আজঃ বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১
শিরোনাম

পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ভাই-বোনসহ ৩ শিশুর

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩০ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ৩০ এপ্রিল ২০২১ | ১১৩জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজলার লতিবান ইউনিয়নের কারিগর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলো- সুমন ত্রিপুরার দুই সন্তান খুমরাম ত্রিপুরা,আব্রাহাম  ত্রিপুরা এবং একই গ্রামের তপন ত্রিপুরা সন্তান প্রাণটি ত্রিপুরা।

পানছড়ি থানার ওসি দুলাল হোসেন জানান , সকালে ওই তিন শিশু বাড়ির পাশে একটি ছড়ায় গোসল করতে যায়। বাড়ি ফিরে না আসায় গ্রামবাসী তাদের খুঁজতে বের হয়। পরে ছড়া থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনা পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


আরও খবর



সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু আর নেই

প্রকাশিত:বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১ | ১১৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ বুধবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) কুমিল্লা-৫ (ব্রাহ্মণপাড়া-বুড়িচং) আসনের এই সংসদ সদস্য শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।  

সাবেক আইনমন্ত্রীর জুনিয়র অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আওয়ামী লীগের হয়ে পাঁচ মেয়াদে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেতৃবৃন্দ সাবেক আইনমন্ত্রীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তাঁর শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। 

গত ১৫ মার্চ আবদুল মতিন খসরু সংসদ সচিবালয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। পরদিন ১৬ মার্চ সকালে তাঁর রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে। ওইদিনই তাঁকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। গত ২৮ মার্চ রাত ১২টার দিকে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।

এরপর ১ এপ্রিল আবদুল মতিন খসরুর করোনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে। পরে ৩ এপ্রিল আইসিইউ থেকে তাঁকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ৬ এপ্রিল তাঁকে আবার আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে গতকাল মঙ্গলবার তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে আর ফিরে আসতে পারেননি আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য।

আবদুল মতিন খসরু গত ১৩ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মো. আবদুল মালেক ও মা জাহানারা বেগম। তাঁরা চার ভাই ও এক বোন৷ আবদুল মতিন খসরু ব্যক্তিজীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

আবদুল মতিন খসরু ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নিউজ ট্যাগ: আবদুল মতিন খসরু

আরও খবর



করোনার এই সময় ইফতারের পর যে পাঁচ খাবার কখনোই খাবেন না

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ | ১০৭জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে ইফতারে এমন কিছু খাবার রাখা উচিত, যে খাবারগুলো শরীরের ক্ষতি করবে না। শরীরের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার রাখা উচিত সেহরি ও ইফতারে। করোনার এই সময় ইফতারের

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেই আবারও চলে এসেছে আরও একটি আত্ম-শুদ্ধির মাস; মাহে রমজান মাস। পবিত্র এই মাসে বিশ্ব মুসলিমরা ধৈর্য, আত্ম-সংযম ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে সৃষ্টিকর্তার কাছে একটু বেশিই নিবেদন করে থাকে। এই মাসে সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত না খেয়ে রোজা পালন করা হয়। সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সময় ইফতার করা হয়।

দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে ইফতারে এমন কিছু খাবার রাখা উচিত, যে খাবারগুলো শরীরের ক্ষতি করবে না। শরীরের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার রাখা উচিত সেহরি ও ইফতারে। করোনার এই সময় ইফতারের পর এমন খাবার খাওয়া যাবে না যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। এবার তাহলে ইফতারের পর যে পাঁচ (০৫) খাবার কখনোই খাওয়া উচিত নয় তা তুলে ধরা হলো-

ধূমপান বা অ্যালকোহল : ধূমপান বা অ্যালকোহল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে দেয়। তাই যাদের ধূমপান বা অ্যালকোহলের অভ্যাস রয়েছে তাদের করোনার এই সময় ইফতারের পর এসব থেকে বিরত থাকা উচিত হবে।

ফাস্টফুড : অধিকাংশ ফাস্টফুড তৈরির সময় চিনি বা চিনিজাতীয় জিনিস ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া ফাস্টফুডে ফাইবার জাতীয় খাবার খুবই কম থাকে। এসব খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়।

কফি : অনেক মানুষই রয়েছেন যারা কফি খেতে খুবই পছন্দ করেন। তারা হয়তো জানেন না যে, কফিতে থাকা ক্যাফিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। তাই করোনার এই সময় কফি খাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন। অল্প পরিমাণে কফি খাওয়া যেতে পারে। তবে এটাকে অভ্যাসে পরিণত করা যাবে না।

