আজঃ সোমবার ০৮ মার্চ ২০২১
শিরোনাম

সাজেকে সড়ক দুর্ঘটনায় এক মেজরসহ আহত ৮

প্রকাশিত:শনিবার ১৬ জানুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ২৭১১জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

খাগড়াছড়ি থেকে দিদারুল আলম

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কের সিজোকছড়া এলাকায় পর্যটবাহী (ঢাকা মেট্রো- চ-১৫৭০০২) একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর পাহাড়ি খাদে পড়ে সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ গুরুতর আহত হয়েছে ৮ পর্যটক।

শনিবার (১৬ জানুয়ারী) সকাল ১০ ঘটিকায় সাজেক রুইলুই পর্যটন কেন্দ্র থেকে ফেরার পথে দুই কিলোমিটার দূরে সিজোক ছড়ায় এই দূর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় যুবক অনিল ত্রিপুরা।

আহত পর্যটকদের সেনাবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সাজেক থানার ওসি মোঃ ইসরাফিল মজুমদার। আহত পর্যটকদের মধ্যে মেজর মোহাম্মদ মিজান ও তার পরিবারের সাত সদস্য ছিলেন।

Share

আরও খবর



পি কে হালদারের দখলে মুশতাকের কুমিরের খামার

প্রকাশিত:শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৮০৪জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক অবস্থায় কারাগারে মারা যাওয়া মুশতাক আহমেদ ছিলেন দেশের প্রথম কুমির খামারের স্বপ্নদ্রষ্টা ও অন্যতম অংশীদার। সেই কুমির খামারের মালিক এখন আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার। আর কুমির খামারটি পি কে হালদারের হাতে তুলে দেন মুশতাক আহমেদের ব্যবসায়িক অংশীদার মেজবাহুল হক। তিনি বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংকের সাবেক পরিচালক। ২০১৩ সালে রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) থাকার সময় পি কে হালদার কুমির খামারটির নিয়ন্ত্রণ নেন।

এখন ময়মনসিংহের রেপটাইলস ফার্মটি আবার ব্যাংকবহির্ভূত আলোচিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এফএএস ফাইন্যান্সের অন্যতম মালিক। এই এফএএস ফাইন্যান্স থেকেও নামে-বেনামে বিপুল অর্থ বের করে নিয়েছিলেন পি কে হালদার। মুশতাক আহমেদের খামারটি পি কের দখলে যাওয়ার পর সেটির মালিকানার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পিঅ্যান্ডএল ইন্টারন্যাশনাল, কেএইচবি সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাজীব সোম ও তাঁর স্ত্রী শিমু রায়। নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রেপটাইলস ফার্মের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণও বের করে নেন পি কে হালদার, যা আর শোধ হচ্ছে না।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক খাতের আলোচিত পি কে হালদার পালিয়েছেন বিদেশে। পি কের বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারির অংশীদার রাজীব সোমও এখন পরিবার নিয়ে কানাডায় থাকেন। ফলে কুমিরের খামারটিও অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। মুশতাক আহমেদের হাতছাড়া হওয়ার পর কুমির চাষের বদলে খামারটির নাম ও জমি ব্যবহার হয়েছে মূলত ঋণ নেওয়ার কাজে। গত বছর কানাডায় যাওয়ার আগে রাজীব সোমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয় প্রথম আলোর এই প্রতিবেদকের। তিনি সে সময় বলেছিলেন, কুমির খামারটির মালিক মূলত পি কে হালদার। তাঁর হাতে আছে অল্প শেয়ার।

জানা যায়, মুশতাক আহমেদের উদ্যোগে ২০০৪ সালে রেপটাইলস ফার্মটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন পায়। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত সমমূলধন সহায়তা তহবিল বা ইইএফ থেকে ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ পায় খামারটি। এ বিনিয়োগের বিপরীতে খামারটির ৪৯ শতাংশ মালিকানা পায় ইইএফ। আর বাকি ৫১ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে ৩৬ শতাংশ শেয়ার ছিল মেজবাহুল হকের এবং ১৫ শতাংশ মুশতাক আহমেদের। প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ছিল ৫ কোটি টাকা।

