আজঃ শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১
শিরোনাম

মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণ জানালেন ইভা

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৩৯৫০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কিছুদিন হলো এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর আবারও বিয়ে করেছেন সঙ্গীত শিল্পী ইভা। তবে ঠিক কি কারণে তাদের এই বিচ্ছেদ- তা নিয়ে পরিস্কার করে কেউই এর আগে কিছু বলেননি। এবার বিচ্ছেদের কারণ ব্যাখ্যা করলেন ইভা।

জানালেন, দীর্ঘ ৯ বছর সন্তানকে নিয়ে নিঃসঙ্গ দিন কাটাচ্ছিলেন ইভা। এরপর সন্তান ও নিজের স্বাভাবিক ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ইভা বলেছেন,২০১২ থেকে আমরা আলাদা থাকা শুরু করি। আমি আর আমার ছেলে থাকতাম গুলশানে আর উনি থাকতেন বনানীতে। এভাবে একটি সম্পর্ক ঝুলে থাকতে পারে না। নয় বছর চেষ্টা করেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারিনি। এজন্য উনার অসহযোগিতা দায়ী।

ইভা আরও বলেন,নতুন স্বামীর কাছে গানের ব্যাপারে অনেক অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।

আগামীতে আরও গান করার আশা প্রকাশ করে ইভা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ট্রল করে আমাকে গানের পাখি বলেছেন। এতে হতাশ হয়েছি। তবে গঠনমূলক সমালোচনাকে আমি স্বাগত জানাই।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক ডিভোর্স সার্টিফিকেট হাতে পান। এরপর গত ১৯ সেপ্টেম্বর ইভার গুলশানের বাসায় দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে সোহেল আরমানের সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। আরমান ঢাকার ছেলে। পেশায় ব্যবসায়ী।

ইভার এ পর্যন্ত ৩০টি গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। অ্যালবামের বাছাই করা কিছু গানের ভিডিও চিত্রায়ণ হয়েছে দেশে ও দেশের বাইরে।


আরও খবর



আগামী নির্বাচনে বিএনপির নেতা কে, প্রশ্ন কাদেরের

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৫০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতা কে হবেন এমন প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিকে প্রশ্ন করতে চাই এবং বলতে চাই। আগামী নির্বাচনে আপনাদের নেতা কে? আন্দোলনে আপনাদের নেতা কে? কাকে ঘিরে আন্দোলন করবেন? কাকে ঘিরে সরকার গঠন করবেন?

দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কৃষি ও সমবায় উপ-কমিটি আয়োজিত এক আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার বিকল্প একজন নেতা আপনারা (বিএনপি) দেখান। একজনকে দেখাবেন। পলাতক, দণ্ডিত আসামি। তিনি আপনাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এটা কি বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে? মানুষ জানে বিএনপিকে ভোট দিয়ে লাভ নেই।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য বিএনপি বিভিন্ন দলকে ডাক দিয়েছেন। গতবারও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটা ঐক্য করেছিলেন। সেই ঐক্যের ফলাফলও এ দেশের মানুষ দেখেছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মীরা অনেকেই বলেন মূল্যায়ন হয়নি, কিছু পায়নি। এ ধরনের হাহাকার শুনতে পায়। একটু বঙ্গবন্ধু পরিবারের দিকে চেয়ে দেখুন। বঙ্গবন্ধু যখন জেলে ছিলেন কীভাবে এই পরিবার চলেছে। কীভাবে বেগম মুজিব একটা পরিবারকে আগলে ধরেছেন। সেই ইতিহাস পড়ুন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। সততার রাজনীতির বিরল দৃষ্টান্ত বঙ্গবন্ধুর পরিবার। এই থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ছেলে-মেয়েদের দিয়ে বিকল্প কোনও পাওয়ার হাউস বা হাওয়া ভবন তৈরি করেননি। তিনি তাদের জ্ঞানে গরিমায়, মেধায়-পড়াশোনায় সমৃদ্ধ করেছেন।

কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আমি বলবো হাহাকার করছেন কেন? বাংলাদেশে এখন উপার্জনে, বেঁচে থাকার অনেক পথ, অনেক দুয়ার শেখ হাসিনা খুলে দিয়েছেন। টাকা-পয়সার দিকে চোখ দিয়ে লাভ নেই। বঙ্গবন্ধু পরিবারের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করুন। নেত্রীর দিকে তাকান। টাকা পয়সা সম্পদের দিকে তাকাবেন না।

তিনি বলেন, আগামী বছর যখন একে একে মেগা প্রকল্পগুলো উদ্বোধন হবে, তখন বিএনপি চোখে সর্ষে ফুল দেখবে। বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতি বড় জটিল। মানুষ এখন উন্নয়ন চায়। মানুষ এখন চরিত্রবান লোককে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

