আজঃ মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

কোম্পানীগঞ্জে অটোরিকশা-কাভার্ড ভ্যান সংঘর্ষে নিহত ২

প্রকাশিত:রবিবার ৩১ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ৩১ অক্টোবর ২০২১ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরো ৩জন গুরুত্বর আহত হয়েছে।

নিহত নয়ন সূত্রধর (৪৫) সে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের সাহাজাদপুর গ্রামের বড় মিস্ত্রি বাড়ির মরিয়াল সূত্রধরের ছেলে  ও একই বাড়ির কান্তি কুমার সূত্রধরের মেয়ে চন্দনা রাণী সূত্রধর (২১)। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিক আহতদের পরিচয় জানাতে পারেনি।

রোববার (৩১ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ড টু পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ড সংযুক্ত বাইপাস সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, বসুরহাট পৌরসভা এলাকার বাইপাস সড়ক দিয়ে একটি যাত্রীবাহী সিএনজি পার্শ্ববর্তী কবিরহাট উপজেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা কাভার্ড ভ্যানের সাথে সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে আরো তিন সিএনজি যাত্রী গুরুত্বর আহত হয়। কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আইনগত প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।


আরও খবর



চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ভুয়া এসিল্যান্ড পলাতক, আটক কথিত সাংবাদিক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া

Image

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এসিল্যান্ড পরিচয়ে ফার্মেসীতে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চাইতে গিয়ে জনগণের হাতে আটক হয়েছেন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ব্যক্তি।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরের দিকে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের চড়াইকোল বাজারে এই ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে কুমারখালী থানায় এজাহার জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

আটক হয়েছেন পৌরসভার কাজীপাড়া এলাকার সাহেব আলীর ছেলে একাত্তরের বাংলাদেশ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়দানকারী রাকিব(২২)।

ভুক্তভোগী ফার্মেসী মালিক মিজানুর রহমান জানান, মঙ্গলবার বেলা দেড় টার দিকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী রাকিব ও পলাশ তাদের সাথে থাকা অজ্ঞাত ব্যক্তিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিচয় দিয়ে ফার্মেসির কাগজপত্র দেখাতে বলে এবং তারা ম্যাজিস্ট্রেটকে ম্যানেজ করতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। তাদের কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় ফার্মেসী মালিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর পরিচয় দাবি করেন এবং স্থানীয়দের বিষয়টি জানান।

এসময় স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করলে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী পলাশ ও ভূয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও রাকিব আটক হয়। পরবর্তীতে কুমারখালী থানা পুলিশ রাকিবকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ বিষয়ে কুমারখালী থানায় রাকিব, পলাশ ও ভূয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এজাহার হয়েছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সুকল্যাণ জানান, চাঁদাবাজি করতে গিয়ে জানগনের হাতে আটক খবর পেয়ে রাকিব নামে একজনকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি৷ অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ ট্যাগ: অবৈধ ফার্মেসি

আরও খবর



সর্বজনীন পেনশন: আজ চালু হচ্ছে প্রত্যয় স্কিম

প্রকাশিত:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সর্বজনীন পেনশন প্রত্যয় স্কিম চালু হচ্ছে আজ সোমবার (১ জুলাই)। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, ব্যাংক এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৪০০ সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য প্রত্যয় প্রযোজ্য হবে।

প্রত্যয় পেনশন স্কিম অনুযায়ী, কর্মচারীদের মূল বেতনের ১০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটা কম তা কাটা হবে এবং সমপরিমাণ অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা দেবে। সেই অর্থ জমা হবে পেনশন কর্তৃপক্ষের তহবিলে। ৩০ বছর ধরে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা মানদণ্ড ধরলে, একজন কর্মচারীর নিজ বেতন থেকে জমা হবে ৯ লাখ আর সংশ্লিষ্ট সংস্থা জমা করবে আরও ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর মোট চাঁদা হবে ১৮ লাখ টাকা। যদি তিনি ৭৫ বছর বয়সে মারা যান, তাহলে ১৫ বছরে পেনশন পাবেন ১ কোটি ১২ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা, যা তার নিজ জমার ১২ দশমিক ৪৭ গুণ।

বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ সব রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও সরকারি ব্যাংক; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সাধারণ বীমা করপোরেশনসহ সব করপোরেশন, পেট্রোবাংলা, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিএসটিআইসহ প্রায় ৪০০ সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য প্রত্যয় প্রযোজ্য হবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েলসহ সরকারের হাতে ৫০ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিকানা রয়েছে, এমন কোম্পানিগুলোতে নতুন যোগ দেয়া কর্মীরাও আর বিদ্যমান নিয়মে পেনশন পাবেন না।

সরকার বলছে, এই পেনশনের সুবিধা আজীবন মিলবে, এমনকি এর অঙ্ক বৃদ্ধির সম্ভাবনাও আছে। পেনশন কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত হওয়ায় শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ এবং আয়করমুক্ত। এ কর্মসূচিতে নিবন্ধিত কর্মচারীরা পেনশন পাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার পরের মাস থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁদের ব্যাংক হিসাবে মাসিক পেনশনের অর্থ পেয়ে যাবেন। পেনশন পেতে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো দফতরে যাওয়ার বা কোনো ধরনের প্রমাণ দেখানোরও প্রয়োজন হবে না।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




বেরোবিতে নিহত আবু সাঈদের নামে গেট-চত্বর

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলিতে নিহত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ছাত্র আবু সাঈদের নামে গেট ও চত্বরের নামকরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় ক্যাম্পাসে তার গায়েবানা জানাজার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১ নম্বর গেটের নাম পরিবর্তন করে রাখেন শহীদ আবু সাঈদ গেট এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড়ের নাম রাখেন শহীদ আবু সাঈদ চত্বর

এ বিষয়ে আবু তালেব নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের সহপাঠীকে আমরা হারিয়েছি। তাকে আর ফিরে পাবো না। কিন্তু তার নামে গেটের নাম রাখছি। যতদিন বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে ততদিন আবু সাঈদ গেট নামে চিনবে সবাই।

সোহরাব হোসেন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যেই গেটের সামনে আমাদের ভাই রক্ত দিয়েছে, সেই গেটকে স্মরণীয় রাখতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তার নামে রাখবো।

নিহত আবু সাঈদ বোরোবির ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি কোটাবিরোধী আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।


আরও খবর



হলি আর্টিজান হামলার ৮ বছর আজ, কী ঘটেছিল সেদিন

প্রকাশিত:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

দিনটি ছিল ২০১৬ সালের ১ জুলাই (শুক্রবার)। রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে খবর পাওয়া যায় রাজধানীর গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি হচ্ছে। সশস্ত্র হামলাকারী এক রেস্টুরেন্টে ঢুকে বিদেশী নাগরিকসহ বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করেছে। ভয়াবহ এ হামলায় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ এবং প্রায় ১২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস জিম্মি সংকটের ঘটনায় স্তম্ভিত করেছিল পুরো জাতিকে।

ওই দিনের হামলায় মোট ২২ জন নিহত হন। এর মধ্যে ২ পুলিশ কর্মকর্তা ও ১৭ বিদেশি নাগরিক ছিল। ওই দিন পুরো রাত স্পর্শকাতর বিবেচনায় কয়েকবার প্রস্তুতি নেওয়া সত্ত্বেও অভিযান চালোনো থেকে বিরত থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

