আজঃ শনিবার ১৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

সাবেক আইজিপির অঢেল সম্পদে হতবাক হাইকোর্ট

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

একজন আইজিপি কীভাবে এত অঢেল সম্পদের মালিক হলেন তা নিয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখেন হাইকোর্ট। এ সময় বিচারপতি কামরুল কাদের ও খিজির হায়াতের বেঞ্চ বলেন, আমাদের বিষয়টি হতবাক করেছে।

মঙ্গলবার (১১ জুন) যশোরে স্থানীয় সরকার বিভাগের কয়েকটি সেতু নির্মাণে অনিয়মের শুনানিকালে বিচারপতি কামরুল কাদের ও খিজির হায়াতের বেঞ্চ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ প্রসঙ্গে এ মন্তব্য করেন। রিটকারী আইনজীবী শামসুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শুনানিকালে আদালত বলেন, আপনাদের অনিয়মের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। দেশ-বিদেশে আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে একজন সরকারি কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতি। একজন আইজিপি কীভাবে এত অঢেল সম্পদের মালিক হলেন। এটি আমাদের বিস্মিত করেছে।

উল্লেখ্য, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন, রাজধানীর গুলশানে মোট ৯ হাজার ১৯২ বর্গফুট আয়তনের চারটি ফ্ল্যাট মাত্র ২ কোটি ১৯ লাখ টাকায় কিনেছেন। সেই হিসেবে প্রতি বর্গফুটের দাম পড়েছে ২ হাজার ৩৮২ টাকা। তবে রাজধানীতে ফ্ল্যাট ও জমি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, এই দামে গুলশানের মতো অভিজাত এলাকা তো দূরের কথা, ঢাকার আশপাশের এলাকায়ও ফ্ল্যাট পাওয়া যাবে না।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) একাধিক সদস্য জানান, জমির দামের সঙ্গে নির্মাণ ব্যয় সমন্বয় করে ফ্ল্যাটের দাম নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে গুলশান-বনানীতে নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নামী রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর ফ্ল্যাটের দাম আরও বেশি। সে হিসেবে ৯ হাজার বর্গফুট রিয়েল এস্টেটের মূল্য কমপক্ষে ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

তারা জানান, কর ফাঁকি দিতে অনেকে কম দাম দেখিয়ে ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করেন। আবার কিছু গ্রাহক অবৈধ আয় (আয়কর রিটার্নে দেখানো হয় না) দিয়ে ফ্ল্যাট কেনেন। তাই তারা কম দামে ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করেন।

দুদকের নথিপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেনজীর আহমেদের পরিবার ২০২৩ সালের ৫ মার্চ গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চারটি দলিলে ৯ হাজার ১৯২ বর্গফুট (বর্গফুট) ফ্ল্যাট কেনেন।

আদালতে উপস্থাপিত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বেনজীর রহমান ও তার পরিবার গুলশান আবাসিক এলাকার সিইসি (জি) ব্লকের ১৩৪ নম্বর প্লটে (পুরাতন নম্বর ১৩০ নম্বর) দুটি বেজমেন্টসহ নির্মিত র‌্যাংকন আইকন টাওয়ারের চারটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। এর মধ্যে ১২/এ, ১২/বি এবং ১৩/এ এই তিনটি ফ্ল্যাট সাভানাহ ইকো রিসোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে এবং এর চেয়ারম্যান জিশান মির্জা এই কোম্পানির পক্ষে দলিলে সই করেন।

র‌্যাংকন আইকন টাওয়ারের ১৩/বি ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছে বেনজীর আহমেদের নাবালিকা কন্যা জাহরা জেরিন বিনতে বেনজীরের নামে। জাহরা জেরিন বিনতে বেনজিরের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন বেনজীর আহমেদ।

দলিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাভানা ইকো রিসোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষে জিশান মির্জা যে ১২/এ ফ্ল্যাটটি কিনেছেন তার দাম দেখানো হয়েছে ৫৬ লাখ টাকা। ১২/বি ফ্ল্যাটের দাম দেখানো হয়েছে ৫৬ লাখ টাকা এবং ১৩/এ ফ্ল্যাটের দাম দেখানো হয়েছে সাড়ে ৫৩ লাখ টাকা। এছাড়া ১৩/বি ফ্ল্যাটের দামও সাড়ে ৫৩ লাভ টাকা দেখানো হয়েছে।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ মে ঢাকার একটি আদালত তার ৮৩টি দলিলে উল্লিখিত সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন। এছাড়াও, ২৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ আর্থিক লেনদেনকারী মোট ৩৩টি অ্যাকাউন্ট জব্দ করার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।

এদিকে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ৬ জুন বেনজীরকে এবং ৯ জুন স্ত্রী ও সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক।


আরও খবর



জব্দের আগেই অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করেছেন বেনজীর!

