আজঃ বুধবার ১৯ জুন ২০২৪
শিরোনাম

নাজিরপুর আ.লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে আ.লীগ-কৃষকলীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত:বুধবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
মশিউর রহমান রাহাত, পিরোজপুর

Image

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোশারেফ হোসেন খান গণমাধ্যমে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিরুদ্ধে  মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের পক্ষে বক্তব্য প্রদানের  প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আজ বুধবার বেলা ১১টায় নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ, মৎস্যজীবীলীগের নেতাদের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এম খোকন কাজী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ০৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সন্ধ্যার কিছু আগে পিরোজপুর জেলা যুবদল, নাজিরপুর উপজেলা যুবদল ও বিএনপির সমন্বয়ে উশৃঙ্খল মিছিল শুরু করে। এসময় মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগ সম্পর্কে শিষ্টাচারহীন স্লোগান দিতে থাকে। জঘন্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেয়।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নাজিরপুরের নেতাকর্মীরা ওই পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ করে। বিএনপি-যুবদলের উল্লেখিত জঘন্য অশ্লিল স্লোগান এবং বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হতে বাধ্য হয়। প্রধানমন্ত্রীর নাম এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামকে বিকৃত করে অশ্লিল ভাষায় দেয়া স্লোগানের তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ জানায় ।

মিছিলকারী বিএনপি-যুবদল নেতা-কর্মীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপর আক্রমণ চালায়। এতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অনেক নেতা কর্মীকে আহত হন। এসময় জেলা যুবদলের নেতৃত্বদানকারী রিয়াজ শিকদার প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের খুঁজতে থাকে। তার ঔদ্বত্যপূর্ণ বক্তব্যের ভিডিও একটি দৈনিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। রিয়াজ শিকদার গণমাধ্যমে দেয়া স্বাক্ষাতকারে তার দাম্ভিকতার সঙ্গে সব স্বীকার করেন।

এ সংবাদের একাংশে দেখা যায় নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোশারেফ হোসেন খান স্বাক্ষাতকার দিয়ে বলেন যে, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির উপরে আক্রমনণ করেছে। তার এই বক্তব্য ছিল, যুবদলের পিরোজপুর জেলার যুগ্ম আহবায়ক রিয়াজ শিকদারের বক্তব্যের একইরূপ বক্তব্য। বিএনপি-যুবদল যে ভাষায় কথা বলেছেন, তিনিও (মোশারেফ) একই ভাষায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীদের অভিযুক্ত করেছেন। প্রকৃত পক্ষে ঘটনাস্থলে মোশারেফ হোসেন খান উপস্থিত ছিলেন না। অথচ তিনি দোষ চাপিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীদের উপর। যা, কার্যতঃ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি-জামাত এর বক্তব্যের অনুকরণ। জনাব মোশারেফ হোসেন খান বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীদের অভিযুক্ত করে বক্তব্য দানের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামাতকে সহায়তা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খোকন কাজী বলেন, আমাদের কর্মীরা যুবদলের কুরুচিপূর্ণ শ্লোগান এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। আমরা তাদের (যুবদল)  উপর হামলা করিনি। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবীর রিজভী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ যেভাবে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে দোষারপ করে মিথ্যাচার করে চলেছেন তেমনি নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির মোশারেফ হোসেনের বক্তব্য তারই প্রতিধ্বনি। দলের ভিতরে ঘাপটি মেরে থেকে বিএনপি-জামাতের বক্তব্যের সমর্থনের দ্বারা মোশারেফ হোসেন খান দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন ।

