আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২
শিরোনাম

মাগুরায় হত্যা মামলার আসামি নোয়াখালীতে গ্রেফতার

প্রকাশিত:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | ১৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

মাগুরা জেলার থেকে পালিয়ে আসা হত্যা মামলার এক আসামিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মুজাহিদুল ইসলাম জিহাদ (৩৯) মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার বানিয়াবহু গ্রামের মো. গোলাম আকবরের ছেলে। শনিবার (১৪ মে) ভোর রাতে উপজেলার পাপুয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

একই দিন বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুণ অর রশিদ। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হত্যা মামলার এ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি। যাহার-মামলা নং-১৯। গত বছরের ৩০ জুন মোহাম্মদপুর থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়।

ওসি জানায়, আসামি জিহাদ গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘদিন থেকে নোয়াখালী এসে গা ঢাকা দেয়।  গ্রেফতারকৃত আসামিকে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


আরও খবর



মামলা করলেন নিহত নাহিদের বাবা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২১ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২১ এপ্রিল ২০২২ | ৪৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউ মার্কেটের দোকানকর্মীদের সংঘর্ষে নিহত কুরিয়ারকর্মী নাহিদের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) রাতে নিউ মার্কেট থানায় মামলাটি করা হয়। মামলায় আসামিদের নাম পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। বুধবার (২০ এপ্রিল) রাতে নিউ মার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার শরীফ মুহাম্মদ তারিকুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন নাহিদ। বেধড়ক মারধরে জ্ঞান হারিয়ে দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়েছিলেন। পরে শুভ নামের এক ব্যক্তি আহত অবস্থায় নাহিদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন বিকেলে নাহিদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে। পরে ঢামেকের জরুরি বিভাগে ওয়ানস্টপ ইমার্জেন্সি সার্ভিসের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

মাত্র ছয় মাস আগে বিয়ে করেন নাহিদ। তিনি এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল এলাকার একটি কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরি করতেন। কামরাঙ্গীরচরের রনি মার্কেটের পাশে দেওয়ানবাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।

নাহিদের বাবার নাম নাদিম হাসান। তিনি ম্যাটাডোর ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি করেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে নাহিদ সবার বড়।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) রাতে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাধে। রাত ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত চলে সংঘর্ষ। মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১টার দিকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


আরও খবর



মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কে কোথায় ঈদ করবেন

প্রকাশিত:সোমবার ০২ মে 2০২2 | হালনাগাদ:সোমবার ০২ মে 2০২2 | ৩৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে মঙ্গলবার (৩ মে)। রাজনৈতিক অঙ্গনেও লেগেছে ঈদের ছোঁয়া। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের অনেকে এবারও নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। আবার অনেকে ঈদ করবেন ঢাকায়।

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর বন্ধ থাকার পর এবার ঈদের প্রধান জামাতের জন্য প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ ময়দান। প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নিয়ে ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত হবে জাতীয় ঈদগাহে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঈদের মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিবারই সর্বসাধারণের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ও আলোচিত রাজনৈতিক নেতাদের ঈদ। কোন দলের কোন নেতা বা সরকারের কোন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি কোথায় ঈদ করবেন, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা এবার কে কোথায় ঈদ করছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যথারীতি গণভবনে ঈদ উদযাপন করবেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সকাল-বিকেল ঢাকা ও নির্বাচনী এলাকা গাজীপুর মিলিয়ে ঈদ করবেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ঈদ করবেন ঢাকায়। এরইমধ্যে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উপলক্ষে ঘুরে এসেছেন কৃষিমন্ত্রী, শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যাবেন ঈদের পরদিনও। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ঈদ করবেন ঢাকায়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ঢাকায় ঈদ করেই চলে যাবেন নির্বাচনী এলাকা পিরোজপুরে।এ বছর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ঈদও হবে ঢাকায়। তিনি বলেন, আমার নেতাকর্মীরা যেন যার যার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেন সেজন্য সবসময়ই আমি ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন ঢাকায় থাকি। ঈদের তৃতীয় দিন এলাকায় সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করি।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ায় ঈদ করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঢাকায় তার নির্বাচনী এলাকা তেজগাঁওয়ে ঈদ করবেন। মনিপুরীপাড়ার মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করার কথা রয়েছে তার।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম ঈদ করবেন নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার লাকসামে। পরিবেশ ও বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন নির্বাচনী এলাকা মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ঈদ করবেন।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ঈদ করবেন নিজ এলাকায়। তিনি মেহেরপুর পৌর ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নিজ নির্বাচনী এলাকা দিনাজপুরে ঈদ উদযাপন করে ঢাকায় ফিরবেন।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ঈদ করবেন নিজ নির্বাচনী এলাকা বরিশালে। পানিসম্পদ উপ-মন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম ঈদ করবেন ঢাকায়। তিনি এরইমধ্যে নির্বাচনী এলাকা শরীয়তপুর ঘুরে এসেছেন, ঈদের পরে আবারও এলাকাবাসীর মাঝে ফিরবেন।পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য নিজ নির্বাচনী এলাকা যশোরের মনিরামপুরে ঈদ উদযাপন করবেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে তোফায়েল আহমদ, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আব্দুর রহমান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, অসীম কুমার উকিল ও তার স্ত্রী যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, সুজিত রায় নন্দী, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও আমিনুল ইসলাম আমিন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। জাহাঙ্গীর কবির নানক, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বিএম মোজাম্মেল হক, ড. সেলিম মাহমুদ ঈদ উদযাপন করবেন ঢাকায়।


