আজঃ মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

রাবির ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে নয় কেন?

প্রকাশিত:রবিবার ২৮ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ মে ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে আগামীকাল ২৯ মে থেকে৷ এতে ৩৯৩০টি আসনের বিপরীতে তিনটি ইউনিটে চূড়ান্ত পর্যায়ে আবেদন করেছেন ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫৭৪ জন শিক্ষার্থী।

রাবি'র এই ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজশাহীতে প্রতিবারের ন্যায় এবারও কমপক্ষে তিন লক্ষ মানুষের আগমন ঘটতে যাচ্ছে। তবে, ছোট্ট শহর রাজশাহীতে হঠাৎ করে এতো মানুষের আগমনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় নানাবিদ সংকট। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী-অভিভাবকের আবাসন নিয়ে পড়তে হয় মহা সংকটে। সেই সাথে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও আছে নানা ভোগান্তি। ইতোমধ্যেই, মহানগরের বেশির ভাগ হোটেল-মোটেলের কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের মেস এবং আবাসিক হলগুলোতে তীব্র আবাসন সংকটের। গাদাগাদি করেও থাকার সুযোগ হয় না অনেকের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

এমতাবস্থায়, প্রশ্ন উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে আয়োজন করতে বাঁধা কোথায়?

গত বছর ভর্তি পরীক্ষার আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থী-অভিভাবকগণের ভোগান্তি এড়াতে বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চিন্তাভাবনা আছে। তবে, এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

জানা গেছে, ক্যাম্পাসের বাইরে পরীক্ষা নিতে রাজি নন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপকগণের একটি বড় অংশ। তবে গুঞ্জন আছে, রাজশাহী মহানগরের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের একটি প্রচ্ছন্ন চাপও আছে যেন পরীক্ষা রাবি ক্যাম্পাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি প্রশ্নফাঁসের শঙ্কা, জনবল সংকট, একক ভর্তি পরীক্ষার প্রজ্ঞাপনের কারণেই বিভাগীয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না

তাঁরা বলছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় এযাবৎকালে প্রশ্নফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বেশ কিছু জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেলেও, ক্যাম্পাসেই ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র থাকায় প্রশ্নের নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। ঢাবি'র মতো বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা আয়োজন করতে গেলে প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় অনুযায়ী একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় গত ১৫ এপ্রিল। তবে, তারও আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, যেহেতু সামনের বছরগুলোতে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না, তাই আলাদা করে শুধু একটি শিক্ষাবর্ষের জন্য বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত থেকে অনেকটাই সরে আসে রাবি প্রশাসন।

তবে প্রশাসনের এমন দাবি মানতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয় কিছু শিক্ষক। এদের মধ্যে একজন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খান। এবিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি বিভাগীয় শহরে সফলভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারে, তবে রাবি কেন পারবে না? প্রশ্নফাঁস এড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধান করবে;  এবং  আমি মনে করি এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় লোকবল রয়েছে। বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসন চাইলেই শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি নিরসন করতে পারতো।

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী বলেন, বিভাগীয় শহরে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে; তবে আমাদের বুঝতে হবে যেই বলয়ের মধ্যে আমরা ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রমটি সম্পন্ন করে থাকি, সেটা যেন দুর্বল না হয়ে যায়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় অধিকাংশ শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রচ্ছন্ন চাপকেই বেশি দায়ি করছেন। তারা বলছেন, বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা না হাওয়ার পেছনে প্রশাসনের উপর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চাপকেই বেশি দায়ি বলে মনে করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে চাঙ্গা হয়ে উঠে রাজশাহী মহানগরীর হোটেল-মোটেল, পরিবাহন ও ম্যাস মালিকদের ব্যবসা-বাণিজ্য। জানা গেছে, শুধু এই সময়টুকুতেই হোটেলগুলো সবচেয়ে বেশি আয় করে থাকে। আবাসন সংকটকে কাজে লাগিয়ে হোটেলে রুম ভাড়া তিন থেকে চার গুণ বাড়িয়ে দেন হোটেল মালিকরা। ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে হলে এই আয় অনেকটাই কমে যাবে। গুঞ্জন আছে, মহানগরের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা ও ব্যবসায়ীদের একটি প্রচ্ছন্ন চাপও আছে বিভাগীয় শহরে যেন পরীক্ষা না হয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, গত দুবছর ধরে দেখছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সমন্বয় সভা হয় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ে। অথচ এটা হওয়ার কথা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে। এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান; ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয় স্বাধীনভাবে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিকে পুঁজি করে একটা বড় বাণিজ্য হয় রাজশাহী শহরেএটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকট রয়েছে। এছাড়া, আগামীতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে তাও বলা যাচ্ছে না।

ইতোমধ্যেই আপনারা জেনে গেছেন, রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব বাস্তবতায় এ বছর বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।