প্যাকেটজাত মাংস : এ জাতীয় মাংস অনাক্রম্যতা ব্যবস্থা নষ্ট করার জন্য সক্ষম। মাংস ছাড়াও অন্যান্য প্যাকেটজাত খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে তুলে। করোনার এই সময় প্রয়োজনে সবুজ শাক-সবজি ও বিভিন্ন রকমের ফলমূল হতে পারে প্যাকেটজাত খাবারের বিকল্প।

ক্যান স্যুপ : আধুনিক এই সময়ে সিল করা স্যুপ বিক্রি করা হয়। সময়ের অভাবে অনেকে এসব খাবার খেয়ে থাকেন। এ জাতীয় খাবার শরীরকে পুষ্টিকর না করে বরং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল করে দেয়। রমজানে সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে এসব খাবার খাওয়ার ফলে অনেক সময় পেটে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ক্যান স্যুপ বা এ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।


আরও খবর



লকডাউন: নিম্ন আয়ের মানুষ বড় দুর্দিনে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21 | ১০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
মজান মাসে মানুষ বেশি দান করায় আয়ও হতো বেশি। কিন্তু এবার প্রথম রমজান থেকেই লকডাউন। মানুষজন নেই রাস্তায়। তাই ভিক্ষাও পাচ্ছেন না। ইফতারের আগে কেউ কেউ খাবার-দাবার দেয়, তা দিয়েই দিন

রাজধানীতে ১৮ বছর ধরে রিকশা চালান দ্বীপজেলা ভোলার শামসুল আলম। কিন্তু এত বেকায়দায় আগে কখনও পড়েননি। সংসারের খাওয়া-পরা, দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ- সবই জোটে তার রিকশা চালিয়ে। তবে লকডাউন ঘোষণার পর তার আয় পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। হিমশিম খেতে হচ্ছে তার দিন চালাতে। রাজধানীর সব নিম্ন আয়ের মানুষের এখন এমন অবস্থা। বড় দুর্দিন এখন তাদের।

শামসুল আলম বলেন, ছয় দিন ধরে ২০০ টাকার বেশি আয় করতে পারছেন না। অথচ আর সব রমজানে আধাবেলা রিকশা চালালেই ৭০০ টাকা আয় করা যেত। কারণ রমজান মাসে মানুষজন হাঁটাহাঁটি কম করে। তাই রিকশার যাত্রী বেড়ে যায়। এবার যাত্রীই পাওয়া দুস্কর। সংসারের খরচই তুলতে পারছেন না তিনি।

একই অবস্থা পান-সিগারেট বিক্রেতা আল আমিনের। রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ঘুরে ঘুরে বেচাকেনা করেন তিনি। আগে বেচাকেনার পর গড়ে দৈনিক আয় হতো ৫০০ টাকা। গত কয়েক দিনের লকডাউনে বেচাকেনাই হচ্ছে ৫০০ টাকা, আয় হচ্ছে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। এ দিয়ে দিনের থাকা-খাওয়ার খরচই হচ্ছে না। গতকাল আল আমিন বলেন, মানুষজন বাইরে বের হন কম। যারা বের হন, তাদের অনেকেই রোজাদার। তাই বেচাকেনা একদম কমে গেছে। চায়ের দোকানদার বাবুলও জানালেন, বেচাকেনা নেই।

রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মার পাশে বসে ভিক্ষা করেন ফরিদপুরের কাউলিকান্দার প্রতিবন্ধী এসকেন সরদার। তিনি জানালেন, রমজান মাসে মানুষ বেশি দান করায় আয়ও হতো বেশি। কিন্তু এবার প্রথম রমজান থেকেই লকডাউন। মানুষজন নেই রাস্তায়। তাই ভিক্ষাও পাচ্ছেন না। ইফতারের আগে কেউ কেউ খাবার-দাবার দেয়, তা দিয়েই দিন পার করতে হচ্ছে তাকে।

শামসুল আলম, আল আমিন, বাবুল, এসকেনের মতোই দুরবস্থা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য মানুষেরও। লকডাউনে অনানুষ্ঠানিক খাতের দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের আয় কমেছে। কারও কারও আয় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেককে প্রয়োজনীয় খাবারের জন্য ঋণ করতে হচ্ছে অথবা আত্মীয়-পরিজনের সহায়তা নিতে হচ্ছে। অনেকে সামাজিক সহায়তার জন্যও হাত বাড়াচ্ছেন। তবে সবাই ঋণ বা সহায়তা পাচ্ছেন না। গতবছর সাধারণ ছুটির সময় বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এলেও এবার তেমন দেখা যাচ্ছে না।

