আজঃ শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১
শিরোনাম

অপরাধ আর প্রতারণার প্রাণ পুরুষ আল জাজিরার সামি

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৮৯২জন দেখেছেন
Share

Image
কৈশোর থেকেই তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ উঠতে থাকে। ১৪ বছর বয়সে সামি মাকে হারায়। তার দুই বছর পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎ মায়ের সংসারে তখন থেকেই অন্ধকার জগতে পা বাড়ায় সামি

কখনও তানভীর সাদাত, কখনও সায়ের জুলকারনাইন। আবার কখনও জুলকারনাইন সায়ের খান, এভাবে নাম বদলে প্রতারণাসহ অগণিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিটিই আল জাজিরা ফিল্মের মূল চরিত্র সামি। তার প্রকৃত নাম সামিউল আহমেদ খান। অল্প বয়সে মাকে হারানোর পর চুরি ও প্রতারণামূলক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে বদলে ফেলেন মায়ের রাখা নাম তানভীর মোহাম্মদ সাদাত খান। সেনানিবাস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার সময় তার নাম ছিল সামিউল আহমেদ খান। মাদক ও অন্ধকার জগতে জড়িয়ে বেছে নেন নতুন নাম সায়ের জুলকারনাইন। গত কয়েক বছর ধরে পাহাড়ি উগ্রবাদীদের সঙ্গে জড়িত সামি।

আল জাজিরা ইস্যুতে তার সহপাঠী ও পরিচিতরাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব অভিযোগ করছে। শিশুকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তাকে কেন্দ্র করেই আল জাজিরার তদন্ত টিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধান ও সেনাবাহিনী নিয়ে ফিল্ম তৈরি করেছে।

পিতার ভুয়া নাম দিয়ে পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে করেন সামি। দুই যায়গায় তিনি পিতার নাম দিয়েছেন ওয়াসিট খান (Wasit Khan)। কিন্তু তার বাবার প্রকৃত নাম বাসিত খান (Basit Khan)।

শিশুকালেই অপরাধের হাতেখড়ি

সামির বাবা মো. আবদুল বাসেত খান ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। আবদুল বাসেতের চার সন্তানের মধ্যে সামিউল আহমেদ খান সবার বড়। জন্ম ১৯৮৪ সালে হলেও স্কুলের তথ্য মোতাবেক তার জন্ম তারিখ ৮ অক্টোবর, ১৯৮৬। কৈশোর থেকেই তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ উঠতে থাকে। ১৪ বছর বয়সে সামি মাকে হারায়। তার দুই বছর পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎ মায়ের সংসারে তখন থেকেই অন্ধকার জগতে পা বাড়ায় সামি। ক্যাডেট কলেজ থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর ভর্তি হয় কুমিল্লার ইস্পাহানি স্কুলে। ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়স থেকে ড্রাগ নেয়া, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করাসহ নানা অভিযোগ ওঠে সামির বিরুদ্ধে। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে সহপাঠী বন্ধুরাও তাকে এড়িয়ে চলতো। কৈশোর বয়সে চুরিতে হাত পাকান সামিউল আহমেদ খান ওরফে সায়ের জুলকারনাইন ওরফে সামি। ১৭ বছর বয়সে ২০০০ সালের ৩০ জানুয়ারি ইসিবিতে কর্মরত মেজর ওয়াদুদের বিদেশ থেকে আনা ট্র্যাকস্যুট চুরি করে ধরা পড়েন। ২০০০ সালের জুলাই মাসে টাইগার অফিসার্স মেস থেকে হাতির দাঁত চুরি করে চট্টগ্রামের নিউমার্কেটে অঙ্গনা জুয়েলার্সে বিক্রি করেও ধরা পড়েন।