উল্লেখ্য যে, তিনি (মোশারেফ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারী তথা হাইব্রীড। সামরিক স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদের শাসনামলে তিনি উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ও পুলিশ কর্তৃক আওয়ামী লীগ- ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর নির্মম নির্যাতন চালায়। তিনি এক সময়ে বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা সৃষ্টি করে নিজের অবস্থান ও ব্যবসা ঠিক রাখেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে বর্তমান পদ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে তার পুরানো দল জাতীয় পার্টি ও ব্যক্তিগত অনুসারীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে একটি ভিন্ন বলয় সৃষ্টি করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে নাজিরপুরে বিএনপি-জামাত জোট একাধিকবার ভয়াবহ সন্ত্রাস সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করা সহ নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। এ জাতীয় ঘটনাতেও তার কোন ভূমিকা দেখা যায়নি। তিনি বিএনপি জামাত জোটের অপরাজনীতি, উশৃঙ্খলতা, সন্ত্রাস এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী কর্মকাণ্ডে নীরব ভুমিকা পালন করে চলেছেন। এতে প্রতিয়মান হয় যে, তিনি আওয়ামী লীগের পদে অধিষ্ঠিত থেকে কার্যত বিএনপি-জামাতের কর্মকাণ্ডকে প্রকারন্তরে সমর্থন করে চলেছেন। এসময় উপস্থিত নেতা কর্মিরা মোশারেফ হোসেনকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেয়া মিথ্যা স্বাক্ষাৎকার প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বলেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও  কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।  অন্যথায় তারা তার (মোশারেফ) বিরুদ্ধে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।

নিউজ ট্যাগ: নাজিরপুর

আরও খবর



নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করবে সরকার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

নেপাল থেকে ৫ বছরের জন্য ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি করবে সরকার। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। আমদানির এ বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের খরচ পড়বে ৮ টাকা ১৭ পয়সা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মাহমুদুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের জানান, নেপাল থেকে ৫ বছরের জন্য ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি করবে সরকার, যার প্রতি ইউনিটের খরচ ৮ টাকা ১৭ পয়সা। নেপালকে দিতে হবে প্রতি ইউনিট ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন ডলার।

ভারত হয়ে এ বিদ্যুৎ আসায় দেশটিকে ট্রেডিং মার্জিন দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতকে ইউনিটপ্রতি .০৫৯ রুপি দিতে হবে। ভারতকে ট্রান্সমিশন খরচও দিতে হবে তবে খরচ নির্ধারিত হয়নি।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এই বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ৫ বছরের জন্য ৬৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে।


আরও খবর



ঈশ্বরদীতে প্রকাশ্যে চলছে রমরমা মাদক ও জুয়ার আসর

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

Image

পাবনার ঈশ্বরদী থানার পৌর ৪নং ওয়ার্ডে তিন তলা কলা বাগানে প্রকাশ্যে চলছে লাখ লাখ টাকা জুয়া খেলা। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু জুয়াড়ী এসে কর্তাদের ম্যানেজ করেই এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

৫নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর ওয়াকিল আলম বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে জুয়া খেলা চলছে প্রকাশ্যে। তরুণ সমাজ ও ব্যবসায়ীসহ বহু পরিবার জুয়া খেলে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকায় চুর, ছিনতাইয়ের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের প্রতি আমার আকুল আবেদন এই জুয়া ও মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

সরেজমিন দেখা যায়, ঈশ্বরদী থানার ৪নং ওয়ার্ডের তিনতলা কলা বাগান এলাকায় মাঠে তাবু টাঙ্গিয়ে প্রকাশ্যে চলছে জুয়ার আসর। এলাকার চিহ্নিত জুয়াড়ী চক্রের চঞ্চলের নেতৃত্ব তিনতলা কলা বাগান মাঠে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছে তাশ ও জুয়ার আসর। ওই জুয়ার আসরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কুখ্যাত জুয়াড়ীরা এসে সমাবেত হচ্ছে। দুর-দুরান্ত থেকে আসা জুয়াড়ীরা এখানে লাখ লাখ টাকার হাত বদল করছে এবং প্রতিদিন এ চক্রের ফাঁদে পড়ে অনেকেই টাকা খুইয়ে হচ্ছেন নিঃস্ব। অসাধু কর্তাদের নিরবতায় থাকা একটি সংঘবদ্ধ চক্র মিলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চালাচ্ছে নিষিদ্ধ জুয়ার আসর। এ জুয়াকে কেন্দ্র করে স্পটে নেশা গ্রহণ সমান তালে চলায় জুয়া ও মাদকের মোহে পড়ে অনেকে পথে বসছেন। চলমান জুয়া ও মাদকের আসর নিয়ে এ অঞ্চলের অভিভাবক ও তাদের পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রতিদিন হাজার টাকা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়া খেলায় মেতে উঠেছে জুয়াড়ীরা। অনেকে জুয়া খেলে শুন্য হাতে ফিরে যাচ্ছে বাড়িতে। জুয়ার ও নেশার টাকা জোগাড় করতে এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেরা চুরি, ডাকাতি পকেটমারাসহ নানারকম অপকর্মের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার আম বাগান পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে রক্তক্ষয় সংঘর্ষ বেজে যায় দুই জুয়ারী মাঝখানে পরবর্তীতে পুলিশ এসে ঘটনাস্থলে দুই পক্ষকেই শান্ত করেন।

