আজঃ বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১
শিরোনাম

লকডাউন: নিম্ন আয়ের মানুষ বড় দুর্দিনে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21 | ১০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
মজান মাসে মানুষ বেশি দান করায় আয়ও হতো বেশি। কিন্তু এবার প্রথম রমজান থেকেই লকডাউন। মানুষজন নেই রাস্তায়। তাই ভিক্ষাও পাচ্ছেন না। ইফতারের আগে কেউ কেউ খাবার-দাবার দেয়, তা দিয়েই দিন

রাজধানীতে ১৮ বছর ধরে রিকশা চালান দ্বীপজেলা ভোলার শামসুল আলম। কিন্তু এত বেকায়দায় আগে কখনও পড়েননি। সংসারের খাওয়া-পরা, দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ- সবই জোটে তার রিকশা চালিয়ে। তবে লকডাউন ঘোষণার পর তার আয় পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। হিমশিম খেতে হচ্ছে তার দিন চালাতে। রাজধানীর সব নিম্ন আয়ের মানুষের এখন এমন অবস্থা। বড় দুর্দিন এখন তাদের।

শামসুল আলম বলেন, ছয় দিন ধরে ২০০ টাকার বেশি আয় করতে পারছেন না। অথচ আর সব রমজানে আধাবেলা রিকশা চালালেই ৭০০ টাকা আয় করা যেত। কারণ রমজান মাসে মানুষজন হাঁটাহাঁটি কম করে। তাই রিকশার যাত্রী বেড়ে যায়। এবার যাত্রীই পাওয়া দুস্কর। সংসারের খরচই তুলতে পারছেন না তিনি।

একই অবস্থা পান-সিগারেট বিক্রেতা আল আমিনের। রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ঘুরে ঘুরে বেচাকেনা করেন তিনি। আগে বেচাকেনার পর গড়ে দৈনিক আয় হতো ৫০০ টাকা। গত কয়েক দিনের লকডাউনে বেচাকেনাই হচ্ছে ৫০০ টাকা, আয় হচ্ছে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। এ দিয়ে দিনের থাকা-খাওয়ার খরচই হচ্ছে না। গতকাল আল আমিন বলেন, মানুষজন বাইরে বের হন কম। যারা বের হন, তাদের অনেকেই রোজাদার। তাই বেচাকেনা একদম কমে গেছে। চায়ের দোকানদার বাবুলও জানালেন, বেচাকেনা নেই।

রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মার পাশে বসে ভিক্ষা করেন ফরিদপুরের কাউলিকান্দার প্রতিবন্ধী এসকেন সরদার। তিনি জানালেন, রমজান মাসে মানুষ বেশি দান করায় আয়ও হতো বেশি। কিন্তু এবার প্রথম রমজান থেকেই লকডাউন। মানুষজন নেই রাস্তায়। তাই ভিক্ষাও পাচ্ছেন না। ইফতারের আগে কেউ কেউ খাবার-দাবার দেয়, তা দিয়েই দিন পার করতে হচ্ছে তাকে।

শামসুল আলম, আল আমিন, বাবুল, এসকেনের মতোই দুরবস্থা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য মানুষেরও। লকডাউনে অনানুষ্ঠানিক খাতের দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের আয় কমেছে। কারও কারও আয় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেককে প্রয়োজনীয় খাবারের জন্য ঋণ করতে হচ্ছে অথবা আত্মীয়-পরিজনের সহায়তা নিতে হচ্ছে। অনেকে সামাজিক সহায়তার জন্যও হাত বাড়াচ্ছেন। তবে সবাই ঋণ বা সহায়তা পাচ্ছেন না। গতবছর সাধারণ ছুটির সময় বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এলেও এবার তেমন দেখা যাচ্ছে না।