করোনার প্রথম ঢেউয়ের প্রভাব কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ঢেউ। গত বছরের ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই এখনও বিপর্যস্ত অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ওই সময় দেশে দারিদ্র্যের হার দ্বিগুণ হয়েছিল। নিম্ন আয়ের মানুষ যখন সেই ধাক্কা সামলে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখনই শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব সামাল দিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এর পরও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যাকে বলা হচ্ছে সর্বাত্মক লকডাউন। এতে জরুরি পণ্য ও সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত কার্যক্রমের বাইরে সবকিছু বন্ধ রাখা হয়েছে। এই লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হবে বলে আভাস দিচ্ছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এতে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম আরও কঠিন হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্ভাবনায় পড়েছেন নতুন করে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ধরনের লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমিক ও নিম্নবিত্ত জনগণ। বিশেষ করে যারা শহর ও শহরের উপকণ্ঠে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে অনানুষ্ঠানিক খাতের লোকজন রিকশাচালক, পরিবহনকর্মী, হকার, দিনমজুর, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কামার, কুমোর, জেলে, দর্জি, বিভিন্ন ধরনের মিস্ত্রি, নির্মাণ শ্রমিকসহ দৈনন্দিন আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষ কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। কাজ থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে ভ্যানচালক, ঠেলাগাড়িচালক, রংমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, তালা-চাবির মিস্ত্রি, সাইকেল-ভ্যান, রিকশা ও মোটর গ্যারেজের কর্মীদেরও। মোবাইল রিচার্জের ব্যবসায়ী, ফুল বিক্রেতা, দোকানের কর্মচারী, ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মিষ্টির দোকান ও বেকারি বন্ধ থাকায় গ্রামে দুধ ব্যবসায়ীরা দুধ কিনছেন না। এতে যারা গাভি পালন করেন, তারা ও ব্যবসায়ী উভয়েই সমস্যায় পড়েছেন। মুদ্রণ ও প্রকাশনা খাতের কর্মীরা বেকার বসে আছেন আগে থেকেই। শহরের বস্তিবাসী- যারা বাসাবাড়ি, নির্মাণ খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে দিনমজুরের কাজ করেন, হকারি করেন এবং রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান করেন- তারাও বেকার এখন। সামগ্রিকভাবে কৃষি, শিল্প ও সেবা সব খাতেই নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর লকডাউনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আয় হারিয়ে কর্মহীন বসে থাকার ফলে এ ধরনের মানুষের খাদ্য সংকট ছাড়াও স্বাস্থ্য ও মানসিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতিরও আশঙ্কা রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদরা লকডাউনের সময় দরিদ্রদের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, শহরের দরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিত্তবানদের সহায়তা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। লকডাউন-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের লোকেরা যাতে সহজেই আয় করতে পারে, এমন পরিবেশ সৃষ্টি করার কথা বলছেন তারা।

এরই মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকার লকডাউনে দরিদ্র মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তবে কবে কখন কীভাবে এসব সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি সরকারের পক্ষ থেকে। মন্ত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোয়া কোটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, এক কেজি করে ডাল, তেল, লবণ ও চার কেজি আলু দেওয়া হবে। ৩৬ লাখ পরিবারকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে দেবে সরকার। এক লাখ কৃষককে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বাড়ানো হয়েছে খোলা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি। চালু করা হচ্ছে বিশেষ ওএমএস। দেশব্যাপী ৭৫ হাজার টন চাল ১০ টাকা দরে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। টিসিবির মাধ্যমেও বিক্রি বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের কর্মসূচি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে সরকারের এ কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয়। কারণ, সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছে কিছু মানুষ, যারা আগে থেকেই বিভিন্নভাবে সরকারের কাছে দরিদ্র ও দুস্থ হিসেবে নিবন্ধিত। কিন্তু যাদের সংকটাপন্ন পরিস্থিতির তথ্য সরকারের কাছে নেই, তাদের সহায়তা পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। গত বছরের সাধারণ ছুটির সময় দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেড়েছে। তাদের কারও কারও অবস্থার উন্নতি ঘটলেও নতুন করে লকডাউনের ফলে অনেকেই ফের দরিদ্রের তালিকায় ফিরে গেছেন। এ ধরনের মানুষের জন্য সরকারের সহায়তা আরও বাড়ানো দরকার, বিশেষ করে তাদের নগদ টাকা দেওয়া দরকার।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) এক জরিপ অনুযায়ী, গত বছরের লকডাউনে দরিদ্রের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ শতাংশে। বিআইডিএসের গত বছরের এক জরিপেও দেখা গেছে, এ সময় দেশে এক কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে। সিপিডির জরিপমতে, ওই সময় দারিদ্র্য বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে। পিপিআরসি ও বিআইজিডি বলেছে, দারিদ্র্যের হার ৪৩ শতাংশে উন্নীত হয়। ব্র্যাকের এক জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের সাধারণ ছুটির সময়ে নিম্ন আয়ের অনেকেরই আয় বন্ধ ছিল। আর সাধারণ ছুটির পর তাদের আয় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, কিছু শিল্পকারখানা ছাড়া এখন সবই বন্ধ। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়েছে, অনানুষ্ঠানিক খাতের লোকদের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা শহরেই বেশি। নতুন করে অনেক মানুষ দরিদ্র হয়েছে। সরকারকে এসব বিষয় মাথায় নিয়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। এলাকাভিত্তিক অ্যাসেসমেন্ট করে সহায়তা করা যেতে পারে।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, লকডাউনে নিঃসন্দেহে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল লোকেরা সমস্যায় পড়বে। দারিদ্র্য বাড়বে। এ সময় অবশ্যই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করা যেতে পারে। তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। লকডাউনের পর তাদের আয় সহায়তা দিতে হবে। এজন্য শ্রমঘন সরকারি কার্যক্রম বাড়াতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগ যাতে উৎসাহিত হয় এমন উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, অবশ্যই লকডাউনে দরিদ্রদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা মানুষ খাদ্যের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়ে আসবে। লকডাউনের ফল পাওয়া যাবে না। এজন্য সঠিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থদের তালিকা করে নগদ টাকা দিতে হবে। একইসঙ্গে লকডাউন-পরবর্তী সময়ে তাদের অনুদান হিসেবে পুঁজি দিতে হবে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে করোনার প্রভাবে দরিদ্র মানুষ খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। অনেকে সঞ্চয় ভেঙে খেয়েছেন, ঋণ নিয়েছেন এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেছেন। আবার অনেকে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পথই খুঁজে পাননি। ফলে অনেকেরই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে আসার শংকা তৈরি হয়েছে।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এক সাম্প্রতিক জরিপে বলা হয়েছে, গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৭৮ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারই আর্থিক সংকটে পড়ে। এক বছর পর এর মধ্যে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ এখনও এ সংকট থেকে বের হতে পারেনি। আয়ের সঙ্গে ব্যয় সমন্বয় করতে খাদ্য গ্রহণে আপস করে চলছে এসব মানুষের জীবন। প্রতিদিনকার প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে অনেকে ঋণ করে চলছেন। অনেকের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। দশ ধরনের পেশার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত এক জরিপে এমন ফলাফল পেয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।

