আজঃ বুধবার ১৯ জুন ২০২৪
শিরোনাম

রূপপুরের মালামাল নিয়ে মোংলায় ভিড়লো বিদেশি জাহাজ

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ০৬ মে ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

মোংলা থেকে নূর আলম (বাচ্চু),

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালামাল নিয়ে সরাসরি রাশিয়া থেকে ছেড়ে আসা বিদেশি জাহাজ এমভি আনকা সান বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে। বিভিন্ন ধরনের মেশিনারি পণ্য নিয়ে আসা এ জাহাজটি শনিবার (৬ মে) দুপুর ১২টায় বন্দরের ৮নম্বর জেটিতে ভিড়ে।

বিদেশি এ জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট কনভেয়ার শিপিং লাইন্সের খুলনার ম্যানেজার (অপারেশন) সাধন কুমার চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: ভয়ংকর মাদক আইসের সবচেয়ে বড় চালান জব্দ

তিনি বলেন, ২ এপ্রিল রাশিয়ার নভোরোসিয়েস্ক বন্দর থেকে ১৬২২ দশমিক ৯০৪ টন মেশিনারি পণ্য নিয়ে মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে বিদেশি জাহাজ এমভি আনকা সান। এরপর শনিবার দুপুর ১২টায় মোংলা বন্দরের ৮নম্বর জেটিতে ভিড়ে রাশিয়ান পতাকাবাহী এ জাহাজটি। এরপর দুপুর থেকেই জাহাজ থেকে ৬৩০ প্যাকেজে আসা বিভিন্ন মেশিনারি পণ্য খালাসের কাজ শুরু হয়। খালাস শেষে এ পণ্য সড়ক পথে নেওয়া হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব জেটিতে।

২৫ এপ্রিল রূপপুরের মালামাল নিয়ে রাশিয়া থেকে সরাসরি মোংলা বন্দরে এসেছিল এমভি ইয়ামাল অরলান। এর আগে এসেছিল এমভি ড্রাগনবল ও এমভি কামিল্লা। এরও আগে আরেকবার এসেছিল আনকা সান।

আরও পড়ুন: সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেলো ২ শ্রমিকের

রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে ভারত হয়ে মোংলা বন্দরে আসে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন ধরনের মালামালের কয়েকটি চালান। অন্যদিকে সম্প্রতিকালে সাতটি জাহাজ কোম্পানির ৬৯টি জাহাজে রূপপুরের পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফলে নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা জাহাজগুলো রাশিয়া থেকে রূপপুরের পণ্য নিয়ে সরাসরি মোংলা বন্দরে আসছে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা জাহাজগুলো রাশিয়া থেকে পণ্য নিয়ে ভারতের হলদিয়া বন্দরে খালাস করছে, পরে তা বাংলাদেশ-ভারত ট্রানজিট চুক্তির আওতায় সেখান থেকে সে পণ্য আসছে মোংলা বন্দরে। আবার কোনো কোনো পণ্য হলদিয়া বন্দর থেকে সড়ক পথেও আসছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে।

নিউজ ট্যাগ: বিদেশি জাহাজ

আরও খবর



কুয়েতে বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন, নিহত অন্তত ৩৯

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

কুয়েতের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মানগাফ শহরে এই অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। বুধবার (১২ জুন) এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু। অবশ্য রয়টার্সের পৃথক প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৩৫ বলে জানানো হয়েছে।

আনাদোলু বলছে, কুয়েতের দক্ষিণাঞ্চলে আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৩৯ জনে পৌঁছেছে। অগ্নিকাণ্ডের পর প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ৩০ জনের বেশি বলে জানানো হলেও পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে পৌঁছেছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়।

পৃথক প্রতিবেদনে রয়টার্স বলছে, দক্ষিণ কুয়েতের মানগাফ শহরে একটি ভবনে আগুন লেগে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন বলে বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম কুয়েত টাইমস বলছে, কুয়েতের দক্ষিণ আহমদী গভর্নরেটের মানগাফ এলাকায় একটি ভবনে আগুন লেগে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য মেডিকেল দলগুলো তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও মন্ত্রণালয় আশ্বস্ত করেছে।

অন্যদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টিভি নিউজ বলছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে চারজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় অন্তত চার ভারতীয়ও নিহত হয়েছেন বলে কুয়েতি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।


আরও খবর



চট্টগ্রাম জেলায় ভিটামিন ‘এ’খাবে ৮ লাখ ৩২ হাজার শিশু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

