আজঃ বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪
শিরোনাম

নির্বাচনী হলফনামায় অর্থমন্ত্রীর চেয়ে সম্পদে এগিয়ে তার স্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
রবিউল বাশার খান, কুমিল্লা

Image

কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ, লালমাই, নাঙ্গলকোট) আসনে তিন বারের সংসদ সদস্য নৌকার প্রার্থী ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের চেয়ে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদে এগিয়ে তাঁর স্ত্রী কাশমেরী কামাল।

এ প্রার্থীর নগদ টাকার পরিমাণ ২৫ লাখ ৫৪ হাজার ৫০৯ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৯ হাজার ১ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীর রয়েছে ৮ কোটি ৪৭ লাখ ২৪ হাজার ৬৪৪ টাকা। অন্যদিকে স্ত্রীর রয়েছে ৬২ লাখ ৯৭ হাজার ৬২৭ টাকা। বন্ড, স্টক একচেঞ্জে মন্ত্রীর রয়েছে ৫ কোটি ৪৪ লাখ ২ হাজার ১৫৩ টাকা। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর নামে রয়েছে ১১ কোটি ৪২ লাখ ১৩ টাকা। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মুস্তফা কামালের দাখিল করা হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রার্থীর হলফনামায় দেখা গেছে, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নামে পোস্টাল, সেভিংস, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ ৬ কোটি ৩১ লাখ ৪৩ হাজার ৬০০ টাকা এবং স্ত্রীর রয়েছে ২৫ কোটি ৫১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৬৫ টাকা। এছাড়া যানবাহনের ক্ষেত্রেও এগিয়ে মন্ত্রীর স্ত্রী। মন্ত্রীর নামে গাড়ি রয়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ ২৮ হাজার ৭১৮ টাকার, অপরদিকে মন্ত্রীর স্ত্রীর নামে রয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার গাড়ি। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে সম্মানী ভাতাসহ মন্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৪১ কোটি ৯০ লাখ ৫৩ হাজার ৭১৪ টাকার এবং তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ৬২ কোটি ২৭ লাখ ১৯ হাজার ৪৭৮ টাকা।

হলফনামায় মন্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৫১৬ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৭৬ হাজার এবং শেয়ার বাজারের সঞ্চয়পত্র থেকে ২১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৬৯ টাকা।

স্থাবর সম্পদেও মন্ত্রীর স্ত্রীর সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ। এক্ষেত্রে মন্ত্রীর নিজ নামে স্থাবর সম্পদ রয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ ১৭ হাজার ৭৯ টাকা। তাঁর কাশমেরী কামালের নামে একাধিক প্লট-বাড়িসহ ৫ কোটি ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪৮ টাকার সম্পদ রয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালের হলফনামায় মন্ত্রীর বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয়েছিল ২ কোটি ৬৯ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৪ টাকা। ২০১৮ সালের হলফনামায় মোট সম্পদমূল্য উল্লেখ করা হয়েছিল ৬২ কোটি ১৭ লাখ ২১ হাজার ১৫৩ টাকা। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামার চেয়ে এ বছর মন্ত্রীর ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫৩০ টাকার সম্পদ কমেছে। এই সম্পদ স্ত্রী কাশমেরী কামাল, দুই কন্যা কাশফি কামাল ও নাফিসা কামাল ও ৫ নাতি-নাতনিকে দান করা হয়েছে। সব খাত মিলিয়ে এবার সম্পদ দেখানে হয়েছে ৩৮ কোটি ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৬২৩ টাকা। তবে মন্ত্রীর আয় বেড়েছে কয়েক গুণ।

এ দিকে এই প্রার্থীর নামে মানি লন্ডারিং, দুদক, আয়কর, অপারেশন ক্লিনহার্টসহ ফৌজদারি আইনে মোট ৮টি মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ থাকলেও এসব মামলা থেকে তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন।

আ হ ম মুস্তফা কামাল একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তাঁর বাবা বাবরু মিয়া ও মা সায়েরা বেগম। তাঁদের গ্রামের বাড়ি জেলার লালমই উপজেলার দুতিয়াপুরে। তিনি এ আসনের টাকা তিন বারের সংসদ সদস্য।