এক হাজার ৬০০ পরিবারের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের মার্চের তুলনায় গেল ফেব্রুয়ারিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় কমেছে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সময় তাদের ব্যয় কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। সমীক্ষার আওতায় থাকা প্রায় ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারকে ঋণ নিতে হয়েছিল। এ ঋণ পরিশোধে তাদের আরও অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, প্রতিবন্ধী, বস্তিবাসী ও চরের মানুষজনের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

নিউজ ট্যাগ: লকডাউন

আরও খবর



তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১ | ১০৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে বজ্রসহ বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই এসব এলাকার

দেশের উত্তরাঞ্চলে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে দুই নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সোমবার (১০ মে) রাতে এক পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে বজ্রসহ বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে দুই নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া রাজশাহী, পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিকে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৪৫ থেকে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. আরিফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার (১১ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।


আরও খবর



ঈদের ছুটির সঙ্গে কোন অতিরিক্ত ছুটি নয়

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ মে ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০৩ মে ২০২১ | ৯৯জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটি তিন দিন। এ তিন দিনের সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে অতিরিক্ত ছুটি দিতে পারবে না। এ সিদ্ধান্ত সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

সোমবার (৩ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত হয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

সকাল সাড়ে ১০টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুরু হয় সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই বৈঠক। এতে গণভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। সচিবালয় থেকে অংশ নেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

বৈঠকে বেশ কয়েকটি আইনের খসড়া ও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সংক্রমণ রোধে চলমান বিধি-নিষেধ বহাল রাখতে হবে অন্তত ১৬ মে পর্যন্ত। এ সময় দেশে বিপণিবিতান খোলা থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করলে সেসব তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এছাড়া সর্বত্র মাস্ক ব্যবহার না করলে প্রশাসনিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অতিরিক্ত কোনো বন্ধ দেওয়া যাবে না। সরকারি বন্ধ এমনি তিন দিন। তিন দিনের দুদিন শুক্র ও শনিবার পড়ছে। আরেক দিন বৃহস্পতিবার।

বেসরকারি খাতের কোনো প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পকারখানাও এ তিন দিনের বাইরে বন্ধ দিতে পারবে না। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে তিন দিন বন্ধ থাকবে পোশাকশিল্প খাত।

দেশে করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যে গত ১৪ এপ্রিল এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউন দেয় সরকার। এরপর এক সপ্তাহ করে বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়ানো হয়। বর্তমানে তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। আগামী বুধবার (৫ মে) চলমান বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার কথা।

নিউজ ট্যাগ: ঈদের ছুটি

আরও খবর