আজঃ মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21
শিরোনাম

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ১২৬জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে মারা গেছেন আরও ৫ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ হাজার ৪০০ জনে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছে আরও ৪০৭ জনের শরীরে। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা শনাক্ত দাঁড়াল ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩১ জন।

আজ শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬০৯ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৯৬ হাজার ১০৭ জন।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৪৬ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৮ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন এক লাখ ৪৬৫ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৯০ হাজার ৭১১ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন নয় হাজার ৭৫৪ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১১ জনের মধ্যে চারজন পুরুষ, একজন নারী। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে চার জন ও চট্টগ্রাম বিভাগে এক জন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন পাঁচ জন।


আরও খবর



লকডাউন: নিম্ন আয়ের মানুষ বড় দুর্দিনে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21 | ১১জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
মজান মাসে মানুষ বেশি দান করায় আয়ও হতো বেশি। কিন্তু এবার প্রথম রমজান থেকেই লকডাউন। মানুষজন নেই রাস্তায়। তাই ভিক্ষাও পাচ্ছেন না। ইফতারের আগে কেউ কেউ খাবার-দাবার দেয়, তা দিয়েই দিন

রাজধানীতে ১৮ বছর ধরে রিকশা চালান দ্বীপজেলা ভোলার শামসুল আলম। কিন্তু এত বেকায়দায় আগে কখনও পড়েননি। সংসারের খাওয়া-পরা, দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ- সবই জোটে তার রিকশা চালিয়ে। তবে লকডাউন ঘোষণার পর তার আয় পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। হিমশিম খেতে হচ্ছে তার দিন চালাতে। রাজধানীর সব নিম্ন আয়ের মানুষের এখন এমন অবস্থা। বড় দুর্দিন এখন তাদের।

শামসুল আলম বলেন, ছয় দিন ধরে ২০০ টাকার বেশি আয় করতে পারছেন না। অথচ আর সব রমজানে আধাবেলা রিকশা চালালেই ৭০০ টাকা আয় করা যেত। কারণ রমজান মাসে মানুষজন হাঁটাহাঁটি কম করে। তাই রিকশার যাত্রী বেড়ে যায়। এবার যাত্রীই পাওয়া দুস্কর। সংসারের খরচই তুলতে পারছেন না তিনি।

একই অবস্থা পান-সিগারেট বিক্রেতা আল আমিনের। রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ঘুরে ঘুরে বেচাকেনা করেন তিনি। আগে বেচাকেনার পর গড়ে দৈনিক আয় হতো ৫০০ টাকা। গত কয়েক দিনের লকডাউনে বেচাকেনাই হচ্ছে ৫০০ টাকা, আয় হচ্ছে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। এ দিয়ে দিনের থাকা-খাওয়ার খরচই হচ্ছে না। গতকাল আল আমিন বলেন, মানুষজন বাইরে বের হন কম। যারা বের হন, তাদের অনেকেই রোজাদার। তাই বেচাকেনা একদম কমে গেছে। চায়ের দোকানদার বাবুলও জানালেন, বেচাকেনা নেই।

রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মার পাশে বসে ভিক্ষা করেন ফরিদপুরের কাউলিকান্দার প্রতিবন্ধী এসকেন সরদার। তিনি জানালেন, রমজান মাসে মানুষ বেশি দান করায় আয়ও হতো বেশি। কিন্তু এবার প্রথম রমজান থেকেই লকডাউন। মানুষজন নেই রাস্তায়। তাই ভিক্ষাও পাচ্ছেন না। ইফতারের আগে কেউ কেউ খাবার-দাবার দেয়, তা দিয়েই দিন পার করতে হচ্ছে তাকে।

শামসুল আলম, আল আমিন, বাবুল, এসকেনের মতোই দুরবস্থা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য মানুষেরও। লকডাউনে অনানুষ্ঠানিক খাতের দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের আয় কমেছে। কারও কারও আয় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেককে প্রয়োজনীয় খাবারের জন্য ঋণ করতে হচ্ছে অথবা আত্মীয়-পরিজনের সহায়তা নিতে হচ্ছে। অনেকে সামাজিক সহায়তার জন্যও হাত বাড়াচ্ছেন। তবে সবাই ঋণ বা সহায়তা পাচ্ছেন না। গতবছর সাধারণ ছুটির সময় বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এলেও এবার তেমন দেখা যাচ্ছে না।

