আজঃ বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১
শিরোনাম

প্রধানন্ত্রীর নির্দেশে কৃষককে ন্যায্য মূল্যে দিতে চাই

প্রকাশিত:বুধবার ২৮ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৮ এপ্রিল ২০২১ | ৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, প্রধানন্ত্রীর নির্দেশে কৃষককে ন্যায্য মূল্যে দিতেই সরকার এবার ২৭ টাকা কেজি দরে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন ধান ও ৪০ টাকা কেজি দরে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল ও ৩৯ টাকা দরে দেড় লাখ মেট্রিক টন আতপ চালের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। 

তিনি বলেন, অনেকেই বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলেছেন।

আগে আমরা দেখবো যদি কৃষকেরা নায্যমূল্যে থেকে বঞ্চিত হন তাহলে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। তবে আগে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছাতে হবে। কোনো ক্রমেই এই লক্ষে পৌঁছাতে গাফলতি করা যাবে না। 

বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ, বগুড়া, দিনাজপুর, নেত্রকোনাসহ ৯টি জেলায় ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বোরো ধান ক্রয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, কৃষক ও মিল মালিকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে দেশের খাদ্য মজুদ গড়ে তুলতে হবে। এছাড়াও কোনো কৃষক যাতে গুদামে ধান দিতে এসে হয়রানির ও নির্যাতনের শিকার না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। লেবাররা যেন কৃষকের থেকে অতিরিক্ত ধান না নেয় সেদিকেও আমাদের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। তবে ধান-চালের কোয়ালিটির সঙ্গে কোনো আপোস নেই।

মন্ত্রী বলেন, অনেক আড়তদার ব্যবসা করেন। কিন্তু তাদের পূর্বের লাইসেন্স নেই। যাদের পূর্বের লাইসেন্স নেই তাদের অবশ্যই পূর্বের লাইসেন্স করে নিতে হবে এবং সাতদিন পরপর খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে তাদের রিটার্ন দাখিল করতে হবে। সাতদিনে কতো ধান ক্রয় করলো, কোনো মিল মালিকের কাছে বিক্রি করলো সেই নাম ও নম্বর উল্লেখ করে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। তাহলে আমরা একটা ধারণা পাব কোনো মিলে কত ধান মজুদ রয়েছে। না হলে আমরা হিসাব পাই না। গত বছর তথ্য বিভ্রান্তের কারণে আমরা একটু বিপদে পড়েছিলাম। তাই সেই বিপদে আমরা আর পড়তে চাই না। তাই আমরা আগে থেকেই সতর্ক থাকতে চাই।


আরও খবর



রফিকুল ইসলাম এখন তেজগাঁও থানায়

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ এপ্রিল ২০২১ | ১০৩জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় ৭ এপ্রিল রফিকুল ইসলাম মাদানীকে তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলার লেটিরকান্দা থেকে আটক করে র‍্যাব। পরের দিন ৮ এপ্রিল গাজীপুর মেট্রোপলিটনের গাছা

রফিকুল ইসলাম মাদানীকে ৫ দিনের রিমান্ডে কারাগার থেকে তেজগাঁও থানায় নেওয়া হয়েছে।  রোববার (২৫ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে তাকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেলার মো. আবু সায়েম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঢাকার তেজগাঁও থানায় ২৩(৪)২১ নং মামলায় আদালতে রিমান্ড আবেদ করে পুলিশ। পরে আদালত তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই মামলায় রবিবার পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে তেজগাঁও থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ রফিকুল ইসলাম মাদানীর হাজতি নং-৯৩৮/২১। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় ৭ এপ্রিল রফিকুল ইসলাম মাদানীকে তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলার লেটিরকান্দা থেকে আটক করে র‍্যাব। পরের দিন ৮ এপ্রিল গাজীপুর মেট্রোপলিটনের গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন র‍্যাব। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। 

পরে ১৩ এপ্রিল গাছা থানা পুলিশ গাজীপুর আদালতে রফিকুল ইসলাম মাদানীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তারপর ১৫ এপ্রিল আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ১৮ এপ্রিল দুপুর পৌনে ২টার দিকে ২ দিনের রিমান্ডে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে কারগার থেকে গাছা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। 

