আজঃ বুধবার ২৯ মে ২০২৪
শিরোনাম

জরায়ু ক্যানসার: নকল ভ্যাকসিনের ভয়ংকর বাণিজ্য

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ মার্চ ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৭ মার্চ ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

একটি ভ্যাকসিনের তিন ডোজ নিলে কখনোই হবে না জরায়ু ক্যানসার- এমন প্রচারণা চালিয়ে গাজীপুরে ছয় হাজারের বেশি নারীর দেহে তিনটি করে নকল ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিনটি বানানো হয়েছে আমদানি নিষিদ্ধ হেপাটাইটিস-বি'র ভ্যাকসিন থেকে।

গত তিন বছর ধরে জরায়ু ক্যানসারের ভ্যাকসিন সেরাভিক্স বাংলাদেশে আমদানি বন্ধ রয়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে হেপাটাইটিস-বির ভ্যাকসিনের অ্যাম্পল খুলে অন্তত ১০টি জরায়ু ক্যানসারের নকল ভ্যাকসিন বানিয়ে বিক্রি করছে একটি অসাধু চক্র। সেগুলোর একেকটি বিক্রি হতো আড়াই হাজার টাকায়। ফলে ৩৫০ টাকায় কেনা একটি নিষিদ্ধ টিকা ভিন্ন নামে বিক্রি করে মেলে ২৫ হাজার টাকা। এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে ভয়ংকর এসব তথ্য।

শুধু তাই নয়, ঢাকা ও গাজীপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারণা ও বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে প্রকাশ্যেই এমন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল চক্রটি। এই প্রচারণা ও বাজারজাতকরণে ডা. এ আর খান ফাউন্ডেশন, আল নূর ফাউন্ডেশন ও পপুলার ভ্যাকসিনেশন সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানের নামও এসেছে। গত দুই বছরে এই চক্র শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৬ হাজার নারীকে নকল ভ্যাকসিন দিয়েছে। তিন ডোজের মধ্যে প্রত্যেকে গড়ে দুই ডোজ নিয়ে থাকলেও প্রতারকদের পকেটে গেছে অন্তত ৩ কোটি টাকা। আর নকল ভ্যাকসিনের বিষয়টি জানার পর এর প্রতিক্রিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এমন প্রতারণার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ। কেউ কেউ বলছেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীলদের ম্যানেজ না করে এমন কর্মকাণ্ড চলতে পারে না।

হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে দেহে পুশ করার পর তা মানবদেহে ইমিউনিটি তৈরি করে। এক ভ্যাকসিন খুলে ১০টি ভ্যাকসিন বানালে এর কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। এছাড়া ভ্যাকসিনের অ্যাম্পল খুলে অন্য অ্যাম্পলে প্রবেশ করানোর সময় নতুন করে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা সংস্থার উপদেষ্টা মোশতাক হোসেন বলেন, দেশে নকল ও ভেজাল ওষুধ নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে। এটি বাস্তবায়নে কাজ করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। তাদের সহযোগিতা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মাঝেমধ্যে বাজার থেকে ওষুধ নিয়ে সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা দরকার তা ঠিক আছে কিনা। তবে জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস পাচ্ছে।

তেজগাঁও গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. গোলাম সবুর জানিয়েছেন, চক্রের সদস্যরা ভ্যাকসিনগুলো বিক্রি করে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এমন তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম গ্রেপ্তারের ব্যক্তিরা প্রকাশ করেছে।

যেভাবে তৈরি হয় নকল ভ্যাকসিন : ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বৃহস্পতিবার তাঁর কার্যালয়ে প্রতারক চক্রের ব্যাপারে সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, হেপাটাইটিস-বির ভ্যাকসিন জেনেভ্যাকুবি আমদানি করা নিষিদ্ধ। সেটিই ফজর আলী নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করত সাইফুল ইসলাম শিপন। সেগুলো রাজধানীর দক্ষিণখানে নিজের বাড়িতে মজুত করত, পরে তা পাঠিয়ে দিত কেরানীগঞ্জে তার সহযোগী হিমেলের কারখানায়। সেখানে থাকা মেশিনের সাহায্যে ভ্যাকসিনের অ্যাম্পুল খুলে ১ মিলিলিটার করে নকল অ্যাম্পুলে ভরা হতো। এটি বাজারজাত করা হতো জরায়ু ক্যান্সারের ভ্যাকসিন সারভারিক্স হিসেবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শিপনসহ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবির তেজগাঁও বিভাগ। অন্য চারজন হলো ফয়সাল আহমেদ, আল আমিন, নুরুজ্জামান সাগর ও আতিকুল ইসলাম। তারা প্রচারণা চালিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ওষুধ ব্যবসায়ীর কাছে এই ভ্যাকসিন বিক্রি করে।

