আজঃ মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21
শিরোনাম

কওমি মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে

প্রকাশিত:সোমবার ২৯ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ২৯ মার্চ ২০২১ | ১০৭৭জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কওমি মাদরাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সোমবার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে করোনা প্রতিরোধে সরকারের নতুন ১৮ দফা নির্দেশনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী একথা জানান।

করোনার মধ্যে অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও কওমি মাদরাসায় পাঠদান চলছিল। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ২২ মের পর খুলবে বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এবার কওমি মাদরাসাও বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস স্বাক্ষরিত নির্দেশনার ১০ নম্বরে বলা হয়, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাদরাসা, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়) ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা শনাক্তের পর ১৮ মার্চ থেকে কওমি মাদরাসাসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হলেও পরে কওমি মাদরাসাগুলো খুলে দেওয়া হয়।

নতুন নির্দেশনায় কওমি মাদরাসাগুলো বন্ধ থাকবে কিনা- প্রশ্নে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এখানে উল্লেখ করে দিয়েছি প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাদরাসা, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। কোনো রকম শিক্ষার্থী আপাতত আসবে না। তবে অনলাইনে ক্লাস চলবে।

মাদরাসার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। এখানে কওমি না, সব মাদরাসা, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা সব জায়গায় বন্ধ থাকবে। কারণ এটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এটা যদি রোধ করতে না পারি তাহলে সমস্যা হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে রিপোর্ট আছে যারা ইসলামিক ওয়াজে উপস্থিত ছিলেন তারা অনেকে আক্রান্ত হয়েছে। যারা খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। করোনা হচ্ছে একটা ভাইরাস, সেটা কাউকে ছাড়বে না। কেউ অন্য কিছু বিশ্বাস করে যদি করোনাকে ভয় না করেন, ভয় না পাওয়া অযৌক্তিক, আপনাকে অবশ্যই সুরক্ষায় রাখতে হবে।


আরও খবর



দেশের চারটি পৌরসভায় ভোগগ্রহণ শুরু

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ৩১ মার্চ ২০২১ | ৭৯জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আজ বুধবার (৩১ মার্চ) দেশের চারটি পৌরসভায় ভোগগ্রহণ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, যশোর সদর ও মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার সব পদে এবং ঠাকুরগাঁও সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায় একটি করে সাধারণ ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আগে থেকেই নির্ধারিত পৌরসভাগুলোর ভোটগ্রহণ আজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। বাকি পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কবে হবে, তা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ইসি বৈঠকের পর জানাবেন।

নিউজ ট্যাগ: পৌরসভা নির্বাচন

আরও খবর



ফেনীতে গৃহবধূর কোলজুড়ে একসঙ্গে চার সন্তান

প্রকাশিত:শনিবার ০৩ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ০৩ এপ্রিল ২০২১ | ১১৯জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ফেনীতে গৃহবধূর কোলজুড়ে একসঙ্গে জন্ম নেয়া চার সন্তান। একসঙ্গে চার সন্তান পেয়ে খুব খুশি হলেও তাদের সুস্থতা, লালনপালন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাতাকান্দি গ্রামের রাজমিস্ত্রি ফরহাদের পরিবার।

ফেনীর ফেনী প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ল্যাপারোস্কোপি ইনস্টিটিউটে মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) একসঙ্গে এ চার সন্তান জন্ম দিয়েছেন ফরহাদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। চার নবজাতকের মধ্যে দুটি মেয়ে ও দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে। শুক্রবার (২ এপ্রিল) হাসপাতাল থেকে গৃহবধূ ও সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে যায় স্বজনরা।

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) প্রসব বেদনা শুরু হলে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেবীপুরের ফেনী প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ল্যাপারোস্কোপি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানো হয়। ওই রাতেই জান্নাত স্বাভাবিক নিয়মে চার সন্তান প্রসব করেন।

হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. আবদুল কাইয়ুম বলেন, প্রথমে ওই নারীর পেটে তিনটি সন্তান রয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হই। প্রসবকালে তিনি একে একে ৪টি সন্তান প্রসব করেন। সন্তান জন্মদানের পর ছোটখাটো কিছু সমস্যা থাকলেও শুক্রবার তারা পুরোপুরি সুস্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।


আরও খবর



বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী

৮ম দিনের প্রতিপাদ্য ‘শান্তি, মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত’

প্রকাশিত:বুধবার ২৪ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৪ মার্চ ২০২১ | ৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে মুজিব চিরন্তন শীর্ষক মূল প্রতিপাদ্যের দশ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আজ বুধবার অষ্টম দিনের প্রতিপাদ্য শান্তি, মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং।

বিদ্যমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সীমিত আকারে ৫০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব আলোচনা অনুষ্ঠান বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত। এরপর সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৩০ মিনিটের বিরতি থাকবে। দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানটি টেলিভিশন, বেতার, অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আবদুল মোমেন এমপি। আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করবেন এ এইচ মাহমুদ আলী এমপি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান।

এ ছাড়া ভ্যাটিক্যান সিটি থেকে প্রাপ্ত পোপ ফ্রান্সিসের ভিডিও বার্তা প্রচার করা হবে। আলোচনা পর্বে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং বক্তব্য প্রদান করবেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিদের মুজিব চিরন্তন শ্রদ্ধা-স্মারক প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা পর্বের সমাপ্তি হবে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে বন্ধুরাষ্ট্র ভুটানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনা, মুজিব চিরন্তন প্রতিপাদ্যের ওপর টাইটেল এ্যানিমেশন ভিডিও, ঐ মহামানব আসে শীর্ষক রবীন্দ্র সংগীত, অজর, অমর, অক্ষয় শীর্ষক নজরুল সংগীত, লোকনায়ক শীর্ষক লোকসংগীত, স্পন্দন পরিবেশিত মহাকালের গণনায়ক : তোরা সব জয়ধ্বনি কর, বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠান শতবর্ষ পরেও, কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-১৯৭১ এর ১ আগস্টের অনুষ্ঠানের চুম্বক অংশ, কনসার্ট ফর বাংলাদেশ শীর্ষক দেশি শিল্পীদের পরিবেশনা এবং সব শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জর্জ হ্যারিসনের বাংলাদেশ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে।