Image

সারাদেশের ন্যায় আগামী ১ জুন শনিবার চট্টগ্রাম জেলায় অনুষ্টিত হবে দিনব্যাপী জাতীয় ভিটামিন প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৪। অনুষ্ঠিতব্য ক্যাম্পেইনে  ৬-১১ মাস বয়সী ও ১২-৫৯ মাস বয়সী ৮ লাখ ৩২ হাজার ১৭৯ জন শিশুকে একটি করে নীল ও লাল রঙের ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঐ দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার স্থায়ী, ভ্রাম্যমান ও অস্থায়ী কেন্দ্রে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ক্যাপসুল (১ লক্ষ আই.ইউ) ও ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানো হবে।

জাতীয় ভিটামিন প্লাস ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে জেলার ১৫ উপজেলায় ২শ ইউনিয়নের ৬শ ওয়ার্ড, ১৬টি স্থায়ী কেন্দ্র, ১৫টি ভ্রাম্যমান কেন্দ্র ও ৪ হাজার ৮শ অস্থায়ী কেন্দ্রে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার ৪৮০ জন শিশুকে  ভিটামিন   ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তন্মধ্যে জেলায় ৬-১১ মাস বয়সী ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন শিশুকে একটি নীল রঙের ভিটামিন ক্যাপসুল (১ লক্ষ আই.ইউ) ও ১২-৫৯ মাস বয়সী ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৭০২ জন শিশুকে একটি লাল রঙের ভিটামিন ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় আয়োজিত জেলা পর্যায়ের এডভোকেসী ও পরিকল্পনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্টান ও জাতীয় পুষ্টি সেবার বাস্তবায়নে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এডভোকেসী সভার আয়োজন করেন।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. মোহাম্মদ নওশাদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এস.এম শফিউল্লাহ।

রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জেবিন চৌধুরী, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ ফরিদুল আলম, মহিলা বিষয়ক উপ-পরিচালক মাধবী বড়ুয়া, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম খীসা, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াজেদ চৌধুরী অভি, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওডিসি ডা. মোঃ নুরুল হায়দার, ইউনিসেফর নিউট্রিশন অফিসার ডা. উবা সুই ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশর এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনি রোজারিও।

 সভায় চট্টগ্রাম জেলার ১৫ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এস.এম শফিউল্লাহ বলেন, ভিটামিন ক্যাপসুল শিশুর অপুষ্টি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত, হাম ও ডায়রিয়াজনিত মৃত্যুর হার হ্রাসসহ সকল ধরণের মৃত্যুর হার হ্রাস করে। পরিবারের রান্নায় ভিটাামিন সমৃদ্ধ ভোজ্য তেল ব্যবহার শিশুর জন্য যথেষ্ট উপকারী। মা ও শিশুর পুষ্টির জন্য গর্র্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি করে  ভিটামিন সমৃদ্ধ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ খাবার খেতে দিতে হবে। শিশুর জন্মের সাথে সাথে মায়ের বুকের শাল দুধ খাওয়াতে হবে এবং ৬ মাস পর্যন্ত বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছু দেয়া যাবে না। শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিমাণমত ঘরে তৈরি পুষ্টি সমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়াতে হবে। কোন শিশু ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো থেকে যাতে বাদ না যায় সে দিকে সবাইকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে।  

 সিভিল সার্জন বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ ইং তারিখে জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ভিটামিন প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী মোট ৯৪ হাজার ১৯৫ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ক্যাপসুল (১ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানো হয়েছিল, চাহিদা ছিল ৯৬ হাজার ৭৯০ জন, যার অর্জিত হার ৯৭ শতাংশ এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৭ লাখ ২১ হাজার ৫১৫ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানো হয়েছিল, চাহিদা ছিল ৭ লাখ ৩০ হাজার ৮৩৫ জন, যার অর্জিত হার ৯৮ শতাংশ।

জেলার বাইরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিতব্য এ ক্যাম্পেইন সফল করতে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। আগামী ১ জুন শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপজেলাগুলোতে ৫৪ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ২০০ জন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ৫৪০ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ৭৪৮ জন পঃ পঃ সহকারী, ১৯৬ জন পঃ পঃ পরিদর্শক, ৯ হাজার ৬৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক, ১৫ জন স্যানিটারী ইন্সপেক্টর, ৫১১ জন সিএইচসিপি ও ৮৫ জন স্যাকমো জাতীয় ভিটামিন প্লাস ক্যাম্পেইনে নিয়োজিত থাকবে। ভিটামিন প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে।

তিনি বলেন, এ কর্মসুচী সফল করতে সকল ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ৬-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশু যাতে ঐদিন ভিটামিন ক্যাসসুল পায় সে লক্ষ্যে সর্বত্র মাইকিং করে জনগণকে জানান দেয়া হবে। ভ্রমণে থাকাকালীন সময়েও রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, ফেরী ঘাট ও লঞ্চ ঘাটে অবস্থিত টিকা কেন্দ্রসহ যে কোন টিকাদান কেন্দ্র থেকে শিশুকে ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়াতে পারবে। জাতীয় ভিটামিন প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখতে সরকারী প্রতিষ্টান, জনপ্রতিনিধি, আনসার-ভিডিপি ও এনজিও সংস্থাগুলো কাজ করবে। সরকারী কর্মকর্তা, মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী শিশুদেরকে ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানোর কাজে নিয়োজিত থাকবে। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে এ কর্মসূচী সফল হবে।