আরও খবর



রানা প্লাজা ধসের ৯ বছর: ভালো নেই তারা

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৪ এপ্রিল ২০২২ | ৩৫৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

২৪ এপ্রিল ২০১৩, সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামের বহুতল ভবনটি ধসে পড়ে। ওই ঘটনায় হতাহত হন কয়েক হাজার শ্রমিক। সেদিন কেউ মা-বাবা, কেউ ভাই-বোন, কেউ স্ত্রী-সন্তান-স্বামী হারিয়েছেন। কেউ হয়ে গেছেন চিরতরে নিঃস্ব। এখনো কেউ কেউ শারীরিক প্রতিবন্ধিতাকে সঙ্গী করে চলছেন। আজও আহত ও নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়নি ক্ষতিপূরণ। হতাহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলার বিচারও এগিয়েছে খুব সামান্যই। সবমিলিয়ে এটুকু বলা যায়–ভালো নেই তারা।

কী ছিল রানা প্লাজায়: সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের রানা প্লাজার ভবনটি ছিল নয়তলা। ভবনের প্রথম তলায় ছিল বিভিন্ন দোকান। দোতলায় ছিল দোকান আর ব্যাংক। তিনতলায় নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেড, চার ও পাঁচতলায় নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেডে এবং ফ্যানটম লিমিটেড, ছয় ও সাততলায় ছিল ইথারটেক্স লিমিটেড গার্মেন্টস। আট ও নয়তলায়ও ছিল পোশাক কারখানা। শ্রমিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবনের তিনতলা থেকে নয়তলা পর্যন্ত ছিল পাঁচটি পোশাক কারখানা।

এতে প্রায় চার হাজার পোশাকশ্রমিক কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো ওই দিন সকাল ৮টায় হাজির হন কর্মস্থলে। উৎপাদনও শুরু করেন নির্ধারিত সময়ে। হঠাৎ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিকট শব্দ। আশপাশে উড়তে থাকে ধুলাবালু। ধসে পড়ে রানা প্লাজা। শুরু হয় শ্রমিকদের আহাজারি। উদ্ধারে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসার, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। চলে বিরতিহীন উদ্ধার অভিযান। ভবন ধসের সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে চাপা পড়েন চার হাজার পোশাকশ্রমিক। বাঁচাও, পানি দাও, আমার হাতটি কেটে বের করো; এমন নানা আহাজারিতে ভারী হয়ে ‍উঠে চারপাশ।

আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বন্ধ করে দিয়ে মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় অ্যাম্বুলেন্স। তাদের হাসপাতালে পাঠানো, প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়াসহ সব ধরনের সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ছুটে আসেন হাজারো স্বেচ্ছাসেবী। একে একে বের করা হয় আহত ও নিহতদের। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাশের সংখ্যা বেড়ে যায়। হাসপাতালের মর্গ ভর্তি হয়ে যায়। পরে লাশগুলো নিয়ে যাওয়া সাভারের অধরচন্দ্র স্কুলের মাঠে। স্কুল বারান্দায় সারিবদ্ধভাবে লাশ রেখে দেওয়া হয়।

হতাহতের সংখ্যা: রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩৬ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। দুই হাজার ৪৩৮ শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আহতদের মধ্যে অনেকেই পঙ্গু হয়ে গেছেন। অনেকে আবার মানসিক রোগী হয়ে আছেন।

