আজঃ রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
শিরোনাম
পিরোজপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন

৭৪৭ ভোটারের ৭০৪ জনই চান মহিউদ্দিন মহারাজকে

প্রকাশিত:শুক্রবার ০২ সেপ্টেম্বর 2০২2 | হালনাগাদ:শুক্রবার ০২ সেপ্টেম্বর 2০২2 | ১৭২৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক


Image

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচন। এতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন জেলার প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এ নির্বাচনে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম জেলা পিরোজপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন মহারাজের। সাত উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুরে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ভোটার ৭৪৭ জন। এর মধ্যে ৭০৪ জন ভোটারই জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মহিউদ্দিন মহারাজের পক্ষে লিখিতভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তারা স্বাক্ষরসংবলিত একটি বইও পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর পিরোজপুরসহ দেশের ৬১টি জেলায়, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদেরই জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। সে হিসেবে এ বছরের ১৭ এপ্রিল থেকে মহিউদ্দিন মহারাজ পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে বেশির ভাগ জেলাতেই বর্তমান জেলা পরিষদে প্রশাসক, যারা এর আগে গত ৫ বছর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তারাই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন। আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জেলার উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকেন। তাদের প্রত্যক্ষ ভোটেই নির্বাচিত হয় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

পিরোজপুরে মোট ভোটার রয়েছে ৭৪৭ জন। এর মধ্যে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদে ৯টি ইউনিয়নে ১২০ জন, নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদে ইউনিয়ন ১০টি ও ১টি পৌরসভার ১৪০ জন, পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদে ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৭৯ জন, পিরোজপুর-২ আসন ভান্ডারিয়া সদর উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৯২ জন, কাউখালী এবং ইন্দুরকানী উপজেলায় ৫টি করে ইউনিয়নের ৬৮ জন, মঠবাড়িয়া উপজেলায় ১১টি ইউনিয়নের ১৩৭ জনই স্বাক্ষর দিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন মহারাজকে। মঠবাড়িয়া পৌরসভা থাকলেও সর্বশেষ সংশোধনী আইন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক পৌর পরিষদ বিলুপ্ত হওয়ায় এখানের ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় আনা হয়নি। স্বাক্ষর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৯৪.২৫ শতাংশ ভোটারই মহিউদ্দিন মহারাজের পক্ষে অগ্রিম সমর্থন জানিয়েছেন।

জানা যায়, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে মহিউদ্দিন মহারাজ পিরোজপুরের সব জনপ্রতিনিধির সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নেন। করোনাকালীন সময়েও ওয়ার্ড পর্যন্ত মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ প্রায় ৭৫ হাজার পরিবারের মধ্যে খাবার উপকরণ বিতরণ করা হয়। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাস্তাঘাট, কালভার্ট, স্কুল কলেজে বরাদ্দ, প্রায় প্রতিটি উপজেলায় জেলা পরিষদ বাংলো, উপজেলায় জেলা পরিষদ মার্কেট, জেলা সাতটি সীমানা প্রবেশদ্বারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিসংবলিত বিশাল সীমানা গেট, নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। যা নজর কেড়েছে পুরো জেলার মানুষের।

এদিকে মহিউদ্দিন মহারাজকে পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান- এমন প্রত্যাশা জানিয়ে বিভিন্ন উপজেলার জনপ্রতিনিধিরা তার পক্ষে ব্যানার, পোস্টার ও বিলবোর্ড লাগিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। কেন লিখিতভাবে আগেই সমর্থন জানালেন এমন প্রশ্ন করা হলে নাজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা অমূল রঞ্জন হালদার জেলা পরিষদের প্রশাসক মহিউদ্দিন মহারাজকে জেলা আওয়ামী লীগের আগামীর কান্ডারি উল্লেখ করে বলেন, শুধু জনপ্রতিনিধি না, যে কেউ সমস্যা নিয়ে গেলে মহারাজ তা সমাধান করে দেন। তাই তাকে সমর্থন দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন তারা। পিরোজপুর সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান এসএম বায়েজীদ হোসেন বলেন, মহিউদ্দিন মহারাজের কোনো বিকল্প না থাকায় তারা অগ্রিম তাকে লিখিতভাবে সমর্থন দিয়েছেন। মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান রাহাত বলেন, তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর সব জনপ্রতিনিধির বিভক্তি দূর করে একটি ছাতার নিচে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তাই মহিউদ্দিন মহারাজকে দলীয় সমর্থন দেওয়ার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করেছেন।

অগ্রিম সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে মহিউদ্দিন মহারাজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোটারদের (জনপ্রতিনিধি) কাছ থেকে এমন ভালোবাসা ও স্বীকৃতি পাওয়া নিশ্চয়ই তার জন্য সৌভাগ্যের। দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি সবসময়ই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী জেলা চেয়ারম্যান হিসেবে পিরোজপুরের সব ইউনিয়নের গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেছেন। আগামী নির্বাচনে জেলা চেয়ারম্যান হতে পারলে তিনি পিরোজপুরকে দেশের মধ্যে মডেল জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

ছয় বছর আগে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম জেলা পরিষদের ভোট হয়। সেখানে মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে সবচেয়ে তরুণ প্রার্থী হিসেবে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মো. মহিউদ্দিন মহারাজ। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জেলা পরিষদ ফোরামেরও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


আরও খবর
১৪ দলীয় জোট ছাড়ল বাংলাদেশ জাসদ

শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২