কাদের বলেন, এই দেশের রাজনীতিতে পঁচাত্তর পরবর্তিকালের সবচেয়ে ঝুঁকিময় জীবন, যে রাজনৈতিকের তার নাম শেখ হাসিনা। বারে বারে ষড়যন্ত্রের রাজনীতির শিকার তিনি হয়েছেন। তার জীবনের ওপর বারে বারে আঘাত করা হয়েছিল। অন্তত ২০ বার হত্যার চেষ্টা হয়েছিল।

তিনি বলেন, এখনও ষড়যন্ত্রের বুলেট তার পিছু ছাড়েনি। কিন্তু শেখ হাসিনা ভয়কে জয় করেছেন। পিতা বঙ্গবন্ধুর মতো ভয়কে জয় করে, স্মিতহাস্যে সব ষড়যন্ত্র মাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন অকুতোভয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।



আরও খবর



‘শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশে সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের ছাড় দেয়া হবে না’

প্রকাশিত:বুধবার ২০ অক্টোবর ২০21 | হালনাগাদ:বুধবার ২০ অক্টোবর ২০21 | ৭০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
সম্প্রীতির বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করেছে কিছু উগ্রবাদীরা। কখনো কখনো তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে একটি রাজনৈতিক মহল। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ এবং উন্নয়নের বাংলাদেশকে ব্যাহত করার একটি চক্রান্

শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বুধবার (২০ অক্টোবর) সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এর সম্মেলন কক্ষে ইনস্টিটিউটে নবনিয়োগপ্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ কথা জানান।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, "সম্প্রীতির বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করেছে কিছু উগ্রবাদীরা। কখনো কখনো তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে একটি রাজনৈতিক মহল। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ এবং উন্নয়নের বাংলাদেশকে ব্যাহত করার একটি চক্রান্ত। রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য একটি মহল এ চক্রান্ত করছে। অতীতে যেমন এ জাতীয় কোন অপচেষ্টা সফল হয়নি, এখনও হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কঠোর হাতে তাদের দমন করা হবে। বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের সম্প্রীতির রাষ্ট্র। এই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অবশ্যই অব্যাহত থাকবে"।

কর্মশালায় নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, "প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পদ হোন, বোঝা নয়। আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, ঐকান্তিক ইচ্ছা ও গভীর মনোনিবেশের  সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলে সাফল্য আসবে। আর অলসতা ও দায়িত্বহীনতার বল্গাহীন স্রোতে নিজেকে নিমজ্জিত করলে প্রতিষ্ঠানের বোঝায় পরিণত হতে হবে।দায়িত্ব পালনে আত্মোপলব্ধি ও আত্মসমালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ"।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরো যোগ করেন, "সকল সৃষ্টির স্রষ্টা একজন। সে ধারাবাহিকতায় আমরা একে অপরের সাথে আত্মিকভাবে সম্পৃক্ত। আমাদের ভেতরে যেন কোনভাবে ধর্ম, বর্ণ, জেন্ডার নিয়ে হানাহানি কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। কেউ যেন কারো জন্য ক্ষতিকর ভূমিকায় অবতীর্ণ না হই। আর অপ্রয়োজনীয় মিথ্যাচার পরিহার করতে হবে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রতি যত্নশীল হতে হবে"।

বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিএলআরআই-এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজহারুল আমিন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, মো. তৌফিকুল আরিফ ও এস এম ফেরদৌস আলম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বিএলআরআই-এর বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীগণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয়, ৬ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৬৩৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাজশাহী নগরীর শিরোইল টার্মিনাল পুলিশ বক্সের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে দুই বাস যাত্রীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

রাজশাহী নগর পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক এই আদেশ জারি করেন।

বরখাস্ত হওয়া ওই ছয় পুলিশ সদস্য হলেন- ফাঁড়ির ইনচার্জ এটিএসআই নাসির উদ্দিন, এএসআই সেলিম শাহাজাদা, কনস্টেবল শংকর চন্দ্র, সরোয়ার আলম, শাহ আলম ও রিপন আলী।

আরএমপির মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ কমিশনারের দফতরে দুই বাস যাত্রীকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ আসে। অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শেষে শিরোইল বাস টার্মিনাল বক্সের ছয় সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। রাতেই তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বাস যাত্রীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মণ বলেন, মাদক মামলায় গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা বিকাশ আদায় এবং নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুই নারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন।