তিনি জানান, অভিযানে ১২ বাক্সে মোট ১২০টি জেনেভ্যাকুবি ভ্যাকসিন জব্দ করা হয়। এর বাজারমূল্য ১ লাখ ৯ হাজার ৫৪৮ টাকা। এগুলো দিয়ে অবৈধ উপায়ে ১ হাজার ২০০টি সারভারিক্স ভ্যাকসিন তৈরি করা হতো। সেগুলো বিক্রি হতো ৩০ লাখ টাকায়। এর পাশাপাশি জেনেভ্যাক দিয়ে তৈরি ১ হাজার ২৫টি নকল সারভারিক্স ভ্যাকসিনও জব্দ করা হয়েছে। সেগুলোর বাজারমূল্য ২৫ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়াও অভিযানে পাওয়া গেছে ভ্যাকসিনের অ্যাম্পুল তৈরির মেশিন, অ্যাম্পুলের লেবেল ৫০ পাতা (প্রতি পাতায় ৪৫টি লেবেল), ১০০টি খালি অ্যাম্পুল, অ্যাম্পুলের ৫০০টি ছিপিসহ অন্য সরঞ্জাম।

ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার গোলাম সবুর বলেন, কয়েক দিন আগে বনশ্রীতে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর এক নারীর শরীর ফুলে যায়। এতে সন্দেহ হলে তিনি প্রতিবেশীদের নিয়ে ভ্যাকসিন দিতে যাওয়া লোকদের আটক করেন। শেষ পর্যন্ত তারা কৌশলে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়েই এ চক্রের খোঁজ পাওয়া যায়। গ্রেপ্তাররা মূলত প্রতারক। তাদের মধ্যে শিপন টিকাদান কর্মসূচির কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কাছ থেকে ভ্যাকসিন নিতে অনুরোধ জানাত। এ ছাড়া শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে এবং মাইকিং করেও প্রচারণা চালানো হতো।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক আইয়ুব হোসেন বলেন, নকল ও ভেজাল ওষুধ বাজারজাত বন্ধে নিয়মিত আমাদের অভিযান চলে। এ ছাড়া এটি নিয়ন্ত্রণে র‍্যাব-পুলিশ আমাদের মাঝেমধ্যে সহযোগিতা করে। নতুন যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের সঙ্গে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবির বলেন, নকল টিকা আমদানি ও সরবরাহকারী কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে এটি গণমাধ্যমে এসেছে। তাদের সঙ্গে হয়তো কেনো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি জড়িত থাকতে পারে।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর ৫ লাখ ৭০ হাজার নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে মৃত্যু হয় অন্তত ৩ লাখ ১০ হাজার নারীর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে আসে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৮ হাজার নারী নতুন করে জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর প্রতিবছর ১২ হাজার নারীর মারা যাচ্ছেন।


আরও খবর



কানাডায় শিখনেতা হত্যাকাণ্ডে তিন ভারতীয় গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:শনিবার ০৪ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০৪ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

কানাডায় শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিন ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কানাডার অ্যালবার্টা প্রদেশের এডমন্টন শহর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পুলিশ কর্মকর্তা মনদীপ মুকের। খবর বিবিসি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার তিনজন হলেন করণ ব্রার (২২), কমল প্রিত সিং (২২) ও করণ প্রিত সিং (২৮)। তারা সবাই এডমন্টন শহরের বাসিন্দা। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। ওই হত্যার সঙ্গে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বাইরে আরও অনেকেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাই সামনে আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হতে পারে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতে পারে।

