আজঃ সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

কোটালীপাড়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

দুদিনের ব্যক্তিগত সফরের অংশ হিসেবে নিজ নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ১০টায় কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পৌঁছান তিনি।

পরে স্থানীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঘরোয়াভাবে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এ সময় সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ সালাহ উদ্দিন, শেখ তন্ময় তার সঙ্গে ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে দুদিনের ব্যক্তিগত সফরে টুঙ্গিপাড়া পৌঁছান শেখ হাসিনা। সেখানে পৌঁছে তিনি টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


আরও খবর
জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৬ মৃত্যু

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




সীমান্তে আহত-নিহতদের পরিবারে বিজিবির আর্থিক সহায়তা প্রদান

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
কক্সবাজার প্রতিনিধি

Image

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মর্টার শেল বিস্ফোরণে আহত ও নিহত পরিবারের মাঝে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মাশরুকী।

জানা যায়, সাম্প্রতিককালে মায়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে মায়ানমার থেকে নিক্ষিপ্ত মর্টার শেল বিস্ফোরণে একজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, আহত ও নিহতদের পরিবারের সবাই অসহায় ও হতদরিদ্র। আহতদের অনেকেই অর্থাভাবে যথার্থ চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এমনকি এখনো পর্যন্ত তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি কেউ। গণমাধ্যমের এমন খবরে বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশে রবিবার কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আবদুল্লাহ আল মাশরুকী আহত আনোয়ারুলকে দেখতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে যান।

সেখানে তার চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। পরে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী এলাকার নিহত নারীর আহত দুজন নাতি-নাতনিকে দেখতে যান, তাদের খোঁজ-খবর নেন এবং বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেন।


আরও খবর



২৩ বাংলাদেশিকে ভারতীয় পুলিশের কাছে সোপর্দ বিএসএফের

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ফেনীর ছাগলনাইয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আটক ২৩ বাংলাদেশিকে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আজ বুধবার সন্ধ্যায় ফেনীর -৪ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধিনায়ক শেখ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ২৩ বাংলাদেশিকে আটকের বিষয়টি প্রথমে স্বীকার করেনি বিএসএফ। আজ তারা স্বীকার করে জানিয়েছে, চোরাকারবারি হিসেবে তাদের ভারতের মনুবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে পতাকা বৈঠক করার কোনো সুযোগ নেই। আদালতের মাধ্যমে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।

স্থানীয়রা জানায়, গত সোমবার রাত ২ টায় পূর্ব ছাগলনাইয়া এলাকার এক বাংলাদেশিকে বিএসএফ ধরে নিয়ে গেছে বলে গুঞ্জন শুনে স্থানীয়রা খবর নিতে সীমান্তের ৯৯ নম্বর পিলার সংলগ্ন কাঁটাতারের কাছাকাছি যায়। তখন বিএসএফ পুনরায় বাংলাদেশিদের ধাওয়া শুরু করে। একপর্যায়ে তারা সেখান থেকে ২৩ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে যায়।

আটকরা হলেন, পূর্ব ছাগলনাইয়া গ্রামের সাইমুম হোসেন (১৯), রাইসুল ইসলাম (১৯), সামিন (৪০), হারুন (২৩), লিটন (৩০), মাঈন উদ্দিন (২০), রাধানগর এলাকার মহসিন (২৫), কাজী রিপন (৪০), তাজুল ইসলাম সাকিল (২২), হানিফ (৩৫), আবুল হাসান (৩০), ইমরান (২২), রুবেল (২৮), জাফর ইমাম মজুমদার (৪০), মো. ওবায়দুল হক (৪৪), জামাল উদ্দিন (৪০), আরিফ হোসেন (২৪), করিম (২০), ছাগলনাইয়া এলাকার মটুয়া এলাকার খোরশেদ (৩৮), আজাদ হোসেন (২৫), মাহিম (২৫), হারুন (৩২), ইমাম হোসেন (২২)।


আরও খবর
জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৬ মৃত্যু

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




আরভিএন্ডএফ কোরের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Image

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আরভিএন্ডএফ কোরের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সাভারে অবস্থিত রিমাউন্ট ভেটেরিনারি এন্ড ফার্ম (আরভিএন্ডএফ) ডিপোতে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, এসবিপি (বার), ৩এসপি, এনডিইউ, পিএসসি, পিএইচডি।

