আজঃ শনিবার ১৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন কনস্টেবল কাওসার: আইজিপি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীর বারিধারার কূটনৈতিক এলাকায় গুলি করে পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আরেক পুলিশ সদস্য কাউসার আলী মানসিকভাবে অসুস্থ বলে মন্তব্য করেছেন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে হাইওয়ে পুলিশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন পুলিশ প্রধান।

তিনি বলেন, সহকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা কনস্টেবল কাওসার যে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন সেটি পুলিশ বিভাগ জানত। চিকিৎসার পর একজন চিকিৎসক কাওসারের রোগমুক্তির সনদ দিলে তাকে দায়িত্বে ফেরানো হয়। এখন এ বিষয়গুলোতে আমাদের আরও সতর্কতার প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি।

উল্লেখ্য, শনিবার (৮ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার ফিলিস্তিন দূতাবাসের উত্তর পাশের গার্ডরুমের সামনে দায়িত্ব পালনের সময় কাওসার এসএমজি দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে কনস্টেবল মনিরুল ইসলামকে হত্যা করেন। তার গুলিতে জাপান দূতাবাসের গাড়ি চালক সাজ্জাদ হোসেন শাহরুখও আহত হন।

ওই ঘটনায় নিহত মনিরুলের ভাই কনস্টেবল মাহাবুবুল হক গুলশান থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কাওসারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, মনিরুলের শরীরে এলোপাতাড়ি গুলি করা হয়। মাথার বাঁ পাশে একাধিক গুলির চিহ্ন ছিল। বাঁ চোখ, বাম হাতের বাহু, ডান হাতের কনুই, গলার নিচ থেকে কোমর পর্যন্ত- বুকে, পেটে, পিঠে বিভিন্ন স্থানে গুলির ক্ষত রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, কাউসার ২০০৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। ২০১০ সালের দিকে তার মধ্যে মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। তিনি কারো সঙ্গে কথা বলতেন না এবং অল্পেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতেন। তবে কাওসার মাদকাসক্ত ছিলেন না’ এবং পারিবারিকভাবে তেমন কোনো সমস্যাও ছিল না’ বলে তার স্বজনদের ভাষ্য।

কাওসারের স্ত্রী সাথী বলেন, গত ৪ থেকে ৫ দিন ধরে আমাদের সঙ্গে কম কথা বলছিল। মাঝেমধ্যে যখনই মানসিক রোগে আক্রান্ত হত, এরকম করত। কয়েকবার পাবনায় এক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাও করানো হয়েছে। চিকিৎসার কাগজপত্র আমার স্বামীর কাছে আছে।


আরও খবর



সাভারে সংবাদ সংগ্রহকালে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিক

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
সাভার প্রতিনিধি

Image

সাভারে সংবাদ সংগ্রহকালে দুর্বৃত্তদের হামলায় আখলাকুর রহমান আকাশ (৩৬) নামের এক বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

পরে তাকে উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রোববার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর সিরাক্সি বাজারে বেঙ্গল সিরাক্সি কারখানায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত আখলাকুর রহমান আকাশ সাভার পৌর এলাকার তালবাগ মহল্লায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। তিনি ডেইলি স্টার পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও নাগরিক টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

ভুক্তভোগী আকাশ বলেন, সকালে হঠাৎ খবর পাই সাভারের সিরাক্সি বাজারে বেঙ্গল সিরামিক্স কারখানা কে বা কারা জোরপূর্বক দখল নিচ্ছে। এসময় আমি ঘটনাস্থলে যাই। পরে দেখি দুর্বৃত্তরা সিরামিক্স কারখানাটির কম্পিউটার ও সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলছে। এমন দৃশ্য দেখে আমি মোবাইল ফোনে ভাঙচুরের ছবি তুলি। এসময় হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে আমাকে মারধর শুরু করে। পরে আমার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপরে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সায়মুল হুদা বলেন, আহত সাংবাদিকের নাক ও চোখে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ হামলার ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা দোষীদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।


আরও খবর



জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের কথা ভাবছে ইসরায়েল

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের কথা ভাবছে ইসরায়েল। জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিশেষ দূত গিলাদ এরডান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিরপরাধ শিশুদের ওপর হামলা ও হাজার হাজার শিশুর মৃত্যুর কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে অপরাধী দেশের তালিকায় যুক্ত করেছে জাতিসংঘ।

সে সময়ই ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানান, এই পদক্ষেপের কারণে জাতিসংঘের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং জাতিসংঘকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইসরায়েল জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের কথা চিন্তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের একটি রেডিও চ্যানেলকে গিলাদ এরডান বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই ইসরায়েল তার ভূখণ্ড থেকে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের দেশটি থেকে প্রত্যারের এবং ইসরায়েলের ভালো-মন্দ বিবেচনা করার সময় এসে গেছে।

এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তির পরিকল্পনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তার দিয়েছে হামাস। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন হামাসের উদ্দেশে বলেছেন, দরকষাকষি বন্ধের সময় এসেছে। কাতারের রাজধানী দোহায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কিছু পরিবর্তন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করা গেলেও অন্যগুলো নিয়ে কাজের সুযোগ নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং আলোচনার মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিশর এই চুক্তিটির জন্য চেষ্টা করে যাবে।