হলি আর্টিজানে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্সসহ প্রথমে পৌঁছান গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন কুমার দাস। মামলার এজাহারে ঘটনার বিবরণীতে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন গুলশান থানার রোড নম্বর-৭১ থেকে ৯২ এবং এর আশপাশ এলাকায় পেট্রোল ডিউটির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে ওয়্যারলেসে ভেসে আসে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বেকারিতে গুলির খবর। খবর পেয়েই ফোর্সসহ রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান এসআই রিপন। হলি আর্টিজানের কাছে উপস্থিত হয়ে তারা দেখতে পান, রেস্টুরেন্টের ভেতরে কতিপয় সন্ত্রাসীরা আল্লাহ্ আকবর ধ্বনি দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করছে।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ ও এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। আত্মরক্ষার্থে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীদের নিক্ষিপ্ত করা গুলি ও গ্রেনেডের আঘাতে এসআই ফারুক হোসেন ও কনস্টেবল প্রদীপ চন্দ্র দাস ও আলমগীর হোসেন গুরুতর আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং এসআই রিপন কুমার দাস বিষয়টি তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

যার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াসহ ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। এরপর পুলিশসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হলি আর্টিজানের বেকারির চারপাশে কর্ডন করে ফেলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সন্ত্রাসীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে অনবরত গুলি ও গ্রেনেড ছুড়তে থাকে।

এ অবস্থায় রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সন্ত্রাসীরা হলি আর্টিজানের বেকারির পশ্চিম দিকের বাড়ির সামনে অবস্থানরত পুলিশ অফিসার ও ফোর্সদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে অন্তত ৩০-৩৫ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হন, কেউ কেউ মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হয়। সে সময় চারদিকে ঘিরে থাকা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-পুলিশসহ অন্য বাহিনীর সদস্যরা দৌড়ে নিরাপদ দূরত্বে যান। আহতদের সবাইকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টা ২০ মিনিটে বনানী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহউদ্দিন খান মৃত্যুবরণ করেন। এর কিছুক্ষণ পরই ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) মো. রবিউল করিমের মৃত্যু হয়।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে রাতেই সিদ্ধান্ত হয় পরের দিন ২ জুলাই অপারেশন থান্ডারবোল্ট পরিচালনা করা হবে। এ অভিযানের মধ্য দিয়েই জিম্মিদশার অবসান ঘটান যৌথ সেনা, নৌ, পুলিশ, র‍্যাব এবং বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ কমান্ডো দল। নিহত হয় ৬ জঙ্গি, আহত অবস্থায় ধরা পড়ে একজন।

রাত দেড়টায় ইসলামিক স্টেট জঙ্গি গোষ্ঠী তাদের বার্তা সংস্থা বলে পরিচিত আমাক এ হামলার দায় স্বীকার করে ২০জন নিহত হবার কথা জানায়। আইএস এর পক্ষ থেকে হামলাকারীদের মধ্যে পাঁচজনকে তাদের সৈনিক বলে দাবি করে, হামলার দায় নেয় তারা।

২০১৬ সালের ২ জুলাই ভোর ৭টা ৩৫ মিনিটে গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয় যৌথ কমান্ডো দল। ৭টা ৪৫ মিনিটে কমান্ডো বাহিনী অভিযান শুরু করে। অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত দলের সদস্যরা রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। সকাল সোয়া ৮টায় রেস্টুরেন্ট থেকে প্রথম দফায় নারী ও শিশুসহ ৬ জনকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। পাশের একটি ভবন থেকে একজন বিদেশী নাগরিক তার মোবাইল ফোনে সেটি ধারণ করেন। ৮টা ৫৫ মিনিটে ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয় অভিযানকারীরা। গোয়েন্দা দল ভবনের ভেতর বিস্ফোরকের জন্য তল্লাশি শুরু করে। কিছুক্ষণ পরই আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করে গোয়েন্দারা। ৯টা ১৫ মিনিটে অভিযান শেষ হয়। কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে প্রায় ১২ ঘণ্টার রক্তাক্ত জিম্মি সংকটের অবসান হয়।

সকাল ১০টায় ৪ জন বিদেশীসহ ১৩ জন জীবিত উদ্ধারের খবর জানানো হয়। রেস্টুরেন্টের ভেতরে অজ্ঞাত পাঁচজনের মৃতদেহ পাবার কথা পুলিশ জানায়। ১১টা ৫০ মিনিটে অভিযানে জঙ্গিদের ৫ জন নিহত হয় বলে নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অভিযানে নিহত জঙ্গিরা হলেন- মীর সামিহ মোবাশ্বের (১৯), রোহান ইমতিয়াজ (২০), নিরবাস ইসলাম (২০), খায়রুল ইসলাম পায়েল (২২), শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওরফে বিকাশ (২৬)।