আহাজারির সাক্ষী অধরচন্দ্র স্কুল মাঠ: বেদনার সাক্ষী হয়ে আছে সাভারের অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ। ঘটনার দিন থেকে টানা ১৭ দিন ওই বিদ্যালয়ের মাঠে নিহতদের নিয়ে রাখা হতো। আর সেখান থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হতো। প্রিয় মানুষটির সন্ধান পেতে সেসময় স্বজনরা চারদিকে ছোটাছুটি করেছেন। রানা প্লাজা থেকে বিদ্যালয়ের মাঠ দেড় কিলোমিটারজুড়ে সেসময় অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ সবাইকে জাগিয়ে তুলতো। অপেক্ষারত স্বজনরা হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। এই বুঝি এলো নিখোঁজ মানুষটি। আজও সেই মাঠটি আছে, তবে নেই সেই চিত্র। তবে মাঠটি যেন আগের মতো আর হাসে না। প্রাণচঞ্চলতা হারিয়ে গেছে।

অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ফরিদ জানান, আগে সকাল-দুপুর-রাত এমন কোনো সময় নেই যে মাঠে না আসতাম, কোনো ভয় ছিল না। তবে রানা প্লাজার ধসে পড়ার পর মৃত লাশগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছিল। এরপর থেকে আর সাহস পাই না।

উদ্ধারকাজের ৫ম দিনে (২৮ এপ্রিল) ভবনের ভেতরে একজনের প্রাণের স্পন্দন পাওয়া যায়। কাছে গিয়ে উদ্ধারকর্মীরা জানতে পারেন তার নাম শাহীনা। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে কায়কোবাদ নামে এক উদ্ধারকর্মী গুরুতর আহত হন। টানা সাতদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ৫ মে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান শাহীনা।

ভবন ধসের ১৭তম দিনে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করার আগ মুহূর্তে ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে পাওয়া যায় আরেকজনের প্রাণের স্পন্দন। অলৌকিকভাবে চারটি বিস্কুট ও এক বোতল পানি খেয়ে বেঁচে ছিল রেশমা। ১৭তম দিন বিকাল ৩টার দিকে ভেতর থেকে তাকে কাঠি নাড়াতে দেখেন উদ্ধারকর্মীরা। পরে রেশমাকে জীবিত দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে সাভারের সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া রেশমাকে দেখতে হাসপাতালে হেলিকপ্টারযোগে ছুটে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের ব্যক্তিবর্গ।

২০তম দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রানা প্লাজার উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করেন উদ্ধারকাজে গঠিত সমন্বয় কমিটির প্রধান নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দী। তিনি উদ্ধারকাজ শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এক হাজার ১৩৬ জনের মৃত্যু ও দুই হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধারের কথা জানান। পরদিন জায়গাটি ঢাকা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, নয় বছর হলো, অথচ এই ঘটনার মূলহোতা সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হয়নি। এখন পর্যন্ত হতাহত শ্রমিকদের দেওয়া হয়নি ক্ষতিপূরণ। করা হয়নি চিকিৎসার ব্যবস্থা। এজন্য আজও এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছি আমরা। রানা প্লাজার জায়গা অধিগ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও পরিবারের পুনর্বাসন এবং ২৪ এপ্রিলকে শোক দিবস ঘোষণা করার দাবি জানাই।  শুধুমাত্র রানা প্লাজা নয়, তাজরীন ফ্যাশন অগ্নিকাণ্ড, স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ভবন ধসসহ এ পর্যন্ত দেশের যেসব গার্মেন্টেসে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি। তাই সোহেল রানাসহ সব অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাই।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল ইসলাম মিন্টু বলেন, রানা প্লাজার ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের এখন পর্যন্ত বিচারের আওতায় আনা হয়নি। যখনই ২৪ এপ্রিল আসে বিচার নিয়ে কথা ওঠে। কিন্তু বছরের বাকি ১১ মাস এ নিয়ে কোনও কথা হয় না। শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে কারখানাগুলো নিরাপদ করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল। এরপর অ্যাকোর্ড, অ্যালায়েন্স এসেছে। কিন্তু কারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। এখনও বিভিন্ন কারখানায় ঘটছে দুর্ঘটনা। শ্রমিকরা জীবন দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এখনও রানা প্লাজার যেসব শ্রমিক জীবিত আছেন তারা এই দিনে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আসতে চাইলে কারখানার মালিকরা ছুটি দেন না। সরকার ও কারখানার মালিকরা এই দিন ভুলিয়ে দিতে চায়। কিন্তু আমরা এ ঘটনার বিচার চাই এবং চাইবো।