হামাস গত মঙ্গলবার বলেছে, তারা এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক তবে তারা গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিয়েছে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটময় হয়ে উঠছে। যতই দিন যাচ্ছে সেখানে খাবার-পানির সংকটে দিশেহারা হয়ে উঠছে নিরীহ ফিলিস্তিনিরা। এমনকি শিশুদের মুখে তুলে দেওয়ার মতো খাবারের জোগানও দেওয়া যাচ্ছে না। গাজা হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ২৫০ দিন ধরে চলা যুদ্ধে ১৫ হাজার ৬৯৪ জন শিশু নিহত হয়েছে এবং ১৭ হাজার শিশু তাদের বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে গেছে।

এদিকে গাজায় খাদ্য সংকটের বিপর্যয় সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস। যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই অঞ্চলে পাঁচ বছরের কম বয়সী আট হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে বলে জানানো হয়েছে।

গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে কর্মরত এক সরকারি কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, সেখানে অধিকাংশ খাদ্যপণ্য ফুরিয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ সমর্থিত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজাযুদ্ধের প্রথম দিকেই ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধাপরাধ করেছে। এতে বলা হয়েছে, শুধু যুদ্ধাপরাধ নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধও করেছে ইসরায়েল। কারণ তাদের হামলায় বেসামরিক অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছেন।


আরও খবর



মিসরের সঙ্গে গাজার পুরো সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নিলো ইসরায়েল

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ড ও মিসর সীমান্তের মধ্যকার কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। সীমান্ত বরাবর অবস্থিত এই এলাকাটি একটি বাফার জোন এবং এটি ফিলাডেলফি করিডোর নামে পরিচিত।

এই অঞ্চলটি দখলে নেওয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সমগ্র স্থল সীমান্তের ওপর কার্যকর কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ পেল ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা ভূখণ্ড এবং মিসরের মধ্যে সীমান্ত বরাবর অবস্থিত একটি বাফার জোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দেশটির সেনাবাহিনী বুধবার জানিয়েছে। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সমগ্র স্থল সীমান্তের ওপর কার্যকর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করল ইসরায়েল।

বুধবার রাতে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সরু ফিলাডেলফি করিডোরের অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। মিসর এবং গাজার মধ্যে অবস্থিত এই বাফার জোনটি ১৯৭৯ সালের ইসরায়েল এবং মিসরের মধ্যে শান্তি চুক্তির অংশ হিসাবে তৈরি করা হয়েছিল।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি এক টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, আমাদের বাহিনী ফিলাডেলফি করিডোরের অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সেখানে তারা এমন বিশটির মতো টানেল খুঁজে পেয়েছে যা হামাস অস্ত্র চোরাচালানের কাজে ব্যবহার করতো।

যদিও মিসরীয় টেলিভিশনে একটি সোর্সকে উদ্ধৃত করে এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, ইসরায়েল গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাতে নিজেদের সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা বোঝানোর চেষ্টা করছে।

মূলত ইসরায়েলের ঘোষণাটি এমন সময় এলো যখন মিসরের সাথে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র এই করিডোরকে হামাসের লাইফ লাইন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার দাবি, এই পথে হামাস নিয়মিত গাজা উপত্যকায় অস্ত্র আনার কাজ করে। তিনি বলেন, সৈন্যরা অনুসন্ধান করে দেখছে .... এবং ওই এলাকার টানেলগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত করার কাজ করছে।

যদিও সবগুলো টানেল মিসরের সাথে গিয়ে যুক্ত হয়েছে কি না তা তিনি নিশ্চিত নন বলে ওই মুখপাত্র পরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

এদিকে মিসরের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রকে উদ্ধৃত করে আল কাহেরা নিউজ বলেছে রাজনৈতিক কারণে যুদ্ধকে প্রলম্বিত করা এবং ফিলিস্তিনি শহর রাফাতে অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য ইসরায়েল এসব অভিযোগ ব্যবহার করছে।

প্রসঙ্গত, তিন সপ্তাহ আগে ইসরায়েলি সেনারা হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে রাফা ক্রসিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর আগে চলতি সপ্তাহে রাফার কাছে সীমান্ত এলাকায় মিসর ও ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনায় এক মিসরীয় সৈন্যের মৃত্যু হয়।

মিসর ফিলিস্তিনের শক্তিশালী সমর্থক এবং গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিককে হত্যার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে।

উল্লেখ্য, ফিলাডেলফি করিডোর একটি বাফার জোন বা নিরাপদ অঞ্চল, যা মাত্র একশ মিটার প্রশস্ত। আর মিসর সীমান্ত থেকে গাজার দিকে ১৩ কিলোমিটারের মতো। মিসর এর আগে বলেছে, তারা আন্তঃসীমান্ত (উভয় সীমান্তের সাথে সংযুক্ত) টানেলগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। এর ফলে এগুলোর মাধ্যমে অস্ত্র চোরাচালান অসম্ভব।