আরও খবর



ঠাকুরগাঁওয়ে সুদারুদের চাপে চিরকুট লিখে যুবকের আত্মহত্যা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রেদওয়ানুল হক মিলন, ঠাকুরগাঁও

Image

ঠাকুরগাঁওয়ে সুদারুদের চাপ ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শিক্ষকসহ সাতজনের নাম চিরকুটে লিখে আত্মহত্যার করেছে এক যুবক।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত শফিকুল ইসলাম (৪৫) ওই এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবি.এম ফি‌রোজ ওয়া‌হিদ। তবে সুদখোরদের হুমকিতে আতঙ্কে রয়েছে নিহতের পরিবারের লোকজন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সম্ভবত রাত তিন থেকে চারটার দিকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। সকালে তার লাশটি ঘরের বারান্দায় দেখতে পায় তারা। পরে তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ওই চিরকুটে ৭ জনের নাম রয়েছে। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন সেটা জানি না। আমরা টাঙ্গাইল থেকে এসেছি। আমাদের এখানে আত্মীয়-স্বজন কেউ নেই বলে জানান নিহতের পরিবার।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত শফিকুল ইসলাম পাঁচ মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মাদ্রাসা পাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন। তিনি ফেরি করে কাপড় ব্যবসা করতেন। পুলিশ লাইনের সামনে একটি পানের দোকান রয়েছেও তাঁর। এই বড় পরিবার তিনি চালাতে গিয়ে প্রায় হিমশিম খেতে ছিলেন। এ সময় তিনি বেশ কয়েকজনের কাছে ঋণ মাহাজন করেছিলান। আর ঋণ মাহাজনের টাকার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতেন সুদখোররা। চাপ সহ্য করতে না পেরে ভোররাতে ঘরের বারান্দায় চালার বাশের সঙ্গে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন। তবে মৃত্যুর আগে এক চিরকুটে শিক্ষকসহ সাতজনের নাম লিখে যান তিনি।

চিরকুটে যে সাতজনের নাম লিখে গেছেন তারা হলেন, মো. জুয়েল ইসলাম, মো. হুমায়ুন কবীর, মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম, মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. হাবু ও পৌর শহরের কলোনির একজন।

চিরকুটে যাদের নাম রয়েছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা তাঁরা কেউ কথা বলতে রাজী হননি।

সুদের ভয়াল ছোবলে নি:শ্ব হওয়া নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একজন জানান, আমি বিপদে পরে এক বোর্ড অফিস এলাকার জাহাঙ্গীর সুদারুর কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে ছিলাম। সে আমার ব্যাংক চেক ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। সেই টাকার ৫ গুন লাভ দিয়েও  ঋণের হাত থেকে রেহাই পাইনি। পরে সুদ পরিশোধ করতে সমিতি থেকে কিস্তি তুলি। এভাবে দেনা বাড়তে বাড়তে বাড়ির জায়গা পর্যন্ত বিক্রি করে এখন আমি নিঃস্ব।

সুদের টাকা দিতে দেরি হলে বিভিন্ন রকম হুমকি ধামকি ও অশ্লীল ভাষায় গালাগালিও করে সুদখোররা। প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করা যায় না। সুদারুদের কাছে সর্বস্ব দিয়েও এর হাত থেকে রেহায় পাচ্ছেন না ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ।

সমাজ উন্নয়নকর্মী মনিরুজ্জামান মিলন বলেন, বর্তমানে সুদখোরেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আইন না থাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ পুলিশ-প্রশাসন। সুদ গ্রহিতার কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও ফাঁকা চেক নিয়ে জিম্মি করছে তাদের। অনেক ক্ষেত্রে আসল ও কিছু সুদের টাকা পরিশোধ করলেও সুদের সুদ দিতে না পারলে ঐ দুই কাগজের বলে আইনের মারপ্যাচে জেলে যেতে হচ্ছে অসহায় সুদ গ্রহিতাকে।