পরে জিম্মি থাকাবস্থায় সন্ত্রাসী কর্তৃক নৃশংসভাবে নিহত হওয়া ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে নয়জন ইতালির নাগরিক, সাতজন জাপানের, একজন ভারতের ও তিনজন বাংলাদেশি।

উদ্ধার জিম্মিদের বয়ান অনুযায়ী তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, জঙ্গিরা হামলার প্রথম ২০ মিনিটেই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। তারা দেশি-বিদেশিদের গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে-গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যার পর ছবি তুলে অ্যাপের মাধ্যমে বাইরে অবস্থানরত নব্য জেএমবির নেতা তামিম চৌধুরী ও মারজানের কাছে পাঠায় তারা। জঙ্গিরা এতটাই নিষ্ঠুর ছিল যে, লাশের সারি মেঝেতে রেখেই খাবার খায়।


আরও খবর
মেট্রোরেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




ভোলার মেঘনা নদীতে ড্রেজার ডুবে ৫ শ্রমিক নিখোঁজ

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ভোলা প্রতিনিধি

Image

ভোলার মধ্য মেঘনায় বালু কাটার ড্রেজারসহ ৫ শ্রমিক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজরা হলেন, হারুন (৫৫), আরিফ (২৪), সিয়াম (২২), নুরুদ্দিন, (৩৫) ও তানজিল (২২) এদের বাড়ি ভোলার সদর উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ৬ নং ওয়ার্ড বলে জানা যায়।

এঘটনায় নৌ-পুলিশ এবং ভোলা ও বরিশালের ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিটের ডুবুরিরা উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্য মেঘনার গাজীপুর নামক চর সীমানায় বালু মহালে বালু উত্তোলনের জন্য গত কয়েকদিন ধরে ৪টি ড্রেজার বালু কাটছিলো। কিন্তু আফসানা নামের ড্রেজারটি ডুবন্ত চরে পাইপ দিয়ে বালু কাটার সময় তাদের পইপ আটকে যায়। দুদিন ধরে চেষ্টা চালিয়েও পাইপটি উঠাতে পরেনি। সোমবার গভীর রাতে আরো অপর তিনটি ড্রেজার একই স্থানে পাশাপাশি থাকে এবং ভাটির কারণে ওই ড্রেজারে থাকা শ্রমিকেরা রুম আটকিয়ে ঘুমিয়ে পরে। ভোর হলে অপর তিনটি ড্রেজারের শ্রমিকরা দেখতে পায় আফসানা নামের ড্রেজারটি ওখানে নেই। পরে তারা বিভিন্ন জনের কাছে ফোন দিয়ে কোনো হদিস না পেয়ে তাদের পরিবারের কাছে ফোন দিলে ওই পরিবারের লোকজন ইলিশা তালতলী ঘাটে এসে আহাজারি করে। এ খবর পেয়ে নৌ-পুলিশসহ ভোলা ও বরিশালের ফায়ার সার্ভিসের দুইটি টিম ঘটনাস্থলে এসে ড্রেজারটি অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ড্রেজারে থাকা শ্রমিকদের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা তালতলী ঘাটে এসে বিভিন্ন ট্রলারে করে মধ্য মেঘনায় গিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তদের খুঁজছেন।

এ বিষয়ে ভোলা নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কুমার আজকের দর্পণকে জানান, বরিশালের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ও কোস্টগার্ডের সদস্যসহ আমরা ড্রেজারটির খোঁজে কাজ করে যাচ্ছি। তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।

ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জামান এ বিষয়ে জানান, জেলা পুলিশসহ সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে উদ্বার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ড্রেজার ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।


আরও খবর