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

জব্দের আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নিয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবার। দুদকের তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ মে তাদের অ্যাকাউন্ট জব্দের আদেশ দেন আদালত। তবে এসব অ্যাকাউন্টে কী পরিমাণ টাকা ছিল, তা জানা যায়নি।

তিনি দেশে আছেন কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিবার নিয়ে বেনজীর দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।

বেনজীরের সম্পদের বিষয়ে যেসব সরকারি সংস্থা খোঁজ রাখছে, তাদের মধ্যে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, গত সপ্তাহে তার অ্যাকাউন্টগুলো ফাঁকা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, যখনই কেউ বুঝতে পারেন তাকে ধরার চেষ্টা চলছে, তখনই তিনি টাকা সরিয়ে ফেলেন।

অবশ্য টাকা তুললেও নগদে রেখেছেন, নাকি অন্য কারও অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন তা বের করা সম্ভব।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কার করে বলেন, ডকুমেন্টের ভিত্তিতে কাজ করে ব্যাংক। ফলে সুনির্দিষ্ট আদেশের কপি ছাড়া মৌখিক কোনো তথ্য কিংবা গণমাধ্যমের খবরের ভিত্তিতে কারও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে বা স্থানান্তর না করতে দেওয়ার সুযোগ নেই। কেননা, আদালত কারো অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের আদেশ দিলে পরে স্থগিতাদেশ দিতে পারেন।

তিনি বলেন, সাধারণভাবে এ ধরনের ব্যক্তির বিভিন্ন পর্যায়ে নিজস্ব লোক থাকে। ফলে গোপনে জানিয়ে দেওয়া হতে পারে। আবার পত্রিকায় লেখালেখি এবং দুদকের কার্যক্রমের ফলে এমনিতেই তিনি টাকা সরিয়ে ফেলতে পারেন। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে নগদে তুলে বিশ্বস্ত কারো কাছে রাখা হয়।

এখন দেখার বিষয় বেনজীর ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন প্রোফাইলের নিয়ম মেনে টাকা উত্তোলন হয়েছে কি না। আবার টাকা উত্তোলন বা স্থানান্তরের পর ব্যাংকগুলো নিয়ম মেনে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট (এসটিআর) এবং নগদ লেনদেন রিপোর্ট (সিটিআর) করেছে কি না।

এদিকে বেনজীর আহমেদের দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল সিটিজেন টিভির মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালে এ টিভির অনুমোদনের সময় তারা দুজনই ছিলেন শিক্ষার্থী।

দেশের সম্পদ অনুসন্ধান চলার মধ্যেই পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিদেশে থাকা সম্পদ অনুসন্ধানেও নেমেছে দুদক। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে তাদের কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, সেসবের খোঁজও নেওয়া হচ্ছে। দুদকের তিন সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটির প্রধান হাফিজুল ইসলামের সই করা চিঠি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে বিদেশে সম্পদের খোঁজ নিতে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দেওয়া হয়েছে। দেশ থেকে অর্থ পাচার ঠেকাতে নীতিমালা প্রণয়ন ও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে বিএফআইইউ। সংস্থাটি এগমন্ট গ্রুপ নামের একটি ফোরামের সদস্য। এই ফোরাম বিশ্বের ১৭০টি দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত, যারা অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কাজ করে। ২০১৩ সালে এগমন্ট গ্রুপের সদস্যপদ পায় বিএফআইইউ।

জানতে চাইলে দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক বলেন, শুধু দেশের সম্পদই নয়, আমরা বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছি।

