আজঃ বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জে ডাকাত-পুলিশ গোলাগুলি, আহত ৫

প্রকাশিত:বুধবার ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৬৫০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ডাকাত ও পুলিশের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)  গুলিবিদ্ধসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। 

গুলিবিদ্ধ সোহরাব হোসেন (৩৫) গোপালদী তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই। অন্য আহতরা হলেন দোকানের কর্মচারী রাজু (২০), কুদ্দুস ( ১৫), সুধাচন্দ্র দাস (২৫) ও বলাই চন্দ্র (৫০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ২টায় বাজারের প্রায় সব দোকান বন্ধ ছিল। এর মধ্যে তিনটি স্বর্ণের  দোকানে কর্মচারীরা ভেতরে বসে কাজ করছিলেন। এ সময় স্পিডবোর্ট ও ট্রলার দিয়ে ২০-২৫ জনের মুখোশ পরিহিত একটি ডাকাত দল ওই তিন দোকানে হানা দেয়।

খবর পেয়ে বাজারের ডিউটিরত পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ডাকাত দল তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি শুরু করে। পুলিশ ও পাল্টা গুলি  করে। এ সময় ডাকাত ও পুলিশের মধ্যে ৮-১০ মিনিট গুলিবিনিময় চলে।

খবর পেয়ে থানার ওসি আনিসুর রহমান মোল্লার নেতৃত্বে আশপাশের সব পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এতে ডাকাত দল বাজারের বিপ্লব, বলাই ও আমিরের দোকান থেকে ১৪ ভরি স্বর্ণ ও লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

গোপালদী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জাকির হোসেন মোল্লা জানান, সময়মতো পুলিশ না এলে আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারত।

আড়াইহাজার থানার ওসি আনিসুর রহমান মোল্লা বলেন, খবর পেয়ে আমরা বাজারের চারদিকে ঘিরে ফেলাতে বড় ধরনের কোনো বিপদ হয়নি। এ সময় ডাকাতের সঙ্গে গুলিবিনিময় করার সময় ১৭ রাউন্ড গুলি করতে হয়েছে।


আরও খবর



কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরী আর নেই

প্রকাশিত:শনিবার ২৮ আগস্ট ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৮ আগস্ট ২০২১ | ৫৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
অতি সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত বুলবুল চৌধুরী ১৯৪৮ সালের ১৬ আগস্ট গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পড়ালেখা করেছেন তখনকার জগন্নাথ কলেজে

ক্যানসারে আক্রান্ত কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরী আর নেই। শনিবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর পুরান ঢাকায় নিজ বাসায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুলবুল চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন চিত্রগ্রাহক কামরুল মিথুন।

গত ছয় মাস আগে বুলবুল চৌধুরীর ক্যানসার ধরে পড়ে। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সারওয়ার আলমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। কিন্তু ক্যানসার তার শ্বাসযন্ত্রে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তিনি কিছু খেতে পারছিলেন না। কেমো নেওয়ার মতো তার শারীরিক অবস্থাও ছিল না। চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় চলছিল তার চিকিৎসা। সবশেষ ক্যানসারের কাছে পরাজিত হলেন তিনি।

অতি সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত বুলবুল চৌধুরী ১৯৪৮ সালের ১৬ আগস্ট গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পড়ালেখা করেছেন তখনকার জগন্নাথ কলেজে।

জগন্নাথ কলেজে গল্প লেখা প্রতিযোগিতায় জোনাকি ও সন্নিকট কেন্দ্র গল্পের জন্য দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। তার প্রথম লেখা বের হয় ১৯৬৭ সালে। তার প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ টুকা কাহিনী। আত্মপ্রকাশের শুরুতেই এ গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি সাহিত্য জগতে সাড়া ফেলতে সক্ষম হন।

লেখালেখির বাইরে পেশাগত জীবনে বুলবুল চৌধুরী সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বহুদিন। কাজ করেছেন দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন দৈনিকে। তার প্রকাশিত ছোট গল্পগ্রন্থগুলো হলো- টুকা কাহিনী, পরমানুষ, মাছের রাতচৈতার বউ গো। তার উপন্যাসের তালিকায় রয়েছে- অপরূপ বিল ঝিল নদী, কহকামিনী, তিয়াসের লেখন, অচিনে আঁচড়ি, মরম বাখানি, এই ঘরে লক্ষ্মী থাকে, ইতু বৌদির ঘর এবং দখিনা বাও

