আজঃ মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

জয়পুরহাটে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | পত্রিকায় প্রকাশিত
সুজন কুমার মন্ডল, জয়পুরহাট

Image

'বৈশ্বিক পুষ্টিতে দুধ অপরিহার্য' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকালে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আয়োজনে আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৃপ্তি কণা মন্ডলের সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সহকারি পুলিশ সুপার আফজালুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান রকেট, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মহির উদ্দিন প্রমুখ।

দিবসটি উপলক্ষে পরে পিকেএসএফএর সহযোগিতায় কদমতলী মাদ্রাসার শতাধিক এতিম শিশুদের বিনামূল্যে দুধ পান করানো হয়।

নিউজ ট্যাগ: জয়পুরহাট

আরও খবর



ছোট ও মাঝারি গরুতে আগ্রহ বেশি ক্রেতাদের

প্রকাশিত:শনিবার ১৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

কোরবানির ঈদের অন্যতম আকর্ষণ পশু কেনা। পশু ক্রয়ে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জে পড়তে হয় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের। বাজেট ও সাধের সমন্বয় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। যে কারণে পরিকল্পনার শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য থাকে মাঝারি ও ছোট আকারেরে গরু কোরবানি দেওয়া। অনেকে আবার মাংসের স্বাদের বিবেচনায় দেশীয় গরু কিনতে চান।

সবকিছু মিলিয়ে তুলনামূলক মাঝারি কিংবা ছোট গরুর চাহিদা বেশি বাজারে। বিক্রিও বেশি হচ্ছে। গত কয়েকদিনের তুলনায় আজকে গরু বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে।

আজ রাজধানীর তেজগাঁও টেকনিক্যাল মাঠের গরুর হাট ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। দুপুরে হাটে গিয়ে দেখা যায়, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলজুড়ে এ হাট বসানো হয়েছে। হাটে ৬০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকার গরু উঠেছে। বেশিরভাগ ক্রেতাই বিক্রেতাদের সঙ্গে দামাদামি করছেন। মনের মতো দাম না পেলে গরু ছাড়ছেন না তারা। অনেক ক্রেতা শেষ মুহূর্তে দাম কমতে পারে সেই আশায় অপেক্ষা করছেন। যদিও আজ সকাল থেকে গরু বিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

শেরপুর থেকে ২২টি গরু এনেছেন ব্যবসায়ী আরশাদ। তিনি বলেন, আমার কাছে মাঝারি ও ছোট গরুর সংখ্যা বেশি ছিল। গতকাল তেমন বিক্রি না হলেও আজ সকালেই ৮টি গরু বিক্রি করেছি। আমি আগামীকালের আশায় থাকতে চাচ্ছি না। মোটামুটি লাভ হলেও গরু ছেড়ে দেব।

মাঝারি সাইজের দুটি গরু কিনেছেন নিজামুল হক। তিনি বলেন, হাজীপাড়া থেকে এখানে এসেছি। প্রথমে ইচ্ছে ছিল বড় আকারের গরু কিনব। পরে আমার অংশীদারদের পরামর্শে ছোট আকারের দুটি গরু ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকায় কিনেছি। দেশি গরু দেখতে ছোট হলেও মাংস ও স্বাদ বেশি। এ কারণে ছোট আকারের গরু কিনলাম। 

তেজগাঁও হাটের ইজারাদার হোসেন খান বলেন, প্রথম দিকে গরু-ছাগল বিক্রির পরিমাণ কম হলেও বর্তমানে পশু বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। দামও আগের তুলনায় কমেছে। মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। চলছেও বেশি। আমরা ৫ শতাংশ হারে হাসিল আদায় করছি। 


