আজঃ বুধবার ১৯ জুন ২০২৪
শিরোনাম

কমেছে সবজির দাম, মাছ নাগালের বাইরে

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ নভেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৭ নভেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বাজারে শীতাকালীন সবজির দাম কমেছে। তবে, ক্রেতাদেরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে মাছের বাজার। তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস ছাড়া অন্যান্য মাছের দাম এখন মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে।

শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়। মাছ ব্যবসায়রী বলছেন, শীত বাড়লে মাছের যোগান আরও কমবে এবং দাম আরও বাড়বে।

সরেজমিনে কাঁচা বাজারে সবজির দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, টমেটো, গোল বেগুন, লম্বা বেগুন, করলা, পটল, লাউ, কাঁচা পেঁপে, শসা, গাজর, ফুলকপি, বরবটি, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙ্গা, কচুর লতি, ঢেঁড়শ, লাউশাক, পালং শাক, লাল শাক, কলমি শাক, কচু শাকসহ সবধরনের শাক সবজির বাজার আগের মতোই চড়া। ৫০-৮০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি নেই।

ঢেঁড়স, পটল, ঝিঙ্গা, করোলা, চিচিঙ্গা ৭০-৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, বরবটি ৭০-৮০ টাকা, কাঁচাকলা হালি প্রতি ৪০-৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও পুরান আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি। যা গত সপ্তাহে দাম ছিল ৬০-৬৫ টাকা। দেশি ও ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ ও ৯৫ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছিল ১৩০ ও ১০০ টাকায়। দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়। দেশি রসুনের কেজি ২২০ যা গত সপ্তাহে ছিল ২৩০ টাকা। ইন্ডিয়ান রসুন ১৭০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮০ টাকা। আর অপরিবর্তিত রয়েছে শুকনা লাল মরিচের দাম। গত সপ্তাহের মতোই ৪২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মুদি পণ্যের মধ্যে দেশি মসুর ডাল, ইন্ডিয়ান মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ ও ১২৫ টাকায়, যার দাম গত সপ্তাহে ছিল ১৩০-১৩৫ টাকা এবং ১১৫ টাকা। এংকর ডাল ৬৮ টাকা, ছোলা  ৯০ টাকা, ডাবলি ৬৮ টাকা, খোলা চিনিগুড়া চাল ১৩৫ টাকা, মিনিকেট চাল ৬০-৬৮ টাকা, নাজিরশাইল চাল ৭৫ টাকা, মোটা চাল ৫৪ টাকা, গুঁড়াদুধ ৭৮০ টাকা, তেল ১৭০ লিটার, ৫ কেজির বোতল রূপচাঁদা ৮০০ টাকা, পামঅয়েল ১৩৫ কেজি বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে দেখা যায়, তেলাপিয়া মাছ কেজি প্রতি ২০০ টাকা দরে এবং  পাঙ্গাস মাছ ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই সাইজ ভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০টাকা কেজি, গলদা চিংড়ি আকার ভেদে ৬০০ থেকে ৯০০টাকা কেজি, আইড় মাছ ৭০০ টাকা কেজি এবং শোল মাছ ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।  ১ কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকায়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শামীম নামে একজন ক্রেতা বলেন, শীতাকালীন সবজির দাম গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমলেও মাছের বাজার তো আবার চড়া। তেলাপিয়া মাছ বাদে আর অন্য কোনো মাছ তো কিনতে পারব বলে মনে হচ্ছে না।

এদিকে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭২০ ও খাসির মাংস ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে।


আরও খবর



সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

Image

ছাতকে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি ঘটেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং মুষলধারে বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে গেছে। ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদী। পাউবোর তথ্য মতে মঙ্গলবার (১৮ জুন) নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ছাতক পৌরশহরের বাগবাড়ী, মন্ডলীভোগ, হাসপাতাল রোড, তাঁতিকোন, বৌলা, চরেরবন্দ, মোগলপাড়া, ঢাকাইয়া বাড়ি, লেবারপাড়া, পাটনীড়া, কুমনা, শ্যামপাড়াসহ আবাসিক এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এসব এলাকার বসবাসরত মানুষজন। ইতোমধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত মানুষের জন্য শুকনো খাবারসহ প্রাথমিক সব ব্যবস্থা রেখেছে উপজেলা প্রশাসন।

ছাতকসহ পার্শ্ববর্তী কোম্পানীগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই ছাতকের বহু গ্রামীণ সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

ছাতক পৌর এলাকার বাসিন্দা মাসুদ আমান বলেন, ২২ এর বন্যার চেয়ে ভয়ানক রুপ নিচ্ছে এবারে বন্যা। আমরা ছেলে-মেয়ে নিয়ে বিপাকে আছি। আমার ২ মেয়ের কেউ সাঁতার জানে না। কী হবে এখনো জানি না।

বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জামি আহমেদ বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিরাপদেই আছি। কিন্তু আমাদের গবাদি পশু নিয়ে পড়েছি বিপাকে। আমাদের মতো তারাও না খেয়ে আছে।

ছাতক উপজেলার গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দুর্বিসহ অবস্থায় দিন পার করছে। উপজেলার ইছামতি-ছনবাড়ীবাজার, শিমুলতলা-মুক্তিরগাঁও সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়ক, ছাতক-জাউয়া, ছাতক-সুনামগঞ্জ, ছাতক-দোয়ারাবাজার  সড়কের বিভিন্ন নিচু অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ছাতক পৌরসভারসহ নোয়ারাই, ছাতক সদর, কালারুকা, উত্তর খুরমা, চরমহল্লা, জাউয়া, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, ছৈলা-আফজলাবাদ, দক্ষিণ খুরমা, ভাতগাঁও, দোলারবাজার ও সিংচাপইড় ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক কাঁচা ঘর-বাড়ি ও গ্রামীণ কাঁচা সড়ক। পাহাড়ি ঢলের স্রোতের ধাক্কায় ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবতী নীজগাঁও, রতনপুর, বাগানবাড়ি, নোয়াকোট, ধনীটিলা, ছনবাড়ী, দারোগাখালী সড়ক সহ নব নির্মিত ৮-১০টি কাঁচা সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় দেশের সাথে ছাতকের সড়ক যাগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তাফা মুন্না বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতসহ প্রাথমিক সব ধরনের প্রস্তুতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যার্তদের সহায়তায় সকলকে মানবীয় কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।


আরও খবর



নির্বাচনকে ঘিরে চায়ের দোকানে বইছে নির্বাচনী হওয়া

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জুয়েল রানা, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

Image

আসন্ন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলার সর্বত্রই এখন নির্বাচনী হাওয়া বইছে। আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠিত হবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদিনই কাক ডাকা ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। আর নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার হাট-বাজার ও গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি চায়ের দোকান গুলোতে শুরু হয়েছে নির্বাচনী হাওয়া।

সরেজমিনে এ উপজেলার বিভিন্ন চায়ের দোকানে দেখা যায় ভোটাররা নির্বাচনী আলাপে মশগুল। একজন ভোটার এলাকার এক প্রার্থীর পক্ষে কথা বললেন, তার প্রশংসা করলেন তো আরেক ভোটার আরেক প্রার্থীর প্রশংসা করে তাকেই এগিয়ে রাখছেন। এ নিয়ে খানিকটা তর্কও হচ্ছে ভোটারদের মধ্যে। আর সারা উপজেলা ব্যাপী এখন একই চিত্র। শুধু ভোটের আলাপ। তীব্র গরমের সাথে গরম চায়ের চুমুকে চুমুকে চলছে ভোটের আড্ডা। সেই আড্ডা কোনো শেষ নেই। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত শুধু ভোটের আলোচনার হাওয়াই বইছে।

নির্বাচনে ৯জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৫ জন নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং ১০ জন পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে দুর্বল প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। স্ব-স্ব অবস্থান থেকে প্রার্থীগণ সকলে নির্বাচিত হওয়ার দাবি রাখছে। চেয়ারম্যান পথে একাধিক আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পাটির প্রার্থী থাকলেও নেতা-কর্মীগণ ব্যক্তি বিশেষ ভোট প্রদানের আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা হচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল আলম সরকার লেবু,  উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বর্তমান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সফিউল ইসলাম আলম, (যদিও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন), উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ আখতারুজ্জামান আকন্দ শাকিল, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য মোঃ খয়বর হোসেন সরকার মওলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, গোলাম কবির মুকুল। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন সরদার, জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন লিখন মিয়া এবং মো. এরশাদ আলী।

উপজেলা নির্বাচন অফিসসূত্রে জানা গেছে, ভোটারদের সুবিধার্থে ২৮টি ভোট কেন্দ্র বাড়ানো হয়েছে। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১১১টি। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৩৯টি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১১৪টি। ভোট কক্ষের সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ২২টি। উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৯ জন ও নারী ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১ হাজার ১৫৯  জন এবং হিজড়া ভোটার ১ জন। তুলনামুলকভাবে নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার মনোয়ার হোসেন জানান, ভোটারদের সুবিধার্থে উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এতে করে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে। নির্বাচন উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে।


আরও খবর



রাবি অধ্যাপকের গবেষণায় চার সবজিতে ক্যান্সার প্রতিরোধী ঔষধি গুণের উদ্ভাবন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আসিক আদনান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Image

