আজঃ বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪
শিরোনাম

সাভারে আবাসিক এলাকায় রাইস মিল: বিপর্যস্ত জনজীবন ও পরিবেশ

প্রকাশিত:সোমবার ২৯ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ২৯ মে ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
সাভার প্রতিনিধি

Image

সরকারি নীতিমালা অনুসারে অটো রাইস মিল করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, শিল্প সনদ, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, ফুড লাইসেন্স এবং চকিদারি খাজনা রশিদ প্রদান করে অটোরাইস মিল স্থাপন করার কথা এবং আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা ব্যতিরেকে অটো রাইস মিল স্থাপন করার নির্দেশনা রয়েছে।

কিন্তু শিল্পাঞ্চল ও জনবহুল সাভারে উপজেলায় বেশিরভাগ রাইস মিল গড়ে উঠেছে আবাসিক এলাকায়। শুধু তাই নয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশেও কিছু কিছু প্রভাবশালী ব্যাবসায়ীরা গড়ে তুলেছেন অটো রাইস মিল। এতে ধোঁয়া, ছাই ও শব্দদূষণে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে জনজীবন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সেই সাথে মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

সাভার-আশুলিয়ার এ সকল রাইস মিলের কারো কারো পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র থাকলেও নিবন্ধন নেই খাদ্য অধিদপ্তরের।

একটি অটো রাইস মিল কারখানায় প্রিলি ক্লিনার, প্যাডি ক্লিনার, বয়লার, ড্রায়ার পেডি হাস্কার, পেডি সেপারেটর, রোটারি শিফটার, লেন্থ গ্রেডার, কালার সার্টার, ডিস্টোনার, থিকনেস গ্রেডার, হোয়াইটনার, সিল্কি পলিশার যন্ত্রপাতি গুলো যথাযথভাবে থাকতে হয়। কিন্তু অধিকাংশ অটো রাইস মিলে এ সকল যন্ত্রপাতি নাই, কারো কারো থাকলেও খরচ বেড়ে যাওয়ার ভয়ে সেগুলোর সঠিক ব্যবহার করছে না তারা। যার ফলে এসকল রাইস মিলের উৎপাদিত চাউলের মান যেমন ঠিক থাকছে না, অন্যদিকে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে খুব সহজেই।

যেমন সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি আনাইল বাড়ি এলাকায় মেসার্স ভান্ডারী অটো রাইস মিলের খাদ্য অধিদপ্তর লাইসেন্সের তালিকায় নাম থাকলেও একই ইউনিয়নের ঘনকপাড়া এলাকার সোনালী অটো রাইস মিলের নাম পাওয়া যায়নি ঐ তালিকায়। এছাড়া এই ইউনিয়নের তিনটি রাইস মিল সহ সাভার উপজেলায় অবস্থিত বেশিরভাগ রাইস মিল আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে, এবং বেশিরভাগই রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির বাহিরে।

শিমুলিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন জানান মেসার্স ভান্ডারী অটো রাইস মিল কারখানাটি আবাসিক এলাকার ব্যস্ততম চলাচলের  রাস্তা ঘেঁষে স্থাপিত। তাদের ধান গমের গাড়ি যখন আসে ঘন্টার পর ঘন্টা ওই রাস্তায় জ্যাম পড়ে থাকে। এতে জরুরি মুহূর্তে একটি রিক্সা নিয়েও পারাপার হওয়ার জায়গা থাকে না। ধোঁয়া এবং ছাইয়ের ভোগান্তি তো আছেই। যখন তাদের ধোঁয়া ছাড়া শুরু করে আশেপাশে পাঁচ মিনিট দাঁড়ানো সম্ভব হয় না। তাছাড়া রাইস মিলটির দুই আড়াইশো গজের মধ্যে রয়েছে একটি স্কুল।