আরও খবর



ফ্রান্সের নির্বাচনে বামপন্থিদের জয়, হচ্ছে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটে কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে আনুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে বামপন্থি জোট নিউ ফ্রন্ট পপুলার (এনএফপি) সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটে উগ্র ডানপন্থিরা এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় দফায় তারা তা ধরে রাখতে পারেনি। এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বামপন্থি এনএফপি এগিয়ে রয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ৫৭৭ আসনের পার্লামেন্টে বামপন্থি এনএফপি জোট ১৮২ আসন পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থি জোট এনসেম্বল পেয়েছে ১৬৮টি। আর উগ্র ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‌্যালির (আরএন) পেয়েছে ১৪৩টি আসন। এছাড়া কনজারভেটিভ রিপাবলিক পেয়েছে ৬০টি আসন।

ফ্রান্সে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন হয় ২৮৯টি আসন। নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী তিন পক্ষের কেউই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। সেক্ষেত্রে বাম জোটকে সরকার গঠন করতে হলে অন্যদের সমর্থন নিতে হবে। যদিও তিন পক্ষের একসঙ্গে কাজ করারও নজির নেই। এ অবস্থায় ফ্রান্সে এখন ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠনের সম্ভাবনাই বেশি।

এদিকে রোববারের (৭ জুলাই) প্রাথমকি ফলাফল ঘোষণার পর দেশটির নিউ পপুলার ফ্রন্টের সমর্থকেরা রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে আনন্দ উচ্ছ্বাস আর মিছিল করেছে।

নিউ পপুলার ফ্রন্টের নেতারা বলছেন, জনগণের কাছে দেয়া অঙ্গীকার তারা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দ্রুত বাম জোটকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন বলে আশাবাদী সমর্থকরা।

গত রোববার (৩০ জুন) ফ্রান্সে প্রথম ধাপের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে প্রায় ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় লাভ করে মেরিন লে পেনের কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‍্যালি (আরএন)। অন্যদিকে প্রায় ২৯ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান পায় বামপন্থি দলগুলোর জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট। ম্যাক্রোঁর দল ২০.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে যায়।


আরও খবর



‘ব্রেস্ট ক্যানসার নিয়ে দেরিতে এলে কিছুই করার থাকে না’

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ব্রেস্ট ক্যানসার নিয়ে গ্রামের মায়েরা অনেক দেরিতে আসেন। খুব বেশি দেরি হলে অপেক্ষা করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না। ব্রেস্ট ক্যানসার শুরুর দিকে শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসা করা যায়।

বুধবার (২৬ জুন) সকালে হাজারীবাগে শহীদ শামসুননেছা আরজু মনি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ১০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটা ব্যাপার আমাদের দেশে কমন যা সাধারণ মায়েরা অবহেলা করে। সেটা হচ্ছে ব্রেস্ট ক্যানসার। আপনাদের কাছে যখন রোগী আসবে তখন আপনারা খেয়াল করবেন ব্রেস্টে কোনো লাম্প আছে কি না। আপনারা যদি সে রকম কোনো রোগী পান তাহলে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠাবেন। সেখানে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসহ ব্রেস্ট স্ক্রিনিংয়ের সেরা ফ্যাসিলিটি আছে। আপনারা যদি এই রকম দশজন, পনেরজন করে রোগী পাঠান আমরা বিনামূল্যে সবরকমের পরীক্ষা করে তাদের চিকিৎসা করব।

শহীদ শামসুননেছা আরজু মনি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে আরও উন্নতমানের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, শেখ পরিবারের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, লেখক, সাংবাদিক ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মণির সহধর্মিণী একজন মহীয়সী নারীর নামে প্রতিষ্ঠিত এই কল্যাণ কেন্দ্রের উন্নয়নে যা যা করা দরকার সবই আমি করব। দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে মা ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নতির কোনো বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্য শিক্ষা সচিব মো. আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা এবং ঢাকা- ১০ আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ।


আরও খবর
বাড়ছে ডেঙ্গু, শতাধিক নতুন রোগী শনাক্ত

বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪




কোটা সংস্কারের দাবিতে আজ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সরকারি চাকরিতে কোটাপ্রথা বাতিল করে জারি করা ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল রাখার দাবিতে শনিবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টায় সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল করবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার অনলাইন ও অফলাইনে এই কর্মসূচির পক্ষে প্রচারণা চালায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে সমর্থন দিচ্ছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরব।

এ ছাড়া রোববার (৭ জুলাই) সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ছাত্র ধর্মঘটের ঘোষণাও দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

অন্যদিকে নতুন সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রত্যয়’ প্রত্যাহারের দাবিতে আগামীকাল রোববার থেকে আবারও সর্বাত্মক কর্মসূচি শুরু হবে। কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা হবে না।

সর্বজনীন পেনশন প্রত্যয়’ স্কিমকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে এটি প্রত্যাহারের দাবিতে গত সোমবার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কর্মবিরতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

এদিকে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জের ধরে সারজিস আলম নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে অমর একুশে আবাসিক হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাবির কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ওই হলের সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। পরে আলমকে হলে ফেরায় হল প্রশাসন।