বাবার চাকরির সুবাদে নিজেকে কখনও সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট, কখনও ক্যাপ্টেন হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিতেন। ২০০১ সালের ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ঢাকা সেনানিবাসে নিজেকে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করে সামি। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বন্ধু উৎপলের কাছে নিজেকে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে প্রমাণের জন্য বেল্ট, বুট ও র‍্যাংক ইউনিফর্ম কেনেন। উৎপলের বাসা থেকেই সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরে ট্যাক্সি ক্যাব দিয়ে সেনানিবাসসহ ঢাকার একটি পত্রিকা অফিস, রাপা প্লাজা, ধানমন্ডি ও চিড়িয়াখানা ঘুরে জাহাঙ্গীরগেট হয়ে সিএমএইচে প্রবেশের সময় দুপুর ২টায় মিলিটারি পুলিশের (এমপি) হাতে ধরা পড়ে সামি। এর ঠিক দুদিন পর ২ মে বাবার অঙ্গীকারনামায় আর্মি এমপি ডেস্ক থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। 

র‌্যাব পরিচয়ে প্রতারণা ও গ্রেপ্তার

২০০৬ সালের ২০ জুলাই র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে রাজধানীর ফার্মগেটের এজে টেলিকমিউনিকেশন থেকে ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার মোবাইল ফোন কিনে একটি ভুয়া চেক দেন। একইভাবে প্রাইজ ক্লাব নামক একটি কম্পিউটার ফার্ম থেকে ১০টি ল্যাপটপ কেনার কথা বলে, পরে চেক দিয়ে ২টি ল্যাপটপ নিয়ে আসে। চেক ডিজঅনার হলে অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ তাকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনার পর তাকে এনপিজি ঘোষণা করে সব সেনানিবাস ও দপ্তরে অবাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার পর অনিয়ন্ত্রিত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য সামিকে ত্যাজ্য করেছিলেন তার বাবা। পরদিন ২০০৬ সালের ২৩ জুলাই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন লে. কর্নেল আবদুল বাসেত।

সামির যত নারী কেলেঙ্কারি

সেনাকর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিয়ে করেছিলেন সামি। এন্টেনা ভাঙ্গা ভি.এইচ.এফ (ওয়াকিটকি) নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেয়ার নামে কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা নেন। ব্যবসার কথা বলেও অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে এক সেনাকর্মকর্তার মেয়েকেও বিয়ে করেন। শ্বশুরের অর্থে হাঙ্গেরিতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করার পর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন সামি। ব্যবসা বাণিজ্যের কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য অনেকেই তাকে খুঁজছেন। বহুদিন প্রকাশ্যে আসতে পারেন না।

সামির বিরুদ্ধে মামলা

গেল বছর সাইবার ক্রাইম ইউনিট অনলাইনে জাতির পিতা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কটূক্তি ও আপত্তিকর প্রচারণা এবং করোনা ভাইরাস নিয়ে অপপ্রচারসহ বিভিন্ন গুজব রটিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তাদের মধ্যে অন্যতম শায়ের জুলকারনাইন সামি। উই আর বাংলাদেশি পেইজ থেকে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে অভিযুক্তদের ল্যাপটপ ও মোবাইল অনুসন্ধান করে ১১ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায় গোয়েন্দা বাহিনী। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাসনিম খলিল ও সামিসহ উক্ত ১১ জনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের মে মাসে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হয়। এ মামলার প্রতিবাদে কলাম লিখেছিলেন ডেভিড বার্গম্যান। 

সামির এসব অপরাধের বিষয়ে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে তার বন্ধু সাইফ এম ইশতিয়াক হোসাইন (Saif M Ishtiak Hossain) একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার স্ট্যাটাসটি পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হল

সেনাপ্রধানের ভাইয়েরা এত বড়ই মাফিয়া যে তাদের বিদেশে পালিয়ে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করতে হয়। তারা দেশে আসলেই সরকার, আইন ও বিচারবিভাগ তাদের ঘাড় মটকে দিত। আলজাজিরার ভিডিও প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসন কতটা শক্তিশালী যে মাফিয়ারাও দৌঁড়ের উপরে থাকে!! তারা নিরাপদে দেশে থাকতে পারে না, মাফিয়াগিরি করতে পারে না।