শাক হিসেবে পালংপাতা বেশ জনপ্রিয়। এর সাথে যখন টমেটো, ধনিয়া পাতা মিশিয়ে সবজি তৈরি করা হয় তখন এটির স্বাদ যেমন বাড়বে তেমনি পুষ্টিউপাদান হাজারগুণে বেড়ে যাবে। পাশাপাশি খাবার তালিকায় লেবু থাকলে এতে যোগ করে ভিন্নমাত্রা। এমনি চার ঔষধি গুণসম্পন্ন ভোজ্য খাবার, যা ক্যান্সারের কোষ সৃষ্টিতে বাধা দেয়। রাবি অধ্যাপকের গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। টমেটো, পালংপাতা, ধনিয়াপাতা এবং লেবুর খোসা ক্যানসার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিকস, কিডনি রোগ প্রতিরোধকসহ বিভিন্ন রোগের নিরাময় হিসেবে কাজ করে।

একদল গবেষককে সঙ্গে নিয়ে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ভোজ্য খাবার ক্যান্সার প্রতিরোধী ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করে আসছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম। তাঁর গবেষক দল ড. মো. গোলাম সাদিক, ড. মামুনুর রশীদ, ড. আজিজ আব্দুর রহমান এবং বেশ কিছু ছাত্র মিলে বাংলাদেশের মার্কেটে পাওয়া যায় এমন ভোজ্য খাবারের (Edible Foods) প্রায় ৬৮টি প্রকরণ সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ৩১টি শাকসবজি, ১৭টি ফলমূল এবং ২০টি মসলা ছিল যা নিয়ে গবেষণা করে যাচাই করার চেষ্টা করেন এগুলো ক্যান্সার প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা পালন করে কিনা।

এই গবেষণার বিশেষত্ব হলো আলাদা আলাদা কয়েক ধরনের ক্যান্সার কোষ ব্যবহার করা যেমন ফুসফুস, সার্ভিকাল, কিডনি, কোলন ক্যান্সার ইত্যাদি এবং বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন প্রায় সকল ভোজ্য খাবার গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা। আশ্চর্যজনকভাবে ৪টি ভোজ্য খাবারে কার্যকর ভূমিকা পাওয়া যায়, যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সক্ষম। গবেষণায় তাঁরা প্রমাণ করেন টমেটো, পালংপাতা, ধনিয়াপাতা এবং লেবুর খোসা ক্যান্সার প্রতিরোধী।

গবেষণাটি ২০২৪ সালে পহেলা জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত 'ক্যান্সার রিসার্চ' (Cancer Research) জার্নালে প্রকাশিত হয়। অপর একটি পর্যালোচনা নিবন্ধে ১১টি ভোজ্য খাবারের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী (boost up) করায় আমেরিকা থেকে প্রকাশিত 'হেলিয়ন' (Heliyon) জার্নালে ২০২১ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

ড. খুরশীদ আলম বলেন, ভোজ্য খাবারের এই উপাদানগুলো শরীরে ২টি মাত্রায় বাড়তি সুরক্ষা দেয় ক্যান্সারের বিরুদ্ধে। এদের পুষ্টি উপাদানগুলো একদিকে দেহের ইমিওনিটি বুস্ট আপ করে আবার সুস্থ কোষকেও ক্যান্সার প্রতিরোধী করে তোলে। সুস্থ কোষগুলো আশেপাশের ক্যান্সার কোষকে নিধন করতেও সক্ষম হয়। এই খাবারগুলো সহজলভ্য এবং এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। সত্যি বলতে এগুলো আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত। অবচেতনভাবে আমরা এগুলো গ্রহণ করে থাকি। আমরা যদি জানতে পারি, কোনগুলো ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক, তাহলে সেই অনুযায়ী খাদ্য তালিকা তৈরি করতে পারলে ভোজ্য খাবার ক্যান্সার প্রতিরোধে বিরাট ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, ক্যান্সার গোটা বিশ্বে অন্যতম মরণব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে এর ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোজ্য খাদ্যসামগ্রী, যেগুলো ক্যান্সারের বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে সেগুলোর সনাক্তকরণ ও সঠিক ব্যবহার আক্রান্তের হারকে অনেকাংশেই কমিয়ে আনতে পারে।

ফার্মেসির অধ্যাপক ড. খুরশীদ আলম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বায়োমার্কার অথবা ক্যান্সার ইনিশিয়েটিং সেল (সিআইসি) নির্ণয় করার মতো কোনো যন্ত্র এখনও আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি বলে ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে ২০ লাখ ক্যান্সার রোগী রয়েছে, যেখানে প্রতি বছর প্রায় দেড় লাখ রোগী নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় যার মধ্যে প্রায় এক লাখ মারা যায়। এছাড়াও ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ মিলিয়ন যা প্রতি ছয়জনের মধ্যে একজন ক্যান্সারে মারা গেছে।

জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের (এনসিআই) দেওয়া তথ্য মতে, বর্তমানে সারা বিশ্বে মৃত্যুর ২য় সর্বোচ্চ কারণ হলো ক্যান্সার এবং ২০৪০ সালের মধ্যে যা ১ম স্থান দখল করবে বলে গবেষকদের ধারণা। বাংলাদেশেও মৃত্যুর ২য় সর্বোচ্চ কারণ হলো ক্যান্সার। অতএব কীভাবে ক্যান্সারকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে সেটাই এখন সকলের চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় এখনি সরকারকে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে এটিকে কীভাবে মোকাবেলা করা যায় সে ব্যাপারে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি গবেষকদেরও ক্যান্সার চিকিৎসায় বিকল্প পদ্ধতি বের করার প্রতি জোর দিতে হবে। এই সব চিন্তা মাথায় রেখেই ড. খুরশীদ আলম ও তাঁর গবেষক দল প্রমাণ করলেন সবজির মধ্যেই রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণ।

এর আগে, ড. খুরশীদ তুঁত ফল, বাকল ও মূল নিয়ে আলাদাভাবে গবেষণা করে ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণ আবিষ্কার করেন। গবেষণাপত্রটি ২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী বায়োমেড সেন্ট্রাল রিসার্চ নোট। পরে আরেকটি গবেষণা নিয়ে ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী পোলস ওয়ান-এ গবেষণাপত্র প্রকাশ পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই সালে ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন স্বর্ণপদক পান। এছাড়াও তাঁর ৯৪টি গবেষণাপত্র দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: রাজশাহী

আরও খবর



‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে স্মার্ট নাগরিক হতে হবে: চবি উপাচার্য

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের জন্য স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকালে চবি ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ভার্চুয়াল ক্লাশরুমে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালা উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আবু তাহের।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন চবি উপ-উপাচার্যবৃন্দ। চবি আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মামুনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য রাখেন চবি কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইকিউএসি এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. কমল দে ও ড. তানজিনা শারমিন নিপুন। কর্মশালায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

চবি উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের জন্য আইকিউএসি আয়োজিত বিজ্ঞ রিসোর্স পার্সনদের মাধ্যমে প্রদত্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরী। কর্মকর্তাদের প্রতিনিয়ত কাজের মাধ্যমে শিখতে হবে এবং এ শেখার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত কলাকৌশল প্রয়োগ করে নিজেদের মেধা ও দক্ষতার সাক্ষর রেখে সেবার মানসিকতা নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

তিনি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রাপ্ত জ্ঞান পারস্পরিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অনুষঙ্গসমূহকে আয়ত্ত করে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমাণে সকলকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহবান জানান।


আরও খবর



১৭ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

আসন্ন ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি মিলিয়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৭ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এ ছুটি শুরু হবে, যা শেষ হবে ২৯ জুন।

রাজধানী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে এ ছুটির নোটিশ টানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আগামী ১৩ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত ১৭ দিন ক্লাস ছুটি থাকবে। ৩০ জুন থেকে যথারীতি অর্ধদিবস ক্লাস চলবে। তবে ১ জুলাই থেকে পূর্ণ দিবস ক্লাস চলবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জানান, গ্রীষ্মকালীন ছুটি সাধারণ জুন মাসে হয়ে থাকে। যেহেতু ঈদুল আজহার ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়া হয়েছে। এই ছুটি সাধারণ এক মাস হওয়া কথা থাকলেও চলতি বছর শীত ও তীব্র গরমের কারণে বেশ কিছুদিন স্কুল বন্ধ ছিল। তাই গ্রীষ্মকালীন ছুটি কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ চাইলে ঈদের ছুটি এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি আলাদা করেও দিতে পারেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর সৈয়দ জাফর আলী বলেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটি নিয়ে আমাদের ভিন্ন ভাবনা রয়েছে। তবে যেহেতু ঈদের ছুটি আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে যাবে তাই আপাতত ঈদের ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে কোনো প্রতিষ্ঠান গ্রীষ্মকালীন ছুটি দিতে পারে। গ্রীষ্মকালীন ছুটি নিয়ে কোনো পরিবর্তন হলে তা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ এমান হোসাইন বলেন, আমরা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে সরকার যদি ছুটির কোন পরিবর্তন হয় তবে সেটি সংশোধন করা হবে।


আরও খবর