সেনাবাহিনী প্রধান বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে উপস্থিত আরভিএন্ডএফ কোরের অধিনায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং সেনাবাহিনীর পুষ্টি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষাসহ এ কোরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি স্বাধীনতার মহান স্থপতি এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক দিক নির্দেশনা ও সকল প্রকার সহায়তার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। একই সাথে তিনি স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী আরভিএন্ডএফ কোরের বীর সেনানীসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।

সেনাবাহিনী প্রধান আরভিএন্ডএফ কোরের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশমাতৃকার সেবায় এই কোরের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়াও, তিনি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে এই কোরের সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান।

একই দিন সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রিমাউন্ট ভেটেরিনারি এন্ড ফার্ম কোরের ২য় 'কর্নেল কমান্ড্যান্ট' হিসেবে অভিষিক্ত হলেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও এরিয়া কমান্ডার সাভার এরিয়া মেজর জেনারেল মোঃ মঈন খান, এনডিসি, পিএসসি। সাভারে অবস্থিত রিমাউন্ট ভেটেরিনারি এন্ড ফার্ম ডিপোর প্যারেড গ্রাউন্ডে সামরিক রীতি ও ঐতিহ্য মেনে এ অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অভিষেক অনুষ্ঠানে আরভিএন্ডএফ কোরের জ্যেষ্ঠতম অধিনায়ক এবং মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার কর্তৃক জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও এরিয়া কমান্ডার সাভার এরিয়াকে গৌরবমন্ডিত 'কর্নেল কমান্ড্যান্ট ব‍্যাংক-ব্যাজ' পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে নবনিযুক্ত কর্নেল কমান্ড্যান্ট উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে তাঁর দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, অন্যান্য অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার, অন্যান্য পদবির সেনাসদস্য এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। রিমাউন্ট ভেটেরিনারি এন্ড ফার্ম কোরের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন উপলক্ষ্যে সেনাবাহিনী প্রধানের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে এই কোরের সদস্যদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি ও কোরের প্রতিটি সদস্যের মাঝে আগামী দিনে দেশ সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, সেনাবাহিনী প্রধান আরভিএন্ডএফ ডিপোতে পৌছালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড, নবনিযুক্ত কর্নেল কমান্ড্যান্ট জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও এরিয়া কমান্ডার সাভার এরিয়াসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ।


আরও খবর



বাংলা ভাষার জন্য জাতির পিতা ও বঙ্গবন্ধু কন্যার অবদান

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ

Image

মোদের গরব মোদের আশা আমরি বাংলাভাষা' অতুল প্রসাদ সেনের এই কথা প্রতিটি বাঙালিরই মনের কথা। মা, মাটি আর মুখের বোল- এই তিনে মনুষ্য জন্মের সার্থকতা। নিজের মুখের ভাষার চেয়ে মধুর আর কিছু হতে পারেনা।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠী সচেতন ভাবে বাঙালির কাছ থেকে ভাষার অধিকার হরণ করতে চেয়েছিল। তারা চেয়ে ছিল সংখ্যালঘু জনগণের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে। কিন্তু তাদের সেই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন বাঙালির ত্রাণকর্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

আজীবন মাতৃভাষাপ্রেমী এই মহান নেতা ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা পর্বে, ১৯৪৮ সালে রাজ পথে আন্দোলন ও কারাবরণ, পরে আইন সভার সদস্য হিসেবে রাষ্ট্র ভাষার সংগ্রাম ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অতুলনীয় ভূমিকা রাখেন। এক কথায় রাষ্ট্র ভাষা বাংলার আন্দোলন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতিহাসের অনন্য দৃষ্টান্ত।

২১ শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশসহ পশ্চিমবঙ্গ তথা সমস্ত বাংলা ভাষা ব্যবহারকারী জনগণের গৌরবোজ্জল একটি দিন। এটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও সুপরিচিত। ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে বাঙ্গালীর দেওয়া রক্ত আজ বিশ্বের কাছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। যা সম্ভব হয়েছে জাতির জনক ভাষা সৈনিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানর সুযোগ্যা কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের গুনে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ উদ্যোগ ইতিহাস আবহমানকাল শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে।