রেপটাইলস ফার্মের পর্ষদে মেজবাহুল হক এবং মুশতাক আহমেদ ছিলেন উদ্যোক্তা পরিচালক। তাঁদের মধ্যে মেজবাহুল হক ছিলেন খামারটির চেয়ারম্যান এবং মুশতাক আহমেদ ছিলেন এমডি। আর ইইএফের ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সাউথইস্ট ব্যাংকের তৎকালীন কর্মকর্তা প্রীতীশ কুমার সরকার ছিলেন মনোনীত প্রতিনিধি। বর্তমানে প্রীতীশ কুমার সরকার এফএএস ফাইন্যান্সের এমডি। আবার এফএএস ফাইন্যান্সের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে খামারটি।

এদিকে গত মে মাসে জেলে যাওয়ার আগে মুশতাক আহমেদ জানিয়েছিলেন, মেজবাহুল হক সম্পর্কে তাঁর মামা। তহবিলস্বল্পতার কারণে ২০০৪ সালে তাঁকে খামারটির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন তিনি। ওই সময় মেজবাহুল হক মোর্শেদ খানের পক্ষে এবি ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। আর ২০১৩ সালে পি কে হালদারের কাছে খামারটি তুলে দিয়ে মেজবাহুল হক দেশে ছেড়ে চলে যান। পরে একই বছর পি কে হালদারের ধানমন্ডি ১ নম্বর রোডের বাসায় মুশতাক আহমেদও তাঁর নামে থাকা খামারটির শেয়ার হস্তান্তরের দলিলে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।

মুশতাক আহমেদ ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর ফেসবুকে খামারটির মালিকানা বদল নিয়ে যে লেখাটি দিয়েছিলেন, তার শিরোনাম ছিল কুমিরের খামার এখন হায় হায় কোম্পানি। তিনি লিখেছিলেন, ২০১০ সালের ৩রা জুন ছিল বিশেষ দিন। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে কুমির রপ্তানি হবে। এর দুই মাস পর তিনি (কোম্পানি চেয়ারম্যান, মেজবাহুল হক) ঘোষণা দিলেন, কোম্পানি বিক্রি করে দেবেন, আমাকে একটা সাদা কাগজ দিয়ে বললেন সেখানে সাইন করতে। আমি বলে দিলাম সেটা সম্ভব না। শুরু হলো ঝামেলা, কোর্টকাচারি। এরপর প্রশান্ত (প্রশান্ত কুমার হালদার) এল সামনে। তিনি আমাকে যা বললেন, তাতে বুঝলাম, প্রশান্তের কথায় রাজি না হলে, আমার আমছালা দুইটাই যাবে। একপর্যায়ে আমি আমার শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য হলাম।

মুশতাক আহমেদ আরও লিখেছেন, চেয়ারম্যান (মেজবাহুল হক) তখন আবার এবি ব্যাংকের ডিরেক্টর ছিলেন, তাই ব্যাংকের কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই প্রশান্তকে সঙ্গে নিয়ে পূর্ণ উদ্যমে ফার্মের সমস্ত অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করে ফেলেন। কোম্পানির সমস্ত কাগজপত্র নতুন করে তৈরি করা হয়। সমস্যা দেখা দেয়, যখন জন্মের সময় নয় ইঞ্চি কুমির ছানা দশ বছর পরে আট নয় ফুট লম্বা হয়ে যায়। ৩২০০ কুমির কিলবিল করতে থাকে। প্রশান্ত কুমিরের ফার্মের নামে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে জমি কিনে, শেয়ার কিনে, কিন্তু কুমির বেচতে পারে না। শেষ পর্যন্ত ইঁদুরের মতো পালায় দেশ ছেড়ে। পান্থপথের ঝকঝকে অফিসে এখন পিয়ন ছাড়া কেউ যায় না। ভালুকার ফার্মে তালা দিয়ে কর্মকর্তারা পলাতক। কর্মচারীরা প্রায় কয়েক মাস যাবৎ বেতন না পেয়ে অসহায় দিন যাপন করছে। সিম্পলের মধ্যে গরজিয়াস একটা কুমিরের খামার এখন হায় হায় কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: পি কে হালদার
Share

