আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মে ২০২২
শিরোনাম

শাহপরী: ছোট দ্বীপে বড় উদ্বেগ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | ৩৬০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশকে আলাদা করেছে নাফ নদী। এ নদীর মোহনায় অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপ। ১৯৯২ সালে যখন দেশে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে, তখন বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল টেকনাফের এ দ্বীপকে। সবশেষ ২০১৭ সালেও এটি হয়ে ওঠে রোহিঙ্গা প্রবেশের অন্যতম পথ। কেবল রোহিঙ্গাদের জন্যই নয়, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া কিংবা থাইল্যান্ডে অভিবাসনপ্রত্যাশীদেরও পছন্দের রুট এটি। এ পথ ব্যবহার করেই নিয়মিত মানব পাচারের ঘটনা ঘটছে। শুধু তা-ই নয়, ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ বা আইসসহ বিদেশী বিভিন্ন ধরনের মাদক এ পথ দিয়েই প্রবেশ করে বাংলাদেশে। ফলে বঙ্গোপসাগরের উন্মুক্ত জলরাশির সীমানায় অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপটি ক্রমেই দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পার হয়ে অস্ত্র ও মাদক ঢুকছে সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ করিডরে। পরবর্তী সময়ে এসব মাদক ও অস্ত্রের চালান চলে যাচ্ছে টেকনাফের জালিয়াপাড়া, হোয়াক্ষ্যংয়ের জিমনখালী, নয়াপাড়া, আমতলী এলাকায়। সেখানে কয়েক হাত ঘুরে মাদক ও অস্ত্রের চালান ছড়িয়ে দেয়া হয় পুরো দেশে। গত চার বছরে শুধু কোস্টগার্ডের অভিযানেই কক্সবাজারের সমুদ্র এলাকা থেকে ১ কোটি ৭২ লাখ ৭ হাজার ৪৮১ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। মিয়ানমার থেকে ইয়াবার পাশাপাশি এখন ভয়ংকর মাদক আইসের চালান দেশে ঢুকছে শাহপরীর দ্বীপ হয়ে। গত বছর সেখান থেকে এক কেজি আইস উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। গুরুত্বপূর্ণ একটি সীমানা পয়েন্ট এভাবে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কাজে ব্যবহার হওয়াকে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। শাহপরীর দ্বীপে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মাদক বা অস্ত্র চোরাচালান রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২৭ এপ্রিল ভোররাতে শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়ায় অভিযান চালিয়ে এক লাখ ইয়াবা ও পাঁচ কেজি গাঁজা আটক করে পুলিশ। শাহপরীর দ্বীপের পাশাপাশি লম্বাবিল, কানজরপাড়া, মিনাবাজার, হূীলা লেদা, জাদিমুড়া, মমিয়া, টেকনাফ সদর, সাবরাং ও সাগর পথ দিয়েও নিয়মিত ঢুকছে মাদক। ঈদকে কেন্দ্র করে গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহেই প্রায় তিন লাখ ইয়াবা, আড়াই কেজির বেশি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, বিদেশী মদ ও বিয়ার জব্দ করার পাশাপাশি রোহিঙ্গাসহ ১৬ জনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি দেশে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশেরও অন্যতম নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে শাহপরীর দ্বীপের এ করিডর।

তবে শাহপরীর দ্বীপ ও এর আশপাশের সমুদ্র এলাকায় মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচারকারীদের তত্পরতা ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার লাবিব উসামা আহমাদুল্লাহ্। তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধের বিষয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহের জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। এরপর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়। ফলে এলাকার অপরাধপ্রবণতা আগের চেয়ে অনেক কমেছে।

গত ছয় মাসে শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে আড়াই লাখ পিস ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার বলেন, মাদক ও মানব পাচার রোধে শাহপরীর দ্বীপে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফ সীমান্তের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া ও ঘোলারপাড়া নামে দুটি চোরাই পয়েন্ট রয়েছে। এগুলো বহুল আলোচিত হলেও এখনো এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট এ দুটি পয়েন্ট দিয়েই হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