এছাড়া গত ১১ এপ্রিল গাজীপুর মেট্রোপলিটনের বাসন থানায় স্থানীয় এক ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম মাদানী বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে। ওই মামলায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২১ এপ্রিল দুপুরে আদালতে রিমান্ড চাওয়া হয়। পরে ভার্চ্যুয়ালি কোর্টের মাধ্যমে শুনানি শেষে আদালত রফিকুল ইসলাম মাদানীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। পরে ২২ এপ্রিল দুপুর সোয়া ১টার দিকে রফিকুল ইসলাম মাদানীকে ২ দিনের রিমান্ডে বাসন থানায় নেওয়া হয়েছিল। রিমান্ড শেষে ওই দুই থানা থেকে তাকে ফের কারাগারে পাঠানো হয়।  রফিকুল ইসলাম মাদানী নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার লেটিরকান্দা গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে। 


আরও খবর



খাদ্য সঙ্কটে ‘৩৩৩’ বাসায় পৌঁছে দিবে খাবার

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ এপ্রিল ২০২১ | ৯৯জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কোনও মধ্যবিত্ত পরিবার যদি খাদ্য সঙ্কটে থাকেন তবে তিনি ৩৩৩ নম্বরে কল দিলে তার বাসায় খাবার পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। আজ রবিবার (২৫ এপ্রিল) সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, গত বছরের তুলনায় মজুত এবার কম, তারপরও ভারত থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। বোরো ধান কেনা হলে সরকারের ত্রাণ বিতরণ নিয়ে কোনও সমস্যা থাকবে না।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর ফলে বাংলাদেশে চলাচল সীমিতকরণের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সারা দেশের কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য সরকার গত বছর বিপুল খাদ্য সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিল। এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে কর্মহীন মানুষের মানবিক সহায়তায় এ পর্যন্ত ৫৭৪ কোটি ৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এনামুর রহমান আরও বলেন, জিআর ক্যাশ দিয়েছি ১২১ কোটি টাকা, ভিজিএফ দিয়েছি ৪৭২ কোটি টাকা। বড় সিটি করপোরেশনগুলোকে ৫৭ লাখ টাকা করে, ছোটগুলোকে ৩২ লাখ টাকা করে দিয়েছি। পৌরসভায় ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেও টাকা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিতরণের জন্য সাড়ে ৭ কোটি টাকার প্যাকেটজাত খাবার ক্রয় করা হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেটে চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি, নুডুলস, চিড়াসহ বিভিন্ন আইটেম আছে। ১০ কেজি চালসহ প্রতিটি প্যাকেটের মধ্যে প্রায় ১৭ কেজি ওজনের খাদ্যসামগ্রী থাকবে যা দিয়ে একটি পরিবারের প্রায় এক সপ্তাহ চলবে বলে আশা করা যায়। আরও ১০ কোটি টাকার খাদ্যসামগ্রী কেনা হবে।

এদিকে ত্রাণ সচিব মো. মোহসীন জানিয়েছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫৭৪ কোটি ৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

কোনও মধ্যবিত্ত পরিবার যদি খাদ্য সঙ্কটে থাকেন তবে তিনি ৩৩৩নম্বরে কল দিলে তার বাসায় খাবার পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। আজ রবিবার (২৫ এপ্রিল) সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।


আরও খবর



পালিয়ে যাওয়া সেই ১০ করোনারোগীকে ধরে ফের হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৭ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৭ এপ্রিল ২০২১ | ১৩৩জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

যশোর থেকে আনোয়ার হোসেন

যশোরের একটি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়া ১০ করোনা রোগীকে ধরে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন ভারতফেরত করোনা পজিটিভ রোগী রয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে পালিয়ে যাওয়া রোগীদের হেফাজতে নেওয়া হয়।