আরও খবর



চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে শাহবাগে অবস্থান

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৮৭জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সরকারি চাকরিতে যোগ দেয়ার বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৫ করার দাবিতে শাহবাগে মোড়ে অবস্থান নিয়েছে সাধারণ ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারা এ অবস্থান নেয়। এ সময় যানচলাচল আংশিক ব্যাহত হয়।

তবে এ সময় পুলিশ অবস্থান কারীদের ছত্রভঙ্গ করলে তারা সরে যায়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলন করে আসছে। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশন জটের কারণে একজন শিক্ষার্থীর লেখাপড়া শেষ করতেই চাকরিতে ঢোকার বয়স ফুরিয়ে আসে। তাই চাকরির সময় সীমা বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবি তাদের।

Share

আরও খবর



পিরোজপুরে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ঃ কিছু বিবেচনা

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ২৮৪জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
সবুজ ও নিবিড় জলাশয়ের সম্মিলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ধরণের গহনতাই কাম্য। পাখির কলতান, জ্যোৎস্নার প্রাচুর্য এবং সকল রকম প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য থাকতে হয় সেখানে

কাজী মসিউর রহমান

গত ৯ অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিরোজপুর জেলায় সরকারি অর্থায়নে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এরকম একটি উদ্যোগের জন্য বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও স্বার্থকতা কামনা করি। স্বার্থকতার কথা বলতে গিয়ে জোড় দিয়ে বলা দরকার যে, বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু একটি গুণবাচক ধারণা ও প্রতিষ্ঠান মানুষের জীবনের উৎকর্ষ সাধন এবং মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ গড়ার জন্য জ্ঞান উৎপাদন ও চর্চাই এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য । কিন্তু সৃষ্টিশীল উৎপাদনের পূর্বশর্ত হলো স্বাধীনতা। স্বাধীনতা ছাড়া কোনো সৃজন হতে পারে না। স্বাধীনতাহীনতায় প্রাপ্ত জ্ঞান বড় জোর দক্ষ শ্রমিক উৎপাদন করতে সক্ষম, আত্মমর্যাদাশীল মানুষ নয়; জ্ঞানী তো নয়ই  স্বাধীনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিমূর্ত ধারণার অংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় মূলত একটি বিমূর্ত প্রতিষ্ঠান, যাকে জড়িয়ে থাকে মূর্ত নানা উপকরণ। যেমন- শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসন, ভৌগোলিক এলাকা, আড়াআড়ি বা খাড়াখাড়ি বিস্তৃত ভৌত অবকাঠামো ইত্যাদি। কিন্তু এসব বিষয়ের গভীরে অদৃশ্য জ্যার মতো একটি আত্মা থাকে। যাকে পঞ্চইন্দ্রিয় দিয়ে চিহ্নিত করা না গেলেও সংবেদনশীল চৈতন্য দিয়ে বেশ অনুভব করা যায়। ওই আত্মাটিই সমস্ত জাহিরি উপকরণের ভেতর দিয়ে একটি সুললিত সুর তৈরি করে গড়ে তোলে বিশ্ববিদ্যালয়।

সাধারণত দুই ধরণের বিশ্ববিদ্যালয় পাওয়া যায়- পাঠদানকেন্দ্রিক ও গবেষণাভিত্তিক। তবে সবচেয়ে বহুল প্রচলিত প্রকরণ হলো এদুয়ের মিশ্রণ। স্নাতক স্তরে প্রধানত আন্তঃশাস্ত্রীয় পাঠদানের ওপর গুরুত্ব দেয়া এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গবেষণাকে জোর দেয়া। আন্তঃশাস্ত্রীয় পাঠদান কেন জরুরী? আন্তনিও গ্রামসি, নোয়াম চমস্কি, টমাস কুন ও ফায়ারাবেনসহ অগণন তাত্ত্বিক মনে করেন- জ্ঞান বিজ্ঞানের বিকাশ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে হয় না। বরং এর বিকাশ সংশ্লিষ্ট জ্ঞানের মধ্যকার বিরাজমান স্ববিরোধিতা চিহ্নিত করার মধ্য দিয়ে আসে। শুধুমাত্র প্রায়োগিক বা কারিগড়ি দিক গুরুত্ব পেলে কারগড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের মাধ্যমেই সেটি সম্ভব।

