আজঃ বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১
শিরোনাম

সাহরিতে যে ৪ খাবার কখনোই খাবেন না

প্রকাশিত:রবিবার ০২ মে 2০২1 | হালনাগাদ:রবিবার ০২ মে 2০২1 | ১০২জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
অধিকাংশ ফাস্টফুড তৈরির সময় চিনি বা চিনিজাতীয় জিনিস ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া ফাস্টফুডে ফাইবার জাতীয় খাবার খুবই কম থাকে। এসব খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়

রমজান মাস চলছে। সাহরি থেকে ইফতার আর ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত ইবাদতে ব্যস্ত সময় পার করেন মুসলিমরা। এবার প্রখর গরমে রোজা চলছে। বাইরে চলাফেরায় বেশ সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছে সবাইকে। তীব্র এই গরমে রোজাদারদের সাহরি ও ইফতারের খাদ্য তালিকায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

রোজায় শরীর ও মন ভালো রাখার জন্যই খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন অনেক বেশি জরুরি। এমন খাবার খাওয়া যাবে না যা শরীরের ক্ষতি করে এবং রোজা রাখতে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এবার তাহলে রোজাদারদের সাহরিতে যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত তা তুলে ধরা হলো-

কাঁচা শাক-সবজি : ডায়েট অবশ্যই করবেন। ডায়েটে সালাদ অন্তর্ভুক্ত করা ভালো হলেও সেহরিতে এসব না রাখা ভালো। কাঁচা শাক-সবজিতে ফাইবারের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এতে হজমজনিত সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া এসব খাওয়ার ফলে গ্যাস, পেট ব্যথা কিংবা পেট ফোলাভাব সমস্যা হতে পারে।

ফাস্টফুড : অধিকাংশ ফাস্টফুড তৈরির সময় চিনি বা চিনিজাতীয় জিনিস ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া ফাস্টফুডে ফাইবার জাতীয় খাবার খুবই কম থাকে। এসব খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়।

কফি : অনেকের অভ্যাস সকালের নাস্তার পর এক কাপ কফি পান করা। তাই তারা সেহরিতেও কফি পান করে থাকেন। বিষয়টিকে সাধারণভাবে নিলেও এটি শরীরকে বিশেষ ক্ষতির মুখে ফেলে দিতে পারে। সাহরিতে কফি পানের পর সারাদিন রোজা থাকায় পেটে অ্যাসিডিক রস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা গ্যাস্ট্রাইটিসের কারণও হতে পারে।

প্যাকেটজাত ফলমূল বা রস : সাহরিতে কখনোই প্যাকেটজাত ফলমূল কিংবা ফলের রস পান করবেন না। প্যাকেটজাত ফলে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা হয়। যা কিনা স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়।


আরও খবর



ভারতকে ভ্রমণ নিষিদ্ধের লাল তালিকাভুক্ত করছে যুক্তরাজ্য

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21 | ৯৩জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক ভারতকে ভ্রমণ নিষিদ্ধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমরা ভারতকে ভ্রমণের ‘লাল তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত করার কঠিন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অর্থাৎ যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ডের

এবার ভারতকে ভ্রমণ নিষিদ্ধের লাল তালিকাভুক্ত করছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের একটি ধরন ১০৩ জনের দেহে খুঁজে পাওয়ার পর যুক্তরাজ্য এ পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সোমবার ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক ভারতকে ভ্রমণ নিষিদ্ধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমরা ভারতকে ভ্রমণের লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কঠিন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অর্থাৎ যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা অথবা যুক্তরাজ্যের নাগরিক নন এমন ব্যক্তি, যিনি গত ১০ দিন ধরে ভারতে অবস্থান করছেন, তিনি যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না। আর যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা বা যুক্তরাজ্যের নাগরিক, যারা গত ১০ দিন ধরে ভারতে অবস্থান করছেন, তাদের যুক্তরাজ্য প্রবেশের পর ১০ দিন হোটেলে বাধ্যতামূলক কোয়োরেন্টাইনের নিয়ম পালন করতে হবে।

আগামী শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা (০৩:০০ জিএসটি) থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানান হ্যানকক।

এর আগে গত ১৩ এপ্রিল করোনাভাইরাস পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ভ্রমণের লাল তালিকাভুক্ত করেছিল যুক্তরাজ্য।


