আজঃ শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪
শিরোনাম

মেহেরপুরে মাংস বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আব্দুল আলিম, মেহেরপুর

Image

ওজনে কম দেয়ায় হিরোক নামের এক মাংস বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ সোমবার দুপুরে মেহেরপুর গাংনীতে বাজারে কসাই খানায় এ অভিযান চালান গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাদির হোসেন শামীম। দন্ডিত হিরোক গাংনী শহরস্ত আব্দুল মান্নানের ছেলে।

ভ্রাম্যমান আদালতৈর নির্বাহী হাকিম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) নাদির হোসেন শামীম জানান, গাংনী বাজারে মাংস বিক্রির সময় ওজনে কম দেয়া হচ্ছে মর্মে সংবাদ পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় মাংস বিক্রেতা হিরোকের ডিজিটাল স্কেলে অনিয়ম পাওয়া গেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৭ ধারায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, বাজার কমিটি ও গাংনী থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



হিংসায় জ্বলছে সন্দেশখালি, এক্স হ্যান্ডলে সরব নুসরাত

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

জমি, ভেড়ি দখল! নারী নির্যাতন! একের পর এক নালিশের পাহাড়! গত ৫২ দিন ধরে শিরোনামে সন্দেশখালি। গ্রামবাসীদের ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে গ্রামের পর গ্রাম। অশান্তি নিয়ে ফের মুখ খুললেন তারকা সাংসদ নুসরাত জাহান।

এক্স হ্যান্ডলে নুসরাত লেখেন, একজন মহিলা এবং জনপ্রতিনিধি হিসাবে আমি সবসময় আমার দলের নির্দেশিকা মেনেই চলি। এবং জনসেবা করারই চেষ্টা করি। সন্দেশখালিতে ইতিমধ্যে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনাও করা হয়েছে। আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুসময় কিংবা দুঃসময়, আমি আমার সংসদীয় এলাকার মানুষদের সঙ্গে আছি। আমি বিশ্বাস করি রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের উপর সকলের বিশ্বাস রয়েছে। যেটা ভুল তার নিন্দা অবশ্যই করুন। তবে আমাদের একে অপরকে নিশানা করা ঠিক নয়। আসুন সকলে মিলে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করি। শান্তি ফেরানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বাকি কে কি বলল কিছু যায় আসে না। আমি আগেও বলেছি, আবার বলছি রাজনীতি করবেন না।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের খোঁজে সন্দেশখালিতে হানা দেয় ইডি। তৃণমূল নেতার দেখা মেলেনি। বাড়িতে তল্লাশিও করতে পারেননি আধিকারিকরা। হামলার শিকার হন তারা। অভিযোগ, শাহজাহানের নির্দেশেই হামলার শিকার হন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। তার পর থেকেই ফাঁকা সাম্রাজ্য। ফেরার তৃণমূল নেতা। তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ফুঁসছেন গ্রামবাসীরা। ক্ষোভের আগুন দফায় দফায় জ্বলছে সন্দেশখালির একের পর এক গ্রাম। তা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সন্দেশখালিমুখী সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি প্রতিনিধি দল। যদিও পুলিশি বাধায় কেউই গ্রামে ঢুকতে পারেননি। তবে বেড়মজুর গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক এবং সুজিত বসুরা। তা সত্ত্বেও গ্রামে দেখা মেলেনি বসিরহাটের সাংসদ নুসরাত জাহানের। এত অশান্তির পরেও সাংসদ কোথায়, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নও উঠতে শুরু করে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নীরবতা ভেঙে সন্দেশখালি কাণ্ডে মুখ খোলেন নুসরাত। তার ঠিক ১৩ দিনের মাথায় আবারও সন্দেশখালি ইস্যুতে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট তারকা সাংসদের।


আরও খবর
টেইলর সুইফট ইফেক্টে আক্রান্ত সিঙ্গাপুর

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহত বেড়ে প্রায় ২৯ হাজার

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব যেন থামছেই না। এখন পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২৯ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। ওয়াফা নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এবং রাফাহ প্রান্তে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালানোয় এক রাতেই ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

এর আগে জাতিসংঘ জানিয়েছে, রাফায় ইসরায়েলি স্থল আগ্রাসনের ভয়ে ফিলিস্তিনিরা দেইর আল-বালাহ শরণার্থী শিবিরসহ মধ্য গাজার বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

এদিকে গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের বেশ কয়েকজন কর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে।

অপরদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হামাসের যুদ্ধবিরতি এবং বন্দীদের মুক্তির দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছেন। গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর এখন পর্যন্ত ২৮ হাজার ৮৫৮ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৬৮ হাজার ৬৬৭ জন।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বলেছেন যে, জিম্মিদের মুক্ত করতে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা বিষয়টি তিনি গভীরভাবে অনুভব করছেন। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপর থেকেই ইসরায়েলকে সব ধরনের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে গাজার রাফা শহরের পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সেখানকার মানুষ প্রচণ্ড ক্ষুধার্থ। তারা খাবারের জন্য মরিয়া হয়ে ‍উঠেছে। জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা (ওসিএইচএ) তাদের সর্বশেষ দৈনিক আপডেটে জানিয়েছে, রাফা শহরের লোকজন খাবারের জন্য এমন করুণ পরিস্থিতিতে রয়েছে যে, তারা খাবারের জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছে না। তারা ত্রাণবাহী ট্রাক দেখলে সেগুলো থামাচ্ছে যেন সঙ্গে সঙ্গেই সেখান থেকে খাবার নিয়ে খেতে পারে।

ওসিএইচএ বলছে, দক্ষিণ গাজার ওই জনবহুল শহরে মানবিক সংকট নিয়ে আতঙ্কিত অবস্থার মধ্যেই খাদ্য সংকটের কারণে লোকজন মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং তাদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গাজায় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জনাকীর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং সেখানকার লোকজনের জরুরি ভিত্তিতে খাবার প্রয়োজন। তারা ক্ষুধার্ত এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ওসিএইচএ জানিয়েছে, গাজায় আরও ত্রাণবাহী ট্রাকে খাবার সরবরাহ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেখানকার লোকজনের পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে।

শুধুমাত্র রাফাহ এবং কেরেম শালোম (কারেম আবু সালেম) ক্রসিং দিয়ে ত্রাণ সহায়তা গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করতে পারছে। ফলে মধ্য এবং উত্তর গাজায় খাদ্য সরবরাহ করতে হলে প্রথমে রাফাহ দিয়েই প্রবেশ করতে হয়। এদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আশদোদ বন্দর দিয়ে গাজা উপত্যকার জন্য পাঠানো আটার একটি বড় চালান আটকে দিয়েছে।


আরও খবর



হেমায়েতপুরে স্থানান্তর হচ্ছে গাবতলী বাস টার্মিনাল

প্রকাশিত:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীতে বাস চলাচল সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোয় আনতে গাবতলী বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে তারা। এ ছাড়া ঢাকার চারপাশে আরও চারটি পরিকল্পিত বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। স্থানান্তর করা হবে মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালও।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ডিএনসিসির পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী, হেমায়েতপুরে মেট্রো রেল লাইন-৫ এর স্টেশন ও ডিপোর পাশে প্রায় ৪৫ একর জায়গাজুড়ে অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এই বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এটি হবে ঢাকার প্রথম বহুতল আন্ত জেলা বাস টার্মিনাল। সেখানে ছয়তলা দুটি টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হবে, যেখানে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার বাস রাখা যাবে। একই সঙ্গে থাকবে একটি ডিপো। এ ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি রাখার জন্য থাকবে দুটি তলা। প্রতিটি তলায় ৪৬টি করে গাড়ি রাখা যাবে।

প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) অনুযায়ী, এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫১০ কোটি টাকা। যদিও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) করা সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল মাত্র এক হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা।

অর্থাত্ প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় সমীক্ষার প্রায় আড়াই গুণ। চলতি বছর এ টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু করার কথা। চার বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষে টার্মিনালটি যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পটির প্রস্তাবের ওপর একটি পর্যালোচনাসভা হবে। সভায় প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।

সেখান থেকে অনুমোদন পেলে প্রকল্পটির জন্য বিদেশি ঋণ পেতে এটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কাছে পাঠানো হবে। তবে এখনো প্রকল্পটি নিয়ে তেমন অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।

ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈম রায়হান খান বলেন, আমরা গাবতলী বাস টার্মিনাল সিটির বাইরে স্থানান্তরে একটি প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছি। সেখানে একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল হবে। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি নিয়ে আমাদের সঙ্গে বসবে। 

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, ছয়তলা টার্মিনালটির চারটি তলা থাকবে যাত্রীবাহী বাসের জন্য। প্রতিটি তলায় ৪৩২টি করে বাস রাখা যাবে। ডিপোতে আরও এক হাজার বাস রাখার জায়গা থাকবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়, টার্মিনালটি নির্মাণের লক্ষ্য যাত্রীদের পরিষেবা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা তৈরি করা। এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে আন্ত জেলা ও শহরের মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলোর জন্য আলাদা প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা, আন্ত জেলা বাস ডিপো সুবিধা, মাল্টি-মডেল কানেক্টিভিটি, ব্যক্তিগত যানবাহন রাখার জন্য দুটি তলা এবং যানবাহনগুলো থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা।