বিশ্বে হাজিরথাকা সাম্প্রতিকতম বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং ব্যবসায়ে শিক্ষার বৈচিত্র্যময় সকল বিষয়ের পাশাপাশি বিশ্ববিদায়লয়ে মৌলিক মানবিক ও কলা বিদ্যার বিষয়গুলো থাকতে হবে। কারণ উচ্চতর জ্ঞান অবশ্যই আন্তঃশাস্ত্রীয় হতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে- বিষয় কেন্দ্রিক জ্ঞান অন্যান্য বিষয়ে অজ্ঞতা তৈরির সম্ভাবনা রাখে। এমন কি বিশেষজ্ঞরা নিজের বিষয়ের বাইরে জগত-জীবনের অপরাপর বিষয়ে অজ্ঞ থাকার কারণে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। আর শুধু বিশেষায়িত জ্ঞান মানুষকে বিভাজিতও রাখে।

আন্তঃশাস্ত্রীয় ও গবেষণামূলক পাঠদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিমূর্ত সত্ত্বাটিকে কিন্তু আশ্রয় নিতে হয় বিস্তৃত আর নিবিড় কোনো প্রাকৃতিক পরিসরে। এর কারণ হিসেবে বলা যায়, প্রতিবেশের সঙ্গে মানুষের রয়েছে এক বর্ণাঢ্য বন্ধুতা। যদি পরিবেশ হৃদয়গ্রাহী হয়, সেখান থেকে পাওয়া যায় ইতিবাচক আবেগের প্রবহ, প্রাণোচ্ছ্বাস আর সততা নির্মাণের নির্মল প্রেরণা। এর মধ্য দিয়ে ব্যক্তির সঙ্গে অন্যান্য সৃষ্টির এবং মহাজাগতিক আবহের মাঝে এক গভীর সখ্য সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। চাপমুক্ত এ রকম পরিসরে চৈতন্য তীব্রতর বিকশিত হতে পারে। শুধু তাই নয়, প্রতিবেশ কাঠামো স্বাস্থ্যকর ও আধ্যাত্মিক হয়ে উঠলে শিক্ষার্থীর চিন্তাচেতনায় আরও বোধগত উন্মেষ ঘটে, আচরণে ইতিবাচকতা নির্মিত হয়, সামাজিকতার আঙ্গিক ও বহুমাত্রিকতার বিবেচনা বিকশিত হয়, যোগাযোগ দক্ষতা হয়ে ওঠে পরিশীলিত, কাঙ্ক্ষিত আবেগের স্ম্ফুরণ ঘটে এবং মস্তিস্কের মটর-নিউর বেশি সক্রিয় হয়। অর্জিত জ্ঞানের গাজন আর প্রতিফলন হতে পারে বিশুদ্ধ প্রকৃতিতেই।