জানা যায়, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ১০ জন করোনা রোগী কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই বাড়ি চলে গিয়েছিল। পরে আজ সোমবার বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ ওই ১০ জন রোগীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এর মধ্যে একজনকে ইতিমধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি রোগীরা পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালের পথে রয়েছেন বলে জানান যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপ কুমার রায় জানান, গত শনিবার সকাল থেকে গতকাল রোববার দুপুরের মধ্যে অনুমতি ছাড়াই তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার পালিয়ে যাওয়া রোগীদের নাম-ঠিকানা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছেন, তারা ১০ জনকেই হেফাজতে নিয়েছেন।

এর আগে গত শনিবার ও গতকাল রবিবার যশোর জেনারেল হাসপাতালের তৃতীয় তলায় করোনা ওয়ার্ডে ১০ জন করোনা পজিটিভ রোগীকে ভর্তি করা হয়। তারা হলেন মালা দত্ত, ফাতেমা বেগম, রোমা, মমিন, নাসিমা বেগম, শহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী শেফালি রানি, আমিরুল সানা ও সোহেল। এরা সবাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই চলে গিয়েছিলেন।


আরও খবর



দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ শুক্রবার

প্রকাশিত:বুধবার ১২ মে ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ মে ২০২১ | ৭১জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এ বছর ৩০ রমজান পূর্ণ হচ্ছে। সেই  হিসেবে আগামী শুক্রবার দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে।

আজ  বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে ঈদুল ফিতর উদযাপনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বৈঠক শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সারা দেশ থেকে আমরা খোঁজ নিয়েছি। দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই এ বছর রমজান ৩০টি পূর্ণ হবে এবং আগামী শুক্রবার দেশে ঈদ উদযাপন হবে।

এদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এবার ৩০টি রোজা হচ্ছে। এ কারণে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সেসব দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে।

নিউজ ট্যাগ: চাঁদ দেখা যায়নি

আরও খবর



শরীয়তপুরে ফের মহিলা কওমী মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষণ : গ্রেফতার ১

প্রকাশিত:শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ | ৮১২জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মাত্র ৭ দিন না পেরুতেই ফের এক কওমী মাদ্রাসার অধ্যক্ষের লালসার শিকার হলো ৯ বছরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। কোন রকম থানা পুলিশ কিংবা আইনের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় সমাজপতিরা নির্যাতিত মেয়েটির পরিবারকে জিম্মি করে সম্ভ্রমের দাম উঠিয়েছেন তিন লাখ টাকা। সমাজের মাতুব্বরদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা নির্যাতিতার পরিবারের কেউ।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট সংলগ্ন পাইনপাড়ার চরে অবস্থিত বায়তুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসায় এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আজিজ শেখের ছেলে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে। মাত্র ৭ দিন আগে পার্শ্ববর্তী পালেরচর ইউনিয়নের দড়িকান্দি মহিলা কওমী মাদ্রাসার ৮ বছর বয়সের এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ওই মাদ্রাসার হেড ক্লার্ক আব্দুল হান্নান। এ ঘটনায় ৪ জনকে আসামী করে জাজিরা থানায় মামলা হয়েছিল। ৭ দিন না পেরুতেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো মাত্র ২ কিলোমিটার দুরে পাইনপাড়া চরের আরেক মহিলা কওমী মাদ্রাসায়।