তবে আমি এখানে একটু অন্য প্রসঙ্গে কথা বলবো। আমি বরং ভিডিওতে দেখানো হাঙ্গেরির ব্যবসায়ী সামি এর কথা বলব। সে আমার ছোটবেলার স্কুলের ক্লাসমেট। তার বাবা আর্মির ডাক্তার ছিল, এবং আমার বাবার কলিগ ও বন্ধু। সামির একজন ছোট ভাই ছিল, তার নাম মাহি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় সামি ও তার ছোট ভাই তাদের মাকে হারায়। তার ২ বছর পরই তাদের বাবা ২য় বিয়ে করে। তখন থেকেই সৎ মায়ের সংসারে সামি বখে যেতে শুরু করে। ১৫-১৬ বছর বয়স থেকেই ড্রাগ নেয়া থেকে শুরু করে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করাসহ এমন কোনো কাজ নেই যা সে করতো না। তার নামে স্কুলে অনেক ডিসিপ্লিনারি অভিযোগ রয়েছে।

তার বাবা ঢাকায় পোস্টিং হবার পর সে ঢাকায় থাকতে তার বাবার সেনা ইউনিফর্ম পরে নিজেকে সেনা অফিসার পরিচয় দিয়ে একটি মেয়েকে পটায় এবং পরে পালিয়ে বিয়েও করে। পরে জানাজানি হলে তাকে তার বাবা বাসা থেকে বের করে দেয়। ইতিমধ্যে আমার সাথে তার এরপর আর কোনো রকম যোগাযোগ হয় না। তার কয়েক বছর পরে তারা বাবাও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। সামি এসএসসি পাস করলেও ইন্টার পাস করতে পারে নাই শুনেছিলাম। পরে কমন বন্ধুর কাছে শুনেছিলাম যে ১ম বউকে ডিভোর্স দিয়ে (ডিভোর্স দিয়েছিল কিনা সিওর না) সে সেনাবাহিনীর আরো একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মেয়েকে পটায় এবং শ্বশুরের সহায়তায় হাঙ্গেরিতে রেস্টুরেন্টের ব্যবসা শুরু করে। (এইটা সে কিভাবে করে সে ব্যাপারে তদন্ত করা যেতে পারে)

এত ডিস্টার্বড ব্যাকগ্রাউন্ডের একটি এডিক্টেড ছেলে টাকার জন্য অনেক কিছুই করতে পারে। এবং তখন থেকেই টাকার জন্য সে চুরি করা থেকে শুরু করে অনেক কিছুই করতো। তার মত ছেলের রেফারেন্স দিয়ে আলজাজিরা একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী ও আর্মি চিফকে দুর্নীতিবাজ ও মাফিয়া বানায় দিল, সেটা দেখে ছাগুরা লাফাইতে পারে, তবে আমি পারলাম না। ইন্টার ফেল সামিও কিভাবে হাঙ্গেরিতে ব্যবসা শুরু করলো সেটা ধরে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা টান দিলেই আরো তথ্য বেরিয়ে আসবে।

সামির ব্যাপারে যা বললাম তার সত্যতা আমার তখনকার স্কুলের বন্ধুরাও ভেরিফাই করতে পারে। তাদেরকেও ট্যাগ করলাম। (এখানে দুইজনকে ট্যাগ করা হয় যারা হলেন, Tawsif Rahman Mishu ও  Nazmus Saqeb)।

সংযুক্তি: সামি এক্স ক্যাডেট। ক্লাস এইটে তাকে ক্যাডেট থেকে বের করে দেয়া হইছিল ডিসিপ্লিনের কারণে। পরে আমাদের সাথে কুমিল্লার ইস্পাহানি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হয়।

https://www.facebook.com/hossain.saifuddin16/posts/10158313586174864

সামির অপর পরিচিত বন্ধু ওমর শরিফ আরেফিনও সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে সামির সম্পর্কে নানা তথ্য উল্লেখ করেছেন। আরেফিনের স্ট্যাটাসটিও পাঠকের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হল;