সবুজ ও নিবিড় জলাশয়ের সম্মিলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ধরণের গহনতাই কাম্য। পাখির কলতান, জ্যোৎস্নার প্রাচুর্য এবং সকল রকম প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য থাকতে হয় সেখানে। আর এসবের জন্য প্রয়োজন হয় বিশাল ভৌগোলিক পরিসর। কারণ ভৌত, সামাজিক, মানসিক, প্রাকৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ইত্যাদি সম্পদের তুলনায় তার ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ভবিষ্যতে বেড়ে গেলে সামান্য সম্পদে কর্তৃত্ব বা দাবী প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ আগ্রাসী ও স্বজাতিবিনাশী (Cannibalistic) হয়ে উঠতে পারে। সেখানে অনিবার্যভাবেই তৈরি হয় ধ্বংসের প্রতিযোগিতা। নিরাপত্তাহীনতার বোধ ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষা-গবেষণার পরিবেশ।  তাই শিক্ষার্থী-শিক্ষকের আদর্শ অনুপাত রক্ষার আন্তরিকতা থাকতে হবে শুরু থেকেই। আদর্শ অনুপাতই নয় শুধু- নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়তাকে মূলত প্রাধাণ্য দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কসমোপলিটান পরিসর পঙ্গু ও ভঙ্গুর হতে পারে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়াস হলেন উপাচার্য। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে উপাচার্যগণ সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারি। অথচ ক্ষমতা ও সম্পদের ন্যায়ভিত্তিক বণ্টন না হলে সেখানে স্বেচ্ছাচার তীব্রতর হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে জনকরে পরিচালিত মুক্তিকামী উচ্চশিক্ষার আদর্শ পরাজিত হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নিরঙ্কুশ ক্ষমতায় ভারসাম্য সৃষ্টি করে উচ্চশিক্ষাক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অনুশীলন বাড়াতে হবে।  উপাচার্য  যদি হন সৎ মানুষ, প্রজ্ঞাবান দার্শনিক ও জনবুদ্ধিজীবী তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্থক হবার সম্ভবনা বাড়ে। তাই উপাচার্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের অন্যান্য সকল নিরীক্ষণের পাশাপাশি আরও একটি বিশেষ উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে- প্রার্থীদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও কর্মপরিকল্পণার ওপর ধারণাপত্র আহ্বান করা যেতে পারে। প্রাপ্ত ধারণাপত্র শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মাঝে উপস্থাপন করানোর আয়োজন করা গেলে যোগ্য ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন উপাচার্য বাছাই করার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

পরিশেষে বলতে চাই, পিরোজপুরের জন্য অনুমোদনপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়টি জনগণের আশা-আকাংক্ষার প্রতি সুবিচার করুক। আন্তঃশাস্ত্রীয় মুক্ত জ্ঞান অনুশীলনের মাধ্যমে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারসম্মৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর-স্বপ্নের-সোনার-বাংলা বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করুক। দেশকে এনে দিক জ্ঞানবিজ্ঞানে বৈশ্বিক পরিচিতি আর মানুষের জন্য নিয়ে আসুক ৭ই মার্চের প্রস্তাবিত সেই কাঙ্ক্ষিত মুক্তি

লেখক: শিক্ষক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

গোপালগঞ্জ।

[email protected]

Share

আরও খবর



ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সাবেক বিশ্বসুন্দরীর আত্মজীবনী

প্রকাশিত:বুধবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ১০৩জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

অবশেষে মঙ্গলবার প্রকাশ হয়েছে বিশ্বতারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের জীবনীগ্রন্থ আনফিনিশড। শৈশব থেকে এ পর্যন্ত নিজের জীবনের প্রতিটি অধ্যায় সেই বইয়ে বর্ণনা করেছেন। কঠোর পরিশ্রম আর গভীর মনোযোগই ভারতের উত্তর প্রদেশের বেরেলিতে জন্ম নেওয়া প্রিয়াঙ্কাকে বিশ্বতারকায় পরিণত করেছে।

ভারতের বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বলিউড বাবলের খবর, শুধু পেশাগত সাফল্যের কথাই বইয়ে বর্ণনা করেননি প্রিয়াঙ্কা, ব্যক্তিগত মজার অভিজ্ঞতাগুলোও লিখেছেন। অভিনেত্রী বলেছেন, একবার তিনি তাঁর প্রেমিককে নিজ কক্ষের আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছিলেন, যেন তাঁর মাসি দেখে না ফেলেন।

সেই অল্প বয়সে যুক্তরাষ্ট্রবাসের দিনগুলো নিয়ে বইয়ে লিখেছেন প্রিয়াঙ্কা। সে সময় তিনি তাঁর মাসি ও অন্যান্য স্বজনদের সঙ্গে থাকতেন। পড়তেন বিদ্যালয়ে। ওই সময় একটি ছেলের প্রেমে পড়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা, যার নাম তিনি দিয়েছিলেন বব। কিন্তু ববকে নিয়ে তিনি বেশ ঝামেলায় পড়েছিলেন।