নিউজ ট্যাগ: পুলিশ বরখাস্ত

আরও খবর



মানবদেহে শুকরের কিডনির সফল প্রতিস্থাপন

প্রকাশিত:বুধবার ২০ অক্টোবর ২০21 | হালনাগাদ:বুধবার ২০ অক্টোবর ২০21 | ৪৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রথমবারের মতো একজন মানুষের দেহে সফলভাবে শুকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এতে রোগীর প্রতিরোধ ক্ষমতায় কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। সম্ভাব্য বড় এই অগ্রগতি প্রতিস্থাপনের জন্য মানুষের অঙ্গের মারাত্মক সংকট নিরসনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাঙ্গন হেলথ এ কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। রোগীর প্রতিরোধ ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে যেন শুকরের কিডনি প্রত্যাখ্যান না করে সেই কারণে শুকরের জিনে পরিবর্তন আনা হয়। ওই পরিবর্তনের কারণে শুকরের টিস্যুতে থাকা একটি অণুর উপস্থিতি হারিয়ে যায়। ওই অণুটির কারণেই তাৎক্ষণিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কিডনি প্রত্যাখ্যান করে থাকে।

শুকরের কিডনি গ্রহণ করেছেন ব্রেইন ডেড এক নারী। তার কিডনি অকার্যকারিতার লক্ষণ দেখা দিলে তার পরিবার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার আগে পরীক্ষা চালানোর অনুমতি দেয়।

তিন ধরে চিকিৎসকেরা নতুন কিডনির রক্ত নালীগুলো রোগীর সঙ্গে জুড়ে দেন। গবেষকদের পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে শরীরের বাইরে রাখা হয় নতুন কিডনিটি।

প্রতিস্থাপনকারী দলটির নেতৃত্বে ছিলেন সার্জন রবার্ট মন্টোগোমারি। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিস্থাপিত কিডনির কার্যক্রম খুব স্বাভাবিক বলেই দেখা যাচ্ছে। মানুষের প্রতিস্থাপিত কিডনি যে পরিমাণ মূত্র উৎপাদন করে নতুন কিডনিটিও একই পরিমাণ মূত্র উৎপাদন করছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া রোগীর প্রতিরোধ ক্ষমতাও তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কিডনিটি প্রত্যাখ্যান করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় এক লাখ সাত হাজার মানুষ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। এরমধ্যে ৯০ হাজারই কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন। ইউনাইটেড নেটওয়ার্ক ফর অরগান শেয়ারিং    এর তথ্য বলছে একটি কিডনি পেতে বর্তমানে গড়ে তিন থেকে পাঁচ বছর অপেক্ষায় থাকতে হয়।

সূত্র: রয়টার্স


আরও খবর



মুদি দোকানি থেকে যেভাবে মানব পাচারকারী

প্রকাশিত:বুধবার ১৩ অক্টোবর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ১৩ অক্টোবর ২০২১ | ৪৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

এইচএসসি পাস করা সাইফুল ইসলাম ওরফে টুটুল (৩৮) মেহেরপুরের গাংনী থানাধীন কামন্দী গ্রামে মুদি দোকানদার ছিলেন। মাঝে মধ্যে ঢাকায় আসতেন। লোভে পড়ে মানবপাচারকারী চক্রে জড়িয়ে পড়েন। শুরুতে চক্রের দালাল হিসেবে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে লোক পাঠানো শুরু করেন। পরে নিজেই রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় খুলে বসেন টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজ নামে ৩টি এজেন্সি।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক। তার দেওয়া তথ্য বিস্তারিতভাবে নিচে তুলে ধরা হলো-

চা দোকানি পরিচয় দিতেন এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার

টুটুলের হাত ধরে প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন চা দোকানি আবু তৈয়ব (৪৫)। টুটুলের কথামতো বিভিন্ন অঞ্চলের বেকার ও শিক্ষিত অনেক নারী ও পুরুষকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতো সে। পড়াশুনা না জানা তৈয়ব চায়ের দোকানি হলেও পরিচয় দিতেন স্বনামধন্য এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার হিসেবে। টুটুলের প্ররোচনায় চক্রে জড়িয়ে প্রতারণামূলকভাবে বিদেশে মানবপাচারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। অনেককে দিয়েছেন চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্রও।

মানবপাচার চক্রের অন্যতম সহযোগী শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন লিমন ও মারুফ হাসান ছিলেন বেতনভুক্ত কর্মচারী। জাহাঙ্গীর আলম, লালটু ইসলাম, আলামিন হোসাইন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন টার্গেট সংগ্রহ, প্রার্থীর পাসপোর্টের ব্যবস্থা, কথিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, টাকা সংগ্রহ, প্রাথমিক মেডিকেল সম্পন্ন করাসহ অন্যান্য কাজে সহায়তা করে আসছিলেন।