সে প্রায় আঠারো বছর আগের কথা, আই আই এম টি তে কোর্স করছি, বন্ধু প্রদ্বীপ একটা ছেলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল, এক্স ক্যাডেট, সুন্দর মতো চেহারা স্মার্ট আর স্মাইলিং ফেস। ছেলেটার বাবা নাকি কর্নেল, বাসায় সৎ মা, মিলিটারি একাডেমি থেকে বার করে দিয়েছে আবার প্রেম করে একটা বিয়েও করেছে, আর এসব কারণে নাকি তার নিষ্ঠুর বাবা সৎ মায়ের ষড়যন্ত্রে তাকে ত্যায্য করেছে। আমার কাছে তার দুঃখের কাহিনী বলতো প্রায়ঃশই, যতোদুর মনে পড়ে আই আই এমটিতে কিছুদিন চাকরিও করেছিল।

এ সুবাদে আলাপচারিতা বাড়লো, টুকটাক চা সিগারেট, নাস্তা পানি এক্স ক্যাডেট হিসেবে তার আমার কাছে দাবি-ই ছিল, আমিও সেটাতে কার্পন্য করতাম না। তারপর একদিন সে ফোন দিল তার স্ত্রী নাকি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত, কিছু টাকা দরকার, আমার কেমন যেন সন্দেহ হলো, ঘটনা চক্রে তার স্ত্রীর স্কুলের বান্ধবী তখন আমার বাগদত্তা। কি মনে করে তাকে ফোন দিলাম ভাবলাম তার বান্ধবী মূমুর্ষু সেটা জানাই। তাকে ফোন করে তো আমি থ হয়ে গেলাম, ছেলেটার স্ত্রী নাকি এইমাত্র তার বাসা থেকে বের হলো, সম্পূর্ণ সুস্থ!!

এরপর থেকে আমি আর সেই ছেলেকে খুব একটা লাই দিতাম না। এরপর দিন গেল, একদিন শুনলাম সেই ছেলে অফিস থেকে টেলিফোন সেট চুরি করে ধরা খেয়েছে, কিছুদিন পর জানলাম তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। এভাবেই চলছিল তারপর আবার দেখা হলো হিরোর সাথে, সাদা পাঞ্জাবি আর জিন্স পড়ে সে হাতে একটা এন্টেনা ভাঙ্গা ভিএইচএফ (ওয়াকি টকি) সেট নিয়ে ঘুরছে। ভি এইচ এফ দেখে জিজ্ঞেস করলাম কি ব্যাপার ভাঙ্গা রেডিও নিয়ে কি কর, সে বল্লো সে নাকি ইউ এস এম্বেসীতে সিকিউরিটির কাজ করে তাই রেডিও রাখতে হয়! সাধারনতঃ এই সব রেডিও এর রেঞ্জ হয় কয়েকশ মিটার! অথচ আমরা তখন শান্তিনগরে বসে বিয়ে খাচ্ছি, বুঝলাম এটাও তার একটা ভেল্কি! তার কিছুদিন পর সে তার স্ত্রী সন্তান রেখে হাওয়া হয়ে গেল, এর ভেতর পালিয়ে বিয়ে করার কারনে তার স্ত্রীকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিল তার বাবা মা, মেয়েটা তখন বিশাল একটা দুর্বিপাকে পড়লো। স্বামী নিরুদ্দেশ, ছোট বাচ্চা, বিয়ে বাচ্চা নিয়ে পড়াশুনাতেও বাধা পড়েছে, কোন মতে একটা চাকরি করে সে তখন তার এই দুঃসময় পার করেছিল। তার বেশ কিছুদিন পর একটা রেস্তরায় বসে আছি, দেখি সেনাবাহিনীর একটা জ্বীপ থেকে নামছে হিরো, এর ভেতর তার স্বাস্থ্য প্রায় মাশাল্লাহ তিনগুন হয়েছে, সাথে একটা মেয়ে।