তিনি আরও বলেন, যদি সম্পদ অবৈধ হয় তাহলে আদালত রাষ্ট্রের অনুকূলে তা বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন। এ জন্য অনুসন্ধান পর্যায়ে তার (বেনজীর) সম্পদ ফ্রিজ (জব্দ) করা হয়েছে। কারণ ফ্রিজ না করলে এসব সম্পদ হস্তান্তর হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।এরই মধ্যে আদালতের আদেশে বেনজীর পরিবারের মালিকানাধীন রাজধানীর গুলশানে বিশালাকৃতির বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, গোপালগঞ্জে ৩৪৫ বিঘা ও মাদারীপুরে ২৭৩ বিঘা জমি জব্দ এবং অসংখ্য ব্যাংক ও বিও অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করেছে দুদক। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যে বিপুল সম্পদ গড়েছেন বেনজীর, তার বেশির ভাগই তিনি কেনেন আইজিপি পদে আধিষ্ঠিত হওয়ার পর।

তিনি আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাকরিজীবনের শেষ দুই বছরে অর্থাৎ আইজিপি থাকাকালেই পরিবারের সদস্যদের নামে ৪৬৬ বিঘা জমি কেনেন বেনজীর। ১৯টি প্রতিষ্ঠানে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তার পরিবার হয়ে যায় পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী পরিবার। আইজিপি পদটি যেন তার কাছে হয়ে উঠে আলাদীনের চেরাগ


আরও খবর



নিরাপত্তা বিশ্লেষক আব্দুর রশীদ মারা গেছেন

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুর রশীদ মারা গেছেন। শুক্রবার (১৪ জুন) ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

শুক্রবার বাদ জুমা মিরপুর ডিওএইচএস কেন্দ্রীয় মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং আর্মি কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত দুমাস ধরে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ছিলেন মেজর জেনারেল আব্দুর রশীদ। এর আগে তিনি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান। সেখান থেকে দেশে ফেরার পর তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।

সেনাবাহিনীতে চাকরির সময় অতি মেধাবী অফিসার হিসেবে পরিচিত মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ। বিভিন্ন টকশোতে একজন স্পষ্টভাষী ও নির্ভীক বক্তা হিসেবে অংশ নেন এবং তার লেখা কলাম বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হয়।


আরও খবর



রাবিতে সকল বিভাগের সমন্বিত অনলাইন রেজাল্ট ব্যবস্থা উদ্বোধন

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আসিক আদনান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অনলাইনে একযোগে মিলবে সকল বিভাগের অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট। বুধবার (২৯ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনে (পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কক্ষে) বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার এ রেজাল্ট ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনকালে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বলেন, আমরা একটা নতুন যুগে পদার্পণ করতে চলেছি। আপনারা যে পদ্ধতিটা দেখলেন এটা চমৎকার একটি পদ্ধতি। এর পরেও আরও অনেক কিছু এটার সাথে যুক্ত করব। আমরা ট্রায়ালের মাধ্যমে শুরু করেছি। আমরা কাজ করব, কাজ করতে করতে বুঝব। আমাদের পক্ষে এটা করা সম্ভব কারণ আমাদের কাছে সার্পোটিং স্টাফ রয়েছে। আমাদের অ্যাকাউন্টস অটোমেশনে চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি আইসিটিসহ সবকিছু 'আমব্রেলা' পদ্ধতির আওতায় চলে যাচ্ছে।

এখনও অনেক শিক্ষক রয়েছেন যাদের ই-মেইল নেই তারা কীভাবে অংশগ্রহণ করবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলকে বলে দিয়েছি যাদের ই-মেইল নেই তারা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম বলেন, আমরা যতই ডিজিটালাইজ করি না কেন আমাদের নিজেদেরও স্মার্ট হতে হবে। কারণ একজন শিক্ষার্থীর কোনো পাওনা আছে কিনা সেটা হল প্রাধ্যক্ষ ও বিভাগের চেয়ারম্যানের অনলাইনে জানাতে হবে। তাছাড়া হলগুলো ও বিভাগীয় যে কর্মকর্তারা রয়েছে তাদেরকেও স্মার্ট হতে হবে। কারণ এখন তাদের কাছে আগের মতো কোনো চিঠিপত্র যাবে না। তাদেরকে আমরা শুধুমাত্র মেইল করব এবং নির্দিষ্ট একটি সময় থাকবে ঐ সময়ের মধ্যেই তাদেরকে সাবমিট করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাবমিট করতে না পারলে তাকে ডিউ প্রসেসে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)  অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, উপাচার্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, সকল অনুষদের ডিনবৃন্দসহ বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।