তিনি আরো বলেন, এখানে ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে। গরিব আরো গরিব হচ্ছে। যার ন্যূনতম একটা সম্মানবোধ আছে, তিনি হয়ত আত্মহত্যা করছেন। কিন্তু আমাদের দেশে তো হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপি হয়ে অনেকেই আয়েসে জীবন যাপন করছেন। তাদের ঐ সম্মানবোধটাই নেই। ফলে অনেকে জীবন বাঁচাতে ঋণ নিয়ে সেটারই ফাঁদে পড়ছে। যার ফলে এই ধরনের ঘটনায় আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানা ওসি এবি এম ফি‌রোজ ওয়া‌হিদ বলেন, পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। তিনি চিরকুটে কয়েকজনের নাম লিখে আত্মহত্যা করেছেন এটি কি তিনি লিখেছেন নাকি কাউকে ফাঁসানোর জন্য অন্য কেউ লিখে রেখেছেন সেটা আমরা তদন্ত করে দেখছি। এ মুহূর্তে অন্য কিছু বলা সম্ভব না।


আরও খবর



হজ পালনে সৌদি পৌঁছেছেন ৩২ হাজার ৭১৯ যাত্রী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে কয়েক দিন ধরেই সৌদি আরবে যাচ্ছে যাত্রীরা। এখন পর্যন্ত সৌদিতে পৌঁছেছেন ৩২ হাজার ৭১৯ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। সোমবার (২০ মে) রাত ২টার মধ্যে ৮২ ফ্লাইটে এসব যাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছান। সৌদিতে যাওয়া এসব যাত্রীর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৭৪৭ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৮ হাজার ৯৭২ জন রয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ মে) হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরব সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে হেল্পডেস্ক।

হেল্পডেস্কের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৮৩ হাজার ৬৫৫টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। এদিকে হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত দুজন বাংলাদেশি মারা গেছেন।

এর আগে ১৮ মে মো. মোস্তফা নামের এক হজযাত্রী মক্কায় মারা যান। তারও আগে গত ১৫ মে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে প্রথম বাংলাদেশি একজন হজযাত্রী মারা যান।

এর আগে ৯ মে থেকে হজের যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট ৪১৫ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদির উদ্দেশে যাত্রা করে। এর মাধ্যমেই চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন এবারের হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট গত ৯ মে শুরু হয়। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত যাওয়ার ফ্লাইট চলবে। হজ শেষে ২০ জুন ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। দেশে ফেরার ফ্লাইট শেষ হবে আগামী ২২ জুলাই।


আরও খবর
ঈদুল আজহার চার সুন্নত

সোমবার ১৭ জুন ২০২৪




৯৫০ কেজির 'জায়েদ খান'র সঙ্গে ছাগল ফ্রি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ফিরোজ মাহমুদ, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

Image

ওজন প্রায় ৯৫০ কেজি। ডিগবাজি দেয় বলে নাম রাখা হয়েছে জায়েদ খান। লাল রঙের শাহিওয়াল জাতের জাহেদ খান নামের ষাঁড়টির দাম হাঁকানো হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। ষাঁড়টির সঙ্গে একটি ছাগল ফ্রি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মালিক। তবে দরকষাকষির মাধ্যমে দাম কমানোর সুযোগ রয়েছে। আরও রয়েছে চাঁদ রাতে ফ্রি হোম ডেলিভারি সুবিধা।

তিন বছর ধরে জায়েদ খান (ষাঁড়) কে লালন-পালন করছেন রমজান আলী বাচ্চু ও আনোয়ার হোসেন। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার দক্ষিণ পরাগলপুর গ্রামে নিরব এগ্রো ফার্মে প্রস্তুত করা হয়েছে এই ষাঁড়টি।

রমজান আলী বাচ্চু বলেন, গম, ভুট্টা, সবুজ ঘাস ও ফলমূল খাওয়ানোর মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা করা হয়েছে ষাঁড়টি। সময়মতো খাবার না পেলে রেগে যায় জায়েদ খান। গরম সহ্য করতে পারে না। এ কারণে সবসময় ফ্যানের বাতাস দিতে হয় তাকে। না হলে শুরু হয় পাগলামি। শরীর ঠান্ডা রাখতে দুবেলা গোসল করাতে হয়।

বিশেষ নামের এই ষাঁড়টির খাবার ও দেখাশোনার জন্য দৈনিক প্রায় ৫০০ টাকা খরচ করতে হয় তার মালিককে। সর্বদা দেখভালের জন্য নিয়োজিত রয়েছেন একজন কর্মচারী।

জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাস্টার বলেন, আমার ইউনিয়নের নিরব এগ্রো বিগত কয়েক বছর ধরে গরু মোটাতাজা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও গরু প্রস্তুত করেছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাকিরুল ফরিদ জানান, খামারি ও প্রান্তিক কৃষক মিলে এবার ৫০ হাজার ৭৩৯টি পশু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ২২ হাজার ৪১৩টি ষাঁড় ও বলদ, ১৪ হাজার ১৫২টি গাভি, চার হাজার ৬১১টি মহিষ, ৯ হাজার ৫৬৩৫টি ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন হাটে বিক্রি হবে।


আরও খবর