করোনার প্রথম ঢেউয়ের প্রভাব কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ঢেউ। গত বছরের ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই এখনও বিপর্যস্ত অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ওই সময় দেশে দারিদ্র্যের হার দ্বিগুণ হয়েছিল। নিম্ন আয়ের মানুষ যখন সেই ধাক্কা সামলে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখনই শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব সামাল দিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এর পরও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যাকে বলা হচ্ছে সর্বাত্মক লকডাউন। এতে জরুরি পণ্য ও সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত কার্যক্রমের বাইরে সবকিছু বন্ধ রাখা হয়েছে। এই লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হবে বলে আভাস দিচ্ছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এতে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম আরও কঠিন হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্ভাবনায় পড়েছেন নতুন করে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ধরনের লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমিক ও নিম্নবিত্ত জনগণ। বিশেষ করে যারা শহর ও শহরের উপকণ্ঠে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে অনানুষ্ঠানিক খাতের লোকজন রিকশাচালক, পরিবহনকর্মী, হকার, দিনমজুর, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কামার, কুমোর, জেলে, দর্জি, বিভিন্ন ধরনের মিস্ত্রি, নির্মাণ শ্রমিকসহ দৈনন্দিন আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষ কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। কাজ থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে ভ্যানচালক, ঠেলাগাড়িচালক, রংমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, তালা-চাবির মিস্ত্রি, সাইকেল-ভ্যান, রিকশা ও মোটর গ্যারেজের কর্মীদেরও। মোবাইল রিচার্জের ব্যবসায়ী, ফুল বিক্রেতা, দোকানের কর্মচারী, ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মিষ্টির দোকান ও বেকারি বন্ধ থাকায় গ্রামে দুধ ব্যবসায়ীরা দুধ কিনছেন না। এতে যারা গাভি পালন করেন, তারা ও ব্যবসায়ী উভয়েই সমস্যায় পড়েছেন। মুদ্রণ ও প্রকাশনা খাতের কর্মীরা বেকার বসে আছেন আগে থেকেই। শহরের বস্তিবাসী- যারা বাসাবাড়ি, নির্মাণ খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে দিনমজুরের কাজ করেন, হকারি করেন এবং রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান করেন- তারাও বেকার এখন। সামগ্রিকভাবে কৃষি, শিল্প ও সেবা সব খাতেই নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর লকডাউনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আয় হারিয়ে কর্মহীন বসে থাকার ফলে এ ধরনের মানুষের খাদ্য সংকট ছাড়াও স্বাস্থ্য ও মানসিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতিরও আশঙ্কা রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদরা লকডাউনের সময় দরিদ্রদের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, শহরের দরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিত্তবানদের সহায়তা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। লকডাউন-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের লোকেরা যাতে সহজেই আয় করতে পারে, এমন পরিবেশ সৃষ্টি করার কথা বলছেন তারা।

এরই মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকার লকডাউনে দরিদ্র মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তবে কবে কখন কীভাবে এসব সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি সরকারের পক্ষ থেকে। মন্ত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোয়া কোটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, এক কেজি করে ডাল, তেল, লবণ ও চার কেজি আলু দেওয়া হবে। ৩৬ লাখ পরিবারকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে দেবে সরকার। এক লাখ কৃষককে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বাড়ানো হয়েছে খোলা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি। চালু করা হচ্ছে বিশেষ ওএমএস। দেশব্যাপী ৭৫ হাজার টন চাল ১০ টাকা দরে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। টিসিবির মাধ্যমেও বিক্রি বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের কর্মসূচি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে সরকারের এ কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয়। কারণ, সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছে কিছু মানুষ, যারা আগে থেকেই বিভিন্নভাবে সরকারের কাছে দরিদ্র ও দুস্থ হিসেবে নিবন্ধিত। কিন্তু যাদের সংকটাপন্ন পরিস্থিতির তথ্য সরকারের কাছে নেই, তাদের সহায়তা পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। গত বছরের সাধারণ ছুটির সময় দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেড়েছে। তাদের কারও কারও অবস্থার উন্নতি ঘটলেও নতুন করে লকডাউনের ফলে অনেকেই ফের দরিদ্রের তালিকায় ফিরে গেছেন। এ ধরনের মানুষের জন্য সরকারের সহায়তা আরও বাড়ানো দরকার, বিশেষ করে তাদের নগদ টাকা দেওয়া দরকার।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) এক জরিপ অনুযায়ী, গত বছরের লকডাউনে দরিদ্রের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ শতাংশে। বিআইডিএসের গত বছরের এক জরিপেও দেখা গেছে, এ সময় দেশে এক কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে। সিপিডির জরিপমতে, ওই সময় দারিদ্র্য বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে। পিপিআরসি ও বিআইজিডি বলেছে, দারিদ্র্যের হার ৪৩ শতাংশে উন্নীত হয়। ব্র্যাকের এক জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের সাধারণ ছুটির সময়ে নিম্ন আয়ের অনেকেরই আয় বন্ধ ছিল। আর সাধারণ ছুটির পর তাদের আয় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, কিছু শিল্পকারখানা ছাড়া এখন সবই বন্ধ। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়েছে, অনানুষ্ঠানিক খাতের লোকদের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা শহরেই বেশি। নতুন করে অনেক মানুষ দরিদ্র হয়েছে। সরকারকে এসব বিষয় মাথায় নিয়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। এলাকাভিত্তিক অ্যাসেসমেন্ট করে সহায়তা করা যেতে পারে।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, লকডাউনে নিঃসন্দেহে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল লোকেরা সমস্যায় পড়বে। দারিদ্র্য বাড়বে। এ সময় অবশ্যই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করা যেতে পারে। তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। লকডাউনের পর তাদের আয় সহায়তা দিতে হবে। এজন্য শ্রমঘন সরকারি কার্যক্রম বাড়াতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগ যাতে উৎসাহিত হয় এমন উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, অবশ্যই লকডাউনে দরিদ্রদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা মানুষ খাদ্যের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়ে আসবে। লকডাউনের ফল পাওয়া যাবে না। এজন্য সঠিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থদের তালিকা করে নগদ টাকা দিতে হবে। একইসঙ্গে লকডাউন-পরবর্তী সময়ে তাদের অনুদান হিসেবে পুঁজি দিতে হবে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে করোনার প্রভাবে দরিদ্র মানুষ খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। অনেকে সঞ্চয় ভেঙে খেয়েছেন, ঋণ নিয়েছেন এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেছেন। আবার অনেকে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পথই খুঁজে পাননি। ফলে অনেকেরই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে আসার শংকা তৈরি হয়েছে।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এক সাম্প্রতিক জরিপে বলা হয়েছে, গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৭৮ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারই আর্থিক সংকটে পড়ে। এক বছর পর এর মধ্যে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ এখনও এ সংকট থেকে বের হতে পারেনি। আয়ের সঙ্গে ব্যয় সমন্বয় করতে খাদ্য গ্রহণে আপস করে চলছে এসব মানুষের জীবন। প্রতিদিনকার প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে অনেকে ঋণ করে চলছেন। অনেকের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। দশ ধরনের পেশার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত এক জরিপে এমন ফলাফল পেয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।