দেশে প্রবেশের এ রুট ইয়াবা, মানব পাচারের ট্রানজিট ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের মূল পয়েন্ট হয়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রতিরোধে কার্যক্রম বাড়ানো হয়। দেখা যায়, অভিযানের কিছুদিন মাদক চোরাচালান ও মানব পাচার কমে আসে। নজরদারি কমে গেলে তা আবার বেড়ে যায়। বিশেষ করে শীতে সমুদ্র শান্ত হলে মানব পাচারের সংঘবদ্ধ চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা শিবিরভিত্তিক বেশকিছু ইয়াবা সিন্ডিকেটের খোঁজ পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন সংস্থার গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্প এলাকায় ইয়াবা আটকের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়ে গেছে মাদক মামলা ও আসামির সংখ্যাও। সম্প্রতি মালয়েশিয়া পাচারকালে কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া ও শহরের নুনিয়াছড়া এলাকা থেকে দুটি চালান আটক করে র্যাব ও পুলিশ।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, নাফ নদী পাড়ি দিয়ে শাহপরীর দ্বীপ হয়ে দেশে প্রবেশের পর অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক মজুদের জন্য ব্যবহূত হচ্ছে উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত ৩৪ রোহিঙ্গা শিবির। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তালিকায়ও রয়েছে ১৩ জন রোহিঙ্গা নেতার নাম। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব শিবিরের নারী, বিশেষ করে যাদের স্বামী বেঁচে নেই তারা বেশি জড়াচ্ছে ইয়াবা ব্যবসায়।

তবে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানিয়েছেন, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর তত্পরতায় স্থানীয় লোকজন এখন ইয়াবা কারবারে খুব একটা জড়াতে চায় না। সীমান্ত ও রোহিঙ্গা শিবিরে ইয়াবা সিন্ডিকেট ও কারবারিদের পুলিশ নিয়মিত আটক করছে এবং তাদের মাঝে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শাহপরীর দ্বীপে আমাদের একটি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে, সেখানে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বক্তব্য দিলেও স্থানীয়রা বলছেন, শীত মৌসুমকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক মানব পাচার চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব চক্র সাগরপথে থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রোহিঙ্গাদের প্রলুব্ধ করে। এরপর সাগরে ও জঙ্গলে নির্মম নির্যাতন করে মোটা অংকের টাকা আদায় করে। শাহপরীর দ্বীপ ব্যবহার করে এ ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, পাচারের জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে রোহিঙ্গাদের এ দ্বীপেই নিয়ে আসে মানব পাচারকারীরা। তারপর ছোট ছোট নৌকার মাধ্যমে তাদের বঙ্গোপসাগরের গভীরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদের সমুদ্রের গভীরে নিয়ে বড় নৌকায় তুলে দেয়া হয় মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের দিকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশকে পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে সাগর পাড়ি দিয়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পৌঁছার চেষ্টা করে। এরপর উন্নত জীবনের সন্ধানে বাংলাদেশীরাও এ বিপত্সংকুল পথে যাত্রা করতে থাকে। ২০১২ সালে প্রথম মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমানোর চেষ্টার অভিযোগে বঙ্গোপসাগরে ১৩২ জনকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ২০১৪ সালে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৫৫০।


আরও খবর



সাময়িক সময়ের জন্য রেলমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় টিআইবি

প্রকাশিত:শনিবার ০৭ মে ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০৭ মে ২০২২ | ৫৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ( টিআইবি) বলেছে রেলমন্ত্রীর আত্মীয়দের বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণের দায়ে জরিমানা করায় এক টিকিট পরিদর্শক (টিটিই) বরখাস্ত হওয়ার ঘটনা ন্যক্কারজনক। তাই নৈতিকবোধ থেকে মন্ত্রীর সাময়িক সময়ের জন্য পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। শনিবার (০৭ মে) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

সংস্থার পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ মন্জুর-ই-আলম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়- বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণের দায়ে রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর তিন আত্মীয়কে জরিমানা করায় সংশ্লিষ্ট টিকিট পরিদর্শককে (টিটিই) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এটি একটি ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত। এ ঘটনায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গভীর উদ্বেগ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে।