তার আত্মজৈবনিক দুটি গ্রন্থের নাম জীবনের আঁকিবুঁকিঅতলের কথকতাগাঁওগেরামের গল্পগাথা, নেজাম ডাকাতের পালা, ভালো ভূত আর প্রাচীন গীতিকার গল্প নামক কিশোর গ্রন্থের রচয়িতাও তিনি।

সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১ সালে বুলবুল চৌধুরী একুশে পদক লাভ করেন। বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান ২০১১ সালে। এছাড়া তিনি হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, জসীমউদদীন স্মৃতি পুরস্কার এবং ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।


আরও খবর



হাইকোর্টে জামিন পেলেন মডেল মৌ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় মডেল মরিয়ম আক্তার মৌকে এক বছরের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান তার জামিন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিউজ ট্যাগ: মডেল মৌ

আরও খবর
আমার পছন্দের পুরুষকে একটু রাফ হতে হবে

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১




‘নগদ’ প্রধানমন্ত্রী স্বীকৃত আর্থিক সেবা: ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব

প্রকাশিত:রবিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৫৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

‘নগদ’-এর সঙ্গে ডাক বিভাগের চুক্তির অংশীদারিত্বের বিষয়ে একটি কুচক্রী মহলের চলমান বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণাকে উড়িয়ে দিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসেন বলেছেন, নগদ’ প্রধানমন্ত্রী স্বীকৃত একটি আর্থিক সেবা।

রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক ভিডিও বার্তায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. আফজাল হোসেন বলেন, এই মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অংশীদারিত্ব রয়েছে, এটা সর্বজন স্বীকৃত।’

সচিব মো. আফজাল হোসেন বলেন, এটি সকলেই জানে যে প্রধানমন্ত্রী নগদ’-এর এই সেবাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং তিনি নিজে ১০ হাজার টাকা দিয়ে এটির লেনদেন শুরু করেন। কাজেই এই ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতি রয়েছে।’

সচিবের আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিনও পৃথক পৃথক বার্তায় নগদ’-এর মালিকানা নিয়ে অপপ্রচারকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, নগদ’ ডাক বিভাগের সেবা, এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।

এরই ধারাবাহিকতায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. আফজাল হোসেন বলেন, ডাক বিভাগ ও থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করেছিল নগদ’ সেবার মাধ্যমে। সময়ের পরিক্রমায় নানা রকম চড়াই-উৎড়াই পার করে ২০২১ সালে নগদ’ ভালো একটি পর্যায়ে চলে এসেছে।”

সচিব আরও জানান, নগদ’ এর সঙ্গে যেসব অসুবিধা রয়েছে, সেগুলো অতিক্রম করে আগামী দিনে এটি একটি পরিপূর্ণ তথ্যসমৃদ্ধ টেকনোলজিক্যাল সার্ভিস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। খুব শিগগির নগদ’ প্রথম স্থানে থেকে দেশ ও জনগণের সেবা দিতে পারবে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে নগদ’ এর সেবার উদ্বোধন করেন। গত আড়াই বছরে নগদ’ সাড়ে পাঁচ কোটি গ্রাহক পাওয়ার পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেন ৭০০ কোটি টাকা পেরিয়ে গেছে।


আরও খবর
কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে হবে

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১




মৎস্যসম্পদের বহুমুখী ব্যবহারের ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৩১৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করার জন্য মৎস্যসম্পদের বহুমুখী ব্যবহারের ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি। শুক্রবার (০৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২১ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা জানান।


এ বিষয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, মৎস্যসম্পদের বহুমুখী ব্যবহারের ক্ষেত্র সৃষ্টির জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। শুধু ভাতের সাথে মাছ খাওয়া নয়, মাছ থেকে কী কী পণ্য তৈরি করা যায় সেটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাতীয় জলজ সম্পদ থেকে বিভিন্ন বেকারি পণ্য তৈরি হচ্ছে। মাছ থেকে চিপস, ফিস বল বা অন্যান্য খাবার তৈরি করা যেতে পারে। মাছের বহুবিধ ব্যবহারে মানুষকে আকৃষ্ট করতে হবে। অনেকে স্বাভাবিকভাবে মাছ খায়না কিন্তু রেস্তোরায় মাছ দিয়ে তৈরি খাবার খেতে চায়। পুষ্টি চাহিদা পূরণে এক প্রক্রিয়ায় মাছ না খেলে মানুষকে অন্য প্রক্রিয়ায় খাওয়াতে হবে। আমরা চাই মাছের বহুমুখী পণ্যের বিকাশ হোক।


দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা মৎস্য খাদ্য উপকরণ দেশে তৈরির শিল্প স্থাপনে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার জন্য এ সময় আহ্বান জানান মন্ত্রী। কর অব্যাহতি সুযোগসহ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা লাগবে তা দেওয়া হবে বলেও এসময় আশ্বস্ত করেন তিনি। আমাদের মৎস্যসম্পদ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কোন অংশে কম নয় উল্লেখ করে দেশের সমুদ্র অঞ্চল, বদ্ধ জলাশয় ও উন্মুক্ত জলাশয়সহ মৎস্য চাষ উপযোগী সব ক্ষেত্রের সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য সৃজনশীল কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।


এ সময় মন্ত্রী বলেন, মৎস্য খাতের যে কোন সমস্যা সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে যা কিছু করণীয় সেটা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান তাঁর সরকার আমলে মৎস্য খাত বিকশিত হোক। সেজন্য তিনি এ খাতে সকল সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। মৎস্যজীবী নয় এমন মানুষের কার্ড বাতিল করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের কার্ড দেয়া এবং তাদের কাছে যথাযথভাবে সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে পূর্বের চেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করে আমরা কাজ করছি।


এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, বিদেশে মৎস্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থে রপ্তানির সাথে সংশ্লিষ্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। যাতে কোন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জাল সনদ অথবা রাসায়নিক মিশ্রিত মৎস্য রপ্তানি না করে। মৎস্য খাতে কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে ভালো কাজ করা ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের বিরুদ্ধে তথ্য দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ খাতে ভালো কাজ করা ব্যক্তিদের আমরা সহযোগিতা করতে চাই।


এ সময় তিনি বলেন, মৎস্য খাত সংশ্লিষ্টদের উদ্বুদ্ধ করা, উচ্ছ্বসিত করা ও কাজে সম্পৃক্ত করা, এ খাতের প্রতি জনগণকে আগ্রহী করে তোলা এবং এ খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের মাধ্যমে খাতটিকে গতিশীল করার জন্য প্রতি বছর মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন করা হয়। পাশাপাশি এ খাতে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করাও মৎস্য সপ্তাহের অন্যতম লক্ষ্য। করোনায় সৃষ্ট বেকারত্ব দূর করতে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ একটা ক্ষেত্র হতে পারে। এ কারণে এ বছর মৎস্য সপ্তাহে বিষয়টিকে প্রতিপাদ্য হিসেবে রাখা হয়েছে।


মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২১ উদযাপনের সাথে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের বাস্তবায়িত কার্যক্রম তুলে ধরেন মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অভ্যন্তরীণ মৎস্য) আজিজুল হক। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের উপপরিচালক মোঃ আনিছুর রহমান তালুকদার, যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আনিছুর রহমান, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ এর সদস্য সচিব মোঃ আহসানুজ্জমান, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমানউল্লাহ, বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি সাইদুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ২০৪১ সালের মধ্যে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ করার প্রত্যয়ের কথা জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। 


মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার ও মোঃ তৌফিকুল আরিফসহ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের মৎস্য কর্মকর্তাগণ ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিলেন।



আরও খবর
কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে হবে

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১




‘মৎস্য খাত বাংলাদেশে স্বর্ণালী অধ্যায় সৃষ্টি করছে’

প্রকাশিত:শনিবার ২৮ আগস্ট ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৮ আগস্ট ২০২১ | ২৮৬৫জন দেখেছেন
তাছনিম আদনান

Image
মৎস্য খাদ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান আছে কীনা তা পরীক্ষার জন্য আমরা আন্তর্জাতিকমানের পরীক্ষাগার করেছি। মাছ রপ্তানির জন্য পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে, যাতে বিদেশে পাঠানো মাছের চালান দেশে ফেরত না আসে। দেশের অভ্যন্তরের বাজারেও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। মৎস্য সম্পদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সব জায়গায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে

মৎস্য খাত বাংলাদেশে একটি স্বর্ণালী অধ্যায় সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।

শনিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ, ২০২১ উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী একথা জানান।

এসময় মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা হচ্ছে ভাতে-মাছে বাঙালির চিরন্তন বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশের মৎস্য খাতকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বিকশিত করছেন এ ধারাকে অব্যাহত রেখে মৎস্য সম্পদে বিশ্বে আমরা অনন্য-আসাধারণ জায়গায় পৌঁছে যাবো। এ লক্ষ্য নিয়ে মৎস্য খাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে এবারের মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন হতে যাচ্ছে। ভাতে-মাছে বাঙালির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জায়গাতে আমরা শুধু পরিপূর্ণতাই আনবো না, বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা অনুযায়ী মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, “‘বেশি বেশি মাছ চাষ করি, বেকারত্ব দূর করি এ প্রতিপাদ্যে ২৮ আগস্ট থেকে ০৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন করা হবে। আগামীকাল জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং সংসদ লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ৩১ আগস্ট বঙ্গভবন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন।

