আজঃ শনিবার ০২ মার্চ 2০২4
শিরোনাম

নির্বাচনে অংশ না নেয়া ছিল বিএনপির সুইসাইডাল ডিসিশন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আসলে বিএনপির এখন কোনো রাজনীতি নেই। নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তারা যে প্রচণ্ড ভুল করেছে, এটি যে তাদের সুসাইডাল ডিসিশন ছিল, এজন্য তাদের নেতারা এখন কর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের কর্মীরা এখন প্রচণ্ডভাবে হতাশ, সেই হতাশা কাটানোর জন্য নানা ধরনের বক্তব্য দিয়ে তারা যে এখনো টিকে আছে সেটিই প্রমাণ করার চেষ্টা করছে এবং নানা ধরনের কর্মসূচির পরিকল্পনা তারা করছে।

তিনি বলেন, আসলে বিএনপির দুই তিনজন নেতা টেলিভিশনে কথা বলেন, সেখানেই শুধু তারা আছেন, অন্য কোথাও বিএনপির অবস্থান নাই। আর এ সমস্ত কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। কারাগারে মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু অনেকেরই হয়। কারাগারে থাকা আমাদের দলেরও অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে ইতিপূর্বে। এই সমস্ত কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোন সুযোগ নাই।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট-বন্দর সড়ক সংলগ্ন ডিসি পার্কে জেলা প্রশাসন আয়োজিত মাল্টি কালচারাল ফেস্টিভ্যাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পূর্বে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী কারাগারে থাকা বিএনপি নেতাদের মৃত্যুর ঘটনা পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মিয়ানমারের আভ্যন্তরীণ সংঘাতের যে প্রভাব বাংলাদেশে পড়ছে, সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে সেটি মোকাবেলা করতে পারছে না বলে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমরা রাখি না। যেটি ঘটছে সেটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ গণ্ডগোল। সেখানে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর সাথে আরাকান বাহিনীসহ অন্যান্যদের সংঘাত চলছে এবং সে সংঘাতের কারণে মাঝেমধ্যে দুই একটি গোলা আমাদের দেশে এসে পড়েছে এবং দুজন মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে, এটা সঠিক। সম্প্রতি মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে তাদের সীমান্ত বাহিনী ও সেনাবাহিনীসহ তাদের পরিবারের বেশ কিছু সদস্য আমাদের দেশে পালিয়ে এসেছে। তাদেরকে ফেরত নিয়ে যাবার জন্য মিয়ানমার ইতিমধ্যে সম্মতি প্রকাশ করেছে। আমরা তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমাদের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক হয়েছে। কোন্ প্রক্রিয়ায় তাদেরকে ফেরত নিয়ে যাবে সেটি চূড়ান্ত করার বিষয়, এখানে পররাষ্ট্র নীতির কোনো বিষয় নাই।

শুধু আমাদের দেশে মিয়ানমারের সীমান্ত বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে তা নয়, ভারতেও ডুকেছে কয়েকশত লোক। তাদেরকেও তারা ফেরত নিয়ে গেছে।

আরাকান আর্মি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে অবস্থান নেয়া নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হাছান বলেন, আপনারা জানেন, ইতিমধ্যে আমি ভারতসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছি। ন্যাম সামিটে  মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে দেখা হয়েছে, সেখানে আমি তাকে বলেছি যে অন্তত প্রত্যাবাসনটা শুরু করার জন্য। তার কথাবার্তায় আমার যেটি মনে হয়েছে, মিয়ানমার প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে একমত। কিন্তু তাদের এখনকার অভ্যন্তরীণ যে সংকটগুলো চলছে, সেই কারণে এই মুহূর্তে তারা পারছে না।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত যে সমস্ত মানুষ আমাদের দেশে আছে, তাদেরকে স্বসম্মানে নাগরিক অধিকার দিয়ে ফেরত পাঠানোই একমাত্র সমাধান। সেই সমাধানের লক্ষ্যেই কাজ করছি।

এরপর জেলা প্রশাসন আয়োজিত মাল্টি কালচারাল ফেস্টিভ্যাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য গত ১৫ বছরে বহু প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ভারতীয় উপমহাদেশে নদীর তলদেশ দিয়ে প্রথম টানেল হয়েছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে। এখানে বে-টার্মিনাল নির্মিত হতে যাচ্ছে। সেটি নির্মিত হলে এটি আরেকটি চট্টগ্রাম বন্দর হবে। এখন চট্টগ্রাম বন্দরের সব মিলিয়ে দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬ কিলোমিটার। আর বে-টার্মিনাল হবে ১০ কিলোমিটার। বে-টার্মিনালের ড্রাফট হবে ১২ মিটার। সেটির কার্যক্রম শিগগির শুরু হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। এরপর এখানে যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে সেটি অভাবনীয়।