জাবেদের স্ত্রী জানান, জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে বিকালে তিন তালা মাঠে কথা কাটাকাটি হয় দুইজনের। পরে ওখানে দুজনই বিদেশী মদ পান করে এলাকাতে এসে। ওই কথার রেস ধরে এই মারামারির সৃষ্টি হন। পুলিশ যদি সময় মত না আসতো তাহলে দুজনার ভিতর একজন নির্ঘাত মারা যেত।

এই ব্যাপারে জানতে বিষয়টি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড  কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এটার একটি প্রতিকার চাই যেহেতু আমি এত বড় পরিসরের নেতাও না শুধুমাত্র একটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর যারা আমাদের উপরে আছেন তাদের সহযোগিতা পেলে এই বিষয়ে অনেক দিন ধরে আলোচনা করছি নিজেদের মধ্যে একজন মাদক ও জুয়া ব্যবসায়ী সে হয়তো লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক হচ্ছেন। এতে শত শত পরিবারের ছেলেরা ঝরে পড়ে যাচ্ছেন। এই বিষয়ে যদি প্রশাসন যদি এগিয়ে আসতো তাহলে মনে হয় একটা প্রতিকার করা সম্ভব হবে। আর এই যে জুয়ার আসরটাতে লোকালে নেতাদের ছত্রছায়ায় কেউ বড় ভাই সেজে এই জুয়ার পরিচালনা করছে। তাদের কাছে এই বিষয়ে প্রতিকার করতে গেলে তারা বলেন আমরা অমুক ভাইয়ের লোক এর জন্য এই বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে পেরে উঠছি না। আর কি বলবো তখন দায় ছাড়া ভাব দেখায় চলে আসে। এ ছাড়াও আর কোন উপায় থাকে না।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী পৌর মেয়র ইছাহক আলী মালিথা জানান, আমি নিজে জুয়া বন্ধে চেষ্টা করেছি। থানা পুলিশকে জানিয়েছি। বিষয়টি পুলিশ নলেজে আছে। এখানে ঈশ্বরদী থানা এলাকাসহ লালপুর ও পাবনা জেলার তরুণ সমাজ ও ব্যবসায়ীসহ বহু পরিবার জুয়া খেলে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকায় চুরি, ছিনতাইয়ের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, জুয়া খেলার বিষয়টা আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর



এমপি আনারের আসন শূন্য ঘোষণা নিয়ে জটিলতা

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

চিকিৎসার জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে খুন হয়েছেন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। ২২ মে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তবে এখন পর্যন্ত এমপি আনারের লাশ পাওয়া যায়নি। মরদেহ পাওয়া না গেলে সংসদে তার আসন শূন্য ঘোষণা নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনেরও ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব পরিচালনার জন্যও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