আরও খবর



২১ দিন পর কাল থেকে সড়কে থাকছে গণপরিবহন

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ মে ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ মে ২০২১ | ৯৬জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার ঘোষিত লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধের ২১ দিন পর কাল থেকে গণপরিবহন চালু হচ্ছে। বুধবার ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দফতর সম্পাদক সামদানী খন্দকার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীকাল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকা মহানগরসহ সব জেলা শহরের মধ্যে গণপরিবহন চলাচল করবে। ঢাকা মহানগরে গণপরিবহন চলাচলে সরকারের নির্দেশনা মেনে সব রুট মালিক সমিতি/পরিবহন কোম্পানির নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হচ্ছে-

১. মাস্ক ছাড়া কোনও যাত্রী গাড়িতে উঠাতে পারবে না এবং গাড়ির স্টাফদেরকে মালিক মাস্ক সরবরাহ করবে।

২. গাড়িতে সিটের অর্ধেক যাত্রী বহন করতে হবে। অর্থাৎ ২ সিটে একজন যাত্রী বসবে।

৩. লকডাউনে মালিক-শ্রমিকেরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এক্ষেত্রে রুট মালিক সমিতি বা পরিবহন কোম্পানির জিপির নামে কোনও প্রকার অর্থ গাড়ি থেকে আদায় করতে পারবে না।


আরও খবর



ভারত থেকে করোনা পজিটিভ নিয়ে ফিরলেন ১৩ বাংলাদেশি

প্রকাশিত:শনিবার ০৮ মে ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ০৮ মে ২০২১ | ৭৭জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

১৪ দিনের ভারত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ৭ মে পর্যন্ত ভারত থেকে ফিরেছেন দুই হাজার ৪৭৫ জন বাংলাদেশি যাত্রী। এদের মধ্যে ১৩ জন ছিল করোনা পজিটিভ। আক্রান্তরা ভারতে গিয়ে সংক্রমণের শিকার হয়। করোনা পজিটিভ যাত্রীদের যশোর সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রেড জোনে রাখা হয়েছে।

আজ শনিবার (৮ মে) যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইউছুফ আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে চিকিৎসা শেষে ভারত ফেরত অসহায় যাত্রীদের ভোগান্তি ও অর্থ খরচ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন যশোরের শার্শা উপজেলা প্রশাসনের করোনা প্রতিরোধ কমিটি। জটিল রোগে আক্রান্তদের হাসপাতালে কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থাসহ যানবাহন ও হোটেল খরচ সাশ্রয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হোটেল ভাড়া অর্ধেক নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে হোটেল মালিকদের। ইমিগ্রেশনে দালাল শ্রেণির বহিরাগতদের প্রবেশ রোধেও জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। সকালে বেনাপোল বন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ও ইমিগ্রেশন ভবনে সাঁটানো যাত্রী সুবিধার এমন নোটিশ চোখে পড়ে।

ভারত ফেরত যাত্রী জহিরুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের ভোগান্তি ও হয়রানি রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাতে অনেকটা তারা উপকৃত হবেন। চলমান ক্রান্তিকাল সময়ে এ নির্দেশনা বহাল রাখার আহ্বান জানান যাত্রীরা।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার বিচিত্র মল্লিক জানান, গতকাল (শুক্রবার) ভারত থেকে ৩১৮ জন ফিরেছেন। এর মধ্যে পাঁচজন ছিল করোনা পজিটিভ। এরা ভারতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হন। আক্রান্ত যাত্রীদের যশোর সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রেড জোনে ও সাধারণ যাত্রীদের যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল এবং জটিল রোগে আক্রান্তদের ১৪ দিন হাসপাতালে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিইনে রাখা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন খরচ গত বছর সরকার বহন করলেও এবার যাত্রীদের নিজেদের ব্যয় করতে হচ্ছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবিব জানান, ভারতের করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট রোধে বাংলাদেশ সরকার গত ২৬ এপ্রিল থেকে ১৪ দিনের ভ্রমণ সীমান্ত পথে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর মধ্যে নতুন করে কোনো পাসপোটধারী যাত্রী দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করেনি। তবে নিষেধাজ্ঞার আগে যারা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আটকা পড়েছিল তারা ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ছাড়পত্র নিয়ে দেশে ফিরছেন।

