আজঃ শনিবার ০২ মার্চ 2০২4
শিরোনাম

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:রবিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের বাদ দিয়ে রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। রোববার (৩ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ৩২তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২৫তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস-২০২৩ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। দিবসটি উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসের প্রতিপাদ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্মিলিত অংশগ্রহণ, নিশ্চিত করবে এসডিজি অর্জন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ন্যায় বহুবিধ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিবন্ধী ও অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের ওয়ানস্টপ সার্ভিস প্রদানে দেশের ৬৪টি জেলা ও ৩৯টি উপজেলায় মোট ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় থেরাপিউটিক সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৪৫টি ভ্রাম্যমাণ মোবাইল রিহ্যাবিলিটেশন থেরাপি ভ্যান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার পথ অবারিত করতে সারাদেশ ৭৪টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও ১২টি স্পেশাল স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অটিজম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে ঢাকার মিরপুরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ তলা বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স (সুবর্ণ ভবন) নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুপ্রাণিত করতে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা জেলার সাভারে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতধারায় আনা ও দেশের উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত করে তাদের জীবনমান উন্নয়ন, সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবাসহ অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়নে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আইন, ২০২৩ একাদশ জাতীয় সংসদের ২৫তম অধিবেশনে পাস হয়েছে। ফলে, একদিকে যেমন ২০৩০ সাল নাগাদ জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের অবস্থান থেকে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে সক্ষম হবো বলে আমি প্রত্যাশা করি।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবন্ধীদের সার্বিক উন্নয়নে আমি সরকারের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের জনগণ, সংশ্লিষ্ট সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোকে সমন্বিত ভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

এসময় প্রধানমন্ত্রী ৩২তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২৫তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।


আরও খবর
শপথ নিলেন নতুন ৭ প্রতিমন্ত্রী

শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪




শীত বাড়তে পারে, আগামী সপ্তাহে ফের বৃষ্টির আভাস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

আজ থেকে আগামী কয়েক দিন রাতের তাপমাত্রা ক্রমে কমে শীত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহে ফের বৃষ্টি শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা বেড়ে শীত কমেছে। বৃহস্পতিবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। একদিন আগে সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হয়েছে। এসময়ে নওগাঁর বদলগাছীতে ৩ মিলিমিটার, রাজশাহী ও সৈয়দপুরে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

এসময়ে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানান হাফিজুর রহমান।

শুক্রবার আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

শনিবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা রয়েছে বলেও পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


আরও খবর
সারা দেশে কমতে পারে রাতের তাপমাত্রা

সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৫

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মীর ইমরান, মাদারীপুর

Image

মাদারীপুরের শিবচরে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে ঘটনাস্থলে ২ জন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ৩ জন নিহত হন।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে ৭টার দিকে শিবচর উপজেলার সূর্যনগর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসে হানিফ পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস। বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের শিবচর উপজেলার সূর্যনগর এলাকায় আসলে পেছন থেকে একটি ট্রাক যাত্রীবাহী বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের দুই যাত্রী নিহত হন এবং হাসপাতলে নেওয়ার পথে আরও তিন যাত্রী মারা যান। এই ঘটনায় আহত হন বেশ কয়েকজন।

এ ছাড়াও শিবচরের পাচ্চর এলাকার রয়েল হাসপাতালে আহত পাঁচ জনকে নেওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া কয়েকজনকে আশপাশের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাকিল জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে দুই জন নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে আরও তিনজন মারা গেছেন।


আরও খবর



সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতেই হবে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

দেশের সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫ শতাংশ হারে ট্যাক্স দিতে হবে বলে আজ মঙ্গলবার রায় দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগ।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ শতাংশ আয়কর দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা নয়। শিক্ষার্থীদের ওপর এর কোন প্রভাব পড়বে না। যাবতীয় খরচের পর যা উদ্বৃত্ত থাকবে তার ওপর ট্যাক্স দেবে বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ২৮ জুন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনুমোদিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অপরাপর বিশ্ববিদ্যালয় যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়, তাদের উদ্ভূত আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে আয়কর পুনঃনির্ধারণ করা হলো। ১ জুলাই থেকে এটা কার্যকর হবে।

২০১০ সালের ১ জুলাই এনবিআরের আরেক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা শুধু তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজ ও উদ্ভূত আয়ের ওপর প্রদেয় আয়করের হার হ্রাস করে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো।

পরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রিট আবেদন করলে ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর ধার্য করাকে অবৈধ ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত। এর বিরুদ্ধে সরকারের আপিলের পর আপিল বিভাগ ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এক আদেশের মাধ্যমে সরকারের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর আরোপ না করার আদেশ দিয়েছিলেন।


আরও খবর
জজ কোর্ট চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




বেইলি রোডে আগুনে নিহত বেড়ে ৪৫

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীর বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জনের মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মার্চ) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম হেদায়েতুল ইসলাম।

এর আগে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন ৪৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। রাত দুইটার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে মারা যান আরও একজন।

রাত দুইটা ৩৫ মিনিটের দিকে ৪৪ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ৩৩ জন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ জন এবং রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল (সিপিএইচ) ১ জনের মৃতদেহ রয়েছে। পরে ঢাকা মেডিকেলের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও একজন। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫-এ।

মৃতদেহ শনাক্তের পর স্বজনদের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া রাতেই শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আহত কিংবা দগ্ধ অবস্থায় যারা ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন, তাদের মধ্যেও ২২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আহত ২২ জনের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক, তাদের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। অনেকের শরীরের বাইরের অংশে পোড়া নেই, কিন্তু ভেতরে পুড়ে গেছে। শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে রয়েছে ৮ জন আর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে ১৪ জন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ধীরে ধীরে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এক ঘণ্টার বেশি চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে উদ্ধার কাজে যোগ দেয় বিজিবিও।

এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর। কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।


আরও খবর



বগুড়া প্রায় সাড়ে ৮শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহিদ মিনার

প্রকাশিত:বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বগুড়া প্রতিনিধি

Image

বগুড়া বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৮শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহিদ মিনার। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই তিনটি কলাগাছ দিয়ে অস্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়। তারপর সেই শহিদ মিনারে স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ভাষা শহিদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের শোনপচা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ৩০ বছর থেকে এভাবেই শহিদদের স্মরণ করা হয়।

ওই বিদ্যালয়ের মত আরও বেশি সময় থেকে জেলার আদমদীঘি উপজেলার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা ভাষা শহিদদের স্মরণে পায়ে হেঁটে  প্রায় দেড় মাইল দূরে উপজেলা সদরের শহিদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। একইভাবে বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাঁচপীর মাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় এক কিলোমিটার দূরের অপর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহিদ বেদীতে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের স্মরণ করেন।

শুধু এই তিনটি বিদ্যালয়ই নয়, ভাষা আন্দোলনের ৭২ বছর পরও বগুড়ার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এখনও নির্মাণ করা হয়নি শহিদ মিনার। যেসব প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই ভাষা দিবস এলেই ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর কলাগাছ কিংবা বাঁশ-কাঠ দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহিদ মিনার তৈরি করে শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হয়।

আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শুধু পতাকা উত্তোলন করে বিশেষ দিবস পালন করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শিক্ষা অর্জনে। জাতীয় দিবসের গুরুত্ব ও শহিদদের সম্পর্কেও জানতে পারছে না তারা। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ৫২'র রাজপথ রক্তে ভিজিয়ে ছিলেন আমাদের পূর্ব-পুরুষেরা।

তাদের আত্মত্যাগের ফসল আজকের এই বাংলা ভাষা। পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বাঙালিরাই ভাষার জন্যে জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। বাঙালীদের সাথে সাথে সারা বিশ্ব ২১ ফেব্রুয়ারিকে পালন করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে।

১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাতে তৈরী করা হয়েছিলো শহিদ মিনার। সরকারী নির্দেশনায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকার কথা থাকলেও জেলার শিক্ষা দপ্তরগুলোর তথ্য অনুযায়ী জেলায় প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরী সরকারি-বেসরকারি সব মিলে ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এরমধ্যে প্রায় সাড়ে ৮শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। প্রাথমিকে ১ হাজার ৬৫৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১ হাজার ৫৫২টি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার রয়েছে বলে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর দাবি করছে।

মাত্র ৭২টিতে নেই বলে তারা জানিয়েছে। অপরদিকে সরকারি-বেসরকারি সব মিলে জেলায় নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, স্কুল এন্ড কলেজ, কলেজ, স্নাতক পর্যায়ের কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ৭৭টি রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৩১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার রয়েছে, ৭৬৭টি প্রতিষ্ঠানে নেই বলে জানিয়েছে জেলা শিক্ষা দপ্তর।

আদমদীঘি উপজেলার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম তালুকদার জানান, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন হয়। অর্ধ শতাধিক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। ভাষা দিবসসহ বিশেষ দিবসগুলোতে প্রায় দেড় কিলো দূরে উপজেলা সদরের শহিদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। তারাও বারবার নির্মাণের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের শোনপচা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, ১৯৯৪ সালে ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠার ৩০ বছরেও ওই বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। অথচ বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে ৪৫৩জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভাষা দিবসসহ বিভিন্ন বিশেষ দিবসে কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে শহিদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রায় ৯০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বগুড়া শহরের অভিজাত এলাকায় গড়ে ওঠা ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আজ অব্দি নির্মাণ করা হয়নি শহিদ মিনার।

ভাষা দিবসসহ বিশেষ দিবসগুলোতে ওই বিদ্যালয় জেলা প্রশাসনের সাথে মিলিত হয়ে দিবসগুলো পালন করে বলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাদৎ হোসেন জানান। তিনি বলেন, স্কুলে শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে নক্শার কাজ শুরু করা হয়েছে, আশা করা যাচ্ছে আগামি বছর ভাষা শহিদ দিবসের আগেই শহিদ মিনার নির্মাণ হবে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহিদ মিনার বিষয়ে শিক্ষা দপ্তরগুলোর পাঠানো তথ্যের সাথে বাস্তবের তেমন মিল নেই।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে শহিদ দিবস পালনের প্রস্তুতি সভায় জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহিদ মিনার বিষয়ক তথ্য শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে জেলা সার্বিক তথ্য দিলেও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সে সময় কোন তথ্যই দিতে পারেননি। পরে তড়িঘড়ি করে এই যে তথ্য জেলা প্রশাসকের দফতরে পাঠিয়েছেন, তার সাথে বাস্তবতার গড়মিল খুঁজে পাওয়া গেছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ হজরত আলী জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই সেইসব প্রতিষ্ঠানকে শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। শহিদ মিনার নির্মাণে খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন হয় না, আন্তরিকতাটাই বড়। প্রতিষ্ঠান প্রধান, ম্যানেজিং কমিটি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য বা ধনাঢ্য ব্যক্তিরা যদি একটু আন্তরিক হন তবে অবশ্যই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই শহিদ মিনার নির্মিত হবে। তবে তারা তা না করে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরাদ্দের অপেক্ষায় থাকেন , যা সত্যি দুঃখজনক।

নিউজ ট্যাগ: শহিদ মিনার

আরও খবর