আরও খবর



দস্যুতা না ছাড়লে কাউকে ক্ষমা করা হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দস্যুদের যারা এ পেশা ত্যাগ করবেন না তারা কী দুঃসংবাদ লিখে নিয়ে যাবেন সেটা মহান আল্লাহ জানেন। কাউকে ক্ষমা করা হবে না। সন্ত্রাস নির্মূল করতে গিয়ে র‍্যাবের ৩৩ জন সদস্য জীবন দিয়েছেন। হাজার হাজার র‍্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। অনেকের অঙ্গহানিও হয়েছে। তাই আমরা যেকোনো মূল্যে অপরাধীদের দমন করব। তারা যেন অপরাধ করার চিন্তাও না করে সে কাজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করছে। জলদস্যুতা আপনাদের জীবনে কখনও শান্তি ফিরিয়ে আনবে না। বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন সমস্ত উপকূলীয় অঞ্চলকে আমরা জলদস্যু-ডাকাত মুক্ত করব।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা র‍্যাব-৭ এর সদর দপ্তরে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকার ১২ বাহিনীর ৫০ জলদস্যু। এর মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনে জলদস্যুদের ভালো অবস্থা দেখে আজ তারা উদ্বুদ্ধ। সাংবাদিকদের সহযোগিতায় এ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাদের ধন্যবাদ জানাই। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের সিকিউরিটির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। ওইসব এলাকায় জলদস্যুরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। আজ এখানে একজন নারী জলদস্যুও আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী লোকেরাও তাদের বাধ্য করেন এসব কাজে জড়াতে। জনগণের কাছে র‍্যাব একটি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। সুন্দরবনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষায় ২০১২ সালে র‍্যাবকে টাস্ক ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। র‍্যাবের দুঃসাহসিক অভিযানে সুন্দরবন জলদস্যু মুক্ত হয়। দস্যুরা যাতে আর সে কাজে ফিরতে না পারে তাদের আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। আজ তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। কেউ ব্যবসা করছে বা অন্য কাজ করছে। পাবনায় ৬০০ ও সিরাজগঞ্জে ৩০০ এর অধিক চরমপন্থি গ্রুপের নেতাকর্মী আত্মসমর্পণ করেছে। তাদেরও সরকার সহযোগিতা করেছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ও খুনের মামলা আছে তাদের কোনোভাবে সহযোগিতা করা হবে না। অন্য মামলাগুলো থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার জন্য কাজ করা হবে।

অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আত্মসমর্পণের পর আমরা দস্যুদের দিকে খেয়াল রাখছি। যদি তারা পুনরায় আগের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় তাহলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের সব সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমাদের কথার বরখেলাপ করলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, আমরা তাদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। আজকে যারা আত্মসমর্পণ করছেন সবাইকে আমি স্বাভাবিক জীবনে স্বাগত জানাই। এর আগে সুন্দরবন দস্যু মুক্ত হওয়ায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করছি। সুন্দরবন থেকে আত্মসমর্পণ করা দস্যুদের সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পেশার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম র‍্যাবের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল লতিফ, পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, র‍্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নুরে আলম মিনা। এছাড়া আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মাহমুদ করিম ও জসীম উদ্দীন।

র‍্যাব জানায়, সংস্থাটির চট্টগ্রাম ইউনিটের উদ্যোগে ২০১৮ এবং ২০২০ সালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের ৭৭ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এটি অন্যান্য জলদস্যুদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একপর্যায়ে চট্টগ্রামে বাঁশখালী এবং কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের জলদস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আশার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম র‍্যাব তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।


আরও খবর



ড. ইউনূসের জামিনের মেয়াদ বাড়লো

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূসের জামিনের মেয়াদ ৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বেলা ১১টার দিকে কাকরাইলে অবস্থিত শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে যান তিনি। আজই জামিনের সময়কাল শেষ হওয়ায় নতুন করে জামিন নিতে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আসেন ড. ইউনূস।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টরা।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ১৬ এপ্রিল ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত ড. ইউনূসকে ২৩ মে পর্যন্ত জামিন দিয়েছিলেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল। আজই শেষ তার জামিনের সময়কাল।

গত ২৮ জানুয়ারি মামলার রায় চ্যালেঞ্জ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনকে জামিন দেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল। এর আগে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে জামিন চেয়েছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলার রায়ে ৬ মাসের সাজার বিরুদ্ধে ২৫টি যুক্তি দেখিয়ে খালাস চেয়ে আপিল করেছিলেন।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় গত ১ জানুয়ারি ৬ মাসের সাজা হয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার আসামির।


আরও খবর



প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব তুষারের নিয়োগ বাতিল

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব (ডিপিএস) হাসান জাহিদ তুষারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। বুধবার (২৯ মে) তার নিয়োগ বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সম্পাদিত চুক্তিপত্রের অনুচ্ছেদ-৮ অনুযায়ী হাসান জাহিদ তুষারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ১ জুন থেকে বাতিল করা হলো।

২০১৯ সালের ৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন তুষার। সর্বশেষ গত ২৮ জানুয়ারি ফের তাকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রায় চার মাস পর তার নিয়োগ বাতিল হলো।