২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারেতে খুন হন নিজ্জর। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত জড়িত বলে অভিযোগ করে কানাডা। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খালিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নিজ্জর। তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী একটি সশস্ত্র একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন- এমন অভিযোগে তাকে সন্ত্রাসী তকমা দিয়েছিল ভারত। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন নিজ্জরের সমর্থকেরা। তাদের ভাষ্য, খালিস্তান আন্দোলনের পক্ষে থাকায় একাধিকবার হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন নিজ্জর।

গত শতকের সত্তরের দশকে ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ শুরু করেন দেশটির শিখ সম্প্রদায়ের অনেকে। ওই বিদ্রোহের জেরে সে সময় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এরপরও কয়েক দশক ধরে ওই বিদ্রোহের রেশ থেকে যায়। বর্তমানে ভারতের বাইরে বিভিন্ন দেশে পাঞ্জাবে স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিখেরা।


আরও খবর



জলাবদ্ধতায় কেজিডিসিএল কাছে ৫৬ স্পটের তালিকা দিলেন সিডিএ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

Image

চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতার জন্য কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ৫৬ টি স্পটের পাইপ লাইন চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

চিহ্নিত এসব স্পটের তালিকা মঙ্গলবার দুপুরে কেজিডিসিএল ভবনে গিয়ে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবু সাকলায়েনের হাতে তুলে দেন সিডিএ'র চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুছ।

এ সময় সিডিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, 'জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় নগরীর খাল সংস্কার,খনন ও প্রতিরোধ দেয়াল নির্মিত হচ্ছে। বৃষ্টির সময় দেখা যায়, খালের পানি অনেক নিচে। নালার পানি জমে উঁচু এলাকায়ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।  সিডিএ'র প্রকৌশল টিমের সরেজমিন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে সেবা সংস্থাগুলোর পাইপের সাথে পলি বর্জ্য জমে   পানি জমে যায়। সোমবার চট্টগ্রাম ওয়াসাকে চিহ্নিত করা ৭৫ টি পাইপ লাইনের তালিকা দিয়ে এসেছি। অনুরূপভাবে টিঅ্যান্ডটিকে জলাবদ্ধতার জন্য চিহ্নিত স্পটের তালিকা দেয়া হবে।'

তিনি আরও বলেন, সেবা সংস্থাগুলোর দুর্ভোগে দায়ী পাইপ লাইন সংস্কার করার পর অনিয়ন্ত্রিত জলাবদ্ধতা কমে যাবে।

অন্যদিকে কেজিডিসিএল'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবু সাকলায়েন তালিকা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধতন প্রকৌশলীদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা এখন চট্টগ্রাম নগরীর প্রধান সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে আমরা বদ্ধপরিকর। সিডিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের তালিকা অনুযায়ী পাইপ সংস্কারে আমরা কাজ করবো।


আরও খবর



বাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় শতভাগ অটোমেশন বাস্তবায়ন চাই: বিজিএমইএ

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

Image

বিজিএমইএ সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশের ব্যবসা পরিবেশবান্ধব নিশ্চিতকরণ, সকল ক্ষেত্রে সহজী অগ্রসর ও পরিচালনায় ব্যয় হ্রাস করে সহনীয় পর্যায়ে করার জন্য কাস্টমস ব্যবস্থাপনায় শতভাগ অটোমেশন এখন সময়ের দাবী।

সোমবার (২৭ মে) বিজিএমইএ ভবনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন তৈরী পোশাক শিল্পের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিজিএমইএ, এনবিআর ও কাস্টম বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিভিএমএস) প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ পরিচালক মোস্তফা সরওয়ার রিয়াদ, রাকিব আল নাসের, গাজী মোঃ শহীদউল্লাহ্, কাস্টম বন্ড কমিশনারেট উপ-কমিশনার শাহেদ আহমেদ।

 রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, বতর্মান বিশ্ব এক প্রতিযোগিতার বিশ্ব। এখানে প্রতিযোগিতা করে আমাদের টিকে থাকতে হচ্ছে। তার জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার। অটোমেশন ব্যবসা বাণিজ্যে তরান্বিত করণে বড় ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে পণ্যের এইচ.এস. কোড, ডিকলারেশেন এবং কাস্টমস্ সংক্রান্ত নানা জটিলতার কারণে ব্যবসা বাণিজ্য বিঘ্ন হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যয় বেড়ে গিয়ে হতে হচ্ছে হয়রানির শিকার। এই অবস্থায় কাস্টমস্ এর ব্যবস্থাপনায় শতভাগ বাস্তবায়ন অতীব জরুরী।

এসময় চট্টগ্রামের বিভিন্ন গার্মেন্টস্ শিল্পের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ও সিনিয়র কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ ট্যাগ: চট্টগ্রাম

আরও খবর



চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

Image

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব কেটে যাবার পর চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে শুরু করেছে জাহাজের পণ্য ওঠানামা। কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কাজ শুরু হয়েছে।

পণ্য খালাস বন্ধ করে গভীর সাগরে ফেরত পাঠানো ৪৯টি খোলা পণ্যবাহী জাহাজও বহির্নোঙ্গরে ফিরতে শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এসব জাহাজের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছিল।

আবহাওয়া অধিদফতর চট্টগ্রামে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত তুলে নেওয়ার পর ১৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সোমবার ভোর ৫টা থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ১৮ ঘণ্টা পর খুলে দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল।

মঙ্গলবার (২৮ মে) সকাল ১১টা থেকে জেটিতে জাহাজ ভেড়ার পরপর পণ্য উঠানামার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব কেটে গেলেও সাগর উত্তাল রয়েছে। পণ্য খালাস বন্ধ করে গভীর সাগরে ফেরত পাঠানো ৪৯টি পণ্যবাহী জাহাজও বহির্নোঙ্গরে ফিরতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকালে ১৯টি জাহাজের মধ্যে ১১টি জাহাজ বন্দরের জেটিতে ভিড়েছে। পণ্য উঠানামার কাজ শুরু হয়েছে। বাকি ৯টি জাহাজ বহির্নোঙ্গর থেকে রওনা দিয়েছে। আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে জাহাজ জেটিতে ফিরতে শুরু করবে।' 

ঘূর্ণিঝড় রেমাল ঝুঁকি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ রবিবার সকালে নিজস্ব অ্যালার্ট-৪ জারি করেছিল। এতে সমুদ্র বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরােপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত সোমবার সকালে প্রত্যাহার করা হয়। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলার পর থেকেই বন্দর কর্তৃপক্ষ অ্যালার্ট-৪ প্রত্যাহার করে। ফলে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম বলেন, 'ঘূর্ণিঝড় প্রভাব কেটে যাওয়ার পর বন্দরের কার্যক্রম এখন স্বাভাবিক রয়েছ। জোয়ারের সাথে মিল রেখে জাহাজ আনা-নেওয়া কার্যক্রম শুরু হয়েছে।'

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব কমে যাওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ফেরত আনার উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। বৈরি আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় পাইলটরা বহির্নোঙ্গর থেকে অনেস জাহাজ আনতে পারেননি। তবে ইয়ার্ডে অপারেশন আংশিকভাবে শুরু হয়েছিল।

গত রোববার (২৬ মে) সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি থেকে ১৬টি জাহাজ বহির্নোঙ্গর থেকে ৪৯টি জাহাজ গভীর সাগরে চলে যায়।

বন্দর সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে প্রায় দুইদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠা-নামা বন্ধ থাকে। দেশের প্রধান এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশই হয়ে থাকে। বৃষ্টিতে বহির্নোঙরে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস ব্যাহত হয়। তবে সাগর কিছুটা উত্তাল থাকায় বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কিছুটন বিলম্বিত হতে পারে।


আরও খবর



পাঁচ বছরে তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যানের সম্পদ বেড়েছে ১৫৯ গুণ, স্ত্রীর ৪৮গুণ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৪ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
Image

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার তালতলী উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রেজবি উল কবির জোমাদ্দারের ৫ বছর ব্যবধানে স্থাবর, অস্থাবর, ব্যাংক আমানতসহ বিভিন্ন সম্পত্তি বেড়েছে ১৫৯ গুন। এছাড়া তার স্ত্রী সুমি আক্তার এইবার প্রার্থী হয়েছেন।