আমার সাথে দেখা হওয়ায় সে হতচকি্‌ত কিন্তু চাল্লু ছেলে ঘাবড়ালো না, বলে নতুন বিয়ে করেছে, জেনারেলের মেয়ে আলহামদুলিল্লাহ! আমার স্ত্রী সাথে সাথে তার বান্ধবীকে ফোন দিয়ে সব কথা জানালো, তার বান্ধবী মানে হিরোর প্রথম স্ত্রী তো আকাশ থেকে পড়লো এই কথা শুনে, সে কিছু জানেই না এ সম্পর্কে! এনিয়ে নারী মহলে নাকি ব্যপক কাল বৈশাখীর তান্ডব লীলা চলেছিল বলে শুনেছি, আমি মনে মনে বলেছিলাম লাকী ম্যান! তারপর দিন গেল, আমরা ড. কামালের ঘর জামাই তথাকথিত সাম্বাদেক জনৈক বার্গ্ম্যানের সাথে পরিচিত হলাম, রাজাকার গু আ জেলের চাক্কি পিষতে পিষতে অক্কা গেল, বাকী শুয়োরগুলা জাহান্নামবাসী হলো আলহামদুলিল্লাহ! পদ্মা সেতুও হয়ে গেল প্রায়, হঠাত আজকে ইউটিউবে দেখি সেই হিরোর চেহারা, আলহামদুলিল্লাহ তার স্বাস্থ্য এখন আরো ভালো, ভিডিও দেখে চিনতে পাড়লেও একটু দ্বিধা হলো, নানা সূত্রে শিওর হলাম যে হ্যা এটাই সেই হিরো, আলজাজিরার সামী!

বিঃদ্রঃ এইমাত্র এই সামীজ্বীর আরেক স্কুল বন্ধুর পোস্ট থেকে জানতে পারলাম যে সামীজ্বী আসলে এক্স ক্যাডেট নন।

বিঃ বিঃ দ্রঃ এইমাত্র আবার জানলাম যে সামীজ্বী আসলে এক্স ক্যাডেট কিন্তু ক্লাস এইটে তাকে বার করে দেওয়া হয়!! যাক যতটা ৪২০ ওকে ভাবছিলাম ও মনে হয় ততোটা ৪২০ না...।

https://www.facebook.com/arefeen.emon/posts/3948998071829387

নিউজ ট্যাগ: আল জাজিরা
Share

আরও খবর



সবাই নজরদারিতে আছেন: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ১৬৬জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
কে কোথায়, কখন কী করছেন সবাই নজরদারিতে আছেন। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে আগামী কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুটিকয়েক লোক শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করলে দল তার বোঝা নেবে না

দলে যে কোনো পর্যায়ে শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ অপরিহার্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। 

ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় একথা জানান তিনি।

দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপে কেউ জড়িত থাকলে যত বড়ই নেতা হোক, কেউ পার পাবে না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কে কোথায়, কখন কী করছেন সবাই নজরদারিতে আছেন। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে আগামী কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুটিকয়েক লোক শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করলে দল তার বোঝা নেবে না।

ওবায়দুল কাদের ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজের অবস্থান ভারী করার জন্য পকেট কমিটি বরদাশত করা হবে না। সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে পর্যায়ক্রমে থানা পর্যন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবাইকে ঐকবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দলের ত্যাগীদের মূল্যায়ন করতে হবে। তারাই দুঃসময়ে দলের সঙ্গে থাকবে, বসন্তের কোকিলদের খুঁজেও পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ একটি পরিবার, যারা এই পরিবারের ঐক্যে ফাটল ধরাবে তাদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না।

দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা দ্বিমত থাকলে তা দলীয় ফোরামে আলোচনা করতে হবে, তাতেও সমাধান না হলে লিখিতভাবে সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, দলের জেলা, উপজেলা, থানা পর্যায়ের যে কোনো কমিটি কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া বাতিল করা যাবে না।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

নিউজ ট্যাগ: ওবায়দুল কাদের
Share

আরও খবর



মালয়েশিয়ায় ফের লকডাউন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৯৫জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

করোনার ৪র্থ ঢেউ মোকাবিলা করতে মালয়েশিয়ায় ফের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (এমসিও) ১৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে তা বাড়িয়ে ৪ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে।

চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে জাতীয় সুরক্ষা কাউন্সিল ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি বিন ইয়াকুব ।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া দেশটির সেলাঙ্গর, কুয়ালালামপুর, জহুর, পিনেং রাজ্যে মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (এমসিও) আগামী ৪ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