এছাড়া আজ আরেক প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস-২) গাজী হাফিজুর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সেই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সম্পাদিত চুক্তিপত্রের অনুচ্ছেদ-৮ অনুযায়ী তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ১ জুন থেকে বাতিল করা হলো।

প্রসঙ্গত, মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণকারী হাসান জাহিদ তুষার দীর্ঘদিন ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে কর্মরত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।


আরও খবর



প্রশ্নফাঁস: প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মৌখিক পরীক্ষা (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ) স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। পরীক্ষা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া প্রশ্নফাঁসমুক্ত পরীক্ষা গ্রহণে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায়ের করা রিটের বিষয়ে প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২৮ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট পিয়া জান্নাতুল, ব্যারিস্টার লিটন আহমেদ ও ব্যারিস্টার খুররম খান মুরাদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি দাস, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সেলিম আযাদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আনিচ উল মাওয়া।

আদেশের পর আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৩ সালের ১৪ জুন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সার্কুলার হয় ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য। এ পরীক্ষায় সাড়ে তিন লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঘটে। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ অনেককেই গ্রেফতারও করে। আটকরা প্রশ্নফাঁসে জড়িত হওয়ার বিষয়ে দায়ও স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো অনুসন্ধান তো দূরের কথা, কিছুই করেনি। বরং তারা এতবড় ঘটনা ইগনোর করে সামনে এগিয়ে ভাইভা নিচ্ছেন। এখন আমাদের বক্তব্য হলো প্রশ্নফাঁসের ঘটনা দিবালোকের মতো পরিষ্কার, সে ঘটনায় কেউ তদন্তও করলো না। আমাদের ধারণা এ ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের কেউ জড়িত থাকতে পারেন। এজন্য আদালতে আমরা রিট দায়ের করি।

গত ২৯ মার্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় ধাপে ঢাকা-চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে পরীক্ষা হয়। দুই বিভাগের ৪১৪টি কেন্দ্রে একযোগে লিখিত পরীক্ষা হয়। এতে প্রার্থী ছিলেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ। এ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। পরে এ পরীক্ষা বাতিল চেয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া জুয়েল রতন দাসসহ ১৫ জন রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন আদালত।

এই পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নের উত্তরপত্র ও ডিভাইসসহ মাদারীপুরে সাতজন ও রাজবাড়ীতে একজন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। দুই জেলায় আলাদাভাবে মামলা দায়ের করেন সংশ্লিষ্টরা। রাজবাড়ীতে আটক হওয়া পরীক্ষার্থী আদালতে নিজের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন।

প্রশ্নফাঁসের পরও গত ২১ এপ্রিল রাতে ফল প্রকাশ হয়। এতে ৪৬ হাজার ১৯৯ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এরপরই বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন ১৫ পরীক্ষার্থী।

নিউজ ট্যাগ: হাইকোর্ট

আরও খবর



পর্যটন ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ভাড়া দেওয়া হবে শতবর্ষী জাহাজ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমলের তৈরি শত বছরেরও বেশি পুরোনো যাত্রীবাহী জাহাজগুলো পর্যটনে ব্যবহার ও সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সফররত ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও এন্টোনিও ডোমিনগেজ ভেলাসকোর সঙ্গে বৈঠকের পর নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ব্রিটিশ আমলের তৈরি জাহাজের মধ্যে রয়েছে- পিএস মাহসুদ, পিএস লেপচা, পিএস অস্ট্রিচ ও পিএস টার্ন। এসব নৌযান দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সদরঘাটের বাদামতলী ঘাটে স্টিমারগুলো অলস পড়ে আছে। বয়স বিবেচনায় জাহাজগুলোর দেশীয় ঐতিহ্য হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের পুরোনো প্যাডেলচালিত যে জাহাজগুলো আছে, আমরা চিন্তা করছি সেগুলো পর্যটন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় কি না। কারণ এগুলো শত বছরের পুরোনো। মানুষ এখন স্পিডি হয়ে গেছে, এত স্লো জলযানে উঠতে চায় না।

তিনি বলেন, আমরা চিন্তা করছি, এগুলো পর্যটন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় কিংবা ক্রুজ সার্ভিস করা যায়। আমাদের সামাজিক প্রোগ্রামগুলো রয়েছে, কর্পোরেট হাউজের প্রোগ্রামগুলো রয়েছে। সেগুলো অনবোর্ডে করা যেতে পারে। সেটার ব্যাপারে আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি।

আগামী ঈদুল আজহার সময় বিআইডব্লিউটিসির জাহাজগুলো যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আরও দুটি নতুন জাহাজ (এমভি বঙ্গমাতা ও এমভি বঙ্গতরী) পেতে যাচ্ছি। এই জাহাজ দুটিকে আমরা ভোলা রুটে চালানোর চিন্তা-ভাবনা করছি।


আরও খবর