এ বিষয়ে জানতে ভান্ডারি রাইস মিলের মালিক ইব্রাহিমের মুঠো ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এছাড়াও শিমুলিয়া গোয়ালবাড়ি বাজার হুমায়ূন কবির মালিকানাধীন রোহিজ সরকার রাইস মিল খাদ্য অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হলেও কার্যক্রম পরিচালনা করতে নেই কোন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, বয়লার ব্যবস্থা ও ধোঁয়া ও ছাই সরানোর  স্লাইক্লোন প্রযুক্তি।

রোহিজ রাইস মিল মালিক হুমায়ুন কবিরের নাম্বারে ফোন করলে তার ভাই জাহাঙ্গীর আজকের দর্পণ কে বলেন, 'আমাদের রাইস মিলের তেমন কোন কার্যক্রম এখন আর নেই। তবে শুধু গৃহস্থদের ধান ভাঙ্গানো ও ছাঁটাই এর কাজ করে থাকি'। খাদ্য অধিদপ্তরে তালিকাভুক্ত হওয়ায়, ধান ও খাদ্যজাত পণ্য গুদামজাত ও সরকারের কাছে খাদ্যশস্য বিক্রি বা গ্রহণ করছেন কিনা জানতে চাইলে,  তিনি তা অস্বীকার করেন।

অটো রাইস মিল অনুমোদনের আগে ধোঁয়া ও ছাই নিষ্কাশনে স্লাইক্লোন প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ মিল মালিকরা তা করেননি। যদিও কেউ কেউ এই প্রযুক্তি স্থাপন করেছে, কিন্তু বিদ্যুৎ বিল ও খরচ বাঁচাতে তা বন্ধ রাখছেন বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী। এতে ধান ক্রাশিংয়ের সময় ধোয়া ও ছাই আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

ধোঁয়া ও ছাই অপসারণের স্লাইক্লোন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে, সাভারের গনকপাড়ায় অবস্থিত সোনালী অটো রাইস মিলের মালিক জসিম উদ্দীন বলেন, ধোঁয়া ও ছাই অপসারণের স্লাইক্লোন প্রযুক্তি কি, এ সম্পর্কে আমার কোন ধারনা নেই, আমি কখনো এর নাম শুনিনি, আমারটা ফুল অটো রাইস মিল সেমিঅটো না ভাই। আর ধোঁয়া সামান্য বাহিরে যায় তাও অনেক উপরদিয়ে। ধোঁয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কেউ আমার কাছে কখনো অভিযোগ করেনি।

সাভার উপজেলার নয়ার হাট আমগাছি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা শরিফ উদ্দিন বলেন, আমরা যে অসুবিধায় আছি তা দেখার কেউ নাই। মিতালি অটো রাইস মিল থেকে নদীর পাশ দিয়ে যেভাবে ছাই যায় এতে করে মানুষের অনেক সমস্যা হয়, এগুলো ধরা উচিত, সে অটো রাইস মিল করেছে আবাসিক এলাকায়, তার মিলের পাশে আমার জায়গা আছে, আমি যে বাড়ি করব তার কোন উপায় নাই। রাইস মিলের ধোঁয়া আসে রাইস মিলের ছাই আসে। পরিবেশ অধিদপ্তরে আমরা অনেকবার জানাইছি অভিযোগ করছি তারা কি  করে বুঝিনা। ছাই এবং ধুলাবালি উড়ে আইসা কি একটা অবস্থা। গ্রামের মানুষ থাকাই যায় না এদের কারণে।

নয়ারহাট আমগাছিয়া শাহ-ই আলম মালিকানাধীন মেসার্স মিতালী রাইস মিল এর ম্যানেজার তারা মিয়া বলেন, আমাদের রাইস মিল পুরোপুরি অটো রাইস মিল আমাদের সব ধরনের প্রযুক্তি আছে, এবং সবগুলো আমরা সঠিক মত ব্যবহার করছি, সবকিছু একদম কমপ্লিট আমাদের কোন কাগজের ফাঁকফোকর নাই। প্রতিমাসে খাদ্য অধিদপ্তরের ফরম করে জমা দিয়ে দিই সাভারে।