১৯৯৯ সালেই উনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সে জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা ও যথেষ্ট অবদান রয়েছে। মনে হতে পারে যে এ সব কিছুই ঘটে গেছে রাতারাতি। কিন্তু এ দিনটিকে ইউনেস্কোর কাছে তুলে ধরতে, তাৎপর্য বোঝাতে, বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিতে জননেত্রী শেখ হাসিনার যে কত প্রতিকূলতা পার হতে হয়েছে, কত কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে, স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কতটা কাজ করতে হয়েছে তা অনেকেরই অজানা।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার দায়িত্ব পালনের সময় (১৯৯৬-২০০১) জননেত্রী শেখ হাসিনা একুশে ফেব্রুয়ারি এবং বাংলা ভাষা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসাবে ঘোষণা করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন কানাডার দু'জন বাঙালি প্রবাসী রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুস সালাম। তবে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা বেসরকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেনি। অনুরোধ / প্রস্তাব একটি সদস্য রাষ্ট্র থেকে জমা দিতে হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন এই বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন, তখন খুব বেশি সময় বাকি নেই। আসলে, হাতে ছিল মাত্র ২৪ ঘন্টা। আওয়ামীলীগ সরকার তখন প্রবাসীদের নেতৃত্বাধীন 'মাতৃভাষা সংরক্ষণ কমিটি'র সাথে যোগাযোগ করে এবং প্রস্তাবনাটি ১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউনেস্কোর কাছে প্রেরণ করে। জরুরি ভিত্তিতে আমাদের মিশন গুলিকে অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর সাথে যোগাযোগের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল পাশাপাশি এই প্রস্তাবটির জন্য তাদের সমর্থন চাওয়া হয়েছিল।

ফল স্বরূপ, '৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে প্রস্তাবটি পাশ হয়। পরের বছর অর্থাৎ ২০০০ সালে থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ 'উর্দু ভাষাকে' একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণা দিলে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে শুরু হল তীব্র গণ আন্দোলন। বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দানে প্রত্যয়ী ছাত্র সমাজ ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি এলে সরকারের নির্দেশে পুলিশ মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে নিহত হয়। অতঃপর ক্রমাগত আন্দোলনের ফলে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি (বাংলা ৮ই ফাল্গুন ১৩৫৮) অধুনা বাংলাদেশের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, যার স্বীকৃতি পরবর্তী কালে পথ দেখালো সারা পৃথিবীকে, হয়ে রইল এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত। ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা-বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা, ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারি "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" হিসাবে স্বীকৃতি দিল। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৮৮ টি দেশে এই দিনটি পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেই। কারণ, এ তো শুধু বাংলা ভাষার আন্দোলন নয়, মায়ের ভাষা, গানের ভাষা, আবেগের ভাষা, সাহিত্যের ভাষা পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় শহীদদের প্রতিটি রক্ত বিন্দু মাতৃদুগ্ধকে করিয়েছিল স্মরণ প্রতিটি বাংলা ভাষীর মনে এবং প্রাণে।

ভাষার ঐক্য, সম্প্রীতি, ভাষার মৌলিক অধিকার শিক্ষা, মানসিক ও নৈতিক বিকাশ এবং সর্বোপরি মাতৃভাষার প্রতি ভালবাসা - এই দিকগুলির প্রতি নজর রাখার সময় এসেছে হয়ত। কারণ, বিশ্বের প্রায় ৭০০ কোটি মানুষ আনুমানিক ৬০০০ ভাষায় কথা বলেন।

বাংলাদেশ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ, কমবেশি অসাম, ত্রিপুরা, মণিপুর, বিহার, ঝাড়খন্ড ও ওড়িশারাজ্য, মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলের রোহিঙ্গারাও বাংলা ভাষায় কথা বলেন। আবার, আফ্রিকার সিয়েরালিয়েনে বাংলা হল দ্বিতীয় সরকারী ভাষা। তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্য এই নয় যে, অন্য ভাষাভাষীদের কাছে বাংলা ভাষার গুরুত্ব বা প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা। পরিবর্তে শুধু এই বিষয়টার প্রতি নজর দেওয়া যে, বিভিন্ন ভাষাভাষী যত মাতৃভাষা রয়েছে সেগুলির গুণমান ও উৎকর্ষ তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ।

এই ভাষাতেই রবীন্দ্রনাথ লিখে গেছেন দুই দেশের ভারত ও বাংলাদেশের দুই জাতীয় সংগীত, "জনগণ মন অধিনায়ক জয় হে...." আর "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি...."।