আরও খবর



রাখাইনে গায়ে পেট্রোল ঢেলে মারধর, নির্যাতনে নিহত ৫০

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

মিয়ানমারের রাখাইনে গত সপ্তাহে অভিযান চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিরোধী বাহিনীগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসিকে বলেন, গ্রামটিতে দুই দিনের বেশি সময় ধরে আগ্রাসন চালানো হয়েছে। লোকজনকে চোখ বেঁধে মারধর করা হয়েছে। তাদের গায়ে গরম পেট্রোল ঢেলে দেওয়া হয়েছে এবং গ্রামের বেশ কয়েকজনকে প্রস্রাব পান করতে বাধ্য করেছে সেনাবাহিনী।

বিভিন্ন এলাকায় আরাকান আর্মির (এএ) সমর্থকদের খুঁজতে অভিযান চালানো হয়েছে। বর্তমানে মিয়ানমারের সবচেয়ে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে এএ।

১৫ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৫১ জন বেসামরিক নাগরিকের ওপর সহিংস নিপীড়ন চালিয়ে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে আরাকান আর্মি বলছে, নিহতের সংখ্যা ৭০ জনের বেশি হতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার জান্তা।

এক নারী বিবিসিকে বলেন, তারা এসে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করছিল যে আরাকান আর্মির সদস্যরা গ্রামে এসেছে কি না। লোকজন সেনাবাহিনীর প্রশ্নের উত্তরে যদি বলেছে যে, তারা জানে না বা আরাকান আর্মির লোকজন আছে বা নেই, তারা যেই উত্তরই দিয়েছে সেনারা তাদের মারধর করেছে।

মাত্র ছয় মাসের প্রচেষ্টায় রাখাইন রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকা দখল করেছে আরাকান আর্মি। তারা সেনাবাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

এক নারী বিবিসিকে বলেন, আমার চোখের সামনে সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের কাছ থেকে আমাদের সন্তানকে আলাদা করা হয়েছে। আমরা জানিনা যে সে কোথায় আছে। আমি এখন জানি না যে, আমার স্বামী এবং সন্তান বেঁচে আছে কি না।

ভুক্তভোগীরা জানান, লোকজনকে সারাদিন ধরে রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। তারা যখন পানি চেয়েছে তখন সেনা সদস্যরা বোতলে প্রস্রাব করে সেগুলো তাদের খেতে দিয়েছে।


আরও খবর



মিয়ানমার আগ্রাসনে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন সেন্টমার্টিন, দ্বীপে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মোহাম্মদ ফারুক, কক্সবাজার

Image

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে তিনদিন ধরে সবধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মিয়ানমারের ওপার থেকে বারবার গুলি ছোড়া হচ্ছে এ রুটের ট্রলার ও স্পিড বোট লক্ষ্য করে। ফলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মূল ভূখণ্ডের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটির। রবিবার (৯ জুন) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান।

এই জনপ্রতিনিধি বলেন, তিন দিন ধরে ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্পিড-বোট চলাচলও বন্ধ। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সংকট হয়নি। যাতায়াত নিয়ে সমস্যা হচ্ছে অনেক। অনেকেই সেন্টমার্টিনে আসতে পারছে না। আবার সেন্টমার্টিন থেকে যেতেও পারছে না। কিছুটা খাবার নিয়ে কষ্টে আছে। তবে এখনো খাবার সংকট তৈরি হয়নি। সংকট হতে পারে সবজি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের। আর কয়েকদিন বন্ধ থাকলে খাবার সংকটও তৈরি হতে পারে।’

এদিকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের ফলে সেন্টমার্টিনে দেখা দিচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্য সংকট। দ্বীপে বসবাসরত ১০ হাজারের অধিক বাসিন্দার মধ্যে যারা দিন এনে দিনে খায় আপাতত কষ্টে বেশি পড়েছেন তারাই। খাদ্য ও পণ্যবাহী বোট চলাচল করতে না পারায় সেন্টমার্টিনের দোকানগুলোতে যেমন মজুদ কৃত খাদ্য পণ্য শেষ হতে চলেছে তেমনি এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম দ্বিগুণ নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দ্রুত সামাধান না হলে দ্বীপবাসীর খাদ্য, চিকিৎসাসহ অন্যান্য সমস্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