রানা প্লাজার আহত শ্রমিক নিলুফা আক্তার বলেন, আমি ক্ষতিপূরণ চাই। আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। পাশাপাশি রানার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন। রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিক রাব্বির মা রাহেলা খাতুন বলেন, ছেলে হারানোর নয় বছর হলো। কিন্তু আমরা বিচার পেলাম না। দোষীদের বিচার এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার।

রানা প্লাজা ধসে চার মামলা: রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় চারটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে হত্যা, ইমারত নির্মাণ আইন ভঙ্গসহ তিনটি মামলার বিচার কাজ এখনো শেষ হয়নি। শুধু ভবন ধসের ঘটনার পর সম্পদের হিসাব চেয়ে রানা প্লাজার সোহেল রানাকে নোটিশ দেয় দুদক। কিন্তু হিসাব না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সেই মামলায় সোহেল রানাকে তিন বছরের সাজা দিয়েছেন বিশেষ জজ আদালত।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় পরদিন সাভার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়ালী আশরাফ ভবন নির্মাণে অবহেলা ও ত্রুটিজনিত হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় অভিযোগপত্রে ৫৯৪ জনকে সাক্ষী করা হয়। আসামি ৪১ জনের মধ্যে তিন আসামি মারা যান। বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৩৮ জন। ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার তত্কালীন জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। কিন্তু ঐ অভিযোগ গঠন আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান আট আসামি। স্থগিত হয় বিচার কাজ। গত ছয় বছরে ২৫ বার পেছায় সাক্ষ্যগ্রহণ। অবশেষে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শুরু হয় কাঙ্ক্ষিত সেই সাক্ষ্যগ্রহণ।

আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় প্রায় ৬০০ জনকে সাক্ষী করেছে। দীর্ঘ এই তালিকার সাক্ষীদের সাক্ষগ্রহণ করে বিচার শেষ করতে আরো কয়েক বছর লাগবে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি হত্যা মামলা প্রমাণে সকল সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের প্রয়োজন নাই। যেসব সাক্ষী গুরুত্বপূর্ণ তাদের সাক্ষ্য নিয়ে বিচার শেষ করার সুযোগ রয়েছে। এতে বিচার বিলম্বের যে নজির রয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে।

আইন না মেনে রানা প্লাজা নির্মাণ করায় ইমারত নির্মাণ আইনে সাভার থানায় আরেকটি মামলা করে রাজউক। ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডি ভবনের মালিক সোহেল রানাসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১৩০ জনকে মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে। ২০১৬ সালের ১৪ জুন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় এ মামলার বিচার কাজ এখন বন্ধ রয়েছে।


আরও খবর



গোপালগঞ্জে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ২ বেয়াইর

প্রকাশিত:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৮ মে ২০২২ | ২৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তারা সম্পর্কে দুইজন বেয়াই। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া উড়ালসেতুর কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভটিয়াপাড়া হাইওয়ে ক্যাম্পের ওসি আবু রায়হান নাঈম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের বদিউরজ্জামান শিকদারের ছেলে রুমন শিকদার (১৬) ও নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার তৌফিকুর মোল্যার ছেলে আতিক মোল্যা (১৫)।

ভটিয়াপাড়া হাইওয়ে ক্যাম্পের ওসি আবু রায়হান নাঈম জানান,  রুমন ও আতিক একটি মোটরসাইকেলে করে ভাটিয়াপাড়া থেকে পোনা গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাটিয়াপাড়া উড়ালসেতুর কাছে পৌঁছালে খুলনাগামী গ্রীনলাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস চাপা দিলে ঘটনাস্থলে আতিফ মারা যান।

পরে স্থানীয়রা আহত রুমনকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাসটিকে গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

নিউজ ট্যাগ: সড়ক দুর্ঘটনা

আরও খবর



দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সারাদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা

প্রকাশিত:বুধবার ২০ এপ্রিল ২০22 | হালনাগাদ:বুধবার ২০ এপ্রিল ২০22 | ৩২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিপাত হয়েছে। বুধবার (২০ এপ্রিল) ভোরের দিকে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানো, বজ্রপাত ও বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৩ কিলোমিটার। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

গত কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহের পর বৃষ্টিতে রাজধানী জুড়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভ্যাপসা গরমে নগরবাসী ছিলেন অতিষ্ঠ। এ অবস্থায় এক পসলা বৃষ্টিতে স্বস্তিতে নগরবাসী।আবহাওয়াবিদ ও গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, ঢাকায় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়, ঢাকা ও টাঙ্গাইল অঞ্চলসহ কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দুএক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বিজলী চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।


আরও খবর