তিনি বলেন, আমি গতকাল ভারত সফর করে এসেছি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও বাণিজ্য মন্ত্রীর সাথেও আমার এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের উত্তর-পূর্ব প্রদেশগুলো যাতে আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে তাদের মাল আনা-নেয়া করতে পারে, সেটির জন্য তারা উদগ্রীব হয়ে বসে আছে। একইভাবে আমরাও উদগ্রীব হয়ে বসে আছি। আশা করি সেটিও খুব দ্রুত শুরু হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ফৌজদার হাট থেকে চট্টগ্রাম বন্দর লিঙ্ক রোড ফোরলেন করা হবে। কারণ যানবাহন বেড়ে যাচ্ছে। এই রাস্তার সাথে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের সংযোগ ঘটানো হবে। যখন টানেলের পূর্ণ ব্যবহার হবে, তখন অনেক বেশি যানবাহন থাকবে। যখন বে-টার্মিলন নির্মিত হবে তখন আরো বাড়বে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মো: ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে মাল্টি কালচারাল ফেস্টিভ্যাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত লিও টিটল আউসান জুনিয়র, এফবিসিসিআইর সভাপতি মাহবুবুল আলম ও ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন। স্বাগত বক্তব্য দেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রফিকুল ইসলাম। 


আরও খবর



ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহত বেড়ে প্রায় ২৯ হাজার

প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব যেন থামছেই না। এখন পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২৯ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। ওয়াফা নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এবং রাফাহ প্রান্তে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালানোয় এক রাতেই ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

এর আগে জাতিসংঘ জানিয়েছে, রাফায় ইসরায়েলি স্থল আগ্রাসনের ভয়ে ফিলিস্তিনিরা দেইর আল-বালাহ শরণার্থী শিবিরসহ মধ্য গাজার বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

এদিকে গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের বেশ কয়েকজন কর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে।

অপরদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হামাসের যুদ্ধবিরতি এবং বন্দীদের মুক্তির দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছেন। গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর এখন পর্যন্ত ২৮ হাজার ৮৫৮ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৬৮ হাজার ৬৬৭ জন।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বলেছেন যে, জিম্মিদের মুক্ত করতে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা বিষয়টি তিনি গভীরভাবে অনুভব করছেন। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপর থেকেই ইসরায়েলকে সব ধরনের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে গাজার রাফা শহরের পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সেখানকার মানুষ প্রচণ্ড ক্ষুধার্থ। তারা খাবারের জন্য মরিয়া হয়ে ‍উঠেছে। জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা (ওসিএইচএ) তাদের সর্বশেষ দৈনিক আপডেটে জানিয়েছে, রাফা শহরের লোকজন খাবারের জন্য এমন করুণ পরিস্থিতিতে রয়েছে যে, তারা খাবারের জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছে না। তারা ত্রাণবাহী ট্রাক দেখলে সেগুলো থামাচ্ছে যেন সঙ্গে সঙ্গেই সেখান থেকে খাবার নিয়ে খেতে পারে।

ওসিএইচএ বলছে, দক্ষিণ গাজার ওই জনবহুল শহরে মানবিক সংকট নিয়ে আতঙ্কিত অবস্থার মধ্যেই খাদ্য সংকটের কারণে লোকজন মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং তাদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গাজায় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জনাকীর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং সেখানকার লোকজনের জরুরি ভিত্তিতে খাবার প্রয়োজন। তারা ক্ষুধার্ত এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ওসিএইচএ জানিয়েছে, গাজায় আরও ত্রাণবাহী ট্রাকে খাবার সরবরাহ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেখানকার লোকজনের পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে।

শুধুমাত্র রাফাহ এবং কেরেম শালোম (কারেম আবু সালেম) ক্রসিং দিয়ে ত্রাণ সহায়তা গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করতে পারছে। ফলে মধ্য এবং উত্তর গাজায় খাদ্য সরবরাহ করতে হলে প্রথমে রাফাহ দিয়েই প্রবেশ করতে হয়। এদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আশদোদ বন্দর দিয়ে গাজা উপত্যকার জন্য পাঠানো আটার একটি বড় চালান আটকে দিয়েছে।


আরও খবর



স্ত্রীসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যা : পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া