টার্গেটে বেকার ও অসচ্ছল তরুণ-তরুণীরা

র‌্যাব জানায়, প্রতারক টুটুল ও তৈয়বের নির্দেশে চক্রের সদস্যরা টার্গেট সংগ্রহে দেশের বেকার ও অসচ্ছল যুবক-তরুণীদের সৌদি আরব, জর্ডান ও লেবাননসহ বিভিন্ন দেশের বাসাবাড়িতে লোভনীয় বেতনে কাজ দেওয়ার নামে প্রলুব্ধ করত। এরপর বিদেশ যেতে আগ্রহীদের ঢাকায় মূলহোতা টুটুল ও তৈয়বের কাছে পাঠাত।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, টুটুল ও তৈয়ব তাদের অফিসে এনে ভিকটিমদের বিদেশে বাসাবাড়িতে কাজের নামে পাঠানোর ভুয়া মানি রিসিট প্রদান করে। এ বাবদ প্রতিজনের কাছ থেকে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা নিতো তারা। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও পাচারকারী চক্রের কয়েকজন সদস্য নিজেদের উচ্চশিক্ষিত বলে পরিচয় দিতো। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বাসাবাড়িতে কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে ভিকটিমদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আদায় করতো চক্রের সদস্যরা।

বিদেশে বাসাবাড়িতে নারীদের বিক্রি, আর কঠোর পরিশ্রমে পুরুষদের ব্যবহার

র‌্যাব বলছে, চক্রের কয়েকজন সদস্য অফিস স্টাফ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভিকটিমকে বিদেশে পাঠানোর জন্য পাসপোর্ট করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করত। এতে ভিকটিমদের মনে আর কোনো সন্দেহ থাকত না। পাসপোর্ট অফিসের দালালের সঙ্গেও সখ্য ছিল চক্রের সদস্যদের। কথিত মেডিকেল টেস্ট শেষে নারী ভিকটিমদের বাসাবাড়িতে বিক্রি এবং পুরুষ ভিকটিমদের অমানবিক কাজে নিয়োজিত করার উদ্দেশে সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ, জর্ডান ও লেবাননে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করত তারা। ভিকটিমরা বিদেশে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারত না। যাদের বিদেশে পাঠানো সম্ভব হতো না তারা টাকা ফেরতে যোগাযোগ করলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো।

এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার পরিচয়ে প্রতারণা

মোজাম্মেল হক বলেন, চক্রের অন্যতম মূলহোতা গ্রেপ্তার তৈয়ব নিজেকে স্বনামধন্য এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিয়ে শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের উচ্চ বেতনে লোভনীয় চাকরির কথা বলে যোগাযোগ করে। এরপর নিজ কার্যালয়ে নিয়ে আসত। বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে চাকরিসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে ভুয়া চাকরির যোগদানপত্র প্রদান করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে। বিষয়টি ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি।

অবৈধ হলেও যেভাবে পাচার করা হতো

বৈধতা না থাকার পরও কীভাবে মানবপাচার করেছিল টুটুল-তৈয়ব চক্র? জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক বলেন, তাদের ৩টি ওভারসিজ প্রতিষ্ঠানের বৈধতা না থাকায় বৈধ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মানুষকে পাচার করেছে। এছাড়া শতাধিক মানুষকে বিদেশে পাঠানো কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মতো ভুক্তভোগী র‌্যাবে যোগাযোগ করেছেন। প্রতারিত ভুক্তভোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিকরা হয়রানির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, বৈধ কোনো জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্য নয়। তবে বৈধতার আড়ালে কেউ যাতে মানবপাচার করতে না পারে সেজন্যই আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা সতর্ক ও অভিযান চালিয়ে আসছে।

উল্লেখ্য, মুদি দোকানদার থেকে ৩টি ওভারসিজ প্রতিষ্ঠানের মালিক বনে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা টুটুল ও সহযোগী তৈয়বসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তারের পর চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য জানিয়েছে র‍্যাব-৪। আজ বুধবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- গোপালগঞ্জের শাহ্ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন লিমন (৩৮), মেহেরপুরের মো. মারুফ হাসান (৩৭), জাহাঙ্গীর আলম (৩৮) ও লালটু ইসলাম (২৮), শরীয়তপুরের আলামিন হোসাইন (৩০), কুষ্টিয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন (৫৪)।

র‌্যাবের অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, সম্প্রতি কয়েকজন নারী ভিকটিমের অভিভাবকের মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচার সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে র‍্যাব-৪ ছায়া তদন্ত শুরু করে ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) রাত থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত বাড্ডা থানাধীন লিংক রোডে টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজে অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ ৪জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে ১০টি পাসপোর্ট, ৭টি ফাইল, ৪টি সিল, ১৭টি মোবাইল, ৫টি রেজিস্টার, ব্যাংকের চেক বই, ২টি কম্পিউটার, ৩টি লিফলেট এবং নগদ ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

নিউজ ট্যাগ: র‍্যাব

আরও খবর