১২ মে চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত সফরে ভারতে যান ঝিনাইদহ-৪ আসনের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। ১৭ মে থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন তাঁর নিখোঁজের বিষয়ে উত্তর কলকাতার বরানগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সেখানকার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস। এরপর সংসদ সদস্যের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন ঢাকায় গোয়েন্দা সংস্থা ডিবির কাছে বাবার নিখোঁজের অভিযোগ দেন।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ১৩ মে রাতে খুন করা হয় আনোয়ারুলকে। কলকাতা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যে ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও মৃতদেহ পাওয়া যায়নি।

দেশের আর কোনো সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। এ ক্ষেত্রে মরদেহ পাওয়া না গেলেও কীভাবে তার সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কে এম আবদুস সালাম গণমাধ্যমকে বলেন, একটা বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে মৃত্যুর তথ্যটা পেতে হবে। অনেক সময় মারা গেলে তাঁর দাফন হয়, জানাজা হয়; কিন্তু এ ক্ষেত্রে তো সেটা এখনো হয়নি।

বিষয়টি আজ রোববার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সংসদ সদস্য মারা গেলে কিংবা অনুমতি ছাড়া ৯০ কার্যদিবস সংসদের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলে পদ শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে জানায় সংসদ। নির্বাচন কমিশন ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের আয়োজন করে। সাধারণত কোনো সংসদ সদস্যের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যেই আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। সংসদ সদস্য মারা গেলে স্পিকার শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেন। সংসদের অধিবেশন চলাকালে কেউ মারা গেলে ওই দিনের জন্য অধিবেশন মুলতবি করার রেওয়াজ আছে।

তবে কোনো সংসদ সদস্য মারা গেলে বা খুন হওয়ার পর মরদেহ না পেলে কীভাবে সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হবে, তা সংবিধান বা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, উনি যে খুন হয়েছেন, সেটা সংসদ সচিবালয়ের ব্যাপার না। তার নিহত হওয়ার ব্যাপারটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে লিখিতভাবে সংসদ সচিবালয়কে নিশ্চিত করতে হবে। তারপর সংসদ সচিবালয় আসন শূন্য ঘোষণা করবে।


আরও খবর



রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর হাব তৈরি হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জেলা প্রতিনিধি

Image

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর হাব তৈরি হতে পারে। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিয়ে আগে থেকে করা আশঙ্কার কিছু কিছু আলামত দেখা যাচ্ছে।

শুক্রবার (৩১ মে) দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যারা যুদ্ধ করছে তাদের কয়েকজনের আনাগোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হচ্ছে আমাদের দেশ কোনো মাদক উৎপাদন করে না। কিন্তু মিয়ানমার থেকে মাদক আসছে অনেক আগে থেকে। এখন ক্যাম্পের কিছু সংখ্যক লোক মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। আমরা তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে অস্ত্র ও খুনে জড়িতদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নেওয়াই আমাদের মূল কাজ।

তিনি বলেন, আজ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে নিরাপত্তায় নিয়োজিত এপিবিএনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তাদের চ্যালেঞ্জগুলো জেনেছি। জেনেছি তাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো। তাদের বলেছি বাংলাদেশ একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনের মধ্য দিয়ে। এপিবিএন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা দিয়ে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ায় সহযোগিতা করছে। এপিবিএন তাদের দায়িত্ব পালন করছে বলেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রিত।

মিয়ানমারের কথা ও কাজে মিল নেই উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো নিয়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমার একটি অস্থিতিশীল দেশ। ওখানে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা। বিভিন্ন সময় মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা ফেরত নিয়ে নানা চুক্তি বা সমঝোতায় স্বাক্ষর হলেও তা মিয়ানমারের কারণে অগ্রগতি হয়নি। আশা করি মিয়ানমার দ্রুত সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে।

এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান, এপিবিএন প্রধান সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরে আলম মিনা, ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক মো. আমির জাফর, ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মো. ইকবাল, ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক হাসান বারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



নারীর পেটে লাথি দিয়ে সন্তান নষ্ট, নিজেকে রক্ষায় মিথ্যা মামলায় হয়রানী

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রেদওয়ানুল হক মিলন, ঠাকুরগাঁও