জানা গেছে, এর আগে ঢাকায় বাস চলাচল সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোয় আনার লক্ষ্যে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির দুই মেয়রের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত একটি সম্ভাব্যতা পর্যালোচনার পর আন্ত জেলা বাস টার্মিনালগুলো স্থানান্তরের জন্য চারটি সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন করে। হেমায়েতপুরের পাশাপাশি অন্য তিনটি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য গ্রাম ভাটুলিয়া, কাঁচপুর ও বাঘাইর এলাকা নির্বাচন করা হয়। বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকায় চারটি নতুন আন্ত নগর বাস টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল শহর থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, গাবতলী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। টার্মিনালটি স্থানান্তর করা হলে বিমানবন্দর সড়কে যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। হেমায়েতপুরের প্রস্তাবিত জায়গাটি এমআরটি লাইন-৫ স্টেশন এবং ডিপো এলাকার সঙ্গে অবস্থিত। ফলে গণপরিবহনব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।

প্রকল্পটির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, এমন প্রকল্প প্রস্তাব এসেছে কি না, আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব। তবে এত বড় প্রকল্প এই মুহূর্তে অনুমোদন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।

জানা গেছে, ঢাকা শহরের ভেতরে আন্ত জেলা ও শহরতলির বাস চলাচল বন্ধে ডিটিসিএ একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করে। এতে দেখা যায়, প্রতিদিন ঢাকার রাস্তায় যত গাড়ি চলে, তার ২৪ শতাংশ আন্ত জেলা ও শহরতলির বাস। শহরের ভেতর রয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ বাসের কাউন্টার। এসব কাউন্টার যানজটের হটস্পট। এরই আলোকে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে পাঁচটি আন্ত জেলা টার্মিনাল ও তিনটি বাস ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা করে সরকার।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ঢাকার প্রবেশমুখে পাঁচটি বাস টার্মিনাল গড়ে তুলতে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে তিনটি বাস ডিপো তৈরি করতে খরচ হবে আরও প্রায় তিন হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর বাইরে বাস টার্মিনালের জন্য বিকল্প হিসেবে আরও দুটি স্থান প্রস্তাব করা হয় এবং ঢাকার ভেতরে থাকা তিনটি আন্ত জেলা টার্মিনাল সিটি টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে সবচেয়ে বড় আন্ত জেলা বাস টার্মিনালটি হবে সাভারের হেমায়েতপুরে। চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ, মেহেরপুর, নড়াইল, নবাবগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ী ও রাজশাহী থেকে আসা আন্ত জেলা বাস থামবে হেমায়েতপুর টার্মিনালে।


আরও খবর



অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন আজ

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

অগ্নিঝরা মার্চ, বাঙালির স্বপ্নসাধ যৌক্তিক পরিণতির মাস। বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা হচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এই ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক-রাজনৈতিক স্বপ্নসাধ পূরণ হয়।

১৯৭১ সালে এসে যে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে, তার গোড়াপত্তন হয়েছিল বহু বছর আগে।  ৫২র ভাষা আন্দোলন, ৬২র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬র ছয় দফা আন্দোলনের পথ ধরে  ৬৯র গণ অভ্যুন্থানের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের মার্চে এসে বাঙালির সেই স্বপ্নসাধ যৌক্তিক পরিণতিকে স্পর্শ করে। প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের গহীনে লালন করা তখনো অধরা স্বাধীনতার দুর্বার আকাঙ্খা যেন অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্রষ্ঠা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণে এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম স্বাধীনতার অমর কাব্যের এই পঙিটি বাঙালি জাতিকে ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় বলীয়ান করে তোলে।

এই মার্চেই বাঙালি পাকিস্তানকে বিদায় জানায়। পাকিস্তানি সৈন্যরা ২৫ মার্চ রাতে কামান, মর্টার, রাইফেল নিয়ে অতর্কিতে ঘুমন্ত নিরীহ বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু তখন গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে তার সর্বশেষ বাণী বাংলার মানুষের কাছে পাঠান এই বলে, এই হয়ত তোমাদের জন্য আমার শেষ বাণী। আজকে থেকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। যে যেখানেই থেকে থাক, যে অবস্থায়ই থাক, হাতে যার যা আছে তাই নিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তোল। ততদিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে, যতদিন পর্যন্ত না দখলদার পাকিস্তানিদের শেষ সৈনিকটি বাংলাদেশের মাটিতে থেকে বহিষ্কৃত হচ্ছে এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর এই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল বাঙালি জাতি। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট শুরু হয় মার্চের প্রথম দিন থেকে। এদিন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। দুপুর ১টা ৫ মিনিটে রেডিও পাকিস্তানের সকল কেন্দ্রে একযোগে প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা প্রচার করা হয়। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী, ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ঢাকায় হওয়ার কথা ছিল। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে যায়, দেশ আবার কঠোর সামরিক ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে এবং সামরিক আইন কঠোর করে ভেতরে ভেতরে কোনো গভীর প্রস্তুতি চলছে। দুপুরে রেডিওতে যখন জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিত করার সংবাদ প্রচারিত হচ্ছিল, তখন ঢাকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানরত পাকিস্তান ও বিশ্ব একাদশের মধ্যে এক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ধারা বিবরণী চলছিল। তাই মাঠের ক্রিকেট দর্শকরাই রেডিওতে প্রথম ইয়াহিয়ার এই ঘোষণা শুনতে পান।