নিজের ভাষা নিয়ে বাঙালির গর্ব যতই থাক, পরিস্থিতির চাপে সেই ভাষার সর্বাত্মক চর্চায় বাঙালি আজ ব্যর্থ। বাংলার প্রতি এই অবহেলা কেন? উপলব্ধির অন্তর্লোকে উঁকি দিলে দেখা যাবে এই অবহেলার মূলকারণ প্রতিযোগিতা আর পেশার তাড়না। যাঁর সামর্থ্য বা সুযোগ আছে, তাঁর মধ্যেই নিজের সন্তানকে বাংলা মাধ্যমের বদলে ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া শেখানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থাটা যেমন সত্যি, তেমনি এটাও সত্যি যে দেশের বেশিরভাগ মানুষ প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাংলানির্ভর। সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমও বাংলাই।

বাংলাকে শিক্ষা ও পেশার প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবহার্য করে তোলার প্রয়াস আমরা হারিয়ে ফেলেছি। ফলে কেউ চাইলেই বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিদ্যা, কারিগরি বা প্রযুক্তি বিদ্যা, আইন বা অন্য কোনো বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাংলায় চালানো সম্ভব নয়। ইংরেজির বাইরে রুশ, জার্মান, জাপানি, ¯প্যানিশ, ফরাসি ইত্যাদি ভাষায় প্রায় সব ধরনের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। নিজেদের মাতৃভাষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের ব্যবহার্য ভাষা করে তুলতে পেরেছেন তাঁরা। তাঁরা নিজ ভাষায় বিজ্ঞানের গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে পারছেন। তাঁরা মাতৃভাষায় স্বচ্ছন্দে প্রকৌশল বিদ্যা পড়তে পারছেন। কারণ, ভাষা গুলো সেসবের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে দিনে দিনে। আমরা মাতৃভাষাকে নিয়ে সেভাবে এগিয়ে যেতে পারিনি।

একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু আমাদের স্বকীয় চেতনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হলে বাংলাকে স্বয়ংস¤পূর্ণতার পথে নিয়ে যেতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে চাইলে তার উপযুক্ত পরিভাষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সেই শপথ নিয়ে যদি এগোনো যায়, তাহলেই বাংলা সর্বস্তরে ব্যবহার যোগ্য ভাষা হয়ে উঠতে পারবে।

যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ভাষা হিসেবে বাংলার এই প্রতিষ্ঠা ও স্বীকৃতি, যে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাংলা ভাষী জনগণ সেই ভাষার নামে একটি দেশ পেয়েছে; সেই সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ সব ভাষা শহীদকে জানাই আমাদের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন বাস্তবায়ন করা গেলেই ভাষা শহীদদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানো সার্থক হবে ও বাংলা ভাষার মর্যাদা সমূন্নত হবে।

২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতীয় জীবনে এক গৌরবদীপ্ত ঐতিহাসিক দিন। আমাদের জাতীয় জীবনে এ দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম। বুকের তাজা রক্ত ঝরিয়ে অর্জিত হয়েছে বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার। এ দিবসে প্রত্যেক ভাষার মানুষ নিজের মাতৃভাষাকে যেমন ভালো বাসবে তেমনি অন্য জাতির মাতৃভাষাকেও মর্যাদা দেবে। এভাবে একুশকে চেতনায় ধারণ করে মাতৃভাষাকে ভালোবাসার প্রেরণা পাবে মানুষ।

নিউজ ট্যাগ: বাংলা ভাষা

আরও খবর



বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরী লিমিটেডের সম্মাননা লাভ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Image

বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরী লিমিটেড প্রথমবারের মতো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৪ এ অংশগ্রহণ করে জেনারেল প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরীতে ২য় স্থান অর্জনসহ প্রশংসাপত্র অর্জন করে। এই সম্মাননা বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরী লিমিটেড এর ভবিষ্যৎ পথ চলাকে আরও বেগবান করবে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০০ সালে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরী (বিএমটিএফ) লিমিটেডকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করেন। বিএমটিএফ লিমিটেড এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, এসবিপি (বার), ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি, পিএইচডি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম, এনডিইউ, পিএসসি, পিএইচডি দায়িত্বরত রয়েছেন। 

বিএমটিএফ দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিল্পোন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রেখে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে বদ্ধ পরিকর। বিএমটিএফ কর্তৃক উৎপাদিত পণ্যসমূহ নিয়ে ক্রেতাগণের মাঝে অগ্রহ সৃষ্টি এবং পণ্যসমূহ ক্রেতাদের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ঢাকা আন্তজার্তিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে বিএমটিএফ লিমিটেড কর্তৃক উৎপাদিত পণ্যসমূহের প্রতি ক্রেতাগণের ব্যাপক আগ্রহ ও চাহিদা পরিলক্ষিত হয়েছে।


আরও খবর