সেখানে স্ত্রীর ব্যাংকে জমা ব্যবসাসহ সম্পত্তি বেড়েছে প্রায় ৪৮ গুণ। রেজবি উল কবির উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান। ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুনরায় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে হলফনামা জমা দিয়েছেন। জমা দেওয়া সেই হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান রেজবি উল কবিরের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর ও পেশা ব্যবসায়ী দেখানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ২টি মামলা থাকলেও সেগুলো নিস্পত্তি হয়েছে। গত ৫ বছরে তার নিজের নির্ভরশীল উৎস থেকে আয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যবসায় পুঁজি বেড়েছে। তবে ব্যাংক ঋণ কমেছে। পাঁচ বছর আগে তাঁর ব্যবসায় বাৎসরিক আয় ছিল ৫ লাখ ২৮ হাজার ৮৯ টাকা। বর্তমানে ৯৭ গুণের বেশি বেড়ে হয়েছে ৫৬ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৮ টাকা। গত ৫ বছর আগে অস্থাবর সম্পদ ছিলো ৫৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

বর্তমানে ব্যাংকের পরিশোধিত ঋণসহ অস্থাবর সম্পত্তির পরিমান দাড়িয়েছে ৬ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার ৫৪২ টাকা। যা আগের থেকে ১০০ গুন বেড়েছে। স্থাবর সম্পত্তি গত ৫ বছর আগে ছিলো ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। যা বর্তমানে ২৮০ গুণ বেড়ে দাড়িয়েছে ৪ কোটি ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৮ টাকা।

বর্তমানে তিনটি ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৬১ হাজার ৮৯৬ টাকা। ঋণের চাপ কমেছে ৪৩ শতাংশ। বার্ষিক আয়, স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে গড়ে তার সম্পাদ বেড়েছে ১৫৯ গুণ। গত ২০১৯ সালের হলফনামায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯৬৫ টাকা ঋণ ছিলো। গত ৫ বছর আগে তার মেসার্স পায়রা ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করলেও এই বার সাথে যুক্ত করেছেন মেসার্স ফাতেমা রাইস মিল ও মেসার্স পায়রা স্বমিল এন্ড টিম্বার। তবে নগদ টাকা,নিজের নামের বাড়ি ও গাড়ি নেই।

গত ৫ বছর আগে যে সব খাত থেকে কোনো আয় ছিলোই না। শূণ্য থেকে সেই সব খাতে বর্তমানে ব্যবসায় পুঁজি ২ কোটি ৮২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪২ টাকা দেখানো হয়েছে। কৃষি খাতে বছরে আয় ১ লাখ ১৫ হাজার ২শ টাকা। শেয়ার ও ব্যাংক আমানত ১৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬৫ টাকা। পেশা থেকে আয় হয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ব্যাংক সুদ থেকে বাৎসরিক আয় ৮১ হাজার ৫০৩ টাকা।

এদিকে স্ত্রী সুমি আক্তার চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন,তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই ও স্ব-শিক্ষিত উল্লেখ করেন। একই সাথে তিনি ব্যবসায়ী। রৈশি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায় বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকা, নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ২৭ লাখ টাকা, ব্যবসায় পুঁজি ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা,কৃষি জমি ২.৫০ একর যার মূল্য ২০ লাখ টাকা,অন্যান্য পরিসম্পদ ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করেন হলফনামায়। ২০১৯ সালের পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় রেজবি উল কবির জোমাদ্দার তার স্ত্রীর নামে শুধু মাত্র নগদ ২ লাখ টাকা উল্লেখ করেন। স্ত্রীর গত ৫ বছর আগে কোনো আয় না থাকলেও গড়ে সব সম্পত্তি মিলিয়ে বেড়েছে ৪৮ গুন।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবি উল কবির জোমাদ্দার বলেন,আমার বাবা ও মা মৃত্যুর পরে ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া সম্পদের কারণে সম্পত্তি বেড়েছে। এছাড়া বৈধভাবে ব্যবসা করে এ সম্পদের মালিক হয়েছি। আমার হলফনামায় সব কিছু উল্লেখ করা আছে।


আরও খবর