করোনার প্রথম ঢেউয়ের প্রভাব কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ঢেউ। গত বছরের ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই এখনও বিপর্যস্ত অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ওই সময় দেশে দারিদ্র্যের হার দ্বিগুণ হয়েছিল। নিম্ন আয়ের মানুষ যখন সেই ধাক্কা সামলে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখনই শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব সামাল দিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এর পরও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যাকে বলা হচ্ছে সর্বাত্মক লকডাউন। এতে জরুরি পণ্য ও সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত কার্যক্রমের বাইরে সবকিছু বন্ধ রাখা হয়েছে। এই লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হবে বলে আভাস দিচ্ছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এতে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম আরও কঠিন হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্ভাবনায় পড়েছেন নতুন করে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ধরনের লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমিক ও নিম্নবিত্ত জনগণ। বিশেষ করে যারা শহর ও শহরের উপকণ্ঠে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে অনানুষ্ঠানিক খাতের লোকজন রিকশাচালক, পরিবহনকর্মী, হকার, দিনমজুর, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কামার, কুমোর, জেলে, দর্জি, বিভিন্ন ধরনের মিস্ত্রি, নির্মাণ শ্রমিকসহ দৈনন্দিন আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষ কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। কাজ থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে ভ্যানচালক, ঠেলাগাড়িচালক, রংমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, তালা-চাবির মিস্ত্রি, সাইকেল-ভ্যান, রিকশা ও মোটর গ্যারেজের কর্মীদেরও। মোবাইল রিচার্জের ব্যবসায়ী, ফুল বিক্রেতা, দোকানের কর্মচারী, ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মিষ্টির দোকান ও বেকারি বন্ধ থাকায় গ্রামে দুধ ব্যবসায়ীরা দুধ কিনছেন না। এতে যারা গাভি পালন করেন, তারা ও ব্যবসায়ী উভয়েই সমস্যায় পড়েছেন। মুদ্রণ ও প্রকাশনা খাতের কর্মীরা বেকার বসে আছেন আগে থেকেই। শহরের বস্তিবাসী- যারা বাসাবাড়ি, নির্মাণ খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে দিনমজুরের কাজ করেন, হকারি করেন এবং রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান করেন- তারাও বেকার এখন। সামগ্রিকভাবে কৃষি, শিল্প ও সেবা সব খাতেই নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর লকডাউনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আয় হারিয়ে কর্মহীন বসে থাকার ফলে এ ধরনের মানুষের খাদ্য সংকট ছাড়াও স্বাস্থ্য ও মানসিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতিরও আশঙ্কা রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদরা লকডাউনের সময় দরিদ্রদের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, শহরের দরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিত্তবানদের সহায়তা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। লকডাউন-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের লোকেরা যাতে সহজেই আয় করতে পারে, এমন পরিবেশ সৃষ্টি করার কথা বলছেন তারা।

এরই মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকার লকডাউনে দরিদ্র মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তবে কবে কখন কীভাবে এসব সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি সরকারের পক্ষ থেকে। মন্ত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোয়া কোটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, এক কেজি করে ডাল, তেল, লবণ ও চার কেজি আলু দেওয়া হবে। ৩৬ লাখ পরিবারকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে দেবে সরকার। এক লাখ কৃষককে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বাড়ানো হয়েছে খোলা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি। চালু করা হচ্ছে বিশেষ ওএমএস। দেশব্যাপী ৭৫ হাজার টন চাল ১০ টাকা দরে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। টিসিবির মাধ্যমেও বিক্রি বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের কর্মসূচি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে সরকারের এ কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয়। কারণ, সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছে কিছু মানুষ, যারা আগে থেকেই বিভিন্নভাবে সরকারের কাছে দরিদ্র ও দুস্থ হিসেবে নিবন্ধিত। কিন্তু যাদের সংকটাপন্ন পরিস্থিতির তথ্য সরকারের কাছে নেই, তাদের সহায়তা পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। গত বছরের সাধারণ ছুটির সময় দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেড়েছে। তাদের কারও কারও অবস্থার উন্নতি ঘটলেও নতুন করে লকডাউনের ফলে অনেকেই ফের দরিদ্রের তালিকায় ফিরে গেছেন। এ ধরনের মানুষের জন্য সরকারের সহায়তা আরও বাড়ানো দরকার, বিশেষ করে তাদের নগদ টাকা দেওয়া দরকার।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) এক জরিপ অনুযায়ী, গত বছরের লকডাউনে দরিদ্রের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ শতাংশে। বিআইডিএসের গত বছরের এক জরিপেও দেখা গেছে, এ সময় দেশে এক কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে। সিপিডির জরিপমতে, ওই সময় দারিদ্র্য বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে। পিপিআরসি ও বিআইজিডি বলেছে, দারিদ্র্যের হার ৪৩ শতাংশে উন্নীত হয়। ব্র্যাকের এক জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের সাধারণ ছুটির সময়ে নিম্ন আয়ের অনেকেরই আয় বন্ধ ছিল। আর সাধারণ ছুটির পর তাদের আয় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, কিছু শিল্পকারখানা ছাড়া এখন সবই বন্ধ। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়েছে, অনানুষ্ঠানিক খাতের লোকদের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা শহরেই বেশি। নতুন করে অনেক মানুষ দরিদ্র হয়েছে। সরকারকে এসব বিষয় মাথায় নিয়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। এলাকাভিত্তিক অ্যাসেসমেন্ট করে সহায়তা করা যেতে পারে।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, লকডাউনে নিঃসন্দেহে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল লোকেরা সমস্যায় পড়বে। দারিদ্র্য বাড়বে। এ সময় অবশ্যই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করা যেতে পারে। তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। লকডাউনের পর তাদের আয় সহায়তা দিতে হবে। এজন্য শ্রমঘন সরকারি কার্যক্রম বাড়াতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগ যাতে উৎসাহিত হয় এমন উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, অবশ্যই লকডাউনে দরিদ্রদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা মানুষ খাদ্যের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়ে আসবে। লকডাউনের ফল পাওয়া যাবে না। এজন্য সঠিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থদের তালিকা করে নগদ টাকা দিতে হবে। একইসঙ্গে লকডাউন-পরবর্তী সময়ে তাদের অনুদান হিসেবে পুঁজি দিতে হবে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে করোনার প্রভাবে দরিদ্র মানুষ খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। অনেকে সঞ্চয় ভেঙে খেয়েছেন, ঋণ নিয়েছেন এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেছেন। আবার অনেকে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পথই খুঁজে পাননি। ফলে অনেকেরই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে আসার শংকা তৈরি হয়েছে।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এক সাম্প্রতিক জরিপে বলা হয়েছে, গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৭৮ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারই আর্থিক সংকটে পড়ে। এক বছর পর এর মধ্যে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ এখনও এ সংকট থেকে বের হতে পারেনি। আয়ের সঙ্গে ব্যয় সমন্বয় করতে খাদ্য গ্রহণে আপস করে চলছে এসব মানুষের জীবন। প্রতিদিনকার প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে অনেকে ঋণ করে চলছেন। অনেকের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। দশ ধরনের পেশার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত এক জরিপে এমন ফলাফল পেয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।