এক হাজার ৬০০ পরিবারের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের মার্চের তুলনায় গেল ফেব্রুয়ারিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় কমেছে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সময় তাদের ব্যয় কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। সমীক্ষার আওতায় থাকা প্রায় ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারকে ঋণ নিতে হয়েছিল। এ ঋণ পরিশোধে তাদের আরও অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, প্রতিবন্ধী, বস্তিবাসী ও চরের মানুষজনের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

নিউজ ট্যাগ: লকডাউন

আরও খবর



মুন্সীগঞ্জে 'বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠি' ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন

প্রকাশিত:শনিবার ০৩ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ০৩ এপ্রিল ২০২১ | ১২৭জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

জিতু রায়(মুন্সীগঞ্জ):

শ্রদ্ধেয় বঙ্গবন্ধু ,

আরো ৫০ বছর আগে কেন আমার জন্ম হলো না তাহলে আমি হয়তো আপনাকে সরাসরি বলতে পারতাম বাংলাদেশ নিয়ে আমার স্বপ্নের কথা। আপনাক জানলে যেন বাংলাদেশের ইতিহাস জানা হয়ে যায় বাংলার লাল সবুজের পতাকায় আমি আপনারই প্রতিচ্ছবি দেখি। আপনি আমাদের প্রেরণার উৎস এদেশের মানুষের মৌলিক মানবাধিকার থেকে শুরু করে স্বাধীনতার গণতন্ত্রিক মুক্তিসহ  সকল কিছু অর্জিত হয়েছে আপনার নেতৃত্বেই।

এক ঝাঁক কোমলমতি শিশুর মনের অলিন্দে লালন করার স্বপ্ন এবং ভালোবাসার ফল্গুধারা যেন স্বত উৎসারিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কাছে তাদের কাঁচা হাতের লেখা এই চিঠিগুলোতে।

বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে এমন চিঠি লিখেছেন মুন্সীগঞ্জের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডঃ ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।

প্রতিবছরই বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে শিক্ষার্থীদের লেখা চিঠি ও চিত্রাঙ্কন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বড় পরিসরে দেয়ালিকা প্রদর্শনীর আয়োজন করে  থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের লেখা চিঠিগুলো নিয়ে একটি প্রকাশনার উদ্যোগ নেই প্রতিষ্ঠানটি।