আরও খবর



ধামরাইয়ে বাস উল্টে আহত ৩০

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ধামরাই প্রতিনিধি

Image

ঢাকার ধামরাইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে কমপক্ষে ৩০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সূতিপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকালে কালামপুরের সূতিপাড়া ব্রিজের একটু আগে সেলফি পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস উল্টে সড়ক থেকে নিচে পড়ে যায়। এ সময় বাসে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে ধামরাই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, সকালে মানিকগঞ্জ থেকে ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে সেলফি পরিবহনের বাসটি। পথিমধ্যে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকায় পৌঁছলে বাসটি উল্টে সড়ক থেকে নিচে পড়ে যায়। এসময় অন্তত ৩০ জন আহত হন।


আরও খবর



সিলেটে বন্যায় পানিবন্দি সাড়ে ছয় লাখের বেশি মানুষ

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
এস এ শফি, সিলেট

Image

ভারত থেকে নেমে আসা উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সিলেটে বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। সীমান্তবর্তী ছয় উপজেলাসহ আটটিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে পানিবন্দি অবস্থায় আছেন ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭০ জন মানুষ।

প্লাবিত হয়েছে সুরমা নদী তীরবর্তী সিলেট নগরীর নিম্নাঞ্চলও। এতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ৪ হাজার পরিবার।

শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সিলেটে পানিবন্দি ও আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠা লোকজনের সংখ্যা বেড়েছে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়।

সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান স্বাক্ষরিত বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলার ১৩টি উপজেলায় বন্যা প্রস্তুতি হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ৫৪৭টি। বন্যা কবলিত আট উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৭৩৯ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ভারতের মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি এলাকায় টানা ভারি বৃষ্টিপাত হয়। ফলে সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা দেখা দেয় সিলেটের গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায়।

শুক্রবার নতুন করে প্লাবিত হয় সিলেট সদর উপজেলা। এদিন বিকালে সরেজমিনে সিলেট নগরীর তালতলা, যতরপুর, মাছিমপুর ও উপশহরের রাস্তাঘাটে পানি দেখা গেছে। ময়লা পানি মাড়িয়ে নগরবাসীকে চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে বেশি প্লাবিত হয়েছে উপশহরের কয়েকটি ব্লক।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দিনভর কর্মতৎপর ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তারা। শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তারা।

পানিবন্দি মানুষের জন্য ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নগরীর ১৫নং ওয়ার্ডের কিশোরী মোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও পাশ্ববর্তী একটি পাঁচ তলা খালি বিল্ডিংয়ে একই ওয়ার্ডের মতিন মিয়ার কলোনির ৪০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন।

জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর বলেন, বিভিন্ন কাউন্সিলরদের দেয়া তথ্যমতে ইতিমধ্যে নগরীতে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার পরিবার। তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সিসিক।

এদিন বিকাল সাড়ে ৪টায় নগরীর ১৫, ২২ ও ২৪ নং ওয়ার্ডের, সুবহানীঘাট, উপশহর, তেররতন এলাকা পরিদর্শন করেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. মখলিছুর রহমান কামরান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, স্থানীয় কাউন্সিলর শাহানা বেগম শানু, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফজলে রাব্বি চৌধুরী মাসুম, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির সুহিন, জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।

এ সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়র মখলিছুর রহমান কামরান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর টানা বৃষ্টির কারণে সিলেটের নদ নদীর পানির বেড়ে ইতিমধ্যে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি শহরের দিকে ধেয়ে আসছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী তত্ত্বাবধানে সংকট মোকাবেলা করতে পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে বন্যা পরিস্থিতি মোকবেলায় বৃহস্পতিবার জরুরি সভা করে সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেটের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর তিনটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুরমা সিলেট শহর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার, কানাইঘাট পয়েন্টে ৯২ সেন্টিমিটার।

কুশিয়ারা জকিগঞ্জ পয়েন্টে বিদৎসীমার দুই সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আর সিলেটের অন্য নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় সবচেয়ে বেশি পানিবন্দি হয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫০ জন। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নই বন্যা কবলিত হয়েছে। আর ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ১ হাজার ২৪২ জন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়েছেন ৯৩ হাজার মানুষ। উপজেলায় ৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৭৩ জন মানুষ।

কানাইঘাট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে নয়টি প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছেন ৮০ হাজার ৬০০ মানুষ। ৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ১ হাজার ৪৭৬ জন।

জৈন্তাপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে ৬৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। এ উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ৪৮টি। সেখানে ৬৭৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

জকিগঞ্জ উপজেলায় নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে আটটি প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ জন। উপজেলার ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছেন ১৯৮ জন।

বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে বন্যা হয়েছে; এখানে পানিবন্দি হয়েছেন ৫ হাজার ৫০০ মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ৬৭টি; আশ্রয় নিয়েছেন ৬০ জন।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র একটি ইউনিয়নে বন্যা কবলিত হয়েছেন ৩ হাজার ৫০০ মানুষ। উপজেলায় ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ১৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

নতুন করে প্লাবিত সিলেট সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টি বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি রয়েছেন ১ হাজার ৬২০ জন। এই উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ২৯টি; এখনও কেউ আশ্রয় নেয়নি।


আরও খবর