আরও খবর



কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শাহবাগ অবরোধ

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে ফের শাহবাগ অবরোধ করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। রোববার (৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন।

এর আগে গতকাল শাহবাগ মোড় সমাবেশ থেকে আজ সারাদেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম। সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল ও ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল সহ চার দফা দাবিতে সরাদেশে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে গতকাল নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামীকাল বাংলা ব্লকেড শুধু শাহবাগ নয়। রাজধানীর সাইন্সল্যাব, মতিঝিল, নীলক্ষেত, চানখারপোল, কাটাবন সহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমরা অবস্থান করবো। আন্দোলন সফল করতে আপনারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেমে আসুন। যারা ঢাকার বাহিরে বিভিন্ন জেলায় আছেন তারা মহাসড়ক অবরোধ করবেন।

হরতালের হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আমারা দুই তিন দিন রাস্তা অবরোধ করে ঘরে ফিরে যাবো সরকারের এই ধারণা ভুল। আমরা এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। প্রয়োজনে আমরা সারাদেশে হরতাল কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

এদিকে আজ দুপুর দুইটা থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামতে জড়ো হতে থাকেন। দুপুর তিনটার আগেই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে হাজারো শিক্ষার্থীর জনসমাগম হয়ে যায়। ঠিক তিনটায় শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন শাহবাগের উদ্দেশ্যে। শুধু ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেই শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিলে কোটা না মেধা, মেধা মেধা; কোটা প্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক; আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই; আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম; হাইকোর্ট না রাজপথ,রাজপথ রাজপথ; দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ ইত্যাদি স্লোগান দেন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে।

শিক্ষার্থীদের চারদফা দাবিগুলো হলো:

১. ২০১৮ সালে ঘোষতি সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরপিত্র বহাল রাখা।

২. ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সকল গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া এবং সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা।

৩. সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া।

৪. দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলান্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

ছাত্রলীগের বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা:

ছাত্রলীগের বাধা উপেক্ষা করে কোটা বিরোধী আন্দোলনে আসছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিনই হল পাড়া এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা একযোগে এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে। আন্দোলনে অংশ নিতে সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থীদের করা একটি ব্যানার ছিড়ে ফেলেছে হল ছাত্রলীগের কর্মীরা। কিন্তু আবারো শিক্ষার্থীরা চাঁদা তুলে ব্যানার বানিয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেস বলে জানিয়েছেন সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থীরা।

নারী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য:

কোটাবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। প্রতিদিনই নারী শিক্ষার্থীরা তাদের হল থেকে আলাদা করে বড় একটি মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন। মিছিলের প্রথম সারিতেই মেয়েরা অবস্থান নেয় প্রতিদিন। শাহবাগেও কোটাবিরোধী স্লোগান, বিদ্রোহী গান, কবিতা আবৃত্তিতেও মেয়েদের অংশগ্রহন উল্লেখযোগ্য। আন্দোলনের নেতৃস্থানীয়রা বলেন, মেয়েদের হলগুলো থেকে প্রথম দুইদিন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কম ছিলো। তারা ভয়ে শুরুতে আসতোনা। কিন্তু এখন মেয়েদের সবগুলো হল থেকেই উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ হচ্ছে আন্দোলনে।


আরও খবর



শিশু নিখোঁজের তথ্য ভিত্তিহীন ও অসত্য: ডিএমপি

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীতে শিশু নিখোঁজের কোনো অস্বাভাবিক তথ্য না থাকার কথা জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ গুজব ছড়াচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির অতিরিক্ত কমিশনার খ. মহিদ উদ্দিন।

সম্প্রতি ফেসবুকে করা কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়, ঢাকাসহ চট্টগ্রামে অস্বাভাবিকভাবে শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটছে। এ সংক্রান্ত একটি পোস্টে বলা হয়, ৪৮ ঘণ্টায় ঢাকাসহ চট্টগ্রামে ৩৫ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। আপনারা শিশুদের সাবধানে রাখুন। বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেকে।

রবিবার সাংবাদিকরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার খ. মহিদ উদ্দিনকে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশু নিখোঁজের বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়েছে। তবে, এসবের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। বেশিরভাগই ভিত্তিহীন ও অসত্য।

যারা হারিয়ে গেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হচ্ছে, পরে তাদের অনেককেই খুঁজে পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন ডিএমপির এ কর্মকর্তা। তিনি জানান, কিন্তু সেটি আর প্রচার হচ্ছে না।

প্রতিমাসে স্বাভাবিকভাবেই কিছু নিখোঁজের খবর পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।

খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ডিএমপির পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, অস্বাভাবিক কোনো পরিসংখ্যান আমাদের চোখে পড়েনি। ইনজেনারেলি আমাদের এ ধরনের কিছু রিপোর্ট থাকে, প্রতি মাসেই। সোশ্যাল মিডিয়াতে যদি ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার কথা বলা হয়ে থাকে সেটি হয়তো সঠিক নয়।


আরও খবর