এক হাজার ৬০০ পরিবারের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের মার্চের তুলনায় গেল ফেব্রুয়ারিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় কমেছে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সময় তাদের ব্যয় কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। সমীক্ষার আওতায় থাকা প্রায় ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারকে ঋণ নিতে হয়েছিল। এ ঋণ পরিশোধে তাদের আরও অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, প্রতিবন্ধী, বস্তিবাসী ও চরের মানুষজনের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

নিউজ ট্যাগ: লকডাউন

আরও খবর



মধ্যরাতে ওয়ার্কশপে ঢুকে পড়ল ট্রাক, নিহত ৩

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ মে ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০৩ মে ২০২১ | ৯১জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্তবাজারে দ্রুতগতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলের ওয়ার্কশপে ঢুকে পড়লে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও দুই মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন। এ দুর্ঘটনায় নিহতদের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।

রবিবার (২ মে) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের দরবস্ত বাজারে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাকটি গভীর রাতে (ঢাকা মেট্রো ট ২৪-১৪৯৭) সিলেট থেকে ইট নিয়ে জাফলংয়ের দিকে যাচ্ছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, চালক চলন্ত গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

নিহত মোটরসাইকেলের ওয়ার্কশপের মালিক সোহেল আহমদের (৩৩) গ্রামের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জে। তিনি দরবস্তবাজারে বসবাস করে আসছিলেন। নিহত অন্য দুজন হলেন- মোটরসাইকেলের চালক ও একজন আরোহী। তাদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলা কানাইঘাটের গাছবাড়িতে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায় নি।

ট্রাকচাপায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী মিডিয়া অফিসার ও ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর কাজ করছে। দুর্ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে গেছে। তবে ট্রাকটি জব্দ করেছে পুলিশ।


আরও খবর
সিলেটে শিশুর খন্ডিত দুই পা উদ্ধার

মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১




গার্মেন্টসে ঈদের ছুটি থাকছে ৩ দিনই

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ মে ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ০৯ মে ২০২১ | ৪৭জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ঈদে ছুটি বাড়ানোর জন্য গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের দাবি নাকচ করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। তিনি বলেন, ঈদের সরকারি ছুটি তিনদিনের বেশি দেওয়ার এখতিয়ার নেই।