Image

ঠাকুরগাঁওয়ে রিপা আক্তার (৩০) নামে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি দিয়ে তিন মাসের সন্তান নষ্টের অভিযোগ উঠেছে মো: মাহাবুব (৫৫) গংয়ের বিরুদ্ধে। শুধু নির্যাতনেই নয়, নিজেদের বাঁচাতে উল্টো মিথ্যা মামালা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের।

নির্যাতনের শিকার অন্তঃসত্ত্বা নারী ঠাকুরগাঁও সদর পৌর এলাকার ইসলামনগরের বাসিন্দা বিপ্লব খানের স্ত্রী। আর অভিযুক্ত মো: মাহাবুব গং একই এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় রিপা আক্তারের পিতা মো: আব্দুর রহিম সোমবার (৬ মে) ঠাকুরগাঁও সদর থানায় ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে জানা গেছে, মাহাবুব ও তাঁর লোকজন বহুদিন আগ থেকেই আব্দুর রহিমের (৬০) বসতবাড়ির জমি জবর-দখল করার চেষ্টা করে আসছেন। বৃহস্পতিবার (২ মে) সকালে আব্দুর রহিম তার জমিতে পাকা ঘর নির্মাণের কাজ করছিলেন। দুপুরে তাঁর অনুপস্থিতিতে মাহাবুব গংয়ের লোকজন নির্মিত ঘর ও বাহিরের টাটি বেড়া ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয় আব্দুর রহিমের। এ সময় অন্তঃসত্ত্বা নারী রিপা আক্তার, রিক্তা আক্তার ও বিলকিস আক্তার তাদের ভাংচুরের প্রতিবাদ জানালে মাহাবুবের হুকুমে ১৩ জনের একটি দল সংঘবন্ধ হয়ে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রে তাদের উপড় ঝাপিয়ে পড়ে। শুরু করেন এলোপাতাড়ি মারধর। এক পর্যায়ে মাসুদ (২২) ও আব্দুস সালাম (২৩) অন্তঃসত্ত্বা নারী  রিপা আক্তারের তলপেটে জোরে লাথি মারে। ফলে তার গর্ভপাত ঘটে। আর খয়রুল (৩০) অন্তঃসত্ত্বা নারীর গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করলে রিক্তা ও বিলকিস রিপাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসলে সুজন (২৫), শাহাবুদ্দীন (২৩), রত্না বেগম (৪৫), নাজমুল (৫০), হাসু (৩৫), সালমা (৪০), রেজিনা (৫০), সুফিয়া (৫০) ও সাহেরা বেগম (৪০) তাদের দুইজনকেই মারধর করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করেন। এসময় রত্না বেগম রিপা আক্তারের গলা থেকে স্বর্ণ অলংকার ছিনিয়ে নেয় এবং পড়নের কাপড় টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন। মাহাবুব গংয়ের মারধরের ফলে তাদেরকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিপ্লব খান ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ভর্তির পরামর্শ দেন।

ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম জানান, নিজের জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে হঠাৎ তারা একজোট হয়ে হামলা চালায়। যার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি রয়েছে অথচ তারা কৌশলে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে শরীর কেটে মিথ্যা একটি মামলা করে আমাদের হয়রানী করছে। বিষয়টি তাদের তদন্ত কর্মকতা এএস আই হিরনময় চন্দ্র অবগত রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, মাহবুব তার মামলায় যে ঘটনাস্থল উল্লেখ করেছে সেখানে আসামি আকাশ, বিপ্লব ও মকছেদুল উপস্থিত না থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে।

আর বাকি আসামীরা বাসায় উপস্থিত থাকলেও মারপিটের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। উল্টো মাহবুব গংরাই মারপিট করে। তাই ভালভাবে তদন্ত হলে তা বেড়িয়ে আসবে। পরে উপায় না পেয়ে আমি বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করি।

আর অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত মো: মাহাবুব এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবি.এম ফিরোজ ওয়াহিদ বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলাও হয়েছে। তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


আরও খবর