Image

পরকীয়ার জেরে নিজের স্ত্রী ও সন্তান এবং এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার অপরাধে পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (বরখাস্ত) সৌমেন রায়কে (৩৪) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুষ্টিয়ার একটি আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রুহুল আমীন এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী।

সৌমেন রায় মাগুরা সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের আসবা গ্রামের সুনীল রায়ের ছেলে। তিনি সর্বশেষ খুলনার ফুলতলা থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৩ জুন বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড় এলাকার নাজ ম্যানশন মার্কেটের বিকাশের দোকানের সামনে স্ত্রী আসমা খাতুন (২৫), আসমার ছেলে রবিন (৫) এবং আসমার পরকীয়া প্রেমিক শাকিলকে (২৮) সরকারি অস্ত্র দিয়ে গুলি করে হত্যা করেন এএসআই সৌমেন রায়। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে ঘটনাস্থল থেকে সার্ভিস রিভলভার, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ আটক করে।

পরে সেদিন বিকেলে তাকে বরখাস্ত করা হয়। একইদিন রাতে এএসআই সৌমেন রায়কে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহত আসমা খাতুনের মা হাসিনা বেগম। পরদিন ১৪ জুন বিকেলে কুষ্টিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এনামুল হকের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সৌমেন। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশিকান্ত সরকার আসামি সৌমেনের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

২০২২ সালের ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন সৌমেন রায়। এরপর কুষ্টিয়া আদালতে বারবার আত্মসমর্পণের দিন ধার্য থাকলেও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পলাতক সৌমেন।

মামলার বাদী হাসিনা বেগম বলেন, আমার মেয়ে, তার ছেলে রবিন ও শাকিল নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে সৌমেন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে জেনেছি সে হাইকোর্ট থেকে জামিনে বেরিয়ে ভারতে পালিয়েছে। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের একমাত্র আসামিকে জামিন দেওয়ায় আমি হতাশ। আদালত সৌমেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় আমি খুশি। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক।

প্রসঙ্গত, কুমারখালী থানায় দায়িত্বে থাকার সময় এএসআই সৌমেনের সঙ্গে একটি মামলাকে কেন্দ্র করে আসমার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় সৌমেন তার নাম মো. সুমন হোসেন রাখেন এবং সুমন নামেই মুসলিম বিধানমতে আসমাকে বিয়ে করেন। সৌমেন আসমার তৃতীয় স্বামী ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় তারা বাস করছিলেন।

এএসআই সৌমেন খুলনার ফুলতলা থানায় বদলি হওয়ার পর থেকেই বিকাশকর্মী শাকিলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান আসমা। এ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি সৌমেন। সেই ক্ষোভ থেকেই প্রকাশ্যে স্ত্রী আসমা, আসমার দ্বিতীয় স্বামীর ছেলে রবিন এবং পরকীয়া প্রেমিক শাকিলকে গুলি করে হত্যা করেন সৌমেন।

সৌমেন রায় ২০১৫ সালে কনস্টেবল থেকে এএসআই পদে উন্নীত হন। পরে ২০১৬ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় যোগ দেন। সেখান থেকে মিরপুর থানার হালসা ক্যাম্প, বাগেরহাট থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত ছিলেন সৌমেন রায়।

নিউজ ট্যাগ: কুষ্টিয়া

আরও খবর



বর্ধিত মন্ত্রিসভায় ফোন পেলেন যারা

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নতুন সরকার হিসেবে শপথ নিয়েছে গত ১১ জানুয়ারি। ওই দিন নতুন সরকারের ২৫ জন মন্ত্রী ও ১১ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। দ্বিতীয় দফায় শুক্রবার (০১ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর শপথ হবে। বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নতুন মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন ওয়াসিকা আয়শা খান (সংরক্ষিত মহিলা আসন), নজরুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৪), ডা. রোকেয়া সুলতানা (সংরক্ষিত মহিলা আসন), ও শামসুন্নাহার চাঁপা (সংরক্ষিত মহিলা আসন), মো. শহীদুজ্জামান সরকার (নওগাঁ-২), মো. আব্দুল ওয়াদুদ (রাজশাহী-৫), ও বেগম নাহিদ ইজাহার খান।

তাদের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নজরুল ইসলাম, অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শামসুন্নাহার চাঁপা এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডা. রোকেয়া সুলতানা দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২ মার্চ শনিবার দিবাগত রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করবেন।

এ ছাড়া আগামী রবিবার শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। এ জন্য আজ দ্বিতীয় দফায় নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনে হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