নিউজ ট্যাগ: ভারত যশোর

আরও খবর



করোনায় ভারতে একদিনে ফের রেকর্ড সংক্রমণ

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৬ এপ্রিল ২০২১ | ১২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

করোনাভাইরাসের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ভারত। দেশটিতে গত কয়েকদিন ধরে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড হচ্ছে। একদিনে মৃত্যুর সংখ্যাও হাজার ছাড়িয়েছে। এরই মধ্যে ব্রাজিলকে টপকে বিশ্বে করোনা হতাহতের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ভারত। হাসপাতালের মর্গ ও শ্মশানে লাশের ভিড় বেড়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে ভারতে আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ ১৬ হাজার ৮৫০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ১৮৩ জনের। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ৪২ লাখ ৮৭ হাজার ৭৪০ জন এবং মারা গেছে এক লাখ ৭৪ হাজার ৩৩৫ জন।

এরই মধ্যে দেশটির বেশ কয়েকটি রাজ্য ফের কড়াকড়ি জারি করেছে। কারফিউ জারি করেছে ছত্তিশগড় ও দিল্লি। দিল্লিতে চার ও পাঁচতারকা হোটেলকে করোনা হাসপাতলে রুপান্তর করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে টিকা প্রদানের আরও বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে ভারত। দেশটি তৃতীয় টিকা হিসেবে রাশিয়ার স্পুত্নিক ভির জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এই টিকা তারা উৎপাদন করবে।

বিশ্বে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সে দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ২২ লাখ ২৪ হাজার ১৩৯ জন এবং মারা গেছে পাঁচ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৩ জন।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মারা গেছেন ২৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৪৬ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার ৮০০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১১ কোটি ৮৭ লাখ ৫৫ হাজার ৭৬৮ জন এবং বর্তমানে আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছেন ১ কোটি ৭৯ লাখ ১৫ হাজার ৭৮৬ জন।


আরও খবর



প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স, বয়স-স্পিডবোট চালাতে লাগে না কিছুই!

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ মে ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ মে ২০২১ | ১০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মাদারীপুর থেকে দেলোয়ার হোসাইন

দীর্ঘদিন ধরেই মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার নৌপথে স্পিডবোট চালান হালিপ মিয়া (২৬)। মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা কোনো প্রশিক্ষণ পাইনি। তবে অভিজ্ঞ চালকের সঙ্গে চার-পাঁচ দিন থাকলেই বোট চালানো শেখা যায়। তবে ফুল লোড নিয়ে বোট চালাতে হলে খুব সর্তক হতে হয় জানিয়ে এই চালক বললেন, এখানে অনেক চালক, সবাই তো আর সর্তক নন। কারও কারও বয়স কম, ইচ্ছেমতো চালায়।

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার নৌপথে লঞ্চ ও ফেরির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যাত্রী বহন করে প্রায় আড়াইশ স্পিডবোট। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চলাচলরত এসব স্পিডবোটের চালকদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। এমনকি চালকদের বড় একটি অংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। অবৈধ স্পিডবোট, অদক্ষ চালকের কারণে এই নৌপথে ঘটছে দুর্ঘটনা। নৌযানগুলোতে লাইফ জ্যাকেটের মতো সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানিও বেশি।

এদিকে এই নৌপথে চলাচলরত ৫০টির মতো স্পিডবোট বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক লাইসেন্স নিয়েছে। যে কটির লাইসেন্স আছে, তারও আবার নবায়ন নেই। ফলে চলাচলরত স্পিডবোটগুলোর সব কটি অবৈধ।