সংবাদমাধ্যম জুমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন যে তিনি তখন দশম শ্রেণিতে পড়তেন এবং ইন্ডিয়ানাপলিস শহরে থাকতেন কিরণ মাসির সঙ্গে। বিদ্যালয়ে ববের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। ববের মুখাবয়ব ও প্রেমময়তা তাঁর হৃদয় জয় করে নেয়। এমনকি ববকে একটি চেইনও উপহার দেন প্রিয়াঙ্কা। বিদ্যালয়ে হাত ধরে হেঁটেছেন ববের সঙ্গে। বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন।

বইয়ে প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, একদিন তিনি ও বব ঘরে বসে টেলিভিশন দেখছিলেন। এ সময় ববের হাত ধরে ছিলেন। হঠাৎ দেখলেন, জানালার বাইরে কে একজন আসছে। পরে দেখলেন, তাঁর মাসি সিঁড়ি দিয়ে উঠছেন। এ অবস্থায় হতচকিত হয়ে যান প্রিয়াঙ্কা। তখন দুপুর ২টা বাজে। এমন সময় তাঁর মাসি সচরাচর ফেরেন না। ঘর থেকে ববের বের হওয়ারও উপায় ছিল না। তো কী করবেন প্রিয়াঙ্কা? তিনি দৌড়ে তাঁর কক্ষে ঢুকলেন এবং ববকে আলমারিতে লুকিয়ে রাখলেন।

অবশ্য ধরা পড়ে যান প্রিয়াঙ্কা। মাসি তাঁর মাকে কল করেন এবং বলেন, মুখের ওপর প্রিয়াঙ্কার মিথ্যা বলা তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। প্রিয়াঙ্কার আলমারির ভেতর এক ছেলে ছিল!

এমন নানা মজার স্মৃতি লিখেছেন প্রিয়াঙ্কা। বই হাতে পাওয়ার পর প্রিয়াঙ্কা খুব উৎফুল্ল। এরই মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সাবেক এ বিশ্বসুন্দরীর আত্মজীবনী।

গত ১৩ জানুয়ারি সর্বশেষ মুক্তি পায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের দ্য হোয়াইট টাইগার সিনেমা, এটির সহ-প্রযোজক তিনি। এতে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে অভিনয় করেন রাজকুমার রাও। রামিন বাহরানি পরিচালিত সিনেমাটি অরবিন্দ আদিগার দ্য হোয়াইট টাইগার বই অবলম্বনে নির্মিত।

এ ছাড়া প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সম্প্রতি টেক্সট ফর ইউ শিরোনামে একটি রোমান্টিক হলিউড সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন। সিনেমাটি জিম স্ট্রোজের রচনা ও পরিচালনায় সোফি ক্রেমারের উপন্যাস অবলম্বনে জার্মান ভাষার এসএমএস ফুর ডিচ-এর রিমেক।

Share

আরও খবর



শিগগিরই শুরু হচ্ছে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ১২২জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিগগিরই প্রায় ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বন্ধ রয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনার সংক্রমণ কমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে মামলার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে এনটিআরসিএ। মতামত পেলে শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য থাকলেও নিয়োগ দিতে পারছি না। তবে ৫৫ হাজার পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এ জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মতামত পেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। চলতি মাসের শেষে অথবা আগামী মাসে এ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।

এনটিআরসিএর তথ্য মতে, সারা দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৭ হাজার ৩৬০টি শূন্যপদ রয়েছে। মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে এ তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত তালিকার যাচাই-বাছাইরের কাজও শেষ পর্যায়ে। এমপিওভুক্ত বিভিন্ন বিষিয়ভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী, শিক্ষক পদ শূন্য আছে ৫৭ হাজার ৩৬০টি। আর শিক্ষক নিয়োগ হবে এনটিআরসিএর শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে। তবে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা একক নিয়োগের দাবিতে মামলা করায় নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রায় দুই হাজার প্রার্থী মামলা করে তাদের পক্ষে রায় এনেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আপিল করেছে এনটিআরসিএ। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৭ হাজার শিক্ষকের শূন্য পদের মধ্যে দুই হাজার বাদ দিয়ে বাকি ৫৫ হাজার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক এনটিআরসিএ কাজ শুরু করেছে।

Share

আরও খবর