রেডিওতে খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা শহরে সর্বপ্রথম সংঘটিত প্রতিক্রিয়াটি ব্যক্ত করে স্টেডিয়ামের  হাজার হাজার ক্রিকেট দর্শক। তারা সমস্বরে চিৎকার করে উঠে জয় বাংলা বলে। ধাওয়া করে পশ্চিম পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের এবং শ্লোগানে উত্তাল হয়ে জঙ্গি মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমে পড়ে। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের খবর শুনে পিআইএর বাঙালি কর্মচারীরাও জনসাধারণের সঙ্গে রাস্তায় নেমে পড়েন। জগন্নাথ কলেজ ও পার্শ্ববর্তী কায়েদে আযম কলেজের ছাত্ররাও লাঠিসোটা হাতে রাস্তা প্রদক্ষিণ করতে থাকে। আদমজী মিলের শ্রমিকরা চাকা বন্ধ করে শোভাযাত্রা সহকারে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

মিছিলকারীরা এ সময় বঙ্গবন্ধুর পরবর্তী নির্দেশ জানার জন্য হোটেল পূর্বাণী অভিমুখে মিছিলের পর মিছিল নিয়ে এগিয়ে চলে। বঙ্গবন্ধু তখন হোটেল পূর্বাণীতে। সেখানে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠক হওয়ার কথা। লাখ লাখ মানুষের শ্লোগান  আর মিছিলে হোটেল পূর্বাণীর চত্বর প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। সকলেই বঙ্গবন্ধুর পরবর্তী নির্দেশ শোনার জন্য উৎকণ্ঠার সঙ্গে অপেক্ষা করতে থাকে। বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এক্ষুণি চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তিনি মওলানা ভাসানী, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, আতাউর রহমান খানসহ অন্যান্য নেতার সঙ্গে আলোচনা করবেন। তবে বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত তেজোদৃপ্ত ভঙ্গিতে বলেন, অধিবেশন স্থগিত হওয়ার বিষয়টি তিনি বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে দিতে পারেন না। তিনি বলেন, আগামী ৭ মার্চ তিনি রেসকোর্স ময়দানে বাংলার মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার অর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ বুধবার সারাদেশে হরতাল পালিত হবে। বঙ্গবন্ধু বললেন, আমি জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে এবং যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে বলব। এরই মধ্যে শহরের বিভিন্ন অলিগলি পথ থেকে শত শত মিছিল পল্টন ময়দানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে জমায়েত হয়। অল্প সময়ের মধ্যে এই জমায়েত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের সমাবেশে বক্তৃতা করেন সাবেক ছাত্রনেতা ও নবনির্বাচিত জাতীয় পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, আর ৬ দফা, ১১ দফা নয়, এবার বাংলার মানুষের ১ দফার সংগ্রাম শুরু করব। আর এই এক দফা হচ্ছে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব।

নিউজ ট্যাগ: অগ্নিঝরা মার্চ

আরও খবর
খুলনা মুক্ত দিবস আজ

রবিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩




রাজধানীর চার হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীর শেরে বাংলা নগর এলাকায় সরকারি শিশু হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল, হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একযোগে অভিযান চালাচ্ছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে র‌্যাব-২ এর একাধিক দল অভিযান শুরু করে। অভিযান পরিচালনা করছেন র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।

জানা গেছে, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া, দালালদের দৌরাত্ম্য এবং প্রেসক্রিপশন নিয়ে রোগী-স্বজনদের বিরক্ত করার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-২ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ নাজমুল্লাহেল ওয়াদুদ বলেন, রোগী ও তাদের স্বজনদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে বের করে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে বেশি বিল করে কমিশন বাণিজ্য করা হচ্ছে। সব টেস্ট সরকারি হাসপাতালে হলেও দালাল ও কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে এসব করা হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।


আরও খবর