এ সম্পর্কে বাংলাবাজার ঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক আক্তার হোসেন বলেন, উভয় ঘাটে আড়াই শ স্পিডবোট চলে, যার একটিরও লাইসেন্স বা কোনো কাগজপত্র নেই। এরপরও প্রতিবছর মন্ত্রণালয় থেকে ইজারা হয়। কিন্তু কেন হয়, তা বলতে পারবেন না তিনি। তিনি আরও বলেন, স্পিডবোট লাইসেন্সের জন্য আমরা স্পিডবোট মালিকপক্ষকেও চাপ দিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই লাইসেন্স হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বাংলাবাজার কাঠালবাড়ি ঘাট সূত্র জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য অন্যতম শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথ। এই নৌপথ দিয়ে দৈনিক গড়ে ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। যাত্রীদের বড় একটি অংশ পারাপার হয় স্পিডবোটে। বর্তমানে এই নৌপথে প্রায় ২৫০টি স্পিডবোট চলাচল করে। এ ছাড়া ফেরি, লঞ্চ ও ট্রলারেও যাত্রী পারাপার হয়। যদিও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে লকডাউন থাকায় এই নৌপথে ফেরি ছাড়া সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে লঞ্চগুলো সেই নিয়ম মেনে চললেও দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই অবাধে চলাচল করে স্পিডবোট।

স্পিডবোট চালক শাহিন মিয়া বলেন, আমি ৬ বছর ধরে স্পিডবোট চালাই। উভয় ঘাটে নতুন কিছু ২০০ সিসির বোট নামানো হয়েছে। এগুলোর চালকের বয়স বেশির ভাগই ১৮ এর নিচে। ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে অন্তত ৩০ জন আছে, যারা খুব তাড়াহুড়া করে বোট চালায়। এদের কারণে আজ সব চালকের সমস্যা।

ইমরান মিয়া নামের এক তরণ চালক বলেন, কাউন্টার থেকে আমাদের যতজন নিতে বলে, আমরা ততজনই নিই। এখানে আমাদের লাভ কম। কাউন্টারে যারা থেকে নেতৃত্ব দেয়, তারাই সব ম্যানেজ করে চালায়।

স্পিডবোটের মালিকেরা বলছেন, আরও এক বছর আগেই স্পিডবোটের লাইসেন্সের জন্য বিআইডব্লিউটিএর বন্দর বিভাগের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ মালিকদের লাইসেন্স দিচ্ছে না। নানা অজুহাতে লাইসেন্স বাতিলও করে দিচ্ছে। স্পিডবোটের চালকদের প্রশিক্ষণের জন্য নামের তালিকা দিলেও প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।

বাংলাবাজার স্পিডবোট মালিক সমিতির সভাপতি ও পাঁচ্চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, আমাদের পারে ১০টি স্পিডবোটের লাইসেন্স আরও দেড় বছর আগে দিছে বিআইডব্লিউটিএ। এরপর এক বছর আগে ৩৯ টি বোটের লাইসেন্সের জন্য কাগজপত্র ও তালিকা নেয়। চালকের প্রশিক্ষণের জন্য নামের তালিকা নেয়। কিন্তু লাইসেন্সও দেয় না আর চালকদের প্রশিক্ষণও দেয় না।

তিনি আরোও বলেন, শিমুলিয়া ঘাটের স্পিডবোটগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তারা লকডাউনের মধ্যে ছাড়ে। তবে বাংলাবাজার ঘাটে তারা আসতে পারে না। তারা চরে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। সোমবারের দুর্ঘটনাটিও চরে যাত্রী নামাতে গিয়ে বাল্কহেডের পেছনে ধাক্কা লাগিয়ে দেয় স্পিডবোটের চালক।

বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রায় ৫০টি স্পিডবোটের লাইসেন্স নেওয়া। তবে এগুলোর হয়তো নবায়ন নেই। এখানে আমাদের লাইসেন্স দিতে কোনো সমস্যা নেই। মালিকপক্ষ কখনো আমাদের কাছে আসছে, কখনো আসেনি। সবার মধ্যে একটি সমন্বয়হীনতা ছিল। এরপরও আমরা অতিদ্রুত স্পিডবোটগুলো লাইসেন্সসহ চলাচলে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসব।

বাংলাবাজার ঘাটের দায়িত্বরত চরজানাজাত নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবদুল রাজ্জাক বলেন, লকডাউন কার্যত থাকার পরও কিছু বোট চুরিচামারি করে চলে। এগুলোয় লাইফ জ্যাকেটও ব্যবহার করা হয় না। সোমবারের দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রীর সঙ্গে লাইফ জ্যাকেট ছিল না। দুর্ঘটনায় যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই মুমূর্ষু হয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন। লাইফ জ্যাকেট থাকলে অনেকেই বেঁচে যেত।


আরও খবর