আবাসিক এলাকায় রাইস মিল হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এগুলো হলো মানুষের ভুল ধারণা, ধামরাইতে পৌরসভার ভিতরে অটো রাইস মিল আছে আমাদেরটা তো নদীর পাড়ে, অনেক কিছু কিছু মানুষ আছে তারা এসব অভিযোগ করে। আমাদের এখানে আসলে বুঝতে পারবেন। এটা তো একটু স্বাভাবিক, মনে করেন দেশে আমি বাস করি, আমার পক্ষে ১০ জন থাকে ভালো বলে, ৫ জন খারাপ বলবেই এই ধরনের।

খাদ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের চাউল সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণ আদেশ প্রজ্ঞাপন ২০০৮ এ ৪ এর ১ এ বলা হয়েছে, ধান ছাটাই করন ও এ সংক্রান্ত ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের নিকট হইতে লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তি শক্তিচালিত যন্ত্রপাতি দ্বারা ধান ছাটাই করণ, ধান ও চাউল ক্রয় বিক্রয় এবং চাউলজাত দ্রব্যাদি প্রস্তুতকরণ ও বিক্রয় সংক্রান্ত ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না।

রাইস মিলগুলোর চাউল এর মান ঠিক রাখতে যেহেতু প্রজ্ঞাপনের ৫ এর ৪নং এ বলা হয়েছে প্রত্যেক লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যক্তি তাহার চাউল কলে মজুদ সংগৃহীত ছাটাইকৃত বিলিকৃত এবং অবশিষ্ট ধান ও চাউল সম্পর্কে প্রতি ১৫ দিন অন্তর একটি প্রতিবেদন ফরম এবং চাউল কলের জন্য মজুদকৃত ধান ও চাউলের পরিমাণ ও গুদামের অবস্থান সম্পর্কে ঘোষণাপত্র ফরম, সংশ্লিষ্ট জেলার ডেপুটি কমিশনারের নিকট দাখিল করিবেন। সে  ক্ষেত্রে অধিকাংশ রাইস মিলের খাদ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স না থাকায়, তাদের ছাঁটাইকৃত ও বাজারজাত চালের মান সম্পর্কে যাচাই করার কোন সুযোগ থাকছে না।

২০১৮ সাল পর্যন্ত খাদ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্যে, সাভার উপজেলায় মাত্র ১২টি রাইস মিলের লাইসেন্স তালিকায় নাম পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে দেখা যার অধিকাংশই অনেক দিন আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এছাড়া নতুন যারা ব্যবসা শুরু করেছেন তাদের তালিকা হয়নি অনেকেরই।

খাদ্য অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা আঞ্চলিক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান আজকের দর্পণ কে বলেন, 'সাভারে ১২ টি অটো রাইস মিল তালিকা ভুক্ত রয়েছে। তালিকা বহির্ভূত অটো রাইস মিল থাকতেই পারে, যারা অটো রাইস মিল ময়দা মিল করবে তাদেরকে আমরা ছাড়পত্র দিব। তবে তালিকাভুক্ত হতেই হবে এটা কোন জরুরী না। যদি কেউ আমাদের তালিকাভুক্ত হতে চায় তখন আমরা তাদের সবকিছু চেক করে দেখি মানোন্নয়ন ঠিক আছে কিনা। যদি তালিকাভুক্ত হয় তখন ময়দা তৈরি চাউল তৈরি করার ক্ষেত্রে গম ও ধান সরকারি রেটে নিতে পারবে, এবং চাল উৎপাদন করে আবার বিক্রি করতে পারবে। মান ঠিক রাখার জন্য আমি শিওর না, যেহেতু আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। আমাদের নির্দেশনা দিলে আমরা শুধু গিয়ে পরিদর্শন করি দেখি, আমাদের ক্রাইটেরিয়ার ভিতরে আছে কিনা'।

এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক  জহিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে, তিনি ফোনে রিসিভ করেননি।

