমাজের কল্যাণ।

৭ . নদীর ঘাট থেকে চলে এসেছেন পুরোহিত মহাশয়। এরইমধ্যে পৌঁছে গেছেন মণ্ডপে।

কলাবৌয়ের কপালে তেল-সিঁদুর দিয়ে প্রকট করা হয়েছ এয়োতির চিহ্ন। এবার নবপত্রিকাকে দেবীর ডান দিকে আর গণেশ ঠাকুরের বাম পাশে বসিয়ে দেন কাঠের আসনে।

তখনই গজ-নিমিলিত চোখে গণেশ ঠাকুর ভাবলেন, মায়াবতী মা নিশ্চয়ই আমার জন্যে বৌ খুঁজে এনেছেন। গণেশ ঠাকুরের এই ধারণা স্পষ্ট হয় কলাবৌকে তাঁর বাম দিকে রাখার কারণে। বাম দিকেই স্ত্রীর অবস্থান, বামাবতী

আবেগপ্রবণ বাঙালির কাছে তাই নবপত্রিকার চারাকলাগাছটি হয়ে যায় গণেশ ঠাকুরের বৌ।

তাই হয়তো নাতি-পুতির মুখ দেখার আশায় শঙ্কর-মহাদেব স্ত্রী দুর্গাকে একসময় বলেই ফেললেন, ও গণেশের মা, কলাবৌকে দাগা দিও না। ওর একটি মোচা ফললে পরে, অনেক হবে ছানাপোনা


আরও খবর
আজ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা

বুধবার ২০ অক্টোবর ২০21

আজ শ্রী শ্রী লক্ষ্মীপূজা

বুধবার ২০ অক্টোবর ২০21




সোমবার সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:রবিবার ০৩ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ অক্টোবর ২০২১ | ৩১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগদান নিয়ে আগামীকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বিকাল ৪টায় ভার্চুয়ালি এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রান্ত থেকে সাংবাদিকরা এতে অংশ নেবেন।  

রোববার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগদান শেষে শুক্রবার রাতে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৭৬তম ইউনাইটেড ন্যাশনস জেনারেল এসেমব্লি (ইউএনজিএ) ও কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-আলোচনায় অংশ নেন।

২৫ সেপ্টেম্বর তিনি নিউইয়র্কে তার সপ্তাহব্যাপী সরকারি সফর শেষে ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে ভাষণ দেন।

১৯ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তিনি বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যোগ দেন এবং বিভিন্ন সরকার, রাষ্ট্র ও সংগঠনের প্রধানের সঙ্গে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন।

প্রধানমন্ত্রী ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার সম্মানে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নর্থ লনের ইউএন গার্ডেনে একটি চারাগাছ রোপণ এবং একটি বেঞ্চ উৎসর্গ করেন।



আরও খবর
মুনিয়া-শারুন আলাপ কী প্রমাণ করে?

শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১