আজঃ বুধবার ২৯ মে ২০২৪
শিরোনাম

মৌলভীবাজারে লেবুর চাহিদা কমে যাওয়ায় বিপাকে চাষিসহ সংশ্লিষ্টরা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৩ মে 20২৩ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ মে 20২৩ | অনলাইন সংস্করণ
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

Image

চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। এখানে চায়ের পরই লেবুর সুনাম। আর এই শ্রীমঙ্গলের লেবুর চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। বর্তমানে সেই লেবুর চাহিদা হঠাৎ কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন চাষিসহ সংশ্লিষ্টরা।

লেবু বিক্রি ও বিপণন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নোম্যানসল্যান্ডে (দুই দেশের মাঝে সমান দূরত্বে থাকা বিদ্যমান ভূখণ্ড) উৎপন্নকৃত ভারতীয় লেবু শ্রীমঙ্গল লেবু বাজারে আসায় স্থানীয় চাষিদের উৎপাদিত লেবুর বিক্রি অনেকাংশে বাধাগ্রস্ত করছে।

একাধিক চাষি এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, চাষিরা লেবু বিক্রি করতে এসে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে লেবু চাষে উৎসাহ হারাচ্ছেন। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লেবু চাষ এবং ভারতীয় লেবু বাজারে আসায় শ্রীমঙ্গলের লেবু বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় লেবু বাজার সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের লেবুর বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় ছয় থেকে সাত লাখ লেবু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেত। হঠাৎ করে সেই চাঙ্গা বাজার পড়ে গেছে। বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৫০ হাজার থেকে এক লাখের মধ্যে। প্রতি পিস লেবুর দাম আগে ছিল দুই টাকা থেকে পাঁচ টাকা। কিন্তু চলতি মৌসুমে এই সময়ে লেবুর দাম নেমে এসেছে প্রতি পিস ৫০ পয়সা থেকে দেড় টাকায়। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছেন লেবু চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জসহ সাত উপজেলার পাহাড়-টিলার মাটি ও আবহাওয়ার কারণে লেবু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। প্রতি মৌসুমে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপকহারে কাগজি, চায়না, জারা, পাতি ও কাটা লেবুর উৎপাদন হয়। তবে সবচেয়ে বেশি লেবু উৎপন্ন হয় শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি ও সমতল এলাকায়।

লেবু ব্যবসায়ী জাহেদুর রহমান বলেন, শ্রীমঙ্গলের বাজারে লেবুর দাম আশানুরূপ না বাড়ার কারণ হলো, ঢাকার ব্যবসায়ীরা শ্রীমঙ্গলের লেবু কিনছেন না। তারা যদি আগের মতো নিতেন তাহলে তো এ সমস্যা হতো না। রোজার পরে আমরা লস খেয়ে গেছি। রোজার সময় বা এক মাস আগেও ভালো দাম ছিল। এখনকার বাজারে ভালো লেবু তেমন নেই। যা আছে তা খুবই অল্পবিস্তর। বড় রসালো লেবুর চাহিদা সব সময়ই বেশি।

বর্তমানে আমি আমার লেবু বাগানের এক ঠেলাগাড়ি অর্থাৎ ৮শ লেবু বিক্রি করেছি ৭০শ টাকায়। ফলে বর্তমানে আমাদের মারাত্মক ক্ষতি গুণতে হচ্ছে। রমজানে এই একঠেলা লেবু বিক্রি করেছি প্রায় ৮ হাজার টাকায়। আমাদের শ্রীমঙ্গলের বাজারে বেশিরভাগ লেবুগুলো কাগজিলেবু বলে জানান তিনি।

লেবুর বাজার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে শ্রীমঙ্গলের কাঁচা বাজারের আড়তদার আবু তাহের বলেন, ভাই, লেবুর বাজার ভালো না। কেন ভালো না, কারণ জানাতে চাইলে তিনি বলেন, আগে এখনকার লেবুগুলো যেখানে যেতো তা আর যাচ্ছে না। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ভারতীয় লেবু আমাদের বাজারে চলে এসেছে। ফলে আমাদের শ্রীমঙ্গলের লেবুর বাজারের চাহিদা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইন্ডিয়ান ওই লেবুগুলো সীমান্তবর্তী নোম্যানসল্যান্ডে চাষ করা। সেখানে নতুন মাটি ফেলে লেবু চাষ করায় এর সাইজগুলোও বড় বড় হয়। ফলে আমাদের স্থানীয় লেবুগুলোর আর কোনো চাহিদা থাকে না।