এ সময় তিনি বলেন, করোনার কারণে বিদেশ থেকে আমাদের অনেক প্রবাসীরা বেকার হয়ে দেশে ফিরছেন। স্বল্প আয়ের চাকরি বা ব্যবসা যারা করতেন তারা বেকার হয়ে পড়েছেন। করোনায় সৃষ্ট বেকারদের পূনর্বাসনের ক্ষেত্রে আমাদের মৎস্য খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাছ চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব লাঘব হচ্ছে, আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ছে এবং উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে। আবার মাছ রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আমরা দেশে আনতে সক্ষম হচ্ছি। পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে আমাদের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, মৎস্য খাতে একটা আমূল পরিবর্তন এসেছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে সরকার প্রধানের সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতা। সরকারের গৃহিত পদক্ষেপে ইলিশের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে, স্বাদ-গন্ধ ফিরে এসেছে, পরিমাণ বেড়েছে। জাটক নিধন বন্ধ করার সুফল আমাদের সামনে দৃশ্যমান। দেশের মানুষের কাছে যে মাছগুলো দুর্লভ ছিল, সেগুলো ফিরে এসেছে। বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আমরা ফিরিয়ে এনেছি এবং সেটা আমরা সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছি। মৎস্যজাত পণ্য তৈরির খাতকেও সরকার উৎসাহিত করছে। দেশের বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় অঞ্চল তথা হাওর অঞ্চল, পাবর্ত্য অঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চলে আমরা ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প নিচ্ছি। মাছকে নিরাপদ রাখার জন্য আমরা অভয়াশ্রম করছি। নদীতে যাতে মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং মাছ বেড়ে উঠতে পারে সে জন্য প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।”

আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য খাত অভাবনীয় ভূমিকা রাখছে। মৎস্য খাতে উপযুক্ত পদক্ষেপের কারণে আমাদের দেশীয় প্রজাতির মাছ, সামুদ্রিক মাছ ও অপ্রচলিত মৎস্য সম্পদের বিস্তার ঘটছে। বাজারে পর্যাপ্ত মাছ রয়েছে। ফলে মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হচ্ছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ছে, গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাতৃমৃত্যুর হার শিশু মৃত্যুর হার কমে গেছে।”-যোগ করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী আরো যোগ করেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মাছের মোট উৎপাদন হয়েছে ৪৫ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃতি। বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ ৩য়, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম, ইলিশ উৎপাদনে ১ম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে ৪র্থ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী চাষকৃত মৎস্য উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার ধীরগতিসম্পন্ন হলেও বিগত এক দশকে আমাদের মৎস্য উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির ধারা ৯.১ শতাংশ, যা বিশ্বের মূল উৎপদানকারী দেশসমূহের মধ্যে ২য় অবস্থান।

মন্ত্রী আরো বলেন, মৎস্য খাদ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান আছে কীনা তা পরীক্ষার জন্য আমরা আন্তর্জাতিকমানের পরীক্ষাগার করেছি। মাছ রপ্তানির জন্য পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে, যাতে বিদেশে পাঠানো মাছের চালান দেশে ফেরত না আসে। দেশের অভ্যন্তরের বাজারেও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। মৎস্য সম্পদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সব জায়গায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির পথে আমরা কেউ যেন ক্ষতিকর ভূমিকায় অবতীর্ণ না হই। বিষাক্ত কোন খাবার দিয়ে মাছ আমরা বাড়াবো না। অপরিকল্পিতভাবে মাছের চাষবাদ করবো না-এসময় আহ্বান জানান জানান মন্ত্রী।

মৎস্য খাতে যারা অবদান রাখছেন, ভালো ভূমিকা রাখছেন তাদের উৎসাহিত করতে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে এ বছর বিভিন্ন খাতে মৎস্য পদক প্রদান করা হচ্ছে বলেও এসময় জানান মন্ত্রী।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, সুবোল বোস মনি ও মোঃ তৌফিকুল আরিফ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বিএফআরআই-এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের উপপরিচালক শেফাউল করিম, নৌপুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোঃ আতিকুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর
পুঁজিবাজারে সূচকের মিশ্র প্রবণতা

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

পুঁজিবাজারে সূচকের মিশ্র প্রবণতা

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১