এসময় শ্রমিকদের ওভারটাইম করাবেন না, পরে ছুটি দেবেন সেটি মালিক ও শ্রমিকপক্ষ নির্ধারণ করবেন।  রবিবার (৯ মে) রাজধানীর শ্রম ভবনে আয়োজিত আরএমজি বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি) সভায় তিনি একথা বলেন।

মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, সরকার নির্ধারিত তিনদিনের বেশি যদি কাউকে ছুটি দেওয়া হলে তবে তাকে অবশ্যই কর্মস্থলেই থাকতে হবে। কোনোভাবেই কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, সরকারি ছুটি তিনদিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বাইরে অনেক গার্মেন্টেসে ৫ থেকে ৭ দিন ছুটি দিয়েছে। ছুটি যাই হোক কর্মস্থলে অবস্থান করতে হবে।

এর আগে আলোচনা পর্বে সরকারঘোষিত তিনদিনের ছুটির পরিবর্তে পাঁচদিন করার দাবি জানান গার্মেন্ট শ্রমিক নেতারা।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, বছরে দুটি ঈদ উদযাপন করে। তাই শ্রমিকরা তিনদিনের ছুটি মানতে পারছে না। ছুটি আরও দুদিন বাড়ানোর দাবি করছি।

নিউজ ট্যাগ: ঈদের ছুটি

আরও খবর



নজরদারিতে রয়েছেন বাবুনগরী: প্রমাণ মিললেই গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ এপ্রিল ২০২১ | ১৩৪জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
রাষ্ট্রবিরোধী কাজে উসকানির অভিযোগে হেফাজতের ১৯৪ জন নেতার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন জুনাইদ বাবুনগরী। তবে আপাতত তাঁকে নজরদারিতে রেখে বাকিদের গ্রেপ্তারে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে চালানো তাণ্ডবের ঘটনায় সরকারের কঠোর অবস্থানে বিপাকে পড়েছে হেফাজতে ইসলাম। রাষ্ট্রবিরোধী উসকানি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং সহিংসতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন হেফাজতের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা। এদের মধ্যে অন্তত ৩২ জন কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরো অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা নেতারা।

সম্প্রতি গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হওয়া হেফাজতের হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে আছেন নারীকাণ্ডে বিতর্কিত মাওলানা মামুনুল হক, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ইলিয়াস হামিদী, ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানী, লোকমান হোসেন আমিনী, শাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মুফতি বশির উল্লাহ, মাওলানা জুবায়ের, মাওলানা জালাল উদ্দিন ও জুনায়েদ আল হাবীব। এসব নেতাই হেফাজতের মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।

বাবুনগরীও কি গ্রেপ্তার হবেন?

একের পর এক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তারের ঘটনার মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে তবে কি হেফাজত আমির মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরীকেও গ্রেপ্তার করা হবে নাকি এই যাত্রায় রক্ষা পাবেন?

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থার সংগে যোগাযোগ করে জানা গেছে, আপাতত জুনাইদ বাবুনগরীকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা কম। তবে তিনি নজরদারিতে রয়েছেন। শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বাবুনগরী। হেফাজতের আরো যেসব নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে তাঁরা গ্রেপ্তার হলে তিনি জিম্মি পরিস্থিতিতে পড়ে যাবেন। ফলে তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সেভাবে ভাবছে না গোয়েন্দা পুলিশ।

গোয়েন্দা সংস্থার অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রবিরোধী কাজে উসকানির অভিযোগে হেফাজতের ১৯৪ জন নেতার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন জুনাইদ বাবুনগরী। তবে আপাতত তাঁকে নজরদারিতে রেখে বাকিদের গ্রেপ্তারে জোর দিচ্ছেন গোয়েন্দা পুলিশসহ অন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সূত্রটি আরো বলছে, জুনাইদ বাবুনগরীকে গ্রেপ্তারের মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ এখনও হাতে আসেনি। তবে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

অন্য একটি গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ২০১৩ সালে হেফাজতকাণ্ডে দায়েরকৃত মামলার আসামি জুনাইদ বাবুনগরী। সম্প্রতি দায়েরকৃত মামলাগুলোতেও তাঁকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের যেসব অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে, সেগুলোর শক্ত কোনো প্রমাণ এখনও সংগ্রহে করতে পারেননি তদন্তকারীরা।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি হেফাজতের মামুনুল হকসহ যেসব নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের জবানবন্দিতে রাষ্ট্রবিরোধী যেসব কর্মকাণ্ডের তথ্য উঠে এসেছে তাতে বাবুনগরীর জড়িত থাকার বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলছে না। তবু তদন্ত অব্যাহত রেখেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