এখন স্থানীয় লেবু পানির দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে লেবু ব্যবসায় ধস নেমে এসেছে। আমার কাছে প্রায় শতাধিক লেবু মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। আমাদের সবারই আজ জান বাঁচানো দায় হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শ্রীমঙ্গল এলাকার লেবু চাষি ফারুক মিয়া বলেন, গাছ থেকে এক গাড়ি (২ হাজার পিস) লেবু সংগ্রহে মজুরি দিতে হয় ৭৫০ টাকা, বাজারে নিয়ে যেতে গাড়িভাড়া এক হাজার টাকা। আমার একগাড়ি লেবু বাজারে তুলতে মোট খরচ হয় এক হাজার ৭৫০ টাকা। কিন্তু কোনো লাভ হয় না। একদিন ৪শ টাকা লাভ হলে পরের দিনেই ৩শ টাকা লস হয়। এতে লেবু চাষে আর উৎসাহ পাচ্ছি না।

সিলেট থেকে লেবু কিনতে আসা ব্যবসায়ী রহিম মোল্লা বলেন, গত বছরের পর এবার হঠাৎ লেবুর বাজারে এই পরিবর্তন এসেছে। মূলত দেশের বিভিন্ন জায়গায় লেবুর চাষ বেড়েছে। আগে যেভাবে সারা দেশের লেবুর চাহিদা পূরণ করত শ্রীমঙ্গল। এখন আর সেভাবে নেই। দেশের চাহিদা পূরণ হয়ে যায় অন্যান্য এলাকার লেবু থেকেই। তাই স্থানীয় বাজারে দাম পড়ে গেছে।

ন্যায্যমূল্য থেকে লেবু চাষি বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, আড়তদাররা বেশি লাভের জন্য এখন আর লেবু কিনছে না। ঢাকায় তো ঠিকই লেবুর দাম বেশি। আড়তদারদের হাতেই অনেক কিছু নির্ভরশীল। বাজারদর ওঠানামা করা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তবে চাষিরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে ব্যাপারে তারা খেয়াল রেখে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবেন। আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বলে দিচ্ছি সরেজমিন তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

এ জেলার মাটি ও আবহাওয়া লেবু চাষের জন্য খুবই উন্নত। মৌলভীবাজার জেলায় ১৭১৯ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নিউজ ট্যাগ: শ্রীমঙ্গল লেবু

আরও খবর



নয়াপল্টনে চলছে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশ

প্রকাশিত:বুধবার ০১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে নয়াপল্টনে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশ শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে শ্রমিক দলের উদ্যোগে দুপুর সাড়ে ৩টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ শুরু হয়।

তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে সমাবেশে যোগ দিতে নয়াপল্টনে জড়ো হয়েছে শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা। বেলা ১২টার পর থেকে নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নয়াপল্টন সরগরম হয়ে উঠে।

৫টি ট্রাকের উপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন ইউনিট থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শ্রমিক নেতা-কর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে, নেচে-গেয়ে, নানা রঙ্গের পোশাক পরে তারা সমাবেশে অংশ নিয়েছে। মাথায় লাল ক্যাপ পরিধান করেছেন সমাবেশে আসা নেতাকর্মীরা।

এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও বক্তব্য রাখবেন জাতীয়, শ্রমিক ও অঙ্গ সংগঠন নেতারা। সভাপতিত্ব করছেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া সাদা পোশাকে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিতি রয়েছেন।


আরও খবর



ফের পানির দাম বাড়াল ঢাকা ওয়াসা

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

আগামী ১ জুলাই থেকে পানির দাম ১০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা)। এর আগে গত ১৪ বছরে ১৪ বার পানির দাম বাড়িয়েছে ঢাকা ওয়াসা।

সংস্থাটি বলছে, ওয়াসা আইন ১৯৯৬ এর ২২ ধারা অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করার লক্ষ্যে চলতি বছরের আগামী ১ জুলাই থেকে আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগের প্রতি ১০০০ লিটার পানির মূল্য ১০ শতাংশ হারে সমন্বয় করা হবে। বুধবার (২৯ মে) গ্রাহকদের বিষয়টি জানানোর লক্ষ্যে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ঢাকা ওয়াসা।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওয়াসা আইন ১৯৯৬ এর ২২ ধারা অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করার লক্ষ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগের প্রতি ১ হাজার লিটার পানির মূল্য ১০ শতাংশ হারে সমন্বয় করে ১৫.১৮ টাকার স্থলে ১৬.৭০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ৪২.০০ টাকার স্থলে ৪৬.২০ টাকায় নির্ধারণ করা হলো। এ সিদ্ধান্ত মিটারবিহীন হোল্ডিং, গভীর নলকূপ, নির্মাণাধীন ভবন ও ন্যূনতম বিলসহ সকল প্রকার (পানি ও পয়ঃ) অভিকরের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। ওয়াসা আইন ১৯৯৬ এর ২৩ ধারা অনুযায়ী এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলো।