ন্যয়-নিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালনের কারণে পুরস্কৃত হওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট টিটিইকে তড়িৎ গতিতে বরখাস্তের সিদ্ধান্তে দেশবাসীর কাছে এই বার্তাটিই পরিষ্কার হয়েছে যে, ক্ষমতাবানরাই শুধু নয় বরং তার/তাদের প্রভাব বলয়ের মধ্যে থাকা আত্মীয় পরিজনদের জন্যও আইন প্রযোজ্য নয়। বরং অনিয়মের কাছে মাথানত করাই, রুটিরুজি টিকিয়ে রাখার অন্যতম উপায় বলে মন্তব্য করছে টিআইবি।

একই সঙ্গে, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে নৈতিক অবস্থান থেকে রেলমন্ত্রীকে সাময়িক সময়ের জন্য পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছে সংস্থাটি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্রধরে শনিবার (০৭ মে) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি নির্লজ্জ ও নিকৃষ্টতম উদাহরণ। এখানে মূলত দুইভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। প্রথমত রেলমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়দের বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ অর্থাৎ তারা ধরেই নিয়েছিলেন যে, রেলের প্রচলিত আইন তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়!

‘দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট টিকিট পরিদর্শক তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করায়, কোনো ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুরস্কৃত হওয়ার পরিবর্তে বরখাস্ত হওয়ার ঘটনা- দেশবাসীর কাছে এই বার্তাটিই পৌঁছেছে যে, ক্ষমতার দাপট ও অনিয়মই হচ্ছে বাস্তবতা।

‘এছাড়া, এই নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত এখনও গুটিকয়েক যারা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে স্ব স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের জন্য একটি শক্তিশালী নেতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।

যদিও এ ঘটনায় রেলমন্ত্রী নিজের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা গণমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করেছেন এবং তার আত্মীয় পরিচয়দানকারীদের চেনেন না বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে রেলকর্তৃপক্ষ টিটিই বরখাস্তের জন্য যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগকে সামনে নিয়ে এসেছে এবং যার সঙ্গে রেলমন্ত্রীও একমত হয়েছেন।

এমন বাস্ততবতায় প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, বিনা টিকিটের সেসব যাত্রী টিটিইকে রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় কেন দিয়েছিলেন? তাদের সত্যিকার পরিচয় রেল কর্তৃপক্ষ যাচাই করেছিলেন কি-না? অধিকন্তু যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ বিষয়ে টিটিই-এর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রেলমন্ত্রীর পরিচয় কতোটা প্রভাব বিস্তার করেছিলো? এসব বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

টিআইবি মনে করে যেহেতু রেলমন্ত্রীর আত্মীয়দের জড়িয়ে এ জাতীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে; অধিকন্তু বিনা টিকিটে ভ্রমণকারীরা রেলমন্ত্রীর পরিচয় ব্যবহার করেছেন, তাই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে নৈতিক অবস্থান থেকে সাময়িক সময়ের জন্য তার পদত্যাগ করা উচিত। পাশাপাশি যে-কোনো ধরনের ভয়ভীতি ও চাপের ঊর্ধ্বে থেকে সংশ্লিষ্টরা যাতে বিনা টিকিটে ভ্রমণের দায়ে অভিযুক্তদের ও দায়িত্ব পালনকারী টিকিট পরিদর্শকের বরখাস্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ব্যাপারে নির্বিঘ্নে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে সংস্থাটি।


আরও খবর



প্রতিদিন ৫৩ হাজার যাত্রী ট্রেনে রাজধানী ছাড়তে পারবেন

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | ৩১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেছেন, আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য ২৭ হাজার ৭৫৩টি টিকিট  রয়েছে। আর কমিউটারে আরও ২৫ হাজারের মতো টিকিট আছে। ফলে ঈদযাত্রায় প্রতিদিন ৫৩ হাজার যাত্রী ট্রেনে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে পারবেন। এখন সবাই যদি ট্রেনে করে বাড়ি যেতে চান সেটা কোনো অবস্থাতেই সম্ভব না।

সোমবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মাসুদ সারওয়ার বলেন, অনেক মানুষ ট্রেনে বাড়ি যেতে চাওয়ায় টিকিট কাটতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে মানুষের চাপ হবে এটা জেনেই আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি স্পেশাল ট্রেনও সংযোজন করা হয়েছে, যেটি ২৯ এপ্রিল থেকে চলাচল করবে।