আশুলিয়া উন্নয়ন ফোরামের সেক্রেটারি ব্যারিস্টার বাকের হোসেন মৃধা বলেন, আশুলিয়া একটি জনবহুল শিল্পাঞ্চল এলাকা, এই আবাসিক এলাকায় অটো রাইস মিল থাকাটা অবশ্যই পরিবেশবিরোধী ও সাধারন মানুষের স্বাস্থ্য বিরোধী। যেহেতু কর্তৃপক্ষ আবাসিক এলাকার এই রাইস মিল গুলোর তদারকি ঠিকমতো করতে পারছে না, তাই এটা অতি দ্রুত বন্ধ হওয়া উচিত। এটা যদি নিউজ হয় আমরা কোর্টে রিট করব। অনেক মিল মালিকদের পরিবেশ অধিদপ্তরে ছাড়পত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও তারা রাইস মিলগুলো পরিচালনা করছে, এটা বন্ধ হওয়া উচিত। পরিবেশ অধিদপ্তরের এ বিষয়ে আরো তদারকি করা উচিত বলে আমি মনে করি। যেন আমাদের আবাসিক এলাকায় সাধারণ জনগণ ও পরিবেশের ক্ষতি সাধন না হয়। এ ব্যাপারে আমররা আশুলিয়া বাসীর স্বার্থে প্রয়োজনে কোর্টে রিট করব'।

পরিবেশে অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (ঢাকা অঞ্চল) মুক্তাদির হাসান জানান, এ এলাকা(সাভার) আমি দেখিনা। আমিত বিভাগে কাজ করি। ওখানে অন্য কর্মকর্তা রয়েছেন। তার সাথে যোগাযোগ করেন।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জহিরুল ইসলাম তালুকদারের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পরিবেশে অধিদফতরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-পরিচালক বেগম শাহানাজ রহমান আজকের দর্পণ কে বলেন, পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে এই বিষয়টি জানিয়ে মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা হবে। আবাসিক এলাকায় রাইস মিল চালানোর ক্ষেত্রে যদি আমাদের ছাড়পত্র থেকে থাকে, তাহলে হয়তো চেয়ারম্যান সাটিফিকেট আশেপাশের মানুষের নো অবজেকশন ছিল এরকম অনেক গুলো বিষয় দেখেই তাদের ছাড়পত্র দিছে। অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয় চেক করা হবে।


আরও খবর



উপজেলা নির্বাচন: চলছে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬ উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলছে। মঙ্গলবার (২১ মে) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

দ্বিতীয় ধাপের এই নির্বাচনে ২৪টি উপজেলাতে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া হচ্ছে। বাকিগুলোতে ব্যালটে ভোট নেওয়া হচ্ছে।

দ্বিতীয় ধাপে ১৫৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও আদালতের নির্দেশে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। তাই দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬ উপজেলায় ভোটের লড়াই চলছে।

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য।

এই ধাপে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ২২ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে সাতজন চেয়ারম্যান, আটজন ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাতজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। এ ছাড়া দুই উপজেলায় তিনটি পদেই একক প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

দ্বিতীয় ধাপে মোট ভোটার তিন কোটি ৫২ লাখ চার হাজার ৭৪৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ এক কোটি ৭৯ লাখ পাঁচ হাজার ৪৬৪ জন এবং নারী এক কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭ জন। তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ২৩৭ জন। এই ধাপে মোট প্রাথী এক হাজার ৮২৪ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬০৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৯৩ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫২৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রথম ধাপে ১৩৯টি উপজেলায় গত ৮ মে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। আজ দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ চলছে। এরপর তৃতীয় ধাপে ১১২টি উপজেলায় আগামী ২৯ মে এবং চতুর্থ ধাপে ৫৫টি উপজেলায় আগামী ৫ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


আরও খবর



৫৮ উপজেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে দেশের ৫৮টি উপজেলায় আগামী বুধবার (৫ জুন) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন থেকে বিষয়টি জানা গেছে। মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. কামরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামঙ দ্য ডিফারেন্ট মিনিস্ট্রিজ অ্যান্ড ডিভিশনসের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অংশে ৩৭ নম্বর ক্রমিকের অনুবলে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদা মোতাবেক ৫৮টি উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ৫ জুন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।