তিনি আরো বলেন, মূলত বর্তমানে যেসব হেফাজত নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং যাদের বাবুনগরীপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাঁদের অনেকেই বাবুনগরীর কমান্ড মানতেন না। বিশেষ করে মামুনুল হক বাবুনগরীর সিদ্ধান্ত সব সময় উপেক্ষা করতেন। সম্প্রতি জবানবন্দিতেও তিনি এসব বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অন্য যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাঁদের জবানবন্দিতেও এটি স্পষ্ট নয় যে, বাবুনগরী নাশকতার কোনো নির্দেশনা বা উসকানি দিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, জুনাইদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধেও আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে। তদন্তে নাশকতা কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিললে অবশ্যই তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি আমাদের নজরদারির বাইরে নন।


আরও খবর



হেফাজতের তাণ্ডব

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার ২০ ছাত্রকে বহিষ্কার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৭ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৭ এপ্রিল ২০২১ | ৬৭জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সরকারি স্থাপনায় হামলার অভিযোগে ২০ ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার মাদ্রাসাটির শিক্ষা সচিব মুফতী শামসুল হক সরাইলী স্বাক্ষরিত নোটিশে কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার রীতিনীতি ও আইন-কানুন অমান্য এবং হুজুরদের বাধা উপেক্ষা করে গত ২৬ মার্চ সরকারি স্থাপনায় হামলা করার সংবাদের ভিত্তিতে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ২০ ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন আশেকে এলাহী, আবু হানিফ, মিছবাহ উদ্দিন, আশরাফুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, মকবুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম, মুবারক উল্লাহ, বুরহানুদ্দীন, আবদুল্লাহ আফজাল, জুবায়ের, হিজবুল্লাহ রাহমানী, শিব্বির আহমেদ, জুবায়ের, ইফতেখার আদনান, সাইফুল ইসলাম, সোলাইমান, রাকিব বিল্লাহ, তারিক জামিল ও হাবিবুল্লাহ।

গত ৫ এপ্রিল দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব পরিদর্শনে এসে মাদ্রাসাটির শিক্ষক ও হেফাজতে ইসলামের জেলা শাখার সভাপতি সাজেদুর রহমান দাবি করেছিলেন, হামলা-ভাঙচুরে তাদের সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী কিংবা তাদের মাদ্রাসার কোনো ছাত্র জড়িত নয়। বরং তাণ্ডবের কারণে তাদের কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে মুফতী শামসুল হক সরাইলীর মোবাইলে একাধিবার ফোন করে প্রতিবারই বন্ধ পাওয়া যায়। মাদ্রাসাটির অন্যান্য শিক্ষকদেরও মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আতঙ্কে মাদ্রাসার শিক্ষকরা গাঢাকা দিয়েছেন।

রবিবার ভাঙচুরে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও হেফাজতে ইসলামের জেলা কমিটির সহকারী প্রচার সম্পাদক মুফতি মাওলানা জাকারিয়া খানকে (৪৩) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


আরও খবর



চট্টগ্রামে হেফাজত নেতা হারুন ইজহার আটক

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৯ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ এপ্রিল ২০২১ | ১২৬জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর প্রেস সচিব ইনামুল হাসান ফারুকী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, হারুন ইজহারকে র‌্যাব তুলে নিয়ে গেছে

চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার মাদরাসার পরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের বিলুপ্ত কমিটির কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক মুফতি হারুন ইজহারকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।

হারুন ইজহারের ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ ওসমান সাংবাদিকদের জানান, বুধবার রাত ১২টার দিকে নগরের লালখান বাজার মাদরাসা থেকে র‌্যাব তাকে আটক করে। তিনি ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।

এদিকে, রাত ১টার দিকে হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর প্রেস সচিব ইনামুল হাসান ফারুকী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, হারুন ইজহারকে র‌্যাব তুলে নিয়ে গেছে। তবে র‌্যাবের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হারুন ইজহারকে আটকের বিষয়ে জানার জন্য র‌্যাব-৭ এ মিডিয়া অফিসারকে ফোন করলেও রিসিভ করেননি।

গেল ২৬ মার্চ সহিংসতার ঘটনায় চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পটিয়ায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দশটি মামলা প্রায় ছয় হাজার জনকে আসামি করা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন।


আরও খবর