আরও খবর



তরমুজ চাষে সাবলম্বী রাঙ্গাবালীর চাষী

প্রকাশিত:সোমবার ২২ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ২২ মার্চ ২০২১ | ১৩৭জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ

তরমুজ! একটি রসালো ফল। এই ফলটির জন্যই তরমুজের এলাকা হিসেবে পরিচিত হয়েছে রাঙ্গাবালী উপজেলা। অসংখ্য তরমুজ জন্মায় এই উপজেলায়। প্রতি বছর তরমুজ বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করে চাষীরা। এ বছরও তার বেতিক্রম নয়। বুক ভরা আশা নিয়ে তরমুজ চাষ করেছেন অনেক চাষী। আশার প্রতিফলনও ঘটেছে। বাম্পার ফলন, দামও বেশি। তাই এই ভরা মৌসুমে ক্ষেতের পরিচর্যা ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হওয়ায় ফলন ফলাতে তেমন কোন বেগ পেতে হয়নি বলে চাষীরা জানিয়েছেন। প্রতিদিন লঞ্চ, ট্রলার, কারগো বোঝাই করে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে যায় রাঙ্গাবালীর তরমুজ। চাহিদা মুল্যে বিক্রি করতে পেরে খুসি এখন চাষী পরিবার।

রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের গঙ্গীপাড়া, যোগীরহাওলা, বড়বাইশদিয়ার গাইয়াপাড়া, টুঙ্গীবাড়িয়া, মৌডুবীর জাহাজমারা, ছোটবাইশদিয়ার কাউখালী ঘুরে দেখা গেছে, এই ভরা মৌসুমে ক্ষেত থেকে পাকা তরমুজ সংগ্রহ ও ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষীরা। আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ তরমুজ পেকে যাবে বলেও জানান তারা। তবে স্থল পথে যানবাহন না থাকায়, ক্ষেত থেকে ইঞ্জিন চালিত বা বৈঠা চালিত নৌকায় করে লঞ্চ অথবা মালবাহী কারগোর ঘাটে আনতে হয় তরমুজ। ওইসব বাহনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠায় বিক্রির জন্য। এতে খরচ হয় অনেক বেশি। সব খরচ মিটিয়েও ভালো লাভবান হওয়ার আশা করছেন চাষীরা।

রাঙ্গাবালীর চাষী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এবছর ১০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। তাতে আমার ৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত সারে ৪ লাখ টাকার মতো বিক্রি করেছি। ফলন খুবই ভালো হয়েছে, লাভবান হতে পারবো আশাকরি। একই ভাবে জানালেন কাউখালীর চাষী হেলাল শিকদার। তিনি এবছর ৭ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত ৪ লাখ টাকা বিক্রি করেছে। বাকি যা আছে তাতে ভাল লাভ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, রাঙ্গাবালীতে এ বছর ৭৬৩০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে, অন্তত তিনশত কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে রাঙ্গাবালী থেকে।


আরও খবর



পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব

প্রকাশিত:বুধবার ২৪ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৪ মার্চ ২০২১ | ১০১জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়তে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নীতি-নির্ধারকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বুধবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে মুজিব চিরন্তন শীর্ষক মূল প্রতিপাদ্যের দশ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার ৮ম দিনের (২৪ মার্চ ২০২১) অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য শান্তি, মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এই শুভ মুহূর্তে আমি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক নেতা এবং নীতি-নির্ধারকদের প্রতি একটি শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষের বসবাস। এ অঞ্চলে যেমন সমস্যা রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা। আমাদের এ অঞ্চলের মানুষের রয়েছে অসম্ভব প্রাণশক্তি, উদ্ভাবন ক্ষমতা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে জয় করে টিকে থাকার দক্ষতা।

পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রাপ্ত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আমরা সহজেই দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটাতে পারি। আমরা যদি আমাদের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করি, তাহলে অবশ্যই দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শুধু বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যই লড়াই করেননি। তিনি বিশ্বের সব নিপীড়িত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন। তিনি শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

বঙ্গলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চমধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে- আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।

ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ভুটান আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী বন্ধু-রাষ্ট্র। ভৌগোলিক নৈকট্য ছাড়াও আমাদের রয়েছে প্রায় একই ধরনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের অবস্থান প্রায় এক এবং অভিন্ন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে সহযোগিতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভুটানের প্রয়াত মহামান্য তৃতীয় রাজা জিগমে দোর্জি ওয়াংচুক এবং সেদেশের জনগণ স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের শুধু সমর্থনই দেননি, সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ভুটানের তরুণেরা ভারতের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আহত এবং অসুস্থ বাঙালি শরণার্থীদের সেবা করেছিলেন।

বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ভুটানই প্রথম দেশ যে স্বাধীন বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়লাভের আগেই ৬ ডিসেম্বর ভুটান বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। আমরা ভুটানের জনগণের সে অবদানের কথা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করি।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১২ সালে ভুটানের তৃতীয় রাজা জিগমে দোর্জি ওয়াংচুককে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার সম্মাননায় ভূষিত করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।


আরও খবর