সেন্টমার্টিন বোট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দু রশিদ জানান, বোটে প্রকাশ্যে গুলি করতে দেখে মানুষ ভয়ে যাচ্ছে না। তা ছাড়া ওই পথ ছাড়া সেন্টমার্টিনে আসার বিকল্প কোন ব্যবস্থা বা রুটও নাই। প্রতিদিন সেন্টমার্টিন-টেকনাফ নৌ রুটে ৬/৭ টি বোটের মাধ্যমে শতাধিক মানুষ আসাযাওয়া করার পাশাপাশি খাদ্য ও নিত্য পণ্য বহন করতেন।

টেকনাফ উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আদনান চৌধুরী জানান, এ বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে। তবে জরুরি ভিত্তিতে শাহপরীর দ্বীপ অংশ থেকে বিকল্প পদ্ধতিতে বঙ্গোপসাগর হয়ে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায় কিনা তা খতিয়ে দেখছি।

এদিকে বুধবার (৫ জুন) সন্ধ্যার দিকে নাফ নদীর মোহনায় সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে বাংলাদেশি নির্বাচনি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে মিয়ানমার থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ইয়ামিন হোসেন বলেন, সেন্টমার্টিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আনা-নেয়া এপার থেকে করতে হয়। যেহেতু মিয়ানমার থেকে বারবার গুলি করা হচ্ছে এ কারণে আমরা সেন্টমার্টিন যাওয়ার বিকল্প নিয়ে ভাবছি। নাফ নদীর মোহনায় যেহেতু এ ঘটনা ঘটছে তাই নাফকে এভয়েড করে আমরা বিকল্প কিভাবে তাদের খাদ্যসামগ্রী এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করা যায় এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

গুলি করা করছে সেটি বুঝা যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, গুলি ছোড়া হচ্ছে; কিন্তু কারা গুলি করছে আমরা বুঝতে পারছি না। যেহেতু ওপারে যুদ্ধ চলছে। আমরা এসব বিষয় নিয়ে সরকারকে জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবেও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।


আরও খবর



শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটালেন অধ্যক্ষ

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহী প্রতিনিধি

Image

শিশু শিক্ষার্থীকে বেদম পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মওলার বিরুদ্ধে।

পুলিশ লাইনস স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ওই শিশু শিক্ষার্থীর নাম সারোয়ার হাসান সিফাত (১২)। সে নগরীর কাশিয়াডাঙা কোর্ট কলেজ এলাকার সাইদ হাসানের ছেলে।

আহত শিশু শিক্ষার্থী সিফাতের বাবা জানান, গত শনিবার স্কুল চলাকালীন সিফাতকে বেদম পেটান অধ্যক্ষ গোলাম মওলা। স্কুল থেকে বাসায় ফিরে বাসায় কাউকে বিষয়টি না জানিয়ে শুয়ে পড়ে সিফাত। বিকেলে প্রচন্ড জ্বরে কাঁপতে থাকলে তার বাবা-মা হাতে পায়ে বেতের বাড়ীর দাগ দেখতে পান। এরপর পোশাক খুলে সারা শরীরে মারের দাগ দেখতে পান তারা। এ অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ওষুধ-পথ্য লিখে ছেড়ে দেন চিকিৎসক। এরপর তার বাবা ও দাদা আরএমপি'র কাশিয়াডাঙা থানায় গেলে তারা ঘটনাস্থল রাজপাড়া থানায় অভিযোগ দেয়ার পরমর্শ দেন। রাজপাড়া থানায় গেলে তারাও রাত দুটো পর্যন্ত বসিয়ে রেখে অভিযোগ গ্রহণ করেননি। পরেরদিন জেলা প্রশাসক কার্যলয়ে গেলে তারা বলেন, যেতেতু এটি পুলিশ পরিচালিত প্রতিষ্ঠান আপনারা পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগ করুন। এরপর আমরা পুলিশ কমিশনারকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