এর আগে, ২০২২ সালের জুলাইয়ে পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়িয়েছিল ঢাকা ওয়াসা। ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছিল নতুন দাম।


আরও খবর



কলাপাড়ায় মুরগি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক চক্র

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
সাইফুল ইসলাম, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)

Image

হাজার টাকা দিলেই মিলবে হাইব্রীড জাতের ১৬টি মুরগি। আর ১শ টাকা কিস্তি দিলে পাওয়া যাবে ১টি করে মুরগি পালনের দোতালা কাঠের ঘর। এমনকি গ্রুপের দায়িত্বে থাকা নারী নেত্রী পাবেন প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা। ঠিক এমনই মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে লাখ লাখ টাকা হারিয়েছেন শতাধিক গ্রামীণ গৃহবধূরা।

তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ঠিক কত টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে চক্রটি তা এখনো নিরুপন করা সম্ভব হয়নি।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পল্লীগ্রাম মুরগি ফার্ম এন্ড হ্যাচারী নামের একটি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হয়েছে শাতাধিক নারী উদ্যোক্তারা। মাত্র এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যে উপজেলার লতাচাপলী ইউপির একাধিক গ্রাম থেকেই কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি। চক্রটির কোম্পানীর লিফলেটে দেওয়া ঠিকানায় নাম লেখা রয়েছে ঝালকাঠির সালমা খাতুনের পল্লীগ্রাম হ্যাচারী। তবে সরেজমিনে অনুসন্ধ্যান করে নিবন্ধনহীন এই পল্লীগ্রাম হ্যাচারীর কোন অস্তিত্ব মেলেনি।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, নাম পরিচয়হীন দুজন মাঠকর্মী পল্লীগ্রামের লিফলেট আর একটি মাত্র ভিজিডিং কার্ড দিয়েই নিয়ে গেছে গ্রামীণ জেলেবধূদের কষ্টার্জিত রসদ। মিষ্টি কথায় মন গলিয়ে মুরগি দেওয়ার নামে মোবাইল ফোনে দুই দফা সময় বেঁধে দিলেও এখন বন্ধ রয়েছে ফোন নম্বরসহ সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা।

আর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবী, মুরগি দেওয়ার নামে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ঠিক কত লাখ টাকা হাতিয়েছে হায় হায় কোম্পানি তা সবারই অজানা। তবে পরিসংখ্যাান বলছে, কেবল লাতাচাপলীর ৬ গ্রাম থেকেই প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

লাতাচাপলী ইউপির মম্বিপাড়া গ্রামের জেলেবধূ তানিয়া বলেন, ভিআইপি পোশাক পরিহিত দুই ব্যক্তি প্রথমে আমাদের গ্রামে এসে আমাকে মুরগি দেওয়ার কথা বলে একটি গ্রুপ সৃষ্টি করে। আর সেই গ্রুপের সভানেত্রীর দায়িত্বও আমাকে দেন তারা। কথা ছিল নেত্রী হিসেবে প্রতি মাসে ৫ হাজার করে বেতন দেবে আমাকে। পরে আমার গ্রুপের ৪০ জনের কাছ থেকে ৫শ করে টাকা তুলে দিতে বলে প্রথম ধাপে মুরগি এবং ঘরের জন্য। কিন্তু বুজতে পারিনি যে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাবে এই প্রতারকরা।

হুইসেন পাড়ার বাসীন্দা জাকির হোসেন বলেন, একই ভাবে মাহাফুজাকে সভানেত্রী করে তার এলাকা থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা। একই চিত্র তাহেরপুর, কচ্ছপখালী এলাকার। অপরদিকে জেলে নাসীরের অভিযোগ, চাকামইয়া তার শশুরবাড়ি এলাকা থেকেও বিপুল অর্থ হাতিয়েছে চক্রটি।

এদিকে কলাপাড়া পৌর শহরে অবস্থিত প্রাণিসম্পদ কার্য়ালয়ের সামনে অস্তিত্বহীন নাম সর্বস্ব এই হ্যাচারীর অস্থায়ী ভাড়া অফিসে গিয়েও মেলেনি প্রতারক চক্রের সন্ধ্যান। সেখানে এখন পল্লীগ্রাম স্টিকার সংযুক্ত সাইনবোর্ড সাটানো অফিসে ঝুলছে তালা।

স্থানীয়রা বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের ভাড়াবাসাটি তালাবদ্ধ রয়েছে। অনেক ভুক্তভোগীরাই এখানে এসে তাদের খোঁজ করছেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, এই প্রতারক চক্রটির বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তবে প্রতারক চক্রটি ঠিক কত টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তা জানা সম্ভব হয়নি। প্রতারকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।