জাতির পিতার আদর্শ কে জানার এবং তাঁর স্বপ্নকে লালন করার পথকে প্রসারিত করতে 'বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠি' শিরোনামের ম্যাগাজিনটির মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ টায় প্রতিষ্ঠানটির নব নির্মিত মাল্টিপারপাস সেডে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র শিক্ষকদের উপস্থিতিতে স্বল্প পরিসরে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত বীর প্রতীক লে. কর্নেল(অব.)কাজী সাজ্জাদ আলী জহির। বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) খান মো. নাজমুস সোয়েব। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এবং বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠি ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক মেজর মোহাম্মদ শরীফ উজ্জামান।

সহকারী অধ্যাপক ফারহানা মির্জার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, অধ্যক্ষ পত্নী শামিমা নাজনীন, একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর মো. ইসহাক, কলেজ শাখার শিক্ষক প্রতিনিধি ড. মো. জাকির হোসেন, স্কুল শাখার শিক্ষক প্রতিনিধি গিয়াসউদ্দিন অভি এবং অভিভাবক প্রতিনিধি মো. হোসেন লিটন।


আরও খবর



মিয়ানমারে ২৩ হাজার বন্দিকে মুক্তি

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ | ৬৩জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
কারা বিভাগের মুখপাত্র কিয়া তুন ও জানান, যারা মুক্তি পেয়েছেন তাদের বেশিরভাগই সেনা অভ্যুত্থানের আগে থেকে কারাগারে ছিলেন। তবে এদের মধ্যে কয়েকজন আছেন যারা অভ্যুত্থানের পর থেকে কারাগারে ছিলেন

মিয়ানমারে ২৩ হাজার ১৮৪ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। শনিবার দেশটির নতুন বছরে সাধারণ ক্ষমার আওতায় এই বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

কারা বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে গণতন্ত্রপন্থীদের গ্রেপ্তার করা হলেও মুক্তি প্রাপ্তদের মধ্যে তাদের কয়েকজনও থাকতে পারে। খবর রয়টার্সের

শনিবার মিয়ানমারে ঐতিহ্যবাহী নববর্ষের প্রথমদিন। দেশটিতে নববর্ষ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। তবে এবছর গণতন্ত্রপন্থী নেতাকর্মীরা এসব উৎসব বাতিল করেছেন। তার পরিবর্তে দেশটির নেত্রী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অভিযানের দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

দেশটির মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে সু চিসহ ৩ হাজার ১৪১ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

কারা বিভাগের মুখপাত্র কিয়া তুন ও জানান, যারা মুক্তি পেয়েছেন তাদের বেশিরভাগই সেনা অভ্যুত্থানের আগে থেকে কারাগারে ছিলেন। তবে এদের মধ্যে কয়েকজন আছেন যারা অভ্যুত্থানের পর থেকে কারাগারে ছিলেন। তাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের অভিযোগে আটক করা হয়।

এএপিপি জানায়, এর আগে জান্তা সরকার যখন হাজার হাজার বন্দিকে মুক্তির কথা জানায় তখন তারা সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত আছে এমন ৮৩২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এদের মধ্যে অভিনেতা, গায়ক ও সেলিব্রেটিও রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের তিন বছরের জেলও হতে পারে। 


আরও খবর



যুক্তরাষ্ট্রে একই পরিবারের ৬ বাংলাদেশীর লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৬ এপ্রিল ২০২১ | ৮২জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরের একটি বাড়ি থেকে ছয় বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ভাই তাদের বাবা, মা, বোন ও দাদিকে হত্যার পর নিজেরা আত্মহত্যা করেছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (৫ এপ্রিল) সকালে দুই জমজ ভাই ফারহান ও ফারবিন তোহিদ (১৯) বাবা তৌহিদুল ইসলাম (৫৪), মা ইরিন ইসলাম ও দাদি আলতাফুন নেসাসহ (৭৭) ছয় জনের লাশ উদ্ধার করে। লাশ ময়নাতদন্তের জন‌্য পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডালাস মর্নিং নিউজকে পুলিশ সার্জেন্ট জন ফেলতি জানান, ধারণা করা হচ্ছে- ওই পরিবারের দুই ভাই আত্মহত্যা করার ব্যাপারে একমত হন এবং এর আগে তাদের পুরো পরিবারকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার (হত্যার) সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশের বক্তব্য, এই দুই ভাই বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ছিলো বলে ঘটনার আগে লেখা ফেসবুক নোটে উল্লেখ করেছে।

দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট ছেলে ফেসবুক নোটে তাদের বিষণ্ণতায় ভোগার ইতিহাস, হত্যার পরিকল্পনা ও ঘটনা সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার এই হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।


আরও খবর



ফের কোম্পানিগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১ | ৫৭জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ফের নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী ও উপজেলা আ.লীগের কমিটির অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় কাদের মির্জার ছেলে তাশিক মির্জাসহ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছ।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

বিস্তারিত আসছে...


আরও খবর