আরও খবর



পাবনায় ওসির অপসারণের দাবিতে আ.লীগের হরতাল ঘোষণা

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জেলা প্রতিনিধি

Image

পাবনার আটঘরিয়ায় উপজেলা পরিষদে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তানভীর ইসলামের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে আটঘরিয়া থানা পুলিশের ওসি হাদিউল ইসলামকে অপসারণে দাবিতে আগামী বুধবার (১২ জুন) আটঘরিয়ায় অর্ধদিবস হরতাল ঘোষণা করে।

রোববার (৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আটঘরিয়া বাজার হয়ে থানার সামনে দিয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাজার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় টায়ার জ্বালিয়ে নেতাকর্মীরা পাবনা-চাটমোহর মহাসড়ক অবরোধ করেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র শহীদুল ইসলাম রতন বলেন, আটঘরিয়া থানার ওসি হাদিউল ইসলাম আটঘরিয়ার সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ওঠাবসা করেন। তার প্রত্যক্ষ মদদে কিছু সন্ত্রাসী আটঘরিয়ায় যা ইচ্ছে তাই করছে। উনার পছন্দ না হলে উনি কোনো মামলা নিতে চায় না। ওসির সাথেই সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করে কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এই ওসিকে আটঘরিয়ার মানুষ চায় না। তার অপসারণের দাবিতে আগামী ১২ জুন আটঘরিয়ায় অর্ধদিবস হরতাল পালিত হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দেবোত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাইমিন হোসেন চঞ্চল বলেন, আটঘরিয়ায় যোগদানের পর থেকেই আটঘরিয়ায় আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটেছে। নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বরং সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে নিরপরাধ নেতাকর্মীদের নামে হয়রানি করছেন।

নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান তানভীর ইসলাম বলেন, নির্বাচনের দিন আমি বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম কিন্তু আমাকে নির্বাচনের দিন প্রতিপক্ষের অফিস ভাঙচুরের আসামি করা হলো, তাও ১০ দিন পর!  আটঘরিয়ার চিহ্নিত সন্ত্রাসী জুয়েলের নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর এবং নেতাকর্মীদের কুপিয়ে জখম করা হলো, তারা এখনো হাসপাতালে ভর্তি। সেই জুয়েলের নামে যখন মামলা দেওয়া হলো সেই জুয়েলের অভিযোগের ভিত্তিতে আমার নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হলো। আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার মামলাকে প্রভাবিত করতেই আমার নামে এই মিথ্যা মামলা দেওয়া হলো।

এ ব্যাপারে আটঘরিয়ার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাদিউল ইসলাম বলেন, আমার অপসারণের বিষয়টি তাদের রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে। কেন তারা আমার অপসারণ চাচ্ছেন তার সুস্পষ্ট কারণ যদি উল্লেখ্য করতে পারেন তাহলে আমি আপনাদের সেই বিষয়ে বলতে পারব। আমি চেইন অফ কমান্ডে কাজ করি। তাই আমি বিশ্বাস করি, আমি যে কাজগুলো করেছি তার যথাযথ আইন দিকগুলো মেইনটেন করেই করেছি। আমি কারো প্রভাবে প্রভাবিত নই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং আইন যেভাবে বলে আমি সেইভাবেই কাজ করি।

উল্লেখ্য, গত ৩ জুন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় বিজয়ী প্রার্থী তানভীর ইসলামের ৫ সমর্থককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ ওঠে। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও ৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় পরাজিত প্রার্থীর সমর্থক জুয়েলসহ কয়েকজনের নামে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর গতকাল শনিবার (৮ জুন) প্রধান অভিযুক্ত জুয়েলের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তানভীর ইসলামসহ কয়েকজনের নামে নির্বাচনের দিন জুয়েলের কার্যালয় ভাঙচুরের মামলা দায়ের হয়।

নিউজ ট্যাগ: পাবনা

আরও খবর



ইউক্রেনকে রাশিয়ায় হামলার অনুমতি দিলেন বাইডেন

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেনকে অনুমতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে ইউক্রেন শুধুমাত্র খারকিভ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত রুশ ভূখণ্ডে এই হামলা চালাতে পারবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শুক্রবার (৩১ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

অবশ্য পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ায় হামলা চালানো হলে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য আমেরিকান সরবরাহকৃত অস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন। তবে এই অনুমতি শুধুমাত্র খারকিভ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত রুশ ভূখণ্ডে হামলার জন্য।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বিবিসি নিউজকে বলেছেন, ইউক্রেন যেন পাল্টা-হামলার উদ্দেশ্যে’ মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করতে সক্ষম হয় তা নিশ্চিত করার জন্য তার দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত যেখান থেকে রুশ বাহিনী তাদের (ইউক্রেনকে) আঘাত করছে বা তাদের আঘাত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে’ সেখানে হামলা করতে পারবে ইউক্রেন।

বিবিসি বলছে, রাশিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় নজিরবিহীন আক্রমণের পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ান বাহিনী খারকিভ অঞ্চলে বেশ সাফল্য অর্জন করেছে এবং অগ্রসর হয়েছে।

শুক্রবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেছেন, খারকিভ শহরের উপকণ্ঠে একটি আবাসিক ভবনে রাশিয়ার গোলাবর্ষণে তিনজন নিহত এবং আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তা বিবিসিকে আরও বলেছেন, আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) বা রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আমাদের নীতি পরিবর্তন হয়নি।’

এদিকে নতুন নীতিতে রাশিয়ার বিমানে আক্রমণ করা অন্তর্ভুক্ত আছে কিনা জানতে চাইলে একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা তাদের (ইউক্রেন) কখনও বলিনি, তারা রাশিয়ার ভূখণ্ডে রাশিয়ান বিমানকে গুলি করতে পারবে না যেটি তাদেরকে আক্রমণ করতে আসছে।’

হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

অবশ্য এই ধরনের অনুমতি বা পদক্ষেপ চলমান সংঘর্ষের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এমন উদ্বেগ সত্ত্বেও বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা সম্প্রতি এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহারে বিধিনিষেধ শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন।

কিন্তু ওয়াশিংটন সংঘাত আরও জোরালো হওয়ার ভয়ে এই ধরনের বিধিনিষেধগুলো শিথিল করতে বাধা দিয়ে থাকে। মূলত রাশিয়াকে মোকাবিলায় ইউক্রেনকে বেশিরভাগ অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রই সরবরাহ করে থাকে।

তবে বুধবার মলদোভা সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন রুশ ভূখণ্ডে হামলা না করার বিষয়ে মার্কিন নীতিতে এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। সেদিন তিনি বলেন, প্রতিটি পদক্ষেপে, আমরা প্রয়োজন অনুসারে মানিয়ে নিয়েছি এবং সামঞ্জস্য করেছি। এবং এভাবেই আমরা সামনে এগিয়ে যাবো।’

অবশ্য পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ায় হামলা চালানো হলে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্প্রতি উজবেকিস্তান সফরকালে তিনি বলেন, সংঘাতের এই ক্রমাগত বৃদ্ধি গুরুতর পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। ইউরোপে, বিশেষত ছোট দেশগুলোতে, তারা কী নিয়ে খেলছে সে সম্পর্কে তাদের সচেতন হওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, এমন অনেক ইউরোপীয় দেশ রয়েছে যারা আয়তনে ছোট’ এবং সেসব দেশের ঘনবসতিপূর্ণ জনসংখ্যা’ রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত করার কথা বলার আগে এই বাস্তবতাটি তাদের মনে রাখা উচিত, এটি গুরুতর বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের বাহিনী হামলা চালালেও তার দায়ভার পশ্চিমা অস্ত্র সরবরাহকারীদের ওপরই বর্তাবে।’

প্রেসিডেন্ট পুতিন আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন পশ্চিমা সামরিক প্রশিক্ষকরা ইতোমধ্যেই ইউক্রেনে ভাড়াটে হিসাবে গোপনে কাজ করছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সেনাদের ইউক্রেনে পাঠানোর কোনও পদক্ষেপ নিলে তা সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে এবং ইউরোপকে গুরুতর সংঘাতের দিকে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সেটি হবে বৈশ্বিক সংঘাতের দিকেও আরেকটি পদক্ষেপ।


আরও খবর