আরও খবর



খোলাবাজারে ডলার ১২৫ টাকা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ডলারের দাম ১১০ থেকে ১১৭ টাকা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ক্রলিং পেগ নামের নতুন পদ্ধতিতে ডলার কেনাবেচা হবে। এই পদ্ধতিতে ডলারের রেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ টাকা। এর সঙ্গে এক টাকা যোগ বা বিয়োগ করতে পারবে ব্যাংকগুলো। সেক্ষেত্রে ডলারের দাম আরও বেড়ে হতে পারে ১১৮ টাকা।

অন্যদিকে ডলারের দাম ব্যাংকে ৭ টাকা বাড়লেও মানি এক্সচেঞ্জলোতে বেড়েছে ৯ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা। ডলারের সঙ্গে অন্য মুদ্রায়ও এর প্রভাব পড়েছে কার্ব মার্কেটে (খোলাবাজার)। বৃহস্পতিবার (৯ মে) রাজধানীর ফকিরাপুল, পল্টন, মতিঝিল এলাকার মানি এক্সচেঞ্জগুলো ঘুরে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

খোলাবাজারের পাশাপাশি ব্যাংকের এলসি খোলার দামও বেড়েছে। বুধবার (৮ মে) ১১৫ টাকায় এলসি খুলেছিল যেসব ব্যাংক তারাও আজ বৃহস্পতিবার ১১৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১১৮ টাকা দর নিচ্ছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

উল্লিখিত এলাকাগুলোতে বুধবার প্রতি ডলার কেনার রেট ছিল ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা, বিক্রি হয়েছে ১১৬ টাকায়। বৃহস্পতিবার বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা। আর কেনার ক্ষেত্রে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো যে যার মতো করে দর ঠিক করে দিচ্ছে।

এদিন পল্টন এলাকায় মিলন নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়। একটি মানি এক্সচেঞ্জের নির্বাহী হিসেবে আছেন তিনি। ক্রেতা সেজে মিলনের কাছে ডলার কিনতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত হয়েছে বিকেলে। এখনো সিদ্ধান্তই নিতে পারিনি কত দামে বিক্রি করবো। বিকেলের দিকে ভিসা-পাসপোর্ট নিয়ে আসেন দেখি কী করা যায়।

পরে চলে আসার সময় পেছন থেকে ডাক দেন তিনি। বলেন, মামা যদি কিনতে চান এক দাম লাগবে ১২৫ টাকা। যদি নিতে চান তাহলে ওই চায়ের দোকানে আসেন।

সাইদুল নামে অন্য একজন বলেন, মামা এখন গোয়েন্দা-এনএসআই-ডিজিএফআই আছে। আপনি সত্যিকারের ক্রেতা নাকি গোয়েন্দা বুঝি কেমনে। এখনো বিক্রি শুরু করিনি, অল্প পরিমাণ আছে, সন্ধ্যায় কল দিয়ে আসবেন। দোকানের বাইরে গিয়ে দিয়ে আসবো।

তবে দাম কত নেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে আসেন, তারপর বাধবে না (দাম নিয়ে)। তবে ১২৫ টাকার নিচে দেওয়া যাবে না।

এদিকে ডলারের সঙ্গে অন্য মুদ্রা বিনিময় দামও বেশি চাওয়া হচ্ছে। বেশিরভাগ মানি একচেঞ্জের কর্মকর্তারা বলেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অন্য মুদ্রার দামও বেড়েছে। বুধবার পর্যন্ত ভারতীয় মুদ্রা এক টাকা ৪০ পয়সা ছিল, আজ (বৃহস্পতিবার) এক টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। অন্য দেশের মুদ্রার দামও বাড়িয়েছেন তারা।


আরও খবর



সাবেক ভূমিমন্ত্রীর দুর্নীতির অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন

প্রকাশিত:বুধবার ০১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অনুসন্ধান চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছেন এক আইনজীবী।

বুধবার (১ মে) এমন একটি চিঠি গণমাধ্যম এর হাতে আসে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, যাচাই বাছাইয়ের পর দুদক সিদ্ধান্ত নেবে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান এই আবেদনটি করেন। চিঠিতে তিনি বলেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সমকাল পত্রিকায় সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সাম্রাজ্য যুক্তরাজ্যে শিরোনামে এবং মানবজমিন পত্রিকায় ব্রিটেনে বাংলাদেশি রাজনীতিবিদের ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের সাম্রাজ্য" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ব্লুমবার্গের অনুসন্ধান প্রতিবেদন থেকে এ দুটি সংবাদ প্রকাশিত হবার পরেও কর্তৃপক্ষ যথাযথ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এর ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশনের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ করে।

এ কারণে চিঠির মাধ্যমে এ বিষয়ে যথাযথ অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দুদককে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন এই আইনজীবী।


আরও খবর