গত বুধবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন নারী সদস্য শপথ নিয়েছেন। শপথগ্রহণের পরই তারা সংসদে যোগদান করেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হতে পারে। কারণ সংস্কৃতিবিষয়ক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে এখন পর্যন্ত মন্ত্রী দেওয়া হয়নি।


আরও খবর
শপথ নিলেন নতুন ৭ প্রতিমন্ত্রী

শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪




মমতাকে মিমির ‘ইস্তফা’ পত্র, ছেড়ে দিতে চান রাজনীতিও

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন ডেস্ক

Image

ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী তার নিজ নির্বাচনী আসন যাদবপুরের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে তিনি সাংসদ পদ ছাড়ার কথা জানান। বিধানসভা থেকে বেরিয়ে নিজেই তা ঘোষণা করেছেন। মিমি জানান, তিনি লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান না।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিধানসভায় মমতা যখন বক্তৃতা করছেন, তখনই তার ঘরে ঢুকে গিয়েছিলেন মিমি। কিছু ক্ষণ পর ওই ঘরে ঢোকেন তৃণমূলের দুই তারকা বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী এবং জুন মালিয়া। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতা শেষ হলে তিনি নিজের ঘরে যান। তার পর মিমি এবং বাকিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হয়।

সেখান থেকে বেরিয়ে মিমি জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী এখনও সেই ইস্তফা গ্রহণ করেননি। মিমি এ-ও জানান, মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা গ্রহণ করলে তিনি লোকসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে ইস্তফাপত্র দিয়ে আসবেন।

সম্প্রতি সংসদের দুটি স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মিমি। সংসদের শিল্পবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ছিলেন কেন্দ্রীয় শক্তি মন্ত্রণালয় এবং নবীন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ মন্ত্রকের যৌথ কমিটির সদস্যও। এই দুটি পদ থেকেই তিনি ইস্তফা দেন। এর পর জানা যায়, যাদবপুর লোকসভার অধীন নলমুড়ি এবং জিরানগাছা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারপার্সন পদও মিমি ছেড়ে দিয়েছেন। তার পর থেকেই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, ২০২৪ সালে যাদবপুর থেকে আর কি প্রার্থী হবেন মিমি? নিজের ধারাবাহিক পদত্যাগ প্রসঙ্গে অবশ্য এর আগে তিনি মুখ খোলেননি। বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিলেন, আর সাংসদ থাকতেই চান না তিনি। মিমি বলেন, আমার যা বলার ছিল, দিদিকে বলেছি। অনেকে বলছিলেন, আমি পরবর্তী টিকিট পাকা করার জন্য এটা করছি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি আমার জন্য নয়।


আরও খবর
টেইলর সুইফট ইফেক্টে আক্রান্ত সিঙ্গাপুর

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




চট্টগ্রামে এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষায় সিএমপি ট্রাফিকের নির্দেশনা

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

Image

আগামী ০৯ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সকাল ১০টা হতে ১১ টা পর্যন্ত ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস, চট্টগ্রাম কলেজ এবং ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত কেন্দ্রসমূহে পরীক্ষা চলাকালীন সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নগরীর সড়কে রাস্তায় রোড ব্যারিয়ার স্থাপনের মাধ্যমে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

বুধবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পিআর) স্পিনা রাণী প্রামাণিক।

সড়কসমূহ হলো- নগরীর অলিখাঁ মোড় হতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ সড়ক, কেয়ারির মোড় হতে চট্টগ্রাম কলেজ সড়ক, গণি বেকারি হতে চট্টগ্রাম কলেজ সড়ক, প্যারেড গ্রাউন্ড উত্তর-পূর্ব কর্ণার হতে কেয়ারি সড়ক, প্রবর্তক মোড় হতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ সড়ক।

এতে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রভিত্তিক সুবিধাজনক স্থান গণি বেকারি, কেয়ারি মোড়, প্যারেড গ্রাউন্ডের উত্তর-পূর্ব কর্ণার, অলিখাঁ মোড় ও প্রবর্তক মোড়সমূহকে ড্রপিং পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করবে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা/চিকিৎসক, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রোগী পরিবাহী এ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি রোগী পরিবাহী অন্যান্য যানবাহন অত্র ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার আওতামুক্ত থাকবে।

অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে পরীক্ষা কেন্দ্রসমূহের সম্মুখ রাস্তা ও আশ-পাশের সড়ক এবং রোড ব্যারিয়ার স্থাপনকৃত পয়েন্টগুলো যথাসম্ভব এড়িয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের জন্যে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।

নিউজ ট্যাগ: চট্টগ্রাম

আরও খবর