বাকি রাজ্যগুলোতে কন্ডিশনাল মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (সিএমসিও) এবং রিকভারী মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার (আরএমসিও) যথাযথ বহাল থাকবে।

পাশাপাশি দেশটির আন্তঃরাজ্য ভ্রমণের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

চলমান মুভমেন্ট কন্ট্রোল ওয়ার্ডারের নির্দেশনাবলী অমান্য করলে এক হাজার রিঙ্গিত জরিমানা অথবা অমান্যকারীদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে।

দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৬৫ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯৮৩ জন।

মঙ্গলবার দেশটিতে ৫ হাজার ৭১৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

Share

আরও খবর
নেপালি পুলিশের গুলিতে যুবক নিহত

শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১

কুয়েতে মাসজুড়ে কারফিউ ঘোষণা

শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১




৪ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ’

প্রকাশিত:সোমবার ০১ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ মার্চ ২০২১ | ২৪০জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
গতবছর মা ইলিশ সংরক্ষণে সফল অভিযানের ফলে ৩৭ হাজার আটশ কোটি ইলিশের পোনা ইলিশ সম্পদে যুক্ত হয়েছে। ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণেও আমাদের সাফল্য নিয়ে

ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে আগামী ০৪ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের জাটকা সম্পৃক্ত জেলাসমূহে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২১ উদযাপন করা হবে। এ বছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের স্লোগান নির্ধারন করা হয়েছে মুজিববর্ষে শপথ নেবো, জাটকা নয় ইলিশ খাবো।

সোমবার (০১ মার্চ) রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সভা কক্ষে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এসকল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, যুগ্মসচিব সুবোধ চন্দ্র ঢালী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গবেষকবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নৌ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, র‌্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, পরিবহন মালিক সমিতি, লঞ্চ মালিক সমিতি, মৎস্যজীবী সমিতি, মৎস্যজীবী লীগসহ ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব বলেন, গতবছর মা ইলিশ সংরক্ষণে সফল অভিযানের ফলে ৩৭ হাজার আটশ কোটি ইলিশের পোনা ইলিশ সম্পদে যুক্ত হয়েছে। ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণেও আমাদের সাফল্য নিয়ে আসতে হবে। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে আগামীতে ইলিশের উৎপাদন ৬ লক্ষ মেট্রিক টন হবে।

এসময় ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২১-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান আগামী ০৫ এপ্রিল পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে এদিন বর্ণাঢ্য নৌর‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। সপ্তাহের উদ্বোধনী দিনে (০৪ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। এছাড়া জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে জাটকা সংরক্ষণবিষয়ক ভিডিওচিত্র ও ডকুমেন্টারী প্রদর্শন, বেতার-টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন, ইলিশবিষয়ক কর্মশালা, সভা-সেমিনার আয়োজন, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন মৎস্য আড়ৎ, বাজার ও অবতরণ কেন্দ্রে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার ব্যাপারে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরে একটি কন্ট্রোল রুম খোলার ব্যাপারেও সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য, দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে ইলিশ তথা মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে অবৈধ জাল ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক ও জাটকা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে ২০০৭ সাল থেকে প্রতিবছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদযাপন হয়ে আসছে।

Share

আরও খবর



টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৩ রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ১৬৩জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাপিড অ‌্যাকশন ব‌্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫ এর সঙ্গে গোলাগুলিতে জকি বাহিনীর প্রধান জকিসহ তিন রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টেকনাফ শালবাগান পাহাড়ি এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টাব‌্যাপী এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব-১৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান এ তথ‌্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গোলাগুলিতে টেকনাফের শালবন এবং জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কুখ্যাত ডাকাত জকি বাহিনীর প্রধান জকিসহ তিন জনের মৃত‌্যু হয়েছে। এসময় বিপুল অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তারা একইসঙ্গে ডাকাতি, মানব পাচার ও ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।

মেজর মেহেদী হাসান বলেন, র‌্যাবের একটি দল টেকনাফ শালবাগান পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় অতর্কিতে র‌্যাবের ওপর গুলি বর্ষণ করে ডাকাত দল। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই গোলাগুলি চলে। পরে র‌্যাব তল্লাশি চালিয়ে জকিসহ তিন জনের লাশ উদ্ধার করে।