কথা বলার একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সিফাতের বাবা, তিনি বলেন, মার খেতে খেতে একপর্যায়ে সিফাত স্যারের দুই পা জড়িয়ে ধরে, আমাকে আর মারবেন না স্যার, আমাকে মাফ করে দেন। আবারও পেটাতে থাকলে সিফাত সিট বেঞ্চের নীচে পড়ে যায়, তখন অধ্যক্ষ বলেন, দোষ স্বীকার কর, তাহলে আর মারবো না। আমার এ কথা বিশ্বাস না হলে পুলিশ লাইনস স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির কক্ষে বসানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করলেই বোঝা যাবে। এদিন সকাল ১০ টা থেকে ১১ টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে।

কি অপরাধে পিঠিয়েছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সাদা কাগজে সহপাঠি মেয়েদের প্রথম অক্ষর লেখার কারণেই নাকি তাকে পেটানো হয়েছে। এ কথা তার সহপাঠীরা বলেছে। তবে, সিফাত বলছে মেয়েদের নামের প্রথম অক্ষর লিখিনি আমি, আমি আমার ছেলে বন্ধুদের নামের প্রথম অক্ষর প্লাস প্লাস দিয়ে লিখেছি সাদা কাগজে। 

এই সংবাদ লেখার আগ মুহুর্তে (আজ সোমবার বিকাল ৪ টা) সিফাতের বাবা ইউনিসেফ'র মাধ্যমে রাজশাহীর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ সহযোগিতা না করায় অধ্যক্ষ বারবার সমাধান করার চাপ দিচ্ছেন আর টাকার লোভ দেখাচ্ছেন। এ কারণে আজ ইউনিসেফ এর সহযোগিতা নিয়েছি।

এদিকে, সিফাতের দাদা আব্দুল হান্নান শিশুটির শরীরে ক্ষতসহ ছবি ফেসবুকে পোষ্ট দিলে ফেসবুক জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। এতে নানা সময়ে নানা অপকর্মের তথ্য বেরিয়ে আসে গোলাম মওলার বিরুদ্ধে।

এর আগেও বেশ কয়েকবার নানা অপকর্ম নিয়ে সংবাদের শিরোনাম হন অধ্যক্ষ ড. গোলাম মওলা। এরমধ্যে সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তার ফাঁশ হওয়া অডিও ক্লিপে তিনি বলেন 'বাদশা না জিতলে এ সরকারের পতন নিশ্চত। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তাকে পুলিশ দিয়ে পিঠিয়ে হাত-পা বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া, হত্যার হুমকি সহ নানা অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। অভিযোগ রয়েছে তার ডক্টরেট ডিগ্রি ভুয়া। এ কারণে ইত:পূর্বে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এক পুলিশ কমিশনার তাকে ডক্টরেট ডিগ্রি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, চাকুরী জীবনের প্রথমে তিনি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) রেন্ট কালেক্টর ছিলেন। পরবর্তীতে রাজশাহীর দুর্গাপুর কলেজে কর্মরত ছিলেন। জামায়াত বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ও বিএনপি নেতা প্রয়াত সালাউদ্দিন বেবীর জোর সুপারিশে গোলাম মওলাকে রাজশাহী পুলিশ লাইনস্ স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।  নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান গোলাম মওলা মানুষ গড়ার কারিগরের ট্যাগ লাগিয়ে অর্থাৎ শিক্ষক হয়েও তিনি শিক্ষার বিষয়ে মিথ্যের আশ্রয় নেন। তিনি নিজেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী বলে প্রচার করে নামের পূর্বে ডক্টরেট ডিগ্রির ড. ব্যবহার  করেন। অথচ যে আমেরিকা ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলে দাবী করেন সেই বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত নয়। অপরদিকে নামের পূর্বে ডক্টরেট ডিগ্রি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন। যা তিনি তোয়াক্কা করেন না। রাজশাহী মহানগরীর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের কাছে তিনি পাঁচতলার একটি আলিশান বাড়ীর মালিক। অথচ তিনি এবং তার চাকুরীজীবি স্ত্রী'র এযাবৎকালের পাওয়া বেতন দিয়ে এমন আলিশান বাড়ীর মালিক হওয়া কোনোক্রমেই সম্ভব নয়।

এত ঘটনার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গোলাম মওলার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় সাধারণের মনে এখন একটাই প্রশ্ন তার খুঁটির জোর কোথায়?