ঘটনার তিনদিন পর সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে ৭ টা ৩০ এর মধ্যে বায়তুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমির হামজা মাদ্রাসারই ৯ বছর বয়সী নাজেরানা বিভাগের এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। ভূক্তভোগীর পরিবার আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে চাইলে স্থানীয় মাতুব্বররা সেটা করতে দেননি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সমাজপতি মাতুব্বররা এলাকায় ১৫ এপ্রিল বিকেলে সালিশ দরবার করে অধ্যক্ষ আমির হামজাকে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা ও দশ ঘা জুতাপেটা করেন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কিশোরীর বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায় নি। তার মা জানান, মেয়ে বাড়ি নাই। আমাদের তো এলাকায় থাকতে হবে। বিষয়টি এলাকার পাঁচজন মিটমাট করে দিয়েছে। আমি ওর বাবার সাথে কথা না বলে আপনাদের কিছু জানাতে পারব না। যে মিটমাট হয়েছে তাতে আপনারা কী ধরনের বিচার পেয়েছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাক ছিলেন যৌন নির্যাতনের শিকার কিশোরীর মা। তবে মেয়েটির দুলাভাই পরিচয়ে একজন জানান, ঘটনা সত্য। আপনাদেরও মা বোন আছে, বিষয়টি নিয়ে আপনারাও চুপ থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূক্তভোগীর এক প্রতিবেশী বলেন, আপনারা এখন আসছেন? মাতুব্বররা গতকাল বৃহস্পতিবার এলাকায় দরবার সালিশ করে বিষয়টি মিটমাট করে দিয়েছেন। তারা নদীর ওপাড়ে মঙ্গল মাঝির ঘাটে আছেন, সেখানে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলুন।

বায়তুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায় মাদ্রসাটির প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে, জানা যায় এলাকার মাতুব্বররা ছয় মাসের জন্য মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দিয়েছেন।

অধ্যক্ষ আমির হামজার বাড়ি গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বড় ভাই মনির হোসেন জানান, শয়তানের ধোকায় পড়ে আমার ভাই একটি ভুল কাজ করে ফেলছে, এলাকার মাতুব্বররা দরবার সালিশ করে বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছেন। লজ্জায় আমরা চোখ তুলে তাকাতে পারিনা। আমির হামজা কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই এলাকায় নাই, তিনি ভালো হলে আবার ফিরে আসবেন।

পাইনপাড়া চর থেকে পদ্মানদী পাড়ি দিয়ে মাঝিরঘাট এসে পাওয়া যায় ঐ সালিশ বোর্ডের এক সদস্যকে। তিনি জানান, একটি ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটছে। আমরা এলাকার প্রায় চার পাঁচশত মানুষের সামনে গ্রামের মাতুব্বর কালু মাঝি, রাজ্জাক মাঝি, বাচ্চু মাদবর, মোকলেছ মাদবর, লতিফ বেপারী, প্যানেল চেয়ারম্যান আজহার মুন্সীসহ স্থানীয়রা মিলে একটি সিদ্ধান্ত দিয়েছি। তাতে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ধার্য করে পঞ্চাশ হাজার টাকা মাফ করে তিন লক্ষ টাকা নির্যাতিতার ভবিষ্যতের জন্য অধ্যক্ষ আমির হামজাকে জরিমানা করেছি। এ সময় আমির হামজার ভাই দুলাল উত্তেজিত হয়ে সকলের সামনে আমির হামজাকে জুতাপেটা করেছেন।

এবিষয়ে পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লালচাঁন মাদবর বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি, আমারও সালিশীতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অন্য একটি দরবার থাকায় আমি যেতে পারিনি, তবে আমি প্যানেল চেয়ারম্যান আজহার মুন্সীকে পাঠিয়েছি। কওমী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কর্তৃক শিশু ধর্ষণের মত একটি গুরুতর বিষয় আপনার প্রতিনিধিত্ব করে প্যানেল চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় মুরুব্বীরা মীমাংসা করতে পারেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেমনে কি করছে আমি জানি না।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মিন্টু মন্ডল বলেন, আজকের দর্পণসহ অন্যান্য সংবাদ কর্মীদের কাছ থেকেই প্রথম জেনেছি। জানার পর আমি রাতে প্রায় ১টার দিকে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত আমির হামজাকে গ্রেফতার করেছি। আসামি ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেছেন। নির্যাতিতাকে মেডিকল পরীক্ষার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

এঘটনায় নির্যাতিত শিশুটির জবানবন্দির ভিত্তিতে জাজিরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯/১/৩০ ধারায় মামালা দায়ের করেন ধর্ষিতার পিতা। ধর্ষণের শিকার মেয়েটির স্বাস্থ পরীক্ষার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: শিশু ধর্ষণ

আরও খবর