তিনি জানান, গোলাগুলির ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তাদেরকে টেকনাফ স্বাস্থ‌্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, জকি ডাকাতের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ এবং মাদকসহ ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় সন্ধ‌্যা ৭.৩৫ পর্যন্ত র‌্যাবের অভিযান চলমান ছিল।

Share

আরও খবর
ভাসানচরের পথে আরও ১৭৫৯ জন রোহিঙ্গা

বৃহস্পতিবার ০৪ মার্চ ২০২১




৩৯৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে মঠে নামছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ১২৩জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চট্টগ্রাম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ৩৯৫ রানের জয়ের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল হকের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৮ উইকেটে ২২৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরা।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম মানেই যেন মুমিনুল হকের ব্যাটে রানের ফোয়ারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলতি টেস্টের প্রথম ইনিংসে তা হয়নি। তবে দ্বিতীয় ইনিংসেই মুমিনুল ফিরেছেন স্বরুপে। ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে। দেশের পক্ষে তিনিই এখন সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক। ছাড়িয়ে গেছেন তামিমের ৯ সেঞ্চুরিকে।

১৮২ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ১১৫ রান করে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের শিকার হয়েছেন মুমিনুল। তার আগে ১১২ বলে ৫ চারে ৬৯ রান করে জোমেল ওয়ারিকেনের বলে আউট হন লিটন দাস।

এরপর ইনিংসের ৬৮তম ওভারে এসে তাইজুল ইসলাম (৩) আর মেহেদি মিরাজকে (৭) ক্যারিবীয় এই স্পিনার চার বলের ব্যবধানে ফিরিয়ে দিলে আর দেরি না করে ইনিংস ঘোষণা করে দিয়েছে বাংলাদেশ।

আগের দিনের শেষ সেশনে ৩ উইকেটে ৪৭ রান করেছিল বাংলাদেশ। আজ চতুর্থ দিনের সকালে শুরুর পৌনে এক ঘণ্টা ভালোভাবেই কাটিয়ে দেন মুশফিকুর রহীম ও মুমিনুল হক। কিন্তু এরপরই ঘটে বিপদ। রাহকিম কর্নওয়ালের একটি অফস্ট্যাম্পের ডেলিভারি অনসাইডে খেলতে গিয়ে মিস করেন মুশফিক, বল আঘাত হানে প্যাডে।

বোলার ছাড়া বাকি ফিল্ডারদের কেউ সেভাবে আবেদনও করেননি। কিন্তু আম্পায়ার আঙুল তুলে দেন। মুশফিক রিভিউ নিয়েছিলেন। কাজ হয়নি, বল উইকেট হিট করেছে দেখা যায়। ফলে ৪৮ বলে ১৮ রানের ইনিংস নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় মিস্টার ডিপেন্ডেবলকে। চতুর্থ উইকেটে মুশফিক-মুমিনুলের জুটিটি ছিল ৪০ রানের।

মুশফিক সাজঘরে ফেরার কিছু পরই ক্যারিয়ারের ১৪তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন মুমিনুল। ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি করতে ৮৪ বল খেলেন তিনি। যেখানে ছিল ৫টি চারের মার।

দিনের শুরু থেকে গ্যাব্রিয়েলের শরীর বরাবর ধেয়ে আসা বাউন্সার কিংবা কর্নওয়ালের স্পিনের বিপক্ষে সাবলীল ব্যাটিং করেছেন মুমিনুল। ক্যারিবীয়দের কোনো পরিকল্পনাই সফল হতে দেয়নি মুমিনুল-লিটন জুটি।

দুই প্রান্ত থেকে সমান গতিতে রান করেছেন তারা। লিটনের বিপক্ষে অবশ্য একবার লেগ বিফোরের জোরাল আবেদন করেছিল ক্যারিবীয়রা। কিন্তু আম্পায়ার আউট দেননি, রিভিউ নিয়েও সফলতা পায়নি সফরকারি দল।

Share

আরও খবর