এসব বিষয়ে কথা বলতে অধ্যক্ষ গোলাম মওলার মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন, ছাত্রের অভিভাবকের সাথে আমার একটা সুন্দর সমাধান হয়ে গেছে। আসলে আমার-ই তো ছাত্র। এসব কথা আমি মোবাইলে বলতে চাচ্ছি না আপনি অফিসে চা খেতে আসলে সব বলতে পারবো।

নগর পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র এডিশনাল পুলিশ কমিশনার জামিরুল ইসলাম বলেন, এরকম একটি অভিযোগ কমিশনার স্যার পেয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজ ট্যাগ: রাজশাহী

আরও খবর



সিলেট নগরীতে বন্যা আক্রান্ত চার হাজার পরিবার, খোলা হচ্ছে আশ্রয় কেন্দ্র

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
এস এ শফি, সিলেট

Image

সিলেটের উত্তরাঞ্চলে বন্যার পর হঠাৎ করেই সিলেট নগরীতে প্রবেশ করেছে বন্যার পানি। ইতিমধ্যে নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চার হাজার পরিবার বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত একটি আশ্রয় কেন্দ্রে ৪০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকেই হঠাৎ করে সুুরমা নদীর পানি ডুকতে শুরু করে। এর পর একে একে উপশহর সি-ব্লক, ডি-ব্লক ও ই-ব্লক একাংশ, যতরপুর, তোপখানা, মাছিমপুর, সোবহানীঘাট, তালতলা, শেখঘাট ও কাজিরবাজার সহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়।

বন্যার পানি বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও দোকানপাট, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদে পানি প্রবেশ করে। এতে বিপাকে পড়েন নগরের বাসিন্দারা। অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের বাসায় আশ্রয় নেন।

শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন সিসিকের ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাউন্সিলরবৃন্দ।

এদিকে, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় নগরীর ১৫,২২,ও ২৪নং ওয়ার্ডের, সুবহানীঘাট, উপশহর, তেররতন এলাকা পরিদর্শন করেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো: মখলিছুর রহমান কামরান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, স্থানীয় কাউন্সিলর শাহানা বেগম শানু, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফজলে রাব্বি চৌধুরী মাসুম, ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির সুহিন, জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর জানান, বিভিন্ন কাউন্সিলরদের দেওয়া তথ্যমতে নগরীতে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন ইতিমধ্যে ৪ হাজার পরিবার। তাদের পর্যাপ্ত পরিমান শুকনো খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সিসিক। আজ রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার বন্যা কবলিত এলাকার কাউন্সিলরদের কাছে পৌছে দেওয়া হবে।

সিসিকের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মখলিছুর রহমান কামরান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর টানা বৃষ্টির কারণে সিলেটের নদ নদীর পানির বেড়ে ইতিমধ্যে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি শহরের দিকে ধেয়ে আসছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী তত্ত্বাবধানে সংকট মোকাবেলা করতে পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, বেশ কয়েকটি উপজেলায় বন্যার পানি কিছুটা কমেছে। বিকাল ৩টা পর্যন্ত সিলেটের নদ নদীগুলির তিনটি পয়েন্টের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক দুর্গত এলাকাগুলোর খোঁজখবর নিচ্ছি। ভারতের মেঘালয় রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২শ মি.মি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন যা ছিলো সাড়ে ৬শ মি.মি। ভারতে বৃষ্টির পরিমাণ কমে গেলে সপ্তাহখানেকের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

নিউজ ট্যাগ: সিলেট

আরও খবর