ইতিমধ্যে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তিন ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ৫ জুন চতুর্থ ও শেষ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে স্থগিত হওয়া ২০ উপজেলার ভোট আগামী ৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে।


আরও খবর



বাজার থেকে এসএমসি প্লাসের সব ড্রিংকস প্রত্যাহারের নির্দেশ

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত বাজারে থাকা এসএমসি প্লাসের সব ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাজারজাতকারী একমি'র তানভীর সিনহাকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর আগে দোষ স্বীকার করে আজ সকালে আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন চান একমির কর্ণধার তানভীর সিনহা।

আজ রোববার সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক আলাউল আকবার এ নির্দেশ দেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে দোষ স্বীকার করে আজ সকালে জামিন চান তানভির সিনহা। তিনি আদালতকে জানান, বাজারজাত করার আগে তিনি জানতেন না যে এটার লাইসেন্স নেই। পরে আদালত তাঁকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করেন। সেই সঙ্গে বাজার থেকে সব এসএমসি প্লাস প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

গত মঙ্গলবার অনুমোদনহীন পাঁচটি কোম্পানির ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকসের মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।


আরও খবর



বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। প্রতিবছর ৫ জুন বিশ্বের প্রতিটি দেশে পালিত হয় দিবসটি। দিবসটির মূল লক্ষ্য পরিবেশ দূষণের কারণ ও দূষণ থেকে বাঁচার উপায় খুঁজে বের করা। এ ছাড়া মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় সচেতন করে তোলাও এ দিবসের অন্যতম একটি লক্ষ্য। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো করবো ভূমি পুনরুদ্ধার, রুখবো মরুময়তা।’

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন উপলক্ষে সরকারিভাবে নেওয়া কর্মসূচি সর্ম্পকে জানাতে গতকাল দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে নেওয়া কর্মসূচি সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

সাবের হোসেন চৌধুরী জানান, বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করবেন। পলাশ ও বেলগাছের দুটি চারা রোপণের মাধ্যমে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি।

তিনি বলেন, শেরেবাংলা নগরের এই পরিবেশ মেলা চলবে ৫ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এবং বৃক্ষমেলা চলবে ৫ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন মেলা চলবে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

মন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড কনজারভেশন ২০২৩ ও ২০২৪, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০২২ ও ২০২৩ এবং সামাজিক বনায়নে উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয়, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষের চারা বিতরণ এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের মাধ্যমে খুদে বার্তা পাঠানো হবে।

সাবের চৌধুরী বলেন, দেশের সব জেলা ও উপজেলায় এবং ঢাকা মহানগরীর একশটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শিশু চিত্রাঙ্কন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতর্ক ও স্লোগান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হবে।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে পরিবেশ দিবসের তাৎপর্যভিত্তিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র এবং পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে স্মরণিকা ও বুকলেট প্রকাশ করা হবে।

এ ছাড়াও রোপণ করা বৃক্ষের যত্ন বৃদ্ধির জন্য এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- বৃক্ষ দিয়ে সাজাই দেশ, সমৃদ্ধ করি বাংলাদেশ।’


আরও খবর



ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, একদিনে ৩ প্রাণহানি

প্রকাশিত:বুধবার ১৫ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৫ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
স্বাস্থ্য ডেস্ক

Image

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ ডেঙ্গুরোগী। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩২ জন।

বুধবার (১৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলামের সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ জন। এ নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৬৪ ডেঙ্গুরোগী।

মঙ্গলবার (১৪ মে) সকাল ৮টা থেকে বুধবার (১৫ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ২১ জনের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ১১ জন। এছাড়া ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ জন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরিশালে, পাঁচজন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট দুই হাজার ৫৪৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ৮৫১ জন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ৩৭৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যে জানা যায়, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে সব রেকর্ড এক হাজার ৭০৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২০২২ সালে ২৮১ জন, ২০২১ সালে ১০৫ জন, ২০২০ সালে সাতজন ও ২০১৯ সালে ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়।


আরও খবর