ট্রেনের টিকিট পেতে কোটা বরাদ্দের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনার কারণে যে কোটা প্রথা বাতিল করা হয়েছে এখনও সেটি বলবৎ আছে। শুধু রেলওয়ের ২ শতাংশ ও ইমার্জেন্সি (জরুরি) ২ শতাংশ কোটা চালু আছে। টিকিট অনলাইনে অর্ধেক ও কাউন্টারে বাকি অর্ধেক বিক্রি হচ্ছে।


আরও খবর



আজ আন্তর্জাতিক নার্স দিবস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | ৪০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস আজ (১২ মে)। আধুনিক নার্সিং পেশার রূপকার ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী এ তারিখে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উদযাপন করা হয়।

মানবসেবায় অনন্য দায়িত্ব পালনকারী নার্সদের স্বীকৃতি ও সম্মান প্রদর্শনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপন করা হবে।

দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য, ‌স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় শক্তিশালী নার্স নেতৃত্বের বিকল্প নেই- বিশ্ব স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে নার্সিং খাতে বিনিয়োগ বাড়ান ও নার্সের অধিকার সুরক্ষিত করুন

নার্স দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মহাখালীতে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অডিটরিয়ামে এক আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এদিকে সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটস (এসএনএসআর) নার্স দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা, কেক কাটা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশে দিবসটি পালন করে আসছে। অতীতে ঢাকায় স্বল্প পরিসরে দিবসটি পালিত হলেও বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ইনস্টিটিউশনে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

নিউজ ট্যাগ: নার্স দিবস

আরও খবর



আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টি-বন্যায় নিহত ২২

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৫ মে ২০২২ | ৩৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ২২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যেই এবার দেশটিতে তীব্র বৃষ্টির ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলের জমি। খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার (৫ মে) আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, দেশের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি প্রদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থার মোকাবিলা করছে তালেবান সরকার। সাহায্যের জন্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর কাছেও যাবে তারা।

আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ ও তথ্য প্রধান হাসিবুল্লাহ শেখানি বলেন, ১২টি প্রদেশে বন্যা ও ঝড়ের কারণে ২২ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন।

এর বাইরে ৫০০ ঘরবাড়ি ধ্বংস, ২ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, ৩০০ গবাদি পশুর মৃত্যু এবং প্রায় ৩ হাজার একর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যোগ করেন তিনি।


আরও খবর



নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে তা নির্ধারণ করবে ইসি: জিএম কাদের

প্রকাশিত:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৯ মে ২০২২ | ৪৪০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সভায় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ইভিএম-এ। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কোন পদ্ধতীতে নির্বাচন হবে সেই আলোচনা ওই সভায় কতটা প্রাসঙ্গিক সে বিষয়ে মতভেদ আছে। নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে তা নির্ধারণের দায়িত্ব মূলত নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনে পদ্ধতিগত কোনো পরিবর্তন আনতে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে মতামত নেবেন এটাই স্বাভাবিক।

আজ দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় যুব মহিলা পার্টির সাথে এক মতবিনিময় সভায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

এসময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সংবিধানকে এমন ভাবে কাটাকাটি করেছে তাতে গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব নয়। দেশে সাংবিধানিক এক নায়কতন্ত্র চলছে। ফলে  সরকারের কোনেক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা নেই বললেই চলে।

আজ দুপুরে জাতীয় পার্টি মাননীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জাতীয় যুব মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নাজনীন সুলতানার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সৈয়দা জাকিয়া আফরোজ হিয়ার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোঃ মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, এডভোকেট মোঃ রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরীফা কাদের এমপি, মাসরুর মওলা, যুগ্ম মহাসচিব আশিক আহমেদ, দফতর সম্পাদক-২ এমএ রাজ্জাক খান, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিন্টু। যুব মহিলা পার্টির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইলোরা ইয়াসমিন, কানিজ আফরোজা রসুল, নাহার ইতি, আফসানা ইয়াসমিন শান্তনু, তাছলিমা আক্তার, সীমানা আফরোজ পুতুল, তাহসিন রুবাইয়াত, রাবেয়া আক্তার মলি, তাসলিমা রহমান জুই, শাবনুর আক্তার, নূরুন্নাহার বেবী, আয়েশা আক্তার স্বর্ণা, মণি সরকার, রোজি, রোজিনা, সায